Logo
শিরোনাম

আমরা এখন একা

প্রকাশিত:বৃহস্পতিবার ১৮ নভেম্বর ২০২১ | হালনাগাদ:রবিবার ২৮ নভেম্বর ২০২১ | ৫৬জন দেখেছেন
নিউজ পোস্ট ডেস্ক

Image

পুরো করোনার সময় একটা বাসার চার দেয়ালের ভেতরে আটকা থেকে সময় কাটিয়েছি। তখন বসে বসে নানা কিছু চিন্তা করেছি, তার মাঝে একটা ছিল করোনার উপদ্রব শেষ হওয়ার পর কী করব তার নানারকম পরিকল্পনা। সবচেয়ে বড় কল্পনাটা ছিল রাজশাহী গিয়ে হাসান আজিজুল হক স্যারের সাথে দেখা করে তাঁর সাথে কিছুক্ষণ কথা বলে আসা। স্যারের সাথে অনেকবার দেখা হয়েছে, অনেকবার কথা হয়েছে, কিন্তু আর কেউ নেই শুধু আমি আর স্যার, তার সাথে বসে সাহিত্য, দেশ, ইতিহাস, রাজনীতি এইসব সিরিয়াস বিষয় নিয়ে কথা বলার একটা ছেলেমানুষী শখ ছিল। যত সময় গিয়েছে সেটা নিয়ে আমার সেই শখটা অনেক বেড়ে গিয়েছিল।

খবর পেয়েছিলাম স্যারের শরীরটা ভালো যাচ্ছে না, তার ছেলের বক্তব্য থেকে জানতে পেরেছিলাম তার স্মৃতি শক্তিও কমে আসছে, অনেক সময় পরিচিত মানুষজনকে চিনতে পারেন না। তারপর দেখলাম স্যারকে চিকিৎসার জন্যে ঢাকা নিয়ে আসা হয়েছে, খুব ভয় পেয়েছিলাম তখন। তাঁর ছেলের কাছে স্যারের খোঁজ নিয়েছি। করোনার সময়টিতে আমরা আইসিইউ নামে একটা ভয়ংকর শব্দ শিখেছি, দেখে আসছি একবার কেউ তার ভেতরে গেলে প্রায় কখনোই বেঁচে ফিরে আসছেন না। স্যার কিন্তু সুস্থ হয়ে বের হয়ে এসেছেন, আবার রাজশাহী ফিরে গিয়েছেন দেখে অনেক শান্তি পেয়েছিলাম।

আমি জানি স্যার পরিণত বয়সে একটি পূর্ণাঙ্গ জীবন শেষে অসাধারণ কালজয়ী কিছু লেখা আমাদের উপহার দিয়ে, একটি বিশ্ববিদ্যালয়ে নিজেই একটি প্রতিষ্ঠান হিসেবে থেকে দেশের অসংখ্য মানুষের অভিভাবক হয়ে আত্মীয় পরিজন গুণগ্রাহীদের মাঝে থেকে বিদায় নিয়েছেন। আমাদের হয়তো দীর্ঘশ্বাস ফেলে এটা মেনেই নিতে হবে। কিন্তু যখন মনে হয় তিনি আর নেই তখনই মনে হয় এখন আমরা একা। একেবারেই একা।

শুধু তাই না কয়েক সপ্তাহ আগে দেখলাম স্যার পত্রিকায় একটি লেখা দিয়েছেন, লেখার বিষয়বস্তুটুকু আমাকে যতটুকু আনন্দ দিয়েছে তার থেকে বেশি আনন্দ দিয়েছে স্যার আবার লিখছেন সেই তথ্যটুকু। আমি যখন রাজশাহী যাওয়ার কথা চিন্তা করছি তখন একেবারে হঠাৎ করে জানতে পারলাম স্যার আমাদের ছেড়ে চলে গিয়েছেন। হঠাৎ করে মনে হল একেবারে একা হয়ে গেছি। আমাদের বুঝি দেখে শুনে রাখার আর কেউ নেই।

