Logo
শিরোনাম

বাংলাদেশ নিয়ে ষড়যন্ত্রকারী ডেভিড বার্গম্যান সম্পর্কে যা জানা জরুরি

প্রকাশিত:মঙ্গলবার ০২ ফেব্রুয়ারী 2০২1 | হালনাগাদ:শুক্রবার ১৪ মে ২০২১ | ২০৫০জন দেখেছেন
নিউজ পোস্ট ডেস্ক

Image

ডেভিড বার্গম্যান হলো সেই লোক, যিনি প্রতিহিংসার বর্শবর্তী হয়ে সাংবাদিকতা করেন এবং বাংলাদেশের বর্তমান সরকারের বিরুদ্ধে বিষোদগার করাই যার মূল লক্ষ্য। বার্গম্যান মূলত নিজেকে পরিচয় দেন একজন ব্রিটিশ সাংবাদিক হিসেবে, যিনি অনেক বছর বাংলাদেশ অবস্থান করেছেন এবং একটা বিশেষ শ্রেণির এজেন্ট হিসেবে কাজ করেছেন। বাংলাদেশের যুদ্ধপরাধীদের বিচার নিয়ে নিজের ব্লগে লেখালেখি করে তিনি আলোচনায় এসেছিলেন। ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধের সময় গণহত্যার দায়ে অভিযুক্তদের বিচার শুরু হলে তা নিয়ে নেতিবাচক লেখালেখি করেন বার্গম্যান। তার লেখার মূল উদ্দেশ্য ছিল এই বিচারপ্রক্রিয়াকে প্রশ্নবিদ্ধ করা। অধিকাংশ লেখাতেই তিনি শুধু সেইসব মানবতাবিরোধী অপরাধের সঙ্গে যুক্তদের বিচারের প্রক্রিয়া নিয়ে প্রশ্ন তোলার চেষ্টা করেছেন, যারা বিএনপি এবং জামায়াতের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত। আর এটা সবাই জানে যে, মুক্তিযুদ্ধের সময় জামায়াত ছিল পাকিস্তানি সেনাবাহিনীর প্রধান সহযোগী, যাদের সহযোগিতায় পাকিস্তানিরা এদেশে গণহত্যাসহ বিভিন্ন মানবতাবিরোধী অপরাধ সংঘটিত করেছে।

এদের বিচারের জন্য আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল গঠনের পর থেকেই লেখালেখি শুরু করেন বার্গম্যান এবং  ২০১৬ সালের ৪ অক্টোবর তিনি এবিষয়ে সর্বশেষ লেখা লিখেছেন। এই বিচার প্রক্রিয়া কিন্তু এখনো চলছে। তবে বার্গম্যান আগে যেমন সক্রিয়ভাবে বিচারপ্রক্রিয়াকে প্রশ্নবিদ্ধ করার জন্য লিখতেন, এখন আর এখন লিখছেন না। কিন্তু কেনো? তার এতো আগ্রহ-উদ্যম হঠাৎ থেমে গেলো কেনো? কারণটা পরিষ্কার। গণহত্যা ও মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে অভিযুক্ত বিএনপি ও জামায়াতের যেসব নেতা অভিযুক্ত ছিল, তাদের বিচারপ্রক্রিয়া শেষ হয়েছে। তাই এরপর থেকে তিনি আর এই বিষয়ে সক্রিয় নন। এতেই বোঝা যায় যে, তিনি এই মুক্ত-সাংবাদিকতার ছদ্মবেশে আসলে নেতিবাচক প্রচারণা চালিয়েছেন এবং এজন্য তিনি বিশেষভাবে নিয়োগপ্রাপ্ত ছিলেন।

কেনো বাংলাদেশ নিয়ে বার্গম্যানের এতো আগ্রহ?

