Logo
শিরোনাম

৯৬ ডেঙ্গু রোগী হাসপাতালে ভর্তি

প্রকাশিত:সোমবার ১৫ আগস্ট ২০২২ | হালনাগাদ:শুক্রবার ০৭ অক্টোবর ২০২২ | ৬৭জন দেখেছেন
নিউজ পোস্ট ডেস্ক

Image

গত ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত হয়ে আরও ৯৬ জন নতুন রোগী দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। সোমবার (১৫ আগস্ট) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হেলথ ইমার্জেন্সি অপারেশন সেন্টার ও কন্ট্রোল রুম থেকে পাঠানো ডেঙ্গু বিষয়ক বিবৃতিতে এই তথ্য জানানো হয়।

এতে বলা হয়, গত ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত হয়ে আরও ৯৬ জন নতুন রোগী দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। এর মধ্যে ঢাকায় ৬৯ জন এবং ঢাকার বাইরে সারাদেশে ২৭ জন ডেঙ্গু রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন।

বর্তমানে সারাদেশে সর্বমোট ৩৯৭ জন ডেঙ্গু রোগী হাসপাতালে ভর্তি রয়েছেন। এর মধ্যে ঢাকার বিভিন্ন হাসপাতালে ৩২৭ জন এবং ঢাকার বাইরে সারাদেশে ৭০ জন ডেঙ্গু রোগী ভর্তি রয়েছেন।

এবছর ১ জানুয়ারি থেকে ১৫ আগস্ট পর্যন্ত দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি রোগীর মোট সংখ্যা তিন হাজার ৮৫৫ জন। এর মধ্যে ঢাকায় ভর্তি রোগীর সংখ্যা তিন হাজার ২১০ জন এবং ঢাকার বাইরে সারাদেশে ভর্তি রোগীর সংখ্যা ৬৪৫ জন।

একই সময় সারাদেশে ছাড়প্রাপ্ত রোগীর মোট সংখ্যা তিন হাজার ৪৪২ জন। এর মধ্যে ঢাকায় ছাড়প্রাপ্ত রোগীর সংখ্যা দুই হাজার ৮৭৭ জন এবং ঢাকার বাইরে সারাদেশে ছাড়প্রাপ্ত রোগীর সংখ্যা ৫৬৫ জন। পাশাপাশি এ বছর ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে মোট ১৬ জনের মৃত্যু হয়েছে।

গত বছর ১ জানুয়ারি থেকে ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি রোগীর সংখ্যা ছিল ২৮ হাজার ৪২৯ জন। একই সময়ে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন ২৮ হাজার ২৬৫ জন এবং ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে মারা যান ১০৫ জন।


আরও খবর

করোনায় একজনের মৃত্যু, কমেছে শনাক্ত

বৃহস্পতিবার ০৬ অক্টোবর ২০২২




বিটিভিতে আরও ৫ বছর চলবে সিসিমপুর

প্রকাশিত:মঙ্গলবার ০৪ অক্টোবর ২০২২ | হালনাগাদ:শুক্রবার ০৭ অক্টোবর ২০২২ | ২৩জন দেখেছেন
নিউজ পোস্ট ডেস্ক

Image

জনপ্রিয় শিশুতোষ সিরিজ সিসিমপুর আগামী আরও পাঁচ বছর বাংলাদেশ টেলিভিশনে (বিটিভি) প্রচারিত হবে। সম্প্রতি বাংলাদেশ মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়, বাংলাদেশ টেলিভিশন এবং সিসিমপুরের নির্মাতা প্রতিষ্ঠান সিসেমি ওয়ার্কশপ বাংলাদেশ-এর মধ্যে এ বিষয়ক একটি ত্রিপক্ষীয় সম্প্রচার চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়।

মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের পক্ষে শিশু একাডেমির মহাপরিচালক মো. শরিফুল ইসলাম, বাংলাদেশ টেলিভিশনের পক্ষে মহাপরিচালক মো. সোহরাব হোসেন এবং সিসেমি ওয়ার্কশপ বাংলাদেশ-এর পক্ষে কান্ট্রি ম্যানেজিং ডিরেক্টর মোহাম্মদ শাহ আলম চুক্তিতে স্বাক্ষর করেন। এই চুক্তির ফলে শিশুদের প্রিয় বিনোদন ও শিক্ষামূলক অনুষ্ঠান সিসিমপুর আগামী পাঁচ বছর বিটিভিতে প্রতিদিন সম্প্রচারিত হবে। বিটিভিতে অনুষ্ঠানটির সম্প্রচার খরচ বহন করবে মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রনালয়। ইউএসএআইডি, বাংলাদেশের আর্থিক সহায়তায় অনুষ্ঠানটি নির্মাণ করে চলছে সিসেমি ওয়ার্কশপ বাংলাদেশ।

উল্লেখ্য, ২০২২ সালে শিশুতোষ অনুষ্ঠানের জন্য বিশ্বজুড়ে সমাদৃত কিডস্ক্রিন অ্যাওয়ার্ড অর্জন করেছে সিসিমপুর। ২০০৫ সালে ১৫ এপ্রিল থেকে নিরবচ্ছিন্নভাবে বিটিভিতে প্রচার হয়ে আসছে শিশুদের কাছে তুমুল জনপ্রিয় এই সিরিজটি। সিসিমপুর টেলিভিশন কার্যক্রমের পাশাপাশি এর ডিজিটাল এবং বিদ্যালয়ভিত্তিক কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে বলে জানা গেছে।

নিউজ ট্যাগ: সিসিমপুর

আরও খবর

দুরন্তপনার ৫ বছর

বৃহস্পতিবার ০৬ অক্টোবর ২০২২




দেশে কমেছে মোবাইলের উৎপাদন

প্রকাশিত:রবিবার ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২২ | হালনাগাদ:শুক্রবার ০৭ অক্টোবর ২০২২ | ৪৫জন দেখেছেন
নিউজ পোস্ট ডেস্ক

