Logo
শিরোনাম

এই দুঃখ কোথায় রাখি?

প্রকাশিত:বৃহস্পতিবার ২১ অক্টোবর 20২১ | হালনাগাদ:রবিবার ২৮ নভেম্বর ২০২১ | ৮৯জন দেখেছেন
নিউজ পোস্ট ডেস্ক

Image
আমরা যখন ছোট ছিলাম, তখন এ দেশের গ্রামে গ্রামে যেটুকু সংস্কৃতির চর্চা ছিল এখন সেটি নেই। বাসায় বাসায় হারমোনিয়ামে শিশুর গলায় গান শোনা যায় না, রাত জেগে কেউ যাত্রা কিংবা পালা গান শুনতে যায় না

ড. মুহম্মদ জাফর ইকবাল

১.

কয়দিন থেকে আমার নিজেকে অশুচি মনে হচ্ছে। মনে হচ্ছে আমি বুঝি আকণ্ঠ ক্লেদে নিমজ্জিত হয়ে আছি। শুধু আমি নই, এই দেশে আমার মত অসংখ্য মানুষের একই অনুভূতি, মনে হচ্ছে জাতির একটি বড় একটি অংশ বিষণ্ণতায় ডুবে আছে।

কারণটি নিশ্চয়ই সবাই বুঝতে পারছে। যে দুর্গা পূজাটি হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের সবচেয়ে বড় আনন্দোৎসব হওয়ার কথা সেই দুর্গা পূজাটি এবারে সবচেয়ে বড় তাণ্ডবের কেন্দ্রস্থল। আমি যে এটিকে একটি বিচ্ছিন্ন ঘটনা বলে নিজেকে সান্ত্বনা দেব সেটিও করতে পারছি না। কুমিল্লা থেকে শুরু হয়ে এটি শুধু কুমিল্লাতে থেমে থাকেনি, বলতে গেলে সারাদেশে ছড়িয়ে পড়েছে। যার অর্থ সারাদেশের প্রতিটি আনাচে কানাচে ভয়ংকর সাম্প্রদায়িক মানুষ রয়েছে, তারা লুকিয়ে নেই তারা প্রকাশ্যে আছে, বুক ফুলিয়ে আছে। আইন ও সালিশ কেন্দ্রের তথ্য অনুযায়ী গত ৯ বছরে এই দেশে ৩৬৮৯ বার হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের উপর হামলা হয়েছে। যারা সংখ্যাটি কতো ভয়ানক অনুভব করতে পারছেন না তাদেরকে অন্যভাবে বলা সম্ভব, এই দেশে গড়ে প্রতিদিন একবার কিংবা তার বেশি দেশের কোথাও না কোথাও হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের উপর হামলা হয়েছে! এটি হচ্ছে প্রকাশিত তথ্যের কথা, প্রকৃত সংখ্যা আসলে আরও অনেক বেশি। এই দেশটি আমরা যেভাবে গড়ে তুলব বলে স্বপ্ন দেখেছিলাম দেশটি সেভাবে গড়ে উঠেনি। এই দেশের শতকরা দশভাগ হিন্দু ধর্মাবলম্বী, যদি তাদের জিজ্ঞেস করা হয় তারা কেমন আছেন, তাদের কেউ কী বলবেন যে তারা ভালো আছেন? একটা দেশ কেমন চলছে সেটা বোঝার সবচেয়ে সহজ উপায় হচ্ছে সেই দেশের সংখ্যালঘুদের জিজ্ঞেস করা তারা কেমন আছে। তারা যদি বলে ভালো নেই তাহলে বুঝতে হবে দেশটি ভালো নেই।

