Logo
শিরোনাম

ব্যাংকপাড়ায় ডলার নিয়ে লঙ্কাকাণ্ড!

প্রকাশিত:শনিবার ১৪ মে ২০২২ | হালনাগাদ:শনিবার ২১ মে ২০২২ | ৪৯জন দেখেছেন
নিউজ পোস্ট ডেস্ক

Image

ব্যাংকের চাহিদা অনুযায়ী কেন্দ্রীয় ব্যাংক ডলার সরবরাহ না করায় ঋণপত্র (এলসি) খোলায় বড় ধরনের সংকটে দেশের বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলো। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সার্কুলার অনুযায়ী, টাকার বিপরীতে প্রতি ডলারের দর ৮৬ টাকা ৭০ পয়সা। কিন্তু এই দরে দেশে একটি ডলারও পাওয়া যাচ্ছে না। কারণ আন্তঃব্যাংক ডলার বিনিময় দর এখন ৯৪-৯৫ টাকা। সরকারি-বেসরকারি ব্যাংকগুলো এ দরে ডলার কেনাবেচা করছে। যদিও আমদানি ঋণপত্র (এলসি) খোলা হচ্ছে লোক দেখানো ৮৬ টাকা ৭৫ পয়সা বিনিময় হারে। কিন্তু এলসি নিষ্পত্তি হচ্ছে ৯৩ থেকে ৯৬ টাকা হারে। প্রয়োজনীয় ডলার বাজারে না পাওয়ায় অনেকেই সময়মতো এলসি খুলতে পারছে না বলে বিশ্বস্ত সূত্রে জানা গেছে।

জানা গেছে, পূবালী ব্যাংক এলসি নিষ্পত্তিতে ডলারের দর ধরছে ৯৫ থেকে ৯৬ টাকা। এছাড়া সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংক (এসআইবিএল) ৯৪ থেকে ৯৬ টাকা, প্রিমিয়ার ব্যাংক ৯৪ থেকে ৯৫ টাকা, এক্সিম ব্যাংক ৯৪ থেকে ৯৫ টাকা এবং এনসিসি ব্যাংক ৯২ থেকে ৯৪ টাকায় এলসি নিষ্পত্তি করছে। ব্যাংকাররা বলছেন, ডলার সরবরাহে ফরেন একচেঞ্জ শাখার কর্মকর্তাদের নাভিশ্বাস উঠে যাচ্ছে। এলসি খোলা এখন বড়ই দুঃসাধ্য।

আমদানিকারক প্রতিষ্ঠান ব্রিজ কেমিক্যাল লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক নাজমুল করিম বলেন, রপ্তানি বাণিজ্যে ডলারের দর ৮৬ টাকা ৭০ পয়সা। আর আমদানি বাণিজ্যে ডলারের দর ৯৬ টাকা। এটা এক উদ্ভট বিষয়। আমদানি করতে গেলে এলসি খোলার সময় প্রতি ডলারের বিপরীতে অতিরিক্ত ৯ টাকা বেশি দিতে হচ্ছে। তারপর রয়েছে এলসি মার্জিনের কড়াকড়ি। অনেক পণ্য আমদানির ক্ষেত্রে এলসির বিপরীতে ৫০ থেকে ৭৫ শতাংশ নগদ টাকা আগেই জমা দেয়ার নির্দেশনা জারি করেছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। এত কড়াকড়ির মধ্যে ব্যবসা করা কঠিন। এছাড়া আন্তর্জাতিক বাজারে পণ্যভেদে দাম বেড়েছে সর্বোচ্চ ৩০০ শতাংশ। এ অবস্থায় আগের চেয়ে দ্বিগুণেরও বেশি পুঁজি খাটিয়ে ব্যবসা করতে হচ্ছে।

ইলেকট্রনিক্স পণ্য আমদানিকারক সাইফুল ইসলাম বলেন, রোজার আগে এলসি খুলেছি ৮৭ টাকা দরে। এখন তা ৯৫ টাকা। এক ডলারের বিপরীতে এক মাসের ব্যবধানে বাড়তি অর্থ গুনতে হচ্ছে ৭ থেকে ৮ টাকা। এছাড়া এলসি মার্জিনের কড়াকড়ি রয়েছে। সব মিলিয়ে আমদানি পণ্যে খরচ বাড়বে ২০ থেকে ২৫ শতাংশ। এখন ভোক্তা পর্যায়ে দাম বাড়বে ২৫ থেকে ৩০ শতাংশ।

