Logo
শিরোনাম

১ মে থেকে ১৮ বছরের বেশি বয়সী সবাই পাবে করোনার টিকা

প্রকাশিত:মঙ্গলবার ২০ এপ্রিল ২০21 | হালনাগাদ:শুক্রবার ১৪ মে ২০২১ | ৮২১জন দেখেছেন
নিউজ পোস্ট ডেস্ক

Image

করোনাভাইরাসের ব্যাপক সংক্রমণ হওয়ায় রাজধানী দিল্লিতে লকডাউনের পাশাপাশি দেশজুড়ে টিকাদান কার্যক্রমের ব্যাপ্তি বাড়ানোর ঘোষণা দিয়েছে ভারত। এনডিটিভি ও বিবিসির খবরে এ কথা জানানো হয়েছে।

আগামী ১ মে থেকে গোটা ভারতে ১৮ বছরের বেশি বয়সী সবাইকে টিকা দেওয়া হবে। গতকাল সোমবার এমন ঘোষণা দিয়েছে দেশটির সরকার।

বর্তমানে ভারতে শুধুমাত্র করোনা প্রতিরোধে সম্মুখসারির লোকজনকে টিকা দেওয়া চলছে। এখন ভারতের স্বাস্থ্যকর্মী, সম্মুখসারির কর্মী এবং ৪৫ বছরের বেশি বয়স্করা বর্তমানে টিকা পাচ্ছেন।

টিকা স্বল্পতার মাঝে বিশাল জনগোষ্ঠীর দেশে গণহারে টিকাদান কীভাবে সম্ভব হবে তা পরিষ্কার জানায়নি ভারতীয় সরকার। গত সপ্তাহে ভারত সরকার জানিয়েছিল, তাদের হাতে দুই কোটি ৭০ লাখ ডোজ টিকা রয়েছে। বর্তমানে যে গতিতে টিকাদান চলছে তাতে নয় দিনে সেগুলো ফুরিয়ে যাওয়ার কথা।

এ পর্যন্ত ভারতের ১২ কোটি ৭১ লাখ ২৯ হাজার ১১৩ জনকে টিকা দেওয়া হয়েছে বলে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের ওয়েবসাইটে জানানো হয়েছে।

সবচেয়ে বেশি সংক্রমণের রাজ্য মহারাষ্ট্রে টিকার সরবরাহে ঘাটতি দেখা দিয়েছে। অনেক টিকাদান কেন্দ্র থেকে লোকজনকে ফিরিয়ে দেওয়ার খবর পাওয়া গেছে।

গতকাল সোমবার দেশটির প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে গণহারে টিকাদানের এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। নরেন্দ্র মোদি সেখানে বলেন, ভারতের বেশির ভাগ মানুষকে যাতে অল্প সময়ের মধ্যে টিকা দেওয়া যায়, তার জন্য গত এক বছর ধরেই চেষ্টা চালিয়ে আসছে কেন্দ্র। এ ব্যাপারে এরই মধ্যে রেকর্ড গতিতে এগিয়ে যাচ্ছে দেশ। তবে আমরা আগামী দিনে আরও দ্রুত গতিতে কাজ করব।

১ মে থেকে ভারতের টিকাদান প্রক্রিয়ার তৃতীয় পর্যায় শুরু হতে যাচ্ছে বলে ঘোষণা করা হয়েছে। গত ১৬ জানুয়ারি থেকে শুরু হয়েছে দেশজুড়ে টিকাদান কার্যক্রম। প্রথম পর্যায়ে চিকিৎসক ও চিকিৎসা কর্মীদের টিকা দেওয়া হয়। দ্বিতীয় পর্যায়ে ১ এপ্রিল থেকে টিকা নেওয়ার সুবিধা অবারিত করা হয় পঁয়তাল্লিশোর্ধ্ব দেশবাসীদের জন্যও। কেন্দ্র জানিয়েছে, তৃতীয় পর্যায়ে টিকা নিতে পারবেন ১৮ উত্তীর্ণ হয়েছেন এমন সব দেশবাসী।