নিজের লেখা এক ব্লগে বার্গম্যান এটাও দাবি করেছেন যে, বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধে আসলে ত্রিশ লাখ মানুষ মারা যায়নি। তার দাবি, এই মৃত্যুর সংখ্যা ছিল মাত্র তিন লাখ! কিন্তু প্রকৃতপক্ষে বার্গম্যানের এই দাবির তুলনায় হত্যার শিকার হওয়া ব্যক্তির সংখ্যা ছিল দশ গুণ। এটা উল্লেখ করা প্রয়োজন যে, যুদ্ধের পর থেকেই স্বাধীনতাবিরোধী চক্রটি যুদ্ধে মৃতের সংখ্যা নিয়ে বিতর্ক সৃষ্টির চেষ্টা করেছে। এই চক্রটি নিজেদের ঘৃণ অপরাধ ঢাকার জন্য শুরু থেকেই সুপরিকল্পিতভাবে নিহতের কমিয়ে বলার চেষ্টা করে আসছে। ডেভিড বার্গম্যান তাদের হয়ে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশ এবং সরকারকে বিব্রত করার চেষ্টা করেছে। এমনকি বিচারাধীন বিষয়ে উস্কানি ছড়ানোর দায়ে একপর্যায়ে আদালত তাকে দোষী সাব্যস্ত করে এবং ইতিহাস বিকৃতির দায়ে ২০১৪ সালে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ তাকে অভিযুক্ত করে।

সোজা কথায়, আমরা যদি এই স্বঘোষিত অনুসন্ধানী সাংবাদিক বার্গম্যানকে চিহ্নিত করতে চাই, তাহলে তাকে একজন ফড়িয়া বা দালাল ছাড়া আর কোনো উপায় নাই। শুনতে বেখাপ্পা লাগলেও এটিই সত্য। নির্মম বাস্তব এটাই যে, বার্গম্যান মোটা অঙ্কের অর্থের বিনিয়ম একটি বিশেষ শ্রেণির এজেন্ট হিসেবে কাজ করেন।

বার্গম্যান নিজের ব্লগ ছাড়াও বিডি পলিটিকো নামে আরো একটি ব্লগ পরিচালনা করেন, যেখানে তিনি বিভিন্ন পক্ষের ফুটফরমায়েস হিসেবেই আর্টিকেল লেখেন। এই ব্লগে তার লেখার অন্যতম বিষয়গুলো হলো: বাংলাদেশর প্রধানমন্ত্রী ও তার পরিবারকে আক্রমণ করা, এবং দেশের নিরাপত্তা ও গোয়েন্দা বাহিনীকে নিয়েও বিভ্রান্তি ছড়ানো।

বার্গম্যানের পরিচয় এবং কর্মজীবন আসলে কেমন?

এই তথাকথিত সাংবাদিক নিজেকে নিরপেক্ষ দাবি করলেও তার ব্যক্তি ও পারিবারিক পরিচয় সম্পর্কে জানা প্রাসঙ্গিক। তিনি ড. কামাল হোসেনের জামাতা। আর এই ড. কামাল হলেন বাংলাদেশের বিরোধীদলীয় জোট বিএনপি-জামায়াতের প্রধান সমন্বয়ক। এই কারণেই বিএনপি-জামায়াতের রাজনীতিতে যুক্ত এবং মানবতাবিরোধী অপরাধে অভিযুক্তদের পক্ষ নিয়ে দীর্ঘ সময় লেখালেখি করে বিভ্রান্তি ছড়িয়েছেন বার্গম্যান। যুদ্ধাপরাধীদের বিচার নিয়ে আক্রমণাত্মক প্রচারণার জন্য আন্তর্জাতিকভাবে লবিংয়ের জন্য মোটা অঙ্কের টাকা খরচ করা হয়েছে, বিশেষ করে ওয়াশিংটন ও লন্ডনে, এসবের সঙ্গেও তিনি জড়িত। উদাহরণ হিসেবে বলা যায়, একজন অভিযুক্ত যে পরবর্তীতে দণ্ডিত হয়েছে, সে নিজেকে বাঁচানোর জন্য আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে ম্যানেজ করতেই ২৫ মিলিয়ন ডলার খরচ করেছে। এই বার্গম্যানের রাজনৈতিক যোগাযোগ এতোটাই ঘনিষ্ঠ যে তা চাইলেও অস্বীকার করার উপায় নাই। এমনকি লন্ডনের বাংলাদেশ হাইকমিশনের সামনে বিএনপি-জামায়াতের কর্মীদের সঙ্গেও তাকে আন্দোলন করতে দেখা গেছে।

