Logo
শিরোনাম

আল জাজিরার সামি, অপরাধ আর প্রতারণার গডফাদার

প্রকাশিত:সোমবার ০৮ ফেব্রুয়ারী ২০২১ | হালনাগাদ:বৃহস্পতিবার ২৫ ফেব্রুয়ারী ২০২১ | ৪৩৫জন দেখেছেন
Share
নিউজ পোস্ট ডেস্ক

Image

কখনও তানভীর সাদাত, কখনও সায়ের জুলকারনাইন। আবার কখনও জুলকারনাইন সায়ের খান, এভাবে নাম বদলে প্রতারণাসহ অগণিত অপরাধের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিটিই আল জাজিরা ফিল্মের মূল চরিত্র সামি। তার প্রকৃত নাম সামিউল আহমেদ খান। অল্প বয়সে মাকে হারানোর পর চুরি ও প্রতারণামূলক অপরাধের সঙ্গে জড়িয়ে বদলে ফেলেন মায়ের রাখা নাম তানভীর মোহাম্মদ সাদাত খান। সেনানিবাস থেকে বহিষ্কৃত হওয়ার সময় তার নাম ছিল সামিউল আহমেদ খান। মাদক ও অন্ধকার জগতে জড়িয়ে বেছে নেন নতুন নাম সায়ের জুলকারনাইন। গত কয়েক বছর ধরে পাহাড়ি উগ্রবাদীদের সঙ্গে জড়িত সামি।

আল জাজিরা ইস্যুতে তার সহপাঠী ও পরিচিতরাই সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এসব অভিযোগ করছে। শিশুকাল থেকে বর্তমান পর্যন্ত যার বিরুদ্ধে অভিযোগের শেষ নেই। তাকে কেন্দ্র করেই আল জাজিরার তদন্ত টিম বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী, সেনাপ্রধান ও সেনাবাহিনী নিয়ে ফিল্ম তৈরি করেছে।

পিতার ভুয়া নাম দিয়ে পাসপোর্ট ও ড্রাইভিং লাইসেন্সে করেন সামি। দুই যায়গায় তিনি পিতার নাম দিয়েছেন ওয়াসিট খান (Wasit Khan)। কিন্তু তার বাবার প্রকৃত নাম বাসিত খান (Basit Khan)।

শিশুকালেই অপরাধের হাতেখড়ি

সামির বাবা মো. আবদুল বাসেত খান ছিলেন অবসরপ্রাপ্ত সেনা কর্মকর্তা। আবদুল বাসেতের চার সন্তানের মধ্যে সামিউল আহমেদ খান সবার বড়। জন্ম ১৯৮৪ সালে হলেও স্কুলের তথ্য মোতাবেক তার জন্ম তারিখ ৮ অক্টোবর, ১৯৮৬। কৈশোর থেকেই তার বিরুদ্ধে চুরির অভিযোগ উঠতে থাকে। ১৪ বছর বয়সে সামি মাকে হারায়। তার দুই বছর পর বাবা দ্বিতীয় বিয়ে করেন। সৎ মায়ের সংসারে তখন থেকেই অন্ধকার জগতে পা বাড়ায় সামি। ক্যাডেট কলেজ থেকে বহিষ্কার হওয়ার পর ভর্তি হয় কুমিল্লার ইস্পাহানি স্কুলে। ১৫ থেকে ১৬ বছর বয়স থেকে ড্রাগ নেয়া, মেয়েদের উত্ত্যক্ত করাসহ নানা অভিযোগ ওঠে সামির বিরুদ্ধে। মাদকাসক্ত হওয়ার কারণে আত্মীয়-স্বজন থেকে শুরু করে সহপাঠী বন্ধুরাও তাকে এড়িয়ে চলতো। কৈশোর বয়সে চুরিতে হাত পাকান সামিউল আহমেদ খান ওরফে সায়ের জুলকারনাইন ওরফে সামি। ১৭ বছর বয়সে ২০০০ সালের ৩০ জানুয়ারি ইসিবিতে কর্মরত মেজর ওয়াদুদের বিদেশ থেকে আনা ট্র্যাকস্যুট চুরি করে ধরা পড়েন। ২০০০ সালের জুলাই মাসে টাইগার অফিসার্স মেস থেকে হাতির দাঁত চুরি করে চট্টগ্রামের নিউমার্কেটে অঙ্গনা জুয়েলার্সে বিক্রি করেও ধরা পড়েন।

