Logo
শিরোনাম

বন্দিদের খাওয়ানো হত মরা ইঁদুর, এটিই বিশ্বের ভয়ংকরতম জেল

প্রকাশিত:বৃহস্পতিবার ০৯ জুন ২০২২ | হালনাগাদ:শনিবার ০২ জুলাই 2০২2 | ৭২জন দেখেছেন
নিউজ পোস্ট ডেস্ক

Image

বিশ্বের দরবারে কুখ্যাত তকমা পাওয়া এই কারাগারের নাম তাদমোর। বিখ্যাত বেসরকারি সংস্থা অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল-এর মতে এই কারাগারটিকে নরক বললেও কম বলা হবে। এর কারণ বন্দিদের উপর হওয়া নিয়মিত মারধর এবং নির্যাতন।

তাদমোর কারাগারটি সিরিয়ার পালমিরায়। ফরাসিরা ১৯৩০-এর দশকে আরবের মরুভূমির কেন্দ্রে তৈরি করে এই কারাগারটি। মূলত, এটি সামরিক বাহিনীর সেনাছাউনি হিসাবে তৈরি করা হয়েছিল। কিন্তু ১৯৮০-এর পর এই জায়গার ব্যবহারে বদল আসে। তাদমোর কারাগারের বন্দিদের জীবন দুর্বিষহ করে তোলার পিছনে যে মানুষের হাত ছিল বলে মনে করা হয়, তিনি সিরিয়ার প্রাক্তন প্রেসিডেন্ট হাফিজ আল-আসাদ।

১৯৮০ সালে আল-আসাদের উপর প্রাণঘাতী আক্রমণ করা হয়। কিন্তু তিনি প্রাণে বেঁচে যান। আল-আসাদের উপর আক্রমণের দায় বর্তায় দ্য সোসাইটি অব দ্য মুসলিম ব্রাদার্স-এর উপর। এর পরই আল-আসাদের ভাই রিফাত গণহত্যার আদেশ দেন। মনে করা হয় এই গোষ্ঠীর প্রায় হাজার সদস্যকে মেরে তাঁদের মৃতদেহ তাদমোর কারাগারের বাইরে কবর দেওয়া হয়।

তাদমোর কারাগারের বন্দিদের বহির্বিশ্ব থেকে বিচ্ছিন্ন রাখা হয়। এখানে থাকা বন্দিদের পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে দেখা করা তো দূর অস্ত্‌, একে অপরের সঙ্গেও দেখা করার সুযোগ দেওয়া হত না। একে অপরের সঙ্গে কথা বললে যে কোনও সময়ে দেওয়া হত মৃত্যুদণ্ডের আদেশ। তাদমোর কারাগারে বন্দিদের মাথা তোলার, উপরে তাকানোর বা একে অপরের দিকে তাকানোর অনুমতি পর্যন্ত দেওয়া হত না।

তাদমোর কারাগারটি বৃত্তাকার। এই কারাগারটি এমন ভাবেই তৈরি করা হয়েছিল, যাতে প্রহরীরা যে কোনও সময়ে সমস্ত বন্দির উপর নজর রাখতে সক্ষম হন। ১৯৮০ থেকে ১৯৯০ সালের মধ্যে প্রায় ২০ হাজার মানুষকে এই কারাগারে বন্দি হিসেবে রাখা হয়েছিল, যাঁদের মধ্যে একটি বড় অংশ ছিলেন রাজনৈতিক কর্মী। এক সময়ে তাদমোর কারাগার বন্দিদের সংখ্যা এতটাই বেড়ে গিয়েছিল যে, বন্দিদেরকে পালা করে ঘুমানোর সুযোগ দেওয়া হত। যখন কিছু বন্দি ঘুমোতেন, তখন বাকিদের দাঁড় করিয়ে রাখা হত। কারারক্ষী ও কারাগার কর্তৃপক্ষ কখনওই কোনও বন্দিদের প্রতি দয়া দেখাতেন না। দয়া দেখানো হয়নি সিরিয়ার কবি ফারাজ বায়রাকদারকেও। তাঁকেও চার বছর এই কারাগারে বন্দি করে রাখা হয়েছিল।

