Logo
শিরোনাম

২৪ ঘণ্টায় করোনা শনাক্ত ১৮

প্রকাশিত:শুক্রবার ১৩ মে ২০২২ | হালনাগাদ:শনিবার ২১ মে ২০২২ | ৬১জন দেখেছেন
নিউজ পোস্ট ডেস্ক

Image

গত ২৪ ঘণ্টায় দেশে করোনায় কেউ মারা যায়নি আর শনাক্ত হয়েছেন ১৮ জন। এ নিয়ে টানা ২২ দিন করোনায় কারও মৃত্যু হয়নি। এখন পর্যন্ত মৃত্যু ২৯ হাজার ১২৭ জন এবং শনাক্ত ১৯ লাখ ৫২ হাজার ৯৫৭ জন।

শুক্রবার (১৩ মে ) স্বাস্থ্য অধিদফতর থেকে পাঠানো সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এই তথ্য জানানো হয়। আর গত ২৪ ঘণ্টায় শনাক্তের হার ০ দশমিক ৪৫ শতাংশ। এদিন সুস্থ হয়েছেন ৩২৭ জন এবং এখন পর্যন্ত সুস্থ ১৮ লাখ ৯৮ হাজার ৯৩০ জন।

স্বাস্থ্য অধিদফতর জানায়, গত ২৪ ঘণ্টায় নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে ৪ হাজার ৫৩টি, অ্যান্টিজেন টেস্টসহ নমুনা পরীক্ষা করা হয়েছে ৪ হাজার ৪টি। এখন পর্যন্ত এক কোটি ৪০ লাখ ৪০ হাজার ৯৭২টি নমুনা পরীক্ষা করা হয়েছে।

স্বাস্থ্য অধিদফতর আরও জানায়, গত ২৪ ঘণ্টায় প্রতি ১০০ নমুনায় ০ দশমিক ৪৫ শতাংশ এবং এখন পর্যন্ত ১৩ দশমিক ৯১ শতাংশ শনাক্ত হয়েছে। শনাক্ত বিবেচনায় প্রতি ১০০ জনে সুস্থ হয়েছে ৯৭ দশমিক ২৩ শতাংশ এবং মারা গেছেন ১ দশমিক ৪৯ শতাংশ।


আরও খবর



চিংড়ি, ঘন চিনিসহ ২৬ শ্রেণির পণ্য আমদানি নিষিদ্ধ

প্রকাশিত:সোমবার ০৯ মে ২০২২ | হালনাগাদ:শুক্রবার ২০ মে ২০22 | ৫২জন দেখেছেন
নিউজ পোস্ট ডেস্ক

Image

সরকার ২০২১-২৪ সালের তিন বছর মেয়াদি আমদানি নীতি আদেশ জারি করেছে। নতুন আমদানি নীতিতে চিংড়ি, ঘন চিনি, কৃত্রিম সরিষার তেল, ক্যাসিনো সামগ্রীসহ ২৬ শ্রেণির পণ্য আমদানি নিষিদ্ধ করা হয়েছে। সম্প্রতি বাণিজ্য মন্ত্রণালয় নতুন এই আমদানি নীতি আদেশের প্রজ্ঞাপন জারি করে। বিশ্বের যে কোনো দেশ থেকে পণ্য আমদানি করতে আমদানি নীতি আদেশ অনুসরণ করতে হয়।

সরকার ২০২১-২৪ সালের তিন বছর মেয়াদি আমদানি নীতি আদেশ জারি করেছে। আমদানি নীতি আদেশ ২০১৫-১৮এর মেয়াদ শেষ হয় ২০১৮ সালের ৩০ জুন। তবে মাঝে ২০১৮২১ সময়ের আমদানি নীতি আদেশ হয়নি। বিগত আদেশে ১২ শ্রেণির পণ্য আমাদানি নিষিদ্ধ থাকলেও এবার তা দ্বিগুণের চেয়েও বেড়েছে। এবার ২৬ শ্রেণির পণ্য আমদানিতে নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়েছে।

