Logo
শিরোনাম

এই দুঃখ কোথায় রাখি?

প্রকাশিত:বৃহস্পতিবার ২১ অক্টোবর 20২১ | হালনাগাদ:শুক্রবার ২০ মে ২০22 | ২৪৭জন দেখেছেন
নিউজ পোস্ট ডেস্ক

Image
আমরা যখন ছোট ছিলাম, তখন এ দেশের গ্রামে গ্রামে যেটুকু সংস্কৃতির চর্চা ছিল এখন সেটি নেই। বাসায় বাসায় হারমোনিয়ামে শিশুর গলায় গান শোনা যায় না, রাত জেগে কেউ যাত্রা কিংবা পালা গান শুনতে যায় না

ড. মুহম্মদ জাফর ইকবাল

১.

কয়দিন থেকে আমার নিজেকে অশুচি মনে হচ্ছে। মনে হচ্ছে আমি বুঝি আকণ্ঠ ক্লেদে নিমজ্জিত হয়ে আছি। শুধু আমি নই, এই দেশে আমার মত অসংখ্য মানুষের একই অনুভূতি, মনে হচ্ছে জাতির একটি বড় একটি অংশ বিষণ্ণতায় ডুবে আছে।

কারণটি নিশ্চয়ই সবাই বুঝতে পারছে। যে দুর্গা পূজাটি হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের সবচেয়ে বড় আনন্দোৎসব হওয়ার কথা সেই দুর্গা পূজাটি এবারে সবচেয়ে বড় তাণ্ডবের কেন্দ্রস্থল। আমি যে এটিকে একটি বিচ্ছিন্ন ঘটনা বলে নিজেকে সান্ত্বনা দেব সেটিও করতে পারছি না। কুমিল্লা থেকে শুরু হয়ে এটি শুধু কুমিল্লাতে থেমে থাকেনি, বলতে গেলে সারাদেশে ছড়িয়ে পড়েছে। যার অর্থ সারাদেশের প্রতিটি আনাচে কানাচে ভয়ংকর সাম্প্রদায়িক মানুষ রয়েছে, তারা লুকিয়ে নেই তারা প্রকাশ্যে আছে, বুক ফুলিয়ে আছে। আইন ও সালিশ কেন্দ্রের তথ্য অনুযায়ী গত ৯ বছরে এই দেশে ৩৬৮৯ বার হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের উপর হামলা হয়েছে। যারা সংখ্যাটি কতো ভয়ানক অনুভব করতে পারছেন না তাদেরকে অন্যভাবে বলা সম্ভব, এই দেশে গড়ে প্রতিদিন একবার কিংবা তার বেশি দেশের কোথাও না কোথাও হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের উপর হামলা হয়েছে! এটি হচ্ছে প্রকাশিত তথ্যের কথা, প্রকৃত সংখ্যা আসলে আরও অনেক বেশি। এই দেশটি আমরা যেভাবে গড়ে তুলব বলে স্বপ্ন দেখেছিলাম দেশটি সেভাবে গড়ে উঠেনি। এই দেশের শতকরা দশভাগ হিন্দু ধর্মাবলম্বী, যদি তাদের জিজ্ঞেস করা হয় তারা কেমন আছেন, তাদের কেউ কী বলবেন যে তারা ভালো আছেন? একটা দেশ কেমন চলছে সেটা বোঝার সবচেয়ে সহজ উপায় হচ্ছে সেই দেশের সংখ্যালঘুদের জিজ্ঞেস করা তারা কেমন আছে। তারা যদি বলে ভালো নেই তাহলে বুঝতে হবে দেশটি ভালো নেই।

