Logo
শিরোনাম

আমরা এখন একা

প্রকাশিত:বৃহস্পতিবার ১৮ নভেম্বর ২০২১ | হালনাগাদ:শুক্রবার ২০ মে ২০22 | ২১২জন দেখেছেন
নিউজ পোস্ট ডেস্ক

Image

পুরো করোনার সময় একটা বাসার চার দেয়ালের ভেতরে আটকা থেকে সময় কাটিয়েছি। তখন বসে বসে নানা কিছু চিন্তা করেছি, তার মাঝে একটা ছিল করোনার উপদ্রব শেষ হওয়ার পর কী করব তার নানারকম পরিকল্পনা। সবচেয়ে বড় কল্পনাটা ছিল রাজশাহী গিয়ে হাসান আজিজুল হক স্যারের সাথে দেখা করে তাঁর সাথে কিছুক্ষণ কথা বলে আসা। স্যারের সাথে অনেকবার দেখা হয়েছে, অনেকবার কথা হয়েছে, কিন্তু আর কেউ নেই শুধু আমি আর স্যার, তার সাথে বসে সাহিত্য, দেশ, ইতিহাস, রাজনীতি এইসব সিরিয়াস বিষয় নিয়ে কথা বলার একটা ছেলেমানুষী শখ ছিল। যত সময় গিয়েছে সেটা নিয়ে আমার সেই শখটা অনেক বেড়ে গিয়েছিল।

খবর পেয়েছিলাম স্যারের শরীরটা ভালো যাচ্ছে না, তার ছেলের বক্তব্য থেকে জানতে পেরেছিলাম তার স্মৃতি শক্তিও কমে আসছে, অনেক সময় পরিচিত মানুষজনকে চিনতে পারেন না। তারপর দেখলাম স্যারকে চিকিৎসার জন্যে ঢাকা নিয়ে আসা হয়েছে, খুব ভয় পেয়েছিলাম তখন। তাঁর ছেলের কাছে স্যারের খোঁজ নিয়েছি। করোনার সময়টিতে আমরা আইসিইউ নামে একটা ভয়ংকর শব্দ শিখেছি, দেখে আসছি একবার কেউ তার ভেতরে গেলে প্রায় কখনোই বেঁচে ফিরে আসছেন না। স্যার কিন্তু সুস্থ হয়ে বের হয়ে এসেছেন, আবার রাজশাহী ফিরে গিয়েছেন দেখে অনেক শান্তি পেয়েছিলাম।

আমি জানি স্যার পরিণত বয়সে একটি পূর্ণাঙ্গ জীবন শেষে অসাধারণ কালজয়ী কিছু লেখা আমাদের উপহার দিয়ে, একটি বিশ্ববিদ্যালয়ে নিজেই একটি প্রতিষ্ঠান হিসেবে থেকে দেশের অসংখ্য মানুষের অভিভাবক হয়ে আত্মীয় পরিজন গুণগ্রাহীদের মাঝে থেকে বিদায় নিয়েছেন। আমাদের হয়তো দীর্ঘশ্বাস ফেলে এটা মেনেই নিতে হবে। কিন্তু যখন মনে হয় তিনি আর নেই তখনই মনে হয় এখন আমরা একা। একেবারেই একা।

শুধু তাই না কয়েক সপ্তাহ আগে দেখলাম স্যার পত্রিকায় একটি লেখা দিয়েছেন, লেখার বিষয়বস্তুটুকু আমাকে যতটুকু আনন্দ দিয়েছে তার থেকে বেশি আনন্দ দিয়েছে স্যার আবার লিখছেন সেই তথ্যটুকু। আমি যখন রাজশাহী যাওয়ার কথা চিন্তা করছি তখন একেবারে হঠাৎ করে জানতে পারলাম স্যার আমাদের ছেড়ে চলে গিয়েছেন। হঠাৎ করে মনে হল একেবারে একা হয়ে গেছি। আমাদের বুঝি দেখে শুনে রাখার আর কেউ নেই।