বহুকাল আগে একবার রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে গেছি। তখন সময়টা ভালো না, দেশ থেকে মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতি বঙ্গবন্ধুর অবদান এসব কিছুকে নির্বাসন দেওয়া হয়েছে। সেই দুঃসময়ে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের ছেলেমেয়েরা মিলে মুক্তিযুদ্ধের জন্য ভালোবাসাটুকু ধরে রাখার জন্য একটা সংগঠন করেছে। সেই বাচ্চা ছেলেমেয়েরা আমাকে ডেকেছে, আমি তাদের সাথে কথাবার্তা বলছি। হঠাৎ করে দেখি সেই বাচ্চা ছেলেমেয়েদের মাঝে একজন বড় মানুষ—খবর পেয়ে হাসান আজিজুল হক স্যার চলে এসেছেন। দেশের বাইরে ছিলাম বলে দেশের এই বড় বড় কবি, সাহিত্যিক শিল্পীদের সাথে আমার পরিচয় নেই, তার উপর সবাই ঢাকাকেন্দ্রিক শুধু স্যার রাজশাহী থাকেন! স্যারের সাথে পরিচয় হল, কথা হল। তারপর থেকে যতবার রাজশাহী গিয়েছি স্যারের সাথে একটিবার হলেও দেখা করে এসেছি, স্যার হাসিমুখে আমার যন্ত্রণা সহ্য করেছেন।

আমি সিলেটের শাহজালাল বিশ্ববিদ্যালয়ে, অভ্যাস অনুযায়ী মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে কথাবার্তা বলে জামায়াত শিবিরের চক্ষুশূল হয়ে আছি। দুইদিন পরে পরেই আমাকে নিয়ে ঝামেলা হয়, কখনো বাসায় বোমা পড়ে, কখনো ফাঁসির দাবি, কখনো আমার বিরোদ্ধে আন্দোলন—স্যার প্রতিবার রাজশাহী থেকে আমাকে ফোন করেন, সাহস দেন। আমার পাশে আছেন বলে আমিও ভরসা পাই, বাড়াবাড়ি করছি কিনা জানি না, কিন্তু ভুল করছি না সেই বিষয়টা বুঝতে পারি।

এই দেশে যারা থেকেছে, মুক্তিযুদ্ধের জন্য ভালোবাসাটুকু ধরে রাখার জন্য তাদের সবাইকেই কাজ করতে হয়েছে, সেজন্য ঝামেলাও কম হয়নি। কাজেই বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক হওয়ার পরও স্যারের পরিচয় শুধু অধ্যাপক নয়, বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রগতিশীল চেতনার একজন অভিভাবকও। এতো কিছুর পরেও স্যারের সবচেয়ে বড় পরিচয় হচ্ছে লেখক। আমি নিজে আমার ছেলেমানুষী লেখার চেষ্টা করি বলে আমি বুঝতে পারি আমরা কেন দায়সারা লেখক আর স্যার কেন সত্যিকারের লেখক—শুধু লেখক নয়, বড় লেখক! খুব বেশি লিখেননি কিন্তু যেটুকু লিখেছেন একেবারে খাটি সোনা। দেখে ভালো লাগে যে স্যারের লেখার জন্য দেশে এবং দেশের বাইরে তাঁকে ঠিকভাবে মূল্যায়ন করা হয়েছে।

বহুদিন আগে এলিস ওয়াকারের লেখা দি কালার পারপল’ নামে একটা উপন্যাস পড়েছিলাম (আমার ধারণা এই নামে তৈরি চলচ্চিত্রটি মূল বই থেকে বেশি পরিচিত)। যারা মূল বইটি পড়েছেন তারা জানেন এই বইয়ের ভাষা কিন্তু আমাদের পরিচিত ইংরেজি নয়, আমেরিকান কালো মানুষদের নিজস্ব এক ধরনের ভাষা। প্রথম এক দুই পৃষ্ঠা পড়লেই এই ভাষাটিতে অভ্যস্ত হয়ে যাওয়া যায়, তখন এই নূতন ভাষাটিকে রীতিমত মিষ্টি একটি ভাষা বলে মনে হতে থাকে। আমাদের বাংলা ভাষায় লেখা বইয়েও কেউ এক দুইটি সংলাপ নয় পুরো বইটি এভাবে লিখেছেন কিনা আমার সেটি নিয়ে কৌতূহল ছিল।