সেজন্য আসলে আমরাও ভালো নেই। আমি কয়দিন থেকে আমার হিন্দু ধর্মাবলম্বী বন্ধুদের সাথে কথা বলতে সাহস পাচ্ছি না। তীব্র এক ধরনের লজ্জা এবং অপরাধবোধে ভুগছি। সাম্প্রতিক ঘটনার কারণে এই বিষয়টি নূতন করে সবার সামনে এসেছে, কিন্তু তার অর্থ এই নয় যে এটি প্রথমবার হয়েছে, কিংবা এটি পুরোপুরি বিচ্ছিন্ন ঘটনা কিংবা কেউ কেউ রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে এটি হঠাৎ করে ফেলেছে। এই ভয়ংকর সাম্প্রদায়িকতা এখানে বহুদিন থেকে শিকড় গেড়েছে, আমরা কেউ কেউ নিজেদের মিথ্যা সান্ত্বনা দিয়ে এর অস্তিত্ব অস্বীকার করার চেষ্টা করছি, কেউ কেউ এটাকে খাটো করে দেখার চেষ্টা করেছি। কিন্তু আমরা যে আসলে আকণ্ঠ ক্লেদে নিমজ্জিত, কেন আমরা সেই সত্য অস্বীকার করার চেষ্টা করি? কেন ভাণ করি সবকিছু ঠিক ঠিক চলছে? বিষয়টির একটু গভীরে গেলেই আমরা টের পাই সবকিছু ঠিক ঠিক চলছে না। যে দুর্গা পূজায় একটি হিন্দু শিশুর আনন্দে আত্মহারা থাকার কথা কেন সেই দুর্গা পূজায় শিশুটির বুকে ভয়ের কাঁপুনি? আমরা কেন এই শিশুদের বুকে আগলে রক্ষা করতে পারি না?

২.

যখন পূজার সময় আসে, সারা দেশে প্রতিমা তৈরির কাজ শুরু হয় তখন থেকে আমি নিজের ভেতর এক ধরনের চাপা অশান্তি অনুভব করি। অবধারিত ভাবে খবর পাই দেশের এখানে সেখানে সেই প্রতিমা ভেঙ্গে দেওয়া হচ্ছে। যখন পূজা শুরু হয় তখন আমি নিঃশ্বাস বন্ধ করে থাকি, যারা শোলাকিয়া ঈদের জামাতেও বোমা মারতে প্রস্তুত তারা পূজার অনুষ্ঠানে না জানি কী করার চেষ্টা করে। যখন সবকিছু শেষ হয় আমি শান্তির নিঃশ্বাস ফেলি।

আমার মত অতি সাধারণ একজন নাগরিকের ভেতর যদি পুরো ব্যাপারটা নিয়ে এক ধরণের চাপা অশান্তি থাকে তাহলে কী এই দেশের আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর এই সময়টিতে ঘুম নষ্ট হয়ে যাওয়ার কথা নয়? দুঃখটা আমার এখানে, আমি জানি তারা চাইলেই একটা তাণ্ডব থামাতে পারে। আজকাল এই দেশের পুলিশ বাহিনী অনেক করিৎকর্মা, আমার হিসেবে এই বিষয়গুলো তারা আমাদের থেকে আরও অনেক ভালো করে জানে। তাই কুমিল্লার অবাস্তব ষড়যন্ত্রটির খবর ভোর সাতটার সময় পাওয়ার পরও বেলা এগারোটায় তাণ্ডব শুরু হতে দেওয়ার ঘটনাটি কোনোভাবেই মেনে নিতে পারছি না। বিশেষ করে যখন আমরা জানতে পেরেছি ভোরবেলা থেকে ওসি স্বয়ং সেখানে উপস্থিত ছিলেন। এই দেশে আগে অনেকবার এরকম ঘটনা ঘটেছে কাজেই বিষয়গুলো কীভাবে দানা বাঁধে সেটি এখন আর কারও জানতে বাকী নেই। আফগানিস্তানে তালেবানদের বিজয়ের পর এই দেশের ধর্মান্ধ গোষ্ঠী যে নূতন করে উজ্জীবিত হয়ে আছে সেটি তো কারো অজানা নয়। পাকিস্তান, আফগানিস্তানে শুক্রবারে জুম্মার নামাজে বোমা হামলা প্রায় নিয়মিত ঘটনা। আমাদের দেশেও কোনো একটা ধর্মান্ধ ষড়যন্ত্র দানা বাধলেও যে শুক্রবার জুম্মার নামাজের পর তার একটা শো-ডাউন হয় সেটাও তো আমরা বহুকাল থেকে দেখে এসেছি। কমন সেন্সের এতোগুলো বিষয় আমরা সবাই জানি কিন্তু আইন শৃঙ্খলা বাহিনী জানে না, এবং সেভাবে প্রস্তুতি নিতে পারে না এটা আমরা কীভাবে বিশ্বাস করি? হতদরিদ্র একজন জেলের সহায় সম্পদ সবকিছু পুড়ে নিঃস্ব হয়ে যাওয়ার পর রাষ্ট্র যদি নূতন করে তার ঘরবাড়ি তৈরি করেও দেয়, তারপরেও কী তার বুকের ভেতরের যে আতংক, হতাশা, দুঃখ, কষ্ট এবং অসহায় অভিমানের জন্ম হয় আমরা কী তার এক বিন্দুও দূর করতে পারব? এই দেশের নাগরিক হয়ে শুধুমাত্র নিজের ধর্মের কারণে তাদের একটি অসহায় আতংকে জীবন কাটাতে হবে সেটি কেমন করে মেনে নেওয়া যায়?