আমদানি নিষিদ্ধ পণ্যগুলো হলো: বাংলাদেশ সার্ভে ডিপার্টমেন্ট কর্তৃক প্রকাশিত মানচিত্র অনুযায়ী বাংলাদেশের সীমারেখা দেখানো হয় নাই এমন মানচিত্র, চার্ট ও ভৌগোলিক গ্লোব; হরর কমিকস, অশ্লীল ও নাশকতামূলক সাহিত্য ও অনুরূপ ধরনের পুস্তিকা, সংবাদপত্র, সাময়িকী, পোস্টার, ফটো, ফিল্ম, গ্রামোফোন রেকর্ড, অডিও ও ভিডিও ক্যাসেট, টেপ ইত্যাদি, যার বিষয়সমূহ বাংলাদেশের যে কোনো শ্রেণির নাগরিকের ধর্মীয় বিশ্বাস অথবা অনুভূতিতে আঘাত হানতে পারে; এই আদেশে ভিন্নরূপ বিধান না থাকলে, সেকেন্ডারি বা সাব-স্ট্যান্ডার্ডস কোয়ালিটি বা নিম্নমানের পণ্য অথবা পুরাতন, ব্যবহৃত, পুন:সংস্কৃত (রিকন্ডিশন্ড) পণ্য অথবা কারখানায় বাতিলকৃত বা জবলট ও স্টক লটের পণ্য।

রিকন্ডিশন্ড অফিস ইকুইপমেন্ট, ফটোকপিয়ার, টাইপরাইটার মেশিন, টেলেক্স, ফোন, ফ্যাক্স, পুরাতন কম্পিউটার, পুরাতন কম্পিউটার সামগ্রী, পুরাতন ইলেকট্রনিক্স সামগ্রী; এইরূপ পণ্যাদি ও তার পেটিকা যাতে কোনো ধর্মীয় গুঢ়ার্থ সম্পর্কীয় এমন কোনো শব্দ বা উৎকীর্ণ লিপি আছে যার ব্যবহার বা বিবরণ বাংলাদেশের কোনো নাগরিকের ধর্মীয় বিশ্বাস বা অনুভূতিতে আঘাত হানতে পারে। এমন পণ্যসামগ্রী ও তার পেটিকা যাতে অশ্লীল ছবি, লিখন বা উৎকীর্ণ লিপি অথবা এই জাতীয় দৃশ্যমান নিদর্শন বিদ্যমান আছে; এই আদেশে ভিন্নরূপ বিধান না থাকিলে জীবিত শুকর এবং শুকরজাত সকল ধরনের পণ্য।

সকল প্রকার শিল্প স্লাজ ও স্লাজ দ্বারা প্রস্তুতকৃত সার এবং যে কোনো সামগ্রী; এই আদেশে ভিন্নরূপ বিধান না থাকলে, সকল প্রকার বর্জ্য পদার্থ; শব্দ দূষণ নিয়ন্ত্রণ বিধিমালা, ২০০৬ এর আওতায় শব্দ দূষণ নিয়ন্ত্রণে ১০০ (একশত) ডেসিবল মাত্রার অধিকমাত্রার হর্ণ; Stockholm Convention on Persistent Organic Pollutants (POPs) এর আওতায় নিম্নবর্ণিত রাসায়নিক কীটনাশক এবং শিল্পজাত রাসায়নিক পণ্যএলড্রিন, ক্লোরডেন, ডিডিটি, ডাইএলড্রিন, এনড্রিন, হেপ্টাক্লোর, মিরেক্স, টক্সাফেন, হেক্সাক্লোরোবেনজিন, পলিক্লোরিনেটেড বাইফিনাইল (পিসিবি)।