হাসান আজিজুল হক স্যারের আগুনপাখী বইটি পড়ে আমার সেই অতৃপ্তিটুকু প্রথমবার পূরণ হয়েছে। প্রমিত ভাষায় বই পড়ে পড়ে হঠাৎ করে একটা স্থানীয় আঞ্চলিক ভাষায় একটা মেয়ের জবানিতে পুরো বইটুকু পড়ে মনে হয় সামনে বুঝি একটা নূতন দিগন্ত খুলে গিয়েছে। বইয়ের ভাষা হচ্ছে মাত্র একটি দিক, বইটিতে সেই সময়ের এত নিখুঁত এবং এত মানবিক একটি ইতিহাস উঠে এসেছে যে তার তুলনা নেই।

বৃটিশ ঔপনিবেশ, দ্বিতীয় মহাযুদ্ধ, আমাদের দেশে যে ভয়াবহ অবস্থা তৈরি করেছিল তার একটা অসাধারণ বাস্তব ছবি এই বইয়ে পরম মমতায় তুলে ধরা হয়েছে সেটি না পড়া পযন্ত কেউ বুঝতে পারবে না। স্যারের সাথে যতবার দেখা হয়েছে প্রত্যেকবার সাধারণ কথাবার্তা হয়েছে কিন্তু আমার মনের গহীনে একজন সত্যিকার সাহিত্যিকের সাথে সাহিত্য নিয়ে কথা বলার একটা গোপন বাসনা ছিল। সেই বাসনাটুকু বাসনা হিসেবেই থেকে গেল।

হাসান আজিজুল হক স্যারের মেধাবী ছেলেটি আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষক হিসেবে যোগ দেওয়ার জন্য ইন্টারভিউ দিতে এসেছিল। সে যোগ্য প্রার্থী ছিল, এখন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক কিন্তু—সেই সময়টিতে হাসান আজিজুল হকের পুত্র হওয়ার অপরাধে এখানে নিয়োগ পায়নি, যদিও বিশ্ববিদ্যালয়ে তার মত একজনের খুবই প্রয়োজন ছিল। তখন তার সাথে পরিচয় হয়েছিল এবং তার কাছে স্যারের অনেক গল্প শুনেছি। তার কাছে জেনেছি স্যারের হাতের লেখা নাকি খুবই দুর্বোধ্য, যারা তাঁর হাতের লেখার সাথে পরিচিত নন তাদের কাছে মনে হবে স্যার বুঝি কলম দিয়ে কাগজে দাগ দিয়ে গিয়েছেন মাঝে মাঝে শুধু কলমটি একটু উপরে নিচে করেছেন! শুধু সে তার হাতের লেখা মর্মোদ্ধার করতে পারে!

আমি স্যারের হাতের লেখা দেখিনি, তাই কথাটুকু কতটুকু বাবাকে নিয়ে কৌতুক কতটুকু সত্যি কখনো যাচাই করে দেখতে পারিনি! হাতের লেখা যেরকমই হয়ে থাকুক সেই লেখা দিয়ে তিনি যে অসাধারণ লেখাগুলো লিখে গিয়েছেন তার জন্য আমরা সবসময়েই স্যারের প্রতি কৃতজ্ঞ থাকব। আমি জানি স্যার পরিণত বয়সে একটি পূর্ণাঙ্গ জীবন শেষে অসাধারণ কালজয়ী কিছু লেখা আমাদের উপহার দিয়ে, একটি বিশ্ববিদ্যালয়ে নিজেই একটি প্রতিষ্ঠান হিসেবে থেকে দেশের অসংখ্য মানুষের অভিভাবক হয়ে আত্মীয় পরিজন গুণগ্রাহীদের মাঝে থেকে বিদায় নিয়েছেন। আমাদের হয়তো দীর্ঘশ্বাস ফেলে এটা মেনেই নিতে হবে। কিন্তু যখন মনে হয় তিনি আর নেই তখনই মনে হয় এখন আমরা একা। একেবারেই একা।

লেখক : কথাসাহিত্যিক, সাবেক অধ্যাপক, শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়।


আরও খবর

এই দুঃখ কোথায় রাখি?

