Logo
শিরোনাম

বঙ্গবন্ধুর হাতেই শুরু বাংলাদেশের অগ্রযাত্রা

প্রকাশিত:সোমবার ১৫ আগস্ট ২০২২ | হালনাগাদ:শুক্রবার ২৭ জানুয়ারী ২০২৩ | ২২৭জন দেখেছেন
নিউজ পোস্ট ডেস্ক

Image

হীরেন পণ্ডিত

১৯৭২ সালের ৮ জানুয়ারি পাকিস্তানের কারাগার থেকে মুক্তি পেয়ে লন্ডন হয়ে ৯ জানুয়ারি বঙ্গবন্ধু দেশের উদ্দেশে রওনা হলেন। ১০ জানুয়ারি সকালে বঙ্গবন্ধু দিল্লিতে সংক্ষিপ্ত যাত্রাবিরতি করে যাত্রা করেন ঢাকার উদ্দেশে। বিমানটি তেজগাঁও বিমানবন্দর স্পর্শ করে বিকেল ৩টায়। সেখান থেকে ঐতিহাসিক রেসকোর্স ময়দানে লাখ লাখ বাঙালির ভালোবাসা আর স্নেহের পরশ ভেদ করে পৌঁছাতে বঙ্গবন্ধুর সময় লেগেছিল আড়াই ঘণ্টা। রেসকোর্সে লাখো জনতার মাঝ থেকে বঙ্গবন্ধু বাসায় পৌঁছেন সন্ধ্যা ৬টায়। এত দীর্ঘ পথযাত্রা, দীর্ঘ আনুষ্ঠানিকতা, জনসভা, আবেগ-উচ্ছ্বাস-কান্না বিনিময়ের পর ১১ জানুয়ারি থেকে বঙ্গবন্ধু সব ক্লান্তি-ভাবাবেগ উপেক্ষা করে এক মুহূর্ত বিলম্ব না করে দেশ পরিচালনা শুরু করেন। সেদিনই মন্ত্রিসভার সঙ্গে দুদফা বৈঠক করেন এবং বৈঠকে সংবিধান প্রণয়নসহ অনেক গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। সংবিধানের শুরুতেই তিনি বলেন বাংলাদেশের রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক ব্যবস্থার ভিত্তি হবে বাঙালি জাতীয়তাবাদ, গণতন্ত্র, সমাজতন্ত্র ও ধর্মনিরপেক্ষতা। ১৯৭০ সালের নির্বাচনী ইশতেহারে উল্লেখ করা ছিল দেশের অর্থনীতিতে সমাজতান্ত্রিক উন্নয়ন ও পরিবর্তন আনতে হবে। অর্থনীতিবিদরা এটিকে ব্যাখ্যা করেছিলেন দারিদ্র্য বিমোচন ও বৈষম্য দূরীকরণ এবং পরিকল্পিত উন্নয়ন ব্যবস্থার মাধ্যমে দেশের অর্থনীতিকে উন্নয়নের পথে নিয়ে যাওয়া। এ ভিত্তিতেই তদানীন্তন অর্থমন্ত্রী তাজউদ্দীনের ১৯৭২-৭৩ সালের বাজেট প্রণীত হয়েছিল, যেটিতে সংবিধানের মূলনীতিগুলোর প্রতিফলন ছিল। বঙ্গবন্ধুর অর্থনৈতিক দর্শনের কিছু মধ্য ও দীর্ঘমেয়াদি লক্ষ্য ছিল, স্বনির্ভরতা অর্জন, দেশের অভ্যন্তরীণ সম্পদের সর্বোচ্চ ব্যবহার, বৈদেশিক সহায়তা গ্রহণ ও ব্যবহার, যা হতে হবে শর্তবিহীন এবং ক্রমে এ নির্ভরতার অংশ কমিয়ে আনতে হবে। বেসরকারি খাতকেও উন্নয়ন কর্মকাণ্ড ও শিল্পায়নে সম্পৃক্ত করা। ১৯৭২ সালে বেসরকারি খাতে বিনিয়োগের উচ্চসীমা নির্ধারণ করা হয়েছিল ২৫ লাখ টাকা, যা ১৯৭৪ সালে ৩ কোটিতে বর্ধিত করা হয়।

