Logo
শিরোনাম

ভূমধ্যসাগরে অতিরিক্ত ঠান্ডায় ৮ বাংলাদেশির মৃত্যু

প্রকাশিত:মঙ্গলবার ০১ ফেব্রুয়ারি ২০২২ | হালনাগাদ:বুধবার ২২ নভেম্বর ২০২৩ | ১৬৮০জন দেখেছেন
নিউজ পোস্ট ডেস্ক

Image

স্বপ্নের দেশ ইতালি যাওয়া হলো না তরুণ সাজ্জাদের। এখন লাশের অপেক্ষায় তার পরিবার। ভূমধ্যসাগরে একটি নৌকায় অতিরিক্ত ঠান্ডায় তার প্রাণ প্রদীপ নিভে যায় আরো ছয় বাংলাদেশির ।

সুনামগঞ্জের জামালগঞ্জ উপজেলার ভীমখালী ইউনিয়নের আটগাঁও ফেকুল মাহমুদপুর গ্রামের সাজ্জাদ আহমেদ গত ২৫ জানুয়ারি লিবিয়া থেকে নৌকাযোগে ইতালির উদ্দেশে ভূমধ্যসাগর পাড়ি দেন। যাওয়ার পথে ঠান্ডায় মারা যান সাজ্জাদসহ সাত বাংলাদেশি। দালাল চক্রের মাধ্যমে অবৈধপথে বিদেশ যাত্রার মর্মান্তিক পরিণতির সর্বশেষ উদাহরণ এটি। তরুণ সাজ্জাদের গ্রামের বাড়িতে এখন শোকের মাতম চলছে। শেষবারের মতো ছেলের লাশ দেখতে চান বাবা-মা। মর্মান্তিক এই মৃত্যুর খবরে এলাকাবাসীও শোকে মুহ্যমান।

জামালগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বিশ্বজিত দেব বলেন, মৃতদেহ বাড়িতে আনা নিয়ে দূতাবাসের সঙ্গে কথা হয়েছে। ইতালির উপকূলরক্ষীরা রাতে নৌকাটিকে ল্যাম্পেডুসার কাছে ল্যাম্পোনি উপকূলের ২৯ কিলোমিটার দূরে দেখতে পেয়ে তাদের উদ্ধার করে।

সিলেট অঞ্চলের মানুষ বহুকাল আগে থেকেই বিদেশমুখী। একসময় তারা জাহাজে করে বোম্বাই হয়ে মধ্যপ্রাচ্যসহ বিভিন্ন দেশে যেতেন ব্যবসা-বাণিজ্যের কাজে। ষাটের দশকে লন্ডন, আমেরিকা, মধ্যপ্রাচ্যসহ পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে যাওয়ার জোয়ার ওঠে। ৮০-র দশকে মধ্যপ্রাচ্যে শ্রমবাজার উন্মুক্ত হলে সিলেটসহ সারা দেশে ব্যাপক সাড়া পড়ে। ইংল্যান্ডে শিল্পবিপ্লবের পর ষাটের দশকে জাহাজে করে সিলেটের প্রচুর লোক সাগর পাড়ি দেন ভাগ্য বদলের আশায়। তারা ব্রিটেনের অর্থনীতিতে অবদান রেখে আসছেন। শিক্ষা ও জ্ঞান বিজ্ঞানেও তাদের অবদান স্বীকৃত।

এরই ধারাবাহিকতায় সিলেটের তরুণরা আজও ইউরোপ যাত্রার স্বপ্নে বিভোর। কিন্তু স্বপ্ন পূরণ করতে গিয়ে দালালদের খপ্পরে পড়েন তারা। অবৈধপথে বিদেশ যেতে গিয়ে টাকা-পয়সা হারিয়ে তরুণরা সাগরে ডুবে মরছেন। আফ্রিকার জঙ্গলে দালালদের জিম্মায় মানবেতর জীবন কাটাচ্ছেন। মুক্তিপণ হিসেবে দালালরা লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে। ইউরোপ গমনের স্বপ্ন চোখের নোনা জলে ভিজে ফিকে হয়ে আসে।

আরেকটি মর্মান্তিক ঘটনার কথা আজও ভুলতে পারছেন না সিলেটবাসী। ২০১৯ সালের ১০ মে লিবিয়া থেকে ইতালি যাওয়ার পথে তিউনিসিয়ার উপকূলবর্তী ভূমধ্যসাগরে নৌকাডুবিতে অন্তত ৬০ জন মারা যান। মৃতদের মধ্যে সিলেটের ২২ জন ছিলেন। ভাগ্য গুণে বেঁচে যাওয়া ১৫ তরুণের মধ্যে ১৩ জনই ছিলেন বৃহত্তর সিলেটের বাসিন্দা। পরে রেড ক্রিসেন্টের সহায়তায় বাংলাদেশ সরকারের প্রচেষ্টায় তাদের দেশে ফেরানো হয়।

এদিকে বিয়ানীবাজারের ভুক্তভোগী কয়েকজন জানান, মানব পাচারকারী একটি চক্র ইতালিতে পাঠানোর নাম করে লিবিয়ায় সিলেটের ২৫ তরুণকে জিম্মি করে রাখে। এর মধ্যে একজন মারা গেছেন সেদেশের পুলিশের গুলিতে। আর বাকি ২৪ জনের খোঁজ গত আট মাসেও মেলেনি।

নিখোঁজ তরুণরা হলেনপূর্ব লাউজারী গ্রামের তানহারুল ইসলাম, আব্দুল্লাহ আল মামুন, হোসেন আহমদ, আব্দুল্লাহ আল জুনেদ, আরিফ আহমদ দুলাল; খশিরবন্দ (হাতিটিলা) গ্রামের রাজু আহমদ, এনামুল হক; খশির কোনাপাড়া গ্রামের কামরুজ্জামান রাহাত, ঘুঙ্গাদিয়া নয়াগাঁও গ্রামের আব্দুল আজিজ ও আহমদ অজিত এবং গড়রবন্দ গ্রামের আব্দুল করিম। 


আরও খবর