সেজন্য আসলে আমরাও ভালো নেই। আমি কয়দিন থেকে আমার হিন্দু ধর্মাবলম্বী বন্ধুদের সাথে কথা বলতে সাহস পাচ্ছি না। তীব্র এক ধরনের লজ্জা এবং অপরাধবোধে ভুগছি। সাম্প্রতিক ঘটনার কারণে এই বিষয়টি নূতন করে সবার সামনে এসেছে, কিন্তু তার অর্থ এই নয় যে এটি প্রথমবার হয়েছে, কিংবা এটি পুরোপুরি বিচ্ছিন্ন ঘটনা কিংবা কেউ কেউ রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে এটি হঠাৎ করে ফেলেছে। এই ভয়ংকর সাম্প্রদায়িকতা এখানে বহুদিন থেকে শিকড় গেড়েছে, আমরা কেউ কেউ নিজেদের মিথ্যা সান্ত্বনা দিয়ে এর অস্তিত্ব অস্বীকার করার চেষ্টা করছি, কেউ কেউ এটাকে খাটো করে দেখার চেষ্টা করেছি। কিন্তু আমরা যে আসলে আকণ্ঠ ক্লেদে নিমজ্জিত, কেন আমরা সেই সত্য অস্বীকার করার চেষ্টা করি? কেন ভাণ করি সবকিছু ঠিক ঠিক চলছে? বিষয়টির একটু গভীরে গেলেই আমরা টের পাই সবকিছু ঠিক ঠিক চলছে না। যে দুর্গা পূজায় একটি হিন্দু শিশুর আনন্দে আত্মহারা থাকার কথা কেন সেই দুর্গা পূজায় শিশুটির বুকে ভয়ের কাঁপুনি? আমরা কেন এই শিশুদের বুকে আগলে রক্ষা করতে পারি না?

২.

যখন পূজার সময় আসে, সারা দেশে প্রতিমা তৈরির কাজ শুরু হয় তখন থেকে আমি নিজের ভেতর এক ধরনের চাপা অশান্তি অনুভব করি। অবধারিত ভাবে খবর পাই দেশের এখানে সেখানে সেই প্রতিমা ভেঙ্গে দেওয়া হচ্ছে। যখন পূজা শুরু হয় তখন আমি নিঃশ্বাস বন্ধ করে থাকি, যারা শোলাকিয়া ঈদের জামাতেও বোমা মারতে প্রস্তুত তারা পূজার অনুষ্ঠানে না জানি কী করার চেষ্টা করে। যখন সবকিছু শেষ হয় আমি শান্তির নিঃশ্বাস ফেলি।

আমার মত অতি সাধারণ একজন নাগরিকের ভেতর যদি পুরো ব্যাপারটা নিয়ে এক ধরণের চাপা অশান্তি থাকে তাহলে কী এই দেশের আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর এই সময়টিতে ঘুম নষ্ট হয়ে যাওয়ার কথা নয়? দুঃখটা আমার এখানে, আমি জানি তারা চাইলেই একটা তাণ্ডব থামাতে পারে। আজকাল এই দেশের পুলিশ বাহিনী অনেক করিৎকর্মা, আমার হিসেবে এই বিষয়গুলো তারা আমাদের থেকে আরও অনেক ভালো করে জানে। তাই কুমিল্লার অবাস্তব ষড়যন্ত্রটির খবর ভোর সাতটার সময় পাওয়ার পরও বেলা এগারোটায় তাণ্ডব শুরু হতে দেওয়ার ঘটনাটি কোনোভাবেই মেনে নিতে পারছি না। বিশেষ করে যখন আমরা জানতে পেরেছি ভোরবেলা থেকে ওসি স্বয়ং সেখানে উপস্থিত ছিলেন। এই দেশে আগে অনেকবার এরকম ঘটনা ঘটেছে কাজেই বিষয়গুলো কীভাবে দানা বাঁধে সেটি এখন আর কারও জানতে বাকী নেই। আফগানিস্তানে তালেবানদের বিজয়ের পর এই দেশের ধর্মান্ধ গোষ্ঠী যে নূতন করে উজ্জীবিত হয়ে আছে সেটি তো কারো অজানা নয়। পাকিস্তান, আফগানিস্তানে শুক্রবারে জুম্মার নামাজে বোমা হামলা প্রায় নিয়মিত ঘটনা। আমাদের দেশেও কোনো একটা ধর্মান্ধ ষড়যন্ত্র দানা বাধলেও যে শুক্রবার জুম্মার নামাজের পর তার একটা শো-ডাউন হয় সেটাও তো আমরা বহুকাল থেকে দেখে এসেছি। কমন সেন্সের এতোগুলো বিষয় আমরা সবাই জানি কিন্তু আইন শৃঙ্খলা বাহিনী জানে না, এবং সেভাবে প্রস্তুতি নিতে পারে না এটা আমরা কীভাবে বিশ্বাস করি? হতদরিদ্র একজন জেলের সহায় সম্পদ সবকিছু পুড়ে নিঃস্ব হয়ে যাওয়ার পর রাষ্ট্র যদি নূতন করে তার ঘরবাড়ি তৈরি করেও দেয়, তারপরেও কী তার বুকের ভেতরের যে আতংক, হতাশা, দুঃখ, কষ্ট এবং অসহায় অভিমানের জন্ম হয় আমরা কী তার এক বিন্দুও দূর করতে পারব? এই দেশের নাগরিক হয়ে শুধুমাত্র নিজের ধর্মের কারণে তাদের একটি অসহায় আতংকে জীবন কাটাতে হবে সেটি কেমন করে মেনে নেওয়া যায়?