Image

ডলারের দাম বৃদ্ধি, জ্বালানি তেলের মূল্য বেড়ে যাওয়ায় জাহাজ বাড়তি ভাড়া, মূল্যস্ফীতি এবং তিন স্তরে ভ্যাট (মূল্য সংযোজন কর) আরোপের  কারণে দেশে মোবাইল ফোনের দাম বেড়েছে। ফলে কমে গেছে চাহিদাও। বাধ্য হয়ে উৎপাদকরা মোবাইল তৈরি কমিয়ে দিয়েছেন। আমদানিও কমেছে। এর পরিনামে দীর্ঘদিন বাজারে নতুন কোনও মোবাইল ফোন নেই। এদিকে বাজারে প্রযুক্তি পণ্যের বিক্রিতেও ধ্বস নেমেছে। বিক্রি কমেছে প্রায় ৪০ শতাংশের মতো। তবে শূন্যতে নেমে যাওয়া গ্রে মার্কেটে (অবৈধ বাজার) মোবাইলের বিক্রি বেড়েছে। কম দামে এই বাজারে মোবাইল পাওয়া যাওয়ায় গ্রে মার্কেটে অবৈধ মোবাইলের বিক্রি ৫ শতাংশ থেকে বেড়ে  ২৫-৩০ শতাংশে দাঁড়িয়েছে। যা উদ্বেগ, উৎকণ্ঠা বাড়িয়েছে স্থানীয় নির্মাতা ও উদ্যোক্তাদের।

বাংলাদেশ মোবাইল ফোন ইম্পোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (বিএমপিআইএ) সাধারণ সম্পাদক জাকারিয়া শহিদ বলেন, মোবাইল ফোনের দাম বেড়ে যাওয়া ও চাহিদা কমে যাওয়ায় অনেক উদ্যোক্তা  উৎপাদন কমিয়ে দিয়েছেন। আমরাও (সিম্ফনি ব্র্যান্ড) কমিয়েছি। কোনও উপায় নেই। কারণ, বাজারে টিকে থাকতে হবে। বাজারে মোবাইলের বিক্রি কমে গেছে ২০-৩০ শতাংশ। আমরা মার্কেট ধরে রাখার জন্য মুনাফায় ছাড় দিয়েছি, অনেক ধরনের বাজার প্রসারমূলক কাজ (ছাড়, উপহার, কিস্তিতে বিক্রি ইত্যাদি) হাতে নিয়ে বাজার ধরে রাখার চেষ্টা করছি। কিন্তু পুরোপুরি সফল হতে পারছি না। এতসব উদ্যোগ নেওয়ার পরও মোবাইল প্রতি দাম বেড়েছে প্রায় ২০ থেকে ৩০ শতাংশ।

মোবাইল ফোনের বাজার প্রসঙ্গে জানতে চাইলে দেশে মটোরোলা মোবাইল ফোনের ন্যাশনাল পার্টনার সেলেক্সট্রা লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সাকিব আরাফাত বলেন, বাজারের অবস্থা খুব খারাপ। বিক্রি কমে গেছে, মোবাইলের দাম বেড়ে গেছে। এসবের পেছনে অনেক কারণ যদিও দায়ী। দেশে গ্রে মার্কেটে আসা অবৈধ মোবাইলের বিক্রি বেড়ে গেছে। সরকারের একটা উদ্যোগের কারণে গ্রে মার্কেটে মোবাইলের বিক্রি শূন্য শতাংশে নেমে গিয়েছিল। এখন তা অনেক বেড়ে গেছে। অফিসিয়াল বা বৈধ চ্যানেলে মোবাইলের বিক্রি কমে যাওয়ার পেছনে এটাও একটা কারণ। গ্রে মার্কেটের দৌরাত্ম্য কমাতে জরুরি কোনও ইতিবাচক উদ্যোগ যেন নেওয়া হয়। তাহলে মোবাইলের আসল  বাজার বাঁচবে।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, এরই মধ্যে গ্রে মার্কেটের ব্যবসায়ীরা আইফোন-১৪ নিয়ে ফেসবুকে বেশ সরব। অনেকে অগ্রিম বুকিং নিতে শুরু করেছেন। দেশে বৈধ চ্যানেলে (অ্যাপল পণ্যের তালিকাভুক্ত রিসেলার) আইফোন-১৪ আসার আগেই ফেসবুকভিত্তিক অনেক পেজ থেকে ক্রেতাদের প্রি-বুক করতে বলা হচ্ছে। কেউ কেউ ১৬ সেপ্টেম্বর বিকালের পর থেকে আইফোন-১৪ ডেলিভারির কথাও উল্লেখ করেছেন। বাজার সংশ্লিষ্টরা বলছেন, গ্রে মার্কেটের ব্যবসায়ীরা হুন্ডির মাধ্যমে দেশের বাইরে টাকা পাঠিয়ে এর মূল্য পরিশোধ করছেন। ফলে এভাবেও টাকা পাচার হয়ে যাচ্ছে। মূল বাজার নষ্ট করার পাশাপাশি এরা দেশের টাকা পাচার করে রাষ্ট্রীয় ক্ষতিসাধন করছে। 

প্রযুক্তি পণ্যের বিক্রি কমেছে ৪০ শতাংশ: প্রযুক্তি পণ্যের বাজারে বিক্রিতে ধ্বস নেমেছে। মোবাইলের বিক্রি যেসব কারণে কমেছে, সেসব কারণেই কমেছে প্রযুক্তি পণ্যের দাম। ওইসব কারণের সঙ্গে আরও যুক্ত হয়েছে ল্যাপটপ আমদানিতে ১৫ শতাংশ ভ্যাট আরোপ। ডলারের দাম বৃদ্ধি এবং ভ্যাট আরোপের কারণে ল্যাপটপের দাম বেড়েছে বেশি। অন্যান্য পণ্যের দামও বেশি বলে জানিয়েছেন দেশের সবচেয়ে বড় প্রযুক্তি পণ্যের আমদানিকারক প্রতিষ্ঠান স্মার্ট টেকনোলজিস লিমিটেড।

