Logo
শিরোনাম

ঢাবি ছাত্রীর রহস্যজনক মৃত্যু, শরীরে অসংখ্য আঘাতের চিহ্ন

প্রকাশিত:বুধবার ১৫ ডিসেম্বর ২০২১ | হালনাগাদ:শনিবার ২৫ নভেম্বর ২০২৩ | ৩৫৪৫জন দেখেছেন
নিউজ পোস্ট ডেস্ক

Image

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) নৃত্যকলা বিভাগের ২০১৫-১৬ সেশনের শিক্ষার্থী ইলমা চৌধুরী মেঘলার রহস্যজনক মৃত্যু হয়েছে। মেঘলাকে নির্যাতন করে হত্যা করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেছে পরিবার। নিহতের শরীরে অসংখ্য আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। তবে মেঘলার স্বামী ও শ্বশুরবাড়ির লোকজন দাবি করেছেন, মেঘলা আত্মহত্যা করেছে। গতকাল বিকাল ৪টার দিকে বনানীতে স্বামীর বাসায় এ ঘটনা ঘটে। বনানীর বাসা থেকে মেঘলার নিথর দেহ গুলশান ইউনাইটেড হসপিটাল লিমিটেডে নিয়ে এলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করে। ময়নাতদন্তের জন্য এখন তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে।

মেঘলার মা সিমথি চৌধুরী বলেন, আমার মেয়ে আত্মহত্যা করতে পারে না। তাকে হত্যা করা হয়েছে। আমি এর বিচার চাই বলে কান্নায় ভেঙে পড়েন। মেঘলার আরেক সহপাঠী মর্জিনা নাসরিন মুমু বলেন, আমাদের প্রথমে জানানো হয়েছে তিনি (মেঘলা) আত্মহত্যা করেছেন। কিন্তু আমরা হাসপাতালে গিয়ে দেখি তার শরীরে মারধরের আঘাত রয়েছে।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক ড. এ কে এম গোলাম রব্বানী বলেন, আমরা মৃত্যুর সংবাদ পেয়েছি। এটি খুবই দুঃখজনক। তার শরীরে আঘাতের চিহ্ন পাওয়ার কথা শুনেছি। আমরা তার পরিবারের সঙ্গে মিলে এ ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেবো। এ ঘটনায় বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন শিক্ষার্থীর পরিবারের পক্ষে কাজ করবে। ন্যায়বিচারের জন্য যা যা করা দরকার তা করবে। হাসপাতালে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা রয়েছেন বলে জানান তিনি।

বনানী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নুরে আজম মিয়া বলেন, নিহতের স্বামী ইফতেখার আবেদীনকে আটক করা হয়েছে। এ বিষয়ে মামলা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

বনানী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নূরে আযম মিয়া জানান, মঙ্গলবার বিকেল চারটার দিকে ইলমা চৌধুরীকে রাজধানীর ইউনাইটেড হাসপাতালে নেওয়া হয়। ঘণ্টা খানেকের মধ্যেই সেখানে তাঁর মৃত্যু হয়। সুরতহালে ইলমার শরীরের বিভিন্ন জায়গায় আঘাতের চিহ্ন পাওয়া গেছে। ওসি নূরে আযম মিয়া জানান, ইলমার স্বামী ইফতেখার কানাডাপ্রবাসী। গত রোববার তিনি ঢাকায় ফিরেছেন। বনানী ২ নম্বর সড়কের ৪৪ নম্বর বাসাটি তাঁদের। রাত ১১টার দিকে ইলমার মরদেহ ঢাকা মেডিকেল কলেজের মর্গে নেওয়া হয়। সেখানে ইলমার ফুপাতো বোন রেহানা সুলতানা সাংবাদিকদের জানান, বছরখানেক আগে ইলমা নিজের পছন্দে ইফতেখার আবেদীনকে বিয়ে করেন।

রেহানা সুলতানা বলেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ২০১৫-১৬ শিক্ষাবর্ষে ভর্তি হয়েছিলেন ইলমা। তাদের আর্থিক অবস্থা ভালো নয়। বিয়ের পর ইলমাকে কানাডায় নেওয়া, ছোট বোনের লেখাপড়ার দায়িত্ব নেওয়াসহ নানা প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন ইফতেখার। তাই খুব অল্প দিনের পরিচয়েই তাঁকে বিয়ে করেন ইলমা। কিন্তু বিয়ের পর ইলমাকে আর পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগই করতে দেয়া হতো না। এমনকি ইফতেখার যে ঢাকা এসেছেন, সে খবরও জানতেন না ইলমার স্বজনেরা। হাসপাতালে নেয়ার পর তাঁরা খবর পান। সেখানে গিয়ে তাঁরা জানতে পারেন, ইলমাকে যখন আনা হয়েছে, তাঁর আগেই তিনি মারা গেছেন।


আরও খবর