Logo
শিরোনাম

বস্তায় রাখেন ঘুষের টাকা

প্রকাশিত:রবিবার ২২ আগস্ট ২০২১ | হালনাগাদ:রবিবার ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২১ | ২৩৬০জন দেখেছেন
নিউজ পোস্ট ডেস্ক

Image

নাম আব্দুর রব। তিনি জ্বালানি ও খনিজসম্পদ মন্ত্রণালয়ের অধীনে বিস্ফোরক পরিদপ্তরের একজন পরিদর্শক। বর্তমান কর্মস্থল সিলেট। তবে প্রেষণে আছেন ঢাকায়। ১৯৯৪ সালে তিনি উচ্চমান টিএ (টেকনিক্যাল অ্যাসিসট্যান্ট) পদে চাকরিতে যোগদান করেন। তখন তার সর্বসাকুল্যে মাসিক বেতন ছিল প্রায় ১৬শ টাকা। দুই দফায় পদোন্নতি পেয়ে এখন তিনি গুরুত্বপূর্ণ এই পরিদপ্তরের পরিদর্শক। বর্তমান পদে তার মূল বেতন ৩৮ হাজার ৮৯০ টাকা।

বাড়িভাড়া, চিকিৎসা ভাতাসহ এখন সর্বসাকুল্যে পাচ্ছেন ৫৬ হাজার ৩৯০ টাকা। চাকরির শুরু থেকে গত জুলাই পর্যন্ত চিকিৎসা ও বাড়িভাড়াসহ মোট বেতনভাতা পেয়েছেন প্রায় ৭০ লাখ টাকা। এর মধ্যে ভবিষ্যতহবিল, কল্যাণ তহবিল ও যৌথ বিমায় কেটে নেওয়া হয়েছে প্রায় ১৩ লাখ টাকা। এসব বাদ দিয়ে তার নিট বেতন উত্তোলন ৫৭ লাখ টাকার কিছু বেশি। অথচ দুর্নীতি দমন কমিশন শুধু দলিলমূল্যেই এই কর্মকর্তার সম্পদ পেয়েছে প্রায় ৭ কোটি টাকার। যদিও বেনামি সম্পদ যুক্ত করলে অন্তত শতকোটি টাকার মালিক তিনি। তার ঘুসের পরিমাণ এতই বেশি যে, বস্তায় ভরে সেই টাকা রাখতে হয় তাকে।

অপর দিকে দুদকের হিসাবের তালিকায় ঢাকার কল্যাণপুরে সাড়ে তিন কাঠা জমির ওপর ৮তলা বাড়িও আছে এই টাকার কুমিরের। এত সম্পদ করার পরও ২০১৯ সাল পর্যন্ত তার সোনালী ব্যাংকের একটি অ্যাকাউন্টে (৪৪৩২১৩৪০৪১১৪৫) জমা আছে ৩৫ লাখ ৫৩ হাজার ১৬৮ টাকা। এছাড়া শুধু রাজবাড়ী এবং একই জেলার পাংশা উপজেলার বিভিন্ন স্থানে তিনি ৫১টি দলিলে কোটি কোটি টাকার জমি কিনেছেন। 

তথ্যানুসন্ধানে দেখা যায়, ২০১৯ সালের ১৯ ডিসেম্বর দুদকের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে মহানগর দায়রা জজ ও মহানগর সিনিয়র স্পেশাল জজ কেএম ইমরুল কায়েস এই আব্দুর রবের সব সম্পত্তি ক্রোকের আদেশ দেন। আদেশে বলা হয়, কোনোমতেই এই সম্পদ হস্তান্তর বা বিনিময় করা যাবে না।

ব্যাংকের অবরুদ্ধ হিসাবে টাকা জমা হবে। কিন্তু উত্তোলন করা যাবে না। মিরপুরে বাড়ি ছাড়াও ৫১টি পৃথক দলিলে কেনা সম্পত্তি ক্রোকপূর্বক পরিচালনা ও নিয়ন্ত্রণের জন্য দুদকের সম্পদ ব্যবস্থাপনা পরিচালকের কাছে হস্তান্তরের নির্দেশও দেওয়া হয়। ২০২০ সালের ৮ জানুয়ারি আদালতের আদেশের বিষয়টি বাস্তবায়ন করেন আব্দুর রবের দুদকের দায়িত্বপ্রাপ্ত অনুসন্ধানকারী কর্মকর্তা মো. আবুবকর সিদ্দিক। তিনি দুদকের প্রধান কার্যালয়ের উপপরিচালক। অভিযুক্ত আব্দুর রবের বাড়ি রাজবাড়ী জেলার পাংশা উপজেলার গানবুথুনদিয়া গ্রামে।

