Logo
শিরোনাম

বিদ্রোহী কবির বন্দিজীবন

প্রকাশিত:বুধবার ২৫ মে ২০২২ | হালনাগাদ:রবিবার ০৪ ডিসেম্বর ২০২২ | ১৮৬জন দেখেছেন
নিউজ পোস্ট ডেস্ক

Image

সবার হৃদয়ে রবীন্দ্রনাথ চেতনাতে নজরুল/ যতই আসুক বিঘ্ন বিপদ, হাওয়া হোক প্রতিকূল/ একহাতে বাজে অগ্নিবীণা, কন্ঠে গীতাঞ্জলি/ হাজার সূর্য চোখের তারায় আমরা যে পথ চলি! বাঙালীর প্রতি মুহূর্তের অবলম্বন কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর এবং কাজি নজরুল ইসলাম এই দুই দিকপাল কবি। বিশ্ব দরবারে বাঙালীর বাঙালী হয়ে ওঠার সমস্ত কৃতিত্ব এই দুই মনীষীর! সমগ্র বাঙালী জাতিকে এখনও সুরে, ছন্দে, কথায় বেঁধে রেখেছেন গুরুদেব রবীন্দ্রনাথ এবং বিদ্রোহী কবি কাজী নজরুল ইসলাম। বাংলার ১৩০৬ সালের ১১ই জৈষ্ঠ্য অবিভক্ত বর্ধমান জেলার প্রত্যন্ত গ্রাম চুরুলিয়ায় জন্মগ্রহণ করে এক হত দরিদ্র অসাধারণ প্রতিভার অধিকারী শিশু দুখু মিঞার বিদ্রোহী কবি কাজী নজরুল ইসলাম হয়ে ওঠার রোমহর্ষক কাহিনী আজ ইতিহাস।

নজরুল বিদ্রোহী কবি তার কাব্য বীণা অগ্নিবীণা তাতে ধ্বনিত হয়েছে চির যৌবনের গান; তাঁর বাঁশি বিষের বাঁশি যাতে রণিত হয়েছে সমস্ত প্রকার অমানবিকতার বিরুদ্ধে সুর ঝংকার। তিনি নিপীড়িত মানুষের ব্যথা বেদনার কাব্য কার, জীবনবাদী পরম মানবতাবাদী বলেই তিনি সাম্যবাদী কবি। নজরুলের কাল ভারতবর্ষের বুকে এক ক্রান্তিকাল। ব্রিটিশের পরাধীনতা থেকে স্বাধীনতা আন্দোলনের অগ্নিযুগে নজরুলের মনন, চিন্তন সেই সমাজ মানসকে আলোড়িত করবে এটাই স্বাভাবিক। এমন একজন মুক্তিযোদ্ধার কর্মকান্ডে নিঃসন্দেহে সরকার বাহাদুরের দৃষ্টি পরতে বাধ্য। ইংরেজের নজরে নজরুল ছিলেন রাজদ্রোহী। রাজ বিদ্রোহী নজরুলকে যারপরনাই ব্রিটিশের দমন পীড়নের শিকার হতে বাধ্য। তাই কবি নজরুলের সমান্তরালে বিপ্লবী নজরুলকে জানতে হলে কাজি সাহেবের ইংরেজ জেলের বন্দীজীবন সম্পর্কে জানা আবশ্যক। কবিতার জন্য কারাদণ্ড পেয়েছিলেন একমাত্র যে বাঙালি কবি তিনি কাজি নজরুল ইসলাম। শুরু থেকেই নজরুলের লেখা গান, কবিতা, সম্পাদকীয় রচনা শাসকের কু নজরে ছিল।