টিকা উৎপাদনকারী কোম্পানিগুলোকে উৎপাদন বাড়াতে এরই মধ্যে অর্থ দিয়েছে কেন্দ্র সরকার। সবচেয়ে বড় যোগানদাতা সেরাম ইনস্টিটিউটকে সম্প্রতি ৬০ কোটি মার্কিন ডলার অনুদান দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে ভারত সরকার। এদিন বৈঠকে সিদ্ধান্ত হয়েছে, দেশি ও বিদেশি সংস্থাকেও এই উৎপাদনে অংশ নিতে উৎসাহ দেওয়া হবে। টিকা উৎপাদনকারী কোম্পানিগুলোকে তাদের মোট উৎপাদনের ৫০ শতাংশ সরকারকে দিতে বলা হবে। বাকি ৫০ শতাংশ খোলা বাজারে বিক্রি করা যাবে এবং রাজ্য সরকারগুলোকেও পাঠানো যাবে। সংক্রমণের হার ও টিকাদানের হার বিচার করে রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলগুলোকে টিকা সরবরাহ করবে কেন্দ্রীয় সরকার। তবে রাজ্য এবং খোলা বাজারে সরবরাহের টিকার দাম কত হতে যাচ্ছে, তা এখনও ঘোষণা করা হয়নি।

গতকাল সোমবার ভারতের কেন্দ্রীয় সরকার জানিয়েছে, প্রথম সারির করোনা যোদ্ধা, স্বাস্থ্যকর্মী ও ৪৫ বছরের বেশি বয়সের নাগরিকদের টিকাদান চলবে আগের মতোই। কো-উইন অ্যাপের মাধ্যমে সমস্ত নিয়ম মেনেই টিকাদান হবে। তবে প্রথম সারির করোনা যোদ্ধা, স্বাস্থ্যকর্মী ও ৪৫ বছরের বেশি বয়সের নাগরিকদের দ্বিতীয় ডোজের টিকাদানকে প্রাধান্য দেওয়া হবে।

মঙ্গলবার ভারতের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানায়, গত একদিনে দুই লাখ ৫৯ হাজার ১৬০ জনের করোনা শনাক্ত হয়েছে। টানা ছয়দিন দুই লাখের বেশি করোনা শনাক্ত হলো। একদিনে মৃত্যু হয়েছে এক হাজার ৭৬১ জনের মৃত্যু হয়েছে। এ পর্যন্ত মোট করোনায় মৃত্যু হয়েছ এক লাখ ৮০ হাজার ৫৩০ জনের।


আরও খবর



করোনার তৃতীয় ঢেউ নিয়ে স্বাস্থ্যমন্ত্রীর সতর্ক

প্রকাশিত:বৃহস্পতিবার ২২ এপ্রিল ২০২১ | হালনাগাদ:শুক্রবার ১৪ মে ২০২১ | ৯৪জন দেখেছেন
নিউজ পোস্ট ডেস্ক

Image
করোনা দ্বিতীয় ঢেউ কেন এলো সেটার কারণ চিহ্নিত করতে হবে। আমরা করোনার বিস্তার রোধে বিয়ে, জন্মদিনসহ যেকোনো সামাজিক অনুষ্ঠান বন্ধ করেছি। জনসমাগম নিরুৎসাহে সব ধরনের সভা-সমাবেশ সীমিত

স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক বলেছেন, স্বাস্থ্যবিধি না মানার কারণেই দেশে দ্বিতীয় ঢেউ এসেছে। এখন তৃতীয় ঢেউয়ে যেন আক্রান্ত না হই সেজন্য সবাইকে সচেতন হতে হবে।

আজ বৃহস্পতিবার (২২ এপ্রিল) বেলা ১১টার দিকে জাতীয় পুষ্টি সপ্তাহ উপলক্ষে ভার্চুয়াল এক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথি বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক বলেন, করোনা দ্বিতীয় ঢেউ কেন এলো সেটার কারণ চিহ্নিত করতে হবে। আমরা করোনার বিস্তার রোধে বিয়ে, জন্মদিনসহ যেকোনো সামাজিক অনুষ্ঠান বন্ধ করেছি। জনসমাগম নিরুৎসাহে সব ধরনের সভা-সমাবেশ সীমিত করা হয়েছে। করোনার উৎপত্তি স্থানগুলোসহ পর্যটন ও বিনোদন কেন্দ্র বন্ধ করা হয়েছে। ধর্মীয় ওয়াজ মাহফিলসহ সব ধরনের মেলা, পিকনিক বন্ধ রয়েছে। এভাবে কিছুদিন চললে আশা করা যায় করোনা সংক্রমণের হার কমে আসবে।