এ ব্যাপারে বিকেএমইএর নির্বাহী সভাপতি মোহাম্মদ হাতেম বলেন, এক আমদানিকারক আমাকে জানিয়েছেন, আমদানি এলসি খোলার ক্ষেত্রে এক ডলারের বিপরীতে ব্যাংক ৯৫ টাকা নিচ্ছে। আর রপ্তানির ক্ষেত্রে এক ডলার ভাঙিয়ে পাওয়া যাচ্ছে ৮৫ টাকা ৮৫ পয়সা। অন্যদিকে ব্যাংক আমাকে বলছে, রপ্তানির বিপরীতে ডলারপ্রতি তারা ৮৫ টাকা ৪৯ পয়সা দেবে। ঈদের আগে ব্যাংকগুলো দিচ্ছিল ৮৫ টাকা পাঁচ পয়সা থেকে ১২ পয়সা। রেমিট্যান্স যারা পাঠাচ্ছিল তাদের দেয়া হয়েছিল সর্বোচ্চ ৮৫ টাকা ৩০ পয়সা। ডলারের দর বৃদ্ধিতে বাংলাদেশের কোনো নাগরিক লাভবান হচ্ছে না বরং জনগণ ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। শুধু লাভবান হচ্ছে ব্যাংক।

এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ইএবি) সভাপতি আব্দুস সালাম মূর্শেদী বলেন, আমরা সবাই কাঁচামাল আমদানি করছি,  প্রক্রিয়া করছি। সেগুলো দিয়ে পণ্য তৈরি করছি। বিদ্যুৎ বিল দিচ্ছি, শ্রমিকের মজুরি দিচ্ছি। তাই আমদানি-রপ্তানিতে ডলারের দর একই থাকা উচিত। ভারতে অকটেন এখনই ১১১ টাকা। সেই হিসেবে আমাদের এখানেও দাম বাড়বে। আমাদের আমদানিও লাগবে, রপ্তানিও লাগবে। আমদানি-রপ্তানির ক্ষেত্রে ডলারের দর একই থাকা উচিত।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে বেসরকারি গবেষণা প্রতিষ্ঠান সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) সম্মাননীয় ফেলো অধ্যাপক মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, বর্তমানে আমাদের আমদানি ব্যয়বহুল হয়ে গেছে। অন্যদিকে রপ্তানির ক্ষেত্রে মূল্য সংযোজন তেমন বাড়েনি। এক্ষেত্রে আমদানি হয়ে পড়েছে অনেকটা মূল্যনির্ভর। আর রপ্তানি পরিণত হয়েছে পণ্যের পরিমাণনির্ভর খাতে। এতে করে আমাদের তৈরি পোশাকসহ অন্যান্য রপ্তানিমুখী খাতের উদ্যোক্তাদের সমস্যায় পড়তে হচ্ছে। কারণ তাদের একদিকে কাঁচামাল ও মূলধনি যন্ত্রপাতি আমদানিতে বেশি অর্থ ব্যয় করতে হচ্ছে, অন্যদিকে পণ্য রপ্তানি করে তারা বাড়তি অর্থ তুলে নিতে পারছেন না। বর্তমানে আমদানি এলসি খোলা ও রপ্তানি মূল্য টাকায় রূপান্তর প্রক্রিয়ায় মুদ্রার বিনিময় মূল্যের পার্থক্য প্রায় ৯ টাকা। এই ব্যবধান নজিরবিহীন। এটা কোনোভাবেই কাম্য নয়। এ পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখার জন্য অনেক আগেই উদ্যোগ নেয়া উচিত ছিল। তারপরও বাংলাদেশ ব্যাংক গত মঙ্গলবার বিলাস পণ্য আমদানি করার ক্ষেত্রে যে মার্জিন নির্ধারণ করে দিয়েছে, তা ইতিবাচক। এ ধরনের উদ্যোগ ডলারের বাজারে স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনতে সহায়ক হবে।

এ বিষয়ে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একটি বেসরকারি ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক বলেন, বাংলাদেশ ব্যাংক ডলারের দাম নির্ধারণ করে দিলেও এটা চাহিদা ও সরবরাহের (ডিমান্ড অ্যান্ড সাপ্লাই) ওপর নির্ভর করে। মার্কেটে প্রকৃতপক্ষে ডলারের দাম ৯০ টাকার ওপরে। এ কারণেই এলসি খোলার সময় আমদানিকারকদের বেশি মূল্য গুনতে হয়। তাছাড়া আমদানি এবং রপ্তানিকারকদের ডলারের মূল্যে সব সময় কিছু না কিছু পার্থক্য থাকে।

