Logo
শিরোনাম

বঙ্গবন্ধুর হাতেই শুরু বাংলাদেশের অগ্রযাত্রা

প্রকাশিত:সোমবার ১৫ আগস্ট ২০২২ | হালনাগাদ:শুক্রবার ০৭ অক্টোবর ২০২২ | ১৩৯জন দেখেছেন
নিউজ পোস্ট ডেস্ক

Image

হীরেন পণ্ডিত

১৯৭২ সালের ৮ জানুয়ারি পাকিস্তানের কারাগার থেকে মুক্তি পেয়ে লন্ডন হয়ে ৯ জানুয়ারি বঙ্গবন্ধু দেশের উদ্দেশে রওনা হলেন। ১০ জানুয়ারি সকালে বঙ্গবন্ধু দিল্লিতে সংক্ষিপ্ত যাত্রাবিরতি করে যাত্রা করেন ঢাকার উদ্দেশে। বিমানটি তেজগাঁও বিমানবন্দর স্পর্শ করে বিকেল ৩টায়। সেখান থেকে ঐতিহাসিক রেসকোর্স ময়দানে লাখ লাখ বাঙালির ভালোবাসা আর স্নেহের পরশ ভেদ করে পৌঁছাতে বঙ্গবন্ধুর সময় লেগেছিল আড়াই ঘণ্টা। রেসকোর্সে লাখো জনতার মাঝ থেকে বঙ্গবন্ধু বাসায় পৌঁছেন সন্ধ্যা ৬টায়। এত দীর্ঘ পথযাত্রা, দীর্ঘ আনুষ্ঠানিকতা, জনসভা, আবেগ-উচ্ছ্বাস-কান্না বিনিময়ের পর ১১ জানুয়ারি থেকে বঙ্গবন্ধু সব ক্লান্তি-ভাবাবেগ উপেক্ষা করে এক মুহূর্ত বিলম্ব না করে দেশ পরিচালনা শুরু করেন। সেদিনই মন্ত্রিসভার সঙ্গে দুদফা বৈঠক করেন এবং বৈঠকে সংবিধান প্রণয়নসহ অনেক গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। সংবিধানের শুরুতেই তিনি বলেন বাংলাদেশের রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক ব্যবস্থার ভিত্তি হবে বাঙালি জাতীয়তাবাদ, গণতন্ত্র, সমাজতন্ত্র ও ধর্মনিরপেক্ষতা। ১৯৭০ সালের নির্বাচনী ইশতেহারে উল্লেখ করা ছিল দেশের অর্থনীতিতে সমাজতান্ত্রিক উন্নয়ন ও পরিবর্তন আনতে হবে। অর্থনীতিবিদরা এটিকে ব্যাখ্যা করেছিলেন দারিদ্র্য বিমোচন ও বৈষম্য দূরীকরণ এবং পরিকল্পিত উন্নয়ন ব্যবস্থার মাধ্যমে দেশের অর্থনীতিকে উন্নয়নের পথে নিয়ে যাওয়া। এ ভিত্তিতেই তদানীন্তন অর্থমন্ত্রী তাজউদ্দীনের ১৯৭২-৭৩ সালের বাজেট প্রণীত হয়েছিল, যেটিতে সংবিধানের মূলনীতিগুলোর প্রতিফলন ছিল। বঙ্গবন্ধুর অর্থনৈতিক দর্শনের কিছু মধ্য ও দীর্ঘমেয়াদি লক্ষ্য ছিল, স্বনির্ভরতা অর্জন, দেশের অভ্যন্তরীণ সম্পদের সর্বোচ্চ ব্যবহার, বৈদেশিক সহায়তা গ্রহণ ও ব্যবহার, যা হতে হবে শর্তবিহীন এবং ক্রমে এ নির্ভরতার অংশ কমিয়ে আনতে হবে। বেসরকারি খাতকেও উন্নয়ন কর্মকাণ্ড ও শিল্পায়নে সম্পৃক্ত করা। ১৯৭২ সালে বেসরকারি খাতে বিনিয়োগের উচ্চসীমা নির্ধারণ করা হয়েছিল ২৫ লাখ টাকা, যা ১৯৭৪ সালে ৩ কোটিতে বর্ধিত করা হয়।

সংবিধানে বঙ্গবন্ধুর দেশের সার্বিক উন্নয়নের যে চিন্তা ও নির্দেশনা ছিল, সেগুলো বর্ণিত হয়েছে সংবিধানের দ্বিতীয় ভাগের অনুচ্ছেদগুলোতে। স্থানীয় শাসনসংক্রান্ত প্রতিষ্ঠানগুলোর উন্নয়ন, জাতীয় জীবনে নারীদের অংশগ্রহণ। ১২ জানুয়ারি বঙ্গবন্ধু অস্থায়ী সংবিধান অনুযায়ী প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব গ্রহণ করেন এবং নতুন মন্ত্রিপরিষদ গঠন করেন। বঙ্গবন্ধুর ঐতিহাসিক ৭ই মার্চের ভাষণের পর থেকে বস্তুত তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানে সরকারি-বেসরকারি সব সংস্থাসহ সারা দেশ বঙ্গবন্ধুর নির্দেশে চলতে থাকে এবং সেনাবাহিনীর বাঙালি অংশ বঙ্গবন্ধুর নির্দেশের অপেক্ষায় থাকে। যুদ্ধবিধ্বস্ত দেশকে পুনর্গঠন এবং সফলভাবে অর্থনৈতিক ও অন্যান্য খাতের বিভিন্ন চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা করেন। সদ্য স্বাধীন বাংলাদেশে ফিরে দেখলেন গুদামে খাদ্য নেই, মাঠে ফসল নেই, কেন্দ্রীয় ব্যাংকে রিজার্ভ শূন্য। বস্তুত কোনো ব্যাংকের কার্যকারিতা নেই। সড়ক ও রেলপথ বিচ্ছিন্ন, নৌ ও সমুদ্রবন্দরগুলো বিধ্বস্ত। স্কুল-কলেজগুলো ছিল পরিত্যক্ত সেনাছাউনি। পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী পরাজয় নিশ্চিত জেনে সম্ভাব্য সবকিছু ধ্বংস করে দিয়েছিল। বঙ্গবন্ধু গুরুত্ব দিয়েছেন জোটনিরপেক্ষ অবস্থান বজায় রেখে দ্রুততম সময়ের মধ্যে বিশ্বের বেশির ভাগ দেশের স্বীকৃতি আদায় এবং আন্তর্জাতিক বিভিন্ন সংস্থার সদস্যপদ লাভ করার। উদ্দেশ্য ছিল আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে বাংলাদেশকে দাঁড় করানো। তাঁর শাসনামলে মাত্র সাড়ে তিন বছর সময়ে বঙ্গবন্ধু বাংলাদেশকে ১২১ টি দেশের স্বীকৃতি এবং জাতিসংঘসহ ৩৬টি আন্তর্জাতিক সংস্থার সদস্যপদ লাভ করিয়েছেন।