তিনি বলেন, আমরা আর কত চিকিৎসা দেব, হাসপাতলে আর কত শয্যা বাড়াবো। কত হাই ফ্লো নেজাল ক্যানোলা দেব, আমরা কত অক্সিজেনের ব্যবস্থা করবো। হাসপাতালতো আর রাতারাতি বৃদ্ধি করা যায় না। হাসপাতালের বেডওতো রাতারাতি বাড়ানো যায় না। তারপরও আমরা এই অল্প সময়ের মধ্যে আড়াই হাজার বেড থেকে ৭/৮ হাজার বেড বৃদ্ধি করেছি। দশ গুণ রোগীও আমরা সামাল দিতে সক্ষম হয়েছি। কিন্তু তারপরও বাড়লে আর সম্ভব হবে না।

সুষম খাবার বেশি খাওয়ার আহ্বান জানিয়ে তিনি আরও বলেন, পুষ্টি সপ্তাহে আমরা আহ্বান জানাচ্ছি শাক-সবজি, ফলমূলসহ সুষম খাবার খেতে হবে। তেল, চিনি, লবণ কম খান।

জাহিদ মালেক বলেন, আমাদের দেশে ১০ শতাংশ মানুষ এখনও পুষ্টিহীনতায় ভোগে। তবে পুষ্টির দিকে ঘাটতি থাকলেও আশপাশের দেশ থেকে ভালো। এমনকি ভারতের থেকে পুষ্টির দিক থেকে আমরা ভালো অবস্থানে রয়েছি।

আলোচনা সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে আরও উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ মেডিক্যাল অ্যাসোসিয়েশনের (বিএমএ) সভাপতি ডা. মোস্তফা জালাল মহিউদ্দিন, স্বাধীনতা চিকিৎসক পরিষদের (স্বাচিপ) মহাসচিব অধ্যাপক ডা. এম এ আজিজ, স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক আবুল বাসার খুরশিদ আলম, পরিবার পরিকল্পনা অধিদপ্তরের পরিচালক শাহানারা বেগম।


আরও খবর



লকডাউন: বড় দুর্দিনে নিম্ন আয়ের মানুষ

প্রকাশিত:মঙ্গলবার ২০ এপ্রিল ২০21 | হালনাগাদ:মঙ্গলবার ১১ মে ২০২১ | ৫৭জন দেখেছেন
নিউজ পোস্ট ডেস্ক

Image
অবশ্যই লকডাউনে দরিদ্রদের খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে। নতুবা মানুষ খাদ্যের প্রয়োজনে ঘর থেকে বের হয়ে আসবে। লকডাউনের ফল পাওয়া যাবে না

রাজধানীতে ১৮ বছর ধরে রিকশা চালান দ্বীপজেলা ভোলার শামসুল আলম। কিন্তু এত বেকায়দায় আগে কখনও পড়েননি। সংসারের খাওয়া-পরা, দুই ছেলে ও এক মেয়ের লেখাপড়ার খরচ- সবই জোটে তার রিকশা চালিয়ে। তবে লকডাউন ঘোষণার পর তার আয় পাঁচ ভাগের এক ভাগে নেমে এসেছে। হিমশিম খেতে হচ্ছে তার দিন চালাতে। রাজধানীর সব নিম্ন আয়ের মানুষের এখন এমন অবস্থা। বড় দুর্দিন এখন তাদের।

একই অবস্থা পান-সিগারেট বিক্রেতা আল আমিনের। রাজধানীর মতিঝিল এলাকায় ঘুরে ঘুরে বেচাকেনা করেন তিনি। আগে বেচাকেনার পর গড়ে দৈনিক আয় হতো ৫০০ টাকা। গত কয়েক দিনের লকডাউনে বেচাকেনাই হচ্ছে ৫০০ টাকা, আয় হচ্ছে দৈনিক সর্বোচ্চ ১০০ টাকা। এ দিয়ে দিনের থাকা-খাওয়ার খরচই হচ্ছে না। গতকাল আল আমিন বলেন, মানুষজন বাইরে বের হন কম। যারা বের হন, তাদের অনেকেই রোজাদার। তাই বেচাকেনা একদম কমে গেছে। চায়ের দোকানদার বাবুলও জানালেন, বেচাকেনা নেই।