নিউজ ট্যাগ: ডলার

আরও খবর



দেশের সকল মাদ্রাসায় নামফলক ঝোলানোর নির্দেশনা

প্রকাশিত:বুধবার ১৮ মে ২০২২ | হালনাগাদ:শুক্রবার ২০ মে ২০22 | ২৬জন দেখেছেন
নিউজ পোস্ট ডেস্ক

Image

দেশের সব মাদ্রাসায় নামফলক ঝোলানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।মঙ্গলবার মাদ্রাসা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক কে এম রুহুল আমীন স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে এ নির্দেশনা দেওয়া হয়।

দেশের অনেক মাদ্রাসা ভবনে নাম-ঠিকানা সম্বলিত কোনো নামফলক না থাকায় এসব প্রতিষ্ঠানের অবস্থান জানতে বা পরিদর্শনে সমস্যা হয়। যে কারণে এমন নির্দেশনা এলো।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, প্রাথমিক, মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক পর্যায়ের সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের দিক-নির্দেশক বা সাইনবোর্ড দৃশ্যমান স্থানে থাকলেও অধিকাংশ মাদ্রাসায় তা দেখা যায় না। নামফলক না থাকা এসব মাদ্রাসায়পরিদর্শন অথবা দাপ্তরিক প্রয়োজনে সঠিক অবস্থান নির্ণয় করা কষ্টসাধ্য হয়ে পড়ে। এছাড়াও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের নাম-ঠিকানা সম্বলিত সাইনবোর্ড স্থাপনের বিষয়ে সরকারি নির্দেশনাও রয়েছে।

একারণে দেশের সব কামিল/ফাজিল/আলিম/দাখিল/এবতেদায়ী মাদরাসার মূলভবন ও প্রবেশপথে নাম-ঠিকানা সম্বলিত সাইনবোর্ড ঝোলাতে বলা হয়েছে। একইসঙ্গে বড় রাস্তার পাশে কিংবা দৃশ্যমান স্থানে দিক-নির্দেশক চিহ্নসহ মাদরাসার নাম-ঠিকানা সম্বলিত সাইনবোর্ড স্থাপনের জন্য অনুরোধ জানানো হয়েছে।


আরও খবর



আমাকে হত্যার ষড়যন্ত্র চলছে : জনসভায় ইমরান

প্রকাশিত:রবিবার ১৫ মে ২০২২ | হালনাগাদ:শনিবার ২১ মে ২০২২ | ৪০জন দেখেছেন
নিউজ পোস্ট ডেস্ক

Image

পাকিস্তানের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান দাবি করেছেন পাকিস্তানের ভেতরে ও বাইরের একাধিক অবস্থান থেকে তাঁকে প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয়েছে। ইমরান খান এ সংক্রান্ত একটি ভিডিও রেকর্ড করার খবর জানিয়ে বলেছেন, তিনি সব হুমকিদাতা ও ষড়যন্ত্রকারীর নাম ও প্রমাণ তুলে ওই ভিডিওতে রেখেছেন। খবর হিন্দুস্তান টাইমসের।

ইমরান খান গতকাল শনিবার পাকিস্তানের পূর্বাঞ্চলীয় পাঞ্জাব প্রদেশের শিয়ালকোট শহরে তেহরিকে ইনসাফ পার্টি আয়োজিত এক জনসমাবেশে ভাষণ দেন। সেখানে তিনি বলেন, ষড়যন্ত্রকারীরা এখনও তাঁকে হত্যার পরিকল্পনা করে যাচ্ছে। এবং এ পরিকল্পনা দেশের ভেতরে ও বাইরে বসে করা হচ্ছে।

পাকিস্তানের সাবেক এ প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, তিনি একটি ভিডিও রেকর্ড করে নিরাপদ স্থানে রেখে দিয়েছেন। যদি কখনও তাঁর প্রাণের প্রতি হুমকি সৃষ্টি হয় কিংবা তিনি নিহত হন, তখন এ ভিডিও প্রকাশ করা হবে। ওই ভিডিওতে তিনি তাঁর সরকার উৎখাত এবং তাঁকে হত্যার ষড়যন্ত্রে জড়িত ব্যক্তিদের নাম প্রমাণসহ তুলে ধরেছেন বলে দাবি করেন।

