
আগের জরিমানার বিষয়গুলো স্বীকার করলেও হিরু দাবি করেছেন, দেড় কোটি টাকা জরিমানার
বিষয়ে তার কিছু জানা নেই। তার কাছে কোনো চিঠি যায়নি। তবে তিনি আইপিডিসির শেয়ার কেনার
বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেছেন, ‘আইডিপিসি তো একটি ভালো শেয়ার। সেটা কিনলেও
সমস্যা?’… ‘ভাই আমরা তো পুঁজিবাজার ভালো করার জন্য কাজ করেছি। এ রকম করলে আর পুঁজিবাজারে
ব্যবসা করা যাবে না’- নিউজবাংলার প্রশ্নে এক ধরনের বিরক্তিও প্রকাশ করেন তিনি।
আরও একটি কোম্পানির শেয়ারদর কারসাজি করে বাড়ানোর অভিযোগের প্রমাণ পেয়ে আলোচিত
বিনিয়োগকারী আবুল খায়ের হিরুকে জরিমানা করেছে নিয়ন্ত্রক সংস্থা বিএসইসি।
আর্থিক খাতের তালিকাভুক্ত কোম্পানি আইপডিসির শেয়ার নিয়ে কারসাজির দায়ে এবার
তার দণ্ড হয়েছে দেড় কোটি টাকা।
এর আগেও সাতটি কোম্পানির শেয়ারে কারসাজি করে ১৩৭ কোটি টাকা মুনাফা করে, ১০ কোটি
৮৯ লাখ টাকা জরিমানা দিয়েছিলেন বাংলাদেশের ক্রিকেটের পোস্টার বয় সাকিব আল হাসানের ব্যবসায়িক
অংশীদার।
হিরো সমবায় অধিদপ্তরের প্রথম শ্রেণির কর্মকর্তা, যিনি গত কয়েক বছরে পুঁজিবাজারে
বিনিয়োগ করে শত কোটি টাকার বেশি কামিয়েছেন বলে বিএসইসির তদন্তেই ধরা পড়েছে।
আগের জরিমানার বিষয়গুলো স্বীকার করলেও হিরু দাবি করেছেন, দেড় কোটি টাকা জরিমানার
বিষয়ে তার কিছু জানা নেই। তার কাছে কোনো চিঠি যায়নি।
তবে তিনি আইপিডিসির শেয়ার কেনার বিষয়টি নিশ্চিত্ করে বলেছেন, ‘আইডিপিসি তো একটি ভালো শেয়ার। সেটা কিনলেও সমস্যা?’
‘ভাই আমরা তো পুঁজিবাজার ভালো করার জন্য কাজ করেছি। এ রকম করলে আর পুঁজিবাজারে
ব্যবসা করা যাবে না’- নিউজবাংলার প্রশ্নে এক ধরনের বিরক্তিও প্রকাশ করেন তিনি।
বিএসইসির এক কর্মকর্তা জানান, কমিশনের সাম্প্রতিক এক বৈঠকে হিরুকে জরিমানার
সিদ্ধান্ত হয়েছে। তবে এই কারসাজিতে কত টাকা হিরু আয় করেছেন, সেই বিষয়টি নিশ্চিত করে
বলতে পারেননি তিনি। আর হিরু কত টাকায় শেয়ার কিনে কত টাকায় বিক্রি করেছেন, সেটিও জানাতে
পারেননি।
শেয়ারদর কত বেড়েছে
গত দেড় বছরে আর্থিক খাতের বেশিরভাগ কোম্পানির শেয়ার দর হারালেও ব্যতিক্রম ছিল
আইপিডিসি। ২০২১ সালের ১১ এপ্রিল ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে শেয়ারটি লেনদেন হয়েছে ২২ টাকা
৩০ পয়সায়। এরপর কয়েক দফা শেয়ারটির দর লাফ দিয়েছে।
ওই বছরের ৩০ সেপ্টেম্বর শেয়ারদর লাফ দিয়ে হয়ে যায় ৪৮ টাকা ৬০ পয়সা। এরপর গত
২৭ মার্চ দর নেমে আসে ৩৩ টাকা ৮০ পয়সায়। এরপর আবার দেয় লাফ। গত ২৭ আগস্ট দর আবার বেড়ে
হয় ৭৭ টাকা ২০ পয়সা।
পরে সেখান থেকে দর আবার নামতে থাকে। এখন শেয়ারদর দাঁড়িয়েছে ৫৭ টাকা ৬০ পয়সা।
শেয়ারদর এভাবে লাফালেও কোম্পানির আর্থিক অবস্থায় ব্যাপক পরিবর্তন এসেছে এমন
নয়। লভ্যাংশও খুব ভালো হয়েছে, এমন নয়।
২০২০ সালে কোম্পানিটি শেয়ার প্রতি ১ টাকা ৯০ আয় করে ১ টাকা ২০ পয়সা লভ্যাংশ
দিয়েছে। পরের বছর শেয়ার প্রতি আয় বেড়ে ২ টাকা ৩৭ পয়সা হলেও লভ্যাংশ বাড়েনি। আগের বছরের
একই হারে লভ্যাংশ পেয়েছেন বিনিয়োগকারীরা।
চলতি বছরের প্রথম দুই প্রান্তিকে শেয়ার প্রতি আয় হয়েছে ১ টাকা ১৯ পয়সা, আগের
বছরের একই সময়ে যা ছিল ১ টাকা ১১ পয়সা।
আগে কত টাকা জরিমানা
এর আগে এশিয়ান ইন্স্যুরেন্সের শেয়ার নিয়ে কারসাজি করে হিরু জরিমানা দেন ৭২ লাখ
টাকা। গ্রিন ডেল্টা ইন্স্যুরেন্সের শেয়ার নিয়ে কারসাজির ঘটনায় জরিমানা ছিল ৪২ লাখ টাকা।
ঢাকা ইন্স্যুরেন্সের শেয়ার নিয়ে কারসাজি করে জরিমানা দেন ৯৫ লাখ টাকা।
এনআরবিসি ব্যাংকের শেয়ার নিয়েও কারসাজির অভিযোগে হিরুকে জরিমানা করা হয় ৩ কোটি
৭৫ লাখ টাকা। ফরচুন সুজ লিমিটেডের শেয়ার নিয়ে কারসাজি করে হিরুর বাবা আবুল কালাম মাতবর
জরিমানা দেন ১ কোটি ৫০ লাখ টাকা।
বিডিকমের শেয়ার নিয়ে কারসাজিতে জরিমানা হয় ৫৫ লাখ টাকা। ওয়ান ব্যাংকের শেয়ারের
দাম নিয়ে কারসাজি করে জরিমানা দেন ৩ কোটি টাকা।
এসব কোম্পানির শেয়ারদরও লাফিয়ে লাফিয়ে বেড়েছিল। কোম্পানির মৌলভিত্তির তুলনায়
শেয়ারদর অস্বাভাবিক হারে বেড়ে যাওয়ার পর লেনদেনও বেড়ে গিয়েছিল। পরে শেয়ারদর কমতে কমতে
এক পর্যায়ে যেখান থেকে বেড়েছিল, তার কাছাকাছি তার তারও নিচে নেমে আসে অনেকগুলোর।
এতে বিনিয়োগকারী বিপুল পরিমাণ আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়ার পাশাপাশি তাদের টাকা
আটকে গেছে। এটিও বাজারে লেনদেন কমে যাওয়ার একটি কারণ। শেয়ারদর কমে গেলে লোকসানে বিক্রি
করতে চান না বহুজন।