সংবিধানে বঙ্গবন্ধুর দেশের সার্বিক উন্নয়নের যে চিন্তা ও নির্দেশনা ছিল, সেগুলো বর্ণিত হয়েছে সংবিধানের দ্বিতীয় ভাগের অনুচ্ছেদগুলোতে। স্থানীয় শাসনসংক্রান্ত প্রতিষ্ঠানগুলোর উন্নয়ন, জাতীয় জীবনে নারীদের অংশগ্রহণ। ১২ জানুয়ারি বঙ্গবন্ধু অস্থায়ী সংবিধান অনুযায়ী প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব গ্রহণ করেন এবং নতুন মন্ত্রিপরিষদ গঠন করেন। বঙ্গবন্ধুর ঐতিহাসিক ৭ই মার্চের ভাষণের পর থেকে বস্তুত তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানে সরকারি-বেসরকারি সব সংস্থাসহ সারা দেশ বঙ্গবন্ধুর নির্দেশে চলতে থাকে এবং সেনাবাহিনীর বাঙালি অংশ বঙ্গবন্ধুর নির্দেশের অপেক্ষায় থাকে। যুদ্ধবিধ্বস্ত দেশকে পুনর্গঠন এবং সফলভাবে অর্থনৈতিক ও অন্যান্য খাতের বিভিন্ন চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা করেন। সদ্য স্বাধীন বাংলাদেশে ফিরে দেখলেন গুদামে খাদ্য নেই, মাঠে ফসল নেই, কেন্দ্রীয় ব্যাংকে রিজার্ভ শূন্য। বস্তুত কোনো ব্যাংকের কার্যকারিতা নেই। সড়ক ও রেলপথ বিচ্ছিন্ন, নৌ ও সমুদ্রবন্দরগুলো বিধ্বস্ত। স্কুল-কলেজগুলো ছিল পরিত্যক্ত সেনাছাউনি। পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী পরাজয় নিশ্চিত জেনে সম্ভাব্য সবকিছু ধ্বংস করে দিয়েছিল। বঙ্গবন্ধু গুরুত্ব দিয়েছেন জোটনিরপেক্ষ অবস্থান বজায় রেখে দ্রুততম সময়ের মধ্যে বিশ্বের বেশির ভাগ দেশের স্বীকৃতি আদায় এবং আন্তর্জাতিক বিভিন্ন সংস্থার সদস্যপদ লাভ করার। উদ্দেশ্য ছিল আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে বাংলাদেশকে দাঁড় করানো। তাঁর শাসনামলে মাত্র সাড়ে তিন বছর সময়ে বঙ্গবন্ধু বাংলাদেশকে ১২১ টি দেশের স্বীকৃতি এবং জাতিসংঘসহ ৩৬টি আন্তর্জাতিক সংস্থার সদস্যপদ লাভ করিয়েছেন।

মুক্তিযুদ্ধে পরিবহন ব্যবস্থা প্রায় সম্পূর্ণভাবেই বিধ্বস্ত হয়ে পড়ে। এর ফলে মুক্তিযুদ্ধ-উত্তর অর্থনীতি খাদ্যশস্য, শিল্পে ব্যবহৃত কাঁচামাল, কৃষিজাত দ্রব্য এবং নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসপত্র আমদানি ও বিতরণ প্রায় বন্ধ হয়ে যায়। এই পরিস্থিতিতে পুনর্গঠন কাজকে সর্বাধিক গুরুত্ব দিয়ে সব ধরনের সুযোগ-সুবিধা, নৌপরিবহন এবং অন্যান্য ক্ষতিপূরণের উদ্যোগ নেন এবং বেসামরিক বিমান চলাচলের ওপর গুরুত্ব দেন। বিদ্যুৎ ব্যবস্থাও ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত ছিলো। দ্রুত সময়ের মধ্যে ট্রান্সমিশন ও বিতরণ লাইন নির্মাণের মাধ্যমে বিদ্যুৎ ব্যবস্থা করা হয়। খাদ্য উৎপাদনে সবচেয়ে বেশি ভর্তুকি দিয়ে চাষাবাদে যান্ত্রিক পদ্ধতি প্রবর্তন করেন। কৃষকের মাঝে সার, ওষুধপত্র ও উন্নতমানের বীজ প্রদান করেন। শিক্ষিত ও দক্ষ মানবসম্পদে পরিণত করার পরিকল্পনা করে জাতীয় শিক্ষা কমিশন গঠন করেন। স্কুল ও কলেজগুলোকে জাতীয়করণ করে উচ্চশিক্ষার জন্য মঞ্জুরি কমিশন গঠন করেন। এই পুনর্গঠনে অনেক বন্ধুরাষ্ট্র সাহায্য দিয়েছিলো, যেগুলো পরিশোধ করার প্রয়োজন ছিল না। ভারত, রাশিয়া, যুক্তরাজ্য, যুবসমাজকে দেশপ্রেমের আদর্শে উদ্দীপ্ত করতে তিনি উপদেশ-নির্দেশ দিতেন। ১৯৭৩ সালে ছাত্রলীগের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে বলেন, বাংলার মানুষ, বিশেষ করে তরুণ সম্প্রদায়কে আমাদের ইতিহাস জানতে হবে। বাংলার যে ছেলে তার অতীত বংশধরদের ঐতিহ্য সম্পর্কে জানতে পারে না, সে ছেলে সত্যিকারের বাঙালি হতে পারে না। তিনি এ বিষয়ে বিভিন্ন পরিকল্পনা গ্রহণ করেছিলেন। কারিগরি ও বৃত্তিমূলক শিক্ষার গুরুত্ব বর্তমানেও অধিক। চতুর্থ শিল্প বিপ্লব উপযোগী দক্ষ যুবশক্তি গড়ে তোলার ক্ষেত্রেও বঙ্গবন্ধুর যুবভাবনা ও চিন্তা-চেতনা প্রাসঙ্গিক। এখন বর্তমান চতুর্থ শিল্প বিপ্লবের জন্য প্রয়োজন প্রযুক্তি, রোবটিকস, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও আইওটি জানা নতুন প্রজন্ম ও দক্ষ যুবসমাজ গড়ে তোলা। তবে এ ক্ষেত্রে কৃত্রিম চেতনা ও কৃত্রিম মনোভাবের প্রজন্ম যেন গড়ে না ওঠে, সে ব্যাপারে অধিক সচেতনতা প্রয়োজন। বঙ্গবন্ধুর ভাবনার খাঁটি, দক্ষ, সৎ ও বাঙালি চেতনায় উদ্বুদ্ধ দেশপ্রেমী যুবসমাজই হলো আমাদের সম্পদ, সোনার বাংলা গড়ার দক্ষ কারিগর।