ফারাজ নিজের লেখা বইয়ে এই কারাগারকে মৃত্যু ও উন্মাদনার রাজ্য হিসাবে বর্ণনা করেছিলেন। ফারাজ ব্যাখ্যা করেন, সমস্ত বন্দিকে সারা দিন অবরুদ্ধ রাখা হত। কোনও বন্দি যদি শ্বাসকষ্ট হচ্ছে বলে জানাতেন, তা হলে তাঁদের কারাগার চত্বরের উঠোনের চারপাশে দৌড়াতে বলা হত। এর ফলে শ্বাস আটকে মারাও যেতেন অনেকে। কখনও কখনও আবার শুধু পিটিয়ে হত্যা করা হত কারাগারের বন্দিদের। ফারাজের বইতে বন্দিদের জিজ্ঞাসাবাদ করার সময় নির্যাতনের কিছু পদ্ধতির উল্লেখ রয়েছে।

কারাগারে ঢোকার পরপরই বন্দিদের নিষ্কাশনের জন্য ব্যবহৃত একটি ড্রেনের জল খেতে বলা হত। অন্য এক বন্দি মোস্তফা খলিফার মতে, যাঁরা এই জল খেতে অস্বীকার করতেন, তাঁদের সেখানেই মেরে ফেলা হত। বইয়ে উল্লেখ রয়েছে যে, এক কারাবন্দিকে এক দল প্রহরী একবার মৃত ইঁদুর গিলে খেতে বাধ্য করে। ওই ব্যক্তি মৃত ইঁদুরটি খেয়ে মারা না গেলেও কিছু মাস পর তিনি পাগল হয়ে যান। ফারাজের বইটিতে বলা হয়, এক বয়স্ক বন্দিকে এক বার মাটিতে শুইয়ে সারাদিন ধরে এক জন কারা অফিসারের বুট চাটতে বলা হয়েছিল। নিয়মিত বেত্রাঘাত তো ছিলই। পাশাপাশি বন্দিদের একই জায়গায় ঘণ্টার পর ঘণ্টা দাঁড়িয়ে থাকতে বাধ্য করা হত যত ক্ষণ না তাঁরা মারা যান।

তবে ফারাজের সবচেয়ে ভয়ঙ্কর স্মৃতি একজন বন্দিকে মানব ট্রামপোলিন হিসাবে ব্যবহার করা। এই প্রক্রিয়ায় বন্দিকে মাটিতে শুইয়ে প্রহরীরা তাঁর উপর দাঁড়িয়ে লাফাতেন। যত ক্ষণ না ওই বন্দি ঘাড় বা মেরুদণ্ড ভেঙে মারা যান, তত ক্ষণ এই প্রক্রিয়া চলতে থাকত। ২০১৫ সালে ইসলামিক স্টেট (আইসিস) এই কারাগারটি দখল করে নেয়। এর পর এই কারাগারের ভিতরের ছবি প্রকাশ পায়। অধিগ্রহণের নয় দিন পরে আইসিস এই কারাগার বোমা মেরে উড়িয়ে দেয়।


আরও খবর



জাতিসংঘের কার্যক্রমে যুক্ত হচ্ছে বাংলা ভাষা

প্রকাশিত:মঙ্গলবার ১৪ জুন ২০২২ | হালনাগাদ:বৃহস্পতিবার ৩০ জুন ২০২২ | ৫৫জন দেখেছেন
নিউজ পোস্ট ডেস্ক