প্রতিষ্ঠানটির চ্যানেল সেলস পরিচালক মুজাহিদ আল বেরুনী সুজন বলেন, গত কিছুদিনের মধ্যে প্রযুক্তি বাজারে ৪০ শতাংশ বিক্রি কমে গেছে। পণ্যের দাম বেড়ে যাওয়ায় অনেকের সামর্থ্যে কুলোচ্ছে না। ফলে বাজারে ক্রেতা কম।  ল্যাপটপের দাম সবচেয়ে বেশি বেড়েছে। এভাবে চলতে থাকলে বড় বড় প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য বাজারে টিকে থাকাই কঠিন হয়ে পড়বে।

সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্রে জানা গেছে, প্রযুক্তি পণ্যের প্রতিষ্ঠানগুলোতে কর্মী ছাঁটাই শুরু হয়েছে। ব্যবসা করে প্রতিষ্ঠানগুলো টিকে থাকতে পারছে না। যদিও এসব কারণে কর্মী ছাঁটাই হচ্ছে পারফরমেন্সের ভিত্তিতে। খুচরা বিক্রি, করপোরেট বিক্রি, সংশ্লিষ্ট পণ্যের স্টক, বিগত দিনের পারফরমেন্স ইত্যাদি দেখে কর্মী ছাঁটাই চলছে বলে জানা গেছে।

নিউজ ট্যাগ: মূল্যস্ফীতি

আরও খবর



৭৬ বছরে পা রাখলেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা

প্রকাশিত:বুধবার ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২২ | হালনাগাদ:শুক্রবার ০৭ অক্টোবর ২০২২ | ৩১জন দেখেছেন
নিউজ পোস্ট ডেস্ক

Image

আজ ২৮ সেপ্টেম্বর। বাংলাদেশের ইতিহাসে সবচেয়ে দীর্ঘ সময় ধরে দায়িত্ব পালন করা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার আজ জন্মদিন। তিনি ৭৬ বছরে পা রাখলেন। শুভ জন্মদিন বাঙালির আশা-আকাক্সক্ষার একান্ত বিশ্বস্ত ঠিকানা, বাঙালির বিশ্বজয়ের স্বপ্নসারথি, উন্নয়ন অভিযাত্রী প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

১৯৪৭ সালের ২৮ সেপ্টেম্বর গোপালগঞ্জের মধুমতী নদী বিধৌত টুঙ্গিপাড়ায় শেখ হাসিনা জন্মগ্রহণ করেন। স্বাধীন বাংলাদেশের মহান স্থপতি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও বঙ্গমাতা বেগম ফজিলাতুন নেছার জ্যেষ্ঠ সন্তান এবং বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সভানেত্রী তিনি।

৭৫ বছরের অর্ধেকের বেশি সময় ধরে আওয়ামী লীগের সভানেত্রীর দায়িত্ব পালন করছেন শেখ হাসিনা। জীবনের সিকিভাগ পার করে দিয়েছেন সরকারপ্রধান হিসেবে দেশের হাল ধরে। দেশের মানুষের কল্যাণ ও উন্নতিই তাঁর একমাত্র রাজনৈতিক ধ্যানজ্ঞান। ২১ বার তাঁকে হত্যার চেষ্টা করা হয়েছে। মৃত্যুভয় পায়ের ভৃত্য করে ক্লান্তিহীন পরিশ্রম করে যাচ্ছেন দেশমাতৃকার জন্য। বঙ্গবন্ধুর সোনার বাংলা গড়ার সফল অধিনায়ক তিনি।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার জন্মদিনে তাঁকে শুভেচ্ছা ও উষ্ণ অভিনন্দন জানিয়ে রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ এক বাণীতে বলেছেন, রাজনৈতিক প্রজ্ঞা, বিচক্ষণতা, গতিশীল নেতৃত্ব ও মানবিক মূল্যবোধ দিয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা শুধু দেশেই নন, বহির্বিশ্বেও অন্যতম সেরা রাষ্ট্রনায়ক হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেছেন। দাদা শেখ লুৎফর রহমান ও দাদি সাহেরা খাতুনের অতি আদরের নাতনি শেখ হাসিনার শৈশব-কৈশোর কেটেছে টুঙ্গিপাড়ায়। শেখ কামাল, শেখ জামাল, শেখ রেহানা, শেখ রাসেলসহ তাঁরা পাঁচ ভাই-বোন। বর্তমানে শেখ হাসিনা ও শেখ রেহানা ছাড়া কেউই জীবিত নেই। ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্টের কালরাতে পিতা বঙ্গবন্ধু, মাতা ফজিলাতুন নেছাসহ সবাই ঘাতকদের নির্মম বুলেটে নিহত হন।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার মেধা-মনন, সততা, নিষ্ঠা, যোগ্যতা, প্রজ্ঞা, দক্ষতা, সৃজনশীলতা, উদারমুক্ত গণতান্ত্রিক দৃষ্টিভঙ্গি ও দূরদর্শী নেতৃত্বে বাংলাদেশ আজ স্বল্পোন্নত থেকে উন্নয়নশীল রাষ্ট্রে উন্নীত হয়েছে। মহামারি করোনার প্রভাবে গোটা বিশ্বের অর্থনীতিতে নেতিবাচক প্রভাব পড়লেও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সময়োচিত পদক্ষেপের ফলে সরকার করোনার প্রভাব মোকাবিলা করে অর্থনীতির প্রবৃদ্ধি ধরে রাখতে সক্ষম হয়েছে। রাশিয়া-ইউক্রেন সংকট ও এর ফলে বিশ্বব্যাপী মূল্যস্ফীতির ঊর্ধ্বগতি সারা বিশ্বকে নতুন চ্যালেঞ্জের মুখে ঠেলে দিয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর গতিশীল নেতৃত্ব ও সঠিক সিদ্ধান্তের ফলে বাংলাদেশ এ বৈশ্বিক সংকটও সাফল্যের সঙ্গে মোকাবিলা করে যাচ্ছে। শেখ হাসিনার শিক্ষাজীবন শুরু হয়েছিল টুঙ্গিপাড়ার এক পাঠশালায়।

