
যুক্তরাষ্ট্রের
প্রথম নারী পররাষ্ট্রমন্ত্রী ম্যাডেলিন অলব্রাইট আর নেই। বুধবার (২৩ মার্চ) ৮৪ বছর
বয়সে তিনি মারা যান। সিএনএন জানিয়েছে, মেডেলিন অলব্রাইটের মৃত্যুর বিষয়টি ইমেইল করে
নিশ্চিত করেছে তারই প্রতিষ্ঠিত বৈশ্বিক কৌশল বিষয়ক প্রতিষ্ঠান অলব্রাইট স্টোনব্রিজ
গ্রুপ।
মেডেলিন অলব্রাইট
ক্যান্সারে ভুগছিলেন। মুত্যুকালে তার পরিবার ও বন্ধু-বান্ধব তার পাশেই উপস্থিত ছিলেন।
পরিবারের পক্ষ থেকে এক বিবৃতিতে বলা হয়, ‘আমরা একজন মমতাময়ী
মা, একজন প্রিয় নানি/দাদি, বোন ও একজন ভাল বন্ধু হারালাম। সেই সঙ্গে হারালাম গণতন্ত্র
ও মানবাধিকারের একজন নিরলস সেবককে।’
যুক্তরাষ্ট্রের
সাবেক প্রেসিডেন্ট বিল ক্লিনটনের প্রশাসনের অন্যতম ব্যক্তিত্ব ছিলেন অলব্রাইট। ক্লিনটনের
পররাষ্ট্রমন্ত্রী (১৯৯৭-২০০১) হিসেবে দায়িত্ব পালনের আগে জাতিসংঘে মার্কিন রাষ্ট্রদূত
ছিলেন তিনি।
ইউক্রেন যুদ্ধ
শুরু হওয়ার কয়েকদিন আগে নিউ ইয়র্ক টাইমসে লেখা নিবন্ধে অলব্রাইট বলেন, রুশ প্রেসিডেন্ট
ভ্লাদিমির পুতিন ইউক্রেনে হামলা চালালে সেটা হবে তাঁর ‘ঐতিহাসিক ভুল’।
মেডেলিন অলব্রাইট
সাবেক চেকোশ্লভাকিয়ায় জন্মগ্রহণ করেন ১৯৩৭ সালে। তাঁর বাবা জোসেফ করবেল চেক কূটনীতিক
ছিলেন। তিনি ১৯৫৯ সালে যুক্তরাষ্ট্রের ওয়েলেসলি কলেজ থেকে স্নাতক ডিগ্রি লাভ করেন।
একই বছর বিয়ে করেন জোসেফ অলব্রাইটকে। ১৯৮৩ সালে তাঁদের বিচ্ছেদ হয়। তাঁদের তিন সন্তানের
মধ্যে অ্যান ও অ্যালিস যমজ। ১৯৬১ সালের তাঁদের জন্ম হয়। অন্য সন্তান ক্যাথরিনের জন্ম
১৯৬৭ সালে। তিনি কলাম্বিয়া বিশ্ববিবদ্যালয় থেকে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি লাভ করে। একই বিশ্ববিদ্যালয়
থেকে পিএইচডি ডিগ্রি অর্জন করেন ১৯৭৬ সালে। এরপর সরকারি চাকরিতে যোগ দেন।
মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী
হিসেবে অলব্রাইটের নানা পদক্ষেপের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো, ১৯৯৯ সালে সার্বিয়ার নেতা
স্লোবদান মিলোচোভিচের কসোভোতে জাতিগত মুসলিম নিধন ঠেকাতে বিল ক্লিনটনকে হস্তক্ষেপ করানো।

