
পতাকা ইস্যুকে
ঘিরে ঢাকা-ইসলামাবাদ কূটনৈতিক সম্পর্কে ফের টানাপোড়েন শুরু হয়েছে। যার বহিঃপ্রকাশ ঘটেছে
ডি-৮ সম্মেলনে।দুই দেশই বিষয়টি নিয়ে অস্বস্তিতে ভুগছে।
বুধবার (২৭ জুলাই)
ঢাকায় ডি-৮ পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের সম্মেলনে যোগ দেওয়ার কথা ছিল পাকিস্তানের পররাষ্ট্র
প্রতিমন্ত্রী হিনা রব্বানি খারের। গত রোববার (২৪ জুলাই) পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আব্দুল
মোমেনও সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান। কিন্তু সম্মেলনের আগের দিন মঙ্গলবার (২৬ জুলাই) তার
ঢাকা পৌঁছানোর শেষ মুহূর্তে সফর বাতিল করেন হিনা। সম্মেলনের দিন অবশ্য তিনি ভার্চ্যুয়ালি
যোগ দিয়েছিলেন।
কূটনৈতিক সূত্র
জানায়, ডি-৮ সম্মেলনের আগে পতাকা ইস্যুকে ঘিরে দুই দেশের মধ্যে যে টানাপোড়েন শুরু হয়েছিল,
সে কারণেই ঢাকা আসেননি হিনা। প্রশ্ন উঠেছে ডি-৮ সম্মেলনের ঠিক আগ মুহূর্তে পাকিস্তান
হাইকমিশন কেন পতাকার ছবি ফেসবুকে আপলোড করলো, তা নিয়েও।
পতাকা আপলোডের
বিষয়ে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে অবশ্য একটি ব্যাখ্যা দিয়েছে ঢাকার পাকিস্তান হাইকমিশন।
তারা বলেছে, বিশ্বের বিভিন্ন দেশের পাকিস্তান হাইকমিশন দুই দেশের পতাকা একীভূত করে
এমন ধরণের ছবি আপলোড করেছে। উদাহরণ হিসেবে বেশ কয়েকটি মুসলিম দেশের কথাও উল্লেখ করা
হয়।
পাকিস্তান হাইকমিশনের
পতাকার ইস্যুতে পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আব্দুল মোমেন স্পষ্ট বলেছিলেন, পাকিস্তান
হাইকমিশনের ফেসবুকে এভাবে পতাকার ছবি আপলোড করা আমাদের পছন্দ হয়নি। তাদের পক্ষ থেকে
বলা হয়েছে, কোনো ধরনের অসৎ উদ্দেশ্য নিয়ে পতাকার এ ছবি ফেসবুকে আপলোড করা হয়নি।
যুদ্ধাপরাধীদের
বিচার, ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস বিকৃতি, জঙ্গিদের সঙ্গে সম্পৃক্ততা, ঢাকার
মাঠে পাকিস্তানের পতাকা ওড়ানো, আন্তর্জাতিক বিভিন্ন ফোরামে বাংলাদেশকে সমর্থন না দেওয়া,
দুই দেশের কূটনীতিকদের তলব-পাল্টা তলব, বহিষ্কার-পাল্টা বহিস্কার, ১৯৭১ সালের গণহত্যার
ক্ষমা না চাওয়া ইত্যাদি ইস্যুতে ঢাকা-ইসলামাবাদ সম্পর্কে প্রায়ই টানাপোড়েন চলে এসেছে।
দুই পক্ষের মধ্যে
শীতল সম্পর্ক থাকলেও চলতি বছর পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রীকে আম উপহার পাঠায় বাংলাদেশ।
শুভেচ্ছার নিদর্শনস্বরূপ পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরীফকে আম উপহার পাঠান প্রধানমন্ত্রী
শেখ হাসিনা। ২০২১ সালে সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানকে আম উপহার পাঠানো হয়।
পতাকা ইস্যু নিয়ে
সাবেক পররাষ্ট্র সচিব এম শহীদুল হক বলেন, পাকিস্তানের সঙ্গে বাংলাদেশের একটি শীতল অবস্থা
আছে। এর অনেকগুলো কারণও আছে। বিভিন্ন সময়ে তারা এমন কিছু কার্যকলাপ করেছে, যেটা আন্তর্জাতিক
কূটনীতিক শিষ্টাচারের মধ্যে পড়ে না। বিভিন্ন দূতাবাস সাধারণত আন্তর্জাতিক শিষ্টাচারের
মধ্যেই থাকে। তবে সেই শিষ্টাচারের বাইরে গেলেই হোস্ট কান্ট্রি এ বিষয়গুলো তুলে থাকে।