বঙ্গবন্ধুর সকল আন্দোলন-সংগ্রামে এবং মহান মুক্তিযুদ্ধে গণমাধ্যমের ভূমিকা ছিল অসীম। ভাষা আন্দোলন, ছয় দফা, দেশের জনগণের বেঁচে থাকার দাবি হিসেবে উপস্থাপনে গণমাধ্যমের অসামান্য অবদান। মুক্তিযুদ্ধের সময় সংবাদপত্র এবং ইলেকট্রনিক মিডিয়াকে গণমাধ্যম বলে আখ্যায়িত করেন, শুধু সংবাদ মাধ্যম নয়। বঙ্গবন্ধু সারাজীবন মত প্রকাশের স্বাধীনতার কথা বলেছেন। গণমাধ্যমের গুরুত্ব সম্পর্কে কথা বলার সময় বঙ্গবন্ধু তার স্মৃতি উল্লেখ করেন যে, আমার বাবা বাড়িতে সংবাদপত্র রাখতেন; আনন্দবাজার, বসুমতী, আজাদ, মাসিক মোহাম্মদী এবং সওগাত

বঙ্গবন্ধু ১৯৪৮ সালের জানুয়ারিতে হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দীর আর্থিক সহায়তায় তারা দৈনিক ইত্তেহাদ প্রকাশ করেন। এই পত্রিকার সম্পাদক ছিলেন আবুল মনসুর আহমেদ। ম্যাগাজিনটি ওই সময় সবার দৃষ্টি আকর্ষণ করেছিল আধুনিক ম্যাগাজিন হিসেবে সম্পূর্ণ নতুন রূপে। বঙ্গবন্ধু নিজেই অক্লান্ত পরিশ্রম করে পত্রিকাটি বাজারজাত করেন। তিনি পত্রিকার ব্যবস্থাপনায় একজন দায়িত্বশীল পরামর্শকও ছিলেন। ১৯৪৯ সালে আওয়ামী মুসলিম লীগ প্রতিষ্ঠিত হলে সাপ্তাহিক ইত্তেফাক পাত্রিকার মুখপত্র হিসেবে প্রকাশিত হয়। মওলানা ভাসানী সম্পাদক ছিলেন, ইয়ার মোহাম্মদ খান প্রকাশক ছিলেন, তফাজ্জল হোসেন (মানিক মিয়া) পত্রিকা পরিচালনার দায়িত্বে ছিলেন। হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী পত্রিকার অর্থায়ন করতেন। দলীয় কর্মীদের মাঝেও বঙ্গবন্ধু এই পত্রিকার বিক্রির ব্যবস্থা করেন।

সংবাদপত্রগুলি সংবাদ, কলাম এবং সম্পাদকীয়তে, শোষণ, নির্যাতন এবং বৈষম্যের সঠিক চিত্র তুলে ধরেছিল। পরবর্তীতে ১৯৭০ সালের নির্বাচন এবং একাত্তরের অসহযোগ আন্দোলনের সময় দৈনিকগুলোও দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করে। তারা বঙ্গবন্ধুর সকল সিদ্ধান্ত, নির্দেশনা, বিবৃতি এবং বক্তৃতা প্রথম পৃষ্ঠায় ছাপিয়েছে। সংবাদপত্র জনগণকে অনুপ্রাণিত করার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখেছে, তারা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবের নেতৃত্বকে পূর্ণ সমর্থন দিয়েছে। অবিসংবাদিত নেতা হিসেবে গণমাধ্যমে বঙ্গবন্ধুর নেতৃত্ব গ্রহণযোগ্য ছিল। ১৯৭২ সালের ১০ জানুয়ারি বঙ্গবন্ধুর ঐতিহাসিক স্বদেশ প্রত্যাবর্তনকে সংবাদপত্রগুলি সেই মহান মানুষ আসে বলে বর্ণনা করে। বঙ্গবন্ধু প্রথম সাংবাদিকদের বাক স্বাধীনতা রক্ষা করেন। গণমাধ্যমকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন এবং সাংবাদিকদের বেতন ভাতা, সংবাদপত্রের স্বাধীনতা এবং গণমাধ্যমের জাতীয় স্বীকৃতির ব্যবস্থা করেন। বঙ্গবন্ধু জানতেন ষড়যন্ত্র হচ্ছে। কিন্তু দেশের মানুষ তাঁকে হত্যার ষড়যন্ত্র করছে, এটা তিনি কল্পনাও করতে পারতেন না। জ্যামাইকায় কমনওয়েলথ সম্মেলনে ভারতের তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধী সাক্ষাতে বললেন, শেখ সাহেব, আমাদের কাছে ভীতিকর খবর আছে। আপনার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র চলছে। উত্তরে বঙ্গবন্ধু বললেন, ম্যাডাম ইন্দিরা, চিন্তা করবেন না। কোন বাঙালি আমাকে স্পর্শ করবে না। যদি তারা করে, আমি গলায় চাদর জড়িয়ে গ্রামে ফিরে যাব। শেখ মুজিব ক্ষমতার অধিকারী নন।