বাবার চাকরির সুবাদে নিজেকে কখনও সেনাবাহিনীর সেকেন্ড লেফটেন্যান্ট, কখনও ক্যাপ্টেন হিসেবে মিথ্যা পরিচয় দিতেন। ২০০১ সালের ২৮ ও ২৯ এপ্রিল ঢাকা সেনানিবাসে নিজেকে সেকেন্ড লেফটেন্যান্ট হিসেবে পরিচয় দিয়ে প্রবেশ করে সামি। যুক্তরাষ্ট্র প্রবাসী বন্ধু উৎপলের কাছে নিজেকে সেকেন্ড লেফটেন্যান্ট হিসেবে প্রমাণের জন্য বেল্ট, বুট ও র‍্যাংক ইউনিফর্ম কেনেন। উৎপলের বাসা থেকেই সেনাবাহিনীর ইউনিফর্ম পরে ট্যাক্সি ক্যাব দিয়ে সেনানিবাসসহ ঢাকার একটি পত্রিকা অফিস, রাপা প্লাজা, ধানমন্ডি ও চিড়িয়াখানা ঘুরে জাহাঙ্গীরগেট হয়ে সিএমএইচে প্রবেশের সময় দুপুর ২টায় মিলিটারি পুলিশের (এমপি) হাতে ধরা পড়ে সামি। এর ঠিক দুদিন পর ২ মে বাবার অঙ্গীকারনামায় আর্মি এমপি ডেস্ক থেকে তাকে ছেড়ে দেয়া হয়। 

র‌্যাব পরিচয়ে প্রতারণা ও গ্রেপ্তার

২০০৬ সালের ২০ জুলাই র‌্যাব কর্মকর্তা পরিচয় দিয়ে রাজধানীর ফার্মগেটের এজে টেলিকমিউনিকেশন থেকে ৯ লাখ ৯০ হাজার টাকার মোবাইল ফোন কিনে একটি ভুয়া চেক দেন। একইভাবে প্রাইজ ক্লাব নামক একটি কম্পিউটার ফার্ম থেকে ১০টি ল্যাপটপ কেনার কথা বলে, পরে চেক দিয়ে ২টি ল্যাপটপ নিয়ে আসে। চেক ডিজঅনার হলে অভিযোগের ভিত্তিতে র‌্যাব-১ তাকে গ্রেফতার করে। এ ঘটনার পর তাকে এনপিজি ঘোষণা করে সব সেনানিবাস ও দপ্তরে অবাঞ্ছিত করা হয়। এ ঘটনার পর অনিয়ন্ত্রিত ও উচ্ছৃঙ্খল জীবনযাপনের জন্য সামিকে ত্যাজ্য করেছিলেন তার বাবা। পরদিন ২০০৬ সালের ২৩ জুলাই এক মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত হন লে. কর্নেল আবদুল বাসেত।

সামির যত নারী কেলেঙ্কারি

সেনাকর্মকর্তা পরিচয় দিয়ে বিয়ে করেছিলেন সামি। এন্টেনা ভাঙ্গা ভি.এইচ.এফ (ওয়াকিটকি) নিয়ে মার্কিন দূতাবাসের নিরাপত্তা কর্মকর্তা পরিচয় দিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা দেয়ার নামে কয়েকজনের কাছ থেকে প্রায় কোটি টাকা নেন। ব্যবসার কথা বলেও অনেকের কাছ থেকে টাকা হাতিয়ে নিয়েছিলেন। প্রথম স্ত্রীকে না জানিয়ে এক সেনাকর্মকর্তার মেয়েকেও বিয়ে করেন। শ্বশুরের অর্থে হাঙ্গেরিতে রেস্টুরেন্ট ব্যবসা শুরু করার পর বিএনপির রাজনীতিতে যুক্ত হন সামি। ব্যবসা বাণিজ্যের কথা বলে টাকা হাতিয়ে নেয়ার জন্য অনেকেই তাকে খুঁজছেন। বহুদিন প্রকাশ্যে আসতে পারেন না।

সামির বিরুদ্ধে মামলা

গেল বছর সাইবার ক্রাইম ইউনিট অনলাইনে জাতির পিতা, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও মুক্তিযুদ্ধ সম্পর্কে কটূক্তি ও আপত্তিকর প্রচারণা এবং করোনা ভাইরাস নিয়ে অপপ্রচারসহ বিভিন্ন গুজব রটিয়ে অস্থিতিশীলতা সৃষ্টির জন্য যাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করে তাদের মধ্যে অন্যতম শায়ের জুলকারনাইন সামি। উই আর বাংলাদেশি পেইজ থেকে রাষ্ট্রবিরোধী প্রচারণার অভিযোগে অভিযুক্তদের ল্যাপটপ ও মোবাইল অনুসন্ধান করে ১১ জনের সংশ্লিষ্টতার প্রমাণ পায় গোয়েন্দা বাহিনী। এর পরিপ্রেক্ষিতে তাসনিম খলিল ও সামিসহ উক্ত ১১ জনের বিরুদ্ধে ২০২০ সালের মে মাসে ডিজিটাল সিকিউরিটি অ্যাক্টে মামলা হয়। এ মামলার প্রতিবাদে কলাম লিখেছিলেন ডেভিড বার্গম্যান। 