এখানে রাষ্ট্রের অনেক বড় দায়িত্ব, কিন্তু আমরা যখন রাষ্ট্রের দায়িত্বপ্রাপ্ত বড় বড় রাজনৈতিক নেতাদের বক্তব্য শুনি তখন একধরণের হতাশা অনুভব করি। কিছু একটা ঘটলেই তারা চোখ বন্ধ করে মুহূর্তের মাঝে বিরোধী রাজনৈতিক দলের উপর দোষ চাপিয়ে ঝাড়া হাত পা হয়ে যান। যদি এর মাঝে সত্যতা থাকেও তাদের এই ঢালাও রাজনৈতিক বক্তব্যের কারণে সেটি তার নিজের দলের মানুষও আন্তরিকভাবে বিশ্বাস করে বলে মনে হয় না। সাধারণ মানুষ তখন অনুমান করে নেয় রাষ্ট্র বা রাষ্ট্রনেতারা এই সমস্যা সমাধানের জন্য আন্তরিক নয়, হয়তো তারা এটাকে একটা রাজনৈতিক ইস্যু হিসেবে দেখিয়ে তার থেকে কোনো একটা সুবিধা নিতে চান। অথচ মূল কথাটি খুবই সহজ, কেন এটি ঘটেছে তার খুব ভালো একটা ব্যাখ্যা জেনে কোনো লাভ নেই, ঘটনাটি না ঘটলে অনেক লাভ আছে।

একটা সমস্যা সমাধান করতে হলে সবার আগে মেনে নিতে হয় যে, সমস্যাটা আছে। তারপর সমস্যাটা বুঝতে হয় তাহলে নিজ থেকেই সমস্যা সমাধানের পথ বের হয়ে যায়। আমরা যদি সমস্যাটাই অস্বীকার করি তাহলে সেটা সমাধান করব কেমন করে? কিছু দুর্বৃত্ত হঠাৎ করে এটা করে ফেলেছে বললে সমস্যাটাকে পাশ কাটিয়ে যাওয়া হয়। সেই দুর্বৃত্তরা যে এখানে তাদের কাজকর্মের জন্য একটা অভয়ারণ্য পেয়েছে সেটি তো সবার আগে স্বীকার করে নিতে হবে।

এই সরকার মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের সরকার, স্বাভাবিকভাবেই তাদের উপর আমাদের দাবী অনেক বেশি। হেফাজতের হুমকি শুনে পাঠ্যবইয়ের সাম্প্রদায়িক পরিবর্তন আমাদের চরমভাবে হতাশ করেছিল, কাজেই দেশের এই সাম্প্রদায়িক রূপটিকে ঠিক করার ব্যাপারে তাদের কতোটুকু সদিচ্ছা আছে সেটা নিয়ে আমাদের কারো কারো ভেতরে যদি এক ধরনের দুর্ভাবনা থাকে কে আমাদের দোষ দিতে পারবে?

৩.

আমি আজন্ম আশাবাদী মানুষ। জীবনের চরম দুঃসময়েও আশায় বুক বেঁধে অপেক্ষা করেছি এবং দেখেছি একদিন আমার স্বপ্ন পূরণ হয়েছে। কাজেই এবারেও আমি আশাবাদী থাকতে চাই, স্বপ্ন দেখতে চাই যে এই দেশটি থেকে সাম্প্রদায়িকতার বিষবৃক্ষকে একদিন শিকড়-সহ উৎপাটন করে ফেলা হবে। তবে এটি এমনি এমনি শুধু মুখের কথায় হবে না, তার জন্য কাজ করতে হবে। আমার হিসেবে বাংলাদেশের সামনে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ এখন এটি।