রাজধানীর রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন পদ্মার পাশে বসে ভিক্ষা করেন ফরিদপুরের কাউলিকান্দার প্রতিবন্ধী এসকেন সরদার। তিনি জানালেন, রমজান মাসে মানুষ বেশি দান করায় আয়ও হতো বেশি। কিন্তু এবার প্রথম রমজান থেকেই লকডাউন। মানুষজন নেই রাস্তায়। তাই ভিক্ষাও পাচ্ছেন না। ইফতারের আগে কেউ কেউ খাবার-দাবার দেয়, তা দিয়েই দিন পার করতে হচ্ছে তাকে।

শামসুল আলম, আল আমিন, বাবুল, এসকেনের মতোই দুরবস্থা দৈনিক আয়ের ওপর নির্ভরশীল অন্যান্য মানুষেরও। লকডাউনে অনানুষ্ঠানিক খাতের দৈনিক আয়ের ওপর নির্ভরশীল মানুষের আয় কমেছে। কারও কারও আয় বন্ধ হয়ে গেছে। অনেককে প্রয়োজনীয় খাবারের জন্য ঋণ করতে হচ্ছে অথবা আত্মীয়-পরিজনের সহায়তা নিতে হচ্ছে। অনেকে সামাজিক সহায়তার জন্যও হাত বাড়াচ্ছেন। তবে সবাই ঋণ বা সহায়তা পাচ্ছেন না। গতবছর সাধারণ ছুটির সময় বিত্তবান ব্যক্তি, বিভিন্ন কোম্পানি ও সংস্থা সহায়তা নিয়ে এগিয়ে এলেও এবার তেমন দেখা যাচ্ছে না।

করোনার প্রথম ঢেউয়ের প্রভাব কাটতে না কাটতেই শুরু হয়েছে দ্বিতীয় ঢেউ। গত বছরের ৬৬ দিনের সাধারণ ছুটির ধাক্কায় ক্ষতিগ্রস্ত অনেকেই এখনও বিপর্যস্ত অবস্থা কাটিয়ে উঠতে পারেননি। ওই সময় দেশে দারিদ্র্যের হার দ্বিগুণ হয়েছিল। নিম্ন আয়ের মানুষ যখন সেই ধাক্কা সামলে উঠে দাঁড়ানোর চেষ্টা করছে, তখনই শুরু হয়েছে করোনার দ্বিতীয় ঢেউ।

করোনার দ্বিতীয় ঢেউয়ের প্রভাব সামাল দিতে গত ৫ এপ্রিল থেকে এক সপ্তাহের বিধিনিষেধ আরোপ করে সরকার। এর পরও করোনাভাইরাসের সংক্রমণ ও মৃত্যু বেড়ে যাওয়ায় গত ১৪ এপ্রিল থেকে সার্বিক কার্যাবলি ও চলাচলে বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়েছে। যাকে বলা হচ্ছে সর্বাত্মক লকডাউন। এতে জরুরি পণ্য ও সেবার সঙ্গে সম্পৃক্ত কার্যক্রমের বাইরে সবকিছু বন্ধ রাখা হয়েছে। এই লকডাউন আরও এক সপ্তাহ বাড়ানো হবে বলে আভাস দিচ্ছেন সরকারের নীতিনির্ধারকরা। এতে দৈনিক আয়ের ওপর নির্ভরশীল মানুষের টিকে থাকার সংগ্রাম আরও কঠিন হতে যাচ্ছে। এ অবস্থায় অনেকেই পরিবার-পরিজন নিয়ে দুর্ভাবনায় পড়েছেন নতুন করে।

