
কোভিড-১৯ মহামারীতে বিপর্যয়ের মুখোমুখি হয় ব্রিটিশ প্রতিষ্ঠানগুলো। কর্মীদের পাশাপাশি কাটছাঁট করা হয় শীর্ষ নির্বাহীদের বেতনও। ব্যয় সংকুলান ও প্রতিষ্ঠানের আর্থিক অবস্থা স্থিতিশীল রাখতে এমন পদক্ষেপ নেয়া হয়। তবে সেই পরিস্থিতি পরিবর্তন হয়েছে। নতুন একটি সমীক্ষা অনুসারে, লন্ডন পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত বাজার মূলধনে শীর্ষে থাকা ১০০ প্রতিষ্ঠানের (এফটিএসই-১০০) প্রধান নির্বাহীদের বেতন মহামারীপূর্ব পর্যায়ে ফিরেছে। জীবনযাত্রার সংকট থাকা সত্ত্বেও গত বছর গড়ে তারা ৩৬ লাখ পাউন্ড (৪৫ লাখ ডলার) বাড়ি নিয়ে গেছেন। খবর ইয়াহু ফাইন্যান্স।
ব্রিটিশ বহুজাতিক পেশাদার পরিষেবা প্রতিষ্ঠান ডেলয়েটের এজিএম-সিজন প্রতিবেদন অনুসারে, ২০২১ সালে শীর্ষ নির্বাহীদের গড় বেতন ৩৬ লাখ পাউন্ডে উন্নীত হয়েছে। এ বেতনের পরিমাণ ২০১৮ সালের সমান এবং এটি ২০১৭ সালের ৪০ লাখ পাউন্ডের রেকর্ড উচ্চতার কাছাকাছি। এর আগে মহামারীতে বিনিয়োগকারীদের চাপের মুখে সিইওদের বেতন কাটছাঁট করা হয়েছিল। ২০২০ সালে তাদের গড় বেতন ছিল ২৮ লাখ পাউন্ড। বার্ষিক এ বেতনের পরিমাণ ছিল আগের বছরের চেয়ে প্রায় ১৭ শতাংশ কম। ২০১৯ সালে প্রতিষ্ঠানের শীর্ষ নির্বাহীদের গড় বেতন ছিল ৩২ লাখ ৫০ হাজার পাউন্ড। তবে ২০২০ সালে সিইওদের বেতন কমানোর পরেও এটি কর্মীদের গড় বেতনের চেয়ে ৮৬ গুণ বেশি ছিল। সেই বছর ব্রিটিশ কর্মীর গড় বার্ষিক বেতন ছিল ৩১ হাজার পাউন্ড।
গত বছর বাড়ার পর শীর্ষ নির্বাহীদের সঙ্গে কর্মীদের গড় বেতনের ব্যবধান আরো প্রসারিত হয়েছে। ডেলয়েট জানিয়েছে, ২০২১ সালে এফটিএসই-১০০ প্রতিষ্ঠানের কর্মী ও শীর্ষ নির্বাহীদের বেতনের অনুপাত ১:৮১ পয়েন্টে উন্নীত হয়েছে। ২০২০ সালে এ হার ১:৫৯ ছিল। যেখানে ২০১৯ সালে ছিল ১:৭৫। প্রধান নির্বাহীদের বেতন বৃদ্ধির বেশির ভাগই পেআউট থেকে এসেছে বলে মনে করা হচ্ছে। এগুলো প্রায়ই শেয়ারের দামের সঙ্গে যুক্ত থাকে। ২০২১ সালে এফটিএসই-১০০ সিইওদের বেতন ১৪ শতাংশেরও বেশি বেড়েছে। বার্ষিক বোনাসের পরিমাণ পুনরুদ্ধার হওয়ায় তাদের মোট বেতন বেড়ে গিয়েছে।
ডেলয়েটের এ প্রতিবেদনে আর্থিক বছর ২০২১ সালের ১ মার্চ বা তার পরে শেষ হওয়া কয়েকটিসহ ৯৫টি প্রতিষ্ঠানের তথ্য অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। কভিডজনিত বিপর্যয় কাটিয়ে পুনরুদ্ধারের পথে থাকায় চলতি বছর প্রতিষ্ঠানগুলোর শীর্ষ নির্বাহী ও কর্মীর গড় বেতনের ব্যবধান আরো প্রসারিত হতে চলেছে। ন্যায্য বেতন কাঠামোর প্রচার চালানো থিংকট্যাংক হাই পে সেন্টার জানিয়েছে, লন্ডন পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত বাজারমূল্যে শীর্ষ ৩৫০ প্রতিষ্ঠানের শীর্ষ নির্বাহীরা চলতি বছর কর্মীদের গড় বেতনের চেয়ে ৬৩ গুণ বেতন নেবেন বলে আশা করা হচ্ছে। মহামারীর মধ্যে এ ব্যবধান কিছুটা কমেছিল। এ বৈষম্য যুক্তরাজ্যের খুচরা শিল্পে সবচেয়ে বেশি। অন্যদিকে মিডিয়া ও আর্থিক পরিষেবা প্রতিষ্ঠানগুলোয় এ ব্যবধান সর্বনিম্ন।
ডেলয়েটের ভাইস চেয়ারম্যান স্টেফান কাহিল বলেন, যুক্তরাজ্যের পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত প্রতিষ্ঠানগুলো বিশ্বব্যাপী সর্বোচ্চ পারিশ্রমিক গভর্ন্যান্স মানদণ্ডের অধীনে রয়েছে। পাশাপাশি যুক্তরাজ্য সাম্প্রতিক বছরগুলোয় শীর্ষ নির্বাহীদের বেতন বাড়ানোর ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্রের মতো দেশগুলোকে অনুসরণ করেনি।
প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, চলতি বছর বার্ষিক সাধারণ সভার মৌসুমে শীর্ষ নির্বাহীদের প্রস্তাবিত বেতনের পক্ষে অনেক বেশি ভোট পড়তে দেখা গিয়েছে। গত বছরও এ হার অনেক কম ছিল। অর্থাৎ বোঝা যাচ্ছে, খুব কম বিনিয়োগকারীই শীর্ষ নির্বাহীদের বেতন বাড়ানোর বিরোধিতা করছেন। তবে স্টিফান কাহিল বলেন, জীবনযাপনের ক্রমবর্ধমান ব্যয় এবং ভূরাজনৈতিক পরিবেশ নিয়ে অনিশ্চয়তা এ ধরনের সমর্থন কমিয়ে দিতে পারে। শেয়ারহোল্ডাররা উচ্চ বেতন প্যাকেজ অনুমোদনের আগে প্রতিষ্ঠানের কর্মদক্ষতা আরো ঘনিষ্ঠভাবে যাচাই শুরু করবেন বলে মনে করেন তিনি।