আমি আমার জীবনে যে কয়টি সত্য আবিষ্কার করেছি তার একটি হচ্ছে পৃথিবীর সৌন্দর্য হচ্ছে বৈচিত্র্যে। একটি দেশে যখন নানা বর্ণের, নানা কালচারের, নানা ধর্মের, নানা ভাষার মানুষ পাশাপাশি থাকে, একে অন্যের সাহচর্যে সুখে দুঃখে বড় হয় সেটি হচ্ছে সত্যিকারের সৌন্দর্যময় জীবন। আমাদের দেশের মানুষের মাঝে বৈচিত্র্য খুব কম, কাজেই আমাদের জীবনধারায় যেটুকু বৈচিত্র্য আছে সেটাই আমাদের বুক আগলে রক্ষা করতে হবে, আমাদের শিশুদের সেটা শিখাতে হবে। নিজ ধর্মের বিধি বিধান শেখার আগে তাদের অন্য ধর্মের সৌন্দর্যের কথা জানতে হবে যেন তারা সকল ধর্মের জন্য এক ধরনের শ্রদ্ধাবোধ নিয়ে বড় হয়।

এই দেশের মানুষ ঐতিহ্যগতভাবে উগ্র মানসিকতার মানুষ নয়, জীবনের কোনো ক্ষেত্রেই তারা বাড়াবাড়ি পছন্দ করে না। সারা পৃথিবীর ধর্মান্ধতার উত্থানের ঢেউ এখানেও এসেছে এবং কিছু মানুষ সেটি ব্যবহার করার চেষ্টা করেছে। ফেসবুক নামে মানসিক বর্জ্য ক্লেদ সংরক্ষণ ও বিতরণ’-এর যে পদ্ধতি বের হয়েছে সেটি ব্যবহার করে যেটি আগে কখনও সম্ভব হয়নি এখন সেটিও করে ফেলা যাচ্ছে। যে মানুষটির কথাকে আগে বিন্দুমাত্র গুরুত্ব দেওয়ার সুযোগ ছিল না, এখন সেই মানুষটি তার ভয়ানক আপত্তিকর বক্তব্য সবাইকে শোনাতে পারছে, শুধু তাই নয় দ্রুততম সময়ে দুর্বৃত্তদের একত্র করে একটা অঘটন ঘটিয়ে ফেলছে। শুধু বাংলাদেশে নয়, সারা পৃথিবীতেই এটি অনেক বড় একটি সমস্যা। পৃথিবীর অন্য দেশ কী করবে জানি না, কিন্তু আমাদের দেশে আমাদের প্রয়োজনে এর একটা সমাধান এখন খুব দরকার। শুধু তাই নয়, এক সময় যেকোনো সাম্প্রদায়িক সমস্যা হলে সব রাজনৈতিক, সাংস্কৃতিক, সামাজিক সংগঠন, ছাত্র-ছাত্রী শিক্ষক পথে নেমে আসতো, এখন সবাই ফেসবুকে একটা বক্তব্য দিয়ে তারা তাদের দায়িত্ব শেষ করে ফেলতে চায়।

আমরা যখন ছোট ছিলাম, তখন এ দেশের গ্রামে গ্রামে যেটুকু সংস্কৃতির চর্চা ছিল এখন সেটি নেই। বাসায় বাসায় হারমোনিয়ামে শিশুর গলায় গান শোনা যায় না, রাত জেগে কেউ যাত্রা কিংবা পালা গান শুনতে যায় না। মাঝ নদী থেকে মাঝির গলায় ভাটিয়ালি গান শুনি না, স্কুলে স্কুলে কিংবা পাড়ার ছেলেমেয়েরা হ্যাজাক লাইটের আলোকে জরির কাপড় পরে সিরাজদ্দৌলার নাটক করে না। মাঠে রঙ্গিন জার্সি পরে তুমুল উত্তেজনায় ফুটবল খেলা হয় না। নদীতে নৌকা বাইচ হয় না। বাউল হওয়া এখন অনেক সময় অপরাধ, তাদের বিরুদ্ধে মামলা হয়। এক কথায় আমরা আগে যেটুক বাঙালি ছিলাম এখন আমরা আর সেই বাঙালি নেই। আমাদের সংস্কৃতির জগতে যে শূন্যতা তৈরি হয়েছে সেই শূন্যতা দ্রুত পূরণ করতে আসছে ধর্মান্ধ গোষ্ঠী।