ইমরান খান ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব গ্রহণ করেন সাবেক প্রধানমন্ত্রী নওয়াজ শরিফের ভাই শাহবাজ শরিফ।

ইমরান খান তাঁর গতকালের ভাষণে পাকিস্তানের বিচারের বিভাগের কড়া সমালোচনা করে বলেন, বর্তমান প্রধানমন্ত্রী এবং তাঁর ছেলে ও পাঞ্জাবের মুখ্যমন্ত্রীসহ বর্তমান সরকারের সব মন্ত্রী দুর্নীতিতে জড়িত। ইমরান নিজের বিগত সরকারকে দুর্নীতিমুক্ত দাবি করে বলেন, তিনি দেশকে চুরি ও লুটপাটমুক্ত করতে চেয়েছিলেন, কিন্তু ষড়যন্ত্রকারীরা তা সহ্য করেনি।

গত মাসে পাকিস্তানের পার্লামেন্টে এক অনাস্থা ভোটে হেরে ক্ষমতাচ্যুত হন ক্রিকেট থেকে রাজনীতিতে প্রবেশ করা ইমরান খান। তাঁর চীন ও রাশিয়া-ঘেঁষা নীতিতে নাখোশ হয়ে যুক্তরাষ্ট্র নেপথ্যে থেকে সরকার পরিবর্তন প্রক্রিয়া ঘটিয়েছে বলে এর আগে অভিযোগ করেছেন ইমরান খান।

ইমরানের ক্ষমতাচ্যুতির পর পাকিস্তান মুসলিম লীগ (নওয়াজ) শাখার নেতা শাহবাজ শরিফ প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন। শিয়ালকোটের সমাবেশে পাকিস্তানে অনতিবিলম্বে মধ্যবর্তী নির্বাচন দেওয়ার দাবি জানান ইমরান খান। তিনি হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেন, সরকার নির্বাচনের দাবি মেনে না নিলে, ইসলামাবাদ অভিমুখে লাখো মানুষের লংমার্চ করা হবে।


আরও খবর



রাজধানীতে এবার ১৯ পশুর হাট

প্রকাশিত:রবিবার ১৫ মে ২০২২ | হালনাগাদ:শনিবার ২১ মে ২০২২ | ৪১জন দেখেছেন
নিউজ পোস্ট ডেস্ক

Image

করোনার কারণে গত দু’বছর পবিত্র ঈদুল আজহা উপলক্ষে কোরবানির পশুর হাট খুব একটা জমে উঠেনি। গরু, ছাগলসহ কোরবানির পশু রাজধানীর হাটগুলোতে বিক্রির জন্য তোলা হলেও ক্রেতা-বিক্রেতাদের সরব উপস্থিতি ছিল না। এ বছর করোনা পরিস্থিতি গত দুই বছরের চেয়ে তুলনামূলক ভালো থাকায় রাজধানীতে কোরবানির পশুর হাট কেন্দ্রিক প্রস্তুতি শুরু হয়েছে কিছুটা আগে থেকেই। পবিত্র ঈদুল আজহাকে সামনে রেখে স্থায়ী, অস্থায়ী মিলিয়ে এ বছর রাজধানীতে মোট ১৯টি কোরবানির পশুর হাট বসানোর উদ্যোগ নিয়েছে ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশন।

হাটগুলোর মধ্যে দু’টি স্থায়ী হাট, যেগুলোতে বছরের অন্য সময়ও পশু বিক্রি হয়। এরমধ্যে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের রয়েছে গাবতলী স্থায়ী হাট এবং ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের রয়েছে সারুলিয়া স্থায়ী পশুর হাট। এই হাট দুটি ছাড়া আরও ১৭টি অস্থায়ী হাট রাজধানীতে বসানোর উদ্যোগ নিয়েছে ঢাকার দুই সিটি করপোরেশন।

অস্থায়ী হাটগুলোর মধ্যে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন এলাকায় বসবে ১০টি ও উত্তর সিটি করপোরেশন এলাকায় বসবে ৭টি হাট। এছাড়া ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের ডিজিটাল হাট চালু থাকবে।

ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের প্রধান সম্পত্তি কর্মকর্তা রাসেল সাবরিন জানিয়েছেন, হাটগুলো পরিচালনার জন্য যেসব নির্দেশনা আসবে সেসব বাস্তবায়ন করা হবে।

অন্যদিকে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের প্রধান সম্পত্তি কর্মকর্তা মোজাম্মেল হক জানিয়েছেন, পরবর্তী সিদ্ধান্তের আলোকে হাটগুলোতে স্বাস্থ্যবিধির বিষয়গুলো ঠিক করা হবে।

ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের যে ১০টি স্থানে কোরবানির পশুর অস্থায়ী হাট বসবে সেগুলো হলো- লালবাগের রহমতগঞ্জ ক্লাবসংলগ্ন আশপাশের খালি জায়গা, আমুলিয়া মডেল টাউনের আশপাশের খালি জায়গা, পোস্তগোলা শ্মশানঘাট সংলগ্ন আশপাশের খালি জায়গা, ধোলাইখাল ট্রাক টার্মিনাল সংলগ্ন উন্মুক্ত জায়গা, শ্যামপুর-কদমতলী ট্রাকস্ট্যান্ডসংলগ্ন খালি জায়গা,উত্তর শাহজাহানপুর খিলগাঁও রেলগেট বাজার মৈত্রী সংঘের ক্লাবসংলগ্ন আশপাশের খালি জায়গা, হাজারীবাগ এলাকায় ইনস্টিটিউট অব লেদার টেকনোলজি মাঠসংলগ্ন উন্মুক্ত এলাকা, মেরাদিয়া বাজারসংলগ্ন আশপাশের খালি জায়গা, দনিয়া কলেজ মাঠসংলগ্ন খালি জায়গা এবং লিটল ফ্রেন্ডস ক্লাবসংলগ্ন খালি জায়গাসহ কমলাপুর স্টেডিয়ামসংলগ্ন বিশ্বরোডের আশপাশের এলাকায় অস্থায়ী হাট বসবে।

ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের যে সাতটি স্থানে অস্থায়ী পশুর হাট বসবে- ভাটারা (সাইদনগর) পশুর হাট, কাওলা শিয়ালডাঙ্গাসংলগ্ন খালি জায়গা, মিরপুর সেকশন ৬ ইস্টার্ন হাউজিংয়ের খালি জায়গা, মোহাম্মদপুর বছিলায় ৪০ ফুট রাস্তাসংলগ্ন খালি জায়গা, উত্তরা ১৭ নম্বর সেক্টর এলাকায় অবস্থিত বৃন্দাবন থেকে উত্তর দিকে বিজিএমইএ পর্যন্ত খালি জায়গা, বাড্ডা ইস্টার্ন হাউজিং ব্লক-ই থেকে এইচ পর্যন্ত এলাকার খালি জায়গা এবং ৩০০ ফিট সড়কসংলগ্ন উত্তর পাশের সালাম স্টিল-যমুনা হাউজিং কোম্পানির খালি জায়গা ও এর পাশে ব্যক্তিগত মালিকানাধীনের খালি জায়গা মিলিয়ে অস্থায়ী পশুর হাট বসবে।

১৭টি অস্থায়ী পশুর হাটের মধ্যে ১৪টির ইজারার কাজ প্রাথমিকভাবে শেষ হয়েছে। বাকিগুলো চূড়ান্ত করার কাজ চলমান রয়েছে। উত্তর সিটির স্থায়ী গাবতলী হাট ও দক্ষিণ সিটির স্থায়ী সারুলিয়া হাট বছর জুড়েই ইজারা দেওয়া থাকে।


আরও খবর



শ্রীলঙ্কার কৃষকেরা বলছেন, আমাদের আর কোনো আশা নেই

প্রকাশিত:বৃহস্পতিবার ১৯ মে ২০২২ | হালনাগাদ:শনিবার ২১ মে ২০২২ | ৫২জন দেখেছেন
নিউজ পোস্ট ডেস্ক

