Logo
শিরোনাম

৬ ঘণ্টা পর সচল ফেসবুক-হোয়াটসঅ্যাপ-ইনস্টাগ্রাম

প্রকাশিত:মঙ্গলবার ০৫ অক্টোবর ২০২১ | হালনাগাদ:বৃহস্পতিবার ২৮ অক্টোবর ২০২১ | ১১৬জন দেখেছেন
নিউজ পোস্ট ডেস্ক

Image
এতো দীর্ঘ সময় ধরে সার্ভার ডাউন হওয়া ঘটনা বিরল। সর্বশেষ ২০১৯ সালে ফেসবুক ও অন্যান্য অ্যাপে ১৪ ঘণ্টার মতো এ ধরনের সমস্যা হয়েছিল

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুক, হোয়াটসঅ্যাপ ও ইনস্টাগ্রাম প্রায় ৬ ঘণ্টা স্থগিত থাকার পর সচল হয়েছে। ফেসবুকের বরাতে ব্রিটিশ গণমাধ্যম বিবিসি ও রয়টার্স বিষয়টি নিশ্চিত করেছে।

এর আগে, বাংলাদেশ সময় সোমবার (৪ অক্টোবর) রাত পৌনে ১০টার পর থেকে এ সমস্যা দেখা দেয়। এরপর মঙ্গলবার ভোর পৌনে ৪টার দিকে সচল হয় ফেসবুক ও ইনস্টাগ্রাম।

ওয়েবসাইট মনিটরিং গ্রুপ ডাউনডিটেক্টর জানিয়েছে, বিশ্বব্যাপী এক কোটির বেশি মানুষ ফেসবুক, হোয়াটসঅ্যাপ ও ইনস্টাগ্রাম ব্যবহারে সমস্যার কথা জানিয়েছেন।

টুইট বার্তায় ফেসবুক জানিয়েছে, বিশ্ব বিপুল পরিমাণ মানুষ ও ব্যবসায়িক কমিউনিটি যারা আমাদের ওপর নির্ভরশীল: আমরা দুঃখিত। আমরা অ্যাপ ও সেবা চালুর জন্য কঠোর পরিশ্রম করছি এবং তারা অনলাইনে পুনরায় ফিরে এসেছে জানতে পেরে খুশি। আমাদের সাথে থাকার জন্য ধন্যবাদ।

ইনস্টাগ্রাম টুইট বার্তায় জানিয়েছে, ইনস্টাগ্রাম এখন ফিরে এসেছে কিন্তু ধীরে চলছে। আমাদের সাথে থাকার জন্য ধন্যবাদ। দেরি হওয়ার জন্য দুঃখিত!

এর আগে ফেসবুকের প্রধান প্রযুক্তি কর্মকর্তা মাইক শ্রোফার টুইট করে ক্ষতিগ্রস্তদের কাছে আন্তরিকভাবে ক্ষমা চেয়েছেন।’

এতো দীর্ঘ সময় ধরে সার্ভার ডাউন হওয়া ঘটনা বিরল। সর্বশেষ ২০১৯ সালে ফেসবুক ও অন্যান্য অ্যাপে ১৪ ঘণ্টার মতো এ ধরনের সমস্যা হয়েছিল।

ঠিক কী কারণে সমস্যা দেখা দিয়েছিল, তা এখনো পরিষ্কার নয়। ফেসবুকের পক্ষ থেকেও ত্রুটির কারণ সম্পর্কে কিছু বলা হয়নি। তবে কারিগরি বিশেষজ্ঞরা ডোমেইন নেম সিস্টেম বা ডিএনএস ত্রুটি ছিল বলে ধারণা করছেন।

আবার কারও মতে, ফেসবুক, ইনস্টাগ্রাম ও হোয়াটসঅ্যাপ সবই একটি বিজিপি কনফিগারেশনের সমস্যার কারণে বন্ধ হয়ে গিয়েছিল।


আরও খবর



ভাসানচর থেকে পালাতে গিয়ে ২৪ রোহিঙ্গা আটক

প্রকাশিত:শুক্রবার ০১ অক্টোবর ২০২১ | হালনাগাদ:বুধবার ২৭ অক্টোবর ২০২১ | ৯৬জন দেখেছেন
নিউজ পোস্ট ডেস্ক