আয়-ব্যয়ে ভয়াবহ অসংগতি : সাবরেজিস্ট্রি অফিসে কাজ করেন এমন একজন দলিল লেখকের সঙ্গে আলোচনা করে জানা যায়, বাস্তবে বেশির ভাগ স্থানে দলিল মূল্যের কয়েক গুণ বেশি দরে জমি কেনাবেচা হয়। সরকার মৌজাভিত্তিক নির্ধারিত রেজিস্ট্রি ফি নির্ধারণ করে দিলেও অনেক স্থানে সরকারি দরের থেকে জমির মূল্য কয়েক গুণ বেশি। যেমন ঢাকা শহরে এখনো সরকারি হিসাবে যেসব ফ্ল্যাটের মূল্য ৫০ লাখ টাকা, বাস্তবে তার দাম কমপক্ষে দেড় কোটি টাকা। এজন্য ক্রেতারা লাভবান হন। ক্রেতাদের কালো টাকা এখানে ঢুকে জায়েজ হয়ে যায়। আব্দুর রবও এ সুযোগ নিয়েছেন। তথ্যানুসন্ধানে পাওয়া জমির রেকর্ডপত্রে দেখা গেছে, ১৯৯৯ সালে রাজবাড়ীর বামুন্দিয়া মৌজায় ৪ জনে মিলে প্রথম ১৮ শতক জমি কেনেন। ওই বছরের ৭ এপ্রিল পাংশা সাবরেজিস্ট্রি অফিসে সম্পাদিত ২৬৫৩নং দলিলে আব্দুর রবের অংশ কিনতে লেগেছে মাত্র ২ হাজার টাকা। ওইদিনই ২ হাজার টাকায় একই মৌজায় ২৬৫২নং দলিলে আরও ৫ শতক জমি কিনেন তার নিজ নামে। ওই বছর ৪ আগস্ট ২৬২৮নং দলিলে একই মৌজায় ৮ হাজার টাকায় কিনেছেন ১১ শতক জমি। তখন তিনি বেতন পেতেন ২ হাজারের একটু বেশি। এই হিসাবে তিনি ওই বছর বেতন পান প্রায় ২৯ হাজার টাকা। এর মধ্যে শুধু জমি কিনতেই ব্যয় করেছেন সাড়ে ১২ হাজার টাকা। এটি অবশ্য দলিলমূল্য। নিশ্চয়ই বাস্তব দাম আরও বেশি।

ঢাকায় বাড়ি : মিরপুরের বড় সায়েক মৌজায় ইস্টার্ন হাউজিং লিমিটেডের নকশায় কল্যাণপুর ২নং প্রজেক্টের বি-১৬ প্লটটির মালিকও আব্দুর রব। ২০১৩ সালের ১০ মার্চ ১ কোটি ৩৩ লাখ ২০ হাজার টাকায় মিরপুর সাবরেজিস্ট্রি অফিসে প্লটটি রেজিস্ট্রি হয়। দলিল নং ২৫৮৬। ওই প্লটে ৮ তলা ভবনও বানিয়েছেন তিনি। এই ভবন নির্মাণে ৩ কোটি ৩৩ লাখ টাকা ব্যয়ের একটি প্রাথমিক খরচও পাওয়া গেছে।

