Logo
শিরোনাম

বাংলাদেশ নিয়ে ষড়যন্ত্রকারী ডেভিড বার্গম্যান সম্পর্কে যা জানা জরুরি

প্রকাশিত:মঙ্গলবার ০২ ফেব্রুয়ারী 2০২1 | হালনাগাদ:বৃহস্পতিবার ২৮ অক্টোবর ২০২১ | ২৩৪৫জন দেখেছেন
নিউজ পোস্ট ডেস্ক

Image

ডেভিড বার্গম্যান হলো সেই লোক, যিনি প্রতিহিংসার বর্শবর্তী হয়ে সাংবাদিকতা করেন এবং বাংলাদেশের বর্তমান সরকারের বিরুদ্ধে বিষোদগার করাই যার মূল লক্ষ্য। বার্গম্যান মূলত নিজেকে পরিচয় দেন একজন ব্রিটিশ সাংবাদিক হিসেবে, যিনি অনেক বছর বাংলাদেশ অবস্থান করেছেন এবং একটা বিশেষ শ্রেণির এজেন্ট হিসেবে কাজ করেছেন। বাংলাদেশের যুদ্ধপরাধীদের বিচার নিয়ে নিজের ব্লগে লেখালেখি করে তিনি আলোচনায় এসেছিলেন। ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধের সময় গণহত্যার দায়ে অভিযুক্তদের বিচার শুরু হলে তা নিয়ে নেতিবাচক লেখালেখি করেন বার্গম্যান। তার লেখার মূল উদ্দেশ্য ছিল এই বিচারপ্রক্রিয়াকে প্রশ্নবিদ্ধ করা। অধিকাংশ লেখাতেই তিনি শুধু সেইসব মানবতাবিরোধী অপরাধের সঙ্গে যুক্তদের বিচারের প্রক্রিয়া নিয়ে প্রশ্ন তোলার চেষ্টা করেছেন, যারা বিএনপি এবং জামায়াতের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত। আর এটা সবাই জানে যে, মুক্তিযুদ্ধের সময় জামায়াত ছিল পাকিস্তানি সেনাবাহিনীর প্রধান সহযোগী, যাদের সহযোগিতায় পাকিস্তানিরা এদেশে গণহত্যাসহ বিভিন্ন মানবতাবিরোধী অপরাধ সংঘটিত করেছে।

এদের বিচারের জন্য আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল গঠনের পর থেকেই লেখালেখি শুরু করেন বার্গম্যান এবং  ২০১৬ সালের ৪ অক্টোবর তিনি এবিষয়ে সর্বশেষ লেখা লিখেছেন। এই বিচার প্রক্রিয়া কিন্তু এখনো চলছে। তবে বার্গম্যান আগে যেমন সক্রিয়ভাবে বিচারপ্রক্রিয়াকে প্রশ্নবিদ্ধ করার জন্য লিখতেন, এখন আর এখন লিখছেন না। কিন্তু কেনো? তার এতো আগ্রহ-উদ্যম হঠাৎ থেমে গেলো কেনো? কারণটা পরিষ্কার। গণহত্যা ও মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে অভিযুক্ত বিএনপি ও জামায়াতের যেসব নেতা অভিযুক্ত ছিল, তাদের বিচারপ্রক্রিয়া শেষ হয়েছে। তাই এরপর থেকে তিনি আর এই বিষয়ে সক্রিয় নন। এতেই বোঝা যায় যে, তিনি এই মুক্ত-সাংবাদিকতার ছদ্মবেশে আসলে নেতিবাচক প্রচারণা চালিয়েছেন এবং এজন্য তিনি বিশেষভাবে নিয়োগপ্রাপ্ত ছিলেন।

কেনো বাংলাদেশ নিয়ে বার্গম্যানের এতো আগ্রহ?