সামির এসব অপরাধের বিষয়ে সামাজিকমাধ্যম ফেসবুকে তার বন্ধু সাইফ এম ইশতিয়াক হোসাইন (Saif M Ishtiak Hossain) একটি দীর্ঘ স্ট্যাটাস দিয়েছেন। তার স্ট্যাটাসটি পাঠকের জন্য হুবহু তুলে ধরা হল

সেনাপ্রধানের ভাইয়েরা এত বড়ই মাফিয়া যে তাদের বিদেশে পালিয়ে রেস্টুরেন্ট ব্যবসা করতে হয়। তারা দেশে আসলেই সরকার, আইন ও বিচারবিভাগ তাদের ঘাড় মটকে দিত। আলজাজিরার ভিডিও প্রমাণ করে দেশে আইনের শাসন কতটা শক্তিশালী যে মাফিয়ারাও দৌঁড়ের উপরে থাকে!! তারা নিরাপদে দেশে থাকতে পারে না, মাফিয়াগিরি করতে পারে না।

তবে আমি এখানে একটু অন্য প্রসঙ্গে কথা বলবো। আমি বরং ভিডিওতে দেখানো হাঙ্গেরির ব্যবসায়ী সামি এর কথা বলব। সে আমার ছোটবেলার স্কুলের ক্লাসমেট। তার বাবা আর্মির ডাক্তার ছিল, এবং আমার বাবার কলিগ ও বন্ধু। সামির একজন ছোট ভাই ছিল, তার নাম মাহি। মাত্র ১৪ বছর বয়সে একটি সড়ক দুর্ঘটনায় সামি ও তার ছোট ভাই তাদের মাকে হারায়। তার ২ বছর পরই তাদের বাবা ২য় বিয়ে করে। তখন থেকেই সৎ মায়ের সংসারে সামি বখে যেতে শুরু করে। ১৫-১৬ বছর বয়স থেকেই ড্রাগ নেয়া থেকে শুরু করে মেয়েদের উত্ত্যক্ত করাসহ এমন কোনো কাজ নেই যা সে করতো না। তার নামে স্কুলে অনেক ডিসিপ্লিনারি অভিযোগ রয়েছে।

তার বাবা ঢাকায় পোস্টিং হবার পর সে ঢাকায় থাকতে তার বাবার সেনা ইউনিফর্ম পরে নিজেকে সেনা অফিসার পরিচয় দিয়ে একটি মেয়েকে পটায় এবং পরে পালিয়ে বিয়েও করে। পরে জানাজানি হলে তাকে তার বাবা বাসা থেকে বের করে দেয়। ইতিমধ্যে আমার সাথে তার এরপর আর কোনো রকম যোগাযোগ হয় না। তার কয়েক বছর পরে তারা বাবাও সড়ক দুর্ঘটনায় মারা যায়। সামি এসএসসি পাস করলেও ইন্টার পাস করতে পারে নাই শুনেছিলাম। পরে কমন বন্ধুর কাছে শুনেছিলাম যে ১ম বউকে ডিভোর্স দিয়ে (ডিভোর্স দিয়েছিল কিনা সিওর না) সে সেনাবাহিনীর আরো একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তার মেয়েকে পটায় এবং শ্বশুরের সহায়তায় হাঙ্গেরিতে রেস্টুরেন্টের ব্যবসা শুরু করে। (এইটা সে কিভাবে করে সে ব্যাপারে তদন্ত করা যেতে পারে)

এত ডিস্টার্বড ব্যাকগ্রাউন্ডের একটি এডিক্টেড ছেলে টাকার জন্য অনেক কিছুই করতে পারে। এবং তখন থেকেই টাকার জন্য সে চুরি করা থেকে শুরু করে অনেক কিছুই করতো। তার মত ছেলের রেফারেন্স দিয়ে আলজাজিরা একটি দেশের প্রধানমন্ত্রী ও আর্মি চিফকে দুর্নীতিবাজ ও মাফিয়া বানায় দিল, সেটা দেখে ছাগুরা লাফাইতে পারে, তবে আমি পারলাম না। ইন্টার ফেল সামিও কিভাবে হাঙ্গেরিতে ব্যবসা শুরু করলো সেটা ধরে বাংলাদেশের গোয়েন্দারা টান দিলেই আরো তথ্য বেরিয়ে আসবে।