বহুকাল আগে একবার রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে গেছি। তখন সময়টা ভালো না, দেশ থেকে মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতি বঙ্গবন্ধুর অবদান এসব কিছুকে নির্বাসন দেওয়া হয়েছে। সেই দুঃসময়ে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের ছেলেমেয়েরা মিলে মুক্তিযুদ্ধের জন্য ভালোবাসাটুকু ধরে রাখার জন্য একটা সংগঠন করেছে। সেই বাচ্চা ছেলেমেয়েরা আমাকে ডেকেছে, আমি তাদের সাথে কথাবার্তা বলছি। হঠাৎ করে দেখি সেই বাচ্চা ছেলেমেয়েদের মাঝে একজন বড় মানুষ—খবর পেয়ে হাসান আজিজুল হক স্যার চলে এসেছেন। দেশের বাইরে ছিলাম বলে দেশের এই বড় বড় কবি, সাহিত্যিক শিল্পীদের সাথে আমার পরিচয় নেই, তার উপর সবাই ঢাকাকেন্দ্রিক শুধু স্যার রাজশাহী থাকেন! স্যারের সাথে পরিচয় হল, কথা হল। তারপর থেকে যতবার রাজশাহী গিয়েছি স্যারের সাথে একটিবার হলেও দেখা করে এসেছি, স্যার হাসিমুখে আমার যন্ত্রণা সহ্য করেছেন।

আমি সিলেটের শাহজালাল বিশ্ববিদ্যালয়ে, অভ্যাস অনুযায়ী মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে কথাবার্তা বলে জামায়াত শিবিরের চক্ষুশূল হয়ে আছি। দুইদিন পরে পরেই আমাকে নিয়ে ঝামেলা হয়, কখনো বাসায় বোমা পড়ে, কখনো ফাঁসির দাবি, কখনো আমার বিরোদ্ধে আন্দোলন—স্যার প্রতিবার রাজশাহী থেকে আমাকে ফোন করেন, সাহস দেন। আমার পাশে আছেন বলে আমিও ভরসা পাই, বাড়াবাড়ি করছি কিনা জানি না, কিন্তু ভুল করছি না সেই বিষয়টা বুঝতে পারি।

এই দেশে যারা থেকেছে, মুক্তিযুদ্ধের জন্য ভালোবাসাটুকু ধরে রাখার জন্য তাদের সবাইকেই কাজ করতে হয়েছে, সেজন্য ঝামেলাও কম হয়নি। কাজেই বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক হওয়ার পরও স্যারের পরিচয় শুধু অধ্যাপক নয়, বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রগতিশীল চেতনার একজন অভিভাবকও। এতো কিছুর পরেও স্যারের সবচেয়ে বড় পরিচয় হচ্ছে লেখক। আমি নিজে আমার ছেলেমানুষী লেখার চেষ্টা করি বলে আমি বুঝতে পারি আমরা কেন দায়সারা লেখক আর স্যার কেন সত্যিকারের লেখক—শুধু লেখক নয়, বড় লেখক! খুব বেশি লিখেননি কিন্তু যেটুকু লিখেছেন একেবারে খাটি সোনা। দেখে ভালো লাগে যে স্যারের লেখার জন্য দেশে এবং দেশের বাইরে তাঁকে ঠিকভাবে মূল্যায়ন করা হয়েছে।

বহুদিন আগে এলিস ওয়াকারের লেখা দি কালার পারপল’ নামে একটা উপন্যাস পড়েছিলাম (আমার ধারণা এই নামে তৈরি চলচ্চিত্রটি মূল বই থেকে বেশি পরিচিত)। যারা মূল বইটি পড়েছেন তারা জানেন এই বইয়ের ভাষা কিন্তু আমাদের পরিচিত ইংরেজি নয়, আমেরিকান কালো মানুষদের নিজস্ব এক ধরনের ভাষা। প্রথম এক দুই পৃষ্ঠা পড়লেই এই ভাষাটিতে অভ্যস্ত হয়ে যাওয়া যায়, তখন এই নূতন ভাষাটিকে রীতিমত মিষ্টি একটি ভাষা বলে মনে হতে থাকে। আমাদের বাংলা ভাষায় লেখা বইয়েও কেউ এক দুইটি সংলাপ নয় পুরো বইটি এভাবে লিখেছেন কিনা আমার সেটি নিয়ে কৌতূহল ছিল।

