Logo
শিরোনাম

বিনা অস্ত্রে যেভাবে উদ্ধার হয়েছিল বঙ্গবন্ধু পরিবার

প্রকাশিত:বৃহস্পতিবার ১০ ডিসেম্বর ২০২০ | হালনাগাদ:রবিবার ২০ জুন ২০21 | ২৫০জন দেখেছেন
News desk

Image

১৯৭১ এর ১৬ই ডিসেম্বর সকালে ঢাকার পাক শিবির চমকে যায় এই চিরকুট পেয়ে। ভারতীয় মেজর জেনারেল গন্দর্ভ সিং নাগরা নিয়াজিকে এক চিরকুট পাঠান। পরে তারা এক বৈঠকে বসেন। ভারতীয় সেনা কম্যান্ড বার বার পাক সেনাদের মনে করিয়ে দিচ্ছিল মুক্তিবাহিনী বা কাদেরিয়া বাহিনী ঢাকায় ঢুকে পড়লে কী অবস্থা হবে তাদের।

মুক্তিবাহিনীর ভয়ে পাক বাহিনী তড়িঘড়ি করে আত্মসমর্পণ করে। পাক হাই কম্যান্ড যুদ্ধ বন্ধের নির্দেশ দিয়েছিল তার আগের দিনই। কিন্তু বাংলাদেশের বেশ কয়েকটি বড় এলাকা এবং বিচ্ছিন্নভাবে আরো কিছু পাক ও তাদের অনুগত মিলিশিয়া পজিশন তখনো আত্মসমর্পণ করেনি।

যুদ্ধের শেষদিকে পাকিস্তানিদের যোগাযোগ ভেঙ্গে পড়ায় অনেক জায়গায় উপর মহলের নির্দেশ পৌঁছায়নি। দ্বিতীয়ত অনেক পাক ঘাঁটি ধরে নিয়েছিল এটা হয়তো সাময়িক আত্মসমর্পণ। যুদ্ধের মোড় হয়তো আবার ঘুরবে। যুদ্ধে তারা পরাজিত- এটা অনেকেই মেনে নিতে পারছিল না।

এরকম অনেকগুলো আত্মসমর্পণ না করা অবস্থানের মধ্যে একটা হলো ধানমন্ডি ৩২ নম্বর। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের বাড়ি। ২৫শে মার্চ রাতেই বঙ্গবন্ধু গ্রেফতার হবার পর এখানে কড়া পাহারা বসায় পাক বাহিনী। ধানমন্ডি ৩২ নম্বরকে কেন্দ্র করে কয়েক স্তরে নিরাপত্তা সাজায় তারা। ছাদে বালির বস্তা দিয়ে বাংকারের মতো বানানো হয়। ভেতরে ভারি মেশিনগান। বাড়ির টেরাসেও বাংকার খুঁড়ে তারা। গেটের পাশে বসে ভারি অস্ত্র। আশেপাশেও কয়েকটা মেশিনগান স্থাপন করে। গৃহবন্ধী করা হয় মুজিব পরিবার। গৃহবন্ধী বলা হলেও বাস্তবিক অর্থে তারা ছিল জিম্মি। প্রতি মুহূর্তেই আতংক গ্রাস করে নিত এই পরিবারটিকে।

বঙ্গবন্ধুর বাড়িতে অবস্থান নেওয়া সেনাদের ওই এলাকার প্রতিরক্ষা ছেড়ে বাইরে যাবার সুযোগ ছিল না। ফলে বাইরের জগতে কী হচ্ছে সে সম্পর্কে তারা ছিল একেবারেই অজ্ঞ। পালা করে কয়েকটা সেনাদল এলাকা টহল দিত কিন্তু কেউই বাইরে যেত না। অন্যান্য সব পাক সেনাদের মতোই জাতীয়তাবাদ এবং ধর্মের নামে মিথ্যা বুলি ব্যবহার করে তাদের মস্তিষ্ক ধোলাই করা হয়েছিল। কিন্তু অন্যান্য সেনাদের সাথে তফাৎ ছিল এই যে, যুদ্ধক্ষেত্রে থাকা সেনারা দ্রুতই বুঝে যায় তাদের দিয়ে নিরীহ লোকজনকে হত্যা করা ছাড়া আর কিছুই করানো হচ্ছে না। অন্যদিকে ধানমন্ডিতে অবস্থান নেওয়া সেনা দলটি ছিল একেবারে বিছিন্ন। যার কারণে তারা তাদের আগ্রাসী মনোভাব ধরে রেখেছিল।