কাজেই এখন ভাবনা চিন্তা করে সিদ্ধান্ত নিয়ে আবার আমাদের বাঙালি হওয়ার সময় এসেছে। একসময় বাঙালি হয়ে আমরা আমাদের ভাষাটিকে পেয়েছিলাম, তারপর আবার বাঙালি হয়ে আমাদের দেশটিকে পেয়েছিলাম। এখন আবার বাঙালি হয়ে সেই দেশকে অসাম্প্রদায়িক করার সময় এসেছে।

লেখক: শিক্ষাবিদ, বিজ্ঞানী ও কথাসাহিত্যিক।


আরও খবর

আমরা এখন একা

বৃহস্পতিবার ১৮ নভেম্বর ২০২১




টিকে থাকতে বাংলাদেশের চাই ১৪৩ রান

প্রকাশিত:শুক্রবার ২৯ অক্টোবর ২০২১ | হালনাগাদ:রবিবার ২৮ নভেম্বর ২০২১ | ৯০জন দেখেছেন
নিউজ পোস্ট ডেস্ক

Image

সুযোগ ছিল অল্পেই অলআউট করার। কিন্তু বাংলাদেশের বাজে ফিল্ডিংয়ের কারণে চাপে পড়েও চ্যালেঞ্জিং স্কোর দাঁড় করিয়ে ফেলেছে ওয়েস্ট ইন্ডিজ। নির্ধারিত ২০ ওভারে তাদের সংগ্রহ ৭ উইকেটে ১৪২ রান। ম্যাচ জিততে বাংলাদেশের চাই ১৪৩ রান।

সুপার টুয়েলভ পর্বে টানা দুই ম্যাচ হারের পর আজ (শুক্রবার) ওয়েস্ট ইন্ডিজের মুখোমুখি হয়েছে লাল-সবুজের প্রতিনিধিরা।

ম্যাচে টস জিতে ফিল্ডিংয়ের সিদ্ধান্ত নেন টাইগার অধিনায়ক মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ। শুরুটা খারাপ করেননি বোলাররা। প্রথম দুই ওভারে মাত্র ৯ রান তুলতে পারেন ক্যারিবীয় দুই ওপেনার ক্রিস গেইল আর এভিন লুইস।

মোস্তাফিজুর রহমানের করা ইনিংসের তৃতীয় ওভারের প্রথম বলটিতেই সাফল্য পেতে পারতো বাংলাদেশ। বলে হালকা ব্যাট ছুঁইয়ে অনেকটা দৌড়ে গিয়েছিলেন গেইল। পরে রান হবে বুঝতে না পেরে ফেরত আসতে যান।

বল ধরেই পয়েন্ট থেকে জোরে থ্রো করেন সাকিব আল হাসান। উইকেটরক্ষক লিটন দাসও স্ট্যাম্পের কাছে চলে এসেছিলেন। কিন্তু সাকিবের থ্রো লিটনের দিকে ছিল না, ছিল স্ট্যাম্প বরাবর। সেটি মিস হলে বেঁচে যান গেইল।

তবে ওই ওভারেই মোস্তাফিজ ধাক্কা দিয়েছেন ওয়েস্ট ইন্ডিজকে। ওভারের শেষ বলটি তুলে মারতে গিয়ে বাতাসে ভাসিয়ে দেন এভিন লুইস (৯ বলে ৬)। স্কয়ার লেগে দৌড়ে এসে সহজ ক্যাচ নেন মুশফিকুর রহিম।

তবে ১৯তম ওভারে বোলিং করতে এসে প্রথম দুই বলেই পুরান (২২ বলে ৪০) ও চেজকে (৪৬ বলে ৩৯) সাজঘরে ফেরান তরুণ বাঁহাতি পেসার শরিফুল ইসলাম। সেই ওভারের পঞ্চম বলে জেসন হোল্ডারকেও ফেরাতে পারতেন শরিফুল। কিন্তু ক্যাচ ছেড়ে দেন আফিফ হোসেন ধ্রুব।

সেই হোল্ডারই মোস্তাফিজের করা শেষ ওভারের দ্বিতীয় ও তৃতীয় বলে হাঁকান ছক্কা। যদিও প্রথম বলে ডোয়াইন ব্রাভোকে আউট করেন মোস্তাফিজ। আর ইনিংসের একদম শেষ বলে ছক্কা মেরে দলীয় সংগ্রহটা ১৪২ রানে নিয়ে যান স্বেচ্ছা অবসর থেকে ফেরা পোলার্ড।