নিজের লেখা এক ব্লগে বার্গম্যান এটাও দাবি করেছেন যে, বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধে আসলে ত্রিশ লাখ মানুষ মারা যায়নি। তার দাবি, এই মৃত্যুর সংখ্যা ছিল মাত্র তিন লাখ! কিন্তু প্রকৃতপক্ষে বার্গম্যানের এই দাবির তুলনায় হত্যার শিকার হওয়া ব্যক্তির সংখ্যা ছিল দশ গুণ। এটা উল্লেখ করা প্রয়োজন যে, যুদ্ধের পর থেকেই স্বাধীনতাবিরোধী চক্রটি যুদ্ধে মৃতের সংখ্যা নিয়ে বিতর্ক সৃষ্টির চেষ্টা করেছে। এই চক্রটি নিজেদের ঘৃণ অপরাধ ঢাকার জন্য শুরু থেকেই সুপরিকল্পিতভাবে নিহতের কমিয়ে বলার চেষ্টা করে আসছে। ডেভিড বার্গম্যান তাদের হয়ে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশ এবং সরকারকে বিব্রত করার চেষ্টা করেছে। এমনকি বিচারাধীন বিষয়ে উস্কানি ছড়ানোর দায়ে একপর্যায়ে আদালত তাকে দোষী সাব্যস্ত করে এবং ইতিহাস বিকৃতির দায়ে ২০১৪ সালে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ তাকে অভিযুক্ত করে।

সোজা কথায়, আমরা যদি এই স্বঘোষিত অনুসন্ধানী সাংবাদিক বার্গম্যানকে চিহ্নিত করতে চাই, তাহলে তাকে একজন ফড়িয়া বা দালাল ছাড়া আর কোনো উপায় নাই। শুনতে বেখাপ্পা লাগলেও এটিই সত্য। নির্মম বাস্তব এটাই যে, বার্গম্যান মোটা অঙ্কের অর্থের বিনিয়ম একটি বিশেষ শ্রেণির এজেন্ট হিসেবে কাজ করেন।

বার্গম্যান নিজের ব্লগ ছাড়াও বিডি পলিটিকো নামে আরো একটি ব্লগ পরিচালনা করেন, যেখানে তিনি বিভিন্ন পক্ষের ফুটফরমায়েস হিসেবেই আর্টিকেল লেখেন। এই ব্লগে তার লেখার অন্যতম বিষয়গুলো হলো: বাংলাদেশর প্রধানমন্ত্রী ও তার পরিবারকে আক্রমণ করা, এবং দেশের নিরাপত্তা ও গোয়েন্দা বাহিনীকে নিয়েও বিভ্রান্তি ছড়ানো।

বার্গম্যানের পরিচয় এবং কর্মজীবন আসলে কেমন?

এই তথাকথিত সাংবাদিক নিজেকে নিরপেক্ষ দাবি করলেও তার ব্যক্তি ও পারিবারিক পরিচয় সম্পর্কে জানা প্রাসঙ্গিক। তিনি ড. কামাল হোসেনের জামাতা। আর এই ড. কামাল হলেন বাংলাদেশের বিরোধীদলীয় জোট বিএনপি-জামায়াতের প্রধান সমন্বয়ক। এই কারণেই বিএনপি-জামায়াতের রাজনীতিতে যুক্ত এবং মানবতাবিরোধী অপরাধে অভিযুক্তদের পক্ষ নিয়ে দীর্ঘ সময় লেখালেখি করে বিভ্রান্তি ছড়িয়েছেন বার্গম্যান। যুদ্ধাপরাধীদের বিচার নিয়ে আক্রমণাত্মক প্রচারণার জন্য আন্তর্জাতিকভাবে লবিংয়ের জন্য মোটা অঙ্কের টাকা খরচ করা হয়েছে, বিশেষ করে ওয়াশিংটন ও লন্ডনে, এসবের সঙ্গেও তিনি জড়িত। উদাহরণ হিসেবে বলা যায়, একজন অভিযুক্ত যে পরবর্তীতে দণ্ডিত হয়েছে, সে নিজেকে বাঁচানোর জন্য আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে ম্যানেজ করতেই ২৫ মিলিয়ন ডলার খরচ করেছে। এই বার্গম্যানের রাজনৈতিক যোগাযোগ এতোটাই ঘনিষ্ঠ যে তা চাইলেও অস্বীকার করার উপায় নাই। এমনকি লন্ডনের বাংলাদেশ হাইকমিশনের সামনে বিএনপি-জামায়াতের কর্মীদের সঙ্গেও তাকে আন্দোলন করতে দেখা গেছে।