বিভিন্ন গণমাধ্যম সূত্রে জানা যায়, বাংলাদেশে থাকা অবস্থায় অপেশাদার ও উদ্ধত আচরণের জন্য দ্য নিউ এজ পত্রিকা এবং বিডি নিউজ টোয়েন্টিফোর ডট কম থেকে চাকরি ছাড়তে হয়েছে ডেভিড বার্গম্যানকে। তার বিরুদ্ধে সাংবাদিকতার নিয়মনীতির তোয়াক্কা না করার অভিযোগ ছিল। এবং এই কারণেই মূলধারার গণমাধ্যমে অযোগ্য হয়ে পড়েন তিনি। এরপর বিদেশে অবস্থান করা কিছু নামধারী সাংবাদিকের সঙ্গে সখ্যতা গড়ে তোলেন। এরপর একটি নেত্র নিউজ নামে আরেকটি নিউটসাইটে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী ও তার পরিবার এবং নিরাপত্তা বাহিনী নিয়ে অপপ্রচার শুরু করেন।

কী চায় বার্গম্যানরা?

বার্গম্যান বিদেশে থাকা বাংলাদেশের কিছু ব্যক্তির সঙ্গে সখ্যতা গড়ে তোলেন এবং বিএনপি-জামায়াতের আরো ঘনিষ্ঠ মিত্র হিসেবে কাজ চালাচ্ছেন। এরই অংশ হিসেবে তিনি নিয়মিত বানোয়াট সংবাদ তৈরি করে বাংলাদেশের বর্তমান সরকার এবং প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে নিয়ে আন্তর্জাতিকভাবে অপপ্রচার চালান। সম্প্রতি এই চক্রটি ফেসবুক এবং ইউটিউবেও লাইভ বক্তব্য দিয়ে এবং ভুয়া সংবাদ ছড়িয়ে প্রোপাগান্ডা ছড়াচ্ছে। মানুষের আরো কাছে পৌঁছার জন্য এদের প্রচেষ্টা তীব্র থেকে তীব্রতর হচ্ছে। ডেভিড বার্গম্যান, ক্যাডম্যান, লা কার্লিলি, ড. ঘুমডি, দ্য গার্ডিয়ান, নিউ ইয়র্ক টাইমস, দ্য ওয়্যারসহ আরো বেশকিছু প্লাটফর্ম তাদের পক্ষে কাজ করছে। এই চক্রের মূল লক্ষ্য হচ্ছে- তাদের অর্থের জোগানদাতা বিএনপি-জামায়াতের দুর্নীতি ও দুর্বত্তায়নের ঘৃণ্য ভাবমূর্তি উদ্ধারের স্বার্থে কাজ করা।

