Logo
শিরোনাম

দুর্নীতিবিরোধী বঙ্গবন্ধু

প্রকাশিত:সোমবার ১৫ আগস্ট ২০২২ | হালনাগাদ:শুক্রবার ০৭ অক্টোবর ২০২২ | ১৪১জন দেখেছেন
নিউজ পোস্ট ডেস্ক

Image

ড. আতিউর রহমান

জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের এই মহাপ্রয়াণের দিনে তাঁর বিদেহী আত্মার প্রতি শ্রদ্ধা জানানোর অংশ হিসেবেই বাঙালির জাতিরাষ্ট্র গঠনের পেছনের প্রধান প্রধান স্বপ্নও বর্তমান প্রজন্মের কাছে তুলে ধরা জরুরি মনে করছি। তিনি বাংলাদেশকে সোনার বাংলা হিসেবে গড়ে তুলতে চেয়েছিলেন। সে জন্য তিনি সোনার মানুষের সন্ধান করতেন। এই মানুষ হবে দেশপ্রেমিক এবং সৎ। অনাচার, অন্যায্যতা এবং দুর্নীতি তাদের স্পর্শ করবে না। সারা জীবন তিনি দুঃখী মানুষের কল্যাণের জন্য সংগ্রাম করেছেন। এমনকি জেলখানাতে বসেও সেখানকার দুর্নীত বন্ধ করার চেষ্টা করেছেন। জেলখানায় যে ডাক্তার রোগীদের ঠিকমতো ওষুধ না দিয়ে তা বাইরে বিক্রি করতেন তাদের চিহ্নিত করতেন। যখনই ক্ষমতায় গেছেন এদেশের মানুষের অর্থনৈতিক সুযোগ বৃদ্ধির জন্য নানা উদ্যোগ নিয়েছেন। এমনকি পাকিস্তানি গোয়েন্দারা পর্যন্ত লিখেছেন বঙ্গবন্ধু মূলত তাঁর বাবা, মা এবং স্ত্রীর দেওয়া সামান্য অর্থেই চলতেন। আর সেই মানুষটির বিরুদ্ধেই কিনা সামরিক শাসক আইয়ুব খানের প্রভাবে দুর্নীতি দমন ব্যুরো দুর্নীতির মামলা দিয়েছিল। ১৯৫৮ সালের ১৬ ডিসেম্বর গোয়েন্দা প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, এই মামলার কারণে তিনি ভীষণভাবে আহত হয়েছিলেন। তিনি গোয়েন্দাদের জানিয়েছিলেন, তিনি প্রাদেশিক শিল্প ও বাণিজ্যমন্ত্রী হিসেবে কেন্দ্রীয় সরকারের সাথে নীতিগত লড়াই করে পূর্ববাংলায় ক্ষুদ্র ও মাঝারি কিছু শিল্প স্থাপনের ব্যবস্থা করেছিলেন। বাঙালি উদ্যোক্তা গড়ে তোলার সুযোগ সৃষ্টি করেছিলেন। তিনি তাঁর পরিবার ও সন্তানদের বঞ্চিত করে সাধারণ মানুষের কল্যাণের জন্য রাজনীতি করেছেন। আর তার বিনিময়ে তাঁর বিরুদ্ধে মিথ্যা দুর্নীতির মামলা দেওয়া হয়েছে। সে জন্য তিনি এতটা মর্মাহত হয়েছিলেন যে, এক পর্যায়ে রাজনীতির ওপর বীতশ্রদ্ধ হয়ে পড়েছিলেন। তবে তাঁর বিরুদ্ধে কোনো অভিযোগই প্রমাণ করতে পারেনি সরকার পক্ষ। তাই ১৯৫৯ সালের ৩ জুনের গোয়েন্দা প্রতিবেদন থেকে জানা যায় তিনি ওই মামলা থেকে বেকসুর খালাস পান। এর পরেও তাঁর মুক্তি মেলেনি। ভিন্ন আরেক মামলায় তাঁকে আটক রাখা হয়। ১৯৫৯ সালের ২১ সেপ্টেম্বর তিনি সরকারকে জেলারের মাধ্যমে লিখেছিলেন যে, তাঁর কোনোই ব্যক্তিগত সম্পত্তি নেই। বিশ হাজার টাকার একটি জীবন বীমা ছিল। তাও বাতিল হয়ে গেছে।

