Logo
শিরোনাম

২০ দিনে রেমিট্যান্স এসেছে সাড়ে ১৩১ কোটি ডলার

প্রকাশিত:রবিবার ২২ জানুয়ারী ২০২৩ | হালনাগাদ:শুক্রবার ২৭ জানুয়ারী ২০২৩ | ৪৭জন দেখেছেন
নিউজ পোস্ট ডেস্ক

Image

চলতি বছরের জানুয়ারির প্রথম ২০ দিনে দেশে রেমিট্যান্স এসেছে ১৩১ কোটি ৫২ লাখ ডলার। দেশে গত বছরের শুরু থেকেই চলছে ডলার সংকট। ধীরে ধীরে এই সংকট প্রকট আকার ধারণ করছে। এমন পরিস্থিতিতির মধ্যে চলতি বছরের শুরুতেই প্রবাসী আয়ে উত্থান হয়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বশেষ হালনাগাদ প্রতিবেদন থেকে এ তথ্য জানা যায়।

বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, চলতি জানুয়ারি মাসের প্রথম ২০ দিনে প্রবাসীরা সবচেয়ে বেশি রেমিট্যান্স পাঠিয়েছেন বেসরকারি বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোর মাধ্যমে। আলোচ্য এই সময়ে বেসরকারি ব্যাংকের মাধ্যমে এসেছে ১০৯ কোটি ৯৯ লাখ মার্কিন ডলারের রেমিট্যান্স। এছাড়া রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকগুলোর মাধ্যমে রেমিট্যান্স এসেছে ১৭ কোটি ৯১ লাখ মার্কিন ডলার, বিশেষায়িত এক ব্যাংকের মাধ্যমে ৩ কোটি ৫০ লাখ ডলার এবং বিদেশি ব্যাংকগুলোর মাধ্যমে রেমিট্যান্স এসেছে ৫০ লাখ মার্কিন ডলার।

তথ্য বলছে, সদ্য সমাপ্ত ডিসেম্বর মাসে ১৬৯ কোটি ৯৭ লাখ মার্কিন ডলার রেমিট্যান্স এসেছিল। এই পরিমাণ ২০২১ সালের ডিসেম্বরের চেয়ে প্রায় ৭ কোটি ডলার বেশি। ২০২১ সালের ডিসেম্বরে রেমিট্যান্স এসেছিল ১৬৩ কোটি ডলার।

এদিকে চলতি ২০২২-২৩ অর্থবছরের প্রথম (জুলাই থেকে ডিসেম্বর পর্যন্ত) ৬ মাসে মোট রেমিট্যান্স এসেছে ১ হাজার ৪৯ কোটি ৩২ লাখ মার্কিন ডলার। আগের অর্থবছরের একই সময়ে রেমিট্যান্স এসেছিল ১ হাজার ২৩ কোটি ৯৫ লাখ ডলার। সেই হিসাবে চলতি অর্থবছরের প্রথম ৬ মাসে ২৫ কোটি ৩৭ লাখ মার্কিন ডলার বেশি এসেছে।

এর আগে ২০২১-২০২২ অর্থবছরে দেশে মোট রেমিট্যান্স এসেছে ২ হাজার ১০৩ কোটি ১৭ লাখ মার্কিন ডলার। তারও আগে ২০২০-২১ অর্থবছরে রেমিট্যান্স আহরণের পরিমাণ ছিল ২ হাজার ৪৭৭ কোটি ৭৭ লাখ মার্কিন ডলার।


আরও খবর



গোহত্যা বন্ধ হলে মিটে যাবে পৃথিবীর সব সমস্যা, ভারতীয় বিচারকের মন্তব্য

প্রকাশিত:সোমবার ২৩ জানুয়ারী 20২৩ | হালনাগাদ:বৃহস্পতিবার ২৬ জানুয়ারী ২০২৩ | ১৩জন দেখেছেন
নিউজ পোস্ট ডেস্ক