এখানে রাষ্ট্রের অনেক বড় দায়িত্ব, কিন্তু আমরা যখন রাষ্ট্রের দায়িত্বপ্রাপ্ত বড় বড় রাজনৈতিক নেতাদের বক্তব্য শুনি তখন একধরণের হতাশা অনুভব করি। কিছু একটা ঘটলেই তারা চোখ বন্ধ করে মুহূর্তের মাঝে বিরোধী রাজনৈতিক দলের উপর দোষ চাপিয়ে ঝাড়া হাত পা হয়ে যান। যদি এর মাঝে সত্যতা থাকেও তাদের এই ঢালাও রাজনৈতিক বক্তব্যের কারণে সেটি তার নিজের দলের মানুষও আন্তরিকভাবে বিশ্বাস করে বলে মনে হয় না। সাধারণ মানুষ তখন অনুমান করে নেয় রাষ্ট্র বা রাষ্ট্রনেতারা এই সমস্যা সমাধানের জন্য আন্তরিক নয়, হয়তো তারা এটাকে একটা রাজনৈতিক ইস্যু হিসেবে দেখিয়ে তার থেকে কোনো একটা সুবিধা নিতে চান। অথচ মূল কথাটি খুবই সহজ, কেন এটি ঘটেছে তার খুব ভালো একটা ব্যাখ্যা জেনে কোনো লাভ নেই, ঘটনাটি না ঘটলে অনেক লাভ আছে।

একটা সমস্যা সমাধান করতে হলে সবার আগে মেনে নিতে হয় যে, সমস্যাটা আছে। তারপর সমস্যাটা বুঝতে হয় তাহলে নিজ থেকেই সমস্যা সমাধানের পথ বের হয়ে যায়। আমরা যদি সমস্যাটাই অস্বীকার করি তাহলে সেটা সমাধান করব কেমন করে? কিছু দুর্বৃত্ত হঠাৎ করে এটা করে ফেলেছে বললে সমস্যাটাকে পাশ কাটিয়ে যাওয়া হয়। সেই দুর্বৃত্তরা যে এখানে তাদের কাজকর্মের জন্য একটা অভয়ারণ্য পেয়েছে সেটি তো সবার আগে স্বীকার করে নিতে হবে।

এই সরকার মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের সরকার, স্বাভাবিকভাবেই তাদের উপর আমাদের দাবী অনেক বেশি। হেফাজতের হুমকি শুনে পাঠ্যবইয়ের সাম্প্রদায়িক পরিবর্তন আমাদের চরমভাবে হতাশ করেছিল, কাজেই দেশের এই সাম্প্রদায়িক রূপটিকে ঠিক করার ব্যাপারে তাদের কতোটুকু সদিচ্ছা আছে সেটা নিয়ে আমাদের কারো কারো ভেতরে যদি এক ধরনের দুর্ভাবনা থাকে কে আমাদের দোষ দিতে পারবে?

৩.