আসলে নজরুলের রচনা তো শুধু মাত্র সুর বা ছন্দে গাঁথা শব্দ নয়, তার কবিতার ছত্রে ছত্রে ঝরে পড়তো অগ্নি স্ফুলিঙ্গ আর সেই আগুনে উত্তপ্ত তখন বাংলার তরুণ প্রজন্ম। নজরুলের ভাষায় ছিল নব যৌবনের উন্মাদনা, ছন্দে ছিল নবযুগের আহ্বান, আর তার কন্ঠের সুরের জাদু নওজোয়ানদের রক্তে দোলা দিত! এই সংবাদ শাসক ইংরেজকে ব্যতিব্যস্ত করে তোলে। বিশ শতকের প্রথম দিক থেকেই নজরুলের গান কবিতা দেশের মানুষকে করে তোলে উত্তাল আর কেড়ে নেয় শাসকের স্বস্তি। মুক্তি পাগল, বাঁধন হারা, বেপরোয়া, নির্ভীক কবিসৈনিক নজরুলের লক্ষ্য তখন দেশের শৃঙ্খল মোচন আর হিন্দু মুসলমান সাম্প্রদায়ের মিলন। হিন্দু না ওরা মুসলিম? ঐ জিজ্ঞাসে কোন্ জন? কাণ্ডারী! বলো ডুবিছে মানুষ, সন্তান মোর মার! নজরুলের প্রতিবাদ প্রকাশের মাধ্যম ছিল তাঁর কাব্যলক্ষী এবং সঙ্গীত রাগিণী। অদম্য প্রানাবেগ আর অত্যাশ্চর্য সৃষ্টিশীলতা তখন দাপিয়ে বেড়াচ্ছে বৃহত্তর বাংলার আকাশ বাতাস। নজরুলের রচনায় মুগ্ধ হয়ে স্বয়ং রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর তাঁকে শান্তিনিকেতন আশ্রমে আহ্বান জানিয়েছেন কিন্তু নজরুল চলেন আপন খেয়াল খুশিতে। বাঁধাধরা রোমান্টিক কাব্য সাধনা তার নয়, তার লেখনী প্রতি মুহূর্তে টক্কর দিচ্ছে শাসক ইংরেজের শাসন দণ্ডের সঙ্গে। বিশ শতকের গোড়ার দিকে গাঁধীজীর অসহযোগ এবং খিলাফত আন্দোলন তখন স্বাধীনতা সংগ্রামের মূল ধারা কিন্তু দামাল তরুণ কবির এতে আস্থা ছিল না। ব্যক্তিগত ভাবে সেনাবাহিনীতে থাকার কারনে সাম্রাজ্যবাদী ইংরেজের দমন পীড়নের স্বরূপ তিনি জানতেন বলেই নরমপন্থী অসহোযোগ আন্দোলনে তার বিশ্বাস ছিল না। বলা বাহুল্য গান্ধীজির নরমপন্থার বিপরীতে তখন এক সক্রিয় রাজনৈতিক আন্দোলন আত্মপ্রকাশ করেছে। এই সক্রিয়পন্থীরা ছিলেন কমিউনিস্ট আদর্শে অনুপ্রাণিত। নজরুল ইসলামের সঙ্গে এই সময় বিশেষ বন্ধুত্ব হয় বিশিষ্ট মার্কসবাদী মুজাফফর আহমেদ, আবদুল হালিম ইত্যাদি নেতাদের সঙ্গে। কবি গভীর ভাবে একাত্ম হয়ে পরেন মার্কসবাদী সমাজতন্ত্র ও সাম্যবাদী আদর্শের সঙ্গে। এই সময় ই ১৯২২ সালের ১২ই আগস্ট কবি প্রকাশ করলেন তাঁর বিখ্যাত পত্রিকা ধূমকেতু। এই পত্রিকা প্রসঙ্গে কবিগুরুর আশীর্বাণী- আয় চলে আয় রে ধূমকেতু/ আঁধারে বাঁধ অগ্নিসেতু।- ধূমকেতুকে আশ্রয় করেই শুরু হলো ভারতের অন্ধকারাচ্ছন্ন রাজনৈতিক আকাশে নজরুলের এক দুঃসাহসী অভিযান। একই সময় পাশাপাশি ফজলুল হকের নবযুগ পত্রিকার সম্পাদক হিসাবে নজরুলের ক্ষুরধার কলমে ব্রিটিশ রাজের বিরুদ্ধে তীব্র কষাঘাত বর্ষিত হতে থাকে। পত্রিকা বাজেয়াপ্ত হওয়ার আশঙ্কায় ফজলুল হক কবিকে কলম সংযত করতে অনুরোধ জানালে ক্ষুন্ন মনে নজরুল নবযুগের সঙ্গে সব সম্পর্ক ছিন্ন করেন।