বৃহস্পতিবার ২১ অক্টোবর 20২১




শীতকালের একটি সুপারফুড হল লালশাক

প্রকাশিত:সোমবার ২২ নভেম্বর ২০২১ | হালনাগাদ:রবিবার ২৮ নভেম্বর ২০২১ | ২৫জন দেখেছেন
নিউজ পোস্ট ডেস্ক

Image

ধোঁয়া ওঠা গরম ভাতে লালশাক ভাজা খাওয়ার মজাই যেন আলাদা। তবে সবজি যাঁদের না-পসন্দ, এর উপকারিতা জানলে খেতে ইচ্ছে করবেই।

পুষ্টিবিদদের মতে, শীতকালের একটি সুপারফুড হল লালশাক। অ্যান্টিঅক্সিডেন্টে ভরপুর লালশাক বহু রোগের জন্য উপকারী। ১০০ গ্রাম লালশাকের মধ্যে ক্যালসিয়াম আছে ৩৭৪ মিলিগ্রাম। প্রোটিন আছে ৫.৩৪ গ্রাম। প্রতিদিন খেলে শরীর সতেজও থাকে। তাছাড়াও এর বহু উপকারিতা রয়েছে। যেমন,

১. কোলেস্টেরলের সমস্যায় যাঁরা চিন্তিত, তাঁদের রোজ লালশাক খাওয়ার পরামর্শ দিচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা। এটি হৃদরোগের ঝুঁকি কমায়।

২. লালশাকে প্রচুর পরিমাণে অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট রয়েছে। তাছাড়াও অ্যান্টি ক্যানসার গুণাবলীও রয়েছে এর মধ্যে।

৩. ভিটামিন এ-তে ঠাসা লালশাক রেটিনার কার্যক্ষমতা বাড়ায়। দৃষ্টিশক্তি বৃদ্ধির জন্য এটি ভীষণ উপকারী।

৪. লালশাকে প্রচুর আয়রন রয়েছে। ফলে অ্যানিমিয়া বা রক্তাল্পতার মতো সমস্যায় যাঁরা ভোগেন, তাঁরা রোজ খান লালশাক।

৫. রক্তে শর্করার পরিমাণ নিয়ন্ত্রণে রাখতে সাহায্য করে লালশাক। ফলে ডায়াবেটিসে আক্রান্ত রোগীরা খেলে উপকার পাবেন।

৬. লালশাকে ক্যালোরির পরিমাণ অত্যন্ত কম। ফলে রোজ খেলেও ওজন বেড়ে যাওয়ার কোনও সম্ভাবনা নেই। বরং এটি পেট ভর্তি রাখে। চটজলদি খিদেও পায় না। এবং ওজন কমে।

৭. লালশাকে প্রচুর ফাইবার রয়েছে। ফলে খাবার চটজলদি হজম হয়। কোষ্ঠকাঠিন্যের মতো সমস্যার সমাধান করতেও এর জুড়ি মেলা ভার।

৮. অ্যামাইনো অ্যাসিড, ফসফরাস, আয়রন, ম্যাগনেসিয়াম, পটাশিয়াম এবং ভিটামিন সি, ভিটামিন ই রয়েছে লালশাকে। এই উপাদানগুলো শরীরের দূষিত পদার্থ বের করে দিতে সাহায্য করে। ফলে কিডনি পরিষ্কার রাখে।

৯. লালশাকে ক্যালসিয়াম রয়েছে অনেকখানি। যা গর্ভাবস্থায় মেয়েদের জন্য খুবই উপকারী।

১০. লালশাক দাঁতের স্বাস্থ্যের জন্য ভীষণ উপকারী। শরীরে শক্তি বাড়াতেও সাহায্য করে এটি। 


