
ব্রিটেনের সবচেয়ে
দীর্ঘমেয়াদী শাসক রানি দ্বিতীয় এলিজাবেথ ৯৬ বছর বয়সে মারা গেছেন। ব্রিটেন এখন ১০
দিনের শোক পালন করবে। ১০ দিনের শোকের শেষ দিনে লন্ডনের ঐতিহাসিক ওয়েস্টমিনস্টার অ্যাবেতে
রানির রাষ্ট্রীয় অন্ত্যেষ্টিক্রিয়া সম্পন্ন হবে।
ডি-ডে এর প্রথম
দিনে বাকিংহাম প্যালেস থেকে আনুষ্ঠানিক ঘোষণার আগে একটি 'কল ক্যাসকেড' হবে। প্রধানমন্ত্রীকে
ব্যক্তিগতভাবে রাণীর ব্যক্তিগত সচিব অবহিত করবেন এবং খবরটি ক্যাবিনেট সেক্রেটারি এবং
প্রাইভি কাউন্সিল অফিসে পৌঁছে দেওয়া হবে, যাতে সরকারি কাজের সমন্বয় করা যায়। এরপরই
জনসাধারণ জন্য 'সরকারি বিজ্ঞপ্তি' জারি করা হবে।
রাজকীয় বাসভবন,
হোয়াইট হল এবং অন্যান্য সরকারি ভবনগুলোতে পতাকা অর্ধনমিত রাখা হয়েছে। রাজপরিবারের
ওয়েবসাইটটি রানীর মৃত্যুর ঘোষণার একটি সংক্ষিপ্ত বিবৃতিসহ একটি কালো মোড়কে পরিবর্তন
করা হয়েছে। কালো ব্যানার দেখানোর জন্য সরকারি ওয়েবসাইটগুলোও পরিবর্তন করা হয়েছে।
প্রধানমন্ত্রীই
সরকারের প্রথম সদস্য যিনি বিবৃতি দেবেন। বাকিংহাম প্যালেসের হল রেলিংয়ে মৃত্যুর আনুষ্ঠানিক
ঘোষণা সম্বলিত ফ্রেম ঝোলানো হবে। ওয়েস্টমিনস্টার অ্যাবে এবং সেন্ট পলস ক্যাথেড্রাল
রানির মৃত্যুতে ঘণ্টা বাজানো হবে।
শোকের প্রথম
দিনে, হাইড পার্ক ও টাওয়ার হিলে আনুষ্ঠানিকভাবে বন্দুকের গুলি ছুরে স্যালুট এবং জাতীয়ভাবে
এক মিনিটের নীরবতা পালন করা হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
রাজা চার্লস
প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে প্রথমবার দর্শকদের সামনে আসবেন। ১০ দিনের মধ্যে রাষ্ট্রীয় অন্ত্যেষ্টিক্রিয়া
অনুষ্ঠিত হবে। পূর্ণ অন্ত্যেষ্টিক্রিয়া পরিকল্পনায় আনুষ্ঠানিকভাবে স্বাক্ষর করার
জন্য তিনি আর্ল মার্শালের সঙ্গেও দেখা করবেন। চার্লস এই সপ্তাহের শেষের দিকে যুক্তরাজ্য
ও কমনওয়েলথ দেশগুলোর উদ্দেশে ভাষণ দেবেন, যা সরাসরি সম্প্রচার করা হবে।
ডি-ডে এর দ্বিতীয়
দিনে ঊর্ধতন সরকারি কর্মকর্তা ও পরামর্শদাতাদের সমন্বয়ে গঠিত অ্যাক্সিশন কাউন্সিলের
সদস্যরা শনিবার সেন্ট জেমস প্রাসাদে নতুন রাজার নাম ঘোষণার জন্য মিলিত হবেন। পরে সেন্ট