সামির ব্যাপারে যা বললাম তার সত্যতা আমার তখনকার স্কুলের বন্ধুরাও ভেরিফাই করতে পারে। তাদেরকেও ট্যাগ করলাম। (এখানে দুইজনকে ট্যাগ করা হয় যারা হলেন, Tawsif Rahman Mishu ও  Nazmus Saqeb)।

সংযুক্তি: সামি এক্স ক্যাডেট। ক্লাস এইটে তাকে ক্যাডেট থেকে বের করে দেয়া হইছিল ডিসিপ্লিনের কারণে। পরে আমাদের সাথে কুমিল্লার ইস্পাহানি পাবলিক স্কুলে ভর্তি হয়।

সামির অপর পরিচিত বন্ধু ওমর শরিফ আরেফিনও সামাজিকমাধ্যম ফেসবুকে সামির সম্পর্কে নানা তথ্য উল্লেখ করেছেন। আরেফিনের স্ট্যাটাসটিও পাঠকের উদ্দেশ্যে তুলে ধরা হল;

সে প্রায় আঠারো বছর আগের কথা, আই আই এম টি তে কোর্স করছি, বন্ধু প্রদ্বীপ একটা ছেলের সাথে পরিচয় করিয়ে দিল, এক্স ক্যাডেট, সুন্দর মতো চেহারা স্মার্ট আর স্মাইলিং ফেস। ছেলেটার বাবা নাকি কর্নেল, বাসায় সৎ মা, মিলিটারি একাডেমি থেকে বার করে দিয়েছে আবার প্রেম করে একটা বিয়েও করেছে, আর এসব কারণে নাকি তার নিষ্ঠুর বাবা সৎ মায়ের ষড়যন্ত্রে তাকে ত্যায্য করেছে। আমার কাছে তার দুঃখের কাহিনী বলতো প্রায়ঃশই, যতোদুর মনে পড়ে আই আই এমটিতে কিছুদিন চাকরিও করেছিল।

এ সুবাদে আলাপচারিতা বাড়লো, টুকটাক চা সিগারেট, নাস্তা পানি এক্স ক্যাডেট হিসেবে তার আমার কাছে দাবি-ই ছিল, আমিও সেটাতে কার্পন্য করতাম না। তারপর একদিন সে ফোন দিল তার স্ত্রী নাকি হাসপাতালে ডেঙ্গু আক্রান্ত, কিছু টাকা দরকার, আমার কেমন যেন সন্দেহ হলো, ঘটনা চক্রে তার স্ত্রীর স্কুলের বান্ধবী তখন আমার বাগদত্তা। কি মনে করে তাকে ফোন দিলাম ভাবলাম তার বান্ধবী মূমুর্ষু সেটা জানাই। তাকে ফোন করে তো আমি থ হয়ে গেলাম, ছেলেটার স্ত্রী নাকি এইমাত্র তার বাসা থেকে বের হলো, সম্পূর্ণ সুস্থ!!

এরপর থেকে আমি আর সেই ছেলেকে খুব একটা লাই দিতাম না। এরপর দিন গেল, একদিন শুনলাম সেই ছেলে অফিস থেকে টেলিফোন সেট চুরি করে ধরা খেয়েছে, কিছুদিন পর জানলাম তার স্ত্রী সন্তান সম্ভবা। এভাবেই চলছিল তারপর আবার দেখা হলো হিরোর সাথে, সাদা পাঞ্জাবি আর জিন্স পড়ে সে হাতে একটা এন্টেনা ভাঙ্গা ভিএইচএফ (ওয়াকি টকি) সেট নিয়ে ঘুরছে। ভি এইচ এফ দেখে জিজ্ঞেস করলাম কি ব্যাপার ভাঙ্গা রেডিও নিয়ে কি কর, সে বল্লো সে নাকি ইউ এস এম্বেসীতে সিকিউরিটির কাজ করে তাই রেডিও রাখতে হয়! সাধারনতঃ এই সব রেডিও এর রেঞ্জ হয় কয়েকশ মিটার! অথচ আমরা তখন শান্তিনগরে বসে বিয়ে খাচ্ছি, বুঝলাম এটাও তার একটা ভেল্কি! তার কিছুদিন পর সে তার স্ত্রী সন্তান রেখে হাওয়া হয়ে গেল, এর ভেতর পালিয়ে বিয়ে করার কারনে তার স্ত্রীকে বাসা থেকে বের করে দিয়েছিল তার বাবা মা, মেয়েটা তখন বিশাল একটা দুর্বিপাকে পড়লো। স্বামী নিরুদ্দেশ, ছোট বাচ্চা, বিয়ে বাচ্চা নিয়ে পড়াশুনাতেও বাধা পড়েছে, কোন মতে একটা চাকরি করে সে তখন তার এই দুঃসময় পার করেছিল। তার বেশ কিছুদিন পর একটা রেস্তরায় বসে আছি, দেখি সেনাবাহিনীর একটা জ্বীপ থেকে নামছে হিরো, এর ভেতর তার স্বাস্থ্য প্রায় মাশাল্লাহ তিনগুন হয়েছে, সাথে একটা মেয়ে।