বিভিন্ন গণমাধ্যম সূত্রে জানা যায়, বাংলাদেশে থাকা অবস্থায় অপেশাদার ও উদ্ধত আচরণের জন্য দ্য নিউ এজ পত্রিকা এবং বিডি নিউজ টোয়েন্টিফোর ডট কম থেকে চাকরি ছাড়তে হয়েছে ডেভিড বার্গম্যানকে। তার বিরুদ্ধে সাংবাদিকতার নিয়মনীতির তোয়াক্কা না করার অভিযোগ ছিল। এবং এই কারণেই মূলধারার গণমাধ্যমে অযোগ্য হয়ে পড়েন তিনি। এরপর বিদেশে অবস্থান করা কিছু নামধারী সাংবাদিকের সঙ্গে সখ্যতা গড়ে তোলেন। এরপর একটি নেত্র নিউজ নামে আরেকটি নিউটসাইটে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী ও তার পরিবার এবং নিরাপত্তা বাহিনী নিয়ে অপপ্রচার শুরু করেন।

কী চায় বার্গম্যানরা?

বার্গম্যান বিদেশে থাকা বাংলাদেশের কিছু ব্যক্তির সঙ্গে সখ্যতা গড়ে তোলেন এবং বিএনপি-জামায়াতের আরো ঘনিষ্ঠ মিত্র হিসেবে কাজ চালাচ্ছেন। এরই অংশ হিসেবে তিনি নিয়মিত বানোয়াট সংবাদ তৈরি করে বাংলাদেশের বর্তমান সরকার এবং প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে নিয়ে আন্তর্জাতিকভাবে অপপ্রচার চালান। সম্প্রতি এই চক্রটি ফেসবুক এবং ইউটিউবেও লাইভ বক্তব্য দিয়ে এবং ভুয়া সংবাদ ছড়িয়ে প্রোপাগান্ডা ছড়াচ্ছে। মানুষের আরো কাছে পৌঁছার জন্য এদের প্রচেষ্টা তীব্র থেকে তীব্রতর হচ্ছে। ডেভিড বার্গম্যান, ক্যাডম্যান, লা কার্লিলি, ড. ঘুমডি, দ্য গার্ডিয়ান, নিউ ইয়র্ক টাইমস, দ্য ওয়্যারসহ আরো বেশকিছু প্লাটফর্ম তাদের পক্ষে কাজ করছে। এই চক্রের মূল লক্ষ্য হচ্ছে- তাদের অর্থের জোগানদাতা বিএনপি-জামায়াতের দুর্নীতি ও দুর্বত্তায়নের ঘৃণ্য ভাবমূর্তি উদ্ধারের স্বার্থে কাজ করা।

তারেক-এসকে সিনহা-ড. কামালকে একত্র করা হয় যেভাবে

অর্থ পাচার এবং রাজনৈতিক প্রতিপক্ষকে খুনের জন্য সন্ত্রাসীদের মদত দেওয়ার অভিযোগে অভিযুক্ত বিএনপির তারেক রহমান এই ডেভিড বার্গম্যানের সহায়তায় ড. কামালের সঙ্গে সরকারবিরোধী জোট গড়ে তোলেন। ড. কামাল হোসেনের জামাতা বার্গম্যান মূলত সরকারবিরোধীদের এক প্লাটফর্মে আনার জন্য মধ্যস্থতাকারী হিসেবে কাজ করেছে। দুর্নীতির অভিযোগে অভিযুক্ত যে সাবেক প্রধান বিচারপতি এসকে সিনহার বিরুদ্ধে এখন তদন্ত চলছে, সেই সিনহা যুক্তরাষ্ট্রে বসে এখন তারেক রহমান এবং ড. কামালদের সঙ্গে হাত মিলিয়েছেন এবং অসাংবিধানিকভাবে সরকার পরিবর্তনের জন্য বিএনপি-জামায়াত জোটের হয়ে কাজ করেছে। ডেভিড বার্গম্যানই ড. কামাল-তারেক রহমান-এস কে সিনহার মধ্যে এই সংযোগ তৈরি করে। কিন্তু এই ত্রয়ীর বিভিন্ন অপচেষ্টা ব্যর্থ হওয়ার পর, এখন তারা ভিন্ন আঙ্গিকে বিভিন্ন পাবলিক প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করে, দেশের প্রধানমন্ত্রী, তার পরিবার ও নিরাপত্তা বাহিনীকে নিয়ে মিথ্যা-বানোয়াট গুজব ছড়াচ্ছে।


আরও খবর

এই দুঃখ কোথায় রাখি?