তারেক-এসকে সিনহা-ড. কামালকে একত্র করা হয় যেভাবে

অর্থ পাচার এবং রাজনৈতিক প্রতিপক্ষকে খুনের জন্য সন্ত্রাসীদের মদত দেওয়ার অভিযোগে অভিযুক্ত বিএনপির তারেক রহমান এই ডেভিড বার্গম্যানের সহায়তায় ড. কামালের সঙ্গে সরকারবিরোধী জোট গড়ে তোলেন। ড. কামাল হোসেনের জামাতা বার্গম্যান মূলত সরকারবিরোধীদের এক প্লাটফর্মে আনার জন্য মধ্যস্থতাকারী হিসেবে কাজ করেছে। দুর্নীতির অভিযোগে অভিযুক্ত যে সাবেক প্রধান বিচারপতি এসকে সিনহার বিরুদ্ধে এখন তদন্ত চলছে, সেই সিনহা যুক্তরাষ্ট্রে বসে এখন তারেক রহমান এবং ড. কামালদের সঙ্গে হাত মিলিয়েছেন এবং অসাংবিধানিকভাবে সরকার পরিবর্তনের জন্য বিএনপি-জামায়াত জোটের হয়ে কাজ করেছে। ডেভিড বার্গম্যানই ড. কামাল-তারেক রহমান-এস কে সিনহার মধ্যে এই সংযোগ তৈরি করে। কিন্তু এই ত্রয়ীর বিভিন্ন অপচেষ্টা ব্যর্থ হওয়ার পর, এখন তারা ভিন্ন আঙ্গিকে বিভিন্ন পাবলিক প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করে, দেশের প্রধানমন্ত্রী, তার পরিবার ও নিরাপত্তা বাহিনীকে নিয়ে মিথ্যা-বানোয়াট গুজব ছড়াচ্ছে।


আরও খবর

করোনার টিকা ব্যবস্থাপনা: দশে দশ

বৃহস্পতিবার ১১ ফেব্রুয়ারী ২০২১




পদ্মায় স্পিডবোট দুর্ঘটনায় তদন্ত কমিটি গঠন

প্রকাশিত:সোমবার ০৩ মে ২০২১ | হালনাগাদ:বুধবার ১২ মে ২০২১ | ৭০জন দেখেছেন
নিউজ পোস্ট ডেস্ক

Image

মাদারীপুরের শিবচরে পদ্মা নদীতে বালু বোঝাই বাল্কহেড ও স্পিড বোটের সংঘর্ষের ঘটনায় ২৬ জন নিহতের ঘটনায় ৬ সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। স্থানীয় সরকার অধিদফতরের উপপরিচালক আজহারুল ইসলামকে প্রধান করে এ কমিটি গঠন করেছে জেলা প্রশাসন।

সোমবার (৩ মে) ভোরে বাংলাবাজার ঘাট এলাকায় থাকা বালুবোঝাই বাল্কহেডের সঙ্গে স্পিডবোটের ধাক্কায় ২৬ জন যাত্রী নিহত হন। এ দুর্ঘটনায় এখন পর্যন্ত অনেকে নিখোঁজ রয়েছেন। তাদের উদ্ধারে অভিযান চালাচ্ছে নৌপুলিশ।

একই সঙ্গে আগামী ৩ কার্যদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন দাখিল করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এছাড়া নিহতের প্রত্যেকের পরিবারকে ২০ হাজার টাকা করে দেওয়া ঘোষণা দিয়েছে জেলা প্রশাসক ডা. রহিমা খাতুন।

এ বিষয়ে বাংলাবাজার ফেরিঘাটের ট্রাফিক পরিদর্শক আশিকুর রহমান জানান, ভোরে মুন্সিগঞ্জের শিমুলিয়া থেকে ৩০ থেকে ৩৫ জন যাত্রী নিয়ে মাদারীপুরের শিবচরের বাংলাবাজারের দিকে আসছিল স্পিডবোটটি। ঘাটের কাছাকাছি এলে নোঙর করা বালুবোঝাই একটি বাল্কহেডে ধাক্কা দিয়ে স্পিডবোটটি উল্টে যায়। পরে সংবাদ পেয়ে ফায়ার সার্ভিস ও নৌপুলিশ উদ্ধার অভিযান শুরু করে।


আরও খবর

ঈদ মোবারক

শুক্রবার ১৪ মে ২০২১




পাবনায় কলাবোঝাই ট্রাক উল্টে নিহত ৩, আহত ৭

প্রকাশিত:সোমবার ১৯ এপ্রিল ২০২১ | হালনাগাদ:বৃহস্পতিবার ১৩ মে ২০২১ | ৭৪জন দেখেছেন
নিউজ পোস্ট ডেস্ক