Image

নোয়াখালীর হাতিয়ার ভাসানচর রোহিঙ্গা ক্যাম্প থেকে পালানোর সময় নারী-পুরুষ ও শিশুসহ ২৪ রোহিঙ্গাকে আটক করেছে এপিবিএন সিভিল টিম ও কোস্টগার্ডের সদস্যরা।

বৃহস্পতিবার রাত ১১টা পর্যন্ত অভিযান চালিয়ে ভাসানচর থেকে উত্তর দক্ষিণ দিকের ১০ কিলোমিটার দূরে জঙ্গল থেকে তাদেরকে আটক করা হয়।

আটককৃত রোহিঙ্গা হলেন, এহেসান উল্লাহ (২২) কিসমতারা (২১) সুমাইয়া (৫) সেনোয়ারা (২৫) আকিফা আক্তার (৩) মোহাম্মদ রাসেদ উল্লাহ (১০ মাস) রিয়া মনি (৪) সিপা মনি (২) নূরুল আজিম (২৩) সৈকত আরা (১৮) নূরুল হাকিম (১০) মো: ইব্রাহিম (৩১) জামালিদা (২৬) আবদুল কাদের (৮) নূরকাইদা (৫) ফাতেমা (১০ মাস) আলমরিজা (৭) মো: আলী (১৯) সেফায়েত উল্লাহ (২৮) হাসিনা (২৬) সুমাইয়া (৫) নয়ন (১২) ও জান্নাতুল ফেরদৌস (৮)।

জেলা পুলিশ প্রশাসন জানায়, তারা বুধবার রাত আনুমানিক ২টার দিকে ভাসানচর রোহিঙ্গা ক্যাম্প থেকে পালানোর উদ্দেশে গোপনে জঙ্গলে অবস্থান নেয়।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, দালালের মাধ্যমে বোট যোগে চট্টগ্রামের উদ্দেশে পালাতে জঙ্গলে অবস্থান নেয় তারা।

নোয়াখালীর পুলিশ সুপার (এসপি) মো: শহীদুল ইসলাম ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেন। তিনি আরো জানান, আটককৃতদের আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য পুলিশের মাধ্যমে সিআইসি অফিসে হস্তান্তর করা হয়েছে।


আরও খবর



নয়াপল্টনে বিএনপি-পুলিশ সংঘর্ষ

প্রকাশিত:মঙ্গলবার ২৬ অক্টোবর ২০২১ | হালনাগাদ:বৃহস্পতিবার ২৮ অক্টোবর ২০২১ | ৪১জন দেখেছেন
নিউজ পোস্ট ডেস্ক

Image

রাজধানীর নয়াপল্টনে বিএনপি নেতাকর্মীদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষ হয়েছে। মঙ্গলবার (২৬ অক্টোবর) সকাল সাড়ে ১১টার দিকে এ ঘটনা ঘটে। এর আগে মিছিলকে কেন্দ্র করে সকাল ১০টা থেকেই নয়াপল্টনে জড়ো হতে থাকেন বিএনপি ও দলটির অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনগুলোর নেতাকর্মীরা।

জানা গেছে, পূর্বনির্ধারিত ঘোষণা অনুযায়ী মঙ্গলবার সকালে নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে সংক্ষিপ্ত সমাবেশ করে। এরপরই মিছিল নিয়ে বের হতে গেলে পুলিশ বাধা দেয়। বিএনপি নেতাকর্মীরা বিক্ষুব্ধ হয়ে পুলিশের ওপর হামলা করে। তারা নয়াপল্টন কেন্দ্রীয় কার্যালয়সহ আশপাশের এলাকায় অবস্থান নেয়। পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে প্রথমে লাঠিচার্জ করে। একপর্যায়ে টিয়ারশেল ও কয়েক রাউন্ড গুলি ছুড়ে।

পল্টন জোনের উপ-পুলিশ কমিশনার (ডিসি) আব্দুল আহাদ গণমাধ্যমকে বলেন, তাদের এখানে কোনো মিছিল করার অনুমতি ছিল না। কিন্তু তারপরও তারা পুলিশের বাধা অমান্য করে মিছিল করতে গিয়ে পুলিশের ওপর হামলা করে। এতে বেশ কয়েকজন পুলিশ সদস্য আহত হয়েছেন।