মুক্তিযুদ্ধে পরিবহন ব্যবস্থা প্রায় সম্পূর্ণভাবেই বিধ্বস্ত হয়ে পড়ে। এর ফলে মুক্তিযুদ্ধ-উত্তর অর্থনীতি খাদ্যশস্য, শিল্পে ব্যবহৃত কাঁচামাল, কৃষিজাত দ্রব্য এবং নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসপত্র আমদানি ও বিতরণ প্রায় বন্ধ হয়ে যায়। এই পরিস্থিতিতে পুনর্গঠন কাজকে সর্বাধিক গুরুত্ব দিয়ে সব ধরনের সুযোগ-সুবিধা, নৌপরিবহন এবং অন্যান্য ক্ষতিপূরণের উদ্যোগ নেন এবং বেসামরিক বিমান চলাচলের ওপর গুরুত্ব দেন। বিদ্যুৎ ব্যবস্থাও ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত ছিলো। দ্রুত সময়ের মধ্যে ট্রান্সমিশন ও বিতরণ লাইন নির্মাণের মাধ্যমে বিদ্যুৎ ব্যবস্থা করা হয়। খাদ্য উৎপাদনে সবচেয়ে বেশি ভর্তুকি দিয়ে চাষাবাদে যান্ত্রিক পদ্ধতি প্রবর্তন করেন। কৃষকের মাঝে সার, ওষুধপত্র ও উন্নতমানের বীজ প্রদান করেন। শিক্ষিত ও দক্ষ মানবসম্পদে পরিণত করার পরিকল্পনা করে জাতীয় শিক্ষা কমিশন গঠন করেন। স্কুল ও কলেজগুলোকে জাতীয়করণ করে উচ্চশিক্ষার জন্য মঞ্জুরি কমিশন গঠন করেন। এই পুনর্গঠনে অনেক বন্ধুরাষ্ট্র সাহায্য দিয়েছিলো, যেগুলো পরিশোধ করার প্রয়োজন ছিল না। ভারত, রাশিয়া, যুক্তরাজ্য, যুবসমাজকে দেশপ্রেমের আদর্শে উদ্দীপ্ত করতে তিনি উপদেশ-নির্দেশ দিতেন। ১৯৭৩ সালে ছাত্রলীগের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে বলেন, বাংলার মানুষ, বিশেষ করে তরুণ সম্প্রদায়কে আমাদের ইতিহাস জানতে হবে। বাংলার যে ছেলে তার অতীত বংশধরদের ঐতিহ্য সম্পর্কে জানতে পারে না, সে ছেলে সত্যিকারের বাঙালি হতে পারে না। তিনি এ বিষয়ে বিভিন্ন পরিকল্পনা গ্রহণ করেছিলেন। কারিগরি ও বৃত্তিমূলক শিক্ষার গুরুত্ব বর্তমানেও অধিক। চতুর্থ শিল্প বিপ্লব উপযোগী দক্ষ যুবশক্তি গড়ে তোলার ক্ষেত্রেও বঙ্গবন্ধুর যুবভাবনা ও চিন্তা-চেতনা প্রাসঙ্গিক। এখন বর্তমান চতুর্থ শিল্প বিপ্লবের জন্য প্রয়োজন প্রযুক্তি, রোবটিকস, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও আইওটি জানা নতুন প্রজন্ম ও দক্ষ যুবসমাজ গড়ে তোলা। তবে এ ক্ষেত্রে কৃত্রিম চেতনা ও কৃত্রিম মনোভাবের প্রজন্ম যেন গড়ে না ওঠে, সে ব্যাপারে অধিক সচেতনতা প্রয়োজন। বঙ্গবন্ধুর ভাবনার খাঁটি, দক্ষ, সৎ ও বাঙালি চেতনায় উদ্বুদ্ধ দেশপ্রেমী যুবসমাজই হলো আমাদের সম্পদ, সোনার বাংলা গড়ার দক্ষ কারিগর।

বঙ্গবন্ধুর সকল আন্দোলন-সংগ্রামে এবং মহান মুক্তিযুদ্ধে গণমাধ্যমের ভূমিকা ছিল অসীম। ভাষা আন্দোলন, ছয় দফা, দেশের জনগণের বেঁচে থাকার দাবি হিসেবে উপস্থাপনে গণমাধ্যমের অসামান্য অবদান। মুক্তিযুদ্ধের সময় সংবাদপত্র এবং ইলেকট্রনিক মিডিয়াকে গণমাধ্যম বলে আখ্যায়িত করেন, শুধু সংবাদ মাধ্যম নয়। বঙ্গবন্ধু সারাজীবন মত প্রকাশের স্বাধীনতার কথা বলেছেন। গণমাধ্যমের গুরুত্ব সম্পর্কে কথা বলার সময় বঙ্গবন্ধু তার স্মৃতি উল্লেখ করেন যে, আমার বাবা বাড়িতে সংবাদপত্র রাখতেন; আনন্দবাজার, বসুমতী, আজাদ, মাসিক মোহাম্মদী এবং সওগাত