আমার সাথে দেখা হওয়ায় সে হতচকি্‌ত কিন্তু চাল্লু ছেলে ঘাবড়ালো না, বলে নতুন বিয়ে করেছে, জেনারেলের মেয়ে আলহামদুলিল্লাহ! আমার স্ত্রী সাথে সাথে তার বান্ধবীকে ফোন দিয়ে সব কথা জানালো, তার বান্ধবী মানে হিরোর প্রথম স্ত্রী তো আকাশ থেকে পড়লো এই কথা শুনে, সে কিছু জানেই না এ সম্পর্কে! এনিয়ে নারী মহলে নাকি ব্যপক কাল বৈশাখীর তান্ডব লীলা চলেছিল বলে শুনেছি, আমি মনে মনে বলেছিলাম লাকী ম্যান! তারপর দিন গেল, আমরা ড. কামালের ঘর জামাই তথাকথিত সাম্বাদেক জনৈক বার্গ্ম্যানের সাথে পরিচিত হলাম, রাজাকার গু আ জেলের চাক্কি পিষতে পিষতে অক্কা গেল, বাকী শুয়োরগুলা জাহান্নামবাসী হলো আলহামদুলিল্লাহ! পদ্মা সেতুও হয়ে গেল প্রায়, হঠাত আজকে ইউটিউবে দেখি সেই হিরোর চেহারা, আলহামদুলিল্লাহ তার স্বাস্থ্য এখন আরো ভালো, ভিডিও দেখে চিনতে পাড়লেও একটু দ্বিধা হলো, নানা সূত্রে শিওর হলাম যে হ্যা এটাই সেই হিরো, আলজাজিরার সামী!

বিঃদ্রঃ এইমাত্র এই সামীজ্বীর আরেক স্কুল বন্ধুর পোস্ট থেকে জানতে পারলাম যে সামীজ্বী আসলে এক্স ক্যাডেট নন।

বিঃ বিঃ দ্রঃ এইমাত্র আবার জানলাম যে সামীজ্বী আসলে এক্স ক্যাডেট কিন্তু ক্লাস এইটে তাকে বার করে দেওয়া হয়!! যাক যতটা ৪২০ ওকে ভাবছিলাম ও মনে হয় ততোটা ৪২০ না...।

নিউজ ট্যাগ: আল জাজিরা সামি
Share

ধর্ষণের শিকার কিশোরীর আত্মহত্যা

মঙ্গলবার ০৯ ফেব্রুয়ারী ২০২১




জরুরি সংবাদ সম্মেলনে আসছেন শিক্ষামন্ত্রী

প্রকাশিত:সোমবার ২২ ফেব্রুয়ারী ২০২১ | হালনাগাদ:বুধবার ২৪ ফেব্রুয়ারী ২০২১ | ৩৮জন দেখেছেন
Share
নিউজ পোস্ট ডেস্ক

Image

শিক্ষাসংক্রান্ত সমসাময়িক বিষয়ে জরুরি সংবাদ সম্মেলনে আসছেন শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি। এতে বর্তমানে করোনার প্রাদুর্ভাব কিছুটা কমে যাওয়ায় সরকারি-বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় খুলে দেওয়ার বিষয়ে সিদ্ধান্ত আসতে পারে। দেশের বিভিন্ন পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা হল খুল দেওয়ার দাবিতে আন্দোলন শুরু করেছে। এ প্রেক্ষিতে আজ শিক্ষামন্ত্রীর এ জরুরি সংবাদ সম্মেলন।