Image

ভারতের মহারাষ্ট্র থেকে বেআইনিভাবে গরু পরিবহনের একটি মামলায় অভিযুক্ত ব্যক্তিকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছে গুজরাটের একটি আদালত। এ সময় আদালত বেশ কিছু পর্যবেক্ষণ দিয়েছে। ভারতীয় গণমাধ্যম হিন্দুস্তান টাইমস এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে।

মহারাষ্ট্রের তাপি জেলা আদালত ওই রায়ের পর্যবেক্ষণে বলেছে, যেদিন পৃথিবী থেকে গরু জবাই বন্ধ হবে, সেদিন থেকে পৃথিবীর সকল সমস্যার সমাধান হয়ে যাবে। আবার মহাবিশ্ব থেকে যেদিন গরু বিলুপ্ত হয়ে যাবে, সেদিন মহাবিশ্বই বিলুপ্ত হয়ে যাবে। আইনবিষয়ক ওয়েবসাইট লাইভ ল’ তাপি জেলা আদালতের এ খবর প্রকাশ করেছে বলেও হিন্দুস্তান টাইমসের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে।

লাইভ ল জানিয়েছে, গত বছরের নভেম্বরে তাপি জেলা আদালতের প্রধান বিচারক সমীর বিনোদচন্দ্র ব্যাস এসব পর্যবেক্ষণ তুলে ধরেন। তিনি দাবি করেন, বিজ্ঞান প্রমাণ করেছে যে গোবর দিয়ে তৈরি ঘরগুলোতে পারমাণবিক বিকিরণের প্রভাব পড়ে না। গোমূত্র ব্যবহার করলে অনেক দুরারোগ্য রোগের নিরাময় হয়। গরু হল ধর্মের প্রতীক।

শ্লোকের উল্লেখ করে সমীর বিনোদচন্দ্র আরও বলেছেন, যেখানে গরু সুখী হয়, সেখানে সম্পদ লাভ হয় এবং যেখানে গরু নির্যাতিত হয়, সেখানে বিপরীত ঘটনা ঘটে। গরু রুদ্রের মা, বাসু কন্যা, অদিতিপুত্রের বোন এবং ধৃতরূপ অমৃতের ধন।’ 

নিউজ ট্যাগ: গোহত্যা

আরও খবর



মুখে বলি বঙ্গবন্ধুর সৈনিক, মঞ্চে উঠলে মনে থাকে না : ওবায়দুল কাদের

প্রকাশিত:মঙ্গলবার ১৭ জানুয়ারী ২০২৩ | হালনাগাদ:বৃহস্পতিবার ২৬ জানুয়ারী ২০২৩ | ৩২জন দেখেছেন
নিউজ পোস্ট ডেস্ক

Image

আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেছেন, মুখে বলি বঙ্গবন্ধুর সৈনিক, নেতা হয়ে মঞ্চে উঠলে আদর্শের কথা মনে থাকে না। মঙ্গলবার (১৭ জানুয়ারি) রাজধানীর কৃষিবিদ ইনস্টিটিউটে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন।

তিনি বলেন, নেতাদের ভীড়ে আসল কর্মী চেনা দায়। স্মার্ট বাংলাদেশের জন্য স্মার্ট কর্মীবাহিনী দরকার। বাংলাদেশের জন্য সুশৃঙ্খল আওয়ামী লীগ চাই।

আওয়ামী লীগকে শৃঙ্খলাবদ্ধ করতে হবে। যারা চাঁদাবাজিতে মাস্তানি করবে তাদের সাথে কোনো আপস নয়, করবে তাদের বিরুদ্ধে আপসহীন লড়াই চলবে। মুখে আওয়ামী লীগের আদর্শ লালন করবেন অন্তরে সে আদর্শ লালন করবেন না তেমন নেতার দরকার নেই।