বঙ্গবন্ধু ১৯৪৮ সালের জানুয়ারিতে হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দীর আর্থিক সহায়তায় তারা দৈনিক ইত্তেহাদ প্রকাশ করেন। এই পত্রিকার সম্পাদক ছিলেন আবুল মনসুর আহমেদ। ম্যাগাজিনটি ওই সময় সবার দৃষ্টি আকর্ষণ করেছিল আধুনিক ম্যাগাজিন হিসেবে সম্পূর্ণ নতুন রূপে। বঙ্গবন্ধু নিজেই অক্লান্ত পরিশ্রম করে পত্রিকাটি বাজারজাত করেন। তিনি পত্রিকার ব্যবস্থাপনায় একজন দায়িত্বশীল পরামর্শকও ছিলেন। ১৯৪৯ সালে আওয়ামী মুসলিম লীগ প্রতিষ্ঠিত হলে সাপ্তাহিক ইত্তেফাক পাত্রিকার মুখপত্র হিসেবে প্রকাশিত হয়। মওলানা ভাসানী সম্পাদক ছিলেন, ইয়ার মোহাম্মদ খান প্রকাশক ছিলেন, তফাজ্জল হোসেন (মানিক মিয়া) পত্রিকা পরিচালনার দায়িত্বে ছিলেন। হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী পত্রিকার অর্থায়ন করতেন। দলীয় কর্মীদের মাঝেও বঙ্গবন্ধু এই পত্রিকার বিক্রির ব্যবস্থা করেন।

সংবাদপত্রগুলি সংবাদ, কলাম এবং সম্পাদকীয়তে, শোষণ, নির্যাতন এবং বৈষম্যের সঠিক চিত্র তুলে ধরেছিল। পরবর্তীতে ১৯৭০ সালের নির্বাচন এবং একাত্তরের অসহযোগ আন্দোলনের সময় দৈনিকগুলোও দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করে। তারা বঙ্গবন্ধুর সকল সিদ্ধান্ত, নির্দেশনা, বিবৃতি এবং বক্তৃতা প্রথম পৃষ্ঠায় ছাপিয়েছে। সংবাদপত্র জনগণকে অনুপ্রাণিত করার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখেছে, তারা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবের নেতৃত্বকে পূর্ণ সমর্থন দিয়েছে। অবিসংবাদিত নেতা হিসেবে গণমাধ্যমে বঙ্গবন্ধুর নেতৃত্ব গ্রহণযোগ্য ছিল। ১৯৭২ সালের ১০ জানুয়ারি বঙ্গবন্ধুর ঐতিহাসিক স্বদেশ প্রত্যাবর্তনকে সংবাদপত্রগুলি সেই মহান মানুষ আসে বলে বর্ণনা করে। বঙ্গবন্ধু প্রথম সাংবাদিকদের বাক স্বাধীনতা রক্ষা করেন। গণমাধ্যমকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন এবং সাংবাদিকদের বেতন ভাতা, সংবাদপত্রের স্বাধীনতা এবং গণমাধ্যমের জাতীয় স্বীকৃতির ব্যবস্থা করেন। বঙ্গবন্ধু জানতেন ষড়যন্ত্র হচ্ছে। কিন্তু দেশের মানুষ তাঁকে হত্যার ষড়যন্ত্র করছে, এটা তিনি কল্পনাও করতে পারতেন না। জ্যামাইকায় কমনওয়েলথ সম্মেলনে ভারতের তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধী সাক্ষাতে বললেন, শেখ সাহেব, আমাদের কাছে ভীতিকর খবর আছে। আপনার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র চলছে। উত্তরে বঙ্গবন্ধু বললেন, ম্যাডাম ইন্দিরা, চিন্তা করবেন না। কোন বাঙালি আমাকে স্পর্শ করবে না। যদি তারা করে, আমি গলায় চাদর জড়িয়ে গ্রামে ফিরে যাব। শেখ মুজিব ক্ষমতার অধিকারী নন।

খুনিদের পরিকল্পনার বিষয়গুলো বঙ্গবন্ধু কখনো বিশ্বাস করেননি। কিছু শুভাকাঙ্ক্ষী তাঁকে সতর্ক করার চেষ্টা করেন, কিন্তু তিনি তাদের সতর্কবাণীগুলোকে এড়িয়ে গিয়ে বলেছিলেন, বাংলাদেশের মানুষ কখনোই তাঁর কোন ক্ষতি করবে না। জীবনের জন্য হুমকি আছে তা জানা সত্তে¡ও বঙ্গবন্ধু কখনো বিষয়টির প্রতি মনোযোগ ও গুরুত্ব কোনটাই দেননি। বিশেষজ্ঞরা মনে করেন যে, অসহিষ্ণু রাজনৈতিক পরিবেশ বঙ্গবন্ধুর হত্যার পথ প্রশস্ত করেছিলো। সদ্য স্বাধীন দেশে বিরোধী রাজনৈতিক শক্তির উত্থান, একাত্তরের পরাজিত বাহিনীর গোপন কর্মকাণ্ড, অন্যদিকে চরমপন্থী বাম দলের উত্থানের কারণে মানুষ বিভ্রান্ত হয়ে পড়ছিলো। ষড়যন্ত্রকারীরা এই সুযোগের সদ্ব্যবহার করে। খুনিরা তাদের লক্ষ্য পূরণ করে। সফল মিশন শেষে বাংলাদেশকে পেছনের দিকে নিয়ে যাওয়া শুরু হয়। বিশ্লেষকদের মতে, এটা মোটেও সহজ কাজ নয় যে, কিছু সংখ্যক সেনা সদস্য জাতির পিতাকে তাদের পরিবারসহ নিরস্ত্র মানুষদের ট্যাঙ্ক নিয়ে গিয়ে সপরিবারে হত্যা করবে পাশাপাশি রেডিও এবং টেলিভিশনে গিয়ে জাতির কাছে বঙ্গবন্ধু হত্যার খবর দেবে। গবেষকদের মতে, মুজিব হত্যার দুটি মাত্রা রয়েছে। একটি অভ্যন্তরীণ রাজনীতি এবং অন্যটি আন্তর্জাতিক। বিচারে এর কোনোটাই আসেনি। ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট বঙ্গবন্ধুর নৃশংসভাবে হত্যা পর তাঁর পরিবারের সদস্যদেরও হত্যা করা হয় যাতে কেউ আওয়ামী লীগের হাল ধরতে না পারে। বঙ্গবন্ধুর আদর্শকে হত্যার জন্য, দলের চার জাতীয় নেতাকেও ৩রা নভেম্বর কারাগারে নির্মমভাবে হত্যা করা হয়। প্রবীণ নেতাদের কেউ কেউ বঙ্গবন্ধুর রক্তের সিঁড়ি বেয়ে খন্দকার মোশতাকের মন্ত্রিসভায় যোগ দেন।