Image

সবকিছু শেষ হয়ে গেছে, আমি জানি না এখন কী করবো? আমি একবার আকাশের দিকে তাকাই, আরেকবার জমিনের দিকে তাকাই আর অপেক্ষা করি- এভাবেই নিজের অনিশ্চিত ভবিষ্যতের কথা বলছিলেন ভয়াবহ আর্থিক সঙ্কটে পড়া শ্রীলঙ্কার একজন কৃষক। দেশটিতে বছরের এই সময়ে, কলাক্ষেতের বেশিরভাগ গাছের উচ্চতা হতো দ্বিগুণ। ফুলে ফুলে ভরে উঠতো গাছগুলো। কিন্তু এই কৃষকের আগাছা ছড়ানো মাঠের ১ হাজার তিনশটি গাছের মধ্যে মাত্র কয়েকটিতে ফুল এসেছে। জমিতে চাষ করে বছরে ৩৭ হাজার কেজি কলা পেতেন তিনি। অথচ এবার মাত্র ৬ হাজার কেজি কলা পেতে পারেন।

আল জাজিরাকে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে শ্রীলঙ্কার ওয়ালসাপুগালা এলাকার কৃষক মাহিন্দা সামারাবিক্রেমা জানেন না আগামী দিনগুলোতে তার জন্য কী অপেক্ষা করছে৷ রাসায়নিক সারের উপর সরকারী নিষেধাজ্ঞার পরে গত মার্চের ফসল কাটার সময় তার ধানের ফলন অর্ধেকে কমে যায়। ৮ হেক্টর (২০ একর) জমিতে ধান এবং কলাবাগানের মালিক সামারাবিক্রেমা বলেন, তার এখন একটি খামার পরিচালনার মতো আয় নেই। বিশেষ করে কলার ফলনও ব্যর্থ হওয়ায় এই মৌসুমে আর ধান চাষও করবেন না তিনি।

সামারাবিক্রেমার মতো ওয়ালসাপুগালা গ্রামের বেশিরভাগ ক্ষুদ্র কৃষকরা বলছেন, তারা এই মৌসুমে তাদের ক্ষেতে সেচ দেবেন না। শ্রীলঙ্কায় মে থেকে আগস্ট পর্যন্ত চলা এই মৌসুমকে বলা হয় ইয়ালা মৌসুম। কৃষকদের মতে, সার নিষেধাজ্ঞা কারণে ফসলের চাষে ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। এছাড়া দেশব্যাপী জ্বালানীর ঘাটতির এই কৃষি ব্যবস্থাকে আরও করুণ করে তুলছে। বেগুন চাষী কে এ সুমনদাসা বলেন, এখন আর চাষ করে লাভ নেই। এর আগে ফসলের যে ফলন হয়েছে তাতে তার জমির আগের বিনিয়োগের টাকায় উঠবে না জেনেই হতাশ তিনি। আমি এখন চাষাবাদের ঝুঁকি নিতে পারবো না, এখন কেবল শুধু আমার পরিবারকে খাওয়ার যোগান দেয়ার মতো ফসল চাষ করবো।

দেশটির একটি বেসরকারি সংস্থা ভূমি ও কৃষি সংস্কার আন্দোলন (এমওএনএলএআর) বলছে, হাম্বানটোটা জেলার আশেপাশের এবং উত্তরের প্রধান কৃষি অঞ্চল যেমন অনুরাধাপুরা এবং পোলোনারুওয়া জেলার অধিকাংশ ক্ষুদ্র কৃষকরাও এই মৌসুমে চাষাবাদ বন্ধ করে দিচ্ছে। কৃষকদের খাদ্য চাষ বন্ধ করে দেয়া শ্রীলঙ্কাকে আরও কঠিন সঙ্কটে ফেলে দিতে পারে বলে বক্তব্য বিশেষজ্ঞদের। শ্রীলঙ্কা কাউন্সিল ফর এগ্রিকালচারাল রিসার্চ পলিসির প্রেসিডেন্ট গামিনি সেনানায়েকে বলেছেন, খাদ্যের দিক থেকে আগামী কয়েক মাসে খুব কঠিন সময় আসবে। খাদ্য ঘাটতি হবে এবং আমাদেরকে এর জন্য প্রস্তুত থাকতে হবে।