১৯৫৪ সালের নির্বাচনে বঙ্গবন্ধু প্রাদেশিক পরিষদের সদস্য হয়ে পরিবার ঢাকায় নিয়ে আসেন। শেখ হাসিনাকে ঢাকা শহরের টিকাটুলী নারী শিক্ষা মন্দিরে ভর্তি করা হয়। তিনি ১৯৬৫ সালে আজিমপুর বালিকা বিদ্যালয় থেকে মাধ্যমিক, ৬৭ সালে ইন্টারমিডিয়েট গার্লস কলেজ (বর্তমান বদরুন্নেসা সরকারি মহিলা মহাবিদ্যালয়) থেকে উচ্চমাধ্যমিক পরীক্ষায় পাস করেন। ওই বছরই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে বাংলা ভাষা ও সাহিত্যে অনার্সে ভর্তি হন এবং ১৯৭৩ সালে স্নাতক ডিগ্রি লাভ করেন।

শেখ হাসিনা ইন্টারমিডিয়েট গার্লস কলেজে পড়ার সময় ছাত্র সংসদের ভিপি (সহসভাপতি) নির্বাচিত হন। তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের সদস্য এবং রোকেয়া হল শাখার সাধারণ সম্পাদক ছিলেন। ছাত্রলীগের নেত্রী হিসেবে আইয়ুববিরোধী ও ছয় দফা আন্দোলনে সক্রিয় অংশগ্রহণ করেন। বঙ্গবন্ধুর আগ্রহে ১৯৬৮ সালে বিশিষ্ট পরমাণু বিজ্ঞানী ড. এম এ ওয়াজেদ মিয়ার সঙ্গে শেখ হাসিনার বিয়ে হয়। ১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ রাতে বঙ্গবন্ধুকে গ্রেফতার করে পাকিস্তানের করাচিতে নিয়ে যাওয়ার পর গোটা পরিবারকে ঢাকায় ভিন্ন এক বাড়িতে গৃহবন্দি করে রাখা হয়।

বাংলাদেশে মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে ১৯৭১ সালের ২৭ জুলাই শেখ হাসিনা গৃহবন্দি অবস্থায় প্রথম সন্তান সজীব ওয়াজেদ জয়ের মা হন। ১৯৭২ সালের ৯ ডিসেম্বর কন্যাসন্তান সায়মা ওয়াজেদ পুতুলের জন্ম হয়। ১৯৭৫ সালের পট পরিবর্তনের পর দীর্ঘ ছয় বছর নির্বাসিত জীবন শেষে ১৯৮১ সালের ১৭ মে দেশে ফিরে আওয়ামী লীগের দুঃসময়ে দলীয় প্রধানের দায়িত্ব নেন শেখ হাসিনা। এর আগে ১৯৮১ সালে আওয়ামী লীগের কাউন্সিলে শেখ হাসিনার অনুপস্থিতিতে তাঁকে সর্বসম্মতিক্রমে দলের সভানেত্রী নির্বাচিত করা হয়। টানা চার দশক দেশের এই প্রধান রাজনৈতিক দলের নেতৃত্ব দিয়ে রাজনীতির মূল স্রোতধারার প্রধান নেতা হিসেবে তিনি নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেন। খণ্ড খণ্ড দলকে একত্রিত করে এশিয়া মহাদেশের অন্যতম রাজনৈতিক প্রতিষ্ঠানে পরিণত করেছেন আওয়ামী লীগকে।

আওয়ামী লীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনা চারবার প্রধানমন্ত্রী নির্বাচিত হন। ১৯৯৬ সালের ২৩ জুন প্রথমবারের মতো তিনি প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ গ্রহণ করেন। এরপর ২০০৮ সালের ২৯ ডিসেম্বর নবম সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগের নেতৃত্বে মহাজোট বিজয়ের পর ২০০৯ সালের ৬ জানুয়ারি দ্বিতীয়বারের মতো প্রধানমন্ত্রীর শপথ নেন। ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারি দশম সংসদ নির্বাচনে আবারও নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করলে একই বছরের ১২ জানুয়ারি টানা দ্বিতীয় ও মোট তৃতীয়বারের মতো প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেন বঙ্গবন্ধুকন্যা।

সর্বশেষ ২০১৮ সালের ৩০ ডিসেম্বর একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগের বিপুল বিজয়ে ২০১৯ সালের ৭ জানুয়ারি চতুর্থবারের মতো প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ গ্রহণ করেন শেখ হাসিনা। এ ছাড়া জাতীয় সংসদে বিরোধীদলীয় নেতা হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন তিনবার (১৯৮৬, ১৯৯১ ও ২০০১ সালে)। বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ হাসিনা রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায় এসেছিলেন বলেই বঙ্গবন্ধু হত্যা মামলার চূড়ান্ত নিষ্পত্তি, একাত্তরের ঘাতক যুদ্ধাপরাধীদের বিচারকার্য সম্পন্ন, সংবিধান সংশোধনের মধ্য দিয়ে মহান মুক্তিযুদ্ধের চেতনা পুনঃপ্রতিষ্ঠা, ভারত ও মিয়ানমারের সঙ্গে সমুদ্রসীমা বিরোধ নিষ্পত্তি ও সমুদ্রবক্ষে বাংলাদেশের সার্বভৌমত্ব প্রতিষ্ঠার মধ্য দিয়ে ব্লু-ইকোনমির নতুন দিগন্ত উন্মোচন, ভারতের সঙ্গে সীমান্ত চুক্তি বাস্তবায়ন ও ছিটমহল বিনিময়, বঙ্গবন্ধু-১ স্যাটেলাইট সফল উৎক্ষেপণের মধ্য দিয়ে মহাকাশ জয়, সাবমেরিন যুগে বাংলাদেশের প্রবেশ, নিজস্ব অর্থায়নে পদ্মা সেতু নির্মাণ, মেট্রোরেল, পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র স্থাপন, কর্ণফুলী টানেল, এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে, নতুন নতুন উড়ালসড়ক, মহাসড়কগুলো ফোর লেনে উন্নীতকরণ, এলএনজি টার্মিনাল স্থাপন, খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জন, মাথাপিছু আয় ২ হাজার ৮২৪ মার্কিন ডলারে উন্নীত, দারিদ্র্যের হার হ্রাস, মানুষের গড় আয়ু প্রায় ৭৪ বছর চার মাসে উন্নীত, যুগোপযোগী শিক্ষানীতি প্রণয়ন, সাক্ষরতার হার ৭৫ দশমিক ৬০ শতাংশে উন্নীত, বছরের প্রথম দিন প্রাথমিক থেকে মাধ্যমিক স্তর পর্যন্ত সব শিক্ষার্থীর হাতে বিনামূল্যে নতুন বই পৌঁছে দেওয়া, মাদরাসা শিক্ষাকে মূলধারার শিক্ষার সঙ্গে সম্পৃক্ত করা ও স্বীকৃতি দান, মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপন, প্রতিটি জেলায় একটি করে সরকারি/বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপনের উদ্যোগ, নারীনীতি প্রণয়ন, ডিজিটাল বাংলাদেশ বিনির্মাণ, ফাইভ-জি মোবাইল প্রযুক্তির ব্যবহার চালুসহ অসংখ্য ক্ষেত্রে কালোত্তীর্ণ সাফল্য অর্জন করেছে বাংলাদেশ।