১৫ আগস্ট বাঙালি জাতির স্বপ্নদ্রষ্টা বঙ্গবন্ধুকে হত্যার মাধ্যমে সাহসী বাঙালিরা নিজেদেরকে একটি বিশ্বাসঘাতক, কাপুরুষ-আত্মঘাতী জাতি হিসেবে বিশ্বের কাছে পরিচয় করিয়ে দেয়। জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বাঙালি জাতির চেতনার নাম, একটি স্বপ্নের নাম, সৃষ্টির ইতিহাসের নাম, আকাক্সক্ষার নাম, সংগ্রামের নাম এবং সাফল্যের নাম। তিনি ইতিহাসের মহানায়ক। বঙ্গবন্ধু চিরকাল বাঙালির হৃদয়ে অমর হয়ে আছেন এবং থাকবেন। ১৯৭৫ এর ১৫ আগস্ট বঙ্গবন্ধুর নৃশংস হত্যাকাণ্ডের পর দেশের উন্নয়নের গতি সাময়িক থেমে যায়। সেই দুঃসময়ে শেখ হাসিনা চরম দুঃসময়ে ঐক্যের প্রতীক হিসেবে আওয়ামী লীগ সভানেত্রী হিসেবে হাল ধরেছেন। গণতন্ত্রের সংগ্রামে দীর্ঘ পথ হেঁটেছেন। বার বার মৃত্যুর মুখ থেকে ফিরে এসেছেন। আওয়ামী লীগকে জনপ্রিয় দল হিসেবে ২১ বছর পর ক্ষমতায় এনেছেন ১৯৯৬ সালে এবং গণতন্ত্রকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দেয়ার জন্য নিরলস কাজ করছেন। স্বাধীন দেশ পেয়েছি বলেই আমরা স্বাধীনভাবে সব কিছু চিন্তা করতে পারি। সমাজ ও অর্থনীতির বিভিন্ন সূচকে আমাদের সাফল্য বিশ্ববাসীর বিস্ময়মুগ্ধ মনোযোগের কেন্দ্রবিন্দু হয়ে উঠেছে তা বঙ্গবন্ধুর কল্যাণেই সম্ভব হয়েছে। বলা বাহুল্য, যে এ সবই সম্ভব হয়েছে বঙ্গবন্ধুর স্বাধীনতার কল্যাণে। স্বাধীনতার মহান স্থপতি হিসেবে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান শুধু যে সম্ভাবনার অসীম সেই দিগন্ত উন্মোচন করেছেন তাই নয়, একই সাথে হতাশাক্লিষ্ট জাতিকে উদ্বুদ্ধ করেছেন ভয়কে জয় করার জন্য, মৃত্যুঞ্জয়ী মন্ত্রেও দিক্ষিত করেছেন পুরো জাতিকে।

গত এক যুগে দেশের অনেক উন্নতি হয়েছে। বাংলাদেশ আজ দক্ষিণ এশিয়া তো বটেই, বিশ্বের অন্যতম সমৃদ্ধশালী রাষ্ট্র। নিন্দুকদের তলাবিহীন ঝুড়ি মন্তব্যকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে ৫০ বছরেই উন্নয়নশীল দেশের কাতারে শামিল হতে যাচ্ছে। যেখানে এখন মাথাপিছু আয় ২৫৫৪ ডলার। এই মুহূর্তে সামাজিক ও অর্থনীতির বেশকিছু সূচকে বিশ্বে উন্নয়নের রোল মডেল বাংলাদেশ। দারিদ্র্য বিমোচন, জিডিপি প্রবৃদ্ধি, খাদ্য উৎপাদন, বিদ্যুৎ উৎপাদন, নারীর ক্ষমতায়ন, গড় আয়ু বৃদ্ধি, শিক্ষার হার বৃদ্ধি, উন্নয়নশীল দেশে উত্তরণ, মধ্যম আয়ের দেশসহ, নিজস্ব অর্থায়নে পদ্মা সেতু নির্মাণ, মেট্রোরেলসহ ভৌত কাঠামো উন্নয়নে বাংলাদেশের বিশেষ অর্জন রয়েছে। বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট-১ উৎক্ষেপণের মধ্য দিয়ে মহাকাশ জয় করেছে লাল-সবুজের সোনার বাংলা। ডিজিটাল বাংলাদেশের অংশ হিসাবে ইন্টারনেট সেবা পৌঁছেছে প্রত্যন্ত গ্রামে। হাতে হাতে মোবাইল ফোন, যা যোগাযোগমাধ্যমে যুগান্তকারী পরিবর্তন নিয়ে এসেছে। ইতোমধ্যে চালু হয়েছে সর্বাধুনিক ফাইভজি টেকনোলজি। ২০৩০ সালে এসডিজি অর্জন এবং ২০৪১ উন্নত দেশের স্বপ্ন বাস্তবায়নের পথে এক দুর্বার গতিতে চলছে দেশ।

লেখক : প্রাবন্ধিক ও গবেষক


আরও খবর

দুর্নীতিবিরোধী বঙ্গবন্ধু

সোমবার ১৫ আগস্ট ২০২২




প্রতিমা বিসর্জনের মধ্য দিয়ে শেষ হলো দুর্গোৎসব

প্রকাশিত:বুধবার ০৫ অক্টোবর ২০২২ | হালনাগাদ:শুক্রবার ০৭ অক্টোবর ২০২২ | ৩৫জন দেখেছেন
নিউজ পোস্ট ডেস্ক

