Logo
শিরোনাম

বায়ুবিহীন টায়ার তৈরিতে ঝুঁকছেন উৎপাদকরা

প্রকাশিত:সোমবার ৩০ মে ২০২২ | হালনাগাদ:সোমবার ২১ আগস্ট ২০২৩ | ১০৯৫জন দেখেছেন
নিউজ পোস্ট ডেস্ক

Image

গাড়িতে বায়ুবিহীন টায়ারের ব্যবহার চালকদের জন্য স্বস্তির বিষয় হতে পারে। মাঝপথে টায়ারে হাওয়া পাম্প করার প্রয়োজনীয়তা তাহলে ফুরোবে। বেশ কয়েকটি টায়ার উৎপাদনকারী সংস্থার বায়ুবিহীন টায়ার চালুর ঘোষণায় এমন আশায় বুক বাঁধতে পারেন সংশ্লিষ্টরা। সম্প্রতি পরীক্ষামূলকভাবে মালবাহী ট্রাকে এ টায়ারের পরীক্ষা চলছে বলে জানা গেছে।

১৯৮২ সালে সর্বপ্রথম বায়ুবিহীন টায়ার প্রযুক্তির পেটেন্ট দাখিল করে গুডইয়ার। সম্প্রতি এ টায়ারের গবেষণা ও উন্নয়নে বেশ অগ্রগতি অর্জন করেছে প্রতিষ্ঠানটি। চলতি দশকের শেষ নাগাদ এ প্রযুক্তির টেকসই টায়ার উদ্ভাবনের পরিকল্পনা রয়েছে মার্কিন প্রতিষ্ঠানটির। এরই মধ্যে শাটল বাসের জন্য এ টায়ারের একটি প্রাথমিক সংস্করণ তৈরি হয়েছে। সম্প্রতি লুক্সেমবার্গে একটি ট্রাকে পরীক্ষামূলকভাবে বায়ুবিহীন টায়ার উন্মোচন করে গুডইয়ার। টেসলার একটি গাড়িতে বায়ুবিহীন ওই টায়ার ব্যবহার করা হয়। হাওয়ার পরিবর্তে এ টায়ারে স্পোক থাকে। এতে টায়ার মজবুত হয়। রাবারের সরু প্রলেপের ব্যবহারে গাড়ির ওজন ধরে রাখা একটি বিরাট চ্যালেঞ্জ। তবে এ চ্যালেঞ্জও মোকাবেলার পথ আবিষ্কার করেছে গুডইয়ার।

সম্প্রতি বায়ুবিহীন টায়ার তৈরির ঘোষণা দিয়েছে আরো একাধিক প্রতিষ্ঠান। সম্প্রতি টুইল নামে একটি বায়ুবিহীন টায়ার তৈরির ঘোষণা দিয়েছে ফ্রান্সভিত্তিক টায়ার প্রস্তুতকারক সংস্থা মিশেলিন। মূলত ব্যক্তিগত গাড়ির ক্ষেত্রে এ ধরনের টায়ারের চাহিদা বেশি থাকলেও প্রাথমিকভাবে ভারী যানবাহনের ক্ষেত্রেই টুইল ব্যবহারযোগ্য। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক গাড়ি নির্মাতা প্রতিষ্ঠান জেনারেল মোটরসের (জিএম) সঙ্গে যৌথভাবে আপটিস নামে একটি নতুন চাকা উন্মোচন করছে মিশেলিন। আগামী বছর এ টায়ার বাজারজাতের প্রত্যাশা করছে প্রতিষ্ঠানটি। এদিকে নতুন প্রযুক্তির উদ্ভাবন হলেও শিগগিরই গতানুগতিক হাওয়া পাম্প করা টায়ার বিলুপ্ত হওয়ার কোনো সম্ভাবনা নেই বলে জানান মিশেলিনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) ফ্লোরেন্ট মেনেগাও। তিনি বলেন, আরো কয়েক দশক হাওয়া পাম্প করা টায়ার ব্যবহার করবেন ভোক্তারা।

এক দশকের মধ্যে বায়ুবিহীন টায়ার উদ্ভাবনের পরিকল্পনা আছে জাপানি সংস্থা ব্রিজস্টোনেরও। তবে এ প্রযুক্তির প্রতি অনাস্থা প্রকাশ করেছে অনেক উৎপাদক প্রতিষ্ঠানই। এ বিষয়ে সুইডিশ ন্যাশনাল রোড অ্যান্ড ট্রান্সপোর্ট রিসার্চ ইনস্টিটিউটের গবেষক উলফ স্যান্ডবার্গ জানান, বর্তমান টায়ারের একটি টেকসই বিকল্প হিসেবে বায়ুবিহীন টায়ার জায়গা দখল করে নেবে। হাওয়া পাম্প করার বিড়ম্বনা ছাড়াও নতুন প্রযুক্তির এ টায়ার পরিবেশের জন্যও উপকারী। পাশাপাশি বিপুল পরিমাণে ব্যয়ের বোঝাও কমবে প্রতিষ্ঠানগুলোর।

টায়ারের রাবার ও প্লাস্টিক কাঠামো টায়ারের ওপর গাড়ির ভার অনেকটাই কমিয়ে আনে। গুডইয়ারের এক টেস্ট ড্রাইভের অভিজ্ঞতা বিশ্লেষণে দেখা যায়, এতে যাত্রা বেশ আরামদায়ক হলেও গতানুগতিক টায়ারের মতো বায়ুবিহীন টায়ারের গ্রিপ তুলনামূলক কম থাকে। চলার সময় যথেষ্ট শব্দও করে এটি। গুডইয়ারের বায়ুবিহীন টায়ার তৈরির প্রকল্পের প্রধান কর্মকর্তা মাইকেল রাচিতা বলেন, টায়ারগুলো পরীক্ষার জন্য ১ লাখ ২০ হাজার কিলোমিটার পথে টেস্ট ড্রাইভ করা হয়। পরীক্ষায় গাড়ির সর্বোচ্চ গতি ছিল ঘণ্টায় ১৬০ কিলোমিটার। বায়ুবিহীন টায়ারের সবচেয়ে বড় সুবিধা হলো এ টায়ার পাংকচার হয় না। পেরেকের মতো সূচালো কিছুর ওপর দিয়ে গাড়ি চালালেও গাড়ির কর্মক্ষমতা একই থাকবে। কাজেই টায়ারে হাওয়ার চাপ পরীক্ষা করার প্রয়োজনীয়তা ফুরোবে চালকদের জন্য। এরই মধ্যে একটি দ্বিতীয় প্রজন্মের বায়ুবিহীন টায়ার তৈরির কাজ প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। ওই টায়ার আরো হালকা হবে। এতে শব্দ তুলনামূলক আরো কম হবে।

নিউজ ট্যাগ: বায়ুবিহীন টায়ার

আরও খবর