ক্যাসিনোসহ জুয়া খেলার ক্ষেত্রে ব্যবহৃত যন্ত্রপাতি, যন্ত্রাংশ, সরঞ্জাম ইত্যাদি; চিংড়ি মাছ (এইচএস হেডিং ০৩.০৬ এর সংশ্লিষ্ট সকল এইচএস কোড); পপি সীড ও পোস্ত দানা (এইচএস হেডিং ১২.০৭ এর সংশ্লিষ্ট সকল এইচএস কোড) (মসলা হিসাবে অথবা অন্য কোনোভাবেও ব্যবহার্য পোস্ত দানা); ঘাস (এনড্রোপোজেন এসপিপি) ও ভাং (ক্যানাবিস সাটিভা) (এইচএস হেডিং ১২.১১ এর সংশ্লিষ্ট সকল এইচএস কোড); ওয়াইন লিজ, আরগোল (এইচএস হেডিং ২৩.০৭ এর সংশ্লিষ্ট সকল এইচএস কোড); লিকুইফাইড ন্যাচারাল গ্যাস (এলএনজি), লিকুইফাইড প্রপ্রেন ও বিউটেনস (যা এলপিজির অংশ) ব্যতীত পেট্রোলিয়াম গ্যাস এবং অন্যান্য গ্যাসীয় হাইড্রোকার্বন (এইচএস হেডিং ২৭.১১ এর সংশ্লিষ্ট সকল এইচএস কোড); পেট্রোলিয়াম কোক এবং পেট্রোলিয়াম বিটুমিন ব্যতীত পেট্রোলিয়াম তৈলের রেসিডিউ সমূহসহ সকল পণ্য আমদানি নিষিদ্ধ (এইচএস হেডিং ২৭.১৩ এর সংশ্লিষ্ট সকল এইচএস কোড)।

এছাড়া ঘন চিনি (এইচএস হেডিং ২৯.২৯ এর সংশ্লিষ্ট সকল এইচএস কোড); কৃত্রিম সরিষার তৈল (অ্যালাইল আইসোথায়ো সায়োনেট) (এইচএস হেডিং ২৯.৩০ এর সংশ্লিষ্ট সকল এইচএস কোড); পলিপ্রাপোইলিন ব্যাগ ও পলিইথিলিন ব্যাগ (এইচএস হেডিং ৩৯.২৩ ও ৬৩.০৫ এর সংশ্লিষ্ট সকল এইচএস কোড); থ্রি হুইলার যানবাহনের (টেম্পু, অটোরিক্সা ইত্যাদি) দুই স্ট্রোক ইঞ্জিনসহ চেসিস (এইচএস হেডিং ৮৪.০৮ এর এইচএস কোড ৮৪০৮.৯০ তে শ্রেণিবিন্যাসযোগ্য); দুই স্ট্রোক ইঞ্জিনবিশিষ্ট থ্রি হুইলার যানবাহন (টেম্পু, অটোরিক্সা ইত্যাদি) (এইচএস হেডিং ৮৭.০৩ এর সংশ্লিষ্ট সকল এইচএস কোড); গ্যাস সিরিঞ্জ (এইচএস হেডিং ৯০.১৮ এর সংশ্লিষ্ট সকল এইচএস কোড); এবং পুরাতন বা ব্যবহৃত মোটরসাইকেল।

নীতিতে আরও বলা হয়েছ, নতুন আমদানি নীতি আদেশে শর্ত সাপেক্ষে কিছু পণ্য আমদানির কথা বলা হয়েছে। এসব পণ্যের মধ্যে রয়েছে ফার্নেস অয়েল, সাড়ে ৪ সেন্টিমিটারের কম ব্যাস বা দৈর্ঘ্যের মাছ ধরার কারেন্ট জাল, পাঁচ বছরের পুরোনো অধিক গাড়ি আমদানি, তিন বছরের বেশি পুরনো ও ১৬৫ সিসির ঊর্ধ্বে সব ধরনের মোটরসাইকেলসহ এলএনজি ও লিকুইফাইড প্রপেন ও বিউটেনস ছাড়া পেট্রোলিয়াম গ্যাস ও অন্যান্য গ্যাসীয় হাইড্রো-কার্বন এবং পেট্রোলিয়াম কোক ও পেট্রোলিয়াম বিটুমিন ছাড়া পেট্রোলিয়াম তেলের রেসিডিউ।