বৃহস্পতিবার ২১ অক্টোবর 20২১




আগামীকাল এসকে সিনহাসহ ১১ জনের মামলার রায়

প্রকাশিত:বুধবার ২০ অক্টোবর ২০21 | হালনাগাদ:বুধবার ২৭ অক্টোবর ২০২১ | ৭৪জন দেখেছেন
নিউজ পোস্ট ডেস্ক

Image
মামলার পলাতক আসামিরা হলেন- এস কে সিনহা, ফার্স্ট ভাইস প্রেসিডেন্ট সাফিউদ্দিন আসকারী, টাঙ্গাইলের বাসিন্দা রনজিৎ চন্দ্র সাহা ও তার স্ত্রী

সাবেক প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার (এস কে) সিনহাসহ ১১ জনের বিরুদ্ধে দায়ের করা অর্থ আত্মসাতের মামলার রায় ঘোষণা আগামীকাল (বৃহস্পতিবার)। ঢাকার বিশেষ জজ আদালত-৪ এর বিচারক শেখ নাজমুল আলমের আদালতে এ রায় ঘোষণা অনুষ্ঠিত হবে।

দুদকের পাবলিক প্রসিকিউটর মীর আহমেদ আলী সালাম এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

এর আগে গত ৫ অক্টোবর রায় ঘোষণার দিন ধার্য ছিল। কিন্তু বিচার অসুস্থ থাকায় তারিখ পিছিয়ে পরবর্তী রায় ঘোষণার জন্য ২১ অক্টোবর (বৃহস্পতিবার) দিন ধার্য করা হয়।

এসকে সিনহা ছাড়া মামলার অন্য আসামিরা হলেন, ফারমার্স ব্যাংকের (বর্তমান পদ্মা ব্যাংক) সাবেক এমডি এ কে এম শামীম, সাবেক এসইভিপি গাজী সালাহউদ্দিন, ফার্স্ট ভাইস প্রেসিডেন্ট স্বপন কুমার রায়, সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট মো. জিয়াউদ্দিন আহমেদ, ফার্স্ট ভাইস প্রেসিডেন্ট সাফিউদ্দিন আসকারী, ভাইস প্রেসিডেন্ট মো. লুৎফুল হক, টাঙ্গাইলের বাসিন্দা মো. শাহজাহান, একই এলাকার বাসিন্দা নিরঞ্জন চন্দ্র সাহা, রনজিৎ চন্দ্র সাহা ও তার স্ত্রী সান্ত্রী রায়।

মামলার এজাহারভুক্ত আসামি মো. জিয়াউদ্দিন আহমেদ তদন্তের সময় মারা যাওয়ায় তাকে মামলা থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। এ মামলার পলাতক আসামিরা হলেন- এস কে সিনহা, ফার্স্ট ভাইস প্রেসিডেন্ট সাফিউদ্দিন আসকারী, টাঙ্গাইলের বাসিন্দা রনজিৎ চন্দ্র সাহা ও তার স্ত্রী।

ফারমার্স ব্যাংক থেকে চার কোটি টাকা ব্যক্তিগত ব্যাংক অ্যাকাউন্টে স্থানান্তর ও আত্মসাৎ করার অভিযোগে ২০১৯ সালের ১০ জুলাই দুদকের পরিচালক সৈয়দ ইকবাল হোসেন বাদী হয়ে কমিশনের জেলা সমন্বিত কার্যালয় ঢাকা-১ এ এসকে সিনহাসহ ১১ জনের বিরুদ্ধে মামলা করেন।

একই বছরের ডিসেম্বরে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা দুদক পরিচালক বেনজীর আহমেদ চার্জশিট দেন। ২০২০ সালের ৫ জানুয়ারি ঢাকা মহানগর সিনিয়র স্পেশাল জজ কেএম ইমরুল কায়েশ চার্জশিট গ্রহণ করেন। ২০২০ সালের ১৩ আগস্ট আদালত অভিযোগ গঠন করেন।