আমি আজন্ম আশাবাদী মানুষ। জীবনের চরম দুঃসময়েও আশায় বুক বেঁধে অপেক্ষা করেছি এবং দেখেছি একদিন আমার স্বপ্ন পূরণ হয়েছে। কাজেই এবারেও আমি আশাবাদী থাকতে চাই, স্বপ্ন দেখতে চাই যে এই দেশটি থেকে সাম্প্রদায়িকতার বিষবৃক্ষকে একদিন শিকড়-সহ উৎপাটন করে ফেলা হবে। তবে এটি এমনি এমনি শুধু মুখের কথায় হবে না, তার জন্য কাজ করতে হবে। আমার হিসেবে বাংলাদেশের সামনে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ এখন এটি।

আমি আমার জীবনে যে কয়টি সত্য আবিষ্কার করেছি তার একটি হচ্ছে পৃথিবীর সৌন্দর্য হচ্ছে বৈচিত্র্যে। একটি দেশে যখন নানা বর্ণের, নানা কালচারের, নানা ধর্মের, নানা ভাষার মানুষ পাশাপাশি থাকে, একে অন্যের সাহচর্যে সুখে দুঃখে বড় হয় সেটি হচ্ছে সত্যিকারের সৌন্দর্যময় জীবন। আমাদের দেশের মানুষের মাঝে বৈচিত্র্য খুব কম, কাজেই আমাদের জীবনধারায় যেটুকু বৈচিত্র্য আছে সেটাই আমাদের বুক আগলে রক্ষা করতে হবে, আমাদের শিশুদের সেটা শিখাতে হবে। নিজ ধর্মের বিধি বিধান শেখার আগে তাদের অন্য ধর্মের সৌন্দর্যের কথা জানতে হবে যেন তারা সকল ধর্মের জন্য এক ধরনের শ্রদ্ধাবোধ নিয়ে বড় হয়।

এই দেশের মানুষ ঐতিহ্যগতভাবে উগ্র মানসিকতার মানুষ নয়, জীবনের কোনো ক্ষেত্রেই তারা বাড়াবাড়ি পছন্দ করে না। সারা পৃথিবীর ধর্মান্ধতার উত্থানের ঢেউ এখানেও এসেছে এবং কিছু মানুষ সেটি ব্যবহার করার চেষ্টা করেছে। ফেসবুক নামে মানসিক বর্জ্য ক্লেদ সংরক্ষণ ও বিতরণ’-এর যে পদ্ধতি বের হয়েছে সেটি ব্যবহার করে যেটি আগে কখনও সম্ভব হয়নি এখন সেটিও করে ফেলা যাচ্ছে। যে মানুষটির কথাকে আগে বিন্দুমাত্র গুরুত্ব দেওয়ার সুযোগ ছিল না, এখন সেই মানুষটি তার ভয়ানক আপত্তিকর বক্তব্য সবাইকে শোনাতে পারছে, শুধু তাই নয় দ্রুততম সময়ে দুর্বৃত্তদের একত্র করে একটা অঘটন ঘটিয়ে ফেলছে। শুধু বাংলাদেশে নয়, সারা পৃথিবীতেই এটি অনেক বড় একটি সমস্যা। পৃথিবীর অন্য দেশ কী করবে জানি না, কিন্তু আমাদের দেশে আমাদের প্রয়োজনে এর একটা সমাধান এখন খুব দরকার। শুধু তাই নয়, এক সময় যেকোনো সাম্প্রদায়িক সমস্যা হলে সব রাজনৈতিক, সাংস্কৃতিক, সামাজিক সংগঠন, ছাত্র-ছাত্রী শিক্ষক পথে নেমে আসতো, এখন সবাই ফেসবুকে একটা বক্তব্য দিয়ে তারা তাদের দায়িত্ব শেষ করে ফেলতে চায়।