১৬ই ডিসেম্বর, ১৯৭১ সাল। ধানমন্ডির সেনা দলের কম্যান্ডিং অফিসার ২/৩ দিন আগে লাপাত্তা হয়ে গেছে। এদিকে বেতার যোগাযোগ না থাকায় তারা আত্মসমর্পণের নির্দেশও পায়নি। এশিয়ার স্বঘোষিত শ্রেষ্ঠ বাহিনীর সিনিয়র অফিসাররা জুনিয়রদের ফেলেই পালিয়ে গেছে। আতংকের বিষয় ওই সেনাদলের কাছে মুজিব পরিবার বন্দী।

আত্মসমর্পণের নির্দেশ না এলেও ১৬ তারিখ দুপুর থেকে ঢাকায় ঘনঘন ভারতীয় বিমান আর মুক্তিবাহিনীর চলাফেরা দেখে তারা কিছু আঁচ করতে পারছিল। এদিকে মুক্তিবাহিনী ধানমন্ডি ৩২ নম্বর ঘিরে ফেলে। কিন্তু সামনে আগানোর সাহস পাচ্ছিল না। খুলনায় তখন আত্মসমর্পণ না করা পাকসেনাদের বিরুদ্ধে তীব্র যুদ্ধ চলছে।

আর এখানে ধানমন্ডির হিসাবটা একেবারেই অন্যরকম। অস্ত্র বা বীরত্বের চেয়ে ঠাণ্ডা মাথার দরকার এখানে অনেক বেশি। পাক সেনারাদের মেজাজ সামান্য বিগড়ে গেলেই বা সামান্যতম সন্দেহ পেলেই তারা হত্যা করতে পারে মুজিব পরিবারকে।

ঢাকা তেজগাঁও বিমানবন্দর। ১৭ই ডিসেম্বর, ১৯৭১। বিমানবন্দরের নিরাপত্তা এবং প্রশাসনিক দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে ১৪ গার্ড কোম্পানিকে। কোম্পানি কম্যান্ডার তরুণ ভারতীয় অফিসার মেজর অশোক কুমার তারা (পরে কর্নেল)। ব্রাহ্মণবাড়িয়া থেকে যুদ্ধ করে ফিরেছেন তিনি। সামরিক দিক থেকে খুবই গুরুত্বপূর্ণ এলাকা ব্রাহ্মণবাড়িয়ার গঙ্গাসাগর। এপ্রিল থেকে ডিসেম্বর পর্যন্ত এমন কোনো সপ্তাহ নেই যে এখানে যুদ্ধ সংঘটিত হয়নি। গঙ্গাসাগর  যুদ্ধে অবদান রেখে এই তরুণ অফিসার বীর চক্র উপাধি পেয়েছেন। তার ডাক পড়ল আবার।

ব্যাটালিয়নের কমান্ডার বিজয় কুমার চান্নার কাছে হন্তদন্ত হয়ে ছুটে এসেছে এক রাজনৈতিক নেতা। মুজিব পরিবার এখনো বন্ধী। পাক সেনাদের আচরণ খুবই হিংস্র। চান্না ডেকে পাঠান অশোক তারাকে। মুজিব পরিবারকে উদ্ধার করতে হবে তাকে। ভেতরে বেগম মুজিব, বঙ্গবন্ধুর পুত্র কন্যারা আটকে আছে। ধানমন্ডি ৩২ নম্বর মাত্র ২০ মিনিটের দূরত্ব। সেই রাজনৈতিক নেতা আর ৩ জন সেনা নিয়ে জিপে চেপে বসেন অশোক তারা।

মুক্তিবাহিনী জানালো আগের দিন রাতে ১ জন নারী সহ ৫ জনকে হত্যা করেছে পাক সেনারা। তাদের সীমানা ভেঙে সামনে এগিয়ে যাওয়াতে এক সাংবাদিকের গাড়ি লক্ষ করেও গুলি চালায় পাক বাহিনী। গাড়ির ভেতরেই পড়ে ছিল সেই গুলিতে ঝাঁজরা সাংবাদিকের মরদেহ।