Image

জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের ৭৬তম অধিবেশনে সংস্থাটির সব ধরনের কার্যক্রমে বহুভাষা ব্যবহারের একটি প্রস্তাব পাস হয়েছে। এই প্রস্তাবনা অনুযায়ী, এখন থেকে সংস্থাটির সব ধরনের কার্যক্রমের তথ্য ইংরেজি, ফরাসি, রুশ ভাষার পাশাপাশি বাংলাতেও পাওয়া যাবে। জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদে বহু ভাষার প্রচলনের ওপর ভারতের উপস্থাপিত ওই প্রস্তাব পাস হয়েছে। প্রস্তাবনায় জাতিসংঘের বৈশ্বিক যোগাযোগ বিভাগকে সংস্থাটির যোগাযোগের মাধ্যম হিসেবে বাংলা, হিন্দি এবং উর্দু ভাষাকে আনুষ্ঠানিক এবং অনানুষ্ঠানিক ভাষা হিসেবে যুক্ত করা হয়েছে। এসব ভাষা ছাড়াও পর্তুগিজ, কিসওয়াহিলি ভাষাতেও জাতিসংঘের যাবতীয় কার্যক্রমের তথ্য পাওয়া যাবে।

জাতিসংঘের আনুষ্ঠানিক ভাষা রয়েছে ছয়টি। এসব ভাষা হলো ইংরেজি, রুশ, স্প্যানিশ, ম্যান্ডারিন, আরবি এবং ফরাসি। হিন্দি, বাংলা এবং উর্দুকে সেই তালিকায় সংযোজন জাতিসংঘের তথ্য প্রচারের মাধ্যম হিসেবে ভাষার ব্যবহারকে সহায়ক ও প্রাতিষ্ঠানিক করে তুলবে বলে মন্তব্য করেছেন জাতিসংঘে নিযুক্ত ভারতের স্থায়ী প্রতিনিধি টি এস তিরুমূর্তি।

বহুভাষা প্রচলনের এই প্রস্তাব জাতিসংঘের সাধারণ পরিষেদের অধিবেশনে ভারতের সঙ্গে উপস্থাপন করেছে অ্যান্ডোরা এবং কলম্বিয়া। সংস্থাটির কার্যক্রমে বহু ভাষার প্রচলনের ওপর গুরুত্ব দেওয়ায় জাতিসংঘের মহাসচিব অ্যান্তনিও গুতেরেসকে ধন্যবাদ জানিয়ে টি এস তিরুমূর্তি বলেছেন, জাতিসংঘের গুরুত্বপূর্ণ তথ্য ও বার্তা আদান-প্রদানের মাধ্যম হিসেবে হিন্দি, বাংলা এবং উর্দু ভাষাকে প্রথমবার উল্লেখ করায় স্বাগত জানায় ভারত।


আরও খবর



বিবিএস: আগামী ১৯ বছরে বাংলাদেশে পুরুষের চেয়ে নারী হবে বেশি

প্রকাশিত:মঙ্গলবার ২১ জুন ২০২২ | হালনাগাদ:শনিবার ০২ জুলাই 2০২2 | ৪৬জন দেখেছেন
নিউজ পোস্ট ডেস্ক

Image

আগামী ৫০ বছরে বাংলাদেশের জনসংখ্যা কত হতে পারে, তা নিয়ে পূর্বাভাস দিয়ে প্রতিবেদন তৈরি করেছে সরকারি সংস্থা বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো (বিবিএস)। তাতে বলা হয়েছে, আর মাত্র ১৯ বছর পর অর্থাৎ ২০৪১ দেশে নারীর সংখ্যা পুরুষদের ছাড়িয়ে যাবে। তবে এর ২০ বছর পর আবারও দেশে নারীর চেয়ে পুরুষ বেশি থাকবে।

গত সপ্তাহে বিবিএসের ওমেন অ্যান্ড মেন ইন বাংলাদেশ, ফ্যাক্টস অ্যান্ড ফিগারস ২০২২ নামক প্রতিবেদন প্রকাশ করা হয়েছে। ২০১১ সালের আদমশুমারির ওপর ভিত্তি করে ওই প্রতিবেদনে পরবর্তী ৫০ বছরে বাংলাদেশের জনসংখ্যার একটি সম্ভাব্য চিত্র তুলে ধরা হয়েছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়, ২০৪১ সাল নাগাদ বাংলাদেশের জনসংখ্যা হবে ২০ কোটি ৫৬ লাখ ৩৫ হাজার। তখন প্রথমবারের মতো দেশে পুরুষের চেয়ে নারীর সংখ্যা থাকবে বেশি। ২০৪১ সালে দেশে নারীর সংখ্যা দাঁড়াবে ১০ কোটি ৩১ লাখ ১৭ হাজার। অন্যদিকে, পুরুষের সংখ্যা থাকবে ১০ কোটি ২৫ লাখ ১৮ হাজার।