অর্থনীতিবিদরা বলছেন, এ ধরনের লকডাউনে সবচেয়ে বেশি ক্ষতির মুখে পড়েছেন দিনমজুর, শ্রমিক ও নিম্নবিত্ত জনগণ। বিশেষ করে যারা শহর ও শহরের উপকণ্ঠে থাকেন। এ পরিস্থিতিতে অনানুষ্ঠানিক খাতের লোকজন রিকশাচালক, পরিবহনকর্মী, হকার, দিনমজুর, পরিচ্ছন্নতাকর্মী, কামার, কুমোর, জেলে, দর্জি, বিভিন্ন ধরনের মিস্ত্রি, নির্মাণ শ্রমিকসহ দৈনন্দিন আয়ের ওপর নির্ভরশীল মানুষ কাজ করার সুযোগ পাচ্ছেন না। কাজ থেকে দূরে থাকতে হচ্ছে ভ্যানচালক, ঠেলাগাড়িচালক, রংমিস্ত্রি, কাঠমিস্ত্রি, তালা-চাবির মিস্ত্রি, সাইকেল-ভ্যান, রিকশা ও মোটর গ্যারেজের কর্মীদেরও। মোবাইল রিচার্জের ব্যবসায়ী, ফুল বিক্রেতা, দোকানের কর্মচারী, ফুটপাতের ব্যবসায়ীরাও আয় থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। মিষ্টির দোকান ও বেকারি বন্ধ থাকায় গ্রামে দুধ ব্যবসায়ীরা দুধ কিনছেন না। এতে যারা গাভি পালন করেন, তারা ও ব্যবসায়ী উভয়েই সমস্যায় পড়েছেন। মুদ্রণ ও প্রকাশনা খাতের কর্মীরা বেকার বসে আছেন আগে থেকেই। শহরের বস্তিবাসী- যারা বাসাবাড়ি, নির্মাণ খাতসহ অন্যান্য ক্ষেত্রে দিনমজুরের কাজ করেন, হকারি করেন এবং রাস্তার পাশে অস্থায়ী দোকান করেন- তারাও বেকার এখন। সামগ্রিকভাবে কৃষি, শিল্প ও সেবা সব খাতেই নিম্ন আয়ের মানুষের ওপর লকডাউনের নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে। আয় হারিয়ে কর্মহীন বসে থাকার ফলে এ ধরনের মানুষের খাদ্য সংকট ছাড়াও স্বাস্থ্য ও মানসিক পরিস্থিতির ব্যাপক অবনতিরও আশঙ্কা রয়েছে।

এমন প্রেক্ষাপটে অর্থনীতিবিদরা লকডাউনের সময় দরিদ্রদের খাদ্যের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পরামর্শ দিয়েছেন। তারা বলছেন, শহরের দরিদ্রদের জন্য সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচি বাড়াতে হবে। একই সঙ্গে বিত্তবানদের সহায়তা করার জন্য উদ্বুদ্ধ করতে হবে। লকডাউন-পরবর্তী সময়ে এ ধরনের লোকেরা যাতে সহজেই আয় করতে পারে, এমন পরিবেশ সৃষ্টি করার কথা বলছেন তারা।

এরই মধ্যে কয়েকজন মন্ত্রী গণমাধ্যমকে জানিয়েছেন, সরকার লকডাউনে দরিদ্র মানুষের সহায়তায় বিভিন্ন কার্যক্রম হাতে নিয়েছে। তবে কবে কখন কীভাবে এসব সহায়তা দেওয়া হবে, সে বিষয়ে এখনও চূড়ান্ত ঘোষণা আসেনি সরকারের পক্ষ থেকে। মন্ত্রীদের ভাষ্য অনুযায়ী, সোয়া কোটি পরিবারকে ১০ কেজি চাল, এক কেজি করে ডাল, তেল, লবণ ও চার কেজি আলু দেওয়া হবে। ৩৬ লাখ পরিবারকে নগদ আড়াই হাজার টাকা করে দেবে সরকার। এক লাখ কৃষককে পাঁচ হাজার টাকা করে নগদ সহায়তা দেওয়া হবে। এ ছাড়া বাড়ানো হয়েছে খোলা বাজারে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য বিক্রি। চালু করা হচ্ছে বিশেষ ওএমএস। দেশব্যাপী ৭৫ হাজার টন চাল ১০ টাকা দরে বিক্রির উদ্যোগ নিয়েছে খাদ্য অধিদপ্তর। টিসিবির মাধ্যমেও বিক্রি বাড়ানো হয়েছে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সরকারের কর্মসূচি দ্রুত পূর্ণাঙ্গভাবে বাস্তবায়ন করতে হবে। তবে সরকারের এ কার্যক্রম পর্যাপ্ত নয়। কারণ, সরকারের সহযোগিতা পাচ্ছে কিছু মানুষ, যারা আগে থেকেই বিভিন্নভাবে সরকারের কাছে দরিদ্র ও দুস্থ হিসেবে নিবন্ধিত। কিন্তু যাদের সংকটাপন্ন পরিস্থিতির তথ্য সরকারের কাছে নেই, তাদের সহায়তা পাওয়ার কোনো ব্যবস্থা নেই। গত বছরের সাধারণ ছুটির সময় দেশে দরিদ্র জনগোষ্ঠী বেড়েছে। তাদের কারও কারও অবস্থার উন্নতি ঘটলেও নতুন করে লকডাউনের ফলে অনেকেই ফের দরিদ্রের তালিকায় ফিরে গেছেন। এ ধরনের মানুষের জন্য সরকারের সহায়তা আরও বাড়ানো দরকার, বিশেষ করে তাদের নগদ টাকা দেওয়া দরকার।