সার নিষিদ্ধ: ২ কোটি ২০ লাখ মানুষের দ্বীপ রাষ্ট্র শ্রীলঙ্কা একসময় খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণ ছিল। কিন্তু সার এবং কীটনাশকসহ সমস্ত সিন্থেটিক কৃষি রাসায়নিক নিষিদ্ধ করে দেশটিকে সম্পূর্ণরূপে জৈব কৃষি গ্রহণের ক্ষেত্রে বিশ্বের প্রথম দেশ হিসেবে গড়ে তোলার জন্য প্রেসিডেন্ট গোটাবায়া রাজাপাকসের অভিযান দেশের খাদ্য নিরাপত্তার জন্য বিপর্যয়কর প্রমাণিত হয়েছে৷ এর আগে মাটিতে অতিরিক্ত নাইট্রেট এক্সপোজারের কারণে কৃষকদের জটিল কিডনি রোগ এবং মাটির ঊর্বরতা হ্রাস হচ্ছে বলে ধারণা করার পর এ সমস্যা সমাধানে গত বছরের মে মাসে রাতারাতি এর ব্যবহারে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়। ফলশ্রুতিতে মার্চ মাসে শেষ হওয়া ভরা মৌসুম যাকে কৃষকরা স্থানীয় ভাষায় মহামৌসুম বলে থাকে এই সময়ে কৃষি উৎপাদনে লক্ষ্যণীয় ধ্বস দেখা যায়।

এই মহামৌসুমে কতোটা ক্ষতি হয়েছে- তার সরকারী পরিসংখ্যান জানা না গেলেও ফসলের উপর নির্ভর করে ২০ থেকে ৭০ শতাংশ ফলন হ্রাস হয়েছে বলে অনুমান করছেন বিশেষজ্ঞরা। এই অনুমান অনুসারে শ্রীলঙ্কায় চালের ক্ষেত্রে মহামৌসুমে দেশব্যাপী ৪০ থেকে ৫০ শতাংশ উৎপাদন কমেছে। যার ফলে দ্বীপরাষ্ট্রটির বছরের প্রথম তিন মাসে প্রায় ৩ লাখ মেট্রিক টন চাল আমদানি করেছে এটি ২০২০ সালে আমদানি করা ১৪ হাজার মেট্রিক টনের তুলনায় অনেক বেশি।

মানবসৃষ্ট বিপর্যয়: এপ্রিলের শেষে শ্রীলঙ্কার বৈদেশিক রিজার্ভ হ্রাস পেয়ে ১৮০ কোটি ডলারে পতিত হয় এবং ইউক্রেনে রাশিয়ার আগ্রাসনের ফলে বিশ্ববাজারে সারের দাম বেড়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলেছেন, যে সরকার কীভাবে তার ২০ লাখ কৃষকের জন্য পর্যাপ্ত মাটির জন্য সার আমদানি করতে পারবে তা এখনো স্পষ্ট নয়। শ্রীলঙ্কার কৃষি বিভাগের প্রাক্তন জ্যেষ্ঠ বিজ্ঞানী লিওনেল ওয়েরাকুন বলেছেন, সরকার এবং বেসরকারি দলগুলো ২০২০ সালে সার আমদানিতে প্রায় ২৫৯ মিলিয়ন ডলার ব্যয় করেছে৷ ২০২১ সালের বিলে ৩০০ থেকে ৪৪০ মিলিয়নের মধ্যে ছিলো এর ব্যয় যা এই বছর আগের তুলনায় দ্বিগুণ লাগতে পারে। পরিস্থিতি এখন আরও খারাপ কারণ রাশিয়া, বেলারুশ এবং চীন তাদের সার রপ্তানি সীমিত করে দিয়েছে। যদি আমরা ২০২০ সালের মতো একই পরিমাণ সার কিনতে চাই, তাহলে আমাদের ৬০০ মিলিয়ন খরচ করতে হতে পারে। এই সরকারের অধীনে দেশের সার্বিক ব্যবস্থাপনায় বিপর্যয় হয়েছে। খাদ্য সঙ্কট যা বর্তমানে প্রায় ৩০ শতাংশে পৌঁছে গেছে তা আরও বাড়তে পারে।

শ্রীলঙ্কার পেরাদেনিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের কৃষি বিভাগের অধ্যাপক জিউইকা ওয়েরাহেওয়া শ্রীলঙ্কার খাদ্য  সঙ্কটকে একটি মানবসৃষ্ট বিপর্যয় হিসেবে বর্ণনা করে বলেন, দেশটির গর্ভবতী মহিলাদের এবং স্তন্যদানকারী মায়েদের মধ্যে অপুষ্টি এবং শৈশবকালীন অপুষ্টির মতো গুরুতর সমস্যা তৈরি হবে। আগামী চার থেকে ছয় মাসের মধ্যে আমরা এখন যে সমস্যার মুখোমুখি হয়েছি তার চেয়েও বেশি কষ্টের সম্মুখীন হতে হবে।