প্রতিবেদনে শুধু ২০৪১ সাল না, ২০৬১ সালের একটি সম্ভাব্য চিত্রও তুলে ধরা হয়েছে। তখন অবশ্য আবার দেশে নারীর চেয়ে পুরুষের সংখ্যা বাড়বে।

বিবিএসের ওই প্রতিবেদনে বলা হয়, ২০৬১ সালে দেশের জনসংখ্যা দাঁড়াবে ২২ কোটি ৩৩ লাখ ৯৩ হাজারে। তখন সারাদেশে পুরুষ থাকবে ১১ কোটি ১৮ লাখ ৬৪ হাজার। অন্যদিকে, নারীর সংখ্যা দাঁড়াবে ১১ কোটি ১৫ লাখ ২৯ হাজারে।

এ বিষয়ে বিবিএসের জনসংখ্যা ও স্বাস্থ্য শাখার পরিচালক মাসুদ আলম সংবাদমাধ্যম প্রথম আলোকে বলেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইনস্টিটিউট অব রিসার্চ অ্যান্ড ট্রেনিংয়ের সহায়তায় প্রতিবেদনটি তৈরি করা হয়েছে। আমরা বিভিন্ন ধরনের জনসংখ্যাভিত্তিক মডেল বিবেচনায় এনে জনসংখ্যার পূর্বাভাস দিয়েছি। এই প্রতিবেদনে শ্রমবাজার, কর্মসংস্থান, শিক্ষা, স্বাস্থ্যএসব খাতের বিশ্লেষণেও দেওয়া হয়েছে। এখন জনসংখ্যাতাত্ত্বিক সুবিধার (ডেমোগ্রাফিক ডিভিডেন্ড) সময় চলছে।


আরও খবর



ইরানের গোয়েন্দা প্রধান বরখাস্ত

প্রকাশিত:শনিবার ২৫ জুন ২০২২ | হালনাগাদ:শনিবার ০২ জুলাই 2০২2 | ৪১জন দেখেছেন
নিউজ পোস্ট ডেস্ক

Image

তুরস্কে ইসরাইলি পর্যটকদের হত্যা বা অপহরণ করার ইরানি চক্রান্তের অভিযোগে ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পসের গোয়েন্দা প্রধানকে বরখাস্ত করা হয়েছে। তুরস্কের নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যরা ইস্তানবুলে অবস্থিত ইসরাইলের পর্যটকদের হত্যা পরিকল্পনার অভিযোগে ইরানের ইরানি সন্ত্রাসী সেলের আটজন গুপ্ত ঘাতককে গ্রেপ্তার করে। এর পরই ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পসের গোয়েন্দা বিভাগের প্রধান হোসাইন তায়েবকে বরখাস্ত করা হয়। হোসাইন তায়েব গার্ডসের কমান্ডার-ইন-চিফ হোসেন সালামির উপদেষ্টা হবেন।  তায়েবের স্থলাভিষিক্ত হবেন গার্ডস ইন্টেলিজেন্স প্রোটেকশন ইউনিটের প্রধান মোহাম্মদ কাজেমি।

মধ্য র‌্যাকিংয়েংর কর্মকর্তা তায়েব ইরানের সুপ্রিম লিডার আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির ঘনিষ্টজন। তিনিই তুরস্কে ইসরাইলি পর্যটকদের হত্যা বা অপহরণ করার ইরানি চক্রান্তের পেছনে ছিলেন বলে অভিযোগ করেছে ইসরাইল।