২০৪১ সালের মধ্যে বাংলাদেশকে জ্ঞানভিত্তিক উন্নত রাষ্ট্র হিসেবে গেড়ে তোলার প্রত্যয় নিয়ে উন্নত-সমৃদ্ধ বাংলাদেশ বিনির্মাণে জননেত্রী শেখ হাসিনা প্রেক্ষিত পরিকল্পনা তথা রূপকল্প-২০৪১ ঘোষণা করেছেন এবং তা বাস্তবায়নে কাজ করে যাচ্ছে তাঁর নেতৃত্বাধীন বর্তমান সরকার। এ ছাড়া আগামী প্রজন্মের জন্য একটি উন্নত-সমৃদ্ধ, শান্তিপূর্ণ, কল্যাণকর ও নিরাপদ বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠার পাশাপাশি জলবায়ুসহিষ্ণু বদ্বীপ গড়ে তোলার লক্ষ্যে ডেল্টা প্ল্যান-২১০০ ইতোমধ্যে ঘোষণা করা হয়েছে।

সম্প্রতি জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৭৭তম অধিবেশনে একজন সফল রাষ্ট্রনায়ক হিসেবে শেখ হাসিনা বিশ্ব নেতৃবৃন্দের সামনে দুর্যোগের সংকটপূর্ণ সময়ে সমাধানের সূত্র তুলে ধরেন। যুদ্ধ, অস্ত্রের প্রতিযোগিতা, ক্ষমতার প্রভাব ও স্বার্থগত সংঘাতকে বিশ্বশান্তি প্রতিষ্ঠা ও মানবমুক্তির প্রধান অন্তরায় হিসেবে চিহ্নিত করে তিনি জবরদস্তিমূলক অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা-পাল্টা নিষেধাজ্ঞার মতো বৈরীপন্থা পরিহার করে পারস্পরিক আলাপ-আলোচনার মাধ্যমে সংকট ও বিরোধ নিষ্পত্তির মধ্য দিয়ে শান্তিপূর্ণ ও টেকসই পৃথিবী গড়ে তোলার আহ্বান জানিয়েছেন।

এক বর্ণাঢ্য সংগ্রামমুখর জীবন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার। সাফল্য গাথা এ কর্মময় জীবন কুসমাস্তীর্ণ ছিল না, ছিল কণ্টকাকীর্ণ। মুক্তিযুদ্ধের নয় মাস তিনি গৃহবন্দি থেকেছেন। সামরিক স্বৈরশাসনামলেও বেশ কয়েকবার তাঁকে কারানির্যাতন ভোগ ও গৃহবন্দি থাকতে হয়েছে। বারবার তাঁর জীবনের ওপর ঝুঁকি এসেছে। অন্তত ২০ বার তাঁকে হত্যার অপচেষ্টা করা হয়েছে। জীবনের ঝুঁকি নিয়েও তিনি অসীম সাহসে তাঁর লক্ষ্য অর্জনে থেকেছেন অবিচল। পোশাকে-আশাকে, জীবনযাত্রায় কোথাও কোনো প্রকার বিলাসিতা বা কৃত্রিমতার ছাপ নেই। ব্যক্তিগত জীবনে তিনি অত্যন্ত নিষ্ঠাবান ও ধার্মিক। নিয়মিত ফজরের নামাজ ও কোরআন তেলাওয়াতের মাধ্যমে তাঁর দিনের সূচনা ঘটে। পবিত্র হজব্রত পালন করেছেন কয়েকবার।

কর্মসূচি : জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৭৭তম অধিবেশনে যোগ দিতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা জন্মদিনে যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থান করছেন। তাঁর অনুপস্থিতিতেই দিনটি উৎসবমুখর পরিবেশে নানা কর্মসূচির মাধ্যমে পালন করবে আওয়ামী লীগসহ বিভিন্ন সামাজিক-সাংস্কৃতিক সংগঠন। জন্মদিন উপলক্ষে কেন্দ্রীয় কর্মসূচির অংশ হিসেবে আওয়ামী লীগ আজ বিকাল ৩টায় বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে আলোচনা সভার আয়োজন করেছে।