শিক্ষা মন্ত্রণালয় থেকে গণমাধ্যমের কাছে পাঠানো বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, করোনাকালে উচ্চশিক্ষার বিভিন্ন বিষয় নিয়ে শিক্ষামন্ত্রী অনলাইন সংবাদ সম্মেলন করবেন। সোমবার (২২ ফেব্রুয়ারি) দুপুর ২টায় এ সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হবে।

করোনা মহামারির কারণে গত বছরের ১৭ মার্চ থেকে দেশের সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ রয়েছে। কয়েক ধাপে বাড়ানোর পর ২৮ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে।

শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খোলা নিয়ে ৩০ জানুয়ারি উচ্চ মাধ্যমিক ও সমমানের পরীক্ষার ফল প্রকাশ অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, আমরা ফেব্রুয়ারি মাস নজরে রাখব। পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে মার্চ-এপ্রিলে আংশিকভাবে স্কুল খুলে দেয়া হবে।

তিনি আরো বলেন, এজন্য দরকার সবাইকে স্বাস্থ্য সুরক্ষা মেনে চলা ও করোনাভাইরাস মোকাবেলায় যা যা ব্যবস্থা আছে তা গ্রহণ করা। আর ভ্যাকসিন তো সবাই পেয়ে যাবেন।

গত ২২ জানুয়ারি করোনা পরিস্থিতিতে স্বাস্থ্যবিধি নিশ্চিত করে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খুলতে গাইডলাইন প্রকাশ করে মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদফতর। এ গাইডলাইন অনুসরণ করে সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খোলার প্রস্তুতি নিতে বলা হয়। স্কুল-কলেজগুলোতে ৩৯ পাতার গাইডলাইন পাঠিয়ে বলা হয়, ৪ ফেব্রুয়ারির মধ্যে স্কুলগুলো প্রস্তুত করে রাখতে, যাতে যে কোনো মুহূর্তে সেগুলো খুলে দেয়া যেতে পারে।

সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, প্রধানমন্ত্রীর ঘোষণা অনুযায়ী ফেব্রুয়ারি মাসে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খোলা হচ্ছে না। তবে পহেলা মার্চ থেকে দেশের সকল পাবলিক-প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয় খুলে দেওয়ার চিন্তাভাবনা চলছে। সে কারণে আজ দুপুরে শিক্ষামন্ত্রী জরুরি সংবাদ সম্মেলন ডেকেছেন।


Share

‘হয় পরীক্ষা নাও, না হয় জীবন নাও’

বুধবার ২৪ ফেব্রুয়ারী ২০২১

৭ কলেজের বিষয়ে সিদ্ধান্ত আজ সন্ধ্যায়

বুধবার ২৪ ফেব্রুয়ারী ২০২১

শিক্ষার্থীদের ঢাকার ৭ পয়েন্টে অবস্থান

বুধবার ২৪ ফেব্রুয়ারী ২০২১




দুই দিন পর হিলি স্থলবন্দর দিয়ে আমদানি-রফতানি শুরু

প্রকাশিত:রবিবার ৩১ জানুয়ারী ২০২১ | হালনাগাদ:বুধবার ২৪ ফেব্রুয়ারী ২০২১ | ৪৯জন দেখেছেন
Share
নিউজ পোস্ট ডেস্ক

Image

সাপ্তাহিক ছুটি ও হাকিমপুর পৌর নির্বাচন উপলক্ষে টানা দুই দিন বন্ধ থাকার পর ফের হিলি স্থলবন্দর দিয়ে আমদানি-রফতানি শুরু হয়েছে। রবিবার (৩১ জানুয়ারি) সকাল ১০টায় ভারত থেকে পণ্যবোঝাই ট্রাক প্রবেশের মধ্যে দিয়ে আমদানি-রফতানি কার্যক্রম শুরু হয়।

হিলি সিএন্ডএফ এজেন্ট অ্যাসোসিয়েশনের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি আব্দুল আজিজ জানান, সাপ্তাহিক ছুটি ও ৩০ জানুয়ারি হাকিমপুর পৌরসভা নির্বাচনের ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হওয়ায় দুই দিন হিলি স্থলবন্দরের আমদানি-রফতানি কার্যক্রম বন্ধ ছিল। তবে দুই দিন বন্ধ থাকার পর রবিবার থেকে আবারো আমদানি-রফতানি শুরু হয়েছে।

এদিকে হিলি পানামা পোর্টের জনসংযোগ কর্মকর্তা সোহরাব হোসেন প্রতাব মল্লিক জানান, আমদানি-রফতানি কার্যক্রম শুরুর পাশাপাশি বন্দরের পণ্য লোড-আনলোডসহ সব কার্যক্রম শুরু হয়েছে।