ঘটনার পর বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম বলেছেন, আমরা মিছিল করতে গেলে পুলিশ শুধু বাধা দেয়নি, নেতাকর্মীদের ওপর হামলা করে। এতে কয়েকজন নেতাকর্মী আহত হয়েছেন।

এদিকে পল্টনের সংঘর্ষে ফকিরাপুল, কাকরাইল, বিজয়নগর, পুরানা পল্টনসহ আশপাশের এলাকায় যান চলাচল বন্ধ হয়ে গেছে।


আরও খবর



বজ্রপাতে মৃত্যু ঠেকাতে ৪৭৬ কোটি টাকার প্রকল্প

প্রকাশিত:মঙ্গলবার ১২ অক্টোবর ২০২১ | হালনাগাদ:রবিবার ২৪ অক্টোবর ২০২১ | ১০০জন দেখেছেন
নিউজ পোস্ট ডেস্ক

Image
বজ্রপাত নিয়ে ৪৭৬ কোটি টাকার একটি প্রকল্প নেওয়া হয়েছে। তিনটি পর্যায় রয়েছে এই প্রকল্পের। মানুষকে সচেতন করার জন্য কাজকর্ম করবো

দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ প্রতিমন্ত্রী মো. এনামুর রহমান জানিয়েছেন, ২০১১ সাল থেকে এ পর্যন্ত গত ১১ বছরে বজ্রপাতে মোট ২ হাজার ৮০০ মানুষের মৃত্যু হয়েছে। বজ্রপাতে মৃত্যু ঠেকাতে ৪৭৬ কোটি টাকার একটি প্রকল্প নেওয়া হচ্ছে।

১৩ অক্টোবর আন্তর্জাতিক দুর্যোগ প্রশমন দিবস ও ঘূর্ণিঝড় প্রস্তুতি কর্মসূচির ৫ বছর পদার্পণ উদযাপন উপলক্ষে মঙ্গলবার (১২ অক্টোবর) সচিবালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে প্রতিমন্ত্রী এ কথা জানান।

এ প্রকল্পের আওতায় বজ্রপাতের ৪০ মিনিট আগে সতর্কবার্তা দেওয়ার যন্ত্র কিনবে সরকার। একই সঙ্গে বজ্রপাত থেকে বাঁচতে আশ্রয়কেন্দ্র করা হবে।

বর্তমানে দুর্যোগের ১৬টি ক্যাটাগরি রয়েছে। ২০১৫ সালে বজ্রপাতকে দুর্যোগের তালিকায় যুক্ত করা হয়। এসব কথা জানিয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, বজ্রপাত নিয়ে ৪৭৬ কোটি টাকার একটি প্রকল্প নেওয়া হয়েছে। তিনটি পর্যায় রয়েছে এই প্রকল্পের। মানুষকে সচেতন করার জন্য কাজকর্ম করবো। বজ্রপাতের আগে মেঘের মধ্যে গুড়ুগুড়ু ডাক হবে। পজিটিভ-নেগেটিভ চার্জগুলো তৈরি হবে। চার্জ তৈরি হওয়ার ৪ মিনিট পরই বজ্রপাত হয়। এজন্য গুড়ুগুড়ু ডাক শুনলে যাতে মানুষ ঘরে থাকে বা মেঘ দেখে যাতে ঘরে থাকে। সেই সচেতনতা তৈরির কাজ আমরা করবো।

তিনি বলেন, আধুনিক বিশ্বে বজ্রপাতের ক্ষেত্রেও সাইক্লোনের মতো আগাম সতর্কবার্তা দেওয়ার ব্যবস্থা হয়েছে। কতগুলো মেশিন তৈরি করা হয়েছে যেগুলো ৪০ মিনিট আগেই শনাক্ত করতে পারে বজ্রপাত হবে এবং কোথায় হবে সেটা বলতে পারে। তাই বজ্রপাতের ক্ষেত্রে আর্লি ওয়ার্নিং দেওয়ার মেশিনগুলো আমরা বসাবো।