নিজের কাগজ ধূমকেতুর পাতায় পাতায় ইংরেজের অত্যাচার অবিচার শোষন পীড়নের বিপক্ষে প্রতিবাদ শানিত হতে লাগল। গান্ধীজির আন্দোলনে আস্থা না থাকলেও আন্দোলন কারী দের উপর ব্রিটিশ পুলিশের বর্বর অত্যাচার নজরুল মেনে নিতে পারেন নি, এ প্রসঙ্গে ধূমকেতুর পাতায় ছাপা হলো তার বিখ্যাত কবিতা আনন্দময়ীর আগমনে দেবশিশু দের মারছে চাবুক/ বীর যুবাদের দিচ্ছে ফাঁসী; ভূ ভারত আজ কসাই খানা/ আসবি কবে সর্বনাশী কবি রূপকের আড়ালে আহ্বান জানালেন মহাশক্তিকে। এই কবিতা প্রকাশের পরই ইংরেজের পুলিশ অনেক খোঁজাখুঁজি করে কবিকে বাংলাদেশের কুমিল্লা থেকে গ্রেফতার করে কলকাতা সেন্ট্রাল জেলে নিয়ে এল। বিচারে ধূমকেতু র পাতায় ব্রিটিশ শাসন উচ্ছেদের জন্য উস্কানি মূলক লেখার অপরাধে প্রেসিডেন্সি ম্যাজিস্ট্রেট মিঃ সুইন সাহেবের অভিযোগের ভিত্তিতে নজরুল কে এক বছর সশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হলো। নজরুল তার বিরুদ্ধে এই অভিযোগের উত্তরে কাঠগড়ায় দাঁড়িয়ে উদ্ধত জবানবন্দি দিলেন- সত্য স্বয়ং প্রকাশ পায়। তাকে কোনো রক্ত আঁখি, রাজদণ্ড রোধ করতে পারে না! আমি সেই চিরন্তন স্বয়ং প্রকাশের বীণা। যে বীণায় চির সত্যের বাণী ধ্বনিত হয়েছিল। আমি ভগবানের হাতের বীণা।- এই ঐতিহাসিক জবানবন্দি নজরুল ইসলামের স্বদেশপ্রেমের এক অভিনব দলিল হিসেবে স্বীকৃত।

শুরু হলো কবির বন্দী জীবন। নিষ্ঠুর ইংরেজের কাছে শিল্পী বা শিল্পের কোনো মূল্য ছিল না। সরকার নজরুল কে রাজবন্দির সম্মান টুকুও দেয়নি।একজন অতি সাধারণ বন্দির সমমানের পোষাক, থাকার জায়গা এবং অত্যন্ত নিম্নমানের খাদ্য জুটল কবির কপালে, আর তার সঙ্গে অমানুষিক নির্যাতন। তবুও প্রাণ প্রাচুর্যে অদম্য চিরচঞ্চল কবিকে দমন করা সম্ভব হলো না। নির্দয় ব্রিটিশের এহেন আচরণে ব্যথিত রবীন্দ্রনাথ তার বসন্ত গীতিনাট্য টি নজরুল ইসলামের নামে উৎসর্গ করে অনুজ কবিকে একটি পত্র লেখেন। ইংরেজ জেলারের নজর এড়িয়ে সেই চিঠি নজরুলকে পৌঁছে দিলেন কবিবন্ধু পবিত্র গঙ্গোপাধ্যায়। অগ্রজ কবির আশীর্বাদ লাভ করে কারাবন্দি অনুজ কবির উৎসাহ উদ্দীপনা দ্বিগুন বেড়ে গেল। নজরুলের সাহচর্যে অন্যান্য বন্দিরা ও প্রাণ ফিরে পেলেন। এদিকে আলিপুর জেলের সমস্ত বন্দিরা নজরুলের গানে কবিতায় মাতোয়ারা হয়ে স্বদেশমন্ত্রে দীক্ষিত হচ্ছে এই আশঙ্কায় চার মাস পরই ১৫ই এপ্রিল হঠাৎ করে কবিকে আলিপুর থেকে হুগলি জেলে স্থানন্তরিত করা হলো। কিন্তু কিছুতেই কিছু করা গেল না। এমন যার মনন, চেতন, যার কলমের এত স্পর্ধা তাকে স্তব্ধ করা বর্বর ইংরেজের কর্ম নয়। বরং জেল পরিবর্তন করায় আলিপুর থেকে হুগলির ঘরে ঘরে নজরুল বিপ্লবের আগুন ছড়িয়ে পড়লো! আলিপুর জেলে বসে লেখা গান কবিতার ভাণ্ডার কবি হুগলির কয়েদি দের কাছে উজাড় করে দিলেন। দে গরুর গা ধুইয়ে বলে হায়দারি হাঁক দিলেন সেখানকার বন্দি বন্ধুদের। হুগলির জেল সুপার ছিলেন দোর্দণ্ড প্রতাপ মিঃ সামচিন। তার বাজখাই কর্কশ গলার জন্য নজরুল তার নাম দিলেন হার্সটোন সাহেব। এই সুপার কে উদ্দেশ্য করে সুইপার বন্দনা নাম দিয়ে রবীন্দ্রসঙ্গীতের প্যারোডি করে লিখলেন- তোমারি জেলে /পালিছো ঠেলে/ তুমি ধন্য ধন্য হে- বলা বাহুল্য এই গানের ব্যঙ্গ বিদ্রূপ শ্লেষ সুপার কে খেপিয়ে তুললেও ব্যঙ্গ কোনো আইনি আওতায় পরে না তাই সুপার কিছু করতে পারলেন না! হুগলি জেলে বসেই তিনি লিখলেন কারার ওই লৌহকপাট/ ভেঙে ফেল কর্ রে লোপাট/ রক্ত জমাট শিকল পূজার পাষাণবেদী! ইংরেজ অফিসাররা বন্দি পরিদর্শনে এলেই কয়েদিরা সমবেত সোচ্চার কন্ঠে এই গান গাইতে থাকে। ক্রমশঃ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাচ্ছে বুঝে শুরু হলো কবির উপর অকথ্য অত্যাচার। একটি ছয় ফুট/চার ফুট আলো বাতাস হীন ঘুপচি ঘরে কবিকে আটক করে রাখা হলো। কিন্তু তার গান থামানো গেল না। তিনি হাতকড়া লাগানো অবস্থাতেই গেয়ে উঠতেন- শিকল পরা ছল মোদের এ শিকল পরা ছল/ শিকল পরেই শিকল তোদের করবো রে বিকল। গান কবিতা দিয়ে যে বিদ্রোহ শুরু হয়েছিল অচিরেই তা প্রত্যক্ষ প্রতিবাদে পরিণত হয়।

