Logo
শিরোনাম

দেশে ছড়িয়ে পড়ছে ভয়ংকর আইস

প্রকাশিত:মঙ্গলবার ২৬ অক্টোবর ২০২১ | হালনাগাদ:রবিবার ২৮ নভেম্বর ২০২১ | ৫৮জন দেখেছেন
নিউজ পোস্ট ডেস্ক

Image

আইস। ইংরেজি শব্দ। অর্থ বরফ। এই আইস দেখতে বরফের মতো হলেও আসলে বরফ নয়। এটি এখন মাদকের সর্বশেষ সংস্করণ। এক ভয়ংকর মাদকের নাম আইস। আবার এর পরিচিতি রয়েছে ভিন্ন ভিন্ন নামে। অভিজাত শ্রেণির কাছে স্কোর, কেউ বলেন, স্টাফ। কারও কাছে আবার সাদা নামে পরিচিত। তবে গোপন যোগাযোগের সময় অনেকেই ডাকেন বরফ নামে। স্বাদ, গন্ধ ও বর্ণহীন বলে বহির্বিশ্বে পরিচিত ক্রিস্টাল মেথ হিসাবে।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, মাদক হিসাবে আইসের ভয়াবহতা শিউরে ওঠার মতো। এটি ইয়াবার চেয়ে শতগুণ শক্তিশালী। আইসের জালে একবার জড়ালে একমাত্র মৃত্যুই হতে পারে মুক্তির উপায়। কারণ একবার আইসসেবনে অন্তত ৩০টি ইয়াবাসেবনের চাইতেও বেশি ক্ষতি হয়। এ কারণে আইসে আসক্ত হওয়ার মাত্র ছয় মাসের মধ্যে ব্যক্তির কেন্দ্রীয় নার্ভ সিস্টেম পুরোপুরি ধ্বংস হয়ে যায়।

শতগুণ ভয়ংকর: বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ইয়াবা ও আইসের মূল উপাদান একই। মিথাইল অ্যামফিটামিন বা মেথা অ্যামফিটামিন। বড় আকারের একটি ইয়াবায় অ্যামফিটামিনের সর্বোচ্চ মাত্রা ৫ থেকে ১৫ শতাংশ। কিন্তু আইসে অ্যামফিটামিন থাকে ৯৬ শতাংশ বা তারও বেশি।

মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের রাসায়নিক পরীক্ষাগারের প্রধান ড. দুলাল কৃষ্ণ সাহা বলেন, মিথাইল অ্যামফিটামিন একধরনের স্টিমুলেটিং এজেন্ট। এটি মানবদেহের কেন্দ্রীয় নার্ভ সিস্টেমকে ক্ষণিকের জন্য আন্দোলিত করে তোলে। ফলে সেবনকারী প্রফুল্লতা অনুভব করেন। চারপাশের সবকিছু তার কাছে রঙিন মনে হয়। কিন্তু নেশার ঘোর কেটে গেলে শুরু হয় প্রতিক্রিয়া। মাদকাসক্ত ব্যক্তি ক্রমশ বিমর্ষ হয়ে পড়েন। গায়ের রং ফ্যাকাশে হয়ে যায়। ঘুমের ব্যাঘাত ঘটে। টানা কয়েক মাস আইসসেবনের ফলে হার্ট, কিডনি, ফুসফুস ড্যামেজ হয়ে যায়। তখন কেবলই মৃত্যুর হাতছানি।

জেনেশুনে বিষপান: আইস ব্যয়বহুল নেশা। এক গ্রাম আইসের বাজারমূল্য ১৫ হাজার থেকে ২৫ হাজার টাকা। ফলে স্বাভাবিকভাবে আইসের ব্যবহার হচ্ছে ধনাঢ্য শ্রেণির মধ্যে। এখন পর্যন্ত আইস-সংশ্লিষ্টতায় যাদের গ্রেফতার করা হয়েছে, তাদের প্রায় সবাই কোটিপতির সন্তান। কেউ কেউ নামকরা প্রতিষ্ঠান থেকে শিক্ষাজীবন শেষ করেও নাম লিখেয়েছেন নেশার জগতে।