প্রাথমিকভাবে বজ্রপাত প্রবণ যে অঞ্চলগুলো আছে সেখানে বিশেষ করে হাওর-বাওড় এলাকায় গুরুত্ব আমরা বেশি দিয়েছি। এই সিগন্যালটা যাতে একটি অ্যাপের মাধ্যমে স্থানীয় মানুষের মোবাইলে ম্যাসেজ আকারে যেতে পারে, সেই কাজও আমরা শুরু করবো।

এনামুর রহমান বলেন, আমরা যতগুলো মৃত্যুর খবর দেখেছি, সবগুলো খোলা মাঠ ও হাওরের মধ্যে। শহরে যারা ঘরবাড়িতে বসবাস করে তারা বজ্রপাতে মৃত্যুবরণ করে না। আমরা বন্যা ও ঘূর্ণিঝড় আশ্রয়কেন্দ্রের মতো বজ্রপাত আশ্রয়কেন্দ্র করার পরিকল্পনা করেছি। বজ্রপাতপ্রবণ এলাকা এবং অন্য এলাকায়ও এটা হবে।

তিনি আরও বলেন, আমরা ডিজাইন করেছি, এক ডেসিমেল জায়গায় একটা পাকা ঘর থাকবে। প্রত্যেক ঘরে একটি করে লাইটনিং অ্যারেস্টার দেওয়া হবে। যাতে ২০ থেকে ২৫ মিনিটের মধ্যে সতর্কবার্তা শোনার পর মানুষ সেই আশ্রয়কেন্দ্রে যেতে পারে। বজ্রপাত না হওয়া পর্যন্ত তারা অপেক্ষা করবে।

‘আশ্রয়কেন্দ্রগুলো বহুমুখী হবে। এখানে কৃষক ও মৎস্যজীবীরা সকালে নাস্তা করতে পারবেন। দুপুরে খেতে পারবেন। ঝড়-বৃষ্টিতে আশ্রয় নিতে পারবেন। কেউ চাইলে বিশ্রামও নিতে পারবেন’, বলেন প্রতিমন্ত্রী।

প্রকল্পের কাজ কবে শুরু হবে- জানতে চাইলে এনামুর রহমান বলেন, প্রকল্প প্রণয়ন হয়েছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এটার সম্ভাব্যতা যাচাই করছে, সেই রিপোর্ট আসলে আমরা প্রধানমন্ত্রীর কাছে অনুমোদনের জন্য পাঠাবো। প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে মৌখিকভাবে আলোচনা হয়েছে। তিনি সামারি পাঠাতে বলেছেন, তিনি অনুমোদন দিলে আমরা কাজ শুরু করবো।’

২০১১ সাল থেকে এ পর্যন্ত ২৮০০ জন মানুষ বজ্রপাতে মারা গেছে। নিহতদের নাম ঠিকানাসহ তালিকা মন্ত্রণালয়ের কাছে রয়েছে বলে জানিয়েছেন দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ প্রতিমন্ত্রী।

২০১১ সালে ১৭৯, ২০১২ সালে ২০১ জন, ২০১৩ সালে ১৮৫ জন, ২১৪ সালে ১৭০ জন, ২০১৫ সালে ২২৬ জন, ২০১৬ সালে ৩৯১ জন, ২০১৭ সালে ৩০৭ জন, ২০১৮ সালে ৩৫৯ জন, ২০১৯ সালে ১৯৮ জন ও ২০২০ সালে ২৫৫ জন বজ্রপাতে মারা গেছেন। চলতি বছর এখন পর্যন্ত ৩২৯ জন মারা গেছেন বলে জানান এনামুর রহমান।

এ সময় দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ সচিব মো. মোহসীন উপস্থিত ছিলেন।


আরও খবর



স্বীকৃতির জন্য বিদেশিদের শর্তে তালেবান কান দিচ্ছে কি?

