
সম্প্রতি মুক্ত হওয়া ইউক্রেনের বুচা শহরের ধ্বংসাবশেষের চিত্র ফুটে ওঠেছে সর্বসম্মুখে। কিয়েভ সংলগ্ন শহরটিতে মাসব্যাপী রুশ আগ্রাসনের নিহতদের ছবি প্রকাশ করেছেন মেয়র আনাতোলি ফেডোরুক। বার্তা সংস্থা রয়টার্স প্রকাশিত ছবিতে দেখা যায় বুচার সড়কে পড়ে আছে বেসামরিক নাগরিকদের অসাড় দেহ। সাদা কাপড় দিয়ে হাত-পা বাঁধা তাদের, মুখমন্ডলে গুলির ক্ষত।
মেয়র আনাতোলি ফেডোরুক জানান, দক্ষিণ রাশিয়ার চেচনিয়ান যোদ্ধারা শহরটির নাগরিকদের ওপর বর্বর আগ্রাসন চালিয়েছে। ইচ্ছাকৃতভাবে বেসামরিক লোকদের গুলি করে হত্যা করত তারা। শনিবার (২ এপ্রিল) শহরটিতে রুশ সেনা প্রত্যাহার করার পর অন্তত ৪১১ মৃতদেহ উদ্ধারের দাবি করেছেন শহরটির কর্তৃপক্ষ। মেয়র আনাতোলি নিশ্চিত করেছেন শহর দখলে চেচেনবাহিনী অন্তত তিনশত সাধারণ নাগরিককে গুলি করে হত্যা করে।
তবে শহরটির বেসামরিকদের হত্যার অভিযোগ অস্বীকার করেছে রাশিয়া। মস্কোর দাবি, বুচার কোন নাগরিকই রুশ বাহিনীর আগ্রাসনের শিকার হয়নি। বরং পশ্চিমা গণমাধ্যমগুলোর সহায়তায় উসকানিমূলক খবর প্রকাশ করছে কিয়েভ। রুশ রাশিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে জানায়, ‘‘কিয়েভ অঞ্চলের বুচা শহরে রাশিয়ান সেনাদের ‘অপরাধের’ অভিযোগেটি একটি উস্কানি।’’
এদিকে বুচায় রুশ ‘গণহত্যার’ বিষয়টি তদন্তের ঘোষণা দিয়েছে জাতিসংঘ। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম টুইটারের এক পোস্টে বিষয়টি নিশ্চিত করেন সংস্থাটির মহাসচিব আন্তেনিও গুতেরেস।
গুতেরেস বলেন, ‘‘বুচার ঘটনায় আমি হতবাক। ঘটনাটির একটি স্বাধীন ও নিরপেক্ষ তদন্ত হওয়া এখন সময়ের দাবি। দোষীদের অবশ্যই আইনের আওতায় আনতে হবে।’’