সূত্র বলছে, গত বছর ৬ আগস্ট রাজধানীর মোহাম্মদপুর থেকে গ্রেফতার হন আফিফ আফতাব খান সুহৃদ নামের এক ধনাঢ্য যুবক। অভিজানের সময় সৃহৃদ কথা বলছিলেন ইংরেজিতে। পরে খোঁজ নিয়ে জানা যায়, তিনি উচ্চতর ডিগ্রিধারী। স্ত্রীও উচ্চশিক্ষিত এবং রাজধানীর একটি নামকরা কলেজের অধ্যাপক। বাবা ছিলেন জেলা রেজিস্ট্রার। পরিবারের অন্য সদস্যদের সবাই উচ্চপদস্থ সরকারি কর্মকর্তা। দুই ভগ্নীপতির একজন জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের সদস্য এবং অপরজন একটি সরকারি মেডিকেল কলেজের অধ্যক্ষ। ঢাকায় একাধিক বাড়ি এবং ফ্ল্যাট ছাড়াও তাদের পরিবারের রয়েছে অঢেল সম্পদ। সুহৃদ ছাড়াও আইসসহ গ্রেফতার হন বাড্ডার হোসেন মার্কেটের মালিকের ছেলে রহিত। তিনি মালয়েশিয়া থেকে উচ্চতর ডিগ্রিধারী। ধানমন্ডি থেকে গ্রেফতার হন বহুজাতিক প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা ইভান।

ঢাকায় আইস ছড়িয়ে পড়ার একেবারে শুরুর দিকে একাধিক অভিযানে নেতৃত্ব দেন মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক মেহেদী হাসান। তিনি বলেন, আইস হচ্ছে পার্টি ড্রাগ। এটি সব সময় কয়েকজন মিলে গ্রুপে সেবন করা হয়। ফলে হাই সোসাইটির পার্টি সংস্কৃতির মধ্যে আইস সহজেই ঢুকে পড়ছে। তিনি আরও বলেন, আইস সেবনে বেশি পরিমাণে এনার্জি পাওয়ার কথা বলা হচ্ছে। এছাড়া বিদেশি সিনেমা ও সিরিয়াল দেখেও অনেকে আইসের মতো ভয়াবহ নেশার জগতে পা বাড়াচ্ছে। বিশেষ করে ব্রেকিং ব্যাড নামের একটি বিদেশি সিরিয়াল দেখে আইসসেবনে প্রলুব্ধ হচ্ছে অনেকে।

অ্যাপস গ্রুপে কেনাবেচা: সূত্র বলছে, আইস পার্টি অনুষ্ঠিত হয় কঠোর গোপনীয়তায়। বিশেষ লিংক ছাড়া আইস পার্টিতে অংশ নেওয়ার সুযোগ নেই। অর্থাৎ বন্ধুর পরিচিত বন্ধু এবং তার বন্ধু-এভাবে বাছাই করা লোক নিয়ে আসর বসে। গোপনীয়তা বজায় রাখতে পার্টির স্থান, টাইম প্রভৃতি সম্পর্কে কথাবার্তা হয় অ্যাপচ্যাট নামের বিশেষ অ্যাপে। এতে যোগাযোগ সংক্রান্ত তথ্য স্বয়ংক্রিয়ভাবে মুছে যায়। ফলে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর হাতে কেউ গ্রেফতার হলেও চক্রের অন্য সদস্যদের সম্পর্কে তথ্য পাওয়া যায় না।