শেষদিকের বোলিংটা একদমই ভালো হয়নি বাংলাদেশের। প্রথম ১৪ ওভারে ৭০ রান করা ক্যারিবীয়রা শেষ ছয় ওভারেই সাতটি বিশাল ছয়ের মারে তুলে নেয় ৭২ রান। বাংলাদেশের পক্ষে ২টি করে উইকেট নিয়েছেন মেহেদি, শরিফুল ও মোস্তাফিজ। তবে ৪ ওভারে ৪৩ রান খরচ করে বসেন মোস্তাফিজ।

বাংলাদেশ একাদশ : লিটন দাস, নাঈম শেখ, সাকিব আল হাসান, মুশফিকুর রহিম, মাহমুদউল্লাহ (অধিনায়ক), সৌম্য সরকার, আফিফ হোসেন, মেহেদী হাসান, শরীফুল ইসলাম, তাসকিন আহমেদ, মুস্তাফিজুর রহমান।

ওয়েস্ট ইন্ডিজ একাদশ : এভিন লুইস, ক্রিস গেইল, রসটন চেজ, শিমরন হেটমায়ার, কাইরন পোলার্ড (অধিনায়ক), নিকোলাস পুরান, আন্দ্রে রাসেল, ডোয়াইন ব্রাভো, জেসন হোল্ডার, আকিল হোসেইন, রবি রামপল।


আরও খবর



ক্রিকেট বোর্ডের কর্মকর্তাকে বিয়ে করলেন মালালা

প্রকাশিত:বুধবার ১০ নভেম্বর ২০২১ | হালনাগাদ:শুক্রবার ২৬ নভেম্বর ২০২১ | ৮০জন দেখেছেন
নিউজ পোস্ট ডেস্ক

Image

নারীশিক্ষার অধিকার নিয়ে কাজ করায় শান্তিতে নোবেলজয়ী মালালা ইউসুফজাই বিয়ে করেছেন। সবাইকে অনেকটা অবাক করে দিয়ে মঙ্গলবার রাতে বিয়ের খবর জানিয়েছেন যুক্তরাজ্যে বসবাসরত মালালা। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসি ও পাকিস্তানের সংবাদমাধ্যম ডন এ খবর দিয়েছে।

মালালার বর আসসার মালিক পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ডের কর্মকর্তা। পাকিস্তানের ক্রিকেট বোর্ডের হাই পারফরমেন্স সেন্টারের ব্যবস্থাপকের দায়িত্বে রয়েছেন আসসার মালিক। যুক্তরাজ্যের বার্মিংহামে তাঁদের বিয়ে হয়েছে। মঙ্গলবার রাতে মালালা এক টুইট বার্তায় নিজের বিয়ের খবর জানিয়েছেন।

টুইটারে বরের সঙ্গে কয়েকটি ছবি শেয়ার করে ২৪ বছর বয়সী মালালা লিখেছেন, আজকের এই দিনটি আমার জীবনের জন্য মহামূল্যবান একটি দিন। আসসার আর আমি সারা জীবনের জন্য একত্রিত হয়েছি। স্বল্পপরিসরে পরিবারের সদস্যদের নিয়ে বার্মিংহামের বাড়িতে বিয়ের অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। আমাদের জন্য দোয়া করবেন। বাকি জীবন আমরা একসঙ্গে থাকতে চাই।

পাকিস্তানের সোয়াত উপত্যকায় ১৯৯৭ সালের ১২ জুলাই জন্মগ্রহণ করেন মালালা ইউসুফজাই। ২০১৪ সালে সবচেয়ে কম বয়সী হিসেবে মালালা নোবেল শান্তি পুরস্কারে ভূষিত হন।

পাকিস্তানে তালেবানের বাধার পরও নারীশিক্ষা বিস্তারে কাজ করতেন মালালা। ২০১২ সালে জঙ্গিরা তাঁকে গুলি করে। কিন্তু ভাগ্যক্রমে তিনি বেঁচে যান। এ সময় চিকিৎসার জন্য তাঁকে যুক্তরাজ্যে নেওয়া হয়। এরপর থেকে তিনি পরিবারসহ যুক্তরাজ্যে বসবাস করছেন।

পিছিয়ে থাকা নারীর শিক্ষা বিস্তারে অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে ২০১৪ সালে সবচেয়ে কম বয়সী হিসেবে ভারতের কৈলাস সত্যার্থীর সঙ্গে যৌথভাবে শান্তিতে নোবেল পান মালালা ইউসুফজাই।