দুদকের প্রাথমিক অনুসন্ধান : দুদক আব্দুর রবের জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের বিষয়ে অনুসন্ধান শুরু করে ২০১৯ সালের ১৭ সেপ্টেম্বর থেকে। মাত্র তিন মাসের অনুসন্ধানে তার অবৈধ সম্পদের ভয়াবহ চিত্র ফুটে ওঠে। ওই বছরের ১৮ ডিসেম্বর তার স্থাবর-অস্থাবর সব সম্পত্তি ক্রোকের আদেশ চেয়ে মহানগর দায়রা জজ ও মহানগর সিনিয়র স্পেশাল জজ আদালতে আবেদন করেন দুদকের উপপরিচালক ও অনুসন্ধানকারী কর্মকর্তা মো. আবুবকর। ওই আবেদনের এক স্থানে তিনি বলেন, বিস্ফোরক অধিদপ্তরের পরিদর্শক আব্দুর রব শুধু ঢাকা মহানগর এলাকায়ই ৪ কোটি ৬৫ লাখ ৩৮ হাজার ৩৬৬ টাকার স্থাবর সম্পত্তি অর্জন করেছেন, যা ঘুস ও দুর্নীতির মাধ্যমে উপার্জিত এবং জ্ঞাত আয়ের সঙ্গে উৎসবহির্ভূত সম্পত্তি। যা দুর্নীতি দমন কমিশন আইন ২০০৪-এর ২৭(১) ধারা ও মানি লন্ডারিং প্রতিরোধ আইন ২০১২ এবং ৪(২) ও ৪(৩) ধারায় শাস্তিযোগ্য অপরাধ বলে বিশ্বাস করার যুক্তিসংগত কারণ রয়েছে। এই সম্পত্তি ক্রোক করা না হলে অনুসন্ধান নিষ্পত্তির আগেই হস্তান্তর বা বেহাত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। এমনকি বিচার কাজে তা বাজেয়াপ্ত করা সম্ভব হবে না। এই আবেদনের বিষয়টি আমলে নিয়ে শুনানি শেষে আব্দুর রবের সব সম্পত্তি ক্রোকের আদেশ দেন আদালত।

গত বছরের ৮ জানুয়ারি অনুসন্ধানকারী কর্মকর্তা মো. আবুবকর একই আদালতে আরেকটি আবেদন করেন। এই আবেদনে তিনি বলেন, আব্দুর রবের বিরুদ্ধে ঘুস গ্রহণ করে বিস্ফোরক আমদানি ও পরিবহণের লাইসেন্স দেওয়া, বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানকে অনৈতিক সুবিধা দিয়ে মাসোহারা আদায় করে জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জন করেছেন। অনুসন্ধানকালে তার নিজ নামে রাজবাড়ী, পাংশা ও বালিয়াকান্দিতে ১ কোটি ৭৬ লাখ ৮৫ হাজার ২৫০ টাকার স্থাবর সম্পত্তি অর্জন করেছেন। ওই আবেদনে ৫১টি দলিলে প্রকাশিত তথ্য উপস্থাপন করে ক্রোকাদেশ চাওয়া হয়। বিচারক এই আবেদনটি গ্রহণ করে স্থাবর সম্পত্তি ক্রোক করে দুদকের সম্পদ ব্যবস্থাপনা বিভাগের পরিচালকের কছে হস্তান্তরের নির্দেশ দেন। একই সঙ্গে এসব সম্পত্তির মালিকানা পরিবর্তন ঠেকাতে সংশ্লিষ্ট এলাকার রেজিস্ট্রার ও সাবরেজিস্ট্রারদের অবহিত করতে নির্দেশ দেওয়া হয়।