সূত্র বলছে, রাজধানীতে আইস চক্রে জড়িত সন্দেহে অন্তত ৩০ জনকে চিহ্নিত করা হয়েছে। এর বেশির ভাগই ধনাঢ্য পরিবারের সন্তান। কেউ কেউ আছেন শোবিজ জগতের গ্ল্যামার গার্ল। এর মধ্যে গুলশান এলাকায় আইসের প্রধান ডিলার হিসাবে জাবির খান নামের এক ধনাঢ্য যুবককে গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে। মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিপ্তরের গুলশান সার্কেলের পরিদর্শক সামসুল কবির যুগান্তরকে বলেন, জাবির খানকে ধরতে পারলে রাজধানীর আইস নেটওয়ার্ক সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া যাবে। তাকে ধরতে ইতোমধ্যে কয়েক দফা অভিযান চালানো হয়েছে। কিন্তু বর্তমানে তিনি পলাতক। তবে অচিরেই তিনি ধরা পড়বেন।

সূত্র বলছে, প্রযুক্তির সহায়তায় কথোপকথনের সূত্র ধরে রাজধানীতে আইস চক্রের সদস্য হিসাবে চিহ্নিত করা হয়েছে ইয়াসির, রাসেল ও উর্মিলা নামের এক তরুণীকে। এছাড়া গুলশানের আইস পার্টিতে নিয়মিত যাতায়াত রয়েছে এমন বেশ কয়েকজন তরুণীর ওপর নজরদারি চালানো হচ্ছে। এদের মধ্যে আজমিন সারিকা, পুনম, ম্যাকরনা আলম, আমান এশা ও ইডেন ডি সিলভা অন্যতম। আইস পার্টির গডফাদারের ভূমিকায় আছেন গুলশানের বাসিন্দা জায়েদ। এছাড়া রাজধানীর উত্তরা এলাকায় প্রাইভেট আইস পার্টির আয়োজক হিসাবে নারকোটিক্সের নজরদারিতে আছেন এক শ্রীলংকান তরুণী। অন্তত ৬ মাস তাকে নজরদারিতে রাখা হয়েছে। জান্নাত ওরফে ইমু নামে এক বিশ্ববিদ্যালয়ছাত্রীর মাধ্যমে আইস নেটওয়ার্ক চালাচ্ছেন তিনি।

লুফে নিচ্ছে ইয়াবার বাজার: দিনদিন আইসের বিস্তার বাড়ছে। ইতোমধ্যে কয়েকটি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়কে আইসপ্রবণ প্রতিষ্ঠান হিসাবে চিহ্নিত করা হয়েছে। আইস ছড়াচ্ছে ইংরেজি মাধ্যমের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানেও। বনানী এলাকার কয়েকটি সিসা লাউঞ্জ আইস পার্টির পিকআপ পয়েন্ট হয়ে উঠেছে। বিশেষ করে বনানীর আল গিসিনো, ঢাকা ক্যাফে, টিজিএস এবং কিউডিএস সিসা লাউঞ্জে আড্ডা শেষে আইস পার্টিতে যোগ দিচ্ছেন অনেকে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা বলছেন, দেশে ব্যবহৃত মাদকের ৪৫ শতাংশ ইয়াবার দখলে। বাকিটা হেরোইন, ফেনসিডিল, গাঁজা, মদসহ বিভিন্ন নেশা উপকরণ। তবে ধীরে ধীরে ইয়াবার বাজার চলে যাচ্ছে আইসের দখলে। এক বছরের মধ্যে হয়তো ইয়াবার বাজার পুরোটাই আইসের দখলে চলে যাবে বলে সংশ্লিষ্টদের ধারণা।

বর্তমানে আইসের বিস্তার বাড়ছে। একপর্যায়ে হয়তো ইয়াবার বাজার পুরোটাই আইসের দখলে চলে যাবে। এজন্য এখনই আমাদের সর্বোচ্চ সতর্ক হতে হবে। আইসের ক্রমবর্ধমান বিস্তার প্রসঙ্গে জানতে চাইলে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের বিভাগীয় গোয়েন্দা কার্যালয়ের (ঢাকা) সহকারী পরিচালক রিফাত হোসেন বলেন, মাদকের জগতে নেশাগ্রস্তরা নিত্যনতুন মাদকের সন্ধান করে। কারণ একটি মাদক নিতে নিতে দেহে সহনশীলতা তৈরি হয়। তখন পুরোনো মাদকে নেশা হয় না। এ কারণে আগে যারা দীর্ঘদিন ইয়াবা নিতেন, এখন তাদের অনেকেই আইসের দিকে ঝুঁকছেন। এছাড়া ধানাঢ্য শ্রেণির অনেকেই ক্রেজ সৃষ্টির জন্য আইসের দিকে ঝুঁকছে। অভিজাত শ্রেণির কেউ কেউ আবার বিকৃত রুচি থেকেও জড়িয়ে পড়ছেন আইসের নেশায়।

