
এলএসডির পরে এবার
দেশে প্রথমবারের মতো উদ্ধার হয়েছে ডায়েমেথিল ট্রাইপ্টেমিন বা ডিএমটি নামক ভয়ঙ্কর এক
মাদক। দীর্ঘদিন গোয়েন্দা নজরদারি ও তদন্তের ভিত্তিতে রাজধানীর তেজগাঁও এলাকা থেকে নিষিদ্ধ
মাদক এলএসডি ও ডিএমটিসহ চার মাদক কারবারিকে গ্রেফতারের পর এ তথ্য জানিয়েছে পুলিশের
এলিট ফোর্স র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র্যাব-২)।
গ্রেফতাররা হলেন-
সৈয়দ মঈন উদ্দিন আহমেদ ওরফে শাদাব (২৯), মো. আব্রাহাম জোনায়েদ তাহের (২৫), স্বপ্নীল
হোসেন (২২) ও সিমিয়ন খন্দকার (২৩)।
এ সময় তাদের কাছ
থেকে ৪০ ব্লট আলোচিত মাদক এলএসডি, নতুন মাদক ডিএমটি ৬০০ মিলিগ্রাম, আমেরিকান ক্যানাবিজ
৬২ গ্রাম এবং মাদক সেবনের বিভিন্ন সরঞ্জামাদি জাব্দ করা হয়।
রোববার (২৭ জুন)
দুপুরে রাজধানীর কারওয়ান বাজার র্যাব মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব
কথা জানান র্যাব-২ এর অধিনায়ক (সিও) লেফটেন্যান্ট কর্নেল খন্দকার সাইফুল আলম।
তিনি বলেন, বিদেশে
পড়ালেখা করার জন্য অবস্থানকালেই সম্ভ্রান্ত পরিবারের সন্তানরা জড়িয়ে পড়ছে ভয়ংকর সব
নতুন মাদকে। কেউ থাইল্যান্ডে গিয়ে নতুন মাদক ডিএমটি’তে আসক্ত হচ্ছে,
কেউ আবার লন্ডনে গিয়ে এলএসডি সেবনে আসক্ত হচ্ছে। পড়াশুনা শেষে দেশে ফিরলেও আসক্তি থেকে
পোস্টাল সার্ভিসের মাধ্যমে দেশে আমদানি করছে এলএসডি ও ডিএমটি।
এ বিষয়ে গোয়েন্দা
নজরদারি ও ছায়া তদন্তের ভিত্তিতে শনিবার (২৬ জুন) রাত সাড়ে ১১টার দিকে র্যাব সদর
দফতরের গোয়েন্দা শাখা ও র্যাব-২ এর একটি বিশেষ আভিযানিক দল রাজধানীর তেজগাঁও শিল্পাঞ্চল
থানাধীন লাভ রোড এলাকা হতে ওই চার যুবককে করে।
তিনি বলেন, এলএসডি
সম্পর্কে ইতোমধ্যে আমরা জেনেছি। এটি মূলত বিদেশ থেকে পোস্টাল সার্ভিসের মাধ্যমে বাংলাদেশে
আনা হয় এবং উচ্চমূল্য হওয়ায় মূলত এর ব্যবহারকারী উচ্চবিত্তের মধ্যেই সীমাবদ্ধ।
র্যাব-২ এর অধিনায়ক আরও বলেন, গ্রেফতাকৃতররা নিজেরাই মাদক সেবন করে, বিক্রি করে এবং নতুন নতুন মাদক গ্রহীতা তৈরি করে, যা সমাজের জন্য খুবই আশঙ্কাজনক। এসব মাদকের উৎস এবং এর সরবরাহকারীদের চিহ্নিত করে তাদের বিরুদ্ধে র্যাবের অভিযান অব্যাহত থাকবে।

