Logo
শিরোনাম

শেষবারের মতো ফিরছে মাইক, উইল, ইলাভেনরা

প্রকাশিত:রবিবার ২৯ মে ২০২২ | হালনাগাদ:শুক্রবার ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৩ | ৮৩০জন দেখেছেন
নিউজ পোস্ট ডেস্ক

Image

প্রায় কোনো উচ্চাশা ছাড়াই মুক্তি পেয়েছিল নেটফ্লিক্সের সিরিজটি। হরর, সায়েন্স ফিকশনের মিশেলে টিনএজারদের নিয়ে কত যে সিরিজ হয়েছে, ইয়ত্তা নেই। এই সিরিজ নতুন আর কী দেবেএমন পূর্বধারণা নিয়ে যাঁরা ছিলেন, তাঁরা বড় ধাক্কা খান স্টেঞ্জার থিংস মুক্তির পরই। ২০১৬ সালে মুক্তির পরই বিশ্বজুড়ে কিশোরতরুণদের প্রিয় সিরিজ হয়ে ওঠে এটি। মার্কিন সাময়িকী ভ্যারাইটি জানিয়েছে, এখন পর্যন্ত প্রথম সিজন স্ট্রিমিং হয়েছে ৯৫ লাখ ঘণ্টা! পুরো সিরিজে স্টিভেন স্পিলবার্গ, স্টিফেন কিং থেকে জর্জ কারপেনটার প্রতি শ্রদ্ধার্ঘ্য, জমাট গল্পের বুনট আর দুর্দান্ত অভিনয় তো ছিলই, তবে মোটাদাগে স্ট্রেঞ্জার থিংস’–এর এত জনপ্রিয়তার মূল কারণ সম্ভবত নস্টালজিয়া। ১৯৮০এর দশকের প্রেক্ষাপটে নির্মিত সিরিজটি যে অনেককেই ছেলেবেলার কথা মনে করিয়ে দিয়েছে। মুঠোফোন, ইন্টারনেটহীন সেই দুনিয়ায় দস্যি কিশোরদের দলে যেন দর্শকেরা নিজেরাই ভিড়ে গেছেন।

এমনকি এই সিরিজের পাত্রপাত্রীর নামও দেওয়া হয় ১৯৮০এর দশকের প্রখ্যাত পরিচালক বা অভিনেতার নামে। যেমন হপার নাম নেওয়া হয়েছে মার্কিন অভিনেতা ডেনিস হপারের নাম থেকে, আরেক অভিনেতা ডাস্টিন হফম্যানের নাম থেকে ডাস্টিন, পরিচালক জর্জ লুকাসের নাম থেকে লুকাস আর স্টিভেন স্পিলবার্গের নাম থেকে নেওয়া হয়েছে স্টিভ চরিত্রের নাম। এ ছাড়া গুরুত্বপূর্ণ চরিত্রে ইলাভেন তৈরি হয়েছে স্পিলবার্গের প্রখ্যাত ই.টি.র ভিনগ্রহের প্রাণীর প্রেরণায়। ২০১৬ সালে মুক্তি পাওয়া জনপ্রিয় এই সিরিজের পাত্রপাত্রীরা ফিরে আসছে আবার। তবে শেষবারের মতো। ২৭ মে মুক্তি পাবে চতুর্থ তথা শেষ সিজনের প্রথম ৭ পর্ব। বাকি দুই পর্ব দেখা যাবে ১ জুলাই। এর মধ্যেই পর্বগুলো আগাম দেখে উচ্ছ্বসিত প্রতিক্রিয়া দিয়েছেন সমালোচকেরা। গতানুগতিক, তবে দুর্দান্ত, এমন প্রতিক্রিয়াই ছিল বেশির ভাগের।