যখন তিনি জেলে তাঁর পরিবার নিদারুণ অভাব-অনটনের মধ্যে দিন কাটাচ্ছিল। তাঁর মহীয়সী স্ত্রী চার সন্তান এবং বিরাট রাজনৈতিক সংগঠনের কর্মীদের নিয়ে সাহসের সাথে জীবনযুদ্ধ করে যাচ্ছিলেন। সেসব দিনের কথা বঙ্গবন্ধুকন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বঙ্গমাতার জন্মদিন উপলক্ষে সম্প্রতি এক দীর্ঘ লেখায় দেশবাসীকে জানিয়েছেন। তিনি লিখেছেন যে, বঙ্গবন্ধু আমেরিকা থেকে যে ফ্রিজটি এনেছিলেন তাও বঙ্গমাতা বিক্রি করে দিয়েছিলেন সংসার চালানোর জন্য। সন্তানদের বুঝিয়েছেন যে, ঠাণ্ডা পানি খেলে সর্দি-কাশি হয়। বঙ্গবন্ধুকন্যা আরও লিখেছেন- এমনও দিন গেছে বাজার করতে পারেননি। আমাদের কিন্তু কোনোদিন বলেননি আমার টাকা নাই, বাজার করতে পারলাম না। চাল-ডাল দিয়ে খিচুড়ি রান্না করেছেন, আচার দিয়ে বলেছেন প্রতিদিন ভাত ভালো লাগে নাকি? আজকে আমরা গরিব খিচুড়ি খাব। এটা খেতে খুব মজা। আমাদের সেভাবে তিনি খাবার দিয়েছেন। একজন মানুষ তার চরিত্র দৃঢ় থাকলে যে কোনো অবস্থা মোকাবিলা করার ক্ষমতা ধারণ করতে পারেন। সব কিছুতেই সন্তানদের সংযতভাবে চলতে শিখিয়েছেন। পারিবারিক এই শিষ্টাচার এবং সহজ-সরল জীবন চলা থেকেও বোঝা যায় বঙ্গবন্ধুর পরিবার কতটা সৎ এবং স্বচ্ছ জীবনযাপন করতেন। আর তাই তো ১৯৭২ সালের ১০ জানুয়ারি স্বাধীন দেশে পা রেখেই রেসকোর্সে বঙ্গবন্ধু উচ্চারণ করেছিলেন, সকল রকমের ঘুষ লেনদেন বন্ধ করতে হবে। এই কথা তিনি আজীবন সুযোগ পেলেই বলে গেছেন। সংবিধান প্রণয়নের সময় যে কমিটি ড. কামাল হোসেনের নেতৃত্বে গঠিত হয়েছিল তার কাছেও তিনি তাঁর দুর্নীতিবিরোধী মনোভাবের কথা বলেছেন। তাই তো আমাদের সংবিধানে এমন সামাজিক পরিবেশ তৈরি করার কথা বলা হয়েছে যাতে অনুপার্জিত আয় করার সুযোগ না থাকে। অভিজন ও অভাজনে জীবনচলায় বৈষম্য দূর করার অঙ্গীকার করা হয়েছে। শিক্ষা ক্ষেত্রেও কায়িক শ্রম যারা করেন তাদের প্রতি শ্রদ্ধার মনোভাব গড়ার কথা শিক্ষা কমিশনে বলা হয়েছে। এমনই গভীর ছিল তাঁর অন্তর্দৃষ্টি।

বঙ্গবন্ধু বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠা করেই ক্ষান্ত হননি। বরং স্বাধীনতার প্রকৃত সুফল এদেশের প্রান্তিক মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়ার ক্ষেত্রেও থেকেছেন একই রকম অবিচল। আর তিনি জানতেন এই লক্ষ্য অর্জনের পথেও প্রধানতম অন্তরায় হয়ে দাঁড়াবে দুর্নীতি, অভিজনের ক্ষমতার অপব্যবহার আর স্বজনপ্রীতি। পুরো পাকিস্তান আমলে যে দুর্নীতির কারণে পূর্ববাংলার মানুষ অর্থনৈতিকভাব লাগাতার বঞ্চিত হয়ে এসেছে, স্বাধীন দেশকে সেই দুর্র্নীতির করালগ্রাস থেকে মুক্ত করতে তিনি ছিলেন দৃঢ়প্রতিজ্ঞ। এ জন্য তিনি যথার্থভাবেই উৎপাদনের প্রক্রিয়াগুলোর ওপর জনগণের কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠাকেই প্রধান কৌশল হিসেবে বেছে নিয়েছিলেন। স্বাধীনতার অল্প কিছু দিনের মধ্যেই (৯ মে ১৯৭২) তাই রাজশাহীর মাদ্রাসা প্রাঙ্গণে এক বিশাল জনসভায় তিনি দৃপ্তকণ্ঠে উচ্চারণ করেন- এই সম্পত্তি আমার বাংলাদেশের সাড়ে সাত কোটি লোকের সম্পত্তি। কোনো লোক একশ বিঘার ওপর জমি রাখতে পারবে না। এতে যে জমি উদ্বৃত্ত হবে তা ভূমিহীন গরিবদের মধ্যে বিলি করে দেওয়া হবে। খাসমহলের জমি গরিবদের ছাড়া আর কাকেও দেওয়া হবে না। প্রত্যাশিত সামাজিক রূপান্তরের জন্য বঙ্গবন্ধু প্রথম পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনায় উৎপাদনের প্রক্রিয়াগুলোর সামাজিক মালিকানার রূপরেখা হাজির করেছিলেন।