খুনিদের পরিকল্পনার বিষয়গুলো বঙ্গবন্ধু কখনো বিশ্বাস করেননি। কিছু শুভাকাঙ্ক্ষী তাঁকে সতর্ক করার চেষ্টা করেন, কিন্তু তিনি তাদের সতর্কবাণীগুলোকে এড়িয়ে গিয়ে বলেছিলেন, বাংলাদেশের মানুষ কখনোই তাঁর কোন ক্ষতি করবে না। জীবনের জন্য হুমকি আছে তা জানা সত্তে¡ও বঙ্গবন্ধু কখনো বিষয়টির প্রতি মনোযোগ ও গুরুত্ব কোনটাই দেননি। বিশেষজ্ঞরা মনে করেন যে, অসহিষ্ণু রাজনৈতিক পরিবেশ বঙ্গবন্ধুর হত্যার পথ প্রশস্ত করেছিলো। সদ্য স্বাধীন দেশে বিরোধী রাজনৈতিক শক্তির উত্থান, একাত্তরের পরাজিত বাহিনীর গোপন কর্মকাণ্ড, অন্যদিকে চরমপন্থী বাম দলের উত্থানের কারণে মানুষ বিভ্রান্ত হয়ে পড়ছিলো। ষড়যন্ত্রকারীরা এই সুযোগের সদ্ব্যবহার করে। খুনিরা তাদের লক্ষ্য পূরণ করে। সফল মিশন শেষে বাংলাদেশকে পেছনের দিকে নিয়ে যাওয়া শুরু হয়। বিশ্লেষকদের মতে, এটা মোটেও সহজ কাজ নয় যে, কিছু সংখ্যক সেনা সদস্য জাতির পিতাকে তাদের পরিবারসহ নিরস্ত্র মানুষদের ট্যাঙ্ক নিয়ে গিয়ে সপরিবারে হত্যা করবে পাশাপাশি রেডিও এবং টেলিভিশনে গিয়ে জাতির কাছে বঙ্গবন্ধু হত্যার খবর দেবে। গবেষকদের মতে, মুজিব হত্যার দুটি মাত্রা রয়েছে। একটি অভ্যন্তরীণ রাজনীতি এবং অন্যটি আন্তর্জাতিক। বিচারে এর কোনোটাই আসেনি। ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট বঙ্গবন্ধুর নৃশংসভাবে হত্যা পর তাঁর পরিবারের সদস্যদেরও হত্যা করা হয় যাতে কেউ আওয়ামী লীগের হাল ধরতে না পারে। বঙ্গবন্ধুর আদর্শকে হত্যার জন্য, দলের চার জাতীয় নেতাকেও ৩রা নভেম্বর কারাগারে নির্মমভাবে হত্যা করা হয়। প্রবীণ নেতাদের কেউ কেউ বঙ্গবন্ধুর রক্তের সিঁড়ি বেয়ে খন্দকার মোশতাকের মন্ত্রিসভায় যোগ দেন।

১৫ আগস্ট বাঙালি জাতির স্বপ্নদ্রষ্টা বঙ্গবন্ধুকে হত্যার মাধ্যমে সাহসী বাঙালিরা নিজেদেরকে একটি বিশ্বাসঘাতক, কাপুরুষ-আত্মঘাতী জাতি হিসেবে বিশ্বের কাছে পরিচয় করিয়ে দেয়। জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বাঙালি জাতির চেতনার নাম, একটি স্বপ্নের নাম, সৃষ্টির ইতিহাসের নাম, আকাক্সক্ষার নাম, সংগ্রামের নাম এবং সাফল্যের নাম। তিনি ইতিহাসের মহানায়ক। বঙ্গবন্ধু চিরকাল বাঙালির হৃদয়ে অমর হয়ে আছেন এবং থাকবেন। ১৯৭৫ এর ১৫ আগস্ট বঙ্গবন্ধুর নৃশংস হত্যাকাণ্ডের পর দেশের উন্নয়নের গতি সাময়িক থেমে যায়। সেই দুঃসময়ে শেখ হাসিনা চরম দুঃসময়ে ঐক্যের প্রতীক হিসেবে আওয়ামী লীগ সভানেত্রী হিসেবে হাল ধরেছেন। গণতন্ত্রের সংগ্রামে দীর্ঘ পথ হেঁটেছেন। বার বার মৃত্যুর মুখ থেকে ফিরে এসেছেন। আওয়ামী লীগকে জনপ্রিয় দল হিসেবে ২১ বছর পর ক্ষমতায় এনেছেন ১৯৯৬ সালে এবং গণতন্ত্রকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দেয়ার জন্য নিরলস কাজ করছেন। স্বাধীন দেশ পেয়েছি বলেই আমরা স্বাধীনভাবে সব কিছু চিন্তা করতে পারি। সমাজ ও অর্থনীতির বিভিন্ন সূচকে আমাদের সাফল্য বিশ্ববাসীর বিস্ময়মুগ্ধ মনোযোগের কেন্দ্রবিন্দু হয়ে উঠেছে তা বঙ্গবন্ধুর কল্যাণেই সম্ভব হয়েছে। বলা বাহুল্য, যে এ সবই সম্ভব হয়েছে বঙ্গবন্ধুর স্বাধীনতার কল্যাণে। স্বাধীনতার মহান স্থপতি হিসেবে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান শুধু যে সম্ভাবনার অসীম সেই দিগন্ত উন্মোচন করেছেন তাই নয়, একই সাথে হতাশাক্লিষ্ট জাতিকে উদ্বুদ্ধ করেছেন ভয়কে জয় করার জন্য, মৃত্যুঞ্জয়ী মন্ত্রেও দিক্ষিত করেছেন পুরো জাতিকে।