স্ট্রেঞ্জার থিংস মূলত যুক্তরাষ্ট্রের ইন্ডিয়ানার কাল্পনিক শহর হকিন্সের চার কিশোর বন্ধু মাইক, উইল, ডাস্টিন আর লুকাসের গল্প। এক রাতে মাইকের বাসা থেকে বাড়ি ফেরার পথে উধাও হয়ে গেল উইল। সেই রহস্য উদ্ধারেই নেমে পড়ল বাকিরা। পরিচয় হলো ইলাভেন বা এল নামের এক রহস্যকন্যার সঙ্গে। এরপরই একের পর এক ঘটনা ঘটে। কিছুটা রহস্য, কিছুটা অলৌকিক ব্যাপারস্যাপার আর কিছুটা প্রেম মিলিয়ে পর্দায় দর্শকদের আটকে রাখার সব উপাদানই মজুত সিরিজটিতে। প্রথম কিস্তির মতো বাকি দুই সিজনও সাড়া ফেলেছে। ২০১৯ সালে তৃতীয় সিজনের পর কোভিডসহ নানা কারণে বিলম্বিত হয় চতুর্থ তথা শেষ সিজন। অপেক্ষার ফল শেষ হচ্ছে অবশেষে। আগের সিজনের পর্বগুলোর তুলনায় এবারের পর্বগুলো বেশ দীর্ঘ। বেশির ভাগ ৭৫ মিনিট লম্বা, সপ্তম পর্বটি ৯৮ মিনিট, অষ্টমটি ৮৫ মিনিট। নবম ও শেষ পর্বটি নাকি হবে প্রায় আড়াই ঘণ্টার! সব মিলিয়ে আগের তিন সিজনের চেয়ে এবারের সিজনটি পাঁচ ঘণ্টা দীর্ঘ। মার্কিন পত্রিকা ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল গত এপ্রিলে প্রতিবেদন প্রকাশ করে, স্ট্রেঞ্জার থিংস’–এর এবারের প্রতিটি পর্বের জন্য তিন কোটি ডলার খরচ করেছে নেটফ্লিক্স।

গত সিজন যেখানে শেষ হয়েছে, তার ছয় মাস পর থেকে শুরু হবে চতুর্থ সিজনের গল্প। দেখা যাবে আগের সিজনের ঘটনার রেশ এখনো কাটিয়ে উঠতে পারেনি বন্ধুরা। এরপর প্রথমবারের মতো আলাদা হয়ে যায় তারা। কোন নতুন চ্যালেঞ্জে তারা একসঙ্গে হবে, সেটাই দেখা যাবে এবারের পর্বে। সিজনের গল্প, সমাপ্তি নিয়ে নানা জল্পনা হয়েছে। তবে নির্মাতারা কেউই এ নিয়ে ন্যূনতম ইঙ্গিতও দেননি। গত বছরের অক্টোবরে এন্টারটেইনমেন্ট উইকলিকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে নির্মাতা ডাফার ভ্রাতৃদ্বয় জানিয়েছেন, ভক্তরা হতাশ হবেন না। এবারের সিজনে কী হবে, জানা না গেলেও নিশ্চিতভাবেই থাকছেন জনপ্রিয় চরিত্র হকিন্সের পুলিশ কর্মকর্তা হপার। গত সিজনের শেষে মর্মান্তিক ঘটনা ঘটলেও হপার চরিত্রে যথারীতি দেখা যাবে ডেভিড হারবারকে। আগের মতোই মাইক, লুকাস ও ডাস্টিনের চরিত্রে ফিন উলফহার্ড, ক্যালেব ম্যাকলখলিন ও গেটেন মাটারাজ্জোই আছেন। আর অবশ্যই ইলাভেন। যে চরিত্রে অভিনয় করে রীতিমতো তারকা বনে গেছেন মিলি ববি ব্রাউন। শেষ সিজন শুরুর আগে নস্টালজিক তিনি। ১১ বছর বয়সে এই সিরিজ দিয়ে ব্যাপক পরিচিত পেয়েছিলেন মিলি। এরপর সুযোগ পেয়েছেন গডজিলার মতো জনপ্রিয় সিনেমা সিরিজে। চতুর্থ সিজন শুরুর আগে মিলি বলেন, এই সিরিজের সবকিছু ভীষণ মিস করব। বিশেষ করে আশির দশকের হেয়ার স্টাইল আর মিউজিক।  স্ট্রেঞ্জার থিংস শেষ হলেও জনপ্রিয় চরিত্রদের যে আর দেখা যাবে না, সে নিশ্চয়তা দেওয়া যাচ্ছে না। কারণ, পরিচালকেরা নাকি গোপনে স্ট্রেঞ্জার থিংস’–এর একটি স্পিনঅফ সিরিজ ভেবে রেখেছেন।

নিউজ ট্যাগ: স্টেঞ্জার থিংস

আরও খবর