মামলার এজাহারে বলা হয়, আসামিরা প্রতারণার আশ্রয় নিয়ে ফারমার্স ব্যাংকের গুলশান শাখা থেকে অস্বাভাবিক দ্রুততার’ সঙ্গে চার কোটি টাকা ভুয়া ঋণ তৈরি করে তা একইদিনে পে-অর্ডারের মাধ্যমে আসামি এস কে সিনহার ব্যক্তিগত হিসাবে স্থানান্তর করেন। পরে এস কে সিনহা নগদ, চেক ও পে-অর্ডারের মাধ্যমে অন্য অ্যাকাউন্টে টাকা সরিয়ে অর্থ আত্মসাৎ করেন, যা দুর্নীতি প্রতিরোধ আইন ও মানি লন্ডারিং প্রতিরোধ আইন অনুযায়ী শাস্তিযোগ্য অপরাধ।

নিউজ ট্যাগ: এস কে সিনহা

আরও খবর



পীরগঞ্জের মাঝিপাড়ায় দুর্বৃত্তদের হামলা-আগুন, আটক ৪২

প্রকাশিত:সোমবার ১৮ অক্টোবর ২০২১ | হালনাগাদ:বৃহস্পতিবার ২৮ অক্টোবর ২০২১ | ৭১জন দেখেছেন
নিউজ পোস্ট ডেস্ক

Image

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ধর্ম অবমাননার অভিযোগ তুলে রংপুরের পীরগঞ্জের মাঝিপাড়ার জেলেপল্লীতে হামলা চালিয়েছে দুর্বৃত্তরা। এসময় আগুনে পুড়েছে ২০টির বেশি ঘর। ভাঙচুর চালানো হয়েছে বেশ কয়েকটিতে। লুট করা হয়েছে নগদ টাকা, স্বর্ণালংকারসহ গবাদি পশু। এ ঘটনার ৪২ জন আটকের কথা জানিয়েছে পুলিশ।

রোববার (১৭ অক্টোবর) রাতে পীরগঞ্জ উপজেলার ১৩ নম্বর রামনাথপুর ইউনিয়নের বড় করিমপুর মাঝিপাড়া এলাকায় এ ঘটনা ঘটে বলে জানায় পুলিশ।

রংপুর জেলার সহকারী পুলিশ সুপার মো. কামরুজ্জামান বলেন, স্থানীয় এক কিশোরের বিরুদ্ধে ফেসবুকে ধর্মীয় অবমাননার অভিযোগের পর রোববার এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। পুলিশ তার বাড়ির নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পারলেও দূরে ১৮-২০টির বেশি বাড়িঘরে আগুন ও ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে। তবে এখন পরিস্থিতি পুলিশের নিয়ন্ত্রণে। এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন রয়েছে।

পীরগঞ্জ ফায়ার সার্ভিসের স্টেশন অফিসার রতন চন্দ্র শর্মা বলেন, খবর পেয়ে রংপুর, মিঠাপুকর ও পীরগঞ্জের চারটি ইউনিট রাত পৌনে ৯টার দিকে ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করে। তবে একপাশে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে না আনতেই অন্যদিকে আগুন দেয় দুর্বৃত্তরা।

পীরগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সরেষ চন্দ্র বলেন, আগুন দেওয়ার ঘটনায় এখন পর্যন্ত ৪২ জনকে আটক করা হয়েছে। তবে এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত কোনো মামলা হয়নি। তবে মামলার বিষয়টি প্রক্রিয়াধীন।

নিউজ ট্যাগ: পীরগঞ্জ রংপুর

আরও খবর



হাইকোর্টে জামিন আবেদন হেলেনা জাহাঙ্গীরের

প্রকাশিত:সোমবার ১১ অক্টোবর ২০২১ | হালনাগাদ:বুধবার ২৭ অক্টোবর ২০২১ | ৮২জন দেখেছেন
নিউজ পোস্ট ডেস্ক

Image

ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের মামলায় জামিন চেয়ে হাইকোর্টে আবেদন করেছেন আওয়ামী লীগ থেকে অব্যাহতি পাওয়া হেলেনা জাহাঙ্গীর। সোমবার তার আইনজীবী সৈয়দ ফজলে ইলাহী জামিন আবেদন করার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