প্রসঙ্গত, বছরের পর বছর ধরেই ইরান ও ইসরাইল স্নায়ু যুদ্ধে লিপ্ত রয়েছে। তবে ইসরাইলের দায়ি করা হাই-প্রোফাইল ঘটনার পর দুই দেশের মধ্যে উত্তেজনা বেড়েছে। ইরান দীর্ঘদিন ধরে ইসরাইলকে তাদের পারমাণবিক স্থাপনায় নাশকতা এবং বিজ্ঞানী ও সিনিয়র কমান্ডারদের হত্যার অভিযোগ করে আসছে।  চলতি বছরের ১৩ জুন ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পসের মহাকাশ বিভাগের সদস্য আলী কামানি মারকাজি প্রদেশের খোমেইনে একটি মিশনে যাওয়ার সময় নিহত হন। জুনের শুরুতে ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পসের বহিরাগত অপারেশন ইউনিট, কুদস ফোর্সের কমান্ডার কর্নেল আলী ইসমাইলজাদেহ তার বাড়ির ছাদ থেকে পড়ে মারা যান। চলতি বছরের ২২ মে ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পসের কর্নেল সায়াদ খোদাই (৫০) ইরানের রাজধানী পূর্ব দিকে তার বাড়ির বাইরে গুলিতে নিহত হন।  এইসব হামলার প্রতিশোধ হিসেবে ইসরাইলিদের হত্যার উদ্দেশে ইরান ব্যবসায়ী, পর্যটক এবং ছাত্রের ছদ্মবেশে এজেন্টদের ইস্তাম্বুলে পাঠিয়েছিল বলে তুরস্কের কর্তৃপক্ষ দাবি করেছে।

নিউজ ট্যাগ: হোসাইন তায়েব

আরও খবর



লিটারে ৬ টাকা কমলো সয়াবিন তেলের দাম

প্রকাশিত:রবিবার ২৬ জুন ২০২২ | হালনাগাদ:শনিবার ০২ জুলাই 2০২2 | ৫৭জন দেখেছেন
নিউজ পোস্ট ডেস্ক

Image

দেশের বাজারে সয়াবিন তেলের দাম লিটারে ৬ টাকা কমেছে। নতুন দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ১৯৯ টাকা। সোমবার থেকে এই নতুন দাম কার্যকর হবে।

রোববার বিকেলে ভোজ্যতেল ব্যবসায়ীদের সংগঠন বাংলাদেশ ভেজিটেবল অয়েল রিফাইনার্স অ্যান্ড বনস্পতি ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যাসোসিয়েশন বোতলজাত প্রতি লিটার সয়াবিন তেলের দাম নির্ধারণ করেছে ১৯৯ টাকা। ৫ লিটারের বোতলের দাম পড়বে ৯৮০ টাকা। এছাড়া, খোলা প্রতি লিটার সয়াবিন তেল পাওয়া যাবে ১৮০ টাকায়।

এর আগে রোববার সকালে বাণিজ্যসচিব তপন কান্তি ঘোষ জানিয়েছিলেন, আন্তর্জাতিক বাজারে ভোজ্যতেলের দাম কমে আসায় শিগগিরই বাংলাদেশেও তেলের দাম কমবে।

সচিবালয়ে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থার দ্বাদশ মিনিস্টারিয়াল কনফারেন্স উপলক্ষে সংবাদ সম্মেলনে এ কথা বলেন তিনি।


আরও খবর



৭ খাতে অগ্রাধিকার দেওয়া বাজেট আজ

প্রকাশিত:বৃহস্পতিবার ০৯ জুন ২০২২ | হালনাগাদ:শুক্রবার ০১ জুলাই ২০২২ | ৫৯জন দেখেছেন
নিউজ পোস্ট ডেস্ক

Image

সংকট মোকাবিলায় জাতীয় সংসদে আজ ৬ লাখ ৭৮ হাজার ৬৪ কোটি টাকার যে বাজেট উপস্থাপন করা হবে, তাতে সাত খাতে অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে। অর্থ বিভাগ সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।