Image

পাবনার ঈশ্বরদী উপজেলার শাহাপুর ইউনিয়নে কলাবোঝাই ট্রাক উল্টে ঘটনাস্থলে ৩ শ্রমিকের মৃত্যু হয়েছে। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন জেলা পুলিশের বিশেষ শাখার দায়িত্বরত কর্মকর্তা ( ডিআইও ওয়ান) মো. আশরাফুজ্জামান।

তিনি জানান, রবিবার রাত ১১টার দিকে জেলার ঈশ্বরদী উপজেলার শাহপুর ইউনিয়নের হুদিপাড়া এলাকা থেকে ট্রাকে কলা নিয়ে নঁওগা জেলার জয়পুর হাটে নিয়ে যাচ্ছিলেন কলার ব্যাপারী ও শ্রমিকরা। চরগড়গড়ি এলাকায় আসার পর বাঁধের খারাপ রাস্তায় ট্রাকটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে পথের মাঝেই উল্টে যায়। এসময় ট্রাকের উপরে থাকা শ্রমিকরা ট্রাকের কলার নিচে চাঁপা পড়েন। এতে ঘটনাস্থলে ৩ জনের মৃত্যু হয়। আর ৭ জন গুরুতর আহত হন।

নিহতরা হলেন, জব্বার প্রামাণিক (৬৫), শুকুর আলী (৪৫) ও মতিয়ার রহমান (৫৫)। দূর্ঘটনায় আহতদের উদ্ধার করে ঈশ্বরদী ও পাবনা জেনারেল হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

ঘটনার পরে ট্রাকচালক পালিয়েছে বলে জানান মো. আশরাফুজ্জামান। তিনি বলেন, ঘটনাস্থলে রূপপুর ফাঁড়ির দায়িত্বরত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। তবে এই সড়ক দুর্ঘটনায় মৃত্যুর সংখ্যা আরো বৃদ্ধি পেতে পারে বলে জানান তিনি। আহতদের পাবনা জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য ভর্তি করা হয়েছে।


আরও খবর



দিল্লিতে মিলছে না আগুন, লাশ ছিঁড়ছে কুকুরে

প্রকাশিত:বৃহস্পতিবার ২৯ এপ্রিল ২০২১ | হালনাগাদ:বৃহস্পতিবার ১৩ মে ২০২১ | ৭৯জন দেখেছেন
নিউজ পোস্ট ডেস্ক

Image

ভারতের রাজধানী নয়াদিল্লিকে মৃত্যুনগরী বলেও কিছুই বোঝানো যাচ্ছে না আর। বুধবারের দিল্লি নরককুণ্ড বই কিছু নয়। কোভিডে দৈনিক মৃতের সংখ্যা ৭০০-তে পৌঁছে গিয়েছে। শহরের বিভিন্ন শ্মশানের বাইরে রাস্তায় টোকেন নিয়ে মরদেহের দীর্ঘ সারি। ২০ ঘণ্টা কেটে যাচ্ছে আগুন পেতে। লাশ ছিঁড়ছে কুকুর।

শ্মশানের দরজায় দরজায় ঘুরে জায়গা না পেয়ে স্রেফ বরফ চাপা দিয়ে ৪৮ ঘণ্টাও বাড়িতে শব রেখে দিচ্ছেন স্বজনেরা। কুকুরের দেহ পোঁতার জায়গা ব্যবহার করা হচ্ছে মানুষকে দাহ করার জন্য। দিল্লির সুভাষনগর শ্মশানে টিনের চালের নীচে সারি সারি চিতা জ্বলছে। উড়ছে ছাই। এমনিতে নতুন নয় এই দৃশ্য।

কিন্তু সেই ছাই উড়ে পড়ছে পাশের যে চাতালে? সেই চাতাল ধরেই এখন মৃতদেহের সর্পিল রেখা। এক ঝলক তাকালেই মাচার সঙ্গে দড়ি দিয়ে বেঁধে রাখা অন্তত ১৫-২০টি দেহ চোখে পড়ছে।