আরও খবর



সব মহলের সহযোগিতা পেলেই ডাকসু নির্বাচন: উপাচার্য

প্রকাশিত:শনিবার ২০ নভেম্বর ২০21 | হালনাগাদ:রবিবার ২৮ নভেম্বর ২০২১ | ৫৩জন দেখেছেন
নিউজ পোস্ট ডেস্ক

Image
ডাকসু নির্বাচন একটি বড় কর্মযজ্ঞ। এটি সম্পাদনে সব মহলের আন্তরিক সহযোগিতা, কমিটমেন্ট থাকা উচিত

সব মহলের সহযোগিতা, গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ চর্চার সংস্কৃতি আরও শক্তিশালী হলে ডাকসু নির্বাচন দেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. আখতারুজ্জামান।

শনিবার (২০ নভেম্বর) দুপুরে বিশ্ববিদ্যালয়ের আব্দুল মতিন ভার্চুয়াল ক্লাসরুমে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শতবর্ষ উদযাপন উপলক্ষে করা এক সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে তিনি এ কথা জানান।

উপাচার্য বলেন, ডাকসু নেতৃত্ব তৈরি ও দক্ষ মানবসম্পদ তৈরির জন্য ভূমিকা রাখে। যখন তিন দশক পর ডাকসু নির্বাচন হলো তখন হলো সংসদ ও ডাকসু মিলে সাড়ে তিনশোর বেশি (মূলত ২৬৯ জন নির্বাচিত প্রতিনিধি) বিদগ্ধ, একেবারে তরুণ, বুদ্ধিদীপ্ত শিক্ষার্থী তারা বিভিন্ন নেতৃত্বে কাজ করেছে। তাদের বিভিন্ন দক্ষতা অর্জনের সুযোগ হয়েছে বিভিন্ন কাজের মাধ্যমে। এটি খুব প্রত্যাশিত একটি বিষয়। এটি আয়োজনে সব মহলের সহযোগিতা প্রয়োজন।

তিনি বলেন, ডাকসু নির্বাচন একটি বড় কর্মযজ্ঞ। এটি সম্পাদনে সব মহলের আন্তরিক সহযোগিতা, কমিটমেন্ট থাকা উচিত। আরেকটি হলো গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ চর্চার সংস্কৃতি আরও শক্তিশালী করা প্রয়োজন।

স্বাধীন বাংলাদেশে এ পর্যন্ত মোট আটবার অনুষ্ঠিত হয়েছে ডাকসু নির্বাচন। সবশেষ ডাকসু নির্বাচন হয় ২০১৯ সালে।


আরও খবর



হুমকির মুখে সুন্দরবন

প্রকাশিত:বুধবার ২৪ নভেম্বর ২০২১ | হালনাগাদ:রবিবার ২৮ নভেম্বর ২০২১ | ৪৭জন দেখেছেন
নিউজ পোস্ট ডেস্ক

Image

জাহাজ ডুবে বা জলবায়ু পরিবর্তনের সঙ্গে সুন্দরবনে দূষণ বৃদ্ধিতে ভূমিকা রাখছে পর্যটকের উপস্থিতি। সুন্দরবনে প্রতিদিন বাড়ছে পর্যটকের সংখ্যা। প্রতি বছর কয়েক লাখ পর্যটক ভ্রমণ করেন সুন্দরবন। পর্যটকের আনাগোনা যত বাড়ছে ততই বাড়ছে পরিবেশ দূষণ।

পরিবেশ দূষণই এখন সুন্দরবনের জন্য সবচেয়ে বেশি হুমকির কারণ হয়ে উঠছে। বাগেরহাটের শরণখোলা থেকে শুরু করে মোংলা প্রান্ত, সাতক্ষীরা এলাকায় একই পরিস্থিতি। কোথাও পরিবেশ দূষণ আটকানো যাচ্ছে না।

পুরো সুন্দরবন এলাকায় গেলেই চোখে পড়ছে নানা ধরনের মনুষ্য ব্যবহৃত জিনিসপত্র। মানব বসতি থেকে গভীর জঙ্গলের মধ্যে গেলেও দেখা যাচ্ছে নানা ক্ষতিকর বর্জ্য পদার্থ। এর মধ্যে  নানা ধরনের প্লাস্টিক, বোতল, জুতা, পলিথিন, খাবার প্যাকেট, বস্তা, দড়ি, জালের টুকরা, কৌটা, ওষুধের খালি প্যাকেটসহ কাপড়ের জিনিসপত্রে সয়লাব হয়ে থাকছে এলাকা।