Image

বিজয়া দশমী ও প্রতিমা বিসর্জনের মধ্য দিয়ে রাজধানীসহ সারাদেশে বুধবার শেষ হয়েছে হিন্দু সম্প্রদায়ের প্রধান ধর্মীয় উৎসব শারদীয় দুর্গাপূজা।

সনাতন ধর্মাবলম্বীদের বিশ্বাস, মানুষের মনের আসুরিক প্রবৃত্তি কাম, ক্রোধ, হিংসা, লালসা বিসর্জন দেয়াই মূলত বিজয়া দশমীর মূল তাৎপর্য। এ প্রবৃত্তিগুলোকে বিসর্জন দিয়ে একে অন্যের সঙ্গে ভ্রাতৃত্বের বন্ধনে আবদ্ধ হয়ে বিশ্বে শান্তি প্রতিষ্ঠা করাই এ আয়োজনের উদ্দেশ্য।

চন্ডীপাঠ, বোধন ও অধিবাসের মধ্যদিয়ে ষষ্ঠী তিথিতে আনন্দময়ীর আগমনে গত ১ অক্টোবর থেকে দেশের হিন্দু সম্প্রদায়ের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব শারদীয় দুর্গোৎসবের সূচনা হয়। পরবর্তী ৫দিন রাজধানীসহ দেশব্যাপি পূজামন্ডপগুলোতে পূজা-অর্চণার মধ্যদিয়ে ভক্তরা দেবী দুর্গার প্রতি শ্রদ্ধার্ঘ্য নিবেদন করেন। দশমী তিথিতে প্রতিমা বিসর্জনের মধ্য দিয়ে তা শেষ হয়।

এবার দেবী দুর্গা জগতের মঙ্গল কামনায় গজে (হাতি) চড়ে মর্ত্যালোকে (পৃথিবী) আসেন। এতে প্রাকৃতিক বিপর্যয় ঝড় বৃষ্টি হবে এবং শস্য ও ফসল উৎপাদন বৃদ্ধি পাবে। অন্যদিকে স্বর্গে বিদায় নেন নৌকায় চড়ে। যার ফলে জগতের কল্যাণ সাধিত হবে। বুধবার সকাল ৮ টা ৫০ মিনিটে দর্পণ-বিসর্জনের মাধ্যমে বিদায় জানানো হয় দেবী দুর্গাকে। পরে বিকেল ৪টা থেকে শুরু হয় প্রতিমা বিসর্জন।

সনাতন ধর্মের বিশ্বাস অনুযায়ী, বিসর্জনের মধ্য দিয়ে দেবী ফিরে গেলেন স্বর্গলোকের কৈলাসে স্বামীর ঘরে। পরের বছর শরতে আবার তিনি আসবেন এই ধরণীতে যা তার বাবার গৃহ। প্রতিমা বিসর্জনের জন্য সব ধরণের নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।

ঢাকের বাদ্য আর গান-বাজনা ছাড়া বিদায়ের করুণ ছায়ায় সারিবদ্ধভাবে একে একে বুড়িগঙ্গা নদীতে বিসর্জন দেয়া হয় প্রতিমা। একই সময়ে তুরাগ নদীতে চলে বিসর্জন। রাজধানীর প্রায় অর্ধশত মন্ডপের প্রতিমা বিসর্জন দেয়া হয় ওয়াইজঘাটে। সড়কে পুলিশের টহল ও নদীতে ছিল নৌপুলিশের টহল। ফায়ার সার্ভিসের টিমও দায়িত্ব পালন করে।

এর আগে সকালে প্রতিমা বিসর্জনের উদ্দেশ্যে রাজধানীর ঢাকেশ্বরী মন্দির মেলাঙ্গন থেকে কেন্দ্রীয় বিজয়া শোভাযাত্রা বের হয়। দুপুরে পূজা উদযাপন পরিষদ এবং মহানগর সার্বজনীন পূজা কমিটির যৌথ উদ্যোগে বের হয় বর্ণাঢ্য এ বিজয়া শোভাযাত্রা। বিজয়া শোভাযাত্রা ও প্রতিমা বিসর্জনে অংশ নিতে দুপুর গড়িয়ে যেতেই ভক্তরা রাজধানীর বিভিন্ন এলাকার পূজামন্ডপ থেকে ট্রাকে করে প্রতিমা নিয়ে সমবেত হতে শুরু করেন ঢাকেশ্বরী জাতীয় মন্দির প্রাঙ্গণে।

পরে শত শত ট্রাক প্রতিমা নিয়ে সদরঘাটের উদ্দেশে রওনা দেয়। ঢাকেশ্বরী থেকে শুরু করে প্রতিমা যাত্রাটি শহীদ মিনার, হাইকোর্ট, পুলিশ হেড কোয়ার্টার, গোলাপ শাহ মাজার, কোর্ট এলাকা হয়ে সদরঘাট পৌঁছে। রাস্তায়, বিভিন্ন ভবনে পুলিশ ছিল সতর্কাবস্থায়। রাস্তার পাশে দর্শনার্থীদের ভিড় ছিল চোখে পড়ার মতো।

অধিকাংশ মন্ডপের প্রতিমা বিসর্জন দেয়া হলেও ঢাকেশ্বরী মন্দিরের প্রতিমাটি রেখে দেয়া হয়। কিন্তু পূজার কাজে ব্যবহৃত দেবীর ফুল, বেলপাতা ও ঘট বিসর্জন দেয়া হয়।

প্রথা অনুযায়ী প্রতিমা বিসর্জনের পর সেখান থেকে জল এনে (শান্তিজল) মঙ্গলঘটে নিয়ে তা আবার হৃদয়ে ধারণ করা হয়। আগামী বছর আবার এ শান্তিজল হৃদয় থেকে ঘটে, ঘট থেকে প্রতিমায় রেখে পূজা করা হবে। রামকৃষ্ণ মিশনে সন্ধ্যা আরতির পর মিশনের পুকুরে প্রতিমা বিসর্জন দেয়া হয়। এরপর ভক্তরা শান্তিজল গ্রহণ করেন ও মিষ্টিমুখ করেন।