বেসরকারি গবেষণা সংস্থা সাউথ এশিয়ান নেটওয়ার্ক অন ইকোনমিক মডেলিংয়ের (সানেম) এক জরিপ অনুযায়ী, গত বছরের লকডাউনে দরিদ্রের হার বেড়ে দাঁড়ায় ৪২ শতাংশে। বিআইডিএসের গত বছরের এক জরিপেও দেখা গেছে, এ সময় দেশে এক কোটি ৬৪ লাখ মানুষ নতুন করে গরিব হয়েছে। সিপিডির জরিপমতে, ওই সময় দারিদ্র্য বেড়ে দাঁড়ায় ৩৫ শতাংশে। পিপিআরসি ও বিআইজিডি বলেছে, দারিদ্র্যের হার ৪৩ শতাংশে উন্নীত হয়। ব্র্যাকের এক জরিপে দেখা গেছে, গত বছরের সাধারণ ছুটির সময়ে নিম্ন আয়ের অনেকেরই আয় বন্ধ ছিল। আর সাধারণ ছুটির পর তাদের আয় ৭৫ শতাংশ পর্যন্ত কমে যায়।

সানেমের নির্বাহী পরিচালক অধ্যাপক সেলিম রায়হান বলেন, কিছু শিল্পকারখানা ছাড়া এখন সবই বন্ধ। ফলে অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড সংকুচিত হয়েছে, অনানুষ্ঠানিক খাতের লোকদের আয়-রোজগারের পথ বন্ধ হয়ে গেছে। কাজ হারানো মানুষের সংখ্যা শহরেই বেশি। নতুন করে অনেক মানুষ দরিদ্র হয়েছে। সরকারকে এসব বিষয় মাথায় নিয়ে সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচি বাড়াতে হবে। এলাকাভিত্তিক অ্যাসেসমেন্ট করে সহায়তা করা যেতে পারে।

গবেষণা সংস্থা পলিসি রিসার্চ ইনস্টিটিউটের (পিআরআই) নির্বাহী পরিচালক আহসান এইচ মনসুর বলেন, লকডাউনে নিঃসন্দেহে দৈনিক আয়ের ওপর নির্ভরশীল লোকেরা সমস্যায় পড়বে। দারিদ্র্য বাড়বে। এ সময় অবশ্যই দরিদ্র জনগোষ্ঠীর খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে। এজন্য নগদ অর্থ দিয়ে সহায়তা করা যেতে পারে। তবে প্রকৃত ক্ষতিগ্রস্তকে সঠিকভাবে চিহ্নিত করতে হবে। লকডাউনের পর তাদের আয় সহায়তা দিতে হবে। এজন্য শ্রমঘন সরকারি কার্যক্রম বাড়াতে হবে। বেসরকারি বিনিয়োগ যাতে উৎসাহিত হয় এমন উদ্যোগ নিতে হবে।