প্রকাশিত:বুধবার ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২১ | হালনাগাদ:রবিবার ২৪ অক্টোবর ২০২১ | ৮২জন দেখেছেন
নিউজ পোস্ট ডেস্ক

Image

আফগানিস্তানে নারীদের জন্য কাবুল বিশ্ববিদ্যালয়ের দরজা অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ হয়ে গেছে। সোমবার বিশ্ববিদ্যালয়ের সদ্য নিয়োগ পাওয়া ৩৪ বছরের চ্যান্সেলর মোহাম্মদ আশরাফ ঘাইরাত এক টুইট বার্তায় এই নিষেধাজ্ঞা জারি করেন। তিনি গত ১৫ বছর তালেবানের সাংস্কৃতিক বিষয়াদির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন।

টুইট বার্তায় আশরাফ ঘাইরাত বলেন, কাবুল বিশ্ববিদ্যালয়ের চ্যান্সেলর হিসেবে আমি আপনাদের প্রতিশ্রুতি দিচ্ছি, যতদিন না সবার জন্য যথাযথ ইসলামি পরিবেশ নিশ্চিত করা হবে, ততদিন নারীরা বিশ্ববিদ্যালয়ে আসতে পারবেন না। সবকিছুর আগে ইসলাম।

এর আগে যখন দীর্ঘ বিরতির পর আফগানিস্তানের সরকারি মাধ্যমিক স্কুল খুলল তখন শুধু ছেলে শিক্ষার্থীরাই সেখানে যাওয়ার অনুমতি পেল। মেয়েরা কবে স্কুলে যেতে পারবে তা এখনও অনিশ্চিত।

অথচ ক্ষমতা দখলের পর গত দেড় মাস ধরে তালেবানের ওপর আন্তর্জাতিক মহল থেকে, বিশেষ করে পশ্চিমাদের কাছ থেকে যেসব দাবি-শর্ত দেওয়া হচ্ছে তার মধ্যে অন্যতম হলো নারী শিক্ষা এবং তাদের কাজের অধিকার।

এমনকি যে দেশটির সমর্থন-স্বীকৃতি তালেবানের জন্য এখন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ সেই পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানও কয়েকদিন আগে আফগানিস্তান এবং তালেবান নিয়ে বিবিসিকে দেওয়া একান্ত সাক্ষাতকারে বলেন, নারী শিক্ষা বন্ধ করা অনৈসলামিক হতে পারে। পাকিস্তানের কাছ থেকে তালেবান সরকারের আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি যে শর্তসাপেক্ষ তা তিনি স্পষ্ট করে বলে দিয়েছেন।

কিন্তু বাইরের এসব কথায় আদৌ যে তালেবান কান দিচ্ছে তার কোনো লক্ষণ নেই। বরং তালেবানের কাছ থেকে জোর ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে যে, স্কুল-কলেজ এবং বিশ্ববিদ্যালয়ে নারীদের শিক্ষা নিতে হবে আলাদাভাবে এবং শুধু নারী শিক্ষকরাই তাদের পড়াতে পারবেন। আফগানিস্তান নারী শিক্ষকের সংখ্যা এতই কম যে, এমনিতেই মেয়েদের শিক্ষার সুযোগ কমে যেতে বাধ্য।

লন্ডনে আফগান সাংবাদিক এবং আফগান রাজনীতির বিশ্লেষক সৈয়দ আব্দুল্লাহ নিজামী বলেন, বিদেশিদের সঙ্গে সম্পর্কে আগ্রহ দেখালেও তাদের কথাবার্তা এবং বিভিন্ন শর্ত মানছে না তালেবান। অবশ্য এর আগেও কখনও অন্যদের কথায় চলেনি তালেবান। নারী শিক্ষা, সঙ্গীত বা আইন শৃঙ্খলা রক্ষার তরিকা যে বিষয়ই হোক না কেন তারা তাদের পুরোনো বিশ্বাস আর আদর্শ অনুযায়ীই কাজ করে যাচ্ছে।

তিনদিন আগে হেরাত শহরে চারজন সন্দেহভাজন অপহরণকারীকে মেরে তাদের মরদেহ রাস্তার মোড়ে ঝুলিয়ে রাখা হয়। তার দুদিন আগে বার্তা সংস্থা এপিকে দেওয়া এক সাক্ষাতকারে তালেবানের এক শীর্ষ নেতা চুরি-ডাকাতির অপরাধে হাত কাটার বিধান চালুর পক্ষে কথা বলেন। অথচ তালেবান জানে দেশ চালানোর জন্য যাদের সাহায্য এবং স্বীকৃতি তাদের জন্য জরুরি তারা এসব পছন্দ করবে না।