হাসান আজিজুল হক স্যারের আগুনপাখী বইটি পড়ে আমার সেই অতৃপ্তিটুকু প্রথমবার পূরণ হয়েছে। প্রমিত ভাষায় বই পড়ে পড়ে হঠাৎ করে একটা স্থানীয় আঞ্চলিক ভাষায় একটা মেয়ের জবানিতে পুরো বইটুকু পড়ে মনে হয় সামনে বুঝি একটা নূতন দিগন্ত খুলে গিয়েছে। বইয়ের ভাষা হচ্ছে মাত্র একটি দিক, বইটিতে সেই সময়ের এত নিখুঁত এবং এত মানবিক একটি ইতিহাস উঠে এসেছে যে তার তুলনা নেই।

বৃটিশ ঔপনিবেশ, দ্বিতীয় মহাযুদ্ধ, আমাদের দেশে যে ভয়াবহ অবস্থা তৈরি করেছিল তার একটা অসাধারণ বাস্তব ছবি এই বইয়ে পরম মমতায় তুলে ধরা হয়েছে সেটি না পড়া পযন্ত কেউ বুঝতে পারবে না। স্যারের সাথে যতবার দেখা হয়েছে প্রত্যেকবার সাধারণ কথাবার্তা হয়েছে কিন্তু আমার মনের গহীনে একজন সত্যিকার সাহিত্যিকের সাথে সাহিত্য নিয়ে কথা বলার একটা গোপন বাসনা ছিল। সেই বাসনাটুকু বাসনা হিসেবেই থেকে গেল।

হাসান আজিজুল হক স্যারের মেধাবী ছেলেটি আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষক হিসেবে যোগ দেওয়ার জন্য ইন্টারভিউ দিতে এসেছিল। সে যোগ্য প্রার্থী ছিল, এখন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক কিন্তু—সেই সময়টিতে হাসান আজিজুল হকের পুত্র হওয়ার অপরাধে এখানে নিয়োগ পায়নি, যদিও বিশ্ববিদ্যালয়ে তার মত একজনের খুবই প্রয়োজন ছিল। তখন তার সাথে পরিচয় হয়েছিল এবং তার কাছে স্যারের অনেক গল্প শুনেছি। তার কাছে জেনেছি স্যারের হাতের লেখা নাকি খুবই দুর্বোধ্য, যারা তাঁর হাতের লেখার সাথে পরিচিত নন তাদের কাছে মনে হবে স্যার বুঝি কলম দিয়ে কাগজে দাগ দিয়ে গিয়েছেন মাঝে মাঝে শুধু কলমটি একটু উপরে নিচে করেছেন! শুধু সে তার হাতের লেখা মর্মোদ্ধার করতে পারে!

আমি স্যারের হাতের লেখা দেখিনি, তাই কথাটুকু কতটুকু বাবাকে নিয়ে কৌতুক কতটুকু সত্যি কখনো যাচাই করে দেখতে পারিনি! হাতের লেখা যেরকমই হয়ে থাকুক সেই লেখা দিয়ে তিনি যে অসাধারণ লেখাগুলো লিখে গিয়েছেন তার জন্য আমরা সবসময়েই স্যারের প্রতি কৃতজ্ঞ থাকব। আমি জানি স্যার পরিণত বয়সে একটি পূর্ণাঙ্গ জীবন শেষে অসাধারণ কালজয়ী কিছু লেখা আমাদের উপহার দিয়ে, একটি বিশ্ববিদ্যালয়ে নিজেই একটি প্রতিষ্ঠান হিসেবে থেকে দেশের অসংখ্য মানুষের অভিভাবক হয়ে আত্মীয় পরিজন গুণগ্রাহীদের মাঝে থেকে বিদায় নিয়েছেন। আমাদের হয়তো দীর্ঘশ্বাস ফেলে এটা মেনেই নিতে হবে। কিন্তু যখন মনে হয় তিনি আর নেই তখনই মনে হয় এখন আমরা একা। একেবারেই একা।

লেখক : কথাসাহিত্যিক, সাবেক অধ্যাপক, শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়।


আরও খবর

প্রান্তজনের কথা বুঝতে চায় না শাসকচক্র

মঙ্গলবার ০৮ ফেব্রুয়ারী ২০২২

এই দুঃখ কোথায় রাখি?