তিনি বলেন, হেলেনা জাহাঙ্গীর অন্য সব মামলায় নিম্ন আদালত থেকে জামিন পেয়েছেন। এখন ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের মামলায় জামিন পেলে তিনি মুক্তি পাবেন। এ কারণে এ মামলায় জামিন চেয়ে গত সপ্তাহে হাইকোর্টে আবেদন করেছি। মঙ্গলবার আবেদনটি বিচারপতি মো. রেজাউল হক ও বিচারপতি মো. বদরুজ্জামানের হাইকোর্ট বেঞ্চে শুনানি হতে পারে।

গত ৩০ জুলাই গুলশান থানায় হেলেনা জাহাঙ্গীরের বিরুদ্ধে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে মামলা হয়। এছাড়া গুলশান থানায় মাদক, বিশেষ ক্ষমতা, মিরপুর থানায় প্রতারণা মামলা এবং পল্লবী থানার টেলিযোগাযোগ আইনে মামলাও হয় তার বিরুদ্ধে।

২৯ জুলাই রাত ৮টার দিকে গুলশান-২ এ হেলেনা জাহাঙ্গীরের বাসায় অভিযান চালায় র‌্যাব। দীর্ঘ চার ঘণ্টা অভিযান শেষে রাত ১২টার দিকে তাকে আটক করা হয়। পরে র‌্যাব সদরদফতরে নিয়ে যাওয়া হয়। হেলেনা জাহাঙ্গীরকে আটকের পর তার প্রতিষ্ঠান জয়যাত্রা টেলিভিশন কার্যালয়েও অভিযান চালায় র‌্যাব। ওই অভিযানের পর র‌্যাব জানায় জয়যাত্রা টেলিভিশন কোনো ধরনের বৈধ কাগজপত্র ছাড়া চলত। হেলেনা জাহাঙ্গীর তার জয়যাত্রা টেলিভিশনের জন্য সারাদেশে প্রতিনিধি নিয়োগ করেছিলেন। প্রবাসী প্রতিনিধি নিয়োগের নামে তিনি অর্থ হাতিয়ে নিয়েছেন।

ডিজিটাল প্লাটফর্ম ব্যবহার করে মিথ্যাচার, অপপ্রচার ও বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়িয়ে রাষ্ট্রীয় গুরুত্বপূর্ণ সংস্থা ও ব্যক্তিদের সম্মানহানি করার অপচেষ্টার অভিযোগে হেলেনা জাহাঙ্গীরকে গ্রেফতার দেখানো হয় ৩০ জুলাই।


আরও খবর



ফেসবুকে বিজ্ঞাপন দিয়ে কিডনি-লিভার বিক্রি করে পাচার চক্র

প্রকাশিত:মঙ্গলবার ১২ অক্টোবর ২০২১ | হালনাগাদ:বৃহস্পতিবার ২৮ অক্টোবর ২০২১ | ৮০জন দেখেছেন
নিউজ পোস্ট ডেস্ক

Image

ফেসবুকে বিজ্ঞাপন দিয়ে বিক্রি হয় কিডনি-লিভার। তিন ভাগে বিভক্ত হয়ে কিডনি ও লিভার নিয়ে প্রতারণা করে আসছে একটি চক্র। আর এই চক্রের অন‌্যতম কয়েকজন সদস‌্যকে গ্রেপ্তার করে চাঞ্চল‌্যকর তথ‌্য দিয়েছে র‌্যাব।

মঙ্গলবার (১২ অক্টোবর) দুপুরে রাজধানীর কারওয়ান বাজারে র‌্যাবের মিডিয়া সেন্টারে এ বিষয়ে এক সংবাদ সম্মেলন করা হয়। সংবাদ সম্মেলন বিস্তারিত তথ‌্য জানান র‌্যাবের আইন ও গণমাধ্যম শাখার পরিচালক কমান্ডার খন্দকার আল মঈন।

তিনি জানান, কিডনি-লিভার নিয়ে এই চক্রের প্রধান মো. শাহরিয়ার ইমরান। তিনি মূলত সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে কিডনি ও লিভার দেওয়ার বিজ্ঞাপন দিয়ে আকৃষ্ট করে ডোনার খুঁজতে থাকেন। 