ওবায়দুল কাদের বলেন, বিএনপি বলছে-সুনামি এনে সরকার হটাবে মার্কিন সহকারী পররাষ্ট্রমন্ত্রীর কথা শুনে বিএনপি অসুস্থ হয়ে গেছে। বিএনপির হতাশা থেকে অসুস্থতার শুরু হয়েছে। ৫৪ দলের ৫৪ মতে বিভক্ত।

তিনি বলেন, হতাশায় বিএনপির বাজার ভেঙে যাচ্ছে, বিএনপির জোটের বাজার ভেঙে যাচ্ছে, এ হতাশার জোট দিয়ে শেখ হাসিনা সরকার হটানো দূরাশার বাণী।

সেতুমন্ত্রী বলেন, সরকারের পরিবর্তন চাইলে নির্বাচনে আসুন। সরকার নির্বাচন নিয়ে মাথা ঘামাবে না নির্বাচন করবে নির্বাচন কমিশনার। তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা ছাড়া কোথাও নেই, অহেতুক তত্ত্বাবধায়কের কথা ভুলে যান, আইন দ্বারা ঘটিত নির্বাচন কমিশনের পদত্যাগ প্রশ্নই আসে না।

তিনি আরও বলেন, বিএনপির অস্বাভাবিক আবদার পরিবর্তনে সাপোর্ট না দেওয়ার কারণেই নির্বাচন কমিশন চায় না। বিএনপিকে নির্বাচনে আসবেই, সব হারিয়ে আসবেন।

এসময় ঐক্যবদ্ধ আওয়ামী লীগকে ধ্বংস করার শক্তি বাংলাদেশের কোন রাজনৈতিক দলের নেই মন্তব্য করে সকলকে ঐক্যবদ্ধ হবার আহ্বান জানান ওবায়দুল কাদের।  


আরও খবর



ব্যাংকে আমানতের প্রবৃদ্ধি কমেছে অর্ধেক

প্রকাশিত:বুধবার ২৮ ডিসেম্বর ২০২২ | হালনাগাদ:বৃহস্পতিবার ২৬ জানুয়ারী ২০২৩ | ৪৮জন দেখেছেন
নিউজ পোস্ট ডেস্ক

Image

ব্যাংকিং খাতে আমানতের প্রবৃদ্ধি প্রায় অর্ধেক কমে গেছে। গত অর্থবছরের জুলাই-অক্টোবরের তুলনায় চলতি অর্থবছরের একই সময়ে আমানত কমেছে ১৮ হাজার ৯৮২ কোটি টাকা। আলোচ্য সময়ে আমানতের প্রবৃদ্ধি কমেছে প্রায় ৪৯ শতাংশ। আমানত কমলেও ঋণ প্রবাহ বাড়ছে। এতে ব্যাংকগুলোতে তারল্য সংকট বাড়ছে। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের এক প্রতিবেদন থেকে এসব তথ্য পাওয়া গেছে।

সূত্র জানায়, ব্যাংকিং খাতে একদিকে আমানত কমছে, অন্যদিকে ঋণ প্রবাহ বাড়ছে। এতে ব্যাংকগুলোতে নগদ অর্থের প্রবাহ কমে গেছে। ব্যাংকগুলোতে আমানত কমার জন্য এর আগে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, রেমিট্যান্স প্রবাহ কমা, ঋণ প্রবাহ বৃদ্ধি ও নতুন সঞ্চয় কমে যাওয়ার কারণে ব্যাংকে আমানত কমেছে। আমানত বাড়াতে ব্যাংকগুলোতে নানা পদক্ষেপ নিতে বলা হয়েছে। কেন্দ্রীয় ব্যাংক আশা করছে চলতি ডিসেম্বর মাস শেষে আমানত প্রবাহ আবার বেড়ে যাবে।