দুদকেই সর্বনাশ : তথ্যানুসন্ধানে জানা যায়, আব্দুর রবকে সামনে রেখে বিস্ফোরক পরিদপ্তরে দীর্ঘদিন ধরে একটি শক্তিশালী সিন্ডিকেট গড়ে উঠেছে। এই পরিদপ্তর থেকে সারা দেশে সিএনজি, এলপিজি ও পেট্রোল পাম্প ছাড়াও জাহাজ কারখানা, গার্মেন্টস, কেমিক্যাল ফ্যাক্টরি, অক্সিজেন সিলিন্ডার, গ্যাস সিলিন্ডারসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানকে বিস্ফোরক পরিদপ্তর সনদ দেওয়া হয়। এ কারণে প্রতিষ্ঠানটি অনেক গুরুত্বপূর্ণ। এই সুযোগে সেবাপ্রত্যাশী সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের মানুষকে জিম্মি করে অনেকটা নীরবেই কোটি কোটি টাকা ঘুস আদায় করা হয়। ঘুস ছাড়া এখানে কোনো কাজ হয় না। আবার সনদ পাওয়ার জন্য প্রয়োজনীয় শর্ত পূরণ না করেই অবৈধ উপায়ে কোনো কোনো প্রতিষ্ঠানের মালিক সনদ নিয়েছেন। এ কারণে অগ্নিকাণ্ডসহ নানা ধরনের দুর্ঘটনা ঘটেই চলেছে। অবৈধভাবে ব্যবসা পরিচালনাকারীরা আব্দুর রবের মতো কর্মকর্তাদের মাসোহারাও দিয়ে থাকেন। এসব অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে বিস্ফোরক পরিদপ্তরের সাবেক প্রধান পরিদর্শক সামসুল আলমসহ ১৬ জনের বিরুদ্ধে জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের বিষয়ে অনুসন্ধান শুরু করে দুদক। এই ১৬ জনের মধ্যে ৭ নম্বরেই আছে আব্দুর রবের নাম। তবে বিস্ময়কর বিষয় হলো-অনুসন্ধান কাজ শেষ করে ১৭ জুন এ সংক্রান্ত ফাইল নথিজাত করা হয়। দুদকের সচিব ড. মো. আনোয়ার হোসেন হাওলাদার স্বাক্ষরিত এক গোপনীয় চিঠিতে আলোচ্য ১৬ জনের বিষয়ে বলা হয়, বর্ণিত অভিযোগ অনুসন্ধানে প্রমাণিত না হওয়ায় দুর্নীতি দমন কমিশন কর্তৃক তা পরিসমাপ্তি করা হয়েছে।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে আব্দুর রবের জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের অভিযোগ অনুসন্ধানকারী কর্মকর্তা মো. আবুবকর সিদ্দিক বলেন, কিছু অভিযোগ নিষ্পত্তি করা হয়েছে। এছাড়া আরও কিছু বিষয় নিয়ে নতুন করে তদন্ত শুরু হয়েছে।

সরল স্বীকারোক্তি : এক সাক্ষাৎকারে অভিযুক্ত বিস্ফোরক কর্মকর্তা আব্দুর রব তার বিরুদ্ধে আনীত ঘুস, দুর্নীতি ও অবৈধভাবে সম্পদ অর্জনের অনেক কিছু অকপটে স্বীকার 


আরও খবর

২০০ টাকার জন্য বাবাকে পিটিয়ে খুন

বুধবার ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২১




কাবুল বিমানবন্দরে বিস্ফোরণ: নিহত বেড়ে ১৭৫

প্রকাশিত:শনিবার ২৮ আগস্ট ২০২১ | হালনাগাদ:বৃহস্পতিবার ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২১ | ৭৯জন দেখেছেন
নিউজ পোস্ট ডেস্ক

Image

আফগানিস্তানের রাজধানী কাবুলে হামিদ কারজাই আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের বাইরে জোড়া বিস্ফোরণের ঘটনায় মৃতের সংখ্যা বেড়েই চলেছে। এখন পর্যন্ত ওই হামলায় ১৩ মার্কিন সেনাসহ ১৭৫ জনের নিহত হয়েছেন বলে জানা গেছে। আহত হয়েছেন দেড় শতাধিক। খবর আল জাজিরার

বৃহস্পতিবার দেশত্যাগের জন্য বিমানবন্দরের বাইরে যখন হাজার হাজার আফগান নাগরিক অবস্থান করছিলেন তখন বিমানবন্দরের অ্যাবে গেটের বাইরে একটি আত্মঘাতী বোমা হামলা হয়। এ সময় সেখানে প্রায় চার থেকে পাঁচশ মানুষ ছিলেন। প্রথম বিস্ফোরণের পর দূর থেকে গুলি চালায় আরেক হামলাকারী। এর কিছুক্ষণ পরই নিকটবর্তী ব্যারন হোটেলের বাইরে আরেকটি বিস্ফোরণ ঘটে।

এরই মধ্যে ওই হামলার দায় স্বীকার করা জঙ্গি গোষ্ঠী আইএস-কের ঘাঁটিতে ড্রোন হামলা চালিয়েছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র। এতে হামলার পরিকল্পনাকারীর মৃত্যু হয়েছে বলে দাবি করেছে দেশটি।