জেলে ভারতীয় কয়েদিদের সরকার-সেলাম নামে এক নিষ্ঠুর অপমানকর নিয়ম চালু হয় এর দ্বারা সুপার জেলে প্রবেশ করা মাত্র সরকার সেলামের হুকুম হাঁকানো হতো, অমনি নজরুলের নেতৃত্বে কয়েদিরা পা সামনে ছুঁড়ে লাথি মারার ভঙ্গি করে ব্রীটিশি সাম্রাজ্যবাদের প্রতি ঘৃণা প্রকাশ করলেই শুরু হতো পুলিশ- কয়েদি হাতাহাতি। এই ভাবে ইংরেজের অত্যাচার চরমে উঠলে কবি তাঁর সহযোদ্ধা দের নিয়ে শুরু করলেন অনশন। একে জেলের নিপীড়ন তার উপর অনশনে কবির প্রাণহানির আশঙ্কায় উৎকন্ঠিত কবি বন্ধুরা এবং নজরুল যাঁকে মা বলতেন সেই বিরজা সুন্দরী দেবী কবি কে অনশন তুলতে অনুরোধ করেন। বিশ্বকবি আকুল হয়ে নজরুলকে একটি তার বার্তায় লেখেন- অনশন প্রত্যাহার করো আমাদের সাহিত্য তোমাকে দাবি করে- Give up Hunger strike. Our Litareture claims You.- কিন্তু সেই টেলিগ্রাফ নজরুলের হাতে এসে পৌঁছায় না! অবশেষে সরকারের দমন নীতি লঘু করার প্রতিশ্রুতি, কবিগুরুর এবং নজরুল সতীর্থ দের অনুরোধে কবি বিরজাদেবীর হাতে ফলের রস খেয়ে অনশন ভঙ্গ করেন। এবার কবি কে চালান দেওয়া হলো বহরমপুর জেলে। এখানে তাকে বিশেষ কয়েদির সম্মান দেওয়ার নির্দেশ থাকলেও তা দেওয়া হয় না। তবে এই জেলের সুপার বসন্ত ভৌমিক একজন বাঙালি এবং নজরুলের প্রতি সহানুভূতিশীল ছিলেন। তিনি জেলে কবিকে একটি হারমোনিয়ামের ব্যবস্থা করে দিলে কবি তাঁর সহ কয়েদি দের নিয়ে মেতে উঠলেন গানে। বহরমপুর জেলে কবির সঙ্গে ছিলেন পূর্ণ দাস, বিজয়লাল চট্টোপাধ্যায়, নরেন্দ্র নারায়ন চক্রবর্তী প্রমুখ স্বাধীনতা সংগ্রামী। বহরমপুর থেকেই নজরুলের কারাদণ্ডের একবছর মেয়াদ সম্পূর্ণ হয়ে কারা মুক্তি হয়! জেল থেকে বেরিয়েই কবি ঝাঁপিয়ে পড়লেন সক্রিয় স্বাধীনতা আন্দোলনে। নজরুলের কবি খ্যাতি তখন তুঙ্গে। বাংলা মায়ের দামাল ছেলে নজরুল তখন তরুন দলের প্রাণ পুরুষ। সেই সময়ে সারা দেশের মানুষের কাছে নব বিপ্লবী আদর্শের নাম- কাজি নজরুল ইসলাম!