অশোক তারা তার অস্ত্রটি জওয়ানের হাতে তুলে দেন। হাত উঁচু করে রাস্তা পার হতে শুরু করেন। ছাঁদ থেকে হুঁশিয়ার আসে। এক পা এগোলেই গুলি করা হবে। মেশিনগানটা একবার ফায়ার শুরু করলে কভার নেওয়ার কোনো জায়গা পর্যন্ত নেই।

অশোক তারা জোর গলায় জানালেন তিনি ভারতীয় সেনাবাহিনীর একজন অফিসার। তিনি বিনা অস্ত্রে এসেছেন। তারপর তিনি বলেন “আমি এখানে অস্ত্র ছাড়া এসেছি কারণ তোমাদের বাহিনী আত্মসমর্পণ করেছে। তুমি অফিসারের কাছ থেকে জেনে নাও।” তখনই জানা গেল তাদের অফিসার লাপাত্তা। রেডিও যোগাযোগও নেই। অশোক তারা আকাশে ওড়া ভারতীয় হেলিকপ্টারও দেখেন। তিনি কিন্তু তখনো হাঁটা থামাননি।

এরপর তিনি জানালেন আত্মসমর্পণ করলে তাদের নিরাপদে দেশে যেতে দেয়া হবে। তাদের পরিবার, স্ত্রী সন্তানের মুখ তারা দেখতে পারবে। আত্মসমর্পণ ছাড়া তাদের জীবনের নিশ্চয়তার আর কোনো রাস্তা নেই। উল্লেখ্য পাক সেনাদের ধারণা ছিল মুক্তিবাহিনীর কাছে আত্মসমর্পণ করলে জেনেভা কনভেনশনে বর্ণিত নীতিমালা অনুযায়ী আচরণ করা হবে না এবং তাদের হত্যা করা হবে।

একপর্যায়ে হেঁটে হেঁটে গেটের কাছে পৌঁছে যান অশোক তারা। সেন্ট্রি বন্দুকের নল ঠেকিয়ে বসে তার বুকে। চোখ বন্ধ করে গুলির অপেক্ষায় প্রমাদ গুনছিলেন তিনি।

“আপনি যদি আমাদের না বাঁচান তবে ওরা আমাদের নিশ্চিত মেরে ফেলবে।” বাড়ির ভেতর থেকে এক নারী কণ্ঠের চিৎকার! তিনি যেন নতুন এক উদ্যম পেলেন। তার হেরে যাওয়া চলবে না। এই পরিবারকে উদ্ধার করতে হবে।

ছাদের উপর থাকা সেনার সাথে কথা বলতে বলতেই বুক থেকে বন্দুক সরিয়ে ফেলেন তিনি। সেনারাও বুঝতে শুরু করে আত্মসমর্পণই তাদের একমাত্র রাস্তা। মুজিব পরিবারের সামান্য আঁচড় লাগলেও মুক্তিবাহিনী তাদের ছাড়বে না। শেষ পর্যন্ত ১০/১২ জন সেনা আত্মসমর্পণ করে। ব্যারাকে ফেরত পাঠানো হয় তাদের।

বাড়িতে ঢুকতেই বেগম মুজিব তাকে জড়িয়ে ধরে বলেন “তুমি আমার পোলা বাবা।” তারার বর্ণনা অনুযায়ী বাড়িতে কোনো আসবাবপত্র ছিল না। মেঝেতে ঘুমাতো সবাই। খাবার ছিল শুধু বিস্কুট আর পানি।

বঙ্গবন্ধু মুক্তি পাবার আগেই অশোক তারা মিজোরামে ফেরত যান। পরে বঙ্গবন্ধু মুক্তি পেয়ে দেশে আসার পর আবার তিনি বাংলাদেশে এসে শেখ মুজিবুর রহমানের সাথে দেখা করেন। ২০১২ সালে স্বাধীনতার ৪৬ বছর পর তাকে ‘মুক্তিযুদ্ধ মৈত্রী সন্মাননা পদক’ প্রদান করে বাংলাদেশ সরকার।