নিউজ ট্যাগ: মাদক আইস আইস

আরও খবর



২০৩১ বিশ্বকাপের আয়োজক বাংলাদেশ-ভারত

প্রকাশিত:মঙ্গলবার ১৬ নভেম্বর ২০২১ | হালনাগাদ:রবিবার ২৮ নভেম্বর ২০২১ | ৬৪জন দেখেছেন
নিউজ পোস্ট ডেস্ক

Image

২০২৪ সাল থেকে পরবর্তী আট বছরের জন্য বিশ্বকাপসহ বিভিন্ন ইভেন্টের আয়োজকের নাম প্রকাশ করেছে ক্রিকেটের অভিভাবক সংস্থা আইসিসি। যাতে দেখা যাচ্ছে ২০৩১ সালের ওয়ানডে বিশ্বকাপের যৌথ আয়োজকের মর্যাদা পেয়েছে ভারত এবং বাংলাদেশ।

২০১১ সালের পর ২০ বছর বিরতি দিয়ে আবারও ওয়ানডে বিশ্বকাপের আয়োজক হওয়ার মর্যাদা পাচ্ছে বাংলাদেশ। ২০১১ সালে ভারত এবং শ্রীলঙ্কার সঙ্গে যৌথ আয়োজক ছিল বাংলাদেশ। ২০৩১ সালের বিশ্বকাপের আয়োজক হচ্ছে দুটি দেশ, বাংলাদেশ এবং ভারত।

২০২৪ থেকে ২০৩১- এই আট বছরের জন্য আইসিসি বিভিন্ন ইভেন্টের আয়োজকের নাম ঘোষণা করে। এই আট বছরে অনুষ্ঠিত হবে আটটি টুর্নামেন্ট। তাতে দেখা যাচ্ছে, চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফিকে ফিরিয়ে আনা হয়েছে। ২০১৭ সালের পর আইসিসি চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফি আয়োজন করা হয়নি। ২০২৫ সালে এই ইভেন্টের আয়োজক নির্ধারণ করা হয়েছে পাকিস্তানকে।

২০১৪ সালে এককভাবে আইসিসি টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের আয়োজক হয়েছিল বাংলাদেশ। তবে, কিছুদিন আগেই বিসিবি সভাপতি নাজমুল হাসান পাপন বলেছিলেন, যৌথভাবে কোনো বিশ্বকাপের আয়োজক হতে চায় বাংলাদেশ। এককভাবে হলে আইসিসি চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির আয়োজক হতে পারবে বিসিবি।

শেষ পর্যন্ত ২০৩১ সালের ওয়ানডে বিশ্বকাপের যৌথ আয়োজক হিসেবে ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশকে বাছাই করে নিলো আইসিসি। ২০২৭ সালের ওয়ানডে বিশ্বকাপের আয়োজক হবে দক্ষিণ আফ্রিকা, জিম্বাবুয়ে এবং নামিবিয়া।

২০২৩ সাল পর্যন্ত আগে থেকেই সূচি নির্ধারণ করা ছিল আইসিসির। সূচি অনুসারে ২০২২ সালেও অনুষ্ঠিত হবে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ। আয়োজক অস্ট্রেলিয়া। এরপর ২০২৩ সালে অনুষ্ঠিত হবে ওয়ানডে বিশ্বকাপ। আয়োজক ভারত।

তবে আইসিসি ঘোষিত এই আট বছরের সূচিতে টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের ফাইনাল কোথায় হবে, সে সম্পর্কে কোনো দিক-নির্দেশনা নেই।


