
দুজন প্রাপ্তবয়স্ক
সঙ্গী যৌন সম্পর্ক স্থাপন করতেই পারেন। কিন্তু পরে কোনোভাবে বিষয়টিকে ভারতীয় দণ্ডবিধির
৩৭৬ ধারায় ধর্ষণের মামলায় ফেলা যায় না। অর্থাৎ বিয়ের প্রতিশ্রুতি দিয়ে সহবাসের অভিযোগকে
ধর্ষণ হিসেবে উপস্থাপনের যে প্রচলন আছে, সেটি এখন থেকে আর বলা যাবে না। শুক্রবার একটি
মামলায় এমন রায় দিয়েছে দিল্লি হাইকোর্ট।
এক আইনজীবীর বিরুদ্ধে
তার প্রেমিকা ধর্ষণের অভিযোগ এনেছিলেন। তার দাবি, বিয়ের প্রতিশ্রুতি দিয়ে একাধিকবার
তার সঙ্গে সহবাস করেছেন প্রেমিক। কিন্তু চার বছর সম্পর্কের পর এখন বিয়ে করতে বেঁকে
বসেছেন ওই আইনজীবী। এ ঘটনায় মামলা হলে আগাম জামিনের আবেদন করে হাইকোর্টে যান অভিযুক্ত
আইনজীবী।
শুক্রবার সংশ্লিষ্ট
মামলার শুনানিতে দিল্লি হাইকোর্টের পর্যবেক্ষণে বলা হয়, বিনা সম্মতিতে কিংবা জোর করে
যৌন সম্পর্কে লিপ্ত হলে তাকে ধর্ষণ বলা হয়। কিন্তু প্রাপ্তবয়স্ক দুজন মানুষ নিজেদের
ইচ্ছায় যৌন সম্পর্ক স্থাপন করলে তাকে কোনোভাবে ধর্ষণ বলা যায় না।
দিল্লি হাইকোর্ট
রায়ের ব্যাখ্যায় জানান, ইচ্ছে না থাকা সত্ত্বেও কখনো কখনো বিয়ের প্রতিশ্রুতি দিয়ে
কাউকে যৌন সম্পর্কের জন্য প্ররোচিত করা হয়। ‘না’ বলার পরেও এই ধরনের প্ররোচনা দেওয়া হয়
বারবার। কেবল এ ক্ষেত্রেই কাউকে বিয়ের মিথ্যে প্রতিশ্রুতি দিয়ে নির্যাতনের শিকার
করা হয়েছে বলে ধরা যেতে পারে।
হাইকোর্ট আরো
জানান, ভারতীয় দণ্ডবিধির ৩৭৫ ধারায় একে ধর্ষণ হিসেবে গণ্য করা হতে পারে। কিন্তু দিনের
পর দিন দুজনের সহমতে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করাকে ধর্ষণ বলা যাবে না।