ওয়ালসাপুগালার কৃষকরা তাই এখন তাদের ভবিষ্যৎ নিয়ে উদ্বিগ্ন। কারণ, সরকার এখন কৃষি রাসায়নিকের উপর নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করলেও, কৃষকেরা পর্যাপ্ত সারের বর্তমান যে বাজার দাম তা বহন করতে পারছে না।

সামারাবিক্রেমার মতো এক কলাচাষী অজিত কুমার বলেন, আমাদের জীবনধারা ধ্বংস হয়ে গেছে৷ আমরা ক্ষুদ্র কৃষক, আমাদের কোনো সঞ্চয় নেই, এখন আমরা চাষাবাদও করতে পারছি না, তাই আমরা আগের নেয়া ঋণও শোধ করতে পারছি না, সন্তানদের শিক্ষাও নিশ্চিত করতে পারছি না। হতাশায় তাই অজিত বলেন, এই দেশে আমাদের কোনো আশা বাকি নেই।

নিউজ ট্যাগ: শ্রীলঙ্কা

আরও খবর



নিউ মার্কেট সংঘর্ষের ঘটনায় নিশ্চয়ই ব্যবস্থা নেয়া হবে : আইজিপি

প্রকাশিত:শুক্রবার ২২ এপ্রিল 20২২ | হালনাগাদ:বৃহস্পতিবার ১৯ মে ২০২২ | ৪০জন দেখেছেন
নিউজ পোস্ট ডেস্ক

Image

পুলিশ ক্লুলেস ঘটনা খুঁজে বের করে এবং রহস্য উন্মোচন করে জানিয়ে পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) ড. বেনজীর আহমেদ বলেছেন, নিউ মার্কেটের সংঘর্ষের ঘটনাতো সবার সামনে ঘটেছে। এ বিষয়ে নিশ্চয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।

ঢাকা কলেজের শিক্ষার্থী ও নিউ মার্কেটের ব্যবসায়ী-কর্মচারীদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনায় সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে আইজিপি এ কথা বলেন।

আজ শুক্রবার দুপুরে রাজারবাগে বাংলাদেশ পুলিশ কেন্দ্রীয় জামে মসজিদে পুলিশের বার্ষিক আজান, কেরাত ও রচনা প্রতিযোগিতার পুরস্কার বিতরণ শেষে তিনি এ কথা বলেন।

আইজিপি বলেন, শুধু সিসিটিভি ফুটেজ নয়, প্রত্যেক সাংবাদিকের ক্যামেরায় ফুটেজ আছে। একটু ধৈর্য ধারণ করুন, পুলিশ তদন্ত করছে, নিশ্চয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।

তিনি বলেন, যারা এ ধরনের আচরণ করেছেন, তারা যারাই হোন- ভবিষ্যতে এ ধরনের আচরণ থেকে সতর্ক থাকবেন। সংঘর্ষে দুর্ঘটনা ঘটেছে, আইন লঙ্ঘনের ঘটনা ঘটেছে, প্রাণহানির ঘটনা ঘটেছে। এসব বিষয়ে পুলিশের যেসব আইনগত ব্যবস্থা সেগুলো আমরা অবশ্যই দেখব।

নিউ মার্কেটের ব্যবসায়ী ও ঢাকা কলজের শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ্যে আইজিপি বলেন, ভবিষ্যতে এ ধরনের কাজ থেকে সবাইকে বিরত থাকার জন্য আহ্বান জানাচ্ছি। এ ধরনের ঘটনা সবারই পরিহার করা উচিৎ। এ ধরনের কাজ দেশ পরিপন্থি। দেশ ও দেশের বাইরে জাতি হিসেবে এ ধরনের ঘটনা যথাযথভাবে রেপুটেড করে না।

সংঘর্ষের ঘটনায় করা মামলায় যাদের আসামি করা হয়েছে, তাদেরকে রাজনৈতিক বিবেচনায় করা হয়েছে কি না জানতে চাইলে আইজিপি বলেন, এ বিষয় আমার জানা নেই।

তিনি আরও বলেন, এ ঘটনায় সাংবাদিকসহ যারা হামলা ও অন্যায়ের শিকার হয়েছেন, তাদের প্রত্যেকের জন্য আমাদের তরফ থেকে যা করা দরকার, আমরা তার সবকিছু করব।


আরও খবর