
যুক্তরাষ্ট্রে বিদেশী শিক্ষার্থীরা ফিরতে শুরু করছে। তবে চীনা শিক্ষার্থীরা যুক্তরাষ্ট্র থেকে মুখ ফিরিয়ে নিচ্ছে। দেশটিতে সবচেয়ে বেশি বিদেশী শিক্ষার্থী যায় চীন থেকে। ২০২১-২২ শিক্ষাবর্ষে যুক্তরাষ্ট্রের তালিকা থেকে ৮ দশমিক ৬ শতাংশ চীনা শিক্ষার্থী বাদ পড়েছে। তার আগের শিক্ষাবর্ষে এ হার আরো বেশি ছিল ১৫ দশমিক ৮ শতাংশ।
মার্কিন ইন্সটিটিউট অব ইন্টারন্যাশনাল এডুকেশন ও স্টেট ডিপার্টমেন্টের বার্ষিক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, কোভিড-১৯ এর কারণে যুক্তরাষ্ট্রে ২০২০-২১ শিক্ষাবর্ষে ১৫ শতাংশ বিদেশী শিক্ষার্থী ঝরে পড়েছিল। কিন্তু ২০২১-২২ অর্থবছরে বিদেশী শিক্ষার্থীর সংখ্যা ৩ দশমিক ৮ শতাংশ বেড়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ শিক্ষার্থী পড়তে যায় ভারত থেকে। এক বছর আগের তুলনায় সেখানে ১৮ দশমিক ৯ শতাংশ বেশি শিক্ষার্থী পড়তে গেছে। তিন নম্বরে রয়েছে দক্ষিণ কোরিয়া। দেশটি থেকে তালিকাভুক্ত শিক্ষার্থীর সংখ্যা বেড়েছে ৩ দশমিক ২ শতাংশ। যুক্তরাষ্ট্রে স্নাতক ও ঐচ্ছিক ব্যবহারিক প্রশিক্ষণ পর্যায়ে চীনা শিক্ষার্থী কমেছে যথাক্রমে ১২ দশমিক ৮ শতাংশ ও ২১ দশমিক ৭ শতাংশ। তবে ২০২১-২২ শিক্ষাবর্ষে স্নাতকোত্তর পর্যায়ে চীনা শিক্ষার্থী ৩ দশমিক ৬ শতাংশ বেড়েছে। চীনা শিক্ষার্থী কমে যাওয়ার পেছনে করোনা মহামারির কারণে বিদেশী শিক্ষার্থীদের চাকরির অনিশ্চয়তা, ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা, ভিসা জটিলতা ও চীন-যুক্তরাষ্ট্র সম্পর্কের উত্তেজনাকে দায়ী করা হচ্ছে।
এ ছাড়া চীনেও কভিডের কড়া বিধিনিষেধের কারণে শিক্ষার্থীরা দূতাবাস ও কনস্যুলেটে যেতে পারেনি। তবে মার্কিন স্টেট ডিপার্টমেন্ট বরাবরই বলে আসছে, বাইডেন প্রশাসন সব সময় চীনা শিক্ষার্থীদের স্বাগত জানায়। এর আগে ২০২০ সালের মে’তে সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প চীনা বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে যুক্ত বিজ্ঞান, প্রযুক্তি, প্রকৌশল ও গণিত বিভাগের শিক্ষার্থীদের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছিলেন। বিদেশী শিক্ষার্থীরা যুক্তরাষ্ট্রের জন্য বড় রাজস্বের উৎস। দেশী শিক্ষার্থীদের থেকেও তারা বিদেশী শিক্ষার্থীদের কাছে বেশি রাজস্ব আয় করে। ২০২১ সালে মার্কিন অর্থনীতিতে ৩২০ কোটি ডলার জমা পড়েছিল বিদেশী শিক্ষার্থীদের থেকে।