তবে মনে রাখতে হবে সময়টা ছিল তখন ভীষণ চ্যালেঞ্জিং। যুদ্ধবিধ্বস্ত দেশে ছিল খাদ্যাভাব। ছিল অভাব। ছিল দারিদ্র্য। আন্তর্জাতিক বাজারে ডলারের দাম এবং পাশাপাশি তেল ও খাদ্যের দাম হঠাৎ বেড়ে গিয়েছিল। তাই খাদ্যসহ জনগণের নিত্যব্যবহার্য পণ্যের দাম হয়ে উঠেছিল আকাশছোঁয়া। মূল্যস্ফীতি ছিল বাড়ন্ত। ঘাটতির অর্থনীতিতে চোরাকারবারি, মজুদদার এবং দুর্নীতিবাজরা ছিল সক্রিয়। আর উপর্যুপরি প্রাকৃতিক দুর্যোগ এবং পাকিস্তানি নষ্ট কূটনীতিতে প্রভাবিত বিশ্ব মোড়লদের একাংশের খাদ্য সাহায্যকে ঘিরে চলছিল ভয়ঙ্কর সব ভূরাজনৈতিক খেলা। বঙ্গবন্ধুর নিজের দলের ভেতরেও ছিলেন খন্দকার মোশতাকের মতো চক্রান্তকারীরা। অন্যান্য বয়োজ্যেষ্ঠ রাজনীতিকরাও বিপ্লবউত্তর একটি দেশের পুনর্নির্মাণে সহযোগিতার বদলে সর্বক্ষণ সমালোচনা করে চলছিলেন। অশান্তির বীজ বুনছিলেন। কোমলমতি অস্থির তরুণদের আরও অস্থির করে তুলছিলেন। আর আমলাতন্ত্র ও সামরিক বাহিনীর অন্দরমহলে তো চলছিল ষড়যন্ত্রের নানা কসরত।

পাকিস্তানি ও প্রভাবশালী একটি পরাশক্তির গোয়েন্দাদের এসবে মদদ তো ছিলই। ফলে নিজের মধ্যকার দেশপ্রেম ও একনিষ্ঠতাকে সাধারণের মধ্যে সঞ্চারিত করে স্বল্পতম সময়ের মধ্যে অন্তর্ভুক্তিমূলক উন্নয়নের যে গতি বঙ্গবন্ধু প্রত্যাশা করছিলেন তা বাধাগ্রস্ত হচ্ছিল। এ প্রসঙ্গে বঙ্গবন্ধু নিজেই বাকশালের কেন্দ্রীয় সদস্য বিশিষ্ট অর্থনীতিবিদ এম. সাইদুজ্জামানকে বলেছিলেন- দেশীয় ও আন্তর্জাতিক পরিস্থিতির কারণে গত তিন বছর আমি বেশি কিছু করতে পারিনি। এটা আমাকে খুব দুঃখ দেয়। (এম. সাইদুজ্জামান, বঙ্গবন্ধুর স্মৃতি ও তার উন্নয়ন দর্শন, বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের মাসিক মুখপত্র উত্তরণ-এর ডিসেম্বর ২০২০ সংখ্যায় সঙ্কলিত, পৃষ্ঠা ৪৯)।

মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে পাকিস্তানি অপশাসনের কবল থেকে বাংলাদেশকে স্বাধীন করাটাকে প্রথম বিপ্লব হিসেবে দেখেছিলেন জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। আর স্বাধীনতার তিন বছরের মাথায় বাংলাদেশের সমাজ, রাজনীতি, অর্থনীতি, সরকার পদ্ধতি, রাজনৈতিক দল, প্রশাসন, ভূমি, উৎপাদন, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, বিচারব্যবস্থা, প্রচারমাধ্যম ইত্যাদির মৌলিক পরিবর্তন সাধন করে নতুন ব্যবস্থা প্রবর্তনের উদ্যোগ গ্রহণ করেন। এটিকেই বঙ্গবন্ধু তাঁর দ্বিতীয় বিপ্লব হিসেবে অভিহিত করেন। বঙ্গবন্ধু অনুভব করেছিলেন ওই সময়ে বিদ্যমান গণতান্ত্রিক শাসনব্যবস্থা দেশের প্রকৃত সমস্যাগুলো সমাধানে ব্যর্থ হচ্ছিল। অর্থাৎ প্রান্তিক মানুষের কাছে স্বাধীনতার প্রকৃত সুফল পৌঁছে দেওয়া সম্ভব হচ্ছিল না। তাই তাঁর ভাষায় সিস্টেম পরিবর্তন করার জন্য এই দ্বিতীয় বিপ্লব দরকার ছিল, যাতে করে শোষিত মানুষের গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করা যায় (রওনক জাহান, ইধহমষধফবংয চড়ষরঃরপং : চৎড়নষবসং ধহফ ওংংঁবং, পৃষ্ঠা ১৫৩)। আন্তর্জাতিক মহলও বঙ্গবন্ধুর দ্বিতীয় বিপ্লবের কর্মসূচিকে মূলত দুর্নীতি, আমলাতান্ত্রিক জটিলতা এবং রাজনৈতিক সহিংসতার মতো দুর্যোগগুলো থেকে দেশকে রক্ষার জন্য একটি মরিয়া চেষ্টা হিসেবেই চিহ্নিত করেছিল (টাইম সাময়িকী, ১০ ফেব্রুয়ারি ১৯৭৫)।

বঙ্গবন্ধু নিজে দুর্নীতিকে দেশের অগ্রযাত্রার পথে প্রধানতম অন্তরায় মনে করতেন। দুর্নীতি দমন দ্বিতীয় বিপ্লবের কর্মসূচির কেন্দ্রীয় জায়গায় ছিল। এ প্রসঙ্গে মহান জাতীয় সংসদে ২৫ জানুয়ারি ১৯৭৫ তারিখে তিনি বলেন- আজকে করাপশনের কথা বলতে হয়। এ বাংলার মাটি থেকে করাপশন উৎখাত করতে হবে। করাপশন আমার বাংলার কৃষকরা করে না। করাপশন আমার বাংলার মজদুর করে না। করাপশন করি আমরা শিক্ষিত সমাজ, যারা ওদের টাকা দিয়ে লেখাপড়া করেছি। ... বাংলার মাটি থেকে এদের উৎখাত করতে হবে। এর পর জনগণের কাছে দ্বিতীয় বিপ্লবের দুর্নীতিবিরোধী কর্মসূচির যৌক্তিকতা তিনি তুলে ধরেন ২৬ মার্চ ১৯৭৫ সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের জনসভায়। সেদিন তিনি বলেন, সমাজ ব্যবস্থায় যেন ঘুণ ধরে গেছে। এই সমাজের প্রতি চরম আঘাত করতে চাই- যে আঘাত করেছিলাম পাকিস্তানিদের। সে আঘাত করতে চাই এই ঘুণে ধরা সমাজব্যবস্থাকে। আমি আপনাদের সমর্থন চাই। জনগণকে সাথে নিয়ে স্বাধীনতার চেতনাকে সমুন্নত রেখে সকল দুর্র্নীতি ও অনাচারের বিরুদ্ধে একটি সামাজিক আন্দোলন গড়ে তোলাটিই ছিল বঙ্গবন্ধুর এ সময়কার লক্ষ্য। এ দেশের খেটে খাওয়া মানুষের ওপর তাঁর ছিল অগাধ আস্থা। ন্যায়ের প্রশ্নে আপসহীন এই মেহনতি মানুষদের ত্যাগ অল্প কিছু স্বার্থান্বেষী মানুষের কারণে বৃথা যাচ্ছিল। তাই সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে বঙ্গবন্ধু সেদিন বলেছিলেন, আমার কৃষক দুর্নীতিবাজ?- না। আমার শ্রমিক?- না। তা হলে ঘুষ খায় কারা? ব্ল্যাকমার্কেটিং করে কারা? বিদেশি এজেন্ট হয় কারা? ... শতকরা পাঁচজন শিক্ষিত, এই আমাদের মধ্যেই ঘুষখোর, দুর্নীতিবাজ। আমাদের চরিত্র সংশোধন করতে হবে। জনগণের যারা সেবক হবেন বঙ্গবন্ধু চেয়েছিলেন তারা যেন জনগণকে প্রকৃত অর্থেই সম্মান করেন এবং জনগণের কাছে তাদের জবাবদিহি নিশ্চিত হয়। তাই ওই জনসভায় তিনি আরও বলেছিলেন, আপনি চাকরি করেন, আপনার মাইনে দেয় গরিব কৃষক, আপনার মাইনে দেয় এ গরিব শ্রমিক। আপনার সংসার চলে ওই টাকায়। ... ওদের সম্মান করে কথা বলুন। ইজ্জত করে কথা বলুন। এ জন্য পুরো প্রশাসনের খোলনলচে বদলে, স্থানীয় সরকারকে শক্তিশালী করে, সর্বোপরি একটি বিকেন্দ্রায়িত এবং প্রকৃত অর্থে অংশগ্রহণমূলক শাসনব্যবস্থার দিকেই এগোচ্ছিলেন বঙ্গবন্ধু। দেশ তার সুফলও পেতে শুরু করেছিল। কিন্তু চক্রান্তকারীরা তাঁকে শারীরিকভাবে আমাদের কাছ থেকে ছিন্ন করায় সেই অভিযাত্রা থমকে যায়। ক্ষতিগ্রস্ত হয় পুরো দেশ। তাও ভালো, বহু সংগ্রামের পর আবার এ দেশ সে পথে যাত্রা করছে তাঁরই সুযোগ্য কন্যা আমাদের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে।

যে চ্যালেঞ্জিং প্রেক্ষাপটে বঙ্গবন্ধু দুর্নীতিবিরোধী একটি শক্তিশালী সামাজিক আন্দোলনের সূচনা করেছিলেন, সে সময় যে লক্ষ্য ও কৌশলগুলো তিনি বেছে নিয়েছিলেন সেগুলো কিন্তু বর্তমান বাস্তবতাতেও অনেকখানি প্রাসঙ্গিক। এখনো দুর্নীতি ও সুশাসনসংক্রান্ত চ্যালেঞ্জগুলোর কারণে আর্থসামাজিক উন্নয়নের সুফল সকল মানুষের কাছে পৌঁছাতে বেগ পেতে হচ্ছে। সরকার প্রাণান্ত চেষ্টা করছে একটি ন্যায়বিচারভিত্তিক সামাজিক কাঠামোর ওপর ভিত্তি করে দেশকে এগিয়ে নিতে। তবে কাজটি এককভাবে সরকারের পক্ষে করা সম্ভব নয়। বরং বৃহত্তর সমাজকেও একইভাবে সচেষ্ট হতে হবে দুর্নীতিবিরোধী এই সামাজিক আন্দোলনে। আমাদের সামষ্টিক উদ্যোগ সফল হবেই। কারণ আমাদের সামনে রয়েছে বঙ্গবন্ধুর রেখে যাওয়া দুর্নীতিবিরোধী অগ্রযাত্রার রূপরেখা।

লেখক: অধ্যাপক এবং বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক গভর্নর


আরও খবর



সোমবার রাজধানীর যেসব মার্কেট বন্ধ

প্রকাশিত:সোমবার ০৩ অক্টোবর ২০২২ | হালনাগাদ:বৃহস্পতিবার ০৬ অক্টোবর ২০২২ | ২৩জন দেখেছেন
নিউজ পোস্ট ডেস্ক

Image

ঢাকা: সাপ্তাহিক ছুটি হিসেবে সোমবার রাজধানীর বিভিন্ন এলাকার মার্কেট ও দোকানপাট বন্ধ রয়েছে। কিছু কিছু এলাকার দোকানপাট আবার বন্ধ রয়েছে অর্ধদিবসের জন্য।

চলুন জেনে নেওয়া যাক, সেগুলো।

যেসব এলাকার মার্কেট বন্ধ:

আগারগাঁও, তালতলা, শেরেবাংলানগর, শেওড়াপাড়া, কাজীপাড়া, পল্লবী, মিরপুর-১০, মিরপুর-১১, মিরপুর-১২, মিরপুর-১৩, মিরপুর-১৪, ইব্রাহীমপুর, কচুক্ষেত, কাফরুল, মহাখালী, নিউ ডিওএইচএস, ওল্ড ডিওএইচএস, কাকলী, তেজগাঁও ওল্ড এয়ারপোর্ট এরিয়া, তেজগাঁও ইন্ডাস্ট্রিয়াল এরিয়া, ক্যান্টনমেন্ট, গুলশান-১, ২, বনানী, মহাখালী কমার্শিয়াল এরিয়া, নাখালপাড়া, মহাখালী ইন্টারসিটি বাস টার্মিনাল এরিয়া, রামপুরা, বনশ্রী, খিলগাঁও, গোড়ান, মালিবাগের একাংশ, বাসাবো, ধলপুর, সায়েদাবাদ, মাদারটেক, মুগদা, কমলাপুরের একাংশ, যাত্রাবাড়ীর একাংশ, শনির আখড়া, দনিয়া, রায়েরবাগ, সানারপাড়।

অর্ধদিবস বন্ধ যেসব মার্কেট:

পল্লবী সুপার মার্কেট, মিরপুর বেনারসি পল্লী, ইব্রাহীমপুর বাজার, ইউএই মৈত্রী কমপ্লেক্স, বনানী সুপার মার্কেট, ডিসিসি মার্কেট গুলশান-১ এবং ২, গুলশান পিংক সিটি, মোল্লা টাওয়ার, আল-আমিন সুপার মার্কেট, রামপুরা সুপার মার্কেট, মালিবাগ সুপার মার্কেট, তালতলা সিটি করপোরেশন মার্কেট, কমলাপুর স্টেডিয়াম মার্কেট, গোরান বাজার, আবেদিন টাওয়ার, ঢাকা শপিং সেন্টার, আয়েশা মোশারফ শপিং কমপ্লেক্স, মিতালী অ্যান্ড ফ্রেন্ড সুপার মার্কেট।  


আরও খবর

জেনে নিন রাজধানীতে কখন কোথায় লোডশেডিং

বৃহস্পতিবার ০৬ অক্টোবর ২০২২




বালুমহালের নামে নদী ধ্বংস করা হয়েছে: সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান

প্রকাশিত:সোমবার ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২২ | হালনাগাদ:বুধবার ০৫ অক্টোবর ২০২২ | ৩৮জন দেখেছেন
নিউজ পোস্ট ডেস্ক

Image

বাংলাদেশ পরিবেশ আইনবিদ সমিতির (বেলা) প্রধান নির্বাহী সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান বলেছেন, কোনো প্রকার জরিপ ছাড়াই দেশের বিভিন্ন নদনদীকে বালুমহাল ঘোষণা করা হচ্ছে। গত ২০ বছরে নদনদী ও নদনদীসংলগ্ন অঞ্চল থেকে ১৩০-১৪০ ফুট গর্ত করে বালু-পাথর উত্তোলন করা হচ্ছে। এতে কৃষিজমি, বাড়িঘড় নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যাচ্ছে।

আজ সোমবার ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে (ডিআরইউ) আয়োজিত এক গোলটেবিল বৈঠকে এসব কথা বলেন সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান। বিশ্ব নদী দিবস উপলক্ষে বালু-পাথর উত্তোলন ও দখল-দূষণে নদ-নদীর বিদ্যমান জীর্ণদশা এবং পরিবেশ সংকট শীর্ষক এ গোলটেবিল বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বেসরকারি সংস্থা অ্যাসোসিয়েশন ফর ল্যান্ড রিফর্ম অ্যান্ড ডেভলপমেন্ট (এএলআরডি), বেলা ও পানি অধিকার ফোরাম।

সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান বলেন, ২০১৪ থেকে ২০১৯ পর্যন্ত ৬ বছরে সিলেটের পাথরমহালগুলো থেকে সরকার রাজস্ব অর্জন করেছে ৩৮ কোটি ৫০ লাখ। বছরে মাত্র সাড়ে ছয় কোটি টাকার জন্য জাফলং-বিছনাকান্দির নদীগুলোকে ধ্বংস করা হয়েছে।

তিনি বলেন, বালুমহাল আইনের ৫ নম্বর বিধি অনুযায়ী কেউ একক সিদ্ধান্তে বালুমহাল ঘোষণা করতে পারেন না। জেলা প্রশাসকের নেতৃত্বে একটি জেলা কমিটি পরিবেশ ও সার্বিক ঝুঁকির বিষয়গুলো তদারক করার কথা। কিন্তু কমিটি নিজেদের দায়িত্ব পালন করে না। উল্টো অভিযোগ দিলে দায়সারা প্রতিবেদন দাখিল করে।

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন অ্যাসোসিয়েশন ফর ল্যান্ড রিফর্ম অ্যান্ড ডেভলপমেন্টের (এএলআরডি) নির্বাহী পরিচালক শামসুল হুদা। এতে বক্তব্য দেন রিভারাইন পিপলের পরিচালক এবং রংপুরের বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের শিক্ষক তুহিন ওয়াদুদ, নাগরিক উদ্যোগের নির্বাহী পরিচালক জাকির হোসেন, নেত্রকোনার হাজংমাতা রাশিমনি কল্যাণ পরিষদের সভাপতি মতিলাল হাজং, বিভিন্ন জেলাউপজেলায় নদী নিয়ে কাজ করা সংগঠন, এনজিও প্রতিনিধি ও সংবাদকর্মীরা।


আরও খবর



প্লেনের সিটের নিচে মিলল প্রায় দেড় কোটি টাকার স্বর্ণ

প্রকাশিত:সোমবার ১২ সেপ্টেম্বর ২০২২ | হালনাগাদ:বৃহস্পতিবার ০৬ অক্টোবর ২০২২ | ৪৪জন দেখেছেন
নিউজ পোস্ট ডেস্ক

Image

প্লেনের সিটের নিচের পাইপের ভেতর থেকে পরিত্যক্ত অবস্থায় ১৬টি স্বর্ণের বার উদ্ধার করেছে ঢাকা কাস্টমস হাউসের প্রিভেনটিভ ইউনিট।

রোববার (১১ সেপ্টেম্বর) রাতে দীর্ঘ ১২ ঘণ্টার অভিযানে বাংলাদেশ বিমানের বোয়িং ৭৭৭ এর অরুণ আলো উড়োজাহাজ থেকে স্বর্ণের বারগুলো উদ্ধার করা হয়।

ঢাকা কাস্টমস সূত্রে জানা গেছে, দুবাই থেকে আসা বাংলাদেশ বিমানের বিজি৩৪৮ ফ্লাইটটি রোববার ভোর ৬টা ৩৮ মিনিটে হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করে। বিমানটিতে স্বর্ণের চালান রয়েছে বলে কাস্টমস কর্মকর্তাদের কাছে তথ্য ছিল।

তথ্যের ভিত্তিতে কাস্টমস কর্মকর্তারা পুরো বিমানবন্দরে নিরাপত্তা জোরদার করেন। শাহজালালে বিমানটি অবতরণের পর যাত্রীরা নেমে গেলে তল্লাশি করতে বিমানবন্দরের হ্যাঙ্গার গেটে বিমানটি নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে প্রায় ১২ ঘণ্টার বেশি সময় তল্লাশি চালানো হয়। দীর্ঘ এ তল্লাশি অভিযান শেষ হয় রাত ৯টা ৪০ মিনিটে। তল্লাশি শেষে ১৬টি স্বর্ণের বার উদ্ধার করা হয়। উদ্ধার করা স্বর্ণের বারের ওজন এক কেজি ৮৫৬ গ্রাম, যার বাজার মূল্য প্রায় এক কোটি ৪০ লাখ টাকা।



আরও খবর

জেনে নিন রাজধানীতে কখন কোথায় লোডশেডিং

বৃহস্পতিবার ০৬ অক্টোবর ২০২২




ফ্লোরিডায় হারিকেন ইয়ানের তাণ্ডব, নিহত ১২

প্রকাশিত:শুক্রবার ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২২ | হালনাগাদ:বৃহস্পতিবার ০৬ অক্টোবর ২০২২ | ২৭জন দেখেছেন
নিউজ পোস্ট ডেস্ক

Image

যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডা অঙ্গরাজ্যে ধ্বংসযজ্ঞ চালিয়েছে শক্তিশালী ঘূর্ণিঝড় হারিকেন ইয়ান। এ পর্যন্ত ১২ জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে ঘূর্ণিঝড়কবলিত এলাকা থেকে। প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন বলেছেন, ইয়ান ফ্লোরিডার ইতিহাসে সবচেয়ে ভয়াবহ ঘূর্ণিঝড় হতে পারে।

বৃহস্পতিবার (২৯ সেপ্টেম্বর) প্রেসিডেন্ট বাইডেন ফেডারেল ইমার্জেন্সি ম্যানেজমেন্ট এজেন্সির কর্মকর্তাদের একটি ব্রিফিংয়ের পর বলেন, মৃত্যুর সংখ্যা এখনো অস্পষ্ট, কিন্তু আমরা প্রাথমিকভাবে বড় ধরনের প্রাণহানি হতে পারে বলে শুনছি’।

স্থানীয় সময় বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা পর্যন্ত ১২ জনের মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করা হয়। তাদের মধ্যে সাতজন চার্লট কাউন্টিতে। বাকীরা সারাসোটা এবং ভলুসিয়ার। বৃহস্পতিবার বিকাল পর্যন্ত ফ্লোরিডায় ২৩ লাখের মতো বাসিন্দা বিদ্যুৎবিচ্ছিন্ন ছিলেন বলেও জানান বিদ্যুৎ বিভাগ।

বৃহস্পতিবার রাত ৮টার দিকে, ঝড়টি চার্লসটনের দক্ষিণে ছিল এবং ১০ মাইল বেগে উত্তর-উত্তরপূর্ব দিকে অগ্রসর হচ্ছিল।

জাতীয় হারিকেন কেন্দ্র জানিয়েছে, শুক্রবার নাগাদ দক্ষিণ ক্যারোলাইনা উপকূলে পৌঁছাতে পারে হারিকেন ইয়ান। এরপর শুক্রবার রাত ও শনিবার নাগাদ ঘূর্ণিঝড়ের কেন্দ্র মূল ভূখণ্ডের দিকে অগ্রসর হতে পারে। ঘূর্ণিঝড় ইয়ানের কারণে ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যেও জরুরি অবস্থা জারি করা হয়েছে।

চার্লট কাউন্টি কমিশনার ক্রিস্টোফার কনস্ট্যান্স ৭ জনের মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেন। সারাসোটা কাউন্টিতে দুইজন মারা গেছেন। সানিবেল দ্বীপে আরও দুজন মারা গেছেন। যেখানে হারিকেন ক্যাটাগরি-৪ আঘাত হানে।

 

 


আরও খবর

‘হাসি’ মানুষের সবচেয়ে ভালো ওষুধ

শুক্রবার ০৭ অক্টোবর ২০২২




ছাদখোলা বাসে চোট পেলেন ঋতুপর্ণা চাকমা, লাগল তিন সেলাই

প্রকাশিত:বুধবার ২১ সেপ্টেম্বর ২০২২ | হালনাগাদ:বৃহস্পতিবার ০৬ অক্টোবর ২০২২ | ৪০জন দেখেছেন
নিউজ পোস্ট ডেস্ক

Image

আনন্দযাত্রার মধ্যেই একটা দুঃসংবাদ! ছাদখোলা বাসে বিমানবন্দর থেকে বাফুফে ভবনে যাওয়ার পথে চোট পেয়েছেন সাফ চ্যাম্পিয়নশিপ জয়ী বাংলাদেশ নারী দলের মিডফিল্ডার ঋতুপর্ণা চাকমা। কপালে তিনটি সেলাই লেগেছে তাঁর। তবে বড় কোনো বিপদ হয়নি। ঋতুপর্ণা সুস্থই আছেন।

বাফুফে নির্বাহী ইমরান জানিয়েছেন, ফ্লাইওভার দিয়ে যাওয়ার সময় ঋতুপর্ণার কপালে কাঠের বা ধাতব কিছুর খোঁচা লাগে। তাতেই কেটে গিয়ে কপাল থেকে রক্ত বের হতে থাকে তাঁর। তাৎক্ষণিকভাবে গাড়ি থামিয়ে বহরের সঙ্গে থাকা অ্যাম্বুলেন্সে ঋতুপর্ণাকে সিএমএইচে নেওয়া হয়। কপালে তিনটি সেলাই লেগেছে তাঁর।

তবে আর কোনো সমস্যা না থাকায় ঋতুপর্ণাকে চিকিৎসার পরই ছেড়ে দেওয়া হয়। অ্যাম্বুলেন্সে করেই তিনি বাফুফে ভবনের দিকে রওনা দেন।

সাফ জয়ের পর আজ দুপুর ১টা ৪৫ মিনিটে হজরত শাহজালাল বিমানবন্দরে নেমেছে নারী দল। সেখান থেকে ছাদখোলা বাসে খেলোয়াড়দের নিয়ে শোভাযাত্রা বের করা হয়। বিমানবন্দর থেকে মেয়েদের বহনকারী বাস কাকলী, জাহাঙ্গীর গেট, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়, বিজয় সরণি, তেজগাঁও, মৌচাক, কাকরাইল, আরামবাগ, মতিঝিল শাপলা চত্বর হয়ে যাচ্ছে বাফুফে ভবনে।


আরও খবর

হার দিয়ে সিরিজ শুরু বাংলাদেশের

শুক্রবার ০৭ অক্টোবর ২০২২

১৬৮ রানের লক্ষ্য পেল বাংলাদেশ

শুক্রবার ০৭ অক্টোবর ২০২২