
চাপে নয়, মানবিক কারণে জাতিসংঘে ইউক্রেনের পক্ষে বাংলাদেশ ভোট দিয়েছে বলে জানিয়েছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আব্দুল মোমেন। শনিবার (২৬ মার্চ) রাজধানীর ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে সাংবাদিকদের এ কথা বলেন তিনি।
পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘১৯৭১ সালে আমরা যেমন ঘর-বাড়ি ছেড়েছিলাম, এখন ইউক্রেনের সাধারণ মানুষও জীবন বাঁচাতে ঘর-বাড়ি ছাড়ছেন। তাই আমরা মানবিক কারণে জাতিসংঘে ইউক্রেনের পক্ষে ভোট দিয়েছি। কোনো ধরনের চাপে নয়।’
গত ২৪ ফেব্রুয়ারি ইউক্রেনে সামরিক অভিযান শুরু করে রাশিয়া। ইউক্রেনে রাশিয়ার হামলার পর থেকে এখন পর্যন্ত দুই পক্ষেরই বহু মানুষ হতাহত হয়েছেন। প্রতিক্রিয়ায় মস্কোর ওপর বিভিন্ন ধরণের নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে যুক্তরাষ্ট্র এবং তার পশ্চিমা মিত্ররা। যুদ্ধ শুরুর পর প্রাণ বাঁচতে অন্তত এক কোটি মানুষ প্রতিবেশী দেশগুলোতে পালিয়ে গেছেন বলে জাতিসংঘ জানিয়েছে। তাদের মধ্যে বেশিরভাগই নারী, শিশু ও বয়স্ক মানুষ।
ইউক্রেনে আগ্রাসনের কারণে রাশিয়ার নিন্দা জানিয়ে গত ২৪ ফেব্রুয়ারি জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদে একটি প্রস্তাব আনা হয়। সেখানে ভোটদানে বিরত থাকে বাংলাদেশ। মানবিক সংকট অবসানে বেসামরিক নাগরিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিতের পাশাপাশি ত্রাণ কার্যক্রমের সুযোগ দিতে গত বৃহস্পতিবার একটি প্রস্তাব পাস হয় জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদে।
জাতিসংঘ সদর দপ্তরে সাধারণ পরিষদের বিশেষ জরুরি অধিবেশনে ইউক্রেনের তোলা ওই প্রস্তাবের পক্ষে ভোট দেয় ১৪০ দেশ। সেখানে ইউক্রেনের মানবিক সংকট অবসানের দাবির পক্ষে ভোট দেয় বাংলাদেশও। চাপের মুখে বাংলাদেশ ভোট দিয়েছে কিনা এমন প্রশ্নের জবাবে পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ হাসিনা কোনো ধরনের চাপের মুখে সিদ্ধান্ত নেন না। আমরা কোনো চাপের মুখে জাতিসংঘে ভোট দেইনি। যেকোনো ধরনের চাপ আমরা মোকাবিলা করতে পারি।’
ভোট দেওয়ার কারণে রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণ ইস্যুতে কোনো প্রভাব পড়বে কিনা এমন এক প্রশ্নের জবাবে আব্দুর মোমেন বলেন, ‘ইউক্রেন ইস্যুতে রূপপুর পরমাণু বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণে প্রভাব পড়বে না।’
এর আগে স্বাধীনতা দিবস ও জাতীয় দিবস উপলক্ষে জাতীয় পতাকা উত্তোলন ও বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিকে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী। এ সময় পররাষ্ট্র সচিব মাসুদ বিন মোমেনসহ পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