সারাদেশে এবছর ৩২ হাজার ১৬৮টি মন্ডপে দুর্গাপূজা অনুষ্ঠিত হয়। ঢাকা মহানগরে পূজার সংখ্যা ২৪১টি। এসব মন্ডপে শারদীয় উৎসব নির্বিঘ্নে উদযাপন করার জন্য প্রশাসনের পাশাপাশি প্রতিটি পূজা উদযাপন কমিটিও নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে। প্রতিটি মন্ডপে মন্ডপে লাগানো হয়েছে সিসিটিভি ক্যামেরা এবং স্বেচ্ছাসেবক দলের কমিটি করা হয়েছে মন্ডপ পাহারার জন্য।


আরও খবর

আজ কৈলাসে ফিরবেন দেবী

বুধবার ০৫ অক্টোবর ২০২২

বিজয়া দশমী আজ

বুধবার ০৫ অক্টোবর ২০২২




আন্দোলন চলছে, চলবে: মির্জা ফখরুল

প্রকাশিত:শুক্রবার ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২২ | হালনাগাদ:বৃহস্পতিবার ০৬ অক্টোবর ২০২২ | ৩৬জন দেখেছেন
নিউজ পোস্ট ডেস্ক

Image

বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, আন্দোলন শুরু হয়ে গেছে, আন্দোলন চলছে, আন্দোলন চলবে। এই সরকারের পতন না হওয়া পর্যন্ত...।

আজ শুক্রবার বিএনপির স্থায়ী কমিটির প্রয়াত সদস্য ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) আ স ম হান্নান শাহর ষষ্ঠ মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত স্মৃতিচারণ ও আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন মির্জা ফখরুল।

বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, নির্বাচনকালীন সময়ে যদি দলীয় সরকার থাকে, বিশেষ করে আওয়ামী লীগের সরকার থাকে তাহলে নির্বাচন সুষ্ঠু হবে না। সেই কারণে আমরা বলছি, নির্বাচন যদি হতে হয়, তাহলে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনেই হতে হবে। অন্যথায় কোনো নির্বাচন এই বাংলাদেশের মাটিতে হবে না, নির্বাচন হতে দেওয়া হবে না।

বিএনপি মহাসচিব অভিযোগ করে বলেন, এই সরকার আদালতকে কুক্ষিগত করেছে। দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে মিথ্যা মামলায় সাজা দিয়ে আটক রেখে জামিন দেওয়া হচ্ছে না। অথচ যারা ক্যাসিনো মামলার আসামি, জালিয়াতির আসামি, ব্যাংক ডাকাতি করছে, মানুষ খুন করছে তাদেরকে সঙ্গে সঙ্গে জামিন দেওয়া হচ্ছে। কারণ তিনি জামিন পেয়ে বাইরে বের হয়ে আসলে, তারা মনে করেন হ্যামিলনের বংশিবাদকের মতো হাজার হাজার, লাখ লাখ মানুষ বের হয়ে আসবে। আর এই সরকারের গদি উল্টে যাবে।

মির্জা ফখরুল বলেন, আমরা কারও দয়ায় এই দেশটি পাইনি। যুদ্ধ করে দেশটি পেয়েছি। আমরা যুদ্ধ করেছি দেশের জন্য, যুদ্ধ করেছি গণতন্ত্রের জন্য। সেই দেশটি কিছু সংখ্যক লুটেরাদের হাতে, কিছু সংখ্যক দুর্বৃত্তদের হাতে দিয়ে দিতে পারি না।

তিনি বলেন, ওবায়দুল কাদের সাহেব চিৎকার করে বলেন আমরা দিবা স্বপ্ন দেখি, তিনি বলছেন তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে নির্বাচন হবে না। কেন রে ভাই? তত্ত্বাবধায়ক সরকারের নির্বাচনে এত ভয় কেন? কারণ আপনারা জানেন তত্ত্বাবধায়ক ও নির্দলীয় সরকারের অধীনে নির্বাচন হলে জীবনেও ক্ষমতায় আসতে পারবেন না। বিশটি আসন‌‌‌ও পাবেন না আপনারা। তাই তারা বলছে, তত্ত্বাবধক সরকারের অধীনে নির্বাচন হবে না। আমাদের কথাও পরিস্কার, তত্ত্বাবধায়ক সরকার হতে হবে, তা না হলে কোনো নির্বাচন হবে না।’

আজ জেলার কাপাসিয়া উপজেলার ঘাগটিয়া চালা ময়দানে এ স্মরণসভা অনুষ্ঠিত হয়। গাজীপুর জেলা বিএনপির সভাপতি ফজলুল হক মিলনের সভাপতিত্বে ও কাপাসিয়া উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক খন্দকার আজিজুর রহমান প্যারার সঞ্চালনায় জেলা বিএনপি সাধারণ সম্পাদক ও মরহুম হান্নান শাহ’র ছেলে শাহ রিয়াজুল হান্নান, বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব খায়রুল কবির খোকন, কামরুজ্জামান রতন, সহ সাংগঠনিক বেনজির আহমেদ টিটু, হুমায়ুন কবির খান, রফিকুল ইসলাম, কাজী ছাইয়েদুল আলম বাবুল, মেয়র মুজিবুর রহমান, ওমর ফারুক প্রমুখ বক্তব্য দেন।

এর আগে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর দলীয় নেতাদের সঙ্গে নিয়ে মরহুম হান্নান শাহ’র আত্মার শান্তি কামনা করে কবর জিয়ারত করেন।


আরও খবর



আনুশকা লৌহমানবী, কোহলি ইস্পাতমানব : শোয়েব আখতার

প্রকাশিত:শনিবার ১০ সেপ্টেম্বর ২০২২ | হালনাগাদ:শুক্রবার ০৭ অক্টোবর ২০২২ | ৫২জন দেখেছেন
নিউজ পোস্ট ডেস্ক