এদিকে ব্যাংকে আমানত কমার জন্য ডলার সংকটও একটি কারণ। এজন্য আমদানি ব্যয় বেড়েছে। পণ্যের দাম বেড়েছে। ফলে ভোক্তাকে বেশি দামে পণ্য কিনতে হচ্ছে। এদিকে অর্থনৈতিক মন্দায় ভোক্তার আয় বাড়েনি। বাড়তি দামে পণ্য কেনার কারণে ভোক্তারা আয়ের সঙ্গে ব্যয়ের ভারসাম্য রক্ষা করতে পারছে না। ফলে তারা সঞ্চয় করতে পারছে না। এতে ব্যাংকে নতুন সঞ্চয় কমে গেছে। একই সঙ্গে সংসারের বাড়তি ব্যয় মেটাতে ব্যাংক থেকে আগের সঞ্চয় ভেঙে খরচ করতে হচ্ছে। ফলে ব্যাংকে সঞ্চয় কমে গেছে।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের প্রতিবেদন থেকে পাওয়া তথ্যে দেখা যায়, গত অর্থবছরের জুলাই-অক্টোবরে ব্যাংকিং খাতে আমানত বেড়েছিল ৩৭ হাজার ১৮৮ কোটি টাকা। চলতি অর্থবছরের একই সময়ে আমানত বেড়েছে ১৮ হাজার ৯৮২ কোটি টাকা। গত অর্থবছরের জুলাই-অক্টোবরের তুলনায় চলতি অর্থবছরের একই সময়ে আমানত ১৮ হাজার ২০৬ কোটি টাকা কম বেড়েছে। শতকরা হিসাবে বৃদ্ধির হার কমেছে ৪৯ শতাংশ। অর্থাৎ আলোচ্য সময়ে আমানতের প্রবৃদ্ধি প্রায় অর্ধেক কমে গেছে। এর আগের অর্থবছরের একই সময়ে আমানত বেড়েছিল। আগে কখনোই এত বেশি হারে আমানত কমেনি।

২০১৯ সালের অক্টোবরে আমানত ছিল ১১ লাখ ৬ হাজার ৯৮৪ কোটি টাকা। ২০২০ সালের অক্টোবরে তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১২ লাখ ৫১ হাজার ৬৭২ কোটি টাকা। ২০১৯ সালের তুলনায় ২০২০ সালে আমানত বেড়েছিল ১ লাখ ৪৪ হাজার ৬৮৮ কোটি টাকা। আমানতের প্রবৃদ্ধি ছিল ১৩ শতাংশ। ২০২১ সালের অক্টোবরে আমানত বেড়ে দাঁড়ায় ১৩ লাখ ৮৮ হাজার ৫৬৫ কোটি টাকা। ওই এক বছরে ব্যাংকে আমানত বেড়েছে ১ লাখ ৩৬ হাজার ৮৯৩ কোটি টাকা। শতকরা হিসাবে প্রবৃদ্ধি হয়েছে ১০ দশমিক ৯৪ শতাংশ। অর্থাৎ ২০২০ সালের তুলনায় ২০২১ সালে আমানতের প্রবৃদ্ধি কমেছে। ২০২২ সালের অক্টোবরে তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১৪ লাখ ৯০ হাজার ৬৫৫ কোটি টাকা। ২০২১ সালের অক্টোবর থেকে ২০২২ সালের অক্টোবর পর্যন্ত এই এক বছরে আমানত বেড়েছে ১ লাখ ২ হাজার ৯০ কোটি টাকা। শতকরা হিসাবে প্রবৃদ্ধির হার ৭ দশমিক ৩৫ শতাংশ। অর্থাৎ গত তিন বছরে আমানতের প্রবৃদ্ধি কমে আসছে। ২০১৯ সালের তুলনায় ২০২০ সালের অক্টোবরে প্রবৃদ্ধি হয়েছিল ১৩ শতাংশ। ২০২০ সালের তুলনায় ২০২১ সালে প্রবৃদ্ধি হয়েছে ১০ দশমিক ৯৪ শতাংশ। ২০২১ সালের তুলনায় ২০২২ সালে প্রবৃদ্ধি হয়েছে ৭ দশমিক ৩৫ শতাংশ।