খন্দকার আল মঈন বলেন, র‌্যাবের সাইবার ক্রাইমের ইউনিট সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম অনুসরণ করে ক্রয়-বিক্রয় সিন্ডিকেটের অন্যতম সদস‌্য মো. শাহরিয়ার ইমরান আহম্মেদ, মো. মেহেদী হাসান, মো. সাইফুল ইসলাম, মো. আব্দুল মান্নান, মো. তাজুল ইসলাম ওরফে তাজুকে গ্রেপ্তার করে। এ সময় তাদের কাছ থেকে চারটি পাসপোর্ট এবং ভিসা সম্পর্কিত বেশকিছু কাগজপত্র ও দেশি-বিদেশি মুদ্রা জব্দ করা হয়।’

র‌্যাব কর্মকর্তা বলেন, এই চক্রের মোট সদস্য ১৫-২০ জন। তারা তিনটি ভাগে বিভক্ত হয়ে অবৈধ  কিডনি ক্রয়-বিক্রয়ের সম্পূর্ণ কার্যক্রম সম্পন্ন করে থাকে।

চক্রের প্রথম গ্রুপ ঢাকায় অবস্থান করে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে কিডনি ট্রান্সপ্লান্টেশন প্রয়োজন এমন বিত্তশালী রোগীদের সঙ্গে যোগাযোগ করে। দ্বিতীয় দলটি প্রথম দলের চাহিদা মোতাবেক দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলের গরিব ও অভাবী মানুষদের চিহ্নিত করে এবং তাদের অর্থনৈতিক দুর্বলতার সুযোগ নিয়ে অর্থের বিনিময়ে কিডনি ট্রান্সপ্লান্টেশনের জন্য ডোনার হতে প্রলুব্ধ করে ঢাকায় নিয়ে আসে। পরবর্তীতে তৃতীয় দলটি প্রলোভনের শিকার ভুক্তভোগী কিডনি ডোনারদের ঢাকায় বিভিন্ন ডায়াগনস্টিক সেন্টারে কিডনি ট্রান্সপ্লান্টেশন রোগীর সঙ্গে ব্লাড ম্যাচিং এবং অন্যান্য পরীক্ষা নিরিক্ষা সম্পন্ন করে।  ব্লাড ম্যাচিং এবং অন্যান্য ডায়াগনস্টিক টেস্টে কিডনি ট্রান্সপ্লান্টেশনের উপযুক্ততা নিশ্চিত হলে তার পাসপোর্ট, ভিসা প্রসেসিং এবং ভূয়া কাগজপত্র তৈরির মাধ্যমে ভূক্তভোগী ডোনারকে পার্শ্ববর্তী দেশে পাঠানোর জন্য প্রস্তুত করে। চক্রের সঙ্গে পার্শ্ববর্তী দেশে অবস্থানকারী আরেকটি চক্র পারস্পরিক যোগসাজশে ভূক্তভোগী কিডনি ডোনারকে বিদেশের এয়ারপোর্ট অথবা স্থলবন্দরে রিসিভ করা থেকে শুরু করে হাসপাতালের ডকুমেন্টেশন, অস্ত্রোপচারসহ যাবতীয় কার্যক্রম শেষে বৈধ বা অবৈধ উপায়ে বিমান বা উত্তর পূর্বাঞ্চলের সীমান্ত এলাকার মাধ্যমে দেশে ফেরত পাঠায়।’

তিনি আরও বলেন, এই চক্র বিপুল পরিমাণ অর্থ অবৈধ উপায়ে হাতিয়ে নিয়েছে।  প্রতিটি কিডনি প্রতিস্থাপনের জন্য তারা রোগীদের কাছ থেকে ১৫ থেকে ২০ লাখ টাকা নিতো। বিপরীতে তারা কিডনি ডোনারকে ৩ থেকে ৪ লাখ টাকা দেওয়া হবে বলে আশ্বস্ত করে এবং অগ্রীম ২ লাখ টাকা দেয়। কিডনি ট্রান্সপ্লান্টেশনের পর কিডনি দাতাদের পুরো অর্থ না দিয়ে নানাভাবে ভয়ভীতি দেখাতো। চক্রের প্রধান ইমরান প্রতিটি কিডনি ট্রান্সপ্লান্টেশন বাবদ ৫ থেকে ১০ লাখ টাকা এবং মান্নান ও তাজুল প্রতি কিডনি দাতা সংগ্রহ বাবদ যথাক্রমে ৫ লাখ এবং ৩ লাখ টাকা গ্রহণ করতো।’

সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, গ্রেপ্তার শাহরিয়ার ইমরান আহম্মেদ পার্শ্ববর্তী দেশে অবস্থানরত কিডনি ক্রয়-বিক্রয় চক্রের সঙ্গে পারস্পরিক সহযোগিতায় একটি দালাল চক্র প্রতিষ্ঠা করেন এবং অনলাইনের মাধ্যমে আগ্রহী বিত্তশালী কিডনি রোগী এবং বিভিন্ন এলাকা থেকে স্থানীয় দালালদের মাধ্যমে কিডনি ডোনার সংগ্রহসহ যাবতীয় কার্যক্রম সম্পন্ন করতেন। ইমরান ফেসবুকে বাংলাদেশ কিডনি ও লিভার পেসেন্ট চিকিৎসা সেবা’ এবং কিডনি লিভার চিকিৎসা সেবা’ নামে ২টি পেজের এডমিন। এ পর্যন্ত তিনি কিডনি বিক্রয়ের জন্য প্রায় শতাধিক মানুষকে পার্শ্ববর্তী দেশে পাচার করেছেন।’


আরও খবর

দেশে ছড়িয়ে পড়ছে ভয়ংকর আইস

মঙ্গলবার ২৬ অক্টোবর ২০২১




টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের বাংলাদেশের জার্সি মিলবে ১৪০০ টাকায়

প্রকাশিত:মঙ্গলবার ১২ অক্টোবর ২০২১ | হালনাগাদ:বৃহস্পতিবার ২৮ অক্টোবর ২০২১ | ৪২জন দেখেছেন
নিউজ পোস্ট ডেস্ক

Image

টুর্নামেন্টে অংশগ্রহণ করতে কয়েকদিন আগে দেশ ছেড়ে ইতোমধ্যে একটি প্রস্তুতি ম্যাচও খেলে ফেলেছে বাংলাদেশ ক্রিকেট দল।

এরপর সোমবার (১১ অক্টোবর) আনুষ্ঠানিকভাবে উন্মোচন করা হলো টাইগারদের বিশ্বকাপ জার্সি।

বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি) এবং ফ্যাশন ও লাইফস্টাইল ব্র্যান্ড আড়ংয়ের যৌথ ব্যবস্থাপনায় রাজধানীর একটি হোটেলে উন্মোচন করা হয় এবারের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে বাংলাদেশের দুটি জার্সি। অফিসিয়াল জার্সি কিনতে আড়ংয়ে যেতে হবে ক্রিকেটপ্রেমিদের। 

পুরোপুরি মিল না থাকলেও ২০০৪-০৫ সময়কার বাংলাদেশ দলের জার্সির ধাঁচে ডিজাইন করা হয়েছে এবারের জার্সি। দুইটি রংয়ের জার্সিতে সবুজটি পরেই বেশিরভাগ ম্যাচ খেলবে বাংলাদেশ। দুই-একটি ম্যাচ খেলা হবে লাল জার্সি পরে। জার্সি তৈরি করা প্রতিষ্ঠানের ম্যানেজিং পার্টনার মেহতাব উদ্দিন আনোয়ার জানালেন, এবারের জার্সি অন্যান্যবারের চেয়ে অনেকটাই আলাদা।

বড়দের জার্সির দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ১৪০০ টাকা। ছোটদের জার্সি মিলবে ১ হাজার টাকায়। অনলাইনে জার্সি প্রি-অর্ডার করা যাবে সোমবার থেকেই। আড়ংয়ের আউটলেটগুলোয় পাওয়া যাবে বুধবার থেকে। দেশের বাইরে অস্ট্রেলিয়া, যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্য থেকে অনলাইনে জার্সি অর্ডার করা যাবে।


আরও খবর

টি-টোয়েন্টি র‌্যাংকিংয়ে পেছাল বাংলাদেশ

বৃহস্পতিবার ২৮ অক্টোবর ২০২১

কোম্যানকে বরখাস্ত করলো বার্সেলোনা

বৃহস্পতিবার ২৮ অক্টোবর ২০২১