এ ছাড়া কেন্দ্রীয়ভাবে বাদ জোহর জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররমসহ দেশের সব মসজিদে দোয়া ও মিলাদ মাহফিল হবে। সকাল ৯টায় খ্রিস্টান অ্যাসোসিয়েশন বাংলাদেশ (সিএবি) মিরপুর ব্যাপ্টিস্ট চার্চে (৩/৭/এ সেনপাড়া, পর্বতা, মিরপুর-১০) এবং বেলা সাড়ে ১১টায় ঢাকেশ্বরী মন্দিরে হিন্দু সম্প্রদায় বিশেষ প্রার্থনা সভার আয়োজন করেছে। এসব কর্মসূচিতে আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ উপস্থিত থাকবেন। এ ছাড়া ঢাকাসহ সারা দেশে সব সহযোগী সংগঠন আলোচনা সভা, আনন্দ র‌্যালি, শোভাযাত্রা, দোয়া মাহফিল, বিশেষ প্রার্থনা, আলোকচিত্র প্রদর্শনীসহ দিবসটির তাৎপর্য অনুযায়ী যথাযথ স্বাস্থ্য সুরক্ষা বিধি মেনে বিভিন্ন উপযোগী কর্মসূচি উদ্‌যাপন করবে।


আরও খবর



গার্ডারচাপার মামলায় সব আসামি জামিনে মুক্ত

প্রকাশিত:সোমবার ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২২ | হালনাগাদ:বৃহস্পতিবার ০৬ অক্টোবর ২০২২ | ৩৩জন দেখেছেন
নিউজ পোস্ট ডেস্ক

Image

রাজধানীতে প্রাইভেট কারের ওপর বিআরটি প্রকল্পের ক্রেন থেকে গার্ডার পড়ে একই পরিবারের ৫ সদস্য নিহতের ঘটনার মামলায় আসামি ট্রাফিকম্যান মো. রুবেলের জামিন দিয়েছেন আদালত। এ নিয়ে এ মামলায় দশ আসামির সবাই জামিন পেয়ে কারামুক্ত হয়েছেন।

সোমবার (২৬ সেপ্টেম্বর) ঢাকা মহানগর হাকিম মো. মইনুল ইসলামের আদালত শেষ আসামি হিসেবে ট্রাফিকম্যান মো. রুবেলের জামিন মঞ্জুর করেন। সংশ্লিষ্ট আদালতের সাধারণ নিবন্ধন শাখা সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।

সূত্র জানায়, গত ২২ সেপ্টেম্বর আসামির পক্ষে তার আইনজীবী জামিন চেয়ে আবেদন করেন। শুনানি শেষে আদালত তার জামিন মঞ্জুর করেন। এর আগে এ মামলার অপর ৯ আসামি জামিনে কারামুক্ত হয়েছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, এ মামলায় গত ২২ আগস্ট হেভি ইকুইপমেন্ট সরবরাহের দায়িত্বে নিয়োজিত ইফসকন বাংলাদেশ লিমিটেডের স্বত্বাধিকারী মো. ইফতেখার হোসেন, হেড অব অপারেশন মো. আজহারুল ইসলাম মিঠু, ক্রেন সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান বিল্ড ট্রেড কোম্পানির মার্কেটিং ম্যানেজার তোফাজ্জল হোসেন ওরফে তুষার ও প্রশাসনিক কর্মকর্তা রুহুল আমিন মৃধার জামিন মঞ্জুর করেন আদালত।

গত ২৫ আগস্ট ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের সেফটি ইঞ্জিনিয়ার মো. জুলফিকার আলী শাহ ও মো. মঞ্জুরুল ইসলাম আদালত থেকে জামিন পান। এরপর গত ২৯ আগস্ট ক্রেনচালক মো. আল আমিন হোসেন ওরফে হৃদয় ও রাকিব হোসেন এবং গত ৩১ আগস্ট আসামি মো. আফরোজ মিয়াও জামিন পেয়েছেন।

গত ১৫ আগস্ট বিকেল সোয়া ৪টার দিকে উত্তরায় প্যারাডাইস টাওয়ারের সামনে বিআরটি প্রকল্পের ক্রেন থেকে গার্ডার ছিটকে পড়ে প্রাইভেট কারের পাঁচ যাত্রী নিহত হন। ওই গাড়িতে থাকা নবদম্পতি গুরুতর আহত হলেও প্রাণে বেঁচে যান। এ ঘটনার রাতেই নিহত ফাহিমা আক্তার ও ঝরনা আক্তারের ভাই মো. আফরান মণ্ডল বাবু বাদী হয়ে উত্তরা পশ্চিম থানায় এ মামলা করেন।

এরপর গত ১৭ আগস্ট রাতে ঢাকা, গাজীপুর, সিরাজগঞ্জ ও বাগেরহাট থেকে তাদের গ্রেফতার করা হয়। গত ১৯ আগস্ট ক্রেনচালক মো. আল আমিন হোসেন ওরফে হৃদয়, রাকিব হোসেন, ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের সেফটি ইঞ্জিনিয়ার মো. জুলফিকার আলী শাহের চার দিন করে রিমান্ড করেন আদালত।

এ ছাড়া দুর্ঘটনাস্থলে নিরপাত্তার দায়িত্বে নিয়োজিত ফোর ব্রাদার্স গার্ড সার্ভিসের ট্রাফিকম্যান মো. রুবেল, মো. আফরোজ মিয়া, হেভি ইকুইপমেন্ট সরবরাহের দায়িত্বে নিয়োজিত ইফসকন বাংলাদেশ লিমিটেডের স্বত্বাধিকারী মো. ইফতেখার হোসেন, হেড অব অপারেশন মো. আজহারুল ইসলাম মিঠু, ক্রেন সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান বিল্ড ট্রেড কোম্পানির মার্কেটিং ম্যানেজার তোফাজ্জল হোসেন ওরফে তুষার, প্রশাসনিক কর্মকর্তা রুহুল আমিন মৃধা ও মো. মঞ্জুরুল ইসলামের দুই দিন করে রিমান্ড মঞ্জুর করেন আদালত।


আরও খবর



বিদায়েও উদ্ভাসিত রানী

প্রকাশিত:বুধবার ২১ সেপ্টেম্বর ২০২২ | হালনাগাদ:শুক্রবার ০৭ অক্টোবর ২০২২ | ৪০জন দেখেছেন
নিউজ পোস্ট ডেস্ক