আমরা যখন ছোট ছিলাম, তখন এ দেশের গ্রামে গ্রামে যেটুকু সংস্কৃতির চর্চা ছিল এখন সেটি নেই। বাসায় বাসায় হারমোনিয়ামে শিশুর গলায় গান শোনা যায় না, রাত জেগে কেউ যাত্রা কিংবা পালা গান শুনতে যায় না। মাঝ নদী থেকে মাঝির গলায় ভাটিয়ালি গান শুনি না, স্কুলে স্কুলে কিংবা পাড়ার ছেলেমেয়েরা হ্যাজাক লাইটের আলোকে জরির কাপড় পরে সিরাজদ্দৌলার নাটক করে না। মাঠে রঙ্গিন জার্সি পরে তুমুল উত্তেজনায় ফুটবল খেলা হয় না। নদীতে নৌকা বাইচ হয় না। বাউল হওয়া এখন অনেক সময় অপরাধ, তাদের বিরুদ্ধে মামলা হয়। এক কথায় আমরা আগে যেটুক বাঙালি ছিলাম এখন আমরা আর সেই বাঙালি নেই। আমাদের সংস্কৃতির জগতে যে শূন্যতা তৈরি হয়েছে সেই শূন্যতা দ্রুত পূরণ করতে আসছে ধর্মান্ধ গোষ্ঠী।

কাজেই এখন ভাবনা চিন্তা করে সিদ্ধান্ত নিয়ে আবার আমাদের বাঙালি হওয়ার সময় এসেছে। একসময় বাঙালি হয়ে আমরা আমাদের ভাষাটিকে পেয়েছিলাম, তারপর আবার বাঙালি হয়ে আমাদের দেশটিকে পেয়েছিলাম। এখন আবার বাঙালি হয়ে সেই দেশকে অসাম্প্রদায়িক করার সময় এসেছে।

লেখক: শিক্ষাবিদ, বিজ্ঞানী ও কথাসাহিত্যিক।


আরও খবর

প্রান্তজনের কথা বুঝতে চায় না শাসকচক্র

মঙ্গলবার ০৮ ফেব্রুয়ারী ২০২২

আমরা এখন একা

বৃহস্পতিবার ১৮ নভেম্বর ২০২১




বাবার কোলে শিশুকে হত্যা: আরেক আসামি গ্রেফতার

প্রকাশিত:মঙ্গলবার ২৬ এপ্রিল ২০২২ | হালনাগাদ:বৃহস্পতিবার ১৯ মে ২০২২ | ৭৩জন দেখেছেন

Image

নোয়াখালী প্রতিনিধি:

নোয়াখালীর বেগমগঞ্জে হাজীপুরে বাবার কোলে শিশু তাসপিয়া আক্তার জান্নাতকে (৩) গুলি করে হত্যার ঘটনায় আরেক আসামিকে গ্রেফতার করেছে জেলা ডিবি পুলিশ।

গ্রেফতারকৃত আসামির নাম জোবায়ের বিন নিজাম ওরফে পলাশ (২৩) সে উপজেলার ১৪নং হাজীপুর ইউনিয়নের হাজীপুর গ্রামের মিজানের ছেলে।

বুধবার (২৬ এপ্রিল) দুপুর পৌনে ১২টার দিকে নোয়াখালীল পুলিশ সুপার (এসপি) মো.শহীদুল ইসলাম বিষয়টি নিশ্চিত করেন। এর আগে গতকাল মঙ্গলবার রাত ১১টার দিকে উপজেলার ফুলতলা গ্রাম থেকে তাকে গ্রেফতার করে ডিবি পুলিশ।

এসপি আরও জানায়,বেগমগঞ্জ হাজীপুরের আলোচিত তাফসিয়া হত্যা মামলার  আসামি মামুন উদ্দিন ওরফে রিমন আদালতে ১৬৪ ধারার স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেয়। ওই জবানবন্দিতে প্রকাশিত আসামি জোবায়ের বিন নিজাম ওরফে পলাশ।

উল্লেখ্য, গত ৯ এপ্রিল বিকেলে শিশু তাসপিয়া আক্তারকে চিপস-জুস কিনে দিতে বেগমগঞ্জ উপজেলার হাজীপুর মালেকার বাপের দোকান এলাকায় যান প্রবাসী আবু জাহের। তিনি তাঁর ভাগনে আবদুল্লা আল-মামুনের দোকানে কথা বলছিলেন। এমন সময় পূর্ববিরোধের জের ধরে রিমন কয়েকজন সহযোগীকে নিয়ে সেখানে হামলা চালান। এ সময় জাহের তাঁর মেয়েকে কোলে নিয়ে পালানোর চেষ্টা করলে তাঁদের লক্ষ্য করে গুলি চালান রিমন। এতে শিশু তাসপিয়ার মাথা ও মুখমণ্ডল গুলিতে ঝাঁঝরা হয়ে যায় এবং তার বাবা আবু জাহেরেরও চোখসহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে গুলি লাগে। গুরুতর আহত অবস্থায় ঢাকায় নেওয়ার পথে কুমিল্লায় মারা যায় তাসপিয়া।