বৃহস্পতিবার ২১ অক্টোবর 20২১




ক্যালিফোর্নিয়ায় গির্জায় বন্দুক হামলা, নিহত এক

প্রকাশিত:সোমবার ১৬ মে ২০২২ | হালনাগাদ:শুক্রবার ২০ মে ২০22 | ৪৫জন দেখেছেন
নিউজ পোস্ট ডেস্ক

Image

যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কে সুপারমার্কেটে হামলার একদিন পর এবার ক্যালিফোর্নিয়ার একটি গির্জায় বন্দুক হামলা হয়েছে। বন্দুকধারীর গুলিতে একজন নিহত এবং চারজন গুরুতর আহত হয়েছেন বলে সোমবার সিএনএনের এক প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে।

রোববার দুপুরে একটি অনুষ্ঠানের আয়োজনের সময় জেনেভা প্রেসবাইটেরিয়ান নামের গির্জাটিতে এ হামলা হয়। তার আগের দিন নিউইয়র্কের বাফেলো শহরে সুপারমার্কেটে বন্দুকধারীর হামলায় ১০ জন নিহত হন।

অরেঞ্জ কাউন্টির শেরিফের দপ্তর থেকে টুইট করে জানানো হয়েছে, গুলিবিদ্ধদের একজন ঘটনাস্থলেই মারা যান। আহতদের হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে। এ ঘটনায় সন্দেহভাজন একজনকে গ্রেপ্তারের কথা জানানো হলেও তার নাম প্রকাশ করা হয়নি। হামলা চালানোর পেছনে তার উদ্দেশ্য কী ছিল সে বিষয়ে কোনো ইঙ্গিত পাওয়া যায়নি। হামলার পর গির্জায় থাকা মানুষরাই তাকে আটক করে, তার কাছে থাকা দুটি হ্যান্ডগানও জব্দ করা হয়েছে। হামলার সময় গির্জাটিতে ৩০ থেকে ৪০ জন উপস্থিত ছিলেন।

ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম বলেন, আমরা ঘটনা পর্যবেক্ষণ করছি এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সঙ্গে কাজ করছি।


আরও খবর



হবিগঞ্জে ২ বাসের সংঘর্ষ, আহত ৩০

প্রকাশিত:বৃহস্পতিবার ০৫ মে ২০২২ | হালনাগাদ:বৃহস্পতিবার ১৯ মে ২০২২ | ৩৪জন দেখেছেন
নিউজ পোস্ট ডেস্ক

Image

ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের হবিগঞ্জের শায়েস্তাগঞ্জে দুই যাত্রীবাহী বাসের মুখোমুখি সংঘর্ষে অন্তত ৩০ জন আহত হয়েছেন। আহতদের উদ্ধার করে হবিগঞ্জ সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। তাদের মধ্যে কয়েক জনের অবস্থা আশঙ্কাজনক। বৃহস্পতিবার (৫ মে) দুপুরে শায়েস্তাগঞ্জের নুরপুর এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটেছে। খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিস ও পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধার কাজ শুরু করেছে।

স্থানীয়রা জানান, বৃহস্পতিবার দুপুরে মহাসড়কের নুরপুর এলাকায় মাধবপুর থেকে সিলেটগামী একটি যাত্রীবাহী বাসের সঙ্গে সিলেট থেকে কুমিল্লাগামী অন্য একটি যাত্রীবাহী বাসের মুখোমুখি সংঘর্ষ ঘটে। এসময় একটি বাস উল্টে খাদে পড়ে গেলে অন্তত ৩০ জন আহত হন।

শায়েস্তাগঞ্জ হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সালেহ আহমেদ বলেন, খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিস ও পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধারকাজ শুরু করেছে। গুরুতর আহত অবস্থায় ১৫ জনকে হবিগঞ্জ সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। বাকিদের প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে।

ওসি আরও জানান, সংঘর্ষে আহতদের মধ্যে বেশ কয়েকজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক। দুপুর সাড়ে ১২টায় এ প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত কেউ মারা যাননি।


আরও খবর



নাজিরপুরে বিষপান করে প্রেমিক যুগলের আত্মহত্যা

প্রকাশিত:শুক্রবার ২২ এপ্রিল 20২২ | হালনাগাদ:বুধবার ১৮ মে ২০২২ | ৭৭জন দেখেছেন
নিউজ পোস্ট ডেস্ক