আমদানি নীতিমালায় বলা হয়েছে, সিনেমার ক্ষেত্রে বাংলাদেশের সঙ্গে যৌথ প্রযোজনার সিনেমা ছাড়া উপমহাদেশীয় ভাষায় নির্মিত কোনো চলচ্চিত্র আমদানি করা যাবে না। তবে বাংলাদেশে নির্মিত চলচ্চিত্র সাফটাভুক্ত দেশগুলোতে রপ্তানির বিপরীতে তথ্য মন্ত্রণালয়ের অনাপত্তি সাপেক্ষে সমসংখ্যক চলচ্চিত্র আমদানি করা যাবে। সব ধরনের খেলনা ও বিনোদনমূলক পণ্যের ক্ষেত্রে কোন বয়সের শিশুর জন্য প্রযোজ্য, তা উল্লেখ থাকতে হবে এবং প্লাস্টিকের তৈরি খেলনার ক্ষেত্রে তা স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর নয় মর্মে রপ্তানিকারক দেশের যথাযথ কর্তৃপক্ষের সনদের প্রয়োজন হবে।


আরও খবর



একদিনে সাড়ে ৪ হাজার ভারতীয় ভিসা প্রদান

প্রকাশিত:রবিবার ০১ মে ২০২২ | হালনাগাদ:শুক্রবার ২০ মে ২০22 | ৪১জন দেখেছেন
নিউজ পোস্ট ডেস্ক

Image

পবিত্র ঈদুল ফিতরকে সামনে রেখে বাড়তি ভিসা আবেদন গ্রহণ ও ভিসা প্রদানের ঘোষণা দিয়ে রেখেছিল ঢাকায় অবস্থিত ভারতীয় ভিসা সেন্টার। এরই ধারাবাহিকতায় ঢাকা থেকে গত একদিনে সাড়ে ৪ হাজার ভারতীয় ভিসা দেওয়া হয়েছে। রোববার (১ মে) ঢাকার ভারতীয় হাইকমিশন সূত্র এ তথ্য নিশ্চিত করেছে।

ঈদের আগে ভারতীয় ভিসা প্রত্যাশীদের সুবিধার্থে ছুটির দিনেও গত ৩০ এপ্রিল ভারতের হাইকমিশন শুধুমাত্র ঢাকাতেই প্রায় ৪ হাজার ৫০০টি ভিসা ইস্যু করেছে। এদিন ভিসা ডেলিভারির সুবিধার্থে সারা বাংলাদেশের ভারতীয় ভিসা আবেদন কেন্দ্রগুলো (আইভিএসি) বিকেল ৩টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত চালু ছিল।

আজও আইভিএসি খোলা রয়েছে। ভিসা আবেদন গ্রহণ ও পাসপোর্ট ডেলিভারি দেওয়া হচ্ছে। তবে ঈদের জন্য আগামী ২ ও ৩ মে ভারতীয় ভিসা আবেদন কেন্দ্র বন্ধ থাকবে।উল্লেখ্য, ঈদ সামনে রেখে ঢাকার ভারতীয় ভিসা আবেদন কেন্দ্র ভিসা আবেদন জমা ও পাসপোর্ট ডেলিভারি দেওয়ার সময়সীমা বাড়ানো হয়।


আরও খবর



‘ভোটের মাধ্যমে সংসদে জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠিত হোক’