সম্প্রতি সুন্দরবন ঘুরে দেখা গেছে, মোংলা প্রান্তের করমজল থেকে শুরু করে দক্ষিণে ডিমচর পর্যন্ত সব স্পটেই পরিবেশ দূষণের নানা বর্জ্য পদার্থ।  মোংলা বন্দরে বিভিন্ন কারখানায় ব্যবহৃত জিনিসপত্রও দেখা মেলে এসব স্পটে। এই রুটের স্পটগুলো হচ্ছে করমজল, হারবাড়িয়া, কটকা, কটকা বিচ, জামতলা, ডিমচর। নদীর পাড়ে কিংবা সৈকতে শুধু নয়, গভীর জঙ্গলের মধ্যে ঢুকলেও দেখা মেলে নানা ধরনের ক্ষতিকর বর্জ্য। ডিমচর একেবারে বঙ্গোপসাগর লাগোয়া।

ডিম্বাকৃতির বলে এই চরটির নাম ডিমচর। এখানে নানা ধরনের পাখি, হরিণের অভয়ারণ্য। হাজার হাজার হরিণের পদচারণ ও পাখির কলতানে মুখরিত থাকে। মোংলা থেকে কয়েক শ কিলোমিটার দূরে পুরো চরটি নদী দ্বারা বেষ্টিত। এখানে স্পষ্ট সূর্যোদয় ও সূর্যগ্রহণ দেখা যায়। এই নির্জন চরের সৈকতে গিয়ে দেখা গেছে, নানা বর্জ্য। এসব বর্জ্যরে মধ্যে প্লাস্টিক বোতল, কাচের বোতল, ওষুধের প্যাকেট, জালের অংশ, প্লাস্টিকে বস্তার সমাহার।

ডিমচরের সঙ্গে কোনো ধরনের সংযোগ নেই অন্য স্পটের। বিশাল জলরাশির মাঝে মনে হয় সমুদ্রের মধ্যে একটি সবুজ ডিম। এর কাছাকাছি স্পটের নাম কচিখালী। কচিখালীর চরে গেলে দেখা মেলে নোনা জলের কুমির। কচিখালীর নির্জন সরু খালের মধ্যে ঢুকলে দুই পাশে জঙ্গলের মধ্যেই চোখে পড়ে হরিণের পদচারণ।

এই খালের পাড়েও দেখা গেছে বিভিন্ন ধরনের মনুষ্য ব্যবহৃত জিনিসপত্র। কচিখালীর আগে কটকা স্পট। কটকা স্পটে রয়েছে মোবাইল টাওয়ার। এখানে সহজে দেখা মেলে বাঘের। কিছুক্ষণ অপেক্ষা করলে যে কেউ বাঘ দেখার সৌভাগ্য অর্জন করেন। রয়েছে হরিণের পাল। অন্যান্য স্পটের তুলনায় এখানে সবচেয়ে বড় হরিণের পালের দেখা মেলে। পুরো কটকা স্পটেই দেখা গেছে চিপসের প্যাকেট, প্লাস্টিক দ্রব্য। কোনো ভ্রমণ ক্রুজ বা জাহাজ থেকে এসব ফেলা হয় না বলে জানান ক্রুজের কর্মীরা। বিষয়টি রেঞ্জ কর্মকর্তাও স্বীকার করেন। রেঞ্জ কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, জেলে, মধু আহরণকারী, গোলপাতা সংগ্রহকারী,  ছন সংগ্রহকারীরা বেশি অসচেতন।


আরও খবর



মাদকবিরোধী অভিযানে রাজধানীতে আটক-৭৫

প্রকাশিত:রবিবার ২১ নভেম্বর 20২১ | হালনাগাদ:রবিবার ২১ নভেম্বর 20২১ | জন দেখেছেন
নিউজ পোস্ট ডেস্ক