এদিকে ব্যাংকে আমানত কমলেও বেড়ে যাচ্ছে ঋণের প্রবৃদ্ধি। গত অর্থবছরের জুলাই-অক্টোবরে অভ্যন্তরীণ ঋণ বেড়েছিল ৪২ হাজার ২০৬ কোটি টাকা। চলতি অর্থবছরের একই সময়ে বেড়েছে ৬১ হাজার ৩৩৭ কোটি টাকা। আলোচ্য সময়ে ঋণ বেড়েছে ৪৫ দশমিক ৩৩ শতাংশ। আমানত ও ঋণে এ রকম ভারসাম্যহীনতার কারণে ব্যাংকিং খাতে এক ধরনের অস্থিরতা চলছে। চলতি অর্থবছরের জন্য সংকোচনমুখী মুদ্রানীতি অনুসরণ করলেও ঋণ প্রবাহে লাগাম টানা সম্ভব হচ্ছে না।


আরও খবর



নীলফামারীর সমতলে ফলেছে দার্জিলিংয়ের পাহাড়ি কমলা সাদকি

প্রকাশিত:মঙ্গলবার ০৩ জানুয়ারী ২০২৩ | হালনাগাদ:মঙ্গলবার ২৪ জানুয়ারী ২০২৩ | ৪৭জন দেখেছেন
নিউজ পোস্ট ডেস্ক

Image

নীলফামারী জেলার সমতলের মাটিতে ফলেছে এখন ভারতের দার্জিলিংয়ের পাহাড়ি জাতের কমলা সাদকি। আকারে বড়, রসালো এ কমলার রঙ ও স্বাদ রয়েছে অটুট। নীলফামারী সদরের কচুকাটা গ্রামের এ আর লেবু মিয়া (৫৬) নার্সারি ব্যবসার পাশিপাশি গড়ে তুলেছেন একটি বাগান। সে বাগানে পাহাড়ি সাদকি জাতের কমলার রঙ, স্বাদ ধরে রাখতে সফল হয়েছেন তিনি। গত কয়েক বছর থেকে ফল পাওয়ায় এখন বেড়েছে বাগানের পরিধি।

গ্রামটিতে কচুকাটা উচ্চ বিদ্যালয়ের পাশে এ আর মামুন নামে তার ওই নার্সারির অবস্থান। এরই একটি অংশে গড়ে তুলেছেন পাহাড়ি সাদকি জাতের কমলার বাগান। ২০১৩ সালে ভারতের দার্জিলিং থেকে দুটি সাদকি জাতের কমলার চারা এনে রোপণ করেছিলেন নার্সারিতে। সেখান থেকে পর্যায়ক্রমে চারা তৈরীর পর গত বছর থেকে পরিপূর্ণ ফল পেতে শুরু করেছেন ৬০টি গাছে। বাগানের পরিধি বাড়ায় আগামী বছর পাঁচ বিঘা জমিতে আরো ৬০০ গাছে ফল পাওয়ার আশা প্রকাশ করছেন তিনি। শুধু তাই নয়, বর্তমানে তার নার্সারিতে প্রস্তুত আছে ৮০ হাজার সাদকি জাতের কমলার চারা। শুধু কমলা এবং মালটা মিলে নার্সারিতে রয়েছে ১ লাখ ৬০ হাজার চারা। বাগানে ফল দেখে আগ্রহী হয়ে অনেকেই কিনে নিয়ে যাচ্ছেন সে চারা। 