বাজেট প্রণয়নের সঙ্গে জড়িত কর্মকর্তারা জানান, ইউক্রেন যুদ্ধের কারণে বিশ্বব্যাপী পণ্য সরবরাহে যে সংকট সৃষ্টি হয়েছে তার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশেও। কৃষিনির্ভর দেশ হলেও অধিক জনসংখ্যার খাদ্য চাহিদা সামাল দিতে চাল, ডাল, তেল, চিনিসহ বেশির ভাগ খাদ্যপণ্য আমদানি করতে হয়। এই আমদানিনির্ভরতার কারণেই মূল্যস্ফীতির চাপ নিম্ন আয়ের মানুষকে সংকটে ফেলেছে। এবারের বাজেট হবে সেই সংকট সামালের বাজেট।

অর্থ বিভাগের এক কর্মকর্তা জানান, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বাজেট প্রণয়নে প্রবৃদ্ধি (জিডিপি) অর্জনের ওপর সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিলেও এবার সেটি বদলে যাচ্ছে। যে বাজেট উপস্থাপন করা হচ্ছে তার মূল লক্ষ্য হবে মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ। পাশাপাশি বিনিয়োগ বৃদ্ধি, কর্মসৃজন ও খাদ্য উৎপাদন বাড়ানোর দিকেই বাজেটের ফোকাস রাখা হচ্ছে।

যে সাত খাতে অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে : বাজেটে যে খাতগুলোতে অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে সেগুলো হলো- (১) কভিড মহামারি ও ইউক্রেন যুদ্ধ উদ্ভূত বৈশ্বিক সরবরাহ সংকটজনিত কারণে সৃষ্ট মূল্যস্ফীতি মোকাবিলা ও অভ্যন্তরীণ বিনিয়োগ বৃদ্ধি; (২) কভিড-১৯ মোকাবিলায় প্রধানমন্ত্রী ঘোষিত প্রণোদনা প্যাকেজের বাস্তবায়ন ও সম্পন্নকরণ; (৩) অধিক খাদ্য উৎপাদনের লক্ষ্যে কৃষি যান্ত্রিকীকরণ, সেচ ও বীজে প্রণোদনা, কৃষি পুনর্বাসন, সারে ভর্তুকি প্রদান অব্যাহত রাখা; (৪) ব্যাপক কর্মসৃজন ও পল্লী উন্নয়ন; (৫) শিক্ষা ও দক্ষতা উন্নয়নসহ সার্বিক মানব সম্পদ উন্নয়ন; (৬) সামাজিক নিরাপত্তা কার্যক্রমের আওতা সম্প্রসারণ এবং (৭) নিম্ন আয়ের মানুষের মাঝে বিনা/স্বল্প মূল্যে খাদ্য বিতরণ।

বাজেট প্রণয়নের সঙ্গে জড়িত কর্মকর্তারা বলছেন, নতুন বাজেটে বিনিয়োগ প্রবৃদ্ধি ধরা হচ্ছে ৩১ দশমিক ৫ শতাংশ। এরমধ্যে বেসরকারি খাতের বিনিয়োগে ধরা হচ্ছে ২৪ দশমিক ৯ শতাংশ এবং সরকারি বিনিয়োগ ধরা হচ্ছে ৬ দশমিক ৬ শতাংশ। অভ্যন্তরীণ বিনিয়োগ বাড়াতে বেসরকারি খাতকে উজ্জীবিত করার অনুষঙ্গ থাকবে বাজেটে। বিশেষ করে করোনা মহামারির কারণে প্রধানমন্ত্রী যে প্রণোদনা প্যাকেজ ঘোষণা করেছেন, তার সঠিক বাস্তবায়নের ওপর জোর দেওয়া হবে এই বাজেটে। ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোক্তাদের হাতে প্রণোদনার অর্থ পৌঁছানোর বিষয়ে দিকনির্দেশনা থাকবে।