বিশ্বব্যাংকের ঢাকা অফিসের সাবেক লিড ইকোনমিস্ট জাহিদ হোসেন বলেন, অবশ্যই লকডাউনে দরিদ্রদের খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে। নতুবা মানুষ খাদ্যের প্রয়োজনে ঘর থেকে বের হয়ে আসবে। লকডাউনের ফল পাওয়া যাবে না। এজন্য সঠিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত ও দুস্থদের তালিকা করে নগদ টাকা দিতে হবে। একইসঙ্গে লকডাউন-পরবর্তী সময়ে তাদের অনুদান হিসেবে পুঁজি দিতে হবে।

বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, ইতোমধ্যে করোনার প্রভাবে দরিদ্র মানুষ খাদ্যবহির্ভূত ব্যয় কমিয়ে দিয়েছে। অনেকে সঞ্চয় ভেঙে খেয়েছেন, ঋণ নিয়েছেন এবং খাদ্যাভ্যাসে পরিবর্তন এনেছেন। আবার অনেকে পরিস্থিতির সঙ্গে খাপ খাওয়ানোর পথই খুঁজে পাননি। ফলে অনেকেরই দারিদ্র্যসীমার নিচে নেমে আসার শংকা তৈরি হয়েছে।

এসডিজি বাস্তবায়নে নাগরিক প্ল্যাটফর্মের এক সাম্প্রতিক জরিপে বলা হয়েছে, গত বছরের মার্চে দেশে করোনা সংক্রমণ শুরুর পর প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর ৭৮ দশমিক ৮ শতাংশ পরিবারই আর্থিক সংকটে পড়ে। এক বছর পর এর মধ্যে ৭৮ দশমিক ৫ শতাংশ এখনও এ সংকট থেকে বের হতে পারেনি। আয়ের সঙ্গে ব্যয় সমন্বয় করতে খাদ্য গ্রহণে আপস করে চলছে এসব মানুষের জীবন। প্রতিদিনকার প্রয়োজনীয় ব্যয় মেটাতে অনেকে ঋণ করে চলছেন। অনেকের ঋণের পরিমাণ বেড়েছে। দশ ধরনের পেশার প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর ওপর পরিচালিত এক জরিপে এমন ফলাফল পেয়েছে এসডিজি বাস্তবায়নে নাগরিক প্ল্যাটফর্ম।

এক হাজার ৬০০ পরিবারের ওপর পরিচালিত জরিপে দেখা গেছে, গত বছরের মার্চের তুলনায় গেল ফেব্রুয়ারিতে প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর আয় কমেছে ১৫ দশমিক ৮ শতাংশ। এ সময় তাদের ব্যয় কমেছে ৮ দশমিক ১ শতাংশ। সমীক্ষার আওতায় থাকা প্রায় ৬০ দশমিক ৮ শতাংশ পরিবারকে ঋণ নিতে হয়েছিল। এ ঋণ পরিশোধে তাদের আরও অন্তত দুই বছর সময় লাগতে পারে। ক্ষুদ্র ও মাঝারি ব্যবসায়ী, প্রতিবন্ধী, বস্তিবাসী ও চরের মানুষজনের ক্ষতি হয়েছে সবচেয়ে বেশি।

নিউজ ট্যাগ: লকডাউন

আরও খবর



আবদুল মতিন খসরুর সম্মানে আজ সুপ্রিম কোর্ট বসছেন না

প্রকাশিত:বৃহস্পতিবার ১৫ এপ্রিল ২০২১ | হালনাগাদ:শুক্রবার ১৪ মে ২০২১ | ৭৮জন দেখেছেন
নিউজ পোস্ট ডেস্ক

Image
প্রধান বিচারপতি বলেন, আপিল বিভাগের সকল বিচারপতির সঙ্গে এ বিষয়ে আমি আগেই আলোচনা করেছি। সব বিচারপতি একবাক্যে বলেছেন কোর্ট বন্ধ রাখার জন্য। কোর্ট বসবে না

সুপ্রিমকোর্ট আইনজীবী সমিতির সভাপতি ও সাবেক আইনমন্ত্রী আবদুল মতিন খসরুর মৃত্যুতে তার প্রতি সম্মান জানিয়ে আজ বৃহস্পতিবার (১৫ এপ্রিল) সুপ্রিম কোর্টের উভয় বিভাগে ভার্চ্যুয়ালি বিচারকার্য পরিচালিত হবে না। বৃহস্পতিবার আপিল বিভাগের ভার্চ্যুয়াল বেঞ্চে প্রধান বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেন এ কথা বলেন।