হামলার ঘটনার পর মার্কিন প্রেসিডেন্ট হামলাকারীদের উদ্দেশ্যে কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়েছিলেন। তিনি বলেন, 'হামলাকারীদের খুঁজে বের করা হবে এবং কঠোর মূল্য দিতে হবে'। প্রেসিডেন্টের হুঁশিয়ারির পরই জঙ্গি গোষ্ঠীর ঘাঁটি লক্ষ্য করে ড্রোন হামলা চালালো যুক্তরাষ্ট্র।



আরও খবর

আফগানিস্তানে আবারও বিস্ফোরণ, নিহত ৭

রবিবার ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২১




বিশ্বে করোনায় আরও ১০ হাজারের বেশি মৃত্যু

প্রকাশিত:বৃহস্পতিবার ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২১ | হালনাগাদ:রবিবার ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২১ | ৬১জন দেখেছেন
নিউজ পোস্ট ডেস্ক

Image
বিশ্বে এখন পর্যন্ত মোট করোনায় মারা গেছেন ৪৬ লাখ ৭৩ হাজার ৪৮১ জন। মোট শনাক্ত হয়েছে ২২ কোটি ৭২ লাখ ৫২ হাজার ৭৫৭ জন

করোনাভাইরাসে এখনো বিপর্যস্ত বিশ্ব। এরইমধ্যে নানা দেশ বিধিনিষেধ শিথিল করেছে। খুলে দেওয়া হয়েছে পর্যটন ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানসহ প্রায় সব কিছু। এই অবস্থায় আবারও সারা বিশ্বে করোনা শনাক্ত ও মৃত্যু উভয়ই বেড়েছে। এর মাঝে পরিস্থিতির সবচেয়ে বেশি অবনতি হয়েছে যুক্তরাষ্ট্রে।

গত ২৪ ঘণ্টায় করোনাভাইরাসে আরও ১০ হাজার ২০০ জনের মৃত্যু হয়েছে। আর করোনা রোগী শনাক্ত হয়েছে ৫ লাখ ৬২ হাজার ৪৮৪ জন।

বৃহস্পতিবার (১৬ সেপ্টেম্বর) সকাল পৌনে ৯টায় এ তথ্য জানা যায় করোনাভাইরাসে আক্রান্ত ও মৃত্যুর পরিসংখ্যান রাখা ওয়েবসাইট ওয়ার্ল্ডওমিটার থেকে।

ওয়ার্ল্ডওমিটারের তথ্যানুযায়ী, বিশ্বে এখন পর্যন্ত মোট করোনায় মারা গেছেন ৪৬ লাখ ৭৩ হাজার ৪৮১ জন। মোট শনাক্ত হয়েছে ২২ কোটি ৭২ লাখ ৫২ হাজার ৭৫৭ জন। এদের মধ্যে সুস্থ হয়েন ২০ কোটি ৩৯ লাখ ৩৭ হাজার ৭১৭ জন।


আরও খবর

ডেঙ্গুতে হাসপাতালে আরও ২৩২ রোগী

শনিবার ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২১

করোনায় আরও ৩৫ জনের মৃত্যু

শনিবার ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২১




জাপানি নারীর দুই মেয়েকে উদ্ধার

প্রকাশিত:রবিবার ২২ আগস্ট ২০২১ | হালনাগাদ:রবিবার ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২১ | ৯১জন দেখেছেন
নিউজ পোস্ট ডেস্ক

Image
পেশায় চিকিৎসক নাকানো এরিকো ঢাকা এসে ১৯ আগস্ট হাইকোর্টে একটি রিট আবেদন করেন। মেয়ে দুটির বাবা বাংলাদেশি শরীফ ইমরানের কাছ থেকে সন্তানদের নিজের জিম্মায় পাওয়ার আবেদন করেন তিনি

দুই শিশু মেয়েকে ফিরে পেতে টোকিও থেকে ঢাকায় এসে আদালতের দ্বারস্থ হয়েছিলেন জাপানের নাগরিক নাকানো এরিকো। হাইকোর্ট ৩১ আগস্ট দুই শিশুকে হাজির করতে তাদের বাবা ও ফুফুকে নির্দেশ দিয়েছিলেন। এর আগেই ১০ ও ১১ বছর বয়সী মেয়ে দুটিকে উদ্ধার করেছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)।