নিউজ ট্যাগ: মালালা ইউসুফজাই

আরও খবর



বিদেশি মুদ্রার ব্যবহার নিষিদ্ধ আফগানিস্তানে

প্রকাশিত:বুধবার ০৩ নভেম্বর ২০২১ | হালনাগাদ:শুক্রবার ২৬ নভেম্বর ২০২১ | ৫৮জন দেখেছেন
নিউজ পোস্ট ডেস্ক

Image

আফগানিস্তানে বিদেশি মুদ্রা ব্যবহারের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ ক্ষমতাসীন তালেবান। গতকাল মঙ্গলবার (২ নভেম্বর) এই নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে তারা। এর ফলে খাদের কিনারে থাকা আফগান অর্থনীতি আরও সংকটের সম্মুখীন হতে পারে। এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানিয়েছে বার্তা সংস্থা রয়টার্স।

গত আগস্ট মাসের মাঝামাঝি সময়ে তালেবান আফগানিস্তানের নিয়ন্ত্রণ নেয়। এরপরেই বিশ্বের বেশিরভাগ দেশের দূতাবাসের পাশাপাশি বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থাও কাবুলে তাদের কার্যালয় বন্ধ করে দেয়। বন্ধ হয়ে যায় বিদেশি সহায়তাও। এমনকি বিদেশে থাকা আফগানিস্তানের রিজার্ভও আটকে দেয় যুক্তরাষ্ট্র। এমন পরিস্থিতিতে আফগানিস্তানের মুদ্রার মান কেবলই কমেছে।

টালমাটাল এই পরিস্থিতিতে আফগানিস্তানের ব্যাংকগুলোতে নগদ অর্থের সংকটও দেখা দিয়েছে। এছাড়া বিশ্বের কোনো দেশই এখন পর্যন্ত তালেবানকে দেশটির বৈধ সরকার হিসেবে স্বীকৃতি দেয়নি। এ কারণেআফগানিস্তানের অর্থনৈতিক অবস্থা কেবলই অবনতির দিকে যাচ্ছে।

ফরাসি বার্তা সংস্থা এএফপি জানিয়েছে, সংকটজনক এই পরিস্থিতিতে দেশটির ভেতরেই অনেক স্থানে মার্কিন ডলারে লেনদেন করে থাকেন আফগান নাগরিকরা। এছাড়া পাকিস্তান সীমান্তবর্তী আফগান ভূখণ্ডের দক্ষিণাঞ্চলের অনেক জায়গায় বিনিময়ের মাধ্যম হিসেবে পাকিস্তানি রুপিও ব্যবহার করছে মানুষ।

তবে আফগানিস্তানের অভ্যন্তরে বিদেশি যেকোনো মুদ্রায় লেনদেন বা ব্যবহার নিষিদ্ধ করেছে দেশটির ক্ষমতাসীন গোষ্ঠী তালেবান। গতকাল মঙ্গলবার এক বিবৃতিতে এই ঘোষণা দিয়েছেন তালেবানের মুখপাত্র জাবিহুল্লাহ মুজাহিদ। এমনকি অভ্যন্তরীণ ব্যবসায় এবং এ সংক্রান্ত কাজে বিদেশী মুদ্রা ব্যবহারকারীকে শান্তির আওতায় আনা হবে বলেও হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেছেন তিনি।


আরও খবর



এস কে সিনহার ১১ বছরের কারাদণ্ড

প্রকাশিত:মঙ্গলবার ০৯ নভেম্বর ২০২১ | হালনাগাদ:মঙ্গলবার ২৩ নভেম্বর ২০২১ | ৬২জন দেখেছেন
নিউজ পোস্ট ডেস্ক

Image

ঋণ জালিয়াতির মামলায় পৃথক দুই ধারায় ১১ বছরের কারাদণ্ড হয়েছে সাবেক প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহার।

এর মধ্যে ঋণ আত্মসাতের দায়ে চার বছর এবং মানি লন্ডারিং ধারায় সাত বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। মঙ্গলবার দুপুরে ঢাকার বিশেষ জজ আদালত-৪ এর বিচারক শেখ নাজমুল আলম এ রায় ঘোষণা করেন।