এত ব্যস্ততার মধ্যে যে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তাকে মনে রেখেছেন তাতে খুবই খুশি এই বীর সেনা। মুক্তিযুদ্ধে ভারতীয় সেনাদের অবদানের জন্য আয়োজিত সম্মাননা প্রদান অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তুলে ধরেন অশোক তারার বীরত্বের গল্প।


আরও খবর

জাতীয় পতাকা দিবস আজ

মঙ্গলবার ০২ মার্চ 2০২1




ভার্চ্যুয়াল শুনানিতে ১ হাজার ১৭ জন শিশু জামিন

প্রকাশিত:শনিবার ১২ জুন ২০২১ | হালনাগাদ:রবিবার ২০ জুন ২০21 | ৩৭জন দেখেছেন
নিউজ পোস্ট ডেস্ক

Image

চলমান লকডাউনের মধ্যে ৪০ কার্যদিবসে ভার্চ্যুয়াল শুনানিতে এক হাজার ১৭ জন শিশু জামিন পেয়ে মুক্ত হয়েছে। একই সময়ে নিম্ন আদালতে ৬৩ হাজার ৭৫ জন হাজতি জামিন পেয়ে কারামুক্ত হয়েছেন।

১২ এপ্রিল থেকে ১০ জুন পর্যন্ত মোট ৪০ কার্যদিবসের এমন তথ্য জানিয়েছেন সুপ্রিম কোর্টের মুখপাত্র ও হাইকোর্ট বিভাগের স্পেশাল অফিসার মোহাম্মদ সাইফুর রহমান।   

সুপ্রিম কোর্টের তথ্য মতে, গত ১২ এপ্রিল থেকে করোনা সংক্রমণ রোধকল্পে পুনরায় দ্বিতীয় দফায় সারাদেশে অধস্তন আদালত এবং ট্রাইব্যুনালে শারীরিক উপস্থিতি ছাড়া ভার্চ্যুয়াল পদ্ধতিতে জামিন ও অতি জরুরি ফৌজদারি দরখাস্ত শুনানি হচ্ছে।

১২ এপ্রিল থেকে ১০ জুন পর্যন্ত মোট ৪০ কার্যদিবসে সারাদেশে অধস্তন আদালত এবং ট্রাইব্যুনালে এক লাখ ২৩ হাজার ৬৫টি মামলায় জামিনের দরখাস্ত ভার্চ্যুয়াল শুনানির মাধ্যমে নিষ্পত্তি হয়।

এ সময়ে মোট ৬৩ হাজার ৭৫ জন হাজতি অভিযুক্ত ব্যক্তি জামিন পেয়ে কারাগার মুক্ত থেকে হয়েছেন। এর মধ্যে ভার্চ্যুয়াল আদালতে একই সময়ে মোট জামিন পেয়েছে ১০১৭ জন শিশু।

লকডাউনের মধ্যে আদালতের কার্যক্রম চালাতে প্রধান বিচারপতির আদেশে ১১ এপ্রিল রোববার বিজ্ঞপ্তি জারি করেছিলেন হাইকোর্ট বিভাগের রেজিস্ট্রার মো. গোলাম রব্বানী।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, মহামারি কোভিড-১৯ এর ব্যাপক বিস্তার রোধে আগামী ১২ এপ্রিল থেকে পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত ভার্চ্যুয়াল উপস্থিতির মাধ্যমে জামিন ও অতি জরুরি ফৌজদারি দরখাস্ত নিষ্পত্তি করার উদ্দেশে আদালত ও ট্রাইব্যুনালের কার্যক্রম পরিচালনা করতে হবে।

প্রত্যেক জেলার জেলা ও দায়রা জজ, মহানগর এলাকার মহানগর দায়রা জজ, নারীও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক, শিশু আদালতের বিচারক এবং চিফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট/চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট নিজে অথবা তার নিয়ন্ত্রনাধীন এক বা একাধিক ম্যাজিস্ট্রেট দ্বারা- আদালত কর্তৃক তথ্য-প্রযুক্তি ব্যবহার আইন, ২০২০" এবং হাইকোর্ট কর্তৃক জারিকৃত এতদসংক্রান্ত বিজ্ঞপ্তি অনুসরণ পূর্বক শুধু জামিন ও অতীব জরুরি ফৌজদারি দরখাস্তগুলো নিষ্পত্তি করতে ভার্চ্যুয়াল উপস্থিতির মাধ্যমে আদালতের কার্যক্রম পরিচালনা করবেন।

বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, হাইকোর্ট বিভাগ থেকে দেওয়া জামিন আদেশের ক্ষেত্রে চিফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট/চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেটের কাছে জামিন নামা দাখিল করতে হবে। এছাড়া সাংবিধানিক বাধ্যবাধকতায় প্রত্যেক চিফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট/চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে এক বা একাধিক ম্যাজিস্ট্রেট যথাযথ স্বাস্থ্যবিধি অনুসরণ করে শারীরিক উপস্থিতিতে দায়িত্বপালন করবেন।


আরও খবর



মেলবোর্নে ফের লকডাউন

প্রকাশিত:বৃহস্পতিবার ২৭ মে ২০২১ | হালনাগাদ:রবিবার ২০ জুন ২০21 | ১২৬জন দেখেছেন
নিউজ পোস্ট ডেস্ক

Image

সপ্তাহব্যাপী লকডাউনের আওতায় থাকতে হচ্ছে অস্ট্রেলিয়ার দ্বিতীয় বৃহত্তম শহর মেলবোর্নের ৫০ লাখেরও বেশি বাসিন্দাকে। নতুন করে করোনার সংক্রমণ দেখা দেয়ায় কর্তৃপক্ষ আজ বৃহস্পতিবার এ লকডাউনের নির্দেশ জারি করেছে সেখানে।

রাজ্যের ভারপ্রাপ্ত প্রধানমন্ত্রী জেমস মারলিনো বাসিন্দাদের উদ্দেশ্যে বলেন, মেলবোর্ন ও ভিক্টোরিয়া অঙ্গরাজ্যের আশেপাশের বাসিন্দাদের মধ্যরাত থেকে আগামী সাতদিন ঘরে অবস্থান করতে হবে। কারণ করোনার সংক্রমণ দ্বিগুণ হয়ে ২৬ জনে দাঁড়িয়েছে। যার মধ্যে গত ২৪ ঘণ্টাতেই শনাক্ত হয়েছে ১১ জন।

মারলিনো বলেন, অত্যন্ত সংক্রামক ভাইরাস যে ছড়িয়ে পড়েছে, গতকাল আমরা তার প্রমাণ পেয়েছি। এটি ভ্যারিয়েন্ট অব কনসার্ন গোত্রের ভাইরাস যা দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। এই ভাইরাস বি১৬১৭ নামে পরিচিত, যা ভারতে ব্যাপকভাবে ছড়িয়েছে।

মহামারি শুরুর পর এই নিয়ে চতুর্থবারের মতো লকডাউন জারি করা হলো মেলবোর্নে। গত বছর এই শহরে চারমাস পর্যন্ত লকডাউন জারি ছিল। সূত্র- বিবিসি।


নিউজ ট্যাগ: মেলবোর্ন

আরও খবর



চীন নিয়ে ন্যাটোর সতর্কবার্তা, ক্ষুব্ধ বেইজিং

প্রকাশিত:বুধবার ১৬ জুন ২০২১ | হালনাগাদ:শনিবার ১৯ জুন ২০২১ | ৪৯জন দেখেছেন
নিউজ পোস্ট ডেস্ক

Image

আন্তর্জাতিক প্রতিরক্ষা জোট ন্যাটোর শীর্ষ সম্মেলনে চীনের কারণে সৃষ্ট সামরিক হুমকির বিষয়ে সতর্ক করেছেন বিশ্বনেতারা। জবাবে সবকিছু অতিরঞ্জিত দৃষ্টিতে দেখে তিক্ততা উসকে দেয়ার অভিযোগ করেছে বেইজিং।

বিবিসির প্রতিবেদনে বলা হয়, চীন পরমাণুঅস্ত্র কর্মসূচির পরিধি বাড়াচ্ছে বলে অভিযোগ করেন ন্যাটোভুক্ত রাষ্ট্র ও সরকারপ্রধানরা।