গত এক যুগে দেশের অনেক উন্নতি হয়েছে। বাংলাদেশ আজ দক্ষিণ এশিয়া তো বটেই, বিশ্বের অন্যতম সমৃদ্ধশালী রাষ্ট্র। নিন্দুকদের তলাবিহীন ঝুড়ি মন্তব্যকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে ৫০ বছরেই উন্নয়নশীল দেশের কাতারে শামিল হতে যাচ্ছে। যেখানে এখন মাথাপিছু আয় ২৫৫৪ ডলার। এই মুহূর্তে সামাজিক ও অর্থনীতির বেশকিছু সূচকে বিশ্বে উন্নয়নের রোল মডেল বাংলাদেশ। দারিদ্র্য বিমোচন, জিডিপি প্রবৃদ্ধি, খাদ্য উৎপাদন, বিদ্যুৎ উৎপাদন, নারীর ক্ষমতায়ন, গড় আয়ু বৃদ্ধি, শিক্ষার হার বৃদ্ধি, উন্নয়নশীল দেশে উত্তরণ, মধ্যম আয়ের দেশসহ, নিজস্ব অর্থায়নে পদ্মা সেতু নির্মাণ, মেট্রোরেলসহ ভৌত কাঠামো উন্নয়নে বাংলাদেশের বিশেষ অর্জন রয়েছে। বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট-১ উৎক্ষেপণের মধ্য দিয়ে মহাকাশ জয় করেছে লাল-সবুজের সোনার বাংলা। ডিজিটাল বাংলাদেশের অংশ হিসাবে ইন্টারনেট সেবা পৌঁছেছে প্রত্যন্ত গ্রামে। হাতে হাতে মোবাইল ফোন, যা যোগাযোগমাধ্যমে যুগান্তকারী পরিবর্তন নিয়ে এসেছে। ইতোমধ্যে চালু হয়েছে সর্বাধুনিক ফাইভজি টেকনোলজি। ২০৩০ সালে এসডিজি অর্জন এবং ২০৪১ উন্নত দেশের স্বপ্ন বাস্তবায়নের পথে এক দুর্বার গতিতে চলছে দেশ।

লেখক : প্রাবন্ধিক ও গবেষক


আরও খবর

শেখ হাসিনার নেতৃত্ব এখনও অপরিহার্য

বৃহস্পতিবার ১৫ ডিসেম্বর ২০২২




অস্ট্রেলিয়াকে হারিয়ে বিশ্বকাপ সূচনা বাংলাদেশের মেয়েদের

প্রকাশিত:শনিবার ১৪ জানুয়ারী ২০২৩ | হালনাগাদ:শুক্রবার ২৭ জানুয়ারী ২০২৩ | ৫৯জন দেখেছেন
নিউজ পোস্ট ডেস্ক

Image

দক্ষিণ আফ্রিকায় আজ শনিবার (১৪ জানুয়ারি) শুরু হওয়া আইসিসি নারী অনূর্ধ্ব-১৯ টি২০ বিশ্বকাপে অস্ট্রেলিয়াকে হারানোর কৃতিত্ব দেখাল বাংলাদেশের মেয়েরা। বেনোনিতে আগে ব্যাটিং করে ৫ উইকেটে ১৩০ রান তুলতে সমর্থ হয় অস্ট্রেলিয়া। জবাবে দুই ওভার বাকি থাকতেই তিন উইকেট হারিয়ে লক্ষ্যে পৌঁছে যায় বাংলাদেশ।

বিশ্বকাপে মোট ১৬টি দল চারটি গ্রুপে বিভক্ত হয়ে খেলছে। গ্রুপে বংলাদেশের বাকি দুই প্রতিপক্ষ শ্রীলংকা ও যুক্তরাষ্ট্র। সোমবার পরের ম্যাচে শ্রীলংকার মুখোমুখি হবে বাংলাদেশ।

উল্লেখ্য, মূল লড়াইয়ের আগে ওয়ার্মআপ ম্যাচে দক্ষিণ আফ্রিকা ও ভারতকে হারায় দিশা বিশ্বাসের বাংলাদেশ। সেই জয় দুটি যে কোনো অঘটন ছিল না তা আজ প্রমাণ করল লাল-সবুজ জার্সিধারীরা।

সংক্ষিপ্ত স্কোর

অস্ট্রেলিয়া: ২০ ওভারে ১৩০/৫ (ক্লেয়ার মুর ৫২, এলা হেইওয়ার্ড ৩৫; দিশা বিশ্বাস ২/২৫, মারুফা আক্তার ২/২৯)। বাংলাদেশ: ১৮ ওভারে ১৩২/৩ (দিলারা ৪০, সুমাইয়া ৩১*, স্বর্ণা ২৩*, আফিয়া ২৪; চোলে আইন্সওয়ার্থ ২/৯)। ফল: বাংলাদেশ অনূর্ধ্ব-১৯ দল ৭ উইকেটে জয়ী।


আরও খবর



৯ জানুয়ারি: দিনটি কেমন যাবে, জেনে নিন রাশিফলে

প্রকাশিত:সোমবার ০৯ জানুয়ারী ২০২৩ | হালনাগাদ:শুক্রবার ২৭ জানুয়ারী ২০২৩ | ৪৮জন দেখেছেন
নিউজ পোস্ট ডেস্ক

Image

আজ সোমবার, ৯ জানুয়ারি ২০২৩। ভাগ্যরেখা অনুযায়ী আপনার আজকের দিনটি কেমন কাটতে পারে? ব্যক্তি,পারিবারিক ও কর্মক্ষেত্র সম্পর্কে কী বলছে জ্যোতিষশাস্ত্র? এ বিষয়গুলো সম্পর্কে যারা দিনের শুরুতেই কিছুটা ধারণা নিয়ে রাখতে চান তারা একবার পড়ে নিতে পারেন আজকের রাশিফল।