এ ঘটনায় তাসপিয়ার খালু হুমায়ুন কবির বাদী হয়ে বুধবার বেগমগঞ্জ থানায় একটি মামলা করেন। মামলায় মো. রিমনসহ ১৭ জনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে। মামলাটি বর্তমানে জেলা গোয়েন্দা শাখার (ডিবি) পুলিশ তদন্ত করছে। এ মামলায় পুলিশ, র‌্যাব ও জেলা গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) এ পর্যন্ত দশজনকে গ্রেপ্তার করেছে।

এ মামলার প্রধান আসামি রিমন বেগমগঞ্জ উপজেলার দূর্গাপুর ইউপির লক্ষ্মীনারায়ণপুর গ্রামের মোমিন উল্যাহর ছেলে। শিশু তাসপিয়া হত্যা মামলা ছাড়াও তার বিরুদ্ধে বেগমগঞ্জ ও সুবর্ণচরের চরজব্বর থানায় মারামারি, হত্যাচেষ্টা ও অস্ত্র আইনে আরো ৯টি মামলা রয়েছে।


আরও খবর



স্বরূপকাঠিতে জমে উঠেছে ঐতিহ্যবাহী তরমুজের হাট

প্রকাশিত:রবিবার ২৪ এপ্রিল ২০২২ | হালনাগাদ:বৃহস্পতিবার ১৯ মে ২০২২ | ৬৫জন দেখেছেন
নিউজ পোস্ট ডেস্ক

Image

পিরোজপুরের স্বরূপকাঠি উপজেলার মিয়ারহাট বন্দরের কালীবাড়ি খালমুখে জমে উঠেছে ঐতিহ্যবাহী ভাসমান তরমুজের হাট। এ বছর ভালো দাম পাওয়ায় হাসি ফুটেছে ব্যবসায়ী ও চাষিদের মুখে। ব্যবসায়ীরা বলছেন, রমজান এবং অতিরিক্ত গরমের কারণে তরমুজের চাহিদা বেশি। এ জন্য গত বছরের তুলনায় এবার তরমুজের ভালো দাম পাওয়া যাচ্ছে।

সরেজমিন দেখা যায়, প্রতিটি ট্রলার তরমুজে ভরা, দেখলেই মনে হয় যেন, এটি তরমুজের রাজ্য। খালের যত দূর চোখ যায়, কেবল তরমুজ আর তরমুজ। চৈত্রের মাঝামাঝি সময় থেকে শুরু করে ভরা জ্যৈষ্ঠ পর্যন্ত সপ্তাহে দুদিন চলে তরমুজ বেচাকেনা। প্রতি সপ্তাহের সোম ও বৃহস্পতিবার দুদিন বসে শত বছরের ঐতিহ্যবাহী ভাসমান তরমুজের হাট। হাটে সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত চলে তরমুজ বিকিকিনি। ব্যস্ততম এই খালে অসংখ্য তরমুজভর্তি ট্রলার থাকায় হাটের সময় খাল দিয়ে অন্য কোনো ট্রলার বা নৌকা পার হতে বিপাকে পড়ে।

স্থানীয়রা জানান, দক্ষিণাঞ্চলের বিভিন্ন জেলা ও উপজেলা থেকে ব্যবসায়ী ও চাষিরা তরমুজ এনে এই হাটে বিক্রি করেন। ব্যবসায়ীরা চাষিদের কাছ থেকে তরমুজের খেত কিনে এনে আকার ও সাইজ অনুযায়ী বিক্রি করেন শত মূলে। অত্র উপজেলাসহ পার্শ্ববর্তী বিভিন্ন উপজেলার লোকেরা ট্রলারভর্তি শত শত তরমুজ কিনে চালান করেন রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন জায়গায়। একই সঙ্গে অনেক খুচরা ও পাইকারি বিক্রেতারা এখান থেকে তরমুজ কিনে বিক্রি করেন উপজেলার বিভিন্ন হাট-বাজারে। তরমুজের আকার অনুযায়ী ৬০-৩২০ টাকা পর্যন্ত প্রতি পিস তরমুজ বিক্রি হয়।