Image

পিরোজপুরের নাজিরপুরে একসঙ্গে বিষপানে প্রেমিক যুগলের মৃত্যু হয়েছে। বৃহস্পতিবার (২১ এপ্রিল) দিনগত রাতে উপজেলার কলারদোয়ানিয়া ইউনিয়নের উত্তর কলারদোয়ানিয়া গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।

মৃত মোসা. মারিয়া খানম (১৮) ওই গ্রামের মো. রফিকুল ইসলামের মেয়ে ও মুগারঝোর দাখিল মাদরাসার দশম শ্রেণির ছাত্রী, ইয়াছিন তালুকদার (১৯) নেছারবাদ উপজেলার বলদিয়া ইউনিয়নের উলিবুনিয়া গ্রামের মো. হাফিজ তালুকদারের ছেলে।

স্থানীয় একাধিক ব্যক্তি জানান, মারিয়ার বাবা বাড়িতে থাকেন না। মা শামীমা নাছরিন মেয়ের প্রেমের বাধা হয়ে দাঁড়ান। এ নিয়ে গত বৃহস্পতিবার সন্ধ্যার দিকে ডেকে নিয়ে মেয়েকে গালমন্দ করেন। এর জের ধরে দুজনই একসঙ্গে বিষপান করে।

মারিয়া খানমের মা শামীমা নাছরিন বলেন, আমার মেয়ে রাতের খাবার খেয়ে ১০টার দিকে তার কক্ষে ঘুমাতে যায়। রাত ২টার দিকে বাড়ির সামনের কবর স্থান থেকে বাঁচাও বাঁচাও বলে ডাক চিৎকার পাই। পরে সেখানে গিয়ে মারিয়া ও ইয়াছিনকে অচেতন অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখি। পরে স্থানীয়রা তাদের উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যায়।

উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের কর্তব্যরত চিকিৎসক ডাক্তার অসিত মিস্ত্রী বলেন, মারিয়াকে মৃত্যু অবস্থায় হাসপাতালে নিয়ে আসা হয়। আর আজ ভোরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ইয়াছিনের মৃত্যু হয়।

এ বিষয়ে নাজিরপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. হুমায়ুন কবির বলেন, বিষপানে দুজনের মৃত্যুর ঘটনা নিয়ে তাদের পরিবারের কেউ মুখ খুলছে না। তাদের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। ময়নাতদন্তের পর বিস্তারিত জানা যাবে।


আরও খবর



স্বাস্থ্যবিধি মেনে ঈদ উৎসব পালন করুন : রাষ্ট্রপতি

প্রকাশিত:মঙ্গলবার ০৩ মে ২০২২ | হালনাগাদ:বৃহস্পতিবার ১৯ মে ২০২২ | ৭২জন দেখেছেন
নিউজ পোস্ট ডেস্ক

Image

রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদ দেশকে করোনামুক্ত রাখতে দেশবাসীকে স্বাস্থ্যবিধি মেনে ঈদ উৎসব পালনের আহ্বান জানিয়েছেন।

আজ ঈদের নামাজ আদায় করার পর বঙ্গভবনের ক্রিডেনশিয়াল হলে মিডিয়ার মাধ্যমে দেশবাসীর প্রতি ঈদের ফিতরের শুভেচ্ছা জানানোর সময় এ কথা বলেন তিনি।

রাষ্ট্রপতি বলেন, আমাদের একটা কথা মনে রাখতে হবে, করোনা মহামারি নিয়ন্ত্রণে থাকলেও করোনা ভাইরাস পুরোপুরি শেষ হয়ে যায় নি। বিশ্বের বিভিন্ন দেশে করোনার সংক্রমণ আবারও বৃদ্ধি পাচ্ছে।

রাষ্ট্র প্রধান তাই চলাফেরা ও জীবনাচারে সাবধানতা অবলম্বন না করলে যে কোনো সময় করোনা পরিস্থিতি খারাপ হয়ে যেতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেন।

রাষ্ট্রপতি হামিদ বলেন, সবাইকে খুশি করতে গিয়ে যেন আমরা বিপদ ডেকে না আনি।

তিনি উল্লেখ করেন করোনা মাহামারির কারণে গত দুই বছর ঈদসহ কোনো সম্প্রদায়ের কোনো ধর্মীয় উৎসবই প্রত্যাশিত আনন্দঘন পরিবেশে উদযাপন ও উপভোগ করা যায়নি।