প্রকাশিত:শুক্রবার ২০ মে ২০22 | হালনাগাদ:শনিবার ২১ মে ২০২২ | ৩২জন দেখেছেন
নিউজ পোস্ট ডেস্ক

Image

ভোটের মাধ্যমে সংসদে জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠিত হোক বলে জানিয়েছেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার কাজী হাবিবুর আউয়াল।

শুক্রবার ঢাকার সাভার উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে ভোটার তালিকা হাল নাগাদ অনুষ্ঠানে সাংবাদিকদের সাথে আলাপকালে তিনি বলেন, সাধারণ জনগণের পাশাপাশি আজ হিজরা, বেদে সম্প্রদায় ও যৌন কর্মীদেরকেও ভোটার তালিকায় আনা হয়েছে।

এসময় প্রধান নির্বাচন কমিশনার কাজী হাবিবুল আওয়াল আরও বলেন, সময়ের সাথে সাথে বাংলাদেশে সুন্দর নির্বাচনের প্রত্যয়ে আমরা সকলেই কাজ করে যাচ্ছি জনগণের অধিকার ও সঠিক হালনাগাদ শুরু করেছি। জনগণ সচেতন হলে সুষ্ঠ হবে ভোটাধিকার। ডিজিটাল পদ্ধতির মাধ্যমে বিভিন্ন কার্যক্রম চলমান রয়েছে আমাদের।

বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশনের ভোটার তালিকা হালনাগাদ কার্যক্রম-২০২২ সরকারি কর্মকর্তাদের পাশাপাশি তৃতীয় লিঙ্গ ও বেদে জনগোষ্ঠীর মানুষ অংশগ্রহণ করেন।

এসময় তৃতীয় লিঙ্গের আইরিন বলেন, আমরা অনেক আনন্দিত হয়েছি। আমরাও সাধারণ মানুষের সাথে ভোট কেন্দ্র গিয়ে ভোট দিতে পারবো। আমরা এখন আমাদের পরিচয় পেয়েছি। আমরা হয়েছি বাংলাদেশের নাগরিক। সাধারণ জনগণের পাশাপাশি এখন আমরা সকলের সাথে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে গণতান্ত্রিক অধিকার প্রতিষ্ঠা করতে পারবো।

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন নির্বাচন কমিশন সচিব হুমায়ুন কবীর খন্দকার। এছাড়াও অনুষ্ঠানে সরকারি নির্বাচন কমিশন ও পুলিশের উর্ধতন কর্মকর্তা, স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, গণ্যমান্য ব্যক্তি ও বিভিন্ন সংগঠনেনর প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।


আরও খবর



ঢাকা কলেজে র‌্যাব-ডিবির অভিযান

প্রকাশিত:রবিবার ২৪ এপ্রিল ২০২২ | হালনাগাদ:বৃহস্পতিবার ১৯ মে ২০২২ | ৮৫জন দেখেছেন
নিউজ পোস্ট ডেস্ক

Image

রাজধানীর নিউমার্কেট এলাকায় ব্যবসায়ী ও ঢাকা কলেজ শিক্ষার্থীদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনায় ঢাকা কলেজে অভিযান পরিচালনা করেছেন র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‌্যাব) ও ডিবির সদস্যরা।

রোববার (২৪ এপ্রিল) বিকেল পাঁচটায় কলেজের আন্তর্জাতিক ছাত্রাবাসের ১০১ নম্বর কক্ষে অভিযান চালায় র‌্যাব।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, অভিযান শেষে দুটি মোবাইল সেট ও জহির হাসান জুয়েল নামের এক শিক্ষার্থীকে আটক করে নিয়ে যাওয়া হয়। আটক জুয়েল ঢাকা কলেজ ছাত্রলীগের সর্বশেষ কমিটির আহ্বায়ক কমিটির সদস্য ও কলেজের হিসাববিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী।

