
আজ জাতীয় পাট দিবস। নানা কর্মসূচির মধ্য
দিয়ে দিবসটি পালন করা হবে। ‘সোনালী আঁশের
সোনার দেশ, পরিবেশবান্ধব বাংলাদেশ’ প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে এবার দিবসটি পালিত হবে।
এ উপলক্ষে রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ
এবং প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বাণী প্রদান করেছেন। জাতীয় পাট দিবসে পাট ও পাটজাত পণ্যের
উৎপাদন ও রপ্তানি বৃদ্ধিতে বিশেষ অবদানের জন্য ১১টি ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানকে সম্মাননা
দেবে সরকার। পাট খাত উন্নয়নে গবেষণা কার্যক্রম, পাটবীজ আমদানিতে নির্ভরশীলতা হ্রাস,
পাটবীজ উৎপাদনে স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জন এবং প্রচলিত ও বহুমুখী পাটজাত পণ্যের উৎপাদন
ও রপ্তানির মাধ্যমে সরকারের উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে অবদান রাখার জন্য এই পুরস্কার
দেয়া হবে।
এছাড়া রাজধানীর ফার্মগেটের খামারবাড়ী-সংলগ্ন
জেপিডিসি চত্বরে তিন দিনব্যাপী বহুমুখী পাটপণ্য প্রদর্শনী ও মেলা অনুষ্ঠিত হবে।
বাণীতে রাষ্ট্রপতি মোঃ আবদুল হামিদ বলেছেন,
সোনালি আঁশ হিসেবে খ্যাত পাটের সঙ্গে বাংলাদেশের ইতিহাস ও সংস্কৃতি গভীরভাবে জড়িত।
এ দেশের সংস্কৃতি ও কৃষ্টির অবিচ্ছেদ্য অংশ হিসেবে পাট ও পাটজাত পণ্য দেশে যেমন গুরুত্বের
দাবিদার, তেমনি বিশ্ব বাজারেও এটি একটি অনন্য পরিবেশবান্ধব পণ্য হিসেবে সমাদৃত। কৃত্রিম
তন্তুর পরিবর্তে পাটের ব্যবহার পরিবেশ সুরক্ষার পাশাপাশি দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ
ভূমিকা রাখবে।
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তাঁর বাণীতে
বলেছেন, এক সময়ের প্রধান অর্থকরী ফসল পাট এখনও দেশের ২য় বৃহত্তম বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনকারী
খাত। শুধু তাই নয়, বাঙালীর অর্থনৈতিক মুক্তির হাতিয়ার হিসেবে পাটের ভূমিকা একটি স্বীকৃত
ইতিহাস। শেখ হাসিনা বলেন, পাটের সঙ্গে রয়েছে এদেশের মানুষ আর আমাদের মহান স্বাধীনতার
এক নিবিড় যোগসূত্র। দেশ বিভাগের পর থেকেই তৎকালীন পাকিস্তানী ঔপনিবেশিক শাসকগোষ্ঠী
দেশের পাট ও পাটজাত পণ্য রফতানি হতে অর্জিত মূল্যবান বৈদেশিক মুদ্রার ন্যায্য হিসাব
থেকে বঞ্চিত করে।
এছাড়া পাট খাতের উন্নয়নে গবেষণা কার্যক্রম,
পাটবীজ আমদানিতে নির্ভরশীলতা হ্রাস, পাটবীজ উৎপাদনে স্বয়ম্ভরতা অর্জন, প্রচলিত ও বহুমুখী
পাটজাত পণ্যের উৎপাদন ও রফতানি বাড়ানোর মতো কার্যক্রম নেয়ার মাধ্যমে সরকারের উন্নয়ন
লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে উৎসাহিত করার লক্ষ্যে এ বছর পাট দিবসে ১১টি ক্যাটাগরিতে ১১ ব্যক্তি
ও প্রতিষ্ঠানকে পুরস্কার দেয়া হচ্ছে। এছাড়াও পাট সংশ্লিষ্ট অংশীজনদের ৭টি শুভেচ্ছা
স্মারক দেয়া হবে।