মেষ: দিনটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ থাকবে। তাই অপ্রয়োজনীয় কথায় মনোনিবেশ করবেন না। চাকরিজীবীরা নিজের কাজে মনোনিবেশ করুন। ব্যবসায়ীদের পরিকল্পনার ফলে ভালো ফলাফল লাভ করতে পারবেন। আয় বাড়বে। কর্মকুশলতা মজবুত হবে। দাম্পত্য জীবনে কোনো কারণে অবসাদ বৃদ্ধি পেতে পারে। প্রেম জীবনের জন্য ভালো দিন।

বৃষ: আপনার মধ্যে একটি আকর্ষণ কাজ করবে। ফলে পরিবারের সদস্যরা আপনার কথা শুনতে বাধ্য হবেন। কর্মক্ষেত্রে আপনাদের পরিস্থিতি মজবুত হবে। আয় ভালো হবে এবং ব্যয় সামান্য থাকবে। তবে প্রয়োজনীয় কাজে অধিক অর্থ ব্যয় হতে পারে। পরিবারে সামঞ্জস্য বজায় থাকবে। প্রেম জীবন ভালো কাটবে ও সঙ্গীকে মনের কথা বলবেন। দাম্পত্য জীবনে ভালোবাসা ও রোম্যান্সের সুযোগ পাবেন।

মিথুন: কর্মক্ষেত্রে পরিশ্রম সফল হবে। পারিবারিক পরিবেশ ভালো থাকবে। তবে দাম্পত্য জীবনে কোনো কারণে অবসাদ বাড়তে পারে। প্রেম জীবনে ভালোবাসা বৃদ্ধি পাবে। সুখ লাভ করবেন এই রাশির জাতকরা।

কর্কট: স্বাস্থ্য ভালো থাকবে। কোনো কর্মকর্তার সাহায্যে বহুদিন ধরে চলতে থাকা সমস্যা থেকে মুক্তি পাবেন। কর্মক্ষেত্রে কঠিন পরিশ্রম ও আত্মবিশ্বাস অনেক কিছু বলবে। কাজে সাফল্য লাভ হবে। কর্মকর্তারা আপনার প্রশংসা করবেন। দাম্পত্য জীবন সাধারণ থাকবে। পারিবারিক কাজের ক্ষেত্রে দায়িত্ব বাড়বে।

সিংহ: বহুদিন ধরে চলতে থাকা পুরনো সমস্যা থেকে মুক্তি মিলবে। কাজের চাপের কারণে মানসিক অবসাদ থাকবে। ব্যবসায়ীরা কাজের ক্ষেত্রে ফল ও অর্ডার পেতে পারেন। প্রেম জীবনে কিছু সমস্যা হতে পারে। তবে কথাবার্তার মাধ্যমে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করতে পারেন।

কন্যা: জীবনসঙ্গীর সঙ্গে সম্পর্কে মাধুর্য থাকবে। তাদের সঙ্গে ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা করবেন। প্রেম জীবনে কিছু হতাশা হতে পারে। কর্মক্ষেত্রে তীক্ষ্ণ বুদ্ধি কাজে আসবে। ব্যবসায়ীদের ভালো মুনাফা হতে পারে। সারাদিন ব্যবসায়িক কাজে ব্যস্ত থাকবেন।

তুলা: দিনটি দৌড়ঝাপের মধ্যে কেটে যাবে। কাজের চাপ থাকবে। দাম্পত্য জীবনে কঠোর মনোভাব পোষণ করা উচিত হবে না। শান্ত মাথায় কাজ করুন। প্রেম জীবনে ভালো ফলাফল লাভ করবেন। পরিজনদের সঙ্গে নিজের প্রিয় মানুষ সম্পর্কে কথা বলবেন। কাজের ক্ষেত্রে অধিক পরিশ্রম করার ওপর জোর দিন। ব্যবসায় বয়স্কদের সঙ্গে সম্পর্ক গড়ে উঠবে।

বৃশ্চিক: অপ্রয়োজনীয় কথাবার্তা ছেড়ে দিয়ে নিজের কাজে মনোনিবেশ করুন। প্রেম জীবনের জন্য সময় ভালো। এই রাশির সিঙ্গল জাতকরা কোনো বিশেষ ব্যক্তিকে কবিতা লিখে প্রপোজ করতে পারেন। তাদের আনন্দে রাখার চেষ্টা করবেন। দাম্পত্য জীবনে ভালোবাসা ও মাধুর্য থাকবে। কর্মক্ষেত্রে নিজের পরিশ্রমের ভালো ফলাফল লাভ করবেন।

ধনু: পুরনো স্মৃতি চাড়া দিয়ে উঠবে। কোনো পুরনো বন্ধুর সঙ্গে কথা হবে ও মনে আনন্দ থাকবে। পারিবারিক পরিবেশ ভালো থাকবে। পেশাগত ও ব্যক্তিগত জীবনে কারও অধিক বাচাল স্বভাব আপনাকে চিন্তিত করতে পারে। ব্যবসায়ীরা ভালো ফলাফল লাভ করবেন। পরিকল্পনা করে কাজ করার ফলে আর্থিক পরিস্থিতি উন্নত হবে। চাকরিজীবীদের পরিশ্রম সফল হবে। কর্মকর্তাদের সঙ্গে মধুর সম্পর্রক গড়ে উঠবে। প্রেম জীবনে কোনো সমস্যার মুখে পড়তে পারেন।