এ বিষয়ে ছাত্রাবাসের তত্ত্বাবধায়ক ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগের প্রভাষক মো. কামরুজ্জামান বলেন, আমি শুনেছি ছাত্রাবাসে ডিবি ও র‌্যাব সদস্যরা এসেছিলেন। এ সময় দুটি মোবাইল ফোনসেট জব্দ করা হয়েছে। তবে কোনো শিক্ষার্থীকে আটক করে নেওয়া হয়েছে কি না সে সম্পর্কে আমি জানি না।

ছাত্রাবাসে অভিযান পরিচালনার ক্ষেত্রে তাদের অনুমতি দেওয়া হয়েছে কি না এমন প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, তারা আমার সঙ্গে কোনো কথা বলে আসেননি, সম্ভবত কলেজ অধ্যক্ষের সঙ্গে কথা বলে এসেছেন।

গত সোমবার রাত ও মঙ্গলবার নিউমার্কেটের দোকানমালিক ও কর্মচারীদের সঙ্গে ঢাকা কলেজের ছাত্রদের সংঘর্ষ হয়। এতে নাহিদ ও মোরসালিন নামে দুজনের প্রাণহানি এবং অর্ধশতাধিক মানুষ আহত হন। এ ঘটনায় অন্তত তিনটি মামলা দায়ের হয়েছে। যার মধ্যে একটির এক নম্বর আসামি বিএনপি নেতা অ্যাডভোকেট মকবুল হোসেন। বর্তমানে তিনি রিমান্ডে।


আরও খবর



লোকসান কাটাতে রাকাবের পরিশোধিত মূলধন বাড়াবে সরকার

প্রকাশিত:বৃহস্পতিবার ১২ মে ২০২২ | হালনাগাদ:শনিবার ২১ মে ২০২২ | ৪৭জন দেখেছেন
নিউজ পোস্ট ডেস্ক

Image

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের (বিকেবি) রাজশাহী ও রংপুর বিভাগের শাখাগুলো নিয়ে ১৯৮৭ সালে গঠন করা হয় রাজশাহী কৃষি উন্নয়ন ব্যাংক (রাকাব)। লক্ষ্য ছিল, কৃষি খাতে অর্থায়নের মাধ্যমে ওই অঞ্চলের ১৬টি জেলার উন্নয়ন। সেই লক্ষ্য কম-বেশি কিছুটা পূরণ হলেও ৩৪ বছরের অধিকাংশ সময়ই লোকসানে বছর পার করেছে ব্যাংকটি। সম্প্রতি রাকাবকে লাভজনক প্রতিষ্ঠানে রূপ দিতে বিভিন্ন কার্যক্রম হাতে নেয়া হয়েছে। এরই অংশ হিসেবে রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির পরিশোধিত মূলধন ৮২৪ কোটি ৮০ লাখ টাকা বাড়িয়ে ১ হাজার ২০০ কোটি টাকা করার উদ্যোগ নিয়েছে সরকার।

সূত্র জানায়, বেশ কিছুদিন থেকেই পরিশোধিত মূলধন বাড়ানোর অনুরোধ করে আসছিল রাকাব কর্তৃপক্ষ। এবার সে অনুরোধে সাড়া দিয়ে অর্থ মন্ত্রণালয়ের আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগ সম্প্রতি মূলধন বাড়ানোর বিষয়ে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণে অর্থ বিভাগকে চিঠি দিয়েছে। অর্থ বিভাগও বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে যাচাই-বাছাই করছে।

অর্থ বিভাগে পাঠানো আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের চিঠিতে বলা হয়, ব্যাংকটির রাজশাহী ও রংপুর বিভাগের শাখাগুলোয় কৃষি ও কৃষিভিত্তিক ব্যবসায়িক কর্মকাণ্ড সুষ্ঠুভাবে পরিচালনা, উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলের অর্থনৈতিক কাঠামো সুদৃঢ়করণ এবং সার্বিকভাবে রাকাবের ঋণপ্রবাহ বৃদ্ধির মাধ্যমে লাভজনক ব্যাংকে উন্নীত করার লক্ষ্যে গৃহীত পরিকল্পনাগুলো বাস্তবায়নের জন্য পরিশোধিত মূলধন ৮২৪ কোটি ৮০ লাখ টাকা থেকে বাড়িয়ে ১ হাজার ২০০ কোটি টাকার সুপারিশ করা হচ্ছে। এজন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের অনুরোধও জানানো হয়।

আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের ঊর্ধ্বতন এক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, প্রতিষ্ঠার পর থেকে অনিয়ম-দুর্নীতি, স্বজনপ্রীতি, অভ্যন্তরীণ সমস্যা ও আঞ্চলিক প্রভাবের অভিযোগ রয়েছে রাকাবের বিরুদ্ধে। বাংলাদেশ ব্যাংকের বিভিন্ন তদন্ত প্রতিবেদনে এসবের সত্যতাও পাওয়া গেছে। এছাড়া খেলাপি ঋণ বেশি হওয়ার কারণে ব্যাংকটি প্রতিষ্ঠার পর অধিকাংশ সময় লোকসান গুনছে। তবে ব্যাংক কর্তৃপক্ষ এসব বিষয়ে সংস্কার আনার কথা জানিয়েছে। সেই সঙ্গে ব্যাংকটিকে লাভজনক করার বিভিন্ন কার্যক্রমের একটি হিসেবে পরিশোধিত মূলধন বাড়ানোর অনুরোধ করে আসছিল রাকাব। তাদের অনুরোধের ভিত্তিতে আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগ পর্যালোচনা করে এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণের সুপারিশ অর্থ প্রতিষ্ঠান বিভাগ পাঠিয়েছে।

অর্থ বিভাগ সূত্র জানিয়েছে, আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের সুপারিশটি তারা বেশ গুরুত্বের সঙ্গে পর্যালোচনা করছে। খুব শিগগির এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত জানানো হবে। তবে খাতসংশ্লিষ্টরা বলছেন, ব্যাংকটির বিরুদ্ধে যেসব অনিয়ম-দুর্নীতির অভিযোগ রয়েছে, সেগুলোয় সংস্কার আনতে হবে। একই সঙ্গে মূলধন বাড়ানোর পাশাপাশি ব্যাংকটির ওপর তদারকি বাড়ানো প্রয়োজন। রাকাবের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. আব্দুল মান্নান বলেন, দীর্ঘদিন ধরে ব্যাংকটি লোকসানে রয়েছে। তার অন্যতম কারণ হচ্ছে ব্যাংকটি চরম তহবিল সংকটে ভুগছে। আমানতের বিপরীতে ব্যাংকের ঋণ বিতরণের হার প্রায় ১০০ শতাংশ, যা বাংলাদেশ ব্যাংকের নিয়মের বাইরে। কিন্তু এ ঋণগুলো কৃষকদের স্বল্প সুদে দেয়া হয়েছে। এছাড়া প্রাকৃতিক ক্ষতি কাটিয়ে উঠতে বিভিন্ন সময়ে সরকারের নির্দেশে কৃষকদের প্রায় ৮১৫ কোটি টাকার সুদ মওকুফও করা হয়েছে। এর বিপরীতে সরকারের কাছ থেকে তেমন কোনো ভর্তুকি পাওয়া যায়নি।