পার্শ্ববর্তী নাজিরপুর উপজেলার গাওখালি বাজার থেকে ট্রলার নিয়ে তরমুজ কিনতে এসেছিলেন আব্দুল হালিম (৪২)। তিনি হাটে এসে সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত ঘোরাঘুরি করেন তরমুজ কেনার জন্য। তিনি বলেন, গত বারের তুলনায় এ বছর ফলন কম হওয়ায় তরমুজের দাম বেশি। হাটে বড় সাইজের একশত তরমুজ বিক্রি হচ্ছে ত্রিশ হাজার টাকায়। তাতে প্রতি পিস তরমুজের দাম পড়ে ৩ শ টাকা। এতে একটি তরমুজ কিনে বাজারে নেওয়া পর্যন্ত সেটির খরচ পড়ে আরও ৪০ টাকা। তারপর সেই তরমুজ কত টাকায় বিক্রি করতে হয়?

উপজেলার জগৎপট্টি গ্রামের তরমুজ ব্যবসায়ী মোস্তফা জামাল (৪৪) জানান, তিনিসহ পাঁচজনে হাট থেকে তরমুজ কিনে কুমিল্লার দাউদকান্দিতে পাঠান। প্রতিটি বড় তরমুজ ৩২০ টাকায় কিনে প্রতি ট্রলারে ৭-৮ হাজার তরমুজ পাঠান কুমিল্লায়। প্রতি ট্রলারে ৩০-৪০ হাজার টাকা তাঁর খরচ হয়। খরচ বাদ দিয়ে প্রতি ট্রিপে কিছুটা লাভ হয়। তবে তিনি বলেন, এ বছর তরমুজের ফলন একটু কম হওয়ায় চাষিরা বেশি লাভবান হচ্ছেন।

পটুয়াখালীর মুনসিরহাট থেকে হাটে ট্রলারভর্তি তরমুজ নিয়ে আসা মো. আলমগীর জানান, চাষিদের কাছ থেকে তিন বিঘা জমির তরমুজ সাড়ে ছয় লাখ থেকে সাত লাখ টাকায় কিনতে হয়। এই জমি থেকে ২ হাজার ৫০০ থেকে ৩ হাজার ৫০০ তরমুজ পাওয়া যায়।

হাটে আসা মলুহার গ্রামের আড়তদার আবুল কালাম (৬৮) জানান, ব্যবসায়ীরা দক্ষিণাঞ্চলের জেলা পটুয়াখালী, বরগুনা, ভোলা, কলাপাড়া, মহিপুর, মুনসিরহাট, রাঙাবালি, তালতলি, গলাচিপা, কালাইয়া প্রভৃতি এলাকা থেকে তরমুজের খেত কিনে ট্রলার ভরে এই হাটে তরমুজ নিয়ে আসেন। তারা মৌসুমের শুরুতে খেতে তরমুজের গুটি দেখে খেতমূলে তরমুজ কেনেন। তরমুজ বড় হলে মৌসুমের শুরু থেকেই তাঁরা ট্রলার ভরে তরমুজ এনে বিক্রি করেন অত্র উপজেলাসহ বিভিন্ন উপজেলার হাটে।  সোহাগদল গ্রামের তরমুজ ব্যবসায়ী আব্দুল মন্নান (৬৫) বলেন, শত বছর ধরে মিয়ারহাটের কালিবাড়ি খালে ভাসমান তরমুজের হাট বসছে। প্রতি হাটে ৬০ লাখ টাকা থেকে কোটি টাকার তরমুজ বিক্রি হয়। ব্যবসায়ীরা জানান, তরমুজের হাটে চাষি ও ব্যাপারীরা ইচ্ছে অনুযায়ী তরমুজ কিনতে বা বেচতে পারেন। এখানে কোনো সিন্ডিকেট নেই। হাটের পরিবেশ সুষ্ঠু রাখতে বন্দর