
কোভিডজনিত নিষেধাজ্ঞার কারণে অনলাইন কেনাকাটায় ঝুঁকেছিলেন ভোক্তারা। এতে ই-কমার্স প্রতিষ্ঠানগুলোর বিক্রি ব্যাপক হারে বেড়ে গিয়েছিল। বর্তমানে বিধিনিষেধ শিথিল হওয়ায় ভোক্তারা পুনরায় দোকানে গিয়ে কেনাকাটা পছন্দ করছেন। ফলে ভাটা পড়েছে অনলাইন বিক্রির। এ অবস্থায় ১০ শতাংশ কর্মী ছাঁটাইয়ের ঘোষণা দিয়েছে শপিফাই। মার্কিন বার্তা সংস্থা এপির খবর অনুসারে, কানাডীয় ই-কমার্স প্রতিষ্ঠানটির এ পদক্ষেপে প্রায় এক হাজার কর্মী ছাঁটাইয়ের মুখোমুখি হবেন।
অর্থনীতি নিয়ে চলমান অনিশ্চয়তার কারণে অনেক প্রতিষ্ঠানই ব্যয় সংকোচনের অংশ হিসেবে কর্মী ছাঁটাই করছে। এ খবরের পর অটোয়াভিত্তিক প্রতিষ্ঠানটির শেয়ারদরে ১৫ শতাংশ পতন হয়েছে। কর্মীদের কাছে পাঠানো একটি মেমোতে শপিফাইয়ের প্রতিষ্ঠাতা ও সিইও টোবিয়াস লুটকে বলেন, মানবসম্পদ, সহায়কা ও বিক্রয় বিভাগজুড়ে কর্মী ছাঁটাই করা হবে।
সংস্থাটি জানিয়েছে, অতিরিক্ত বিশেষায়িত ও এ ধরনের পদগুলোকে বাদ দেয়া হচ্ছে। প্রতিষ্ঠানটি পূর্বাভাস দিয়েছিল, মহামারীটি পাঁচ বা এমনকি ১০ বছরের জন্য ই-কমার্স বিক্রিকে ত্বরান্বিত করবে। এ প্রত্যাশা সামনে রেখে প্রতিষ্ঠানটি কর্মী বাহিনী ও কার্যক্রম বিস্তৃত করেছে। তবে বাস্তবে এমনটা ঘটেনি বলে মনে করছেন টোবিয়াস লুটকে। মেমোতে তিনি লিখেছেন, বাজারটি এখন কোভিড-১৯ মহামারীর আগের পর্যায়ের কাছাকাছি চলে গিয়েছে। ফলে আপনাদের কাউকে কাউকে বিদায় জানাতে হবে এবং এর জন্য আমি গভীরভাবে দুঃখিত।
২০০৬ সালে খুচরা বিক্রেতাদের জন্য ওয়েব ডিজাইনার হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল শপিফাই। তবে সংস্থাটির অর্থ প্রদান, বিপণন ও শিপিংসহ বিভিন্ন পরিষেবা কার্যক্রম বিস্তৃত হয়েছে। ২০১৯ থেকে ২০২০ সালের মধ্যে সংস্থাটির বিক্রি ৮৬ শতাংশ বেড়েছে। পাশাপাশি গত বছরও সংস্থাটির বিক্রি আগের বছরের চেয়ে ৫৭ শতাংশ বেড়ে ৪৬১ কোটি ডলারে পৌঁছেছে। গত মে মাসে কোভিডের প্রভাব ম্লান হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে শপিফাই ধীর আয় বৃদ্ধি নিয়ে সতর্ক করেছিল। সংস্থাটি জানিয়েছে, যে কর্মীদের ছাঁটাই করা হচ্ছে, তারা ১৬ সপ্তাহের বেতন পাবেন। পাশাপাশি চাকরির প্রতি বছর মেয়াদের জন্য তারা একটি করে অতিরিক্ত সপ্তাহের বেতন পাবেন।