এমন চিরবিপ্লবী বিদ্রোহী কবি কলমেই শোভা পায়- আমি বেদুঈন আমি চেঙ্গিস/ আমি আপনারে ছাড়া করিনে কাহারে কুর্নিশ। এই নজরুল কন্ঠে মুখরিত হয়ে ওঠে- আমি বিদ্রোহী রণক্লান্ত/ আমি সেইদিন হব শান্ত/ যবে উৎপীড়িতের ক্রন্দন রোল আকাশে বাতাসে ধ্বনিবে না! . আমি চির বিদ্রোহী বীর;/ আমি বিশ্ব ছাড়ায়ে উঠিয়াছি একা/ চির উন্নত শির!!


লেখক: মল্লিকা গাঙ্গুলী, নজরুল গবেষক ও শিক্ষাবিদ


আরও খবর

দুর্নীতিবিরোধী বঙ্গবন্ধু

সোমবার ১৫ আগস্ট ২০২২




নারীর তুলনায় পুরুষের কিডনিতে কেন পাথর জমে বেশি?

প্রকাশিত:বৃহস্পতিবার ১৭ নভেম্বর ২০২২ | হালনাগাদ:শুক্রবার ০২ ডিসেম্বর 2০২2 | ৪৮জন দেখেছেন
নিউজ পোস্ট ডেস্ক

Image

কিডনিতে পাথর হওয়ার সমস্যায় লিঙ্গভেদে অনেকেই ভোগেন। এই রোগের পেছনে নানা কারণ দায়ী হতে পারে। যার মধ্যে অন্যতম হলো- পানি কম খাওয়া, খাদ্যাভ্যাসের সমস্যা, জীবনযাত্রায় অনিয়ম ইত্যাদি। বিশ্বব্যাপী ১১ শতাংশ পুরুষ ও ৬ শতাংশ নারীই এ সমস্যায় ভোগেন। তবে জানলে অবাক হবেন, পরিসংখ্যান অনুযায়ী নারীর তুলনায় পুরুষদের এ সমস্যায় আক্রান্ত হওয়ার সংখ্যা বেশি। তবে কী কারণে পুরুষদের কিডনিতে বেশি পাথর জমে?

কিডনিতে পাথর জমে কেন: মূলত ক্যালসিয়াম জমে কিডনিতে পাথর তৈরি হয়। ক্যালসিয়াম অক্সালেট আছে এমন খাবার বেশি খেলে কিডনিতে পাথর জমার ঝুঁকি বাড়ে। যেমন- খেজুর, বেরি, কামরাঙার মতো ফল, পালং শাক, বিটসহ গাজরেও প্রচুর ক্যালসিয়াম অক্সালেট থাকে। তাই এ খাবারগুলো বেশি পরিমাণে খাওয়া উচিত নয়। এছাড়া পানি কম খেলেও কিডনিতে পাথর জমে। পানি কিডনি থেকে ক্যালসিয়াম অক্সালেট বের করে দেয়। পর্যাপ্ত পানি না খেলে এই সমস্যা আরও বাড়তে পারে। এমনকি মদ্যপান, অতিরিক্ত লবণ ও মসলা দেওয়া খাবার দীর্ঘদিন ধরে খেলেও কিডনিতে পাথর জমার ঝুঁকি বাড়ে।