লেবু মিয়া জানান, একসময়ে অর্থভাবে লেখাপড়ার করতে পারেনি তার বড় ছেলে। এরপর নিজের ভাগ্য পরিবর্তনে ২০০১ সালে এক বিঘা জমি চুক্তি নিয়ে শুরু করেন নার্সারি ব্যবসা। দিনে দিনে বাড়তে থাকে প্রসার। বর্তমানে ২৫ বিঘা জমি ক্রয় করে বৃদ্ধি করেছেন নার্সারির এলাকা। সেখানে প্রতিদিন কাজ করছেন ৩৫জন শ্রমিক। এছাড়া চায়না কমলা, বিভিন্ন জাতের মাল্টা, ত্বিন ফল, পেপে, মিষ্টি লেবু, অ্যাভোকাডো, জয়তুন, মালবেরি জয়তুন, বিভিন্ন প্রজাতির আমসহ ফিলিপাইন আম, ব্লাকবেরি, লিচুসহ ফুল ও ফলের বাগান ছড়িয়েছেন ৪৯ বিঘা জমিতে। বাগানের এমন পরিধিতে গত বছর ৩৫ লাখ ৫০ হাজার টাকা খরচ করে আয় করেছেন ৮০ লাখ ১৪ হাজার টাকা। দিনে দিনে বাড়ছে তাঁর আয়ের পরিধি। অর্থাভাবে লেখাপড়া করতে না পারা বড় ছেলে এ আর হারুন খুঁজে পেয়েছেন কর্মের পরিধি। মেজ ছেলে এ আর মামুন রাষ্ট্রবিজ্ঞানে মাস্টার্স পড়ার পাশপাশি দেখভাল করছেন ব্যবস্যার। একমাত্র মেয়ে মাহমুদা আক্তার লিহা উচ্চ মাধ্যমিক পাশ করে প্রস্তুতি নিচ্ছেন মেডিক্যাল কলেজে ভর্তির। তার বাগানে গিয়ে দেখা গেছে প্রতিটি গাছে থোকায়-থোকায় ঝুলছে পাকা কমলা। সুমিষ্ট পাকা কমলার রঙ আকৃষ্ট করছে মানুষকে। সেখানে আগতরা সুমিষ্ট পাকা কমলা খেয়ে তৃপ্ত হচ্ছেন আর লেবু মিয়ার কাছে মনযোগ সহকারে শুনছেন বাগান গড়ার সফলতার গল্প।

লেবু মিয়া জানান, গত চারবছর ধরে তার বাগানের ৬০টি কমলা গাছে ফল আসছে। এসব ফল বাজারে বিক্রি না করে দর্শনার্থীদের খাওয়ার জন্য রেখেছেন। ফল খেয়ে তৃপ্ত হয়ে অনেকে চারা সংগ্রহ এবং বাগান তৈরীতে আগ্রহী হচ্ছেন। আগামী বছর আরও ৬০০ গাছে ফল আসবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।

লেবু মিয়ার মেজ ছেলে এ আর মামুন বলেন, আমরা যখন কমলা বাগান করি- তখন অনেকে বলেছিলেন এটা শীত প্রধান এলাকার পাহাড়ি ফল। সমতলে হবে না, ফল হলেও টক হবে, আকারে ছোট হবে। কিন্তু এখন তারাই এসে এ ফল খেয়ে প্রসংসা করছেন। আমরা বিভিন্ন দেশ থেকে প্রবাসীদের মাধ্যমে ফলের চারা সংগ্রহ করি। কৃষি বিভাগের সহযোগিতা নিয়ে বাগানে লাগাই। গাছে ফল আসার পর মান ভালো না হলে সে গাছ কেটে ফেলি। মানসম্মত হলে ওই গাছ থেকে চারা উৎপাদন করে বাজাজাত করি। আমাদের বাগানের সাদকি কমলা খুবই সাড়া ফেলেছে। দেশের বিভিন্ন প্রান্তের মানুষ চারা সংগ্রহের জন্য যোগাযোগ করছেন। আমরা বিভিন্ন মাধ্যমে আগ্রহীদের মধ্যে চারা পৌঁছানোর ব্যবস্থা করছি।