আরও খবর



আদালতে সাক্ষ্য দেওয়ায় ভাতিজার হাতে চাচা খুন

প্রকাশিত:রবিবার ২৮ নভেম্বর ২০২১ | হালনাগাদ:রবিবার ২৮ নভেম্বর ২০২১ | ২৬জন দেখেছেন
নিউজ পোস্ট ডেস্ক

Image

আদালতে সাক্ষ্য দেওয়ায় চাচা নাজিম উদ্দিন শাহ পিন্টুকে (৪৮) কুপিয়ে খুন করল ভাতিজা নাসির উদ্দিন। রবিবার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে রাজশাহীর মোহনপুর উপজেলার সিন্দুরী গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় ধারালো সেই রক্তাক্ত হাসুয়াসহ ভাতিজাকে আটক করেছে পুলিশ।

নিহত নাজিম উদ্দীন শাহ পিন্টু ওই গ্রামের ময়েজ উদ্দিনের ছেলে। এছাড়া নাসির উদ্দিন তার ভাই নাজির উদ্দিন ওরফে নাজুর ছেলে।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, রবিবার সকালে বাড়ি থেকে বের হওয়ার সময় এ ঘটনা ঘটে। আদালতে সাক্ষ্য দেওয়ার জের ধরে প্রথমে চাচার পথ আগলে ধরে ভাতিজা। এ সময় চাচা-ভাতিজার মধ্যে কথা কাটাকাটি হয়।

এক পর্যায়ে ভাতিজার হাতে থাকা হাসুয়া দিয়ে চাচার ঘাড়ে কোপ বসায় ভাতিজা নাসির উদ্দিন। এতে গলাকেটে ঘটনাস্থলেই চাচা নাজিম উদ্দিন শাহ পিন্টুর মৃত্যু হয়। এ সময় আশপাশের লোকজন ছুটে এসে নাসির উদ্দিনকে হাসুয়াসহ হাতেনাতে ধরে ফেলেন।

পরে থানায় খবর দেওয়া হয়। খবর পেয়ে মোহনপুর থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে নাসিরকে আটক করে। এ সময় আলামত হিসেবে রক্তাক্ত হাসুয়াটিও জব্দ করে পুলিশ। বর্তমানে নিহতের মরদেহ উদ্ধারের প্রক্রিয়া চলছে।

স্থানীয়রা জানান, চাচা নাজিম উদ্দিনের সাথে নাসিরদের মধ্যে জমিজমা নিয়ে আগে থেকেই পারিবারিকভাবে বিরোধ চলে আসছিল। এজন্য তারা পাশাপাশি বসবাস করলেও কেউ কারো সাথে কথা বলতেন না।

নাসির উদ্দিন একটি মামলার আসামি ছিল। আর নাজিম উদ্দিন ওই মামলার সাক্ষী ছিলেন। গেল কয়েক দিন আগে আদালতে ওই মামলায় ভাতিজার বিরুদ্ধে সাক্ষ্য দেন নাজিম। এ নিয়ে নাসিরের মধ্যে আক্রোশ আরও বেড়ে যায়। সর্বশেষ ঘটনার জের ধরে রবিবার সকালে বাড়ি থেকে বের হওয়ার সময় এ ঘটনা ঘটে।


আরও খবর



এভলিন বিয়ের ৬ মাস পর মেয়ের মা হলেন

প্রকাশিত:শনিবার ২০ নভেম্বর ২০21 | হালনাগাদ:রবিবার ২৮ নভেম্বর ২০২১ | ৪৪জন দেখেছেন
নিউজ পোস্ট ডেস্ক

Image

বিয়ের ছয় মাস পার হতেই বলিউড অভিনেত্রী এভলিন শর্মা কন্যাসন্তানের মা হয়েছেন। গত ১২ নভেম্বর কন্যাসন্তান প্রসব করেন তিনি। এটি তার প্রথম সন্তান। মেয়ের নাম রেখেছেন আভা রানিয়া ভিন্দি। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভক্তদের এ সুখবর ভাগাভাগি করেছেন ইয়ে জওয়ানি হ্যায় দিওয়ানি নিজেই।