Share

সূচকের বড় পতনের মধ্য দিয়ে লেনদেন চলছে

সোমবার ২২ ফেব্রুয়ারী ২০২১




৩৮তম বিসিএসে নিয়োগ পেলেন ২১২৯ জন

প্রকাশিত:বৃহস্পতিবার ২৮ জানুয়ারী ২০২১ | হালনাগাদ:বুধবার ২৪ ফেব্রুয়ারী ২০২১ | ৪২জন দেখেছেন
Share
নিউজ পোস্ট ডেস্ক

Image

৩৮তম বিসিএসে ২ হাজার ১২৯ জনকে বিভিন্ন ক্যাডারে নিয়োগ দিয়েছে সরকার। নিয়োগপ্রাপ্তদের আগামী ১৪ ফেব্রুয়ারির মধ্যে ক্যাডার নিয়ন্ত্রণকারী মন্ত্রণালয়ের পদায়ন করা কার্যালয়ে যোগদানের জন্য বলা হয়েছে।

পাবলিক সার্ভিস কমিশনের (পিএসসি) সুপারিশের পর তাদের নিয়োগ দিয়ে বৃহস্পতিবার (২৮ জানুয়ারি) জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের নব নিয়োগ অধিশাখা থেকে এ সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়।

এতে বলা হয়, ক্যাডার নিয়ন্ত্রণকারী মন্ত্রণালয় থেকে পরবর্তী কোনো নির্দেশ না পেলে ওই তারিখেই তিনি সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ে যোগদান করবেন। নির্ধারিত তারিখে যোগদান না করলে তিনি চাকরিতে যোগদান করতে সম্মত নন বলে ধরে নেওয়া হবে এবং নিয়োগপত্র বাতিল বলে গণ্য হবে।

আদেশে বলা হয়েছে, নিয়োগপ্রাপ্তদের লোকপ্রশাসন প্রশিক্ষণ কেন্দ্রে বা সরকার নির্ধারিত প্রতিষ্ঠানে বুনিয়াদি প্রশিক্ষণ নিতে হবে। এ প্রশিক্ষণ শেষে চাকরি সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানে পেশাগত ও বিশেষ ধরনের প্রশিক্ষণ নিতে হবে।

নিয়োগপ্রাপ্তদের দুই বছর শিক্ষানবিশ হিসেবে কাজ করতে হবে জানিয়ে আদেশে বলা হয়েছে, এ সময়ে যদি তিনি চাকরিতে বহাল থাকার অনুপযোগী বলে বিবেচিত হন, তাহলে কোনো কারণ দর্শানো এবং পিএসসির সঙ্গে পরামর্শ ছাড়াই চাকরি থেকে অপসারণ করা যাবে।

গত বছরের ৩০ জুন ৩৮তম বিসিএস পরীক্ষার চূড়ান্ত ফলাফল প্রকাশ করে পিএসসি। চূড়ান্ত ফলাফলে ২ হাজার ২০৪ জন প্রার্থী ক্যাডার পদের জন্য উত্তীর্ণ হয়। তার মধ্য থেকে পিএসসির সুপারিশে ২ হাজার ১২৯ জনকে বিভিন্ন ক্যাডারে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।

নিয়োগপ্রাপ্তদের তালিকা দেখতে ক্লিক করুন

Share

করোনা টিকা নিলেন শেখ রেহানা

বুধবার ২৪ ফেব্রুয়ারী ২০২১




ঢাকাসহ চার বিভাগে গুঁড়ি গুঁড়ি বৃষ্টির আভাস

প্রকাশিত:রবিবার ০৭ ফেব্রুয়ারী ২০২১ | হালনাগাদ:বুধবার ২৪ ফেব্রুয়ারী ২০২১ | ৬২জন দেখেছেন
Share
নিউজ পোস্ট ডেস্ক

Image

ঢাকাসহ দেশের চার বিভাগে আজ গুঁড়ি গুঁড়ি বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা রয়েছে বলে জানিয়েছে আবহাওয়া অফিস। এছাড়া দেশের অন্যত্র মেঘলা আকাশ থাকতে পারে।

শনিবার (৬ ফেব্রুয়ারি) রাতে এক পূর্বাভাসে আবহাওয়া অধিদফতর জানিয়েছে, উপ-মহাদেশীয় উচ্চচাপ বলয়ের বর্ধিতাংশ বিহার ও তৎসংলগ্ন এলাকায় অবস্থান করছে। লঘুচাপের বর্ধিতাংশ হিমালয়ের পাদ-দেশীয় পশ্চিমবঙ্গ ও তৎসংলগ্ন এলাকায় অবস্থান করছে। আর মৌসুমের স্বাভাবিক লঘুচাপ অবস্থান করছে দক্ষিণ বঙ্গোপসাগরে।