Image

দীর্ঘ অপেক্ষার পর আন্তর্জাতিক শতরান পেয়েছেন বিরাট কোহলি। ম্যাচের পরে নিজের বক্তব্যে যাবতীয় কৃতিত্ব দিয়েছেন স্ত্রী আনুশকা শর্মাকে। এবার আনুশকার প্রশংসায় মাতলেন শোয়েব আখতার। পাকিস্তানের সাবেক এই বোলার আনুশকাকে লৌহমানবী বলে অভিহিত করেছেন।

নিজের ইউটিউব চ্যানেলে শোয়েব বলেছেন, ম্যাচের পর কোহলি নিজেই বলল, অনুশকা ওর জীবনের সবচেয়ে খারাপ অধ্যায় দেখেছে। নিজের স্ত্রী-র ব্যাপারে এমন কথা বলা দারুণ গর্বের ব্যাপার। অনুশকা শর্মাকে টুপি খুলে কুর্নিশ। তুমি লৌহমানবী। কোহলি ইস্পাতমানব।

এখানেই না থেমে শোয়েব বলেছেন, অনেক শুভেচ্ছা তোমাকে কোহলি। চাপের মুখে কীভাবে স্নায়ু ঠিক রাখতে হয় সেটা দেখিয়ে দিয়েছো। এভাবেই এগিয়ে যেতে থাকো, আরও ভালো মানুষ হও। তুমি বরাবর সত্যের ওপর ভরসা রাখো। তাই তোমার সঙ্গে কোনো দিন খারাপ কিছু হতে পারে না। ক্রিকেটের ইতিহাসে অন্যতম সেরা বলেই লোকে তোমাকে মনে রাখবে।

প্রসঙ্গত, বৃহস্পতিবারের ম্যাচের পর কোহলি বলেন, বাইরে থেকে অনেকে অনেক কথাই বলছিল। আমরা পাত্তা দিইনি। শতরানের পর আংটিতে চুমু খেলাম। কারণ, আমার ফিরে আসা এবং সবসময় পাশে দাঁড়ানোর জন্য সবচেয়ে বেশি অবদান একজন মানুষেরই রয়েছে। সে আমার স্ত্রী অনুশকা শর্মা। এই শতরান সবার আগে ওকে এবং আমাদের মেয়ে ভামিকাকে উৎসর্গ করছি।

কঠিন সময়ে অনুশকার সঙ্গে কথা বলেই যে তার মানসিক সমস্যা অনেকটা মিটেছে, সেটাও উঠে আসে কোহলির কথায়। বলেছেন, জীবনের কঠিন সময়ে কোনো মানুষের সঙ্গে কথাবার্তা বললে গোটা বিষয়টি খুব সহজ হয়ে যায়। আমার ক্ষেত্রে সেই কাজটা করেছে অনুশকা। কঠিন সময়ে আমার পাশে দাঁড়িয়েছে। খেলা থেকে দূরে থাকার সময় অনেক কিছু শিখেছি। দলে ফেরার পর এমন নয় যে, কাঁড়ি কাঁড়ি রান করব ভেবে এসেছিলাম। কত দিন শতরান পাইনি সেসবও মাথায় ছিল না। শুধু ভেবেছিলাম, এই খেলা থেকে কত কী পেয়েছি!

নিউজ ট্যাগ: শোয়েব আখতার

আরও খবর

হার দিয়ে সিরিজ শুরু বাংলাদেশের

শুক্রবার ০৭ অক্টোবর ২০২২

১৬৮ রানের লক্ষ্য পেল বাংলাদেশ

শুক্রবার ০৭ অক্টোবর ২০২২




ইউরোপের তিন দেশেও সফল ‘পরাণ’

প্রকাশিত:সোমবার ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২২ | হালনাগাদ:মঙ্গলবার ০৪ অক্টোবর ২০২২ | ৩২জন দেখেছেন
নিউজ পোস্ট ডেস্ক

Image

ঈদে দেশে মুক্তির পর ব্লকবাস্টার হয়েছে রায়হান রাফী পরিচালিত ছবি পরাণ। মুক্তির আড়াই মাস পরেও সিনেপ্লেক্সগুলোতে হাউজফুল হচ্ছে।

তবে নতুন সুখবর হচ্ছে, গত সপ্তাহে দেশের বাইরেও পরাণ-এর শো হাউজফুল হয়েছে। ইউরোপের ফিনল্যান্ডে মুক্তির পর সেখানেও হাউজফুল হয়েছে বলে জানিয়েছেন সেখানকার পরিবেশক আশরাফুল আলম রনি।

তিনি বলেন, এখানকার বাংলা কমিউনিটি অনুযায়ী পরিকল্পনামাফিক যে কয়টি শো করেছি সবগুলো হাউজফুল গেছে। ফিনল্যান্ডের মত দেশে এটা বাংলা ছবির জন্য বিশাল ব্যাপার। সবার স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণে মুগ্ধ হয়েছি। এই সাফল্যের কারণে আগামীতে আমরা হাওয়া মুক্তি দিতে চাই।

ডেনমার্কেও ভালো চলছে পরাণ। তিনি জানান, ওখানেও মোটামুটি হাউজফুল গেছে। সে কারণে ২৫ তারিখেও সেখানে নতুন শো অনুষ্ঠিত হয়েছে। এর পাশাপাশি ২০ তারিখে সুইডেনেও শো হয়েছে। রবিবারও দুটি শো অনুষ্ঠিত হয়েছে। দর্শকরা ইউরোপের তিন দেশ থেকে ভালো সাড়া দিয়েছে।

এর আগে আশরাফুল আলম রনির উদ্যোগে আয়নাবাজিভুবনমাঝি দুটি ছবির প্রদর্শন হয়েছিল। তিনি বলেন, সবচেয়ে ভালো সাড়া এসেছে পরাণ থেকে। এখানে বাংলা ভাষাভাষী যারা থাকেন তাদের সংখ্যা সীমিত। তবে পরাণ দেখে প্রশংসা করেছেন। তাই আগামীতে ভালো ছবি পেলে মুক্তি দেব।