Image

ঐতিহাসিক রাষ্ট্রীয় অন্ত্যেষ্টিক্রিয়ায় রানী দ্বিতীয় এলিজাবেথকে শেষ বিদায় জানিয়েছে যুক্তরাজ্য। দেশটির আধুনিককালের বিরলতম এবং নিখুঁত পরিকল্পনার এ শেষকৃত্যে অংশ নিয়েছেন বিশ্বনেতা ও বিশিষ্ট ব্যক্তিরা। শেষযাত্রায় রানীর প্রতি দেখানো হয় অভূতপূর্ব ভালোবাসা। তাঁর কফিনের সামনে মাথা নুইয়ে সম্মান জানিয়েছেন লাখো মানুষ। এ সময় চোখ ভিজেছে অগণিত গুণমুগ্ধের। দিনভর নানা অনুষ্ঠান শেষে রানীকে উইন্ডসর ক্যাসলের সেইন্ট জর্জেস চ্যাপেলে তাঁর পিতা রাজা ষষ্ঠ জর্জ, মা রানী এলিজাবেথ এবং বোন রাজকুমারী মার্গারেটের পাশে সমাহিত করা হয়েছে। তাঁর স্বামী প্রিন্স ফিলিপের কফিনও তাঁর পাশে স্থানান্তর করা হয়েছে। ফিলিপ গত বছর ৯৯ বছর বয়সে মারা গেছেন।

এর আগে ওয়েস্টমিনস্টার অ্যাবে থেকে এক বিশাল শোকযাত্রা রানীর কফিন নিয়ে ওয়েলিংটন আর্চের দিকে যাত্রা করে, যেটি ব্রিটিশ ইতিহাসের এক গৌরবময় প্রতীক। রানীর কফিন এর পর একটি শবযানে রাখা হয়। এটি যাত্রা করে উইন্ডসরের দিকে। কফিন নিয়ে তৃতীয় শোক মিছিলটি উইন্ডসরের দীর্ঘ রাস্তা পেরিয়ে সেইন্ট জর্জেস চ্যাপেলে যায়। সেখানে রানীর স্মরণে প্রার্থনায় যোগ দেন প্রায় ৮০০ মানুষ। এ অনুষ্ঠানে যাঁরা যোগ দিচ্ছেন, বেশিরভাগই ওয়েস্টমিনস্টার অ্যাবের অনুষ্ঠানে ছিলেন না। রানীর অনেক বর্তমান এবং সাবেক স্টাফ এ প্রার্থনায় যোগ দেন। সারাদিনের আনুষ্ঠানিকতার সমাপ্তি টানা হয় সেইন্ট জর্জেস চ্যাপেলে। পরে রাজকীয় সমাধিকক্ষে রানীর মরদেহ নামানো হয়। সন্ধ্যায় রাজপরিবারের সদস্যদের উপস্থিতিতে রানীকে সমাহিত করা হয়। এর আগে আনুষ্ঠানিকভাবে রানীর কফিনের ওপর থেকে রাজমুকুট এবং রাজদণ্ড সরিয়ে নেওয়া হয়। এগুলো আবার টাওয়ার অব লন্ডনে ফেরত যাবে।

রাজমুকুট ও রাজদণ্ড শোভিত এবং পতাকা আচ্ছাদিত রানীর কফিনটি দেখার জন্য লন্ডনে রাস্তায় জনতার ঢল নেমেছিল। যুক্তরাজ্যের পাশাপাশি অন্য দেশের নাগরিকরাও ছিলেন এই শোকের মিছিলে। এর আগে ব্রিটিশ পার্লামেন্টের ওয়েস্টমিনস্টার হল থেকে পাইপ এবং ড্রামের সুরে একটি কামানবাহী গাড়িতে তাঁর মরদেহ রাজকীয় নৌবাহিনীর ১৪২ জন সদস্য ওয়েস্টমিনস্টার অ্যাবেতে নিয়ে যান। রানীর শেষযাত্রা সরাসরি দেখতে লন্ডনের রাস্তার পাশে জড়ো হওয়া হাজারো মানুষ শোক আর হৃদয় নিংড়ানো ভালোবাসা দিয়ে তাঁকে বিদায় জানিয়েছে। রাত থেকেই রাস্তার পাশে তাঁবু টানিয়ে মানুষজন অপেক্ষায় ছিল রানীর শেষযাত্রা দেখার জন্য। কেউ এনেছিল স্লিপিং ব্যাগ আবার কেউ ফোলানো বিছানা। এমনকি ফ্লাস্কভর্তি চা নিয়েও এসেছিল কেউ কেউ।

গত ৮ সেপ্টেম্বর স্কটল্যান্ডের বালমোরালে নিজের গ্রীষ্ফ্মকালীন প্রাসাদে ৯৬ বছর বয়সে মারা যান রানী এলিজাবেথ। ৭০ বছর ধরে তিনি ব্রিটিশ সিংহাসন আলোকিত করেছেন। তাঁর সম্মানে ১০ দিনের শোক ঘোষণা করা হয়। ওয়েস্টমিনস্টার অ্যাবের গির্জায় প্রার্থনা অনুষ্ঠানের পর ৪৫ মিনিটের যাত্রা শেষে ওয়েলিংটন আর্চে পৌঁছে রানীর শবমিছিল। এ সময় গির্জায় উপস্থিত দুই হাজার মানুষ উঠে দাঁড়িয়ে রানীকে সম্মান জানান। ওয়েস্টমিনস্টারের ডিন ডেভিড হোয়েলের নেতৃত্বে অন্ত্যেষ্টিক্রিয়া অনুষ্ঠান পরিচালিত হয়েছে। গির্জায় রানীর আত্মার শান্তি কামনা করে কমনওয়েলথের মহাপরিচালক ব্যারোনেস স্কটল্যান্ড প্রথমে বাইবেলের একটি অংশ পাঠ করেন। এর পর বিশেষভাবে রানীর অন্ত্যেষ্টিক্রিয়া অনুষ্ঠানের জন্য জুডিথ ওয়্যারের লেখা একটি গান বাজানো হয়।

ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী লিজ ট্রাস দ্বিতীয়জন হিসেবে বাইবেলের একটি অংশ পাঠ করে রানীর প্রতি শ্রদ্ধা জানান। তার পর ক্যান্টাবুরির আর্চবিশপ জাস্টিন ওয়েলবি ধর্মোপদেশ দেওয়া শুরু করেন। এ সময় আর্চবিশপ বলেন, ৭০ বছরের শাসনামলে রানী 'বহু মানুষের জীবন ছুঁয়ে গেছেন'। গির্জার অন্য নেতারাও একে একে প্রার্থনা করেন। ১৯৫৩ সালে রানী দ্বিতীয় এলিজাবেথের অভিষেক অনুষ্ঠানে যে গানটি গাওয়া হয়েছিল; তাঁর শেষযাত্রায়ও সেই গানটি গাওয়া হয়। জাতীয় সংগীত গাওয়ার মধ্য দিয়ে গির্জায় প্রার্থনার আনুষ্ঠানিকতা শেষ হয়।

ওয়েস্টমিনস্টার গির্জায় প্রার্থনা শেষে রানীর শবমিছিল উইন্ডসর ক্যাসলের দিকে রওনা হয়। এই পথে মিছিলটি প্রথমে পার্লামেন্ট স্কয়ার অতিক্রম করে। সে সময় যুক্তরাজ্যের সেনাবাহিনী, নৌবাহিনী ও বিমানবাহিনীর সদস্যদের নিয়ে গঠিত একটি যৌথ দল রানীর কফিনে গার্ড অব অনার জানায়। সেখান থেকে শবমিছিল পার্লামেন্ট স্ট্রিট হয়ে ওয়েলিংটন আর্চের পথে চলতে শুরু করে। শবমিছিল অতিক্রম করার সময় লন্ডনের সবচেয়ে ব্যস্ত সড়কগুলোর একটি পার্লামেন্ট স্ট্রিটে পিনপতন নীরবতা নেমে আসে। সেখানে উপস্থিত লোকজন দাঁড়িয়ে মাথা নিচু করে প্রিয় রানীকে সম্মান জানায়। মিছিলটি লন্ডনের বিখ্যাত 'বিগ বেন'-এর সামনে দিয়ে যাওয়ার সময় রানীর সম্মানে ৬০ সেকেন্ডের জন্য ঘড়ির কাঁটা স্তব্ধ করে রাখা হয়। ওয়েলিংটন আর্চে পৌঁছানোর আগে শেষবারের মতো লন্ডনের রাজকীয় দুটি পার্ক অতিক্রম করে রানীর মরদেহ। শবমিছিলটি প্রথমে গ্রিন পার্ক (রাজা দ্বিতীয় চার্লস ১৬৬৮ সালে এই পার্কটি উদ্বোধন করেন), তারপর সেন্ট জেমস পার্ক (সবচেয়ে পুরোনো রাজকীয় পার্ক) অতিক্রম করে। সেখান থেকে শবমিছিলটি বাকিংহাম প্যালেস অতিক্রম করে ওয়েলিংটন আর্চে পৌঁছে।

এর আগে স্থানীয় সময় সকালে ওয়েস্টমিনস্টার হল থেকে রানীর কফিন নিয়ে ওয়েস্টমিনস্টার অ্যাবের উদ্দেশে যাত্রা শুরু হয়। এ সময় রানীর বড় ছেলে রাজা তৃতীয় চার্লস, তাঁর বোন প্রিন্সেস অ্যান, দুই ভাই প্রিন্স অ্যান্ড্রু, প্রিন্স এডওয়ার্ডসহ ব্রিটিশ রাজপরিবারের জ্যেষ্ঠ সদস্যরা রানীর কফিন অনুসরণ করেন। কফিনটি একটি গান ক্যারিজে বা কামানবাহী গাড়িতে করে ওয়েস্টমিনস্টার অ্যাবেতে নেয় রাজকীয় নৌ সেনারা। এই ভবনে রানীর বিয়ে এবং সিংহাসনে অভিষেক হয়েছিল। অবশেষে সেখানেই শেষযাত্রায় প্রার্থনা অনুষ্ঠান হলো।

১৯৫২ সালে রাজা জর্জের শেষকৃত্যের পর এবারই বড় ধরনের আয়োজনের মধ্য দিয়ে রানীর শেষকৃত্য হয়। সর্বসাধারণের শ্রদ্ধা জ্ঞাপনের জন্য গত বুধবার থেকে রানীর কফিন ওয়েস্টমিনস্টার হলে রাখা হয়েছিল। বিশ্বের অন্যান্য দেশের রাজপরিবারের সদস্যসহ প্রায় পাঁচশ বিশ্বনেতা এবং কূটনীতিক রানীর শেষকৃত্যানুষ্ঠানে যোগ দিতে ওয়েস্টমিনস্টার অ্যাবেতে উপস্থিত ছিলেন। যুক্তরাজ্য এবং অন্যান্য দেশের সশস্ত্র বাহিনীর কয়েক হাজার সদস্য রানীর শেষকৃত্যানুষ্ঠানে অংশ নিচ্ছেন। বেসামরিক নানা প্রতিষ্ঠান এবং সংগঠনের সদস্যরাও রানীর শবমিছিলে অংশ নিয়েছেন। টেলিভিশনে যুক্তরাজ্যসহ গোটা বিশ্বের মানুষ এই শেষকৃত্য অনুষ্ঠান দেখছেন। যুক্তরাজ্যজুড়ে কয়েকটি বড় পর্দায় সরাসরি রানীর শেষযাত্রার আনুষ্ঠানিকতা দেখানো হয়। রানীর প্রতি শেষ শ্রদ্ধা জানাতে যুক্তরাজ্যে কয়েকটি সিনেমা হল বন্ধ রাখা হলেও ১২৫টি খোলা রাখা হয় শেষকৃত্য প্রচারের জন্য।

নিউজ ট্যাগ: রানি এলিজাবেথ

আরও খবর

‘হাসি’ মানুষের সবচেয়ে ভালো ওষুধ

শুক্রবার ০৭ অক্টোবর ২০২২