নিজামী বলেন, কাবুল দখলের আগে বা পরপরই যেসব তালেবান নেতার মুখের কথা শুনে মনে হচ্ছিল গত ২০ বছরে তাদের চিন্তা-চেতনায় হয়ত বেশ পরিবর্তন হয়েছে, তারা কেউই ক্ষমতার কেন্দ্রে আসতে পারেননি। যারা এসেছেন তারা তাদের পুরোনো মত-পথ থেকে সরে আসেননি এবং চাপ দিয়ে তাদের নড়ানো কঠিন।

যে দেশটির জিডিপির ৪০ শতাংশই পশ্চিমা সাহায্যের ওপর নির্ভরশীল, সেই সাহায্য গত দেড় মাস ধরে বন্ধ।আফগানিস্তানের ১০ বিলিয়ন ডলারের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ যুক্তরাষ্ট্র আটকে দিয়েছে। বিশ্বব্যাংক এবং আইএমএফ আফগানিস্তানের জন্য তাদের জরুরি ঋণের নির্ধারিত কিস্তি স্থগিত করে দিয়েছে।

আটকে দেওয়া এসব টাকা এখন তালেবানের ওপর প্রভাব খাটানোর জন্য যুক্তরাষ্ট্র এবং তার পশ্চিমা মিত্রদের প্রধান অস্ত্র। তারা বলছে, নারীদের শিক্ষা এবং কাজের অধিকার নিশ্চিত করতে হবে। নারী এবং আফগান সমাজের বিভিন্ন অংশকে ক্ষমতার ভাগ দিতে হবে।

এমনকি পাকিস্তান, রাশিয়া, ইরান সহ প্রতিবেশী দেশগুলোর কাছ থেকেও স্বীকৃতি এবং সমর্থনের শর্ত হিসেবে সরকারে বিভিন্ন জাতি গোষ্ঠী, সংখ্যালঘু এবং নারী প্রতিনিধিত্বের দাবি করা হয়েছে।

কাবুলে বিদেশি, বিশেষ করে প্রভাবশালী কয়েকটি আঞ্চলিক দেশের প্রতিনিধিদের সঙ্গে সাহায্য ও স্বীকৃতির বিষয়ে কথা বলতে তালেবান তৎপর। প্রতিদিনই বিভিন্ন পর্যায়ে বৈঠক ও কথাবার্তা হচ্ছে। কিন্তু বিদেশিদের দেওয়া শর্ত নিয়ে তালেবানের কাছ থেকে কোনো কথা বা প্রতিশ্রুতি নেই।

বিশেষ করে সরকারে কারা থাকবে, কী থাকবে না তা নিয়ে কোনো কথা তালেবান শুনতে চায় না। আমেরিকানদের সমর্থনে যেসব সরকার ছিল তাদের তালেবান বিশ্বাস করে না। বিভিন্ন জাতিগোষ্ঠীর প্রতিনিধিত্বের ধারণাই তারা মানে না বলে মনে করেন নিজামী। তাদের কথা, এটি একটি ইসলামি সরকার। এর সাথে জাতি-গোষ্ঠী বা সম্প্রদায়ের সম্পর্ক নেই।

সরকারে বিভিন্ন জাতিগোষ্ঠীর প্রতিনিধিত্ব নিয়ে সম্প্রতি তাজিকিস্তানের এক বিবৃতিকে কেন্দ্র করে চরম ক্ষুব্ধ তালেবান। বিবিসিকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তালেবানের মুখপাত্র আহমেদুল্লাহ ওয়াসিক বলেন, যে তাজিকিস্তান আমাদের জন্য সমস্যা তৈরিতে ব্যস্ত তারা আমাদের সরকারের কাঠামো নিয়ে কথা বলার কে? তাদের উচিৎ নিজেদের সমস্যা সমাধান করা। আমাদের সরকার কেমন হবে তা নিয়ে বিদেশিদের কথা বলার কোনো অধিকার নেই।