এর আগে অ্যাটর্নি জেনারেল এএম আমিন উদ্দিন সুপ্রিম কোর্টের উভয় বিভাগের বিচার কাজ বন্ধ রাখার জন্য প্রধান বিচারপতিকে অনুরোধ জানান। তখন প্রধান বিচারপতি বলেন, আপিল বিভাগের সকল বিচারপতির সঙ্গে এ বিষয়ে আমি আগেই আলোচনা করেছি। সব বিচারপতি একবাক্যে বলেছেন কোর্ট বন্ধ রাখার জন্য। কোর্ট বসবে না।

চিকিৎসাধীন অবস্থায় বুধবার (১৪ এপ্রিল) ৪টা ৫০ মিনিটে সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে আবদুল মতিন খসরু ইন্তেকাল করেন।


আরও খবর



করোনায় মারা গেছেন ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের উপসচিব

প্রকাশিত:বৃহস্পতিবার ১৫ এপ্রিল ২০২১ | হালনাগাদ:বৃহস্পতিবার ১৩ মে ২০২১ | ৮৬জন দেখেছেন
নিউজ পোস্ট ডেস্ক

Image

করোনায় আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের উপসচিব আবুল খায়ের মো. মারুফ হাসান। বিসিএস (প্রশাসন) ক্যাডারের ২২তম ব্যাচের কর্মকর্তা আবুল খায়ের কেন্দ্রীয় পুলিশ হাসপাতালে লাইফ সাপোর্টে থাকাবস্থায় বৃহস্পতিবার (১৫ এপ্রিল) সকাল ছয়টায় মারা যান।

দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র তথ্য অফিসার মো. সেলিম হোসেন এ তথ্য নিশ্চিত করে জানান, আবুল খায়ের মো. মারুফ হাসান মৃত্যুকালে স্ত্রী ও দুই কন্যা সন্তানসহ অসংখ্য বন্ধু-বান্ধব ও শুভাকাঙ্ক্ষী রেখে গেছেন।

উপসচিব আবুল খায়েরের মৃত্যুতে গভীর শোক ও দুঃখ প্রকাশ করেছেন দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ প্রতিমন্ত্রী ডা. মো. এনামুর রহমান এবং মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. মোহসীন। পৃথক শোক বার্তায় তারা মরহুমের বিদেহী আত্মার শান্তি কামনা করেন এবং শোকসন্তপ্ত পরিবারের সদস্যদের প্রতি গভীর সমবেদনা জানান।


আরও খবর

ঈদ মোবারক

শুক্রবার ১৪ মে ২০২১




করোনায় একদিনে আরও ৬৯ জনের মৃত্যু

প্রকাশিত:রবিবার ০২ মে 2০২1 | হালনাগাদ:শুক্রবার ১৪ মে ২০২১ | ৭০জন দেখেছেন
নিউজ পোস্ট ডেস্ক

Image

গত ২৪ ঘণ্টায় দেশে করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে আরও ৬৯ জনের মৃত্যু হয়েছে।এছাড়া গত ২৪ ঘণ্টায় করোনা শনাক্ত ১৩৫৯ জন।

রবিবার (২ মে) বিকেলে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. নাসিমা সুলতানা স্বাক্ষরিত এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

এর আগে গত ৭ এপ্রিল দেশে একদিনে করোনা শনাক্ত হয় সাত হাজার ৬২৬ জন। যা দেশে একদিনে করোনা শনাক্তে সর্বোচ্চ রেকর্ড। আর গত ৬ এপ্রিল একদিনে করোনা শনাক্ত হয়েছিল সাত হাজার ২১৩ জন।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য মতে, ২০২০ সালের ৮ মার্চ দেশে করোনা ভাইরাসের প্রথম রোগী শনাক্ত হয়। এর ১০ দিন পর ১৮ মার্চ করোনায় আক্রান্ত হয়ে প্রথম একজনের মৃত্যু হয়। এরপর ধীরে ধীরে আক্রান্তের হার বাড়তে থাকে।  


আরও খবর