পাশের উঁচু বাঁধানো জায়গায় ঘি এবং প্রয়োজনীয় সামগ্রী নিয়ে বসে রয়েছেন স্বজনেরা। এক-দুঘণ্টা নয়, ১৬ থেকে ২০ ঘণ্টাও বসে রয়েছেন কেউ কেউ।

যে প্লাস্টিকের ব্যাগে মৃতদেহ মোড়া রয়েছে, তার ওপর নাম, নম্বর লেখা। হাতছাড়া হওয়ার ভয় নেই। তাই একটানা বসে না থেকে পোড়া দেহের গন্ধ এবং ধোঁয়া থেকে বেরিয়ে মাঝেমধ্যে বাইরে ঘুরে আসছেন অনেকে।

ভারতে টানা দ্বিতীয় দিনের মতো করোনায় তিন হাজারের বেশি মানুষের মৃত্যু হয়েছে। বৃহস্পতিবার দ্য হিন্দু পত্রিকার অনলাইনের প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়।

খবরে বলা হয়, স্থানীয় সময় গতকাল বুধবার রাত সাড়ে ১১টা পর্যন্ত ভারতে এক দিনে ৩ হাজার ৫৩৫ জন করোনায় মারা গেছেন। আগের দিন মঙ্গলবার রাত ১১টা পর্যন্ত ভারতে এক দিনে ৩ হাজার ৩০৬ জন করোনায় মারা যান।

ভারতে করোনা মহামারি শুরুর পর এই প্রথম দেশটিতে এক দিনে সাড়ে তিন হাজারের বেশি রোগীর মৃত্যু হলো। এক দিনে মৃত্যুর এই রেকর্ডসংখ্যা নিয়েই ভারতে করোনায় মোট প্রাণহানি দাঁড়িয়েছে ২ লাখ ৪ হাজার ৭০১ জন।


আরও খবর



যুক্তরাষ্ট্রের রেকর্ড ভেঙে ভারতে একদিনে সর্বোচ্চ সংক্রমণ

প্রকাশিত:বৃহস্পতিবার ২২ এপ্রিল ২০২১ | হালনাগাদ:বৃহস্পতিবার ১৩ মে ২০২১ | ৬৫জন দেখেছেন
নিউজ পোস্ট ডেস্ক

Image
ভারতে দৈনিক করোনা সংক্রমণ ১ লাখ থেকে ৩ লাখে পৌঁছাতে মাত্র ১৭ দিন লেগেছে। যেটা আমেরিকার চেয়ে অন্তত চার গুণ বেশি দ্রুত। বিশ্বে একদিনে সংক্রমণ ১ লাখ পার দেশের মধ্যেও রয়েছে কেবল যুক্তরাষ্ট্র ও ভারত

যুক্তরাষ্ট্রের পর দ্বিতীয় দেশ হিসেবে ভারতে দৈনিক সংক্রমণ ৩ লাখ পেরিয়েছে। তবে এদিন দৈনিক সংক্রমণের দিক দিয়ে যুক্তরাষ্ট্রকেও ছাপিয়ে গেছে ভারত। ওয়ার্ল্ডওমিটারের বরাত দিয়ে ভারতীয় দৈনিক টাইমস অব ইন্ডিয়া এ খবর জানিয়েছে। যদিও ভারতের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় আনুষ্ঠানিকভাবে এখনও গত ২৪ ঘণ্টায় সংক্রমণের হিসাব প্রকাশ করেনি।

টাইমস অব ইন্ডিয়া বলছে, গত ২৪ ঘণ্টায় ভারতে প্রায় ৩ লাখ ১৫ হাজার ৯২৫ জন করোনায় আক্রান্ত হয়েছে। এর আগে যুক্তরাষ্ট্রে একদিনে সংক্রমণ হয়েছিল সর্বোচ্চ ৩ লাখ ৭ হাজার ৫৮১ জন। সেটা গত ৮ জানুয়ারি। কিন্তু গত এক সপ্তাহের বেশি সময় ধরে ভারতে ধারাবাহিকভাবে দৈনিক সংক্রমণ বাড়ছে। এরই ধারাবাহিকতাই দুঃখজনক এই মাইলফলক স্পর্শ করলো দেশটি।

