
আফগানিস্তানে নারীদের শিক্ষার সীমিত প্রবেশাধিকারের কারণে গত বছরে আফগান অর্থনীতির আনুমানিক ৫০ কোটি ডলার ক্ষতি হয়েছে বলে জানিয়েছে জাতিসংঘ শিশু তহবিল বা ইউনিসেফ। দেশটিতে তালিবান শাসন শুরুর ঠিক এক বছর পর ইউনিসেফ এক প্রতিবেদন এ তথ্য প্রকাশ করেছে বলে জানিয়েছে জাপানের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম এনএইচকে।
ওই প্রতিবেদনে বলা হয়, নারীদের মাধ্যমিক স্কুলে যাওয়া থেকে বিরত রেখে আফগানিস্তানের ৫০ কোটি ডলার, বা ২০২০ সালের মোট অভ্যন্তরীণ উৎপাদনের ২.৫ শতাংশ সমমূল্যের ক্ষতি হয়েছে। স্কুলে যেতে না পারা ৩০ লক্ষ নারী যদি মাধ্যমিক স্কুলের পড়াশোনা শেষ করতে সক্ষম হত এবং চাকরির বাজারে প্রবেশের সুযোগ পেত তাহলে তাদের জীবদ্দশায় তারা আফগান অর্থনীতিতে কমপক্ষে ৫৪০ কোটি ডলারের সমপরিমাণ অবদান রাখতে পারত।
প্রতিবেদনে মাধ্যমিক স্কুলে নারীরা যেতে সক্ষম না হওয়ায় অর্থনীতি ছাড়াও অন্যান্য ক্ষেত্রের ওপর নেতিবাচক প্রভাবের কথা উল্লেখ করা হয়েছে। বলা হয়েছে, স্কুলে সাধারণত যেসব পুষ্টি বিষয়ক সহায়তা এবং স্বাস্থ্যবিধি সংক্রান্ত তথ্য ইউনিসেফ প্রদান করত, তা নারীদের কাছে পৌঁছে দিতে সংস্থাটি এখন লড়াই চালিয়ে যাচ্ছে। সব শিশুর জন্য শিক্ষা শুধু অধিকারই নয়, বরং আফগানিস্তানের ভবিষ্যৎ প্রবৃদ্ধির জন্য এটা মেরুদণ্ড, এমন উল্লেখ করে একজন ইউনিসেফ কর্মকর্তা মেয়েদের অবিলম্বে স্কুলে ফিরে যাওয়ার পদক্ষেপ নেয়ার জন্য আহ্বান জানান। এদিকে আফগানিস্তানের ক্ষমতা দখলের বর্ষপূর্তির দু’দিন আগে রাজধানী কাবুলে নাগরিক অধিকারের দাবিতে নারীদের বিক্ষোভে হামলা করে তেলেবান। এ সময় নারীদের বেধড়ক লাঠিপেটার পাশাপাশি ফাঁকা গুলিও ছুড়েছে তালেবানের সদস্যরা। দেশটির নারীদের নাগরিক অধিকারের প্রশ্নে শঙ্কা প্রকাশ করেছে ইউনিসেফ। সংস্থাটি বলছে, দ্রুত এ পরিস্থিতি থেকে বের হতে না পারলে আগামীতে আরও বড় অর্থনৈতিক সংকটে পড়বে দেশটি। এর আগে গত বছরের ১৫ই আগস্ট আফগানিস্তানের ক্ষমতা পুনর্দখলে নেয় তালেবানরা। এরপর ইসলামিক আইনের নিজস্ব ব্যাখ্যায় মেয়েদের মাধ্যমিক শিক্ষার উপর নানা বিধিনিষেধ চাপিয়ে দেয়।