নারীর তুলনায় পুরুষদের কিডনিতে পাথর জমে কেন: গবেষকদের মতে, এর প্রধান কারণ হলো পানি কম খাওয়া। পরিসংখ্যান বলছে, পুরুষরা নারীর তুলনায় কম পানি পান করেন। এ কারণে পুরুষরা বেশি পানিশূন্যতায় ভোগেন। আর এ কারণেই তাদের কিডনিতে পাথর জমার ঝুঁকি বাড়ে। বিশেষ করে যারা দীর্ঘক্ষণ রোদে কাজ করেন ও পর্যাপ্ত পানি পান না করেন তাহলে পানিশূন্যতার কারণে হঠাৎ কিডনি বিকল পর্যন্ত হতে পারে। বিজ্ঞানীরা আরও বলছেন, মদ্যপান ও জীবনযাত্রায় অনিয়মের ক্ষেত্রে পুরুষরা নারীর তুলনায় এগিয়ে আছেন। এ কারণেই তাদের কিডনিতে পাথর জমার ঝুঁকি বেশি।

নিউজ ট্যাগ: কিডনিতে পাথর

আরও খবর

কম্পিউটার ভাইরাস প্রতিরোধ যেভাবে

রবিবার ০৪ ডিসেম্বর ২০২২




মালদ্বীপে আগুনে পুড়ে বাংলাদেশিসহ ১০ বিদেশি শ্রমিকের মৃত্যু

প্রকাশিত:বৃহস্পতিবার ১০ নভেম্বর ২০২২ | হালনাগাদ:রবিবার ০৪ ডিসেম্বর ২০২২ | ৩৩জন দেখেছেন
নিউজ পোস্ট ডেস্ক

Image

মালদ্বীপে ভয়াবহ আগুনে পুড়ে ১০ জন নিহত হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে বাংলাদেশিও রয়েছেন। বৃহস্পতিবার (১০ নভেম্বর) ভোরে মালদ্বীপের রাজধানী শহর মালেতে একটি গ্যারেজে আগুন লেগে প্রাণহানির এই ঘটনা ঘটে। মালদ্বীপের কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে বৃহস্পতিবার এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানিয়েছে ভারতীয় সংবাদমাধ্যম দ্য হিন্দু।

এদিকে অগ্নিকাণ্ডে নিহতদের পরিচয় আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করেনি মালদ্বীপ সরকার। তবে দক্ষিণ এশিয়ার এই দেশটির কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, নিহতদের মধ্যে সম্ভবত প্রতিবেশী দেশের শ্রমিকরা অন্তর্ভুক্ত রয়েছেন।

রাজধানী মালে থেকে দেশটির একজন শীর্ষ সরকারি কর্মকর্তা দ্য হিন্দুকে বলেছেন, অগ্নিকাণ্ডে নিহতদের পরিচয় নিশ্চিত করার জন্য কাজ করছে মালদ্বীপ পুলিশ।

দ্য হিন্দুর প্রতিবেদন অনুযায়ী, মালদ্বীপের একজন নিরাপত্তা কর্মকর্তা জানিয়েছেন, নিহতদের মধ্যে নয়জন ভারতীয় এবং একজন বাংলাদেশি নাগরিক। এই ঘটনার পর মালদ্বীপের রাজনৈতিক দলগুলো বিদেশি কর্মীদের বসবাসের অবস্থা সম্পর্কে সরকারের সমালোচনা করেছে।


আরও খবর

জাপানে করপোরেট মুনাফা ঊর্ধ্বমুখী

রবিবার ০৪ ডিসেম্বর ২০২২




‘মানুষের জীবন নিয়ে খেলতে চাইলে প্রতিহত করা হবে’

প্রকাশিত:শুক্রবার ১৮ নভেম্বর ২০২২ | হালনাগাদ:রবিবার ০৪ ডিসেম্বর ২০২২ | ৩৪জন দেখেছেন
নিউজ পোস্ট ডেস্ক

Image

আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম বলেছেন, আওয়ামী লীগ হলো জনতার দল, মাঠ ময়দানে আন্দোলন সংগ্রামের দল। আওয়ামী লীগ শান্তি সৃষ্টি করে, শান্তি সৃষ্টির লক্ষ্যে অশান্তি সৃষ্টিকারীদের বিরুদ্ধে জনগণকে সঙ্গে নিয়ে সবসময় কাজ করে। জনগণকে নিয়ে যেকোনো অন্যায়, অবিচার অথবা ধ্বংসাত্মক কর্মকাণ্ড যারা করে, যারা জীবন নিয়ে ছিনিমিনি করতে চাইবে, যারা মানুষের জীবনকে লাশ বানিয়ে ফায়দা লুটতে চাইবে, তাদের আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা ঐক্যবদ্ধভাবে প্রতিহত করবে।