নীলফামারী কৃষি সম্প্রসারণ বিভাগের ভারপ্রাপ্ত উপ-পরিচালক মোছা. হোমায়রা মন্ডল বলেন, সাদকি কমলার জাতটি পাহাড়ি হলেও নীলফামারীর সমতলের মাটির আবহাওয়ার সঙ্গে ভালোই খাপ খেয়েছে। রসালো ওই কমলার স্বাদ এবং আকার অক্ষুন্ন আছে। এ আর মামুন নার্সারি বাগান করে রীতিমতো ফল ফলিয়ে দেখাচ্ছেন যে এখানে ফলন সম্ভব। বিভিন্নজন চারা কিনে নিয়ে যাচ্ছেন, সেখানেও ফলন ভালো হচ্ছে। আমরা চাষীদের উৎসাহিত করছি, যাতে নীলফামারীসহ আশপাশ অঞ্চলে কমলার বাগান আরও বাড়ে। যে কমলা বাইরের দেশ থেকে এনে আমরা খাই সেটির ব্যাপকতা বাড়লে হাতের নাগালে বাগান থেকে নিরাপদ ফল পাবেন ভোক্তরা। এতে করে বৈদেশিক মুদ্রা সাশ্রয় হবে।

নিউজ ট্যাগ: নীলফামারী

আরও খবর

লোগো পদ্ধতি ধান চাষে ফলন বাড়ে

মঙ্গলবার ২৪ জানুয়ারী ২০২৩

লালশাক চাষ করার সহজ উপায়

মঙ্গলবার ২৪ জানুয়ারী ২০২৩




হাসপাতালে ভর্তি মির্জা ফখরুল

প্রকাশিত:রবিবার ১৫ জানুয়ারী ২০২৩ | হালনাগাদ:বুধবার ২৫ জানুয়ারী ২০২৩ | ৪০জন দেখেছেন
নিউজ পোস্ট ডেস্ক

Image

বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। আজ রবিবার সকালে তাকে হাসপাতাল ভর্তি করানো হয়। বিএনপির মিডিয়া সেলের সদস্য শায়রুল কবির খান এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। 

তিনি বলেন, কারাগারে থাকা অবস্থায় অসুস্থ হয়ে পড়েন মির্জা ফখরুল। কারাগার থেকে জামিনে মুক্ত হওয়ার পর চিকিৎসকের পারমর্শে তাকে হাসপাতাল ভর্তি করানো হয়েছে। কতদিন হাসপাতালে থাকবেন সেটা তো আমরা বলতে পারব না। উনার চিকিৎসকরা বলতে পারবেন।

গত বছরের ৭ ডিসেম্বর রাজধানীর নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে পুলিশের সঙ্গে দলটির নেতা-কর্মীদের সংঘর্ষ হয়। এতে একজন নিহত হন এবং পুলিশসহ অর্ধশত ব্যক্তি আহত হন। সংঘর্ষের পর রাতের বেলা বিএনপির কার্যালয়ে অভিযান চালায় পুলিশ। পরদিন পল্টন, মতিঝিল, রমনা ও শাহজাহানপুর থানায় পৃথক চারটি মামলা দায়ের করে পুলিশ। এতে বিএনপির দুই হাজার ৯৭৫ নেতা-কর্মীকে আসামি করা হয়। তাদের মধ্যে নাম উল্লেখ করা হয় ৭২৫ জনের। সেখানে মির্জা ফখরুল ও মির্জা আব্বাসের নাম ছিল না।

৮ ডিসেম্বর গভীর রাতে নিজ নিজ বাসা থেকে ফখরুল ও আব্বাসকে তুলে নিয়ে যায় ডিবি পুলিশ। দুজনকে প্রথমে রাজধানীর মিন্টো রোডের ডিবি কার্যালয়ে নিয়ে যাওয়া হয়। পরদিন তাদের পল্টন থানার মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়।

এক মাস বন্দি থাকার পর গত ৯ জানুয়ারি সন্ধ্যায় কেরাণীগঞ্জের কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে মুক্তি পান তারা।


আরও খবর