এ কারণে তহবিল সংকট আরো তীব্র হয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, তাই পরিশোধিত মূলধন বাড়ানোর অনুরোধ জানানো হয়েছে। যদি বাড়তি মূলধন পাই, তাহলে আমরা আমানতের বিপরীতে ঋণ বিতরণের যে অসমতা রয়েছে সেটা কমিয়ে আনতে পারব। পাশাপাশি ব্যাংক কর্তৃপক্ষও আমানত বাড়াতে বিভিন্ন উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। এরই মধ্যে সব ব্যাংক অনলাইনে চলে গেছে কিন্তু রাকাবে অনলাইন ব্যাংকিং না থাকার কারণে ভালো ভালো গ্রাহক অন্য ব্যাংকে চলে গেছে। তাই রাকাবও গত ২৩ মার্চ মোবাইল অ্যাপস ও ইন্টারনেট ব্যাংকিং উদ্বোধন করেছে। অনলাইন ব্যাংকিং চালুর পর আমরা গ্রাহকদের বেশ সাড়া পাচ্ছি। আমরা যদি বাড়তি পরিশোধিত মূলধন পাই একই সঙ্গে আমরা যেসব উদ্যোগ গ্রহণ করেছি, তাতে আশা করছি অল্প কিছুদিনের মধ্যে রাকাব ঘুরে দাঁড়াবে।

এদিকে আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, ব্যাংকটিকে ১৯৯২-৯৩ সাল থেকে ২০১৭-১৮ অর্থবছরের বিভিন্ন সময়ে প্রভিশন ঘাটতি বাবদ ৪১৭ কোটি ৭৮ লাখ টাকা দিয়েছে সরকার। এছাড়া বিভিন্ন সময়ে রাকাবকে সুদ ভর্তুকি বাবদ ২৯৬ কোটি ২৭ লাখ টাকা দেয়া হয়েছে। এদিকে ব্যাংকের অটোমেশন বাস্তবায়নের জন্য ২০১৩-১৪ অর্থবছরে সরকার মূলধন পুনর্গঠন বাবদ ৮০ কোটি টাকা দিয়েছে।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, গত বছর শেষে রাকাবের বিতরণ করা ঋণের পরিমাণ ৬ হাজার ২৮২ কোটি টাকা। এর মধ্যে ১৯ দশমিক ২৯ শতাংশ বা ১ হাজার ২১২ কোটি টাকা খেলাপি ঋণ। পাশাপাশি ব্যাংকটির মূলধন ঘাটতি রয়েছে ১ হাজার ৫০৬ কোটি টাকা। ব্যাংকটির আর্থিক প্রতিবেদনের তথ্য বলছে, রাকাবের মোট ৩৮৩টি শাখা রয়েছে। এর মধ্যে শহরে রয়েছে ৫০টি, পল্লী শাখা ৩৩৩টি। এসব শাখার মধ্যে ১৫১টি লোকসানে রয়েছে। সর্বশেষ ২০১৭-১৮ অর্থবছরে ৬ কোটি ৭৫ লাখ টাকা লাভ করে ব্যাংকটি। এরপর টানা চার বছর লোকসান গুনছে রাকাব। সর্বশেষে গত ২০২০-২১ অর্থবছরে ৫৮১ কোটি ৪১ লাখ টাকা আয় করে ব্যাংকটি। এর বিপরীতে ব্যয় হয় ৫৮৪ কোটি ৫১ লাখ টাকা। ফলে লোকসান গুনতে হয় ৩ কোটি ১০ লাখ টাকা।

সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টা এবি মির্জ্জা মো. আজিজুল ইসলাম বলেন, ব্যাংকটির পরিশোধিত মূলধন বাড়ানো হচ্ছে সেটা ভালো। তবে সংস্থাটির পরিচালনা জবাবদিহির আওতায় আনতে হবে। ঋণও দেয়া হচ্ছে নিয়ম-কানুন ভেঙে। আবার অর্থ আদায়ে আইনি কাঠামোও বেশ দুর্বল। তাই ব্যাংকটির খেলপি ঋণ বেশি। এসব নিয়ন্ত্রণে ব্যাংকটির ওপর তদারকি বাড়ানো প্রয়োজন। এছাড়া ব্যাংকটি যে মডেলে চলছে, এটাও টেকসই নয় বলেও মন্তব্য করেন তিনি।


আরও খবর