ইনস্টাগ্রামে ছবি শেয়ার করে এভলিন ক্যাপশন জুড়েছেন, আভা ভিন্দির মা হওয়া আমার জীবনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা।’ চলতি বছরের ১৫ মে দীর্ঘদিনের প্রেমিক তুশান ভিন্দিকে বিয়ে করেন বলিউড অভিনেত্রী এভলিন শর্মা। বিয়ের ছয় মাস পার হতেই কন্যাসন্তানের মা হলেন এ অভিনেত্রী।

এ বছরের জুলাইয়ে এভলিন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তার অন্তঃসত্ত্বা হওয়ার খবর দিয়েছিলেন। বলেছিলেন, তিনি ও তার স্বামী প্রথম সন্তানের আশা করছেন। বেবি বাম্প দেখিয়ে ছবিও পোস্ট করেছিলেন।

বলিউড বাবলের খবর, ২০২১ সালের ১৫ মে অস্ট্রেলিয়ায় দীর্ঘদিনের প্রেমিক তুশানকে ঘরোয়া আয়োজনে বিয়ে করেন এভলিন। অবশ্য বিয়ের দারুণ কিছু ছবি পোস্ট করে এ খবর জানান জুনে।


আরও খবর



১৯ বছর পর মডেল তিন্নি হত্যার রায় আজ

প্রকাশিত:সোমবার ১৫ নভেম্বর ২০২১ | হালনাগাদ:শুক্রবার ২৬ নভেম্বর ২০২১ | ৮৭জন দেখেছেন
নিউজ পোস্ট ডেস্ক

Image

১৯ বছর আগে ঢাকার কেরানীগঞ্জে মডেল সৈয়দা তানিয়া মাহবুব তিন্নি হত্যা মামলায় একমাত্র আসামি বরিশাল-২ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য গোলাম ফারুক অভির বিরুদ্ধে রায় ঘোষণার জন্য আজ দিন ধার্য রয়েছে। সোমবার (১৫ নভেম্বর) ঢাকার সপ্তম অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ কেশব রায় চৌধুরী এ রায় ঘোষণা করবেন।

এর আগে, গত ২৬ অক্টোবর একই আদালতে রায় ঘোষণার দিন ধার্য ছিল। ওই দিন বিচারক রায় ঘোষণা না করে ১৫ নভেম্বর নতুন দিন ধার্য করেন।

মামলার অভিযোগ থেকে জানা যায়, ২০০২ সালের ১০ নভেম্বর রাতে খুন হন তিন্নি। এর আগে ৬ নভেম্বর তিন্নিকে তার স্বামী সাক্কাত হোসেন পিয়ালের সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন করতে বাধ্য করেন অভি। তিন্নিও তাকে তালাক দেন। ওই দিনই পিয়ালকে তার দেড় বছর বয়সী কন্যাসন্তানসহ রাজধানীর বাড়ি থেকে বের করে দেওয়া হয়। এরপর বিয়ে করার জন্য অভিকে চাপ দিতে থাকেন তিন্নি। একপর্যায়ে তিন্নি বিষয়টি সাংবাদিকদের কাছে ফাঁস করে দেওয়ার হুমকি দেন।

১০ নভেম্বর রাতে মাথায় আঘাত করে তিন্নিকে হত্যা করা হয়। এরপর গুমের উদ্দেশ্যে ওই রাতে বুড়িগঙ্গার ১ নম্বর চীন মৈত্রী সেতুর ওপর থেকে নদীতে ফেলে দেওয়া হয় মরদেহ। কিন্তু পানিতে নয়, মরদেহটি পড়ে পিলারের উঁচু অংশে। পরদিন সকালে মরদেহ ঘিরে উৎসুক জনতা ভিড় করে।

কেরানীগঞ্জ থানা পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে সুরতহালের পর ময়নাতদন্ত করে। মর্গে চারদিন রাখার পর ১৫ নভেম্বর অজ্ঞাত হিসেবে জুরাইন কবরস্থানে দাফন করা হয় তিন্নিকে।