ইউরোপের এই তিন দেশের পাশাপাশি অস্ট্রেলিয়া, যুক্তরাষ্ট্রেও মুক্তি পেয়েছে পরাণ। ছবির প্রযোজক ইয়াসির আরাফাত জানান, যে দেশে মুক্তি পেয়েছে সবখানে দর্শকরা সাদরে গ্রহণ করেছে পরাণকে। পাশাপাশি দেশে মুক্তির পর ব্লকবাস্টার হিট হয়েছে পরাণ। যে পরিমাণ বাজেটে এই ছবি নির্মিত হয়েছে তারচেয়ে কয়েকগুণ বেশি লগ্নী উঠেছে। মুক্তির প্রায় আড়াই মাস হতে চলছে এখনো দর্শক আগ্রহ নিয়ে পরিবারসহ উপভোগ করছে।

পরাণ ছবির বিভিন্ন চরিত্রে অভিনয় করেছেন মিম, শরিফুল রাজ, ইয়াশ রোহান, রাশেদ মামুন, নাসির উদ্দিন, শহিদুজ্জামান সেলিম, রোজি সিদ্দিকী।

নিউজ ট্যাগ: ইউরোপ পরাণ

আরও খবর

দুরন্তপনার ৫ বছর

বৃহস্পতিবার ০৬ অক্টোবর ২০২২




ডেঙ্গু হলে দ্রুত সুস্থ হতে যেসব খাবার খাবেন

প্রকাশিত:বৃহস্পতিবার ২২ সেপ্টেম্বর 20২২ | হালনাগাদ:শুক্রবার ০৭ অক্টোবর ২০২২ | ৪০জন দেখেছেন
নিউজ পোস্ট ডেস্ক

Image

ডেঙ্গুর প্রকোপ থেকে বাঁচতে নানাভাবে সতর্ক থাকতে হবে। কিন্তু সব সময় রক্ষা পাওয়া সহজ হয় না। কোনো কারণে ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে গেলে তখন নিজের প্রতি হতে হবে আরও বেশি যত্নশীল। ডেঙ্গুর মতো রোগ নিয়ন্ত্রণ করা না গেলে তা মারাত্মক বিপদের কারণ হতে পারে। এমন কি ঘটতে পারে মৃত্যুও। ডেঙ্গুর লক্ষণগুলো জেনে রাখা জরুরি।

কোনো ধরনের উপসর্গ দেখা দিলেই যাতে সতর্ক হওয়া যায়। ডেঙ্গুর ক্ষেত্রে জ্বর, র‌্যাশ, গায়ে ও হাত-পায়ে ব্যথা ইত্যাদি হলো প্রাথমিক লক্ষণ। এই রোগে আক্রান্ত হলে শরীর অনেকটাই দুর্বল হয়ে যেতে পারে। তাই ডেঙ্গু জ্বরের লক্ষণ দেখা দিলে বা ডেঙ্গু ধরা পড়লে খেতে হবে এই ৫ খাবার-

পানি: ডেঙ্গু হলে শরীরে অনেক ধরনের সমস্যা তৈরি হতে পারে। বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই শরীরে পানির ঘাটতি দেখা দেয়। যে কারণে এই জ্বরে আক্রান্ত হলে দিনে অন্তত তিন লিটার পানি পান করতে হবে। সেইসঙ্গে খেতে হবে তাজা ফলের রস, ডাবের পানি, আখের রস ইত্যাদি। এতে দ্রুত সুস্থ হওয়া সহজ হবে।

মাছ ও ডিম: রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে নিয়মিত মাছ ও ডিম খাওয়া জরুরি। ডেঙ্গু রোগীর জন্যও এটি অবশ্য করণীয়। এক্ষেত্রে খেতে হবে ছোট মাছ। এতে তেল কম ও প্রোটিন বেশি থাকে। শরীরে শক্তি জোগানোর জন্য প্রোটিন খুব জরুরি। সেইসঙ্গে ডিমেও থাকে প্রচুর প্রোটিন। এছাড়া থাকে ক্যালসিয়াম, ভিটামিন ডি-সহ নানা উপাদান। তাই ডেঙ্গু থেকে দ্রুত সুস্থ হতে মাছ ও ডিম খান নিয়মিত।

মুরগির মাংস: ডেঙ্গু রোগীদের ক্ষেত্রে মুরগির মাংস খাওয়া উপকারী। মুরগির মাংসে থাকে যথেষ্ট প্রোটিন। এছাড়া ফ্যাট থাকে অনেক কম। যে কারণে শরীরে শক্তি পাওয়া যায় পর্যাপ্ত। মাসল লস হয় না। তাই দ্রুত সুস্থ হতে মুরগির মাংস খান। অতিরিক্ত মসলাদার নয়, অল্প মসলায় রান্না করা বা মুরগির মাংসের স্যুপ খান।

ফল: ডেঙ্গু রোগীদের জন্য কার্যকরী একটি খাবার হলো ফল। এতে আছে প্রচুর ভিটামিন, খনিজ ও অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট। শরীর ভালো রাখতে সাহায্য করে বিভিন্ন ধরনের ফল। এক্ষেত্রে পেঁপে, আপেল, পেয়ারা ও মৌসুমী বিভিন্ন ফল খান।

সবজি: সুস্থ থাকার জন্য সবজি খাওয়ার বিকল্প নেই। সবজি খেলে শরীরে ফাইবারের ঘাটতি পূরণ হয়। ফাইবার শরীর ভালো রাখতে কাজ করে। সেইসঙ্গে সবজিতে থাকে পর্যাপ্ত ভিটামিন, খনিজ ও অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট। যে কারণে পর্যাপ্ত সবজি খেলে ডেঙ্গুকে কাবু করা সহজ হয়।


আরও খবর

করোনায় একজনের মৃত্যু, কমেছে শনাক্ত

বৃহস্পতিবার ০৬ অক্টোবর ২০২২