ব্রাসেলসে মঙ্গলবারের বৈঠকে তারা বলেন, চীনের আচরণ পদ্ধতিগত চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে দিয়েছে। নিজেদের সামরিক আধুনিকায়ন নিয়ে স্পষ্ট ধারণা দিচ্ছে না দেশটি। তারা রাশিয়াকে সামরিকভাবে সহযোগিতা করছে।

ন্যাটো মহাসচিব জেন্স স্টোলটেনবার্গ বলেন, সামরিক ও প্রযুক্তিগত দিক থেকে ন্যাটোর অবস্থানের কাছাকাছি পৌঁছে যাচ্ছে চীন। তবে চীনের সঙ্গে নতুন করে স্নায়ুযুদ্ধ জোট চায় না বলেও জোর দেন তিনি।

যৌথভাবে দেয়া বিবৃতিতে ন্যাটো নেতারা বলেন, পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি, মহাকাশে প্রভাব বিস্তার ও সাইবারযুদ্ধের সক্ষমতা বাড়াতে একের পর এক পদক্ষেপ নিচ্ছে চীন। এটি বিশ্বে শান্তি রক্ষার পরিপন্থি।

ফ্রান্স টোয়েন্টিফোর ডটকমের প্রতিবেদনে বলা হয়, প্রতিক্রিয়ায় ইউরোপীয় ইউনিয়নের চীনা মিশন থেকে দেয়া বিবৃতিতে চীনের উন্নয়ন স্বাভাবিকভাবে নেয়ার আহ্বান জানানো হয়।

বিবৃতিতে বলা হয়, তথ্য অতিরঞ্জিত করে চীনের হুমকির কথা বলে একের পর এক ষড়যন্ত্র তত্ত্বের জন্ম দিয়ে যাওয়া হচ্ছে। চীনের বৈধ স্বার্থ ও অধিকারকে আঞ্চলিক রাজনীতির কূটচালে ব্যবহার করা হচ্ছে, যা কেবল বৈরিতা বাড়াবে। এগুলো বন্ধ করতে হবে।

বিবৃতিতে আরও বলা হয়, ন্যাটোর অভিযোগ চীনের শান্তিপূর্ণ উন্নয়নকে অবমাননার শামিল। এটি স্নায়ুযুদ্ধ অব্যাহত রাখবে।

এর আগে যুক্তরাজ্যে চীনের দূতাবাস থেকে জি সেভেন জোটভুক্ত দেশগুলোর বিরুদ্ধে রাজনৈতিক কূটচালের অভিযোগ তোলা হয়। ইংল্যান্ডে জি সেভেনের শীর্ষ সম্মেলনে শিনজিয়াং ও হংকংয়ে চীনা সরকারের বিরুদ্ধে মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগের জবাবে ক্ষোভ জানায় বেইজিং।

ইউরোপ ও উত্তর আমেরিকার ৩০টি দেশ নিয়ে গঠিত প্রভাবশালী রাজনৈতিক ও সামরিক জোট ন্যাটো। সমাজতান্ত্রিক দেশগুলোর বিপরীতে এ জোটটি গঠন হয় দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর।


নিউজ ট্যাগ: ন্যাটো চীন

আরও খবর



দেশে প্রথম দুইজনের শরীরে ব্ল্যাক ফাঙ্গাস শনাক্ত

প্রকাশিত:মঙ্গলবার ২৫ মে ২০২১ | হালনাগাদ:শনিবার ১৯ জুন ২০২১ | ৯২জন দেখেছেন
নিউজ পোস্ট ডেস্ক

Image

দেশে প্রথমবারের মতো মহামারি করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে সুস্থ হওয়া দুইজনের শরীরে ভারতের বিরল ছত্রাকজনিত ব্ল্যাক ফাঙ্গাস (কালো ছত্রাক) শনাক্ত হয়েছে। রাজধানীর বারডেম জেনারেল হাসপাতালে চলতি মাসে তাদের শরীরে ব্ল্যাক ফাঙ্গাস শনাক্ত হয়।