এদিকে তিন্নির চাচা সৈয়দ রেজাউল করিম কেরানীগঞ্জ থানায় একটি নিখোঁজ ডায়েরি করেন। মরদেহ উদ্ধারের দিন একই থানায় একটি হত্যা মামলা করেন থানার সহকারী উপ-পরিদর্শক (এএসআই) মো. শফি উদ্দিন। অজ্ঞাতনামা দুর্বৃত্তদের আসামি করা হয় মামলায়।

মামলাটি চাঞ্চল্যকর হিসেবে ২০০২ সালের ২৪ নভেম্বর এর তদন্তভার সিআইডিতে ন্যস্ত হয়। এরপর মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা সিআইডি পুলিশের এএসপি মোজাম্মেল হক আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দাখিল করেন। অভিযোগপত্রে ৪১ জনকে সাক্ষী করা হয়। এছাড়াও এ মামলায় ২২টি আলামত জব্দ করা হয়।

নিউজ ট্যাগ: মডেল তিন্নি

আরও খবর



যাত্রীবাহী বাসে আগুন দেওয়ার মামলায় ৮ বছর পর আসামি গ্রেফতার

প্রকাশিত:মঙ্গলবার ০৯ নভেম্বর ২০২১ | হালনাগাদ:শনিবার ২৭ নভেম্বর ২০২১ | ৯৫জন দেখেছেন
নিউজ পোস্ট ডেস্ক

Image

দীর্ঘ ৮ বছর পর মিঠাপুকুরের বাতাসন এলাকায় ঢাকাগামী যাত্রীবাহী বাসে পেট্রল বোমা মেরে শিশুসহ সাত জনকে পুড়িয়ে হত্যার মামলায় পলাতম আসামি ফারুখ হোসেনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। মিঠাপুকুর থানার ওসি আমিরুল ইসলাম গ্রেফতারের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। মঙ্গলবার (৯ নভেম্বর) দুপুরে আসামি জামায়াত নেতা ফারুখ হোসেনকে রংপুর সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেটের (মিঠাপুকুর) আমলি আদালতে হাজির করা হয়। পরে বিচারক তাকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।

কোর্ট সিএসআই আব্দুল মান্নান বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান আসামির পক্ষে কোনও জামিনের আবেদন করা হয়নি কিংবা কোনও আইনজীবীও নিয়োগ করা হয়নি। বিজ্ঞ আদালত সরাসরি আসামিকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।

পুলিশ জানায়, মিঠাপুকুরে ২০১৪ সালে চলন্ত বাসে আগুন ধরিয়ে দিয়ে সাত নিরপরাধ মানুষকে জীবন্ত পুড়িয়ে হত্যা মামলার অন্যতম প্রধান আসামি জামায়াত নেতা ফারুখ হোসেন। তিনি ঘটনার পর থেকে পলাতক ছিলেন। তার বিরুদ্ধে আদালতে চার্জশিট দাখিলের পর আদালত গ্রেফতারি পরোয়ানা এবং মালামাল ক্রেকের আদেশ দেন। এরপরেও তাকে গ্রেফতার করা সম্ভব হয়নি। এছাড়া তার বিরুদ্ধে নাশকতাসহ ধংসাত্মক কর্মকাণ্ডে সরাসরি অংশ নেওয়ার অভিযোগসহ মোট ৮টি মামলা রয়েছে।

পুলিশ সোমবার রাতে গোপন সংবাদের উপর ভিত্তি করে জামায়াত নেতা ফারুখ হোসেনকে মিঠাপুকুর উপজেলার পায়রাবন্দ এলাকার এক বাড়ি থেকে গ্রেফতার করে। তার বাড়ি মিঠাপুকুর উপজেলার জয়রামপুর আনোয়ার গ্রামে। বাবার নাম মৃত আব্দুস সাত্তার।

নিউজ ট্যাগ: রংপুর

আরও খবর