সিআইডির অতিরিক্ত পুলিশ সুপার জিসানুল হক রবিবার এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। তবে কখন কোথা থেকে তাদের উদ্ধার করা হয়েছে, সে বিষয়ে কিছু বলেননি তিনি।

পেশায় চিকিৎসক নাকানো এরিকো ঢাকা এসে ১৯ আগস্ট হাইকোর্টে একটি রিট আবেদন করেন। মেয়ে দুটির বাবা বাংলাদেশি শরীফ ইমরানের কাছ থেকে সন্তানদের নিজের জিম্মায় পাওয়ার আবেদন করেন তিনি। রিটের প্রাথমিক শুনানি নিয়ে বিচারপতি এম ইনায়েতুর রহিম ও বিচারপতি মো. মোস্তাফিজুর রহমানের সমন্বয়ে গঠিত ভার্চ্যুয়াল হাইকোর্ট বেঞ্চ ওই দুই শিশুকে আদালতে হাজির করার নির্দেশ দেন। গুলশান ও আদাবর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে শিশুদের আদালতে উপস্থিতি নিশ্চিত করতে নির্দেশ দেওয়া হয়। এ ছাড়া শিশুদের নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিক তাদের বাবা যাতে দেশত্যাগ করতে না পারেন, সে জন্য ৩০ দিনের নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়।

আদালতে রিটের পক্ষে শুনানি করেন আইনজীবী মোহাম্মদ শিশির মনির। রাষ্ট্রপক্ষে শুনানিতে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল বিপুল বাগমার।

রিট আবেদনকারী পক্ষের তথ্যমতে, জাপানি আইন অনুসারে নাকানো এরিকো (৪৬) ও বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত মার্কিন নাগরিক শরীফ ইমরান (৫৮) ২০০৮ সালের ১১ জুলাই বিয়ে করেন। এরপর তাঁরা টোকিওতে বসবাস শুরু করেন। এক যুগের দাম্পত্যজীবনে তাঁদের তিন কন্যাসন্তানের জন্ম হয়। বর্তমানে তাঁদের বয়স যথাক্রমে ১১, ১০ ও ৭ বছর। তিন মেয়ে টোকিওর একটি স্কুলে পড়ছিল।

চলতি বছরের ১৮ জানুয়ারি এরিকোর সঙ্গে বিবাহবিচ্ছেদের আবেদন করেন ইমরান। গত ২১ জানুয়ারি ইমরান টোকিওর ওই স্কুল কর্তৃপক্ষের কাছে তাঁর এক মেয়েকে নিয়ে যাওয়ার আবেদন করেন। তবে এরিকোর সম্মতি না থাকায় স্কুল কর্তৃপক্ষ ইমরানের আবেদন নাকচ করে।

আইনজীবীর তথ্যমতে, পরবর্তী সময়ে স্কুলবাসে করে বাসায় ফেরার পথে বাসস্টপেজ থেকে ইমরান বড় দুই মেয়েকে (১১ ও ১০) অন্য একটি ভাড়া বাসায় নিয়ে যান। গত ২৫ জানুয়ারি ইমরান তাঁর আইনজীবীর মাধ্যমে এরিকোর কাছে সন্তানদের পাসপোর্ট হস্তান্তরের আবেদন করেন। কিন্তু এরিকো তা প্রত্যাখ্যান করেন। এরিকো ২৮ জানুয়ারি টোকিওর পারিবারিক আদালতে তাঁর সন্তানদের জিম্মার জন্য আদেশ চেয়ে মামলা করেন। আদালত ৭, ১১ ও ১৪ ফেব্রুয়ারি পারিবারিক সাক্ষাতের আদেশ দেন। তবে এই আদেশ ভঙ্গ করে ইমরান শুধু একবার মায়ের সঙ্গে বড় দুই মেয়ের সাক্ষাতের সুযোগ দেন।