বারডেম হাসপাতালের কর্মকর্তারা জানান, গত ৮ মে ৪৫ বছর বয়সী এক রোগীর শরীরে ব্ল্যাক ফাঙ্গাসের সংক্রমণ শনাক্ত হয়। এরপর গত ২৩ মে ৬০ বছর বয়সী আরেক জনের শরীরেও ছাত্রাকজনিত রোগটি শনাক্ত হয়। তারা দুজনেই করোনা আক্রান্ত ছিলেন। পরে করোনামুক্ত হন তারা।

সম্প্রতি ভারতে ছড়িয়ে পড়া ব্ল্যাক ফাঙ্গাস (কালো ছত্রাক) বাংলাদেশে যেন ছড়িয়ে পড়তে না পারে সেজন্য স্বাস্থ্য অধিদপ্তর থেকে জেলা হাসপাতালগুলোতে সতর্কবার্তা পাঠিয়েছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর।

এ বিষয়ে বারডেম হাসপাতালের মাইক্রোবায়োলজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ডা. লাভলি বাড়ৈ গণমাধ্যমকে বলেন, আমাদের ল্যাবে দুজনের শরীরে ব্ল্যাক ফাঙ্গাস বা মিউকরমাইকোসিস শনাক্ত হয়েছে। বারডেম হাসপাতালের ল্যাবরেটরিতে কোভিড-১৯ রোগীর শরীরে এবারই প্রথম ব্ল্যাক ফাঙ্গাস শনাক্ত হলো। আমরা তাদের চিকিৎসা দিচ্ছি এবং ব্লাড সুগার নিয়ন্ত্রণে রাখার চেষ্টা করছি। বিষয়টি নিয়ে আমরা খুব সতর্ক।

ব্ল্যাক ফাঙ্গাস ছত্রাকজাতীয় এক রোগ, যা প্রধানত কোভিড-১৯ রোগীদের মধ্যে ছড়াচ্ছে। মাত্রা ছাড়া স্টেরয়েড নিলে, বেশি দিন হাসপাতালে নিবিড় পর্যবেক্ষণে থাকলে অথবা উচ্চ রক্তচাপের রোগীদের এই ছত্রাকের শিকার হওয়ার আশঙ্কা বেশি।

নিউজ ট্যাগ: ব্ল্যাক ফাঙ্গাস

আরও খবর



আবারো স্থগিত ঢাকা প্রিমিয়ার লিগ

প্রকাশিত:মঙ্গলবার ০১ জুন ২০২১ | হালনাগাদ:রবিবার ২০ জুন ২০21 | ১০২জন দেখেছেন
নিউজ পোস্ট ডেস্ক

Image

শুরুর একদিনের মাথায় আবারো বন্ধ হয়ে গেল ঢাকা প্রিমিয়ার লিগ। তবে এবার আর করোনার কারণে নয়, দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ার কারণে এ সিদ্ধান্ত নিয়েছে ক্রিকেট কমিটি অব ঢাকা মেট্রোপলিস (সিসিডিএম)।

তিন ভেন্যুতে প্রতিদিন ৬টি করে ম্যাচ হওয়ার কথা থাকলেও সোমবার প্রচণ্ড বৃষ্টিতে ধুয়ে গেছে বিকেএসপির প্রথম দুই ম্যাচ। বৃষ্টির হানায় দিনের বাকি দুই ম্যাচের মধ্যে কেবল একটি ম্যাচই হয়েছে পূর্ণ ৪০ ওভার। মিরপুরেও কার্টেল ওভারে খেলা শেষ করতে হয়েছে আবাহনী এবং পারটেক্সকে।

তবে মঙ্গলবার আবহাওয়ার অবস্থা আরও খারাপ হলে দিনের ৬টি ম্যাচই স্থগিত করার সিদ্ধান্ত নেয় প্রিমিয়ার লিগ কর্তৃপক্ষ।

আবহাওয়া অধিদফতরের সূত্র মতে, এরকম অবস্থা বিরাজ করবে আরও কিছুদিন। তাই বাধ্য হয়ে আগামী দুই দিনের খেলাগুলোও না চালানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে সিসিডিএম। স্থগিত ম্যাচের সূচি সুবিধাজনক সময়ে জানিয়ে দেওয়া হবে বলে নিশ্চিত করেছে তারা। 


আরও খবর