মকর: আটকে থাকা কাজ পূর্ণ হওয়ায় আপনার আত্মবিশ্বাস ভালো থাকবে। পরিবার ও কাজের মধ্যে ভারসাম্য বজায় রাখলে সমস্ত কিছু ভালো থাকবে। ব্যবসা দ্রুতগতিতে এগিয়ে যাবে এবং পরিশ্রমের ফল পাবেন। দাম্পত্য জীবনে সামঞ্জস্য থাকবে ও সন্তানের ভবিষ্যৎ সংক্রান্ত কিছু কঠোর সিদ্ধান্ত নিতে পারেন। প্রেম জীবনে সুসংবাদ পাওয়ায় মনে আনন্দ থাকবে। পরিবারের ছোট সদস্যরা নিজের সাহায্যের জন্য এগিয়ে আসবেন। কোনো সুসংবাদ পাবেন।

কুম্ভ: আর্থিক সমস্যা থেকে মুক্তি পাবেন। বন্ধুদের সঙ্গে কোথাও বাইরে যাবেন। এর ফলে মনে আনন্দ থাকবে। ব্যাংক থেকে ঋণ নিয়ে কোনো নতুন কাজ করার পরিকল্পনা করে থাকলে সময় ভালো থাকবে। পরিবারে সুখ-শান্তি থাকবে ও সব সদস্য একে অপরের সাহায্য করবেন। প্রেম জীবনে কোনো কারণে মতভেদ হতে পারে। বাবার যোগাযোগের ফলে আপনার মনোবল মজবুত হবে এবং কাজে সাফল্য লাভ করবেন।

মীন: কাজের ক্ষেত্রে আপনার চিন্তাভাবনা সকাল থেকেই দৃঢ় থাকবে। নিজের চারপাশের ব্যক্তিদের সাহায্যের জন্য প্রস্তুত থাকবেন। চাকরিজীবীদের পরিস্থিতি ভালো থাকবে। ব্যবসায়ীদের লাভ হবে। আয় ভালো হওয়ায় মনে আনন্দ থাকবে। দাম্পত্য জীবনে কোনো কারণে কথা-কাটাকাটি হতে পারে। ভাইদের মধ্যে সম্পর্ক ভালো হবে এবং কোনো জরুরি কাজে একে অপরের সঙ্গ দেবেন। কোনো প্রিয়মানুষের আগমনের ফলে পরিবারে আনন্দের পরিবেশ থাকবে।


আরও খবর

আজকের রাশিফল: জেনে নিন কেমন কাটবে দিন ?

শুক্রবার ২৭ জানুয়ারী ২০২৩

অ্যাকনে যখন মাথার ত্বকে

বুধবার ২৫ জানুয়ারী ২০২৩




ইমরানসহ তিন নেতার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা

প্রকাশিত:বুধবার ১১ জানুয়ারী ২০২৩ | হালনাগাদ:বৃহস্পতিবার ২৬ জানুয়ারী ২০২৩ | ৩১জন দেখেছেন
নিউজ পোস্ট ডেস্ক

Image

পাকিস্তানের ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী ও পাকিস্তান তেহরিক-ই-ইনসাফের (পিটিআই) চেয়ারম্যান ইমরান খানের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেছে পাকিস্তান নির্বাচন কমিশন (ইসিপি)। এছাড়া ইমরানের দলের আরেক দুই নেতা আসাদ ওমর ও ফাওয়াদ চৌধুরীর বিরুদ্ধেও এই পরোয়ানা জারি করা হয়েছে। আদালত অবমাননার অভিযোগে তাদের বিরুদ্ধে এই পরোয়ানা হয়। তবে এটি জামিনযোগ্য বলে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে।

মঙ্গলবার (১০ জানুয়ারি)  ইসিপির চার সদস্যের বেঞ্চ এ পরোয়ানা জারি করে। মামলার শুনানি নেন ইসিপি সদস্য নিসার দুররানি।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০২২ সালের আগস্টে পিটিআইয়ের এসব নেতার বিরুদ্ধে বিভিন্ন সভা, সংবাদ সম্মেলন ও গণমাধ্যমকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে নির্বাচন কমিশন ও প্রধান নির্বাচন কমিশনারকে অপমান করার অভিযোগে অবমাননার নোটিশ পাঠায় ইসিপি।

সেইসময় নোটিশে অভিযোগ করা হয়, পিটিআইয়ের নেতারা বিভিন্ন অনুষ্ঠানে ইসিপির বিরুদ্ধে অসম্মানজনক, অসংলগ্ন ও অবমাননাকর মন্তব্য করেছেন। ইসিপির বেঞ্চ মঙ্গলবার শুনানির সময় পিটিআইয়ের নেতাদের অব্যাহতির আবেদন প্রত্যাখ্যান করে। আগামী ১৭ জানুয়ারি শুনানির পরবর্তী দিন ধার্য করা হয়েছে। ওই দিন পিটিআইয়ের তিন নেতাকে হাজির করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। 


আরও খবর



বেসরকারি হাসপাতালে অতিরিক্ত ফি আদায় বন্ধে ডিসিদের নির্দেশনা

প্রকাশিত:শুক্রবার ২৭ জানুয়ারী ২০২৩ | হালনাগাদ:শুক্রবার ২৭ জানুয়ারী ২০২৩ | ১৬জন দেখেছেন
নিউজ পোস্ট ডেস্ক