রাষ্ট্রপতি বলেন, বর্তমানে করোনা পরিস্থিতি অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে, তাই এবার মানুষের মধ্যে বাঁধ ভাঙা আনন্দ উপভোগের প্রবণতা দেখা দিবে-এটাই স্বাভাবিক।

তিনি দেশবাসীকে ধনী-গরীব নির্বিশেষে ঈদের আনন্দ সকলের সঙ্গে ভাগাভাগি করে উপভোগেরও আহ্বান জানান।

বর্তমান সরকার দেশের প্রতিটি নাগরিকের মুখে হাসি ফোটাতে নিরন্তর প্রয়াস চালিয়ে যাচ্ছেন উল্লেখ করে তিনি বলেন, ঈদুল ফিতরের আগে ৩২ হাজার ৯০৪টি ভূমিহীন ও গৃহহীন পরিবারকে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার উপহার হিসেবে বাড়ি দেয়া হয়েছে।

রাষ্ট্র প্রধান আরও বলেন, ক্ষুধা, দারিদ্র্যমুক্ত ও সুখী-সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ার মাধ্যমে সবার মুখে হাসি ফোটানোই হোক এবারের ঈদ-উল-ফিতরে সবার অঙ্গীকার।


আরও খবর



ডেল্টা প্ল্যান বাস্তবায়নে এডিবির সহযোগিতা চাইলেন প্রধানমন্ত্রী

প্রকাশিত:সোমবার ০৯ মে ২০২২ | হালনাগাদ:বৃহস্পতিবার ১৯ মে ২০২২ | ৪৭জন দেখেছেন
নিউজ পোস্ট ডেস্ক

Image

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ডেল্টা প্ল্যান-২১০০ বাস্তবায়নে এশীয় উন্নয়ন ব্যাংকের (এডিবি) সহায়তা চেয়ে বলেছেন, এটি বাংলাদেশের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

সোমবার (৯ মে) সকালে প্রধানমন্ত্রীর সরকারি বাসভবন গণভবনে এডিবির ভাইস প্রেসিডেন্ট (অপারেশনস-১) শিঝিন চেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎকালে তিনি এ অনুরোধ জানান। বৈঠক শেষে প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব ইহসানুল করিম সাংবাদিকদের এ বিষয়ে ব্রিফ করেন।

বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী বিশেষ করে যোগাযোগ, বাণিজ্য ও জ্বালানিখাতে আঞ্চলিক সহযোগিতা বৃদ্ধির জন্য এডিবির সহায়তা কামনা করেন।

এডিবির ভাইস প্রেসিডেন্ট বাংলাদেশের উন্নয়ন প্রচেষ্টায় পাশে থাকার আশ্বাস দেন।

শিঝিন চেন বলেন, বাংলাদেশের সাথে আমাদের দৃঢ় সম্পর্ক রয়েছে এবং এডিবি বাংলাদেশের পাশে থাকবে। এ দেশের গ্রামীণ ও নগর উন্নয়নের ক্ষেত্রে সহায়তা অব্যাহত রাখবে।

এডিবির ভাইস প্রেসিডেন্ট কোভিড-১৯ মহামারির মধ্যে ও বাংলাদেশের অর্থনীতির চাকা সচল রাখায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার গতিশীল নেতৃত্বের প্রশংসা করেন।

তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দূরদর্শী নেতৃত্বের কারণে বাংলাদেশ কোভিড-১৯ মহামারির মধ্যে দেশের অর্থনীতির চাকা সচল রেখেছেন।

শিঝিন আরও বলেন, এডিবি আশা করছে বাংলাদেশ জিডিপিতে ৭ শতাংশ প্রবৃদ্ধি অর্জন করতে সক্ষম হবে।

শিঝিন চেন বাংলাদেশের সামগ্রিক উন্নয়নের প্রশংসা করে বলেন, বাংলাদেশ এখন একটি ক্রান্তিকাল অতিক্রম করছে (উন্নয়নশীল দেশ হিসেবে স্নাতক হওয়ার কারণে) যা সাধারণত একটু জটিল। কিন্তু বাংলাদেশ ভালো করছে।


আরও খবর