কিন্তু স্বীকৃতি ছাড়া দেশ চালানোর জন্য প্রয়োজনীয় অর্থকড়ির সংস্থান কিভাবে করবে তালেবান? আব্দুল্লাহ নিজামী বলছেন, তালেবান ভরসা করছে আঞ্চলিক কয়েকটি দেশের ওপর অর্থাৎ চীন রাশিয়া, ইরান এবং পাকিস্তান এবং সেই সঙ্গে কাতার। আফগানিস্তানে নারী অধিকার, নারী শিক্ষা নিয়ে এসব দেশের তেমন কোনো চিন্তা নেই। তালেবান মনে করে এসব দেশ তাদের কৌশলগত স্বার্থ নিয়েই বেশি উৎসাহী।

কাবুলের সঙ্গে গোপনে এবং প্রকাশ্যে আঞ্চলিক কয়েকটি দেশের যোগাযোগ যে চলছে তা স্পষ্ট। সেপ্টেম্বরের ২১ ও ২২ তারিখ কাবুলে ছিলেন প্রেসিডেন্ট পুতিনের আফগান বিষয়ক দূত জামির কাবুলভ, চীনের আফগান বিষয়ক বিশেষ দূত উ শাও উং এবং পাকিস্তানের মোহাম্মদ সাদিক খান। তালেবান জানিয়েছে, এদের তিনজনের সঙ্গে বৈঠক হয়েছে তালেবান সরকারের প্রধানমন্ত্রী মোল্লা হাসান আখুন্দজাদার।

তবে পাকিস্তান, চীন এবং রাশিয়া তালেবান সরকারকে স্বীকৃতি দেওয়ার ব্যাপারে একটি সমন্বিত সিদ্ধান্তের পথ নিয়েছে বলে জোর ইঙ্গিত রয়েছে।

পাকিস্তানের উদ্যোগে ৮ সেপ্টেম্বর চীন, রাশিয়া, পাকিস্তান, ইরান, উজবেকিস্তান, তাজিকিস্তান ও তুর্কমেনিস্তানের পররাষ্ট্রমন্ত্রীরা একটি বৈঠক করেছেন। দু'দিন পর শনিবার আবারও পাকিস্তানের উদ্যোগেই এসব দেশের গোয়েন্দা প্রধানরা একটি বৈঠক করেন বলে পাকিস্তানের নির্ভরযোগ্য ইংরেজি দৈনিক ডনের এক খবরে বলা হয়েছে। আমেরিকার সাথেও গোপনে পাকিস্তান কথা বলছে বলে ডনের খবরে বলা হয়েছে।

তবে নারী শিক্ষা বা সরকার কাঠামো নিয়ে চীন বা পাকিস্তান তালেবানের সাথে বড় কোনো ঝামেলায় জড়াতে রাজি হবে বলে মনে হয় না।

যেমন, চীনের বিশেষ দূত উ শাও উং-এর সঙ্গে কাবুলে তালেবান প্রধানমন্ত্রীর বৈঠক নিয়ে ২৩ সেপ্টেম্বর বেইজিংয়ে চীনা পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের একজন মুখপাত্র বলেন, উ শাও বৈঠকে আবারও আশ্বস্ত করেছেন যে, চীন আফগানিস্তানের অভ্যন্তরীণ ব্যাপারে মাথা গলাবে না।

পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান প্রকাশ্যে নারী শিক্ষা, মানবাধিকার এবং কাবুলে সব পক্ষের একটি সরকারের যত কথাই বলুন না কেন তালেবানের সঙ্গে সম্পর্কে কোনো চোট তৈরির ঝুঁকি তিনি নেবেন না।

বরং পাকিস্তান সেনাবাহিনীর পক্ষ থেকে তালেবানকে আফগান সেনাবাহিনী পুনর্গঠনের প্রস্তাব দেয়া হয়েছে বলে বিবিসি উর্দু ভাষা বিভাগের মঙ্গলবারের এক অনুসন্ধানী রিপোর্টে বলা হয়েছে। উচ্চপদস্থ সেনা সূত্রকে উদ্ধৃত করে ওই রিপোর্টে বলা হয়েছে যে, ৮ সেপ্টেম্বর পাকিস্তানের সামরিক গোয়েন্দা প্রধান লে. জেনারেল ফায়েজ হামিদের কাবুল সফরের অন্যতম উদ্দেশ্য ছিল এই প্রস্তাব নিয়ে তালেবানের সঙ্গে কথা বলা।