Image

রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় মাদকবিরোধী অভিযান চালিয়ে ৭৫ জনকে গ্রেফতার করেছে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) বিভিন্ন অপরাধ ও গোয়েন্দা বিভাগ।

শনিবার সকাল ৬টা থেকে রোববার সকাল ৬টা পর্যন্ত সময়ে তাদের গ্রেফতার করা হয়।

এ সময় তাদের কাছ থেকে ৪৮ হাজার ৯৩৪ পিস ইয়াবা, ৩৮৯ গ্রাম ১৭৫ পুরিয়া হেরোইন, ১২ কেজি ৮৯৪ গ্রাম ৫০ পুরিয়া গাঁজা ও ৪৩ বোতল ফেনসিডিল জব্দ করা হয়।

গ্রেফতারকৃতদের বিরুদ্ধে সংশ্লিষ্ট থানায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে ৫৮টি মামলা হয়েছে।


আরও খবর



২৪ ঘণ্টার আলটিমেটাম দিয়ে সড়ক ছাড়ল শিক্ষার্থীরা

প্রকাশিত:রবিবার ২১ নভেম্বর 20২১ | হালনাগাদ:রবিবার ২৮ নভেম্বর ২০২১ | ৬৪৭জন দেখেছেন
নিউজ পোস্ট ডেস্ক

Image

২৪ ঘণ্টার মধ্যে ধর্ষণের হুমকি দেওয়া বাসের হেলপারকে গ্রেফতারের আলটিমেটাম দিয়ে আন্দোলন স্থগিত করেছেন বেগম বদরুন্নেসা সরকারি মহিলা কলেজের শিক্ষার্থীরা।

রোববার (২১ নভেম্বর) সকাল ৯টা থেকে রাজধানীর বকশিবাজার মোড়ে সড়ক অবরোধ করেন কলেজটির শিক্ষার্থীরা। পরে অভিযুক্ত বাসের হেলপারকে গ্রেফতারসহ তিন দফা দাবি জানিয়ে দুপুর ১২টার দিকে আন্দোলন স্থগিতের ঘোষণা দেন তারা।

তাদের দাবির মধ্যে রয়েছে, ২৪ ঘণ্টার মধ্যে ধর্ষণের হুমকি দেওয়া বাসের হেলপারের গ্রেফতার ও শাস্তি, বাসে নারী শিক্ষার্থীদের হয়রানি বন্ধ করা, সারা দেশে শিক্ষার্থীদের হাফপাস চালু করা।

এর আগে সকাল ৯টা থেকে রাজধানীর বকশিবাজার মোড়ে সড়ক অবরোধ করেন তারা।

হুমকির শিকার ওই ছাত্রী জানান, রাজধানীর শনিরআখড়া থেকে কলেজে আসার জন্য ঠিকানা পরিবহনের বাসে উঠেন তিনি। শনিরাখড়া থেকে কলেজের ভাড়া ১০ টাকা। কিন্তু ওই ছাত্রীর কাছ থেকে ১৫ টাকা ভাড়া রাখা হলে তিনি নিজেকে স্টুডেন্ট বলে ১০ টাকা ফেরত চাইলে চালকের সহকারী তাঁর সঙ্গে খারাপ ভাষায় কথা বলেন। পরে কলেজের সামনে বাস থেকে নেমে যাওয়ার সময়ে তাঁকে ৫ টাকা দিয়ে ধর্ষণ ও শারীরিক নির্যাতনের হুমকি দেন।

আন্দোলনরত শিক্ষার্থী মোছা. মোবাশ্বিরা বলেন, হাফভাড়া দিতে চাওয়ায় আমাদের এক বোনকে ধর্ষণের হুমকি দিয়েছে একটি বাসের হেলপার। এটা খুবই উদ্বেগজনক। আমরা এই ঘটনার বিচার চাই।

অপর এক শিক্ষার্থী বলেন, বাসে উঠতে চাইলে বাস থামায় না। আবার নামার সময় ভালোভাবে নামায় না। আবার নানা ধরনের হয়রানি করে। এসব থেকে পরিত্রাণ চাই আমরা।


আরও খবর