আওয়ামী লীগের সম্মেলন উপলক্ষে স্বেচ্ছাসেবক ও শৃঙ্খলা উপ-কমিটির সভায় তিনি এসব কথা বলেন। শুক্রবার (১৮ নভেম্বর) সকালে আওয়ামী লীগ সভাপতির ধানমণ্ডির রাজনৈতিক কার্যালয়ে সভাটি অনুষ্ঠিত হয়। এতে উপস্থিত ছিলেন স্বেচ্ছাসেবক ও শৃঙ্খলা উপ-কমিটির আহ্বায়ক আবুল হাসনাত আব্দুল্লাহ।

বাহাউদ্দিন নাছিম বলেন, ২০১৩, ১৪ ও ১৫ সালে যেভাবে অগ্নিসন্ত্রাস চালিয়ে, বোমা নিক্ষেপ করে মানুষ পুড়িয়ে মেরে ছিল, তারাই আবার সেই কায়দায় সন্ত্রাস সৃষ্টি করার পাঁয়তারা চালাচ্ছে। যেখানেই সন্ত্রাস হবে সেখানে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা জনগণকে সঙ্গে নিয়ে সন্ত্রাসীদের প্রতিহত করবে। এদের রুখে দেওয়ার জন্য আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা সতর্ক অবস্থানে থাকবে। প্রস্তুত থাকবে। এই মুহূর্তে আমরা সম্মেলন নিয়ে ব্যস্ত। প্রতিদিন আওয়ামী লীগের জনসভাগুলো জনসমাবেশে রূপ নিচ্ছে। আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের কথা শোনার আগ্রহ দেখাচ্ছে জনসাধারণ।


আরও খবর



ব্রাজিল-সুইজারল্যান্ড ম্যাচে এগিয়ে থাকছে কে?

প্রকাশিত:সোমবার ২৮ নভেম্বর ২০২২ | হালনাগাদ:শনিবার ০৩ ডিসেম্বর ২০২২ | ৩০জন দেখেছেন
নিউজ পোস্ট ডেস্ক

Image

১৯৩০ সাল থেকে শুরু হয় বিশ্ব আসরের সবথেকে বড় মহরণ ফুটবল বিশ্বকাপ। আর শুরুর সেই আসর থেকে একমাত্র দল হিসেবে সব আসরেই খেলে আসছে ৫ বারের বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন দল ব্রাজিল। এবারের কাতার বিশ্বকাপ আসরের গ্রুপ পর্বের প্রথম ম্যাচে দারুণ জয় পেয়েছে ব্রাজিল। এরপর নিজেদের দ্বিতীয় ম্যাচে আজ সোমবার রাত দশটায় সুইজারল্যান্ডের মুখোমুখি হতে যাচ্ছে নেইমারহীন ব্রাজিল। 

এ ম্যাচে পরিসংখ্যানের বিচারে কাকে এগিয়ে রাখবেন সেটা নিতান্তই আপনার ব্যাপার। এমন কথা বলার কারণও নিশ্চয়ই রয়েছে, কেননা বিশ্বকাপের মঞ্চে এখনো পর্যন্ত সুইসদের বিপক্ষে কোনো ম্যাচই জিততে পারেনি তিতের শিষ্যরা। সর্বপ্রথম ১৯৫০ সালের বিশ্বকাপে প্রথম মুখোমুখি হয়েছিল এই দুই দল। সেবার ব্রাজিলের মাটিতে অনুষ্ঠিত সেই ম্যাচে এগিয়ে থাকার পরেও শেষ মুহূর্তে সুইসদের দেওয়া গোলে ড্র নিয়েই মাঠ ছাড়তে হয় সেলেসাওদের।

এরপর কেটে যায় প্রায় সাত যুগ। হিসেব করে বললে ৬৮ বছর পর আবারও সুইজারল্যান্ডের মুখোমুখি হয় ব্রাজিল। সোটাও সবশেষ ২০১৮ সালের রাশিয়া বিশ্বকাপে। গ্রুপ পর্বের সেই ম্যাচেও ১-১ গোলের ড্র নিয়ে মাঠ ছাড়ে দুই দল।  সব মিলিয়ে সুইজারল্যান্ডের বিপক্ষে ৯টি ম্যাচ খেলেছে ব্রাজিল। যার মধ্যে তিনটিতে জয় ব্রাজিলের। দুটিতে জয় সুইসদের। এছাড়া অমীমাংসিতভাবে ড্র হয় চারটি ম্যাচ।