এই অবস্থায় ঢাকা, রংপুর, রাজশাহী ও খুলনা বিভাগের কিছু কিছু জায়গায় হালকা/গুঁড়ি গুঁড়ি বৃষ্টি হতে পারে। এছাড়া দেশের অন্যত্র অস্থায়ীভাবে আংশিক মেঘলা আকাশসহ আবহাওয়া প্রধানত শুষ্ক থাকতে পারে।

তবে শৈত্যপ্রবাহ কেটে গেলেও কুয়াশার প্রকোপ আপাতত কমছে না। আবহাওয়া অফিস জানিয়েছে, রবিবার (৭ ফেব্রুয়ারি) মধ্যরাত থেকে সকাল পর্যন্ত সারাদেশের কোথাও কোথাও হালকা থেকে মাঝারি ধরনের কুয়াশা পড়তে পারে।

অন্যদিকে সারাদেশে রাতের তাপমাত্রা (১-২) ডিগ্রী সে. বৃদ্ধি পেতে পারে। তবে দিনের তাপমাত্রা সামান্য হ্রাস পেতে পারে।

এ সময় ঢাকায় বাতাসের গতিবেগ থাকবে উত্তরপশ্চিম/উত্তর দিক থেকে ঘণ্টায় সর্বোচ্চ ৬ থেকে ১২ কিলোমিটার। এদিকে মঙ্গলবার নাগাদ তাপমাত্রা আবারও কমার আভাস রয়েছে। তবে বর্ধিত পাঁচদিনে তাপমাত্রা ক্রমশ বাড়বে।

Share

করোনায় দেশে আরও ৫ জনের মৃত্যু

বুধবার ২৪ ফেব্রুয়ারী ২০২১




রাঙামাটির কাউখালীতে ভাগ্নিকে ধর্ষণের অভিযোগে মামা গ্রেফতার

প্রকাশিত:সোমবার ০১ ফেব্রুয়ারী ২০২১ | হালনাগাদ:মঙ্গলবার ২৩ ফেব্রুয়ারী ২০২১ | ৮০জন দেখেছেন
Share
নিউজ পোস্ট ডেস্ক

Image

শহিদুল ইসলাম হৃদয়, রাঙামাটি

আত্মীয়তার সূত্র ধরে পাড়াতো বোনের বাড়িতে আসা-যাওয়ার মাধ্যমে কিশোরী ভাগ্নিকে ধর্ষণ করার অভিযোগে ফারুক নামের এক বখাটেকে গ্রেফতার করেছে রাঙামাটির কাউখালী থানা পুলিশ।

রবিবার মধ্যরাতে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে উপজেলার বেতবুনিয়া ইউনিয়ন হতে তাকে আটক করা হয়েছে বলে নিশ্চিত করেছেন কাউখালী থানার অফিসার ইনচার্জ মোঃ শহিদুল্যা-পিপিএম। তিনি জানিয়েছেন, ধর্ষনের অভিযুক্ত ফারুক কিশোরীর সম্পর্কে মামা হয়।

বেতবুনিয়ার একই এলাকায় পাশাপাড়ি বসবাস করে অভিযোগকারী ও অভিযুক্ত। আত্মতীয়তার সুবাধে বোনের বাড়িতে প্রায়ই যাতায়ত ছিলো ফারুকের। প্রায়ই যাতায়াতের ফলে ফারুকের সাথে কিশোরীর (ভাগ্নীর) প্রেমের সম্পর্ক গড়ে উঠে। সেই সুযোগে ফারুক বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে এবছরের জুন মাস থেকে বিভিন্ন সময়ে একাধিকবার ধর্ষণ করে এই কিশোরীকে।

সবশেষ মামলা দায়েরের সপ্তাহ খানেক আগে ওই কিশোরীর পেটে ব্যাথার কথা বলিলে কিশোরীর মা প্যাটের আকার অস্বাভাবিক মনে হলে মেয়েকে জিজ্ঞাসাবাদে সে তার মাকে মামা কর্তৃক ধর্ষণের কথা জানায়। পরবর্তীতে মামার লালসার শিকার কিশোরী ৫ মাসের গর্ভবতী বলে নিশ্চিত হয় তার পরিবার। পরে কাউখালী থানায় মামলা করলে রবিবার তাকে গ্রেফতার করে আদালতে পাঠানো হয়েছে বলেও জানিয়েছেন ওসি।

Share