এরিকোর আইনজীবীর অভিযোগ, গত ৯ ফেব্রুয়ারি মিথ্যা তথ্যের ভিত্তিতে ইমরান মেয়েদের জন্য নতুন পাসপোর্টের আবেদন করেন। ১৭ ফেব্রুয়ারি নতুন পাসপোর্ট গ্রহণ করেন। গত ২১ ফেব্রুয়ারি দুই মেয়েকে নিয়ে দুবাই হয়ে বাংলাদেশে চলে আসেন তিনি।

গত ৩১ মে টোকিওর পারিবারিক আদালত এরিকোর অনুকূলে বড় দুই মেয়ের জিম্মা হস্তান্তরের আদেশ দেন। এরপর করোনা পরিস্থিতির কারণে এরিকো এত দিন বাংলাদেশ আসতে পারেননি বলে জানান তাঁর আইনজীবী। তিনি বলেন, ছোট মেয়েকে মায়ের কাছে রেখে ১৮ জুলাই শ্রীলঙ্কা হয়ে বাংলাদেশে আসেন এরিকো। তবে ইমরান শ্রীলঙ্কা থেকে এরিকোকে ফিরে যেতে বলেন।

এরিকো বাংলাদেশে এসে করোনা পরীক্ষা করান। ফলাফল নেগেটিভ আসে। তবে ইমরান এ ফলাফল অবিশ্বাস করে এরিকোর সঙ্গে দুই মেয়ের সাক্ষাৎ করানোয় অস্বীকৃতি জানান। গত ২৭ জুলাই মুঠোফোন সংযোগ বন্ধ ও চোখ বাঁধা অবস্থায় এরিকোকে তাঁর মেয়েদের সঙ্গে সাক্ষাতের সুযোগ দেওয়া হয়। একই অবস্থায় গাড়িতে করে তাঁকে পৌঁছে দেওয়া হয়। এরপর দুই মেয়েকে নিজ জিম্মায় চেয়ে আদালতের শরণাপন্ন হন নাকানো এরিকো।


আরও খবর



কাবুল বিমানবন্দরের বাইরে আত্মঘাতী হামলায় নিহত ১৩

প্রকাশিত:বৃহস্পতিবার ২৬ আগস্ট ২০২১ | হালনাগাদ:শনিবার ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২১ | ৬২জন দেখেছেন
নিউজ পোস্ট ডেস্ক

Image

কাবুল বিমানবন্দরের বাইরে আত্মঘাতী হামলায় শিশু ও বিদেশি নাগরিকসহ ১৩ জন নিহত হয়েছে বলে জানিয়েছে তালেবান। এই বিস্ফোরণে তালেবানের কয়েকজন নিরাপত্তা রক্ষী আহত হয়েছে বলে দাবি করেছে সংগঠনটি।

বৃহস্পতিবার এ বিস্ফোরণ ঘটে বলে  আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে জানা গেছে। তবে কারা এই হামলা চালিয়েছে তাও নিশ্চিত হওয়া যায়নি বলে বিবিসি এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে।

কাবুল বিমানবন্দরে কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই ভয়াবহ হামলা হতে পারে বলে যুক্তরাজ্যের সশস্ত্র বাহিনী বিষয়ক মন্ত্রী জেমস হ্যাপির আশঙ্কা প্রকাশের পরই এ হামলার খবর সামনে এলো। 

এদিকে বুধবারই ব্রিটিশ পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে এক নতুন নির্দেশনা জারি করা হয়েছে। ওই নির্দেশনায় কাবুল বিমানবন্দরের আশেপাশে অবস্থানরত সবাইকে নিরাপদ স্থানে সরে যেতে এবং পরবর্তী নির্দেশনা না দেওয়া পর্যনন্ত সেখানেই অবস্থান করতে বলা হয়েছে।

বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্র কাবুল বিমানবন্দরের নিরাপত্তার দায়িত্বে রয়েছে। সেখানে পাঁচ হাজার ৮০০ মার্কিন সেনাকে সহায়তা করছে এক হাজারের বেশি ব্রিটিশ সেনা।

অন্যদিকে, বিমানে বন্দরে যাওয়ার পথেও মানুষ হামলার শিকার হতে পারে বলে সতর্ক করেছেন কমনওয়েলথ অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট অফিস (এফসিডিও)।