জেমস প্যালেসের বারান্দা থেকে জনসমক্ষে বিবৃতি পাঠের মাধ্যমে জানানো হবে।
লন্ডন শহরের
রয়্যাল এক্সচেঞ্জে আরও একটি ঘোষণা পাঠ করা হবে। এ সময় নতুন রাজার সঙ্গে প্রধানমন্ত্রী
ও মন্ত্রিসভা, বিরোধী দলের নেতা, ক্যান্টারবেরির আর্চবিশপ থাকবেন। এছাড়া পার্লামেন্টে
শ্রদ্ধা জানানো হবে।
ডি-ডে এর তৃতীয়
দিনে রানির কফিনটি বালমোরাল থেকে সড়কপথে হলিরুডহাউসের প্রাসাদে নিয়ে যাওয়ার হবে।
এডিনবার্গ, কার্ডিফ এবং বেলফাস্টে ঘোষণা দেওয়া হবে এবং পার্লামেন্টে শ্রদ্ধা নিবেদন
অব্যাহত থাকেব।
ডি-ডে এর চতুর্থ
দিনে রাজা চার্লস উত্তর আয়ারল্যান্ডে উড়ে যাবেন, যেখানে পার্লামেন্টের সদস্যরা আরেকটি
শোক প্রস্তাব দেবেন। এরপর তিনি বেলফাস্টের সেন্ট অ্যান'স ক্যাথেড্রালে একটি অনুষ্ঠানে
যোগ দেবেন।
এর মধ্যে লন্ডনে,
বাকিংহাম প্যালেস থেকে দ্য মল হয়ে ওয়েস্টমিনস্টারের প্রাসাদে রানির কফিনের শোভাযাত্রার
প্রথম মহড়া অনুষ্ঠিত হবে।
ডি-ডে এর পঞ্চম
দিনে রানির মরদেহ বাকিংহাম প্যালেস ত্যাগ করবে এবং লন্ডনের ওয়েস্টমিনস্টার প্রাসাদে
নিয়ে যাওয়া হবে। রানির মৃত্যুর পর মিছিলটি হবে প্রথম বড় সামরিক কুচকাওয়াজ।
ডি-ডে এর ষষ্ঠ
থেকে নবম দিনে ওয়েস্টমিনস্টার হল দিনে ২৩ ঘণ্টা জনসাধারণের শ্রদ্ধা নিবেদনের জন্য
উন্মুক্ত থাকবে, তবে প্রথমে ভিআইপিরা শ্রদ্ধা জানাবেন।
এদিকে, চার্লস
তার যুক্তরাজ্য সফরের শেষ পর্বে ওয়েলসে উড়ে যাবেন। কার্ডিফের লাল্যান্ডফ ক্যাথেড্রালে
স্মরণসভায় যোগ দেওয়ার আগে তিনি ওয়েলশ পার্লামেন্টে যাবেন।
রাজকীয় পরিবার
এবং হোয়াইট হলে ব্যাপক পরিকল্পনা গ্রহণ করা হচ্ছে, বিশেষ করে রাষ্ট্রপ্রধান, ভিআইপি
এবং বিশিষ্ট ব্যক্তিদের ১০তম দিনে অন্ত্যেষ্টিক্রিয়ার জন্য যুক্তরাজ্যে যাওয়ার ব্যবস্থা
নিশ্চিত করার জন্য।
ডি-ডে এর দশম
দিন রানির শেষকৃত্য হবে। যদিও দিনটি 'জাতীয় শোক দিবস' হবে, তবে ব্রিটেনে সরকারি ছুটির
দিন হবে না। ওয়েস্টমিনস্টার অ্যাবেতে রানির রাষ্ট্রীয় অন্ত্যেষ্টিক্রিয়া সম্পন্ন
হবে। ওই সময় ব্রিটেনজুড়ে দুই মিনিটের নীরবতা পাওল করা হবে। এতে প্রায় দুই হাজার মানুষ
উপস্থিত হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