এদিকে বিশ্বকাপ ইতিহাসে এখন অবধি ২২ আসরের ২২টিতেই খেলা একমাত্র দল ব্রাজিল। এর মধ্যে সর্বোচ্চ ৫ বার শিরোপার স্বাদও পেয়েছে পেলে-রোনাল্ডোর এই দল। 


আরও খবর

টস জিতেছে বাংলাদেশ

রবিবার ০৪ ডিসেম্বর ২০২২




বদলের ব্রাজিলে নজিরের মুখে দাঁড়িয়ে দানি আলভেস

প্রকাশিত:শনিবার ০৩ ডিসেম্বর ২০২২ | হালনাগাদ:শনিবার ০৩ ডিসেম্বর ২০২২ | জন দেখেছেন
নিউজ পোস্ট ডেস্ক

Image

বিশ্বকাপের শেষ ষোলোয় ইতিমধ্যেই উঠে গিয়েছে ব্রাজিল। শুক্রবার ক্যামেরুনের বিরুদ্ধে ম্যাচ তাদের কাছে গ্রুপ শীর্ষে থাকার লড়াই। ফলে এখন থেকেই ব্রাজিল শিবিরে নকআউট নিয়ে ভাবনাচিন্তা শুরু হয়ে গিয়েছে। ক্যামেরুন ম্যাচে দ্বিতীয় সারির দল খেলাবেন সেটা মোটামুটি ঠিকই করে ফেলেছেন কোচ তিতে। বিশ্বকাপে প্রথম বার খেলতে চলেছেন দানি আলভেস। শুধু তাই নয়, অধিনায়কও করা হবে তাঁকেই। ৩৯ বছরের দানি বিশ্বকাপে ব্রাজিলের হয়ে বিশ্বকাপে সবচেয়ে বেশি বয়সে নেতৃত্ব দেওয়ার নজির গড়তে চলেছেন।

তাঁকে দলে নেওয়ার সময় অনেক প্রশ্ন উঠেছিল। তবে আস্থা রেখেছিলেন তিতে। সেই আস্থার দাম দিয়েই আলভেসকে খেলাতে চলেছেন তিনি। বৃহস্পতিবার সাংবাদিক বৈঠকেও আসেন আলভেস। নজির নিয়ে প্রশ্ন করা হলে তাঁর উত্তর, ও সব ভাবছি না। ব্রাজিলের জার্সি আবার গায়ে চাপাতে পারব সেটা ভেবেই গর্বিত। বিশ্বকাপে খেলার থেকে ভাল অনুভূতি আর কিছুতে নেই। অনেক বছর ধরে এই ব্রাজিল দলের সঙ্গে রয়েছি। আবার বিশ্বকাপ খেলার সুযোগ পাচ্ছি এতেই আমি খুশি।

আলভেস আরও বলেন, ১৬ বছর হয়ে গেল জাতীয় দলের সঙ্গে। বরাবর নিজের সেরাটা দিয়েছি। আপনি কোনও জিনিস ভালবেসে করলে জীবন আপনাকে বার বার সেই কাজ করার সুযোগ দেয়। আমিও সেটা পেয়েছি। গত ১৬ বছরে যে ভাল কাজ করেছি, তারই ফল আজ পাচ্ছি।

ক্যামেরুন ম্যাচের পরেও কি আলভেসকে তিনি খেলাবেন? প্রশ্ন করা হয়েছিল তিতেকে। ব্রাজিল কোচের উত্তর, ২৬ জন দুর্দান্ত ফুটবলার রয়েছে আমার হাতে। বেশি দূরের জিনিস নিয়ে আমি ভাবি না। আপাতত ফুটবলারদের সঠিক প্রস্তুতিই আমার লক্ষ্য। ম্যাচের পর পরিবারের সঙ্গে শুধু নৈশভোজ সারি। তার পরে আমার সব কিছু আবর্তিত হয় সেই ফুটবলকে ঘিরেই।

ক্যামেরুন ম্যাচের আগে হাসপাতালে ভর্তি থাকা পেলেকে শুভেচ্ছা জানিয়েছেন তিতে। বলেছেন, আশা করি দ্রুত সুস্থ হয়ে উঠবেন উনি। বিশ্বকাপে পেলে আমাদের সবচেয়ে বড় প্রতিনিধি।

নিউজ ট্যাগ: দানি আলভেস

আরও খবর

টস জিতেছে বাংলাদেশ

রবিবার ০৪ ডিসেম্বর ২০২২