তবে আফগানিস্তান নিয়ে পাকিস্তানসহ সমস্ত প্রতিবেশীর প্রধান উদ্বেগ সন্ত্রাস এবং তা নিয়ে তারা তালেবানের কাছ থেকে শক্ত প্রতিশ্রুতি চায়।

অপরদিকে নিষেধাজ্ঞা চাপিয়ে তালেবানকে কোণঠাসা করার চেষ্টা কতটা কাজ করবে এবং তা হিতে-বিপরীত হয় কিনা তা নিয়ে পশ্চিমা বিশ্বে মতামত দ্বিধাবিভক্ত। ইউরোপের মাত্র দুটি দেশ ছাড়া কেউই বলেনি তারা তালেবানকে কখনই মেনে নেবে না।

নিউজ ট্যাগ: তালেবান

আরও খবর



প্রিয়াঙ্কা গান্ধী আটক

প্রকাশিত:সোমবার ০৪ অক্টোবর ২০২১ | হালনাগাদ:বৃহস্পতিবার ২৮ অক্টোবর ২০২১ | ১২১জন দেখেছেন
নিউজ পোস্ট ডেস্ক

Image

ভারতের লখিমপুর খেরিতে চার কৃষক-সহ আটজনের মৃত্যু হয়েছে। কৃষকদের গাড়িতে পিষে মারা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এদিকে চার কৃষককে হত্যার প্রতিবাদে দলীয় নেতাদের নিয়ে সেখানে যাওয়ার পথে ভারতের কংগ্রেস নেত্রী প্রিয়াঙ্কা গান্ধীকে আটক করেছে পুলিশ। উত্তরপ্রদেশের লখিমপুরের খিরিতে যাচ্ছিলেন তিনি। সেখানে পৌঁছানোর আগেই তাকে আটক করা হয়।

হিন্দুস্তান টাইমস গ্রুপের লাইভ হিন্দুস্তান-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, রবিবার সারারাত পুলিশকে ঘুরিয়েছেন প্রিয়াঙ্কা। শেষপর্যন্ত ভোর চারটা নাগাদ হরগাঁওয়ে তাঁকে আটক করেছে উত্তরপ্রদেশ পুলিশ। তবে শুধু প্রিয়াঙ্কা নন, লখিমপুর সীমান্তে আসতে শুরু করেছেন বিভিন্ন বিরোধী দলের নেতারা। বিভিন্ন জেলা থেকে আসছেন কৃষকরাও। দিচ্ছেন স্লোগান। সেই পরিস্থিতিতে তিকোনিয়া যাওয়ার পথে সব রাস্তায় কড়া পুলিশি নিরাপত্তার ব্যবস্থা করা হয়েছে। 

টাইমস অব ইন্ডিয়া জানিয়েছে, লখিমপুরের ঘটনায় কেন্দ্রীয় মন্ত্রী অজয় মিশ্রের ছেলেসহ উত্তর প্রদেশের কয়েকজন সিনিয়র কর্মকর্তার বিরুদ্ধে এফআইআর দায়ের করা হয়েছে। অন্যদিকে, আটক করা হয়েছে রাজ্যের সাবেক মুখ্যমন্ত্রী ও সমাজবাদী পার্টির নেতা অখিলেশ যাদবকে। তাকে এখন গৌতম পল্লী পুলিশ স্টেশনে নেওয়া হয়েছে।

রাজ্যমন্ত্রী সিদ্ধার্থ নাথ সিং বলেন, ঘটনাটিতে আমরা সিরিয়াসভাবে নিয়েছি এবং তদন্ত চলছে। মুখ্যমন্ত্রী বলেছেন, জড়িত ব্যক্তিরা অবশ্যই শাস্তি পাবেন। কিন্তু বিরোধীরা এটিকে রাজনৈতিকভাবে ভিন্ন খাতে নেওয়ার চেষ্টা করছে।

উল্লেখ্য, লখিমপুর খেরির জেলা সদর থেকে ৭০ কিলোমিটার দূরে তিকোনিয়া নামে ওই জায়গায় চার কৃষক-সহ আটজনের মৃত্যু হয়েছে। 


আরও খবর