কর্মকর্তারা জানান, মূল্যস্ফীতির চাপ প্রশমনের পাশাপাশি খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য বাজেটে কৃষি উৎপাদন বাড়ানোর ওপরও গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। কৃষক যাতে উৎপাদনে নিরুৎসাহিত না হয়, সে কারণে বিশ্বব্যাপী সারের দাম ব্যাপকভাবে বৃদ্ধির পরও সরকার এ খাতে ভর্তুকি অব্যাহত রাখছে। পাশাপাশি উচ্চ ফলনশীল খাদ্য উৎপাদনে সেচ ও বীজে প্রণোদনা বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। দ্রুত ফসল তোলা ও মাড়াইসহ বীজ বপনে কৃষি যান্ত্রিকীকরণেও গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। এসব উদ্যোগ সঠিকভাবে বাস্তবায়নের জন্য কৃষি মন্ত্রণালয়ের বরাদ্দও বাড়ছে বাজেটে। চলতি অর্থবছরে এই মন্ত্রণালয়ের বরাদ্দ ১৬ হাজার ২০১ কোটি টাকা থেকে বেড়ে নতুন বাজেটে বরাদ্দ ২৩ হাজার ২২৪ কোটি টাকায় উন্নীত হতে পারে বলে জানা গেছে।

সংশ্লিষ্টরা জানান, শহরের পাশাপাশি গ্রামের মানুষের আয় বাড়াতে বাজেটে ব্যাপকভাবে কর্মসৃজন ও পল্লী উন্নয়নে বরাদ্দ বাড়াচ্ছে। শিক্ষার পাশাপাশি কারিগরি দক্ষতা বাড়ানোর ওপর অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে, যাতে অভ্যন্তরীণ কর্মসংস্থান ছাড়াও বৈদেশিক কর্মসংস্থান বৃদ্ধি পায়। মানব সম্পদ উন্নয়নে প্রায় ১ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ বাড়ছে নতুন বাজেটে। চলতি বাজেটে এ খাতে ৫ হাজার ৯২১ কোটি টাকা বরাদ্দ থাকলেও নতুন বাজেটে এটি বেড়ে ৭ হাজার কোটি টাকা হতে পারে। এ ছাড়া কর্মসৃজন বাড়াতে নতুন বাজেটে প্রায় ১৯ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হতে পারে। চলতি বাজেটে এ খাতে বরাদ্দ ছিল ১৮ হাজার ৮৪৩ কোটি টাকা।

অর্থ বিভাগ জানায়, করোনা মহামারির কারণে গত বাজেটে দরিদ্র ও নিম্ন শ্রেণির জন্য সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচি সম্প্রসারণ করা হয়েছিল। এর বাইরে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা নগদ সহায়তা দিয়েছেন। ইউক্রেন যুদ্ধের কারণে নিত্যপণ্যের দাম বাড়ায় এবার নিম্ন আয়ের মানুষ আরও চাপে পড়েছে। সেই চাপ থেকে দেশের প্রান্তিক জনগোষ্ঠীকে সুরক্ষা দিতে নতুন বাজেটেও সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির আওতা বাড়ানো হবে। একই সঙ্গে নিম্ন আয়ের মানুষকে বিনামূল্যে এবং স্বল্পমূল্যে খাদ্য সরবরাহের উদ্যোগও থাকবে বাজেটে। বয়স্ক বিধবা অসচ্ছল প্রতিবন্ধী ও মাতৃত্বকালীন ভাতাও বাড়ছে। চলতি বাজেটে এ খাতে বরাদ্দ ছিল ২৬ হাজার ৬৯০ কোটি টাকা, নতুন বাজেটে এ খাতে ২৭ হাজার ৮০০ কোটি টাকা বরাদ্দ দেওয়া হতে পারে। বেদে হিজরা ও অনগ্রসর জনগোষ্ঠীর জন্যও বাজেটে বরাদ্দ বাড়ছে। বাজেটে সামাজিক কল্যাণ খাতে ৩২ হাজার ৭৬০ কোটি টাকা বরাদ্দ থাকলেও নতুন বাজেটে এটি বেড়ে ৩৩ হাজার ৫০০ কোটি টাকা হতে পারে।


আরও খবর