ভারতে দৈনিক করোনা সংক্রমণ ১ লাখ থেকে ৩ লাখে পৌঁছাতে মাত্র ১৭ দিন লেগেছে। যেটা আমেরিকার চেয়ে অন্তত চার গুণ বেশি দ্রুত। বিশ্বে একদিনে সংক্রমণ ১ লাখ পার দেশের মধ্যেও রয়েছে কেবল যুক্তরাষ্ট্র ও ভারত। তবে প্রতি ১০ লাখে আক্রান্তের হিসাবে ভারতের চেয়ে যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থা বেশি খারাপ।

দেশটিতে প্রতি ১০ লাখে ৯৭ হাজার ৮৮১ জন আক্রান্ত হয়েছে। এই সংখ্যা ভারতের চেয়ে ৯ গুণ বেশি। ভারতে প্রতি ১০ লাখে আক্রান্ত হয়েছে ১১ হাজার ৪১৮ জন। আবার যুক্তরাষ্ট্রে প্রতি ১০ লাখে ১ হাজার ৭৫২ জনের মৃত্যু হয়েছে। এই সংখ্যাটা ভারতের চেয়ে ১৩ গুণ বেশি। ভারতে ১০ প্রতি লাখে মাত্র ১৩২ জনের মৃত্যু হয়েছে।

এদিকে একদিনে সর্বোচ্চ সংক্রমণের পাশাপাশি এদিনও দুই হাজারের বেশি মানুষের মৃত্যু হয়েছে। গত কয়েকদিনের ধারাবাহিকতায় গত ২৪ ঘণ্টায় ভারতে ২ হাজার ১০২ জনের মৃত্যু হয়েছে। এরই মধ্যে দেশটির বেশ কয়েকটি রাজ্যে করোনার পরিস্থিতি খুবই মারাত্মক আকার ধারণ করেছে। সবশেষ দেশটির মহারাষ্ট্র রাজ্যে লকডাউন ঘোষণা করা হয়েছে। করোনায় এই রাজ্যের পরিস্থিতি সবচেয়ে খারাপ।


আরও খবর



ফেরি থেকে নামতে গিয়ে নিহত ৫

প্রকাশিত:বুধবার ১২ মে ২০২১ | হালনাগাদ:শুক্রবার ১৪ মে ২০২১ | ৭৭জন দেখেছেন
নিউজ পোস্ট ডেস্ক

Image

মুন্সিগঞ্জের শিমুলিয়া বাংলাবাজার নৌ-রুটে দুই ফেরির হুড়োহুড়িতে ৫ জনের মৃত্যু। এ সময় আহত হয়েছে ১২ যাত্রী।

বুধবার (১২ মে) দুপুরে ওই ঘাটে এ ঘটনা ঘটে। এদিকে আহতদের উদ্ধার করে হাসপাতালে নেয়া হয়েছে।

জানা গেছে, যখন ফেরি ঘাটে ভিড়েছে তখন যাত্রীরা হুড়োহুড়ি করে নামতে গিয়ে পায়ের নিচে চাপা পড়ে ৫ জনের মৃত্যু হয়েছে। এ সময় ১২ থেকে ১৫ জনের মত আহত হয়েছেন। তবে নিহতদের পরিচয় জানা যায়নি। আহতদের উদ্ধার করে হাসপাতালে নেয়া হয়েছে।

ফেরির এক যাত্রী বলেন, ফেরি ঘাটে ভিড়ার সাথে সাথে সবাই এক সাথে নামতে গিয়ে এ ঘটনা ঘটে। চোখের সামনে ৫ জনের মৃত্যু দেখলাম। বিশ্বাস হচ্ছে না আমি এখনো বেঁচে আছি।

নিউজ ট্যাগ: নিহত

আরও খবর