Image

বেসরকারি ক্লিনিকগুলোতে রোগীদের কাছ থেকে বাড়তি ফি আদায় করছে কি না, তা তদারকি করতে জেলা প্রশাসকদের (ডিসি) নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক। তিনি বলেন, স্বাস্থ্যখাত নিয়মের মধ্যে আনার কাজ স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় একা করতে পারবে না। এর জন্য সবাই মিলে কাজ করতে হবে।

বৃহস্পতিবার (২৬ জানুয়ারি) ডিসি সম্মেলন শেষে সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক।

মন্ত্রী বলেন, 'বেসরকারি হাসপাতালে ডিসিদের ভিজিট বাড়ানো ও ফার্মেসিতে নকল ও মেয়াদোত্তীর্ণ ওষুধ থাকলে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে বলা হয়েছে। সেইসঙ্গে অপ্রয়োজনীয় সিজার এবং অতিরিক্ত ফি দিতে রোগীদের বাধ্য করা হচ্ছে কি না, তা তদারকি করতে বেসরকারি ক্লিনিক পরিদর্শনের জন্য আমরা ডিসিদের অনুরোধ করেছি।'

স্বাস্থ্যমন্ত্রী জানান, ভেজাল খাবার, দুষিত পানি এসব বন্ধে ডিসিদের অভিযান করার কথা বলা হয়েছে। খেজুরের রস সরাসরি না খাওয়া, পাখির খাওয়া ফল না খাওয়ার বিষয়ে সচেতনতা বাড়ানোর জন্য অনুরোধ করা হয়েছে।

সরকার স্বাস্থ্যসেবাকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিচ্ছে উল্লেখ করে তিনি আরও বলেন, 'পর্যাপ্ত পরিকাঠামো তৈরি করা হয়েছে এবং সরঞ্জাম সরবরাহ করা হয়েছে। এখন আমাদের অগ্রাধিকার হচ্ছে উপজেলা পর্যায়ে রোগীদের মানসম্মত সেবা নিশ্চিত করা।'


আরও খবর



সর্বোচ্চ বেতনে সৌদির ক্লাবে যোগ দিয়ে যা বললেন রোনালদো

প্রকাশিত:শনিবার ৩১ ডিসেম্বর ২০২২ | হালনাগাদ:রবিবার ২২ জানুয়ারী ২০২৩ | ৩৮জন দেখেছেন
নিউজ পোস্ট ডেস্ক

Image

কাতার বিশ্বকাপ চলাকালিন গুঞ্জনটি চাউর হয়েছিল। তবে গত এক সপ্তাহেই বেশ জোরেশোরে শোনা যাচ্ছিল সৌদি আরবেই নতুন ঠিকানা গড়তে যাচ্ছেন পাঁচবারের ব্যালন ডি'অর জয়ী পর্তুগিজ সুপারস্টার ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো। অবশেষে গত রাতে এসেছে চূড়ান্ত ঘোষণা। ইউরোপীয় ফুটবলে ইতি ঘটল রোনালদো যুগের। সিআর সেভেন যোগ দিলেন সৌদি আরবের ক্লাব আল নাসরে।

শুক্রবার (৩০ ডিসেম্বর) রাতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে রোনালদোকে দলে ভেড়ানোর আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেয় সৌদির ক্লাবটি। আগামী দুই বছরের জন্য ক্লাবটির সঙ্গে চুক্তিবদ্ধ হয়েছেন তিনি। চুক্তি অনুযায়ী ২০২৫ সাল পর্যন্ত ক্লাবটিতে খেলবেন রোনালদো।

বিবিসি জানিয়েছে, প্রতি বছর রোনালদো ১৭৭ মিলিয়নের বেশি পাউন্ড পাবে ক্লাবটি থেকে। একই সঙ্গে ক্লাবটির ইতিহাসে সবচেয়ে দামি খেলোয়াড়ে পরিণত হয়েছেন পর্তুগিজ সুপারস্টার।

আল নাসরে যোগ দেয়া প্রসঙ্গে এক বিবৃতিতে রোনালদো বলেন, ভিন্ন একটি দেশে, নতুন একটি ফুটবল লিগে খেলার সুযোগ পেয়ে আমি খুবই উচ্ছ্বসিত।

তিনি আরও বলেন, আল-নাসের সৌদি আরবে পুরুষ এবং মহিলা ফুটবলের উন্নয়নে যা করছে এবং তাদের দৃষ্টিভঙ্গি খুবই অনুপ্রেরণাদায়ক। বিশ্বকাপে সৌদি আরবের সাম্প্রতিক পারফরম্যান্স থেকে আমরা দেখতে পাচ্ছি যে এটি একটি বড় ফুটবল উচ্চাকাঙ্ক্ষার দেশ এবং তাদের সম্ভাবনা অনেক।

আমি সৌভাগ্যবান যে আমি ইউরোপীয় ফুটবলে সবকিছুই জিতেছি এবং এখন অনুভব করছি যে এশিয়াতে আমার অভিজ্ঞতা ভাগ করে নেওয়ার এটাই সঠিক সময়। আমি আমার নতুন সতীর্থদের সাথে যোগ দেওয়ার জন্য উন্মুখ এবং তাদের সাথে মিলে ক্লাবকে সাহায্য করতে এবং সাফল্য অর্জন করতে মুখিয়ে আছি।


আরও খবর