এদিকে, কাবুল থেকে কবে শেষ ব্রিটিশ বিমান ছেড়ে যাবে সে ব্যাপারে কিছু জানাননি হ্যাপি।  তবে শেষ মার্কিন বিমান আফগানিস্তান ছাড়ার আগেই যুক্তরাজ্যসহ সব বিদেশি বাহিনী প্রত্যাহার করা হবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন তিনি।

অন্যদিকে, তালেবানদের বেঁধে দেওয়া সময়ের মধ্যে ৩১ আগস্টের আগেই সব মার্কিন নাগরিক ও সেনা সদস্যদের কাবুল থেকে ফিরিয়ে আনার চেষ্টা চলছে বলে জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র।

জি-সেভেন নেতাদের সঙ্গে মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের ভার্চুয়াল বৈঠকের পর হোয়াইট হাউস এ ঘোষণা দেয়।

অন্যদিকে, নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই মার্কিনিদের সরিয়ে নিতে প্রতি ৩৯ মিনিট পর পর যাত্রী বোঝাই করে কাবুল বিমানবন্দর থেকে মার্কিন সামরিক বিমান ছেড়ে যাচ্ছে বলে পেন্টাগন জানিয়েছে।

 


আরও খবর



না ফেরার দেশে কথাসাহিত্যিক বুলবুল চৌধুরী

প্রকাশিত:শনিবার ২৮ আগস্ট ২০২১ | হালনাগাদ:শনিবার ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২১ | ১০৩জন দেখেছেন
নিউজ পোস্ট ডেস্ক

Image
গত ছয় মাস ধরে বাবার জ্বর ছিল এবং শরীরের ওজন কমে যাচ্ছিল। ফেব্রুয়ারিতে হঠাৎ শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে হাসপাতালে নেওয়া হয়। তখন তার ক্যানসার ধরা পড়ে

না ফেরার দেশে চলে গেলেন কথাসাহিত্যিক বুলবুল চৌধুরী। দীর্ঘদিন ক্যানসারে আক্রান্ত হয়ে আজ শনিবার সন্ধ্যা ৬টার দিকে তিনি শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করেন।

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের অনকোলজি বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ডা. সারওয়ার আলমের তত্ত্বাবধানে পুরান ঢাকার বাসায় তিনি চিকিৎসাধীন ছিলেন।

বুলবুল চৌধুরীর ছেলে আর রাফি চৌধুরী গণমাধ্যমকে বলেন, গত ছয় মাস ধরে বাবার জ্বর ছিল এবং শরীরের ওজন কমে যাচ্ছিল। ফেব্রুয়ারিতে হঠাৎ শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে হাসপাতালে নেওয়া হয়। তখন তার ক্যানসার ধরা পড়ে। ক্যানসার তার শ্বাসযন্ত্রে ছড়িয়ে পড়ায় কিছু খেতে পারছিলেন না। কেমো নেওয়ার মতো শারীরিক অবস্থাও ছিল না। তাই ডাক্তারের পরামর্শে চিকিৎসা চলছিল বাসায়।

বুলবুল চৌধুরীর জন্ম ১৯৪৮ সালের ১৬ আগস্ট গাজীপুরে। পেশাগত জীবনে তিনি সাংবাদিকতার সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। তার প্রথম প্রকাশিত গল্পগ্রন্থ টুকা কাহিনী। বুলবুল চৌধুরীর লেখা অন্যান্য বইয়ের মধ্যে রয়েছে পরমানুষ, মাছের রাত, চৈতার বউ গো প্রভৃতি। উপন্যাসের মধ্যে রয়েছে অপরূপ বিল ঝিল নদী, কহকামিনী, এই ঘরে লক্ষ্মী থাকে, ইতু বৌদির ঘর, জলটুঙ্গি প্রভৃতি।

এ বছর বাংলা ভাষা ও সাহিত্যে অবদানের জন্য তিনি একুশে পদক লাভ করেন। এছাড়াও তিনি বাংলা একাডেমি পুরস্কার, হুমায়ুন কাদির স্মৃতি পুরস্কার, জসীমউদ্দীন স্মৃতি পুরস্কার ও ব্র্যাক ব্যাংক-সমকাল সাহিত্য পুরস্কার লাভ করেন।

নিউজ ট্যাগ: বুলবুল চৌধুরী

আরও খবর