এসকে সিনহাসহ এ মামলার মোট আসামি ১১ জন। এর মধ্যে আট আসামির বিভিন্ন মেয়াদে সাজা হয়েছে। এছাড়া দুই আসামি খালাস পেয়েছেন। 

এর আগে এ মামলার সাত আসামির উপস্থিতিতে রায় পড়া শুরু করেন বিচারক।

নিউজ ট্যাগ: এস কে সিনহা

আরও খবর



তিন দিন নয়, টানা ১৫ দিন ইন্টারনেট না থাকলে বিল দিতে হবে না

প্রকাশিত:শুক্রবার ১২ নভেম্বর ২০২১ | হালনাগাদ:রবিবার ২৮ নভেম্বর ২০২১ | ৮১জন দেখেছেন
নিউজ পোস্ট ডেস্ক

Image

তিন দিন নয়, টানা ১৫ দিন ব্রডব্যান্ড ইন্টারনেট সেবা বন্ধ থাকলে গ্রাহককে বিল দিতে হবে না। টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রক সংস্থা বিটিআরসি বৃহস্পতিবার (১১ নভেম্বর) আগের নিয়ম সংশোধন করে নতুন নির্দেশনা জারি করেছে। নতুন নিয়মে কোনও গ্রাহক টানা ১৫ দিন ইন্টারনেট সেবা না পেলে ইন্টারনেট সেবাদাতা প্রতিষ্ঠানকে (আইএসপি) বিল দেবেন না।

দেশে ইন্টারনেট সেবাদাতা প্রতিষ্ঠানগুলোর সংগঠন আইএসপিএবির সভাপতি আমিনুল হাকিম বিষয়টির সত্যতা নিশ্চিত করে বলেছেন, আমরা বৃহস্পতিবার বিটিআরসির চিঠি পেয়েছি। আমাদের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে বিটিআরসি এই সিদ্ধান্ত দিয়েছে। এতে করে ব্রডব্যান্ড ইন্টারনেটে এক দেশ এক রেট বাস্তবায়ন আরও সহজ হবে। এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, যেদিন চিঠি ইস্যু হয়েছে সেদিন থেকেই এই নিয়ম কার্যকর হবে।

এর আগে বিটিআরসি গত ৫ অক্টোবর গণমাধ্যমগুলোতে পাঠানো এক বিজ্ঞপ্তিতে জানায়, এক দিন অব্যাহতভাবে ইন্টারনেট সেবা বিচ্ছিন্ন থাকলে মোট বিলের ৫০ ভাগ নিতে পারবে সেবাদাতা প্রতিষ্ঠান। দুই দিন অব্যাহতভাবে ইন্টারনেট সেবা বিচ্ছিন্ন থাকলে মোট বিলের ২৫ ভাগ নেওয়া যাবে। আর টানা তিন দিন অব্যাহতভাবে ইন্টারনেট সেবা বিচ্ছিন্ন থাকলে ওই মাসের কোনও মাসিক বিল গ্রাহকের কাছ থেকে নেওয়া যাবে না।

পুরনো নিয়ম সংশোধন করে নতুন নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, টানা পাঁচ দিন অব্যাহতভাবে ইন্টারনেট সেবা বিচ্ছিন্ন থাকলে মোট বিলের ৫০ ভাগ নিতে পারবে সেবাদাতা প্রতিষ্ঠান। আর টানা ১০ দিন ইন্টারনেট সেবা বিচ্ছিন্ন থাকলে মোট বিলের ২৫ ভাগ নেওয়া যাবে।

প্রসঙ্গত, সরকার গত ৬ জুলাই সারাদেশে ব্রডব্যান্ড ইন্টারনেট সেবার জন্য এক দেশ এক রেট ঘোষণা করে। 

তথ্যপ্রযুক্তিবিদ সুমন আহমেদ সাবির বলেন, আমাদের দেশের ব্রডব্যান্ড ইন্টারনেটের যে অবকাঠামো তাতে করে একটানা নিরবছিন্ন ইন্টারনেট সেবাদান কঠিন কাজ। অনেক সময় এমন অনেক কাজের জন্য ক্যাবল কাটা যায় যে মেরামত শেষে পুনরায় সংযোগ দিতে অনেক সময় লাগে।  ফলে আমি মনে করি নতুন নির্ধারিত সময়টা সেবাদাতা ও সেবাগ্রহীতা দুই পক্ষের জন্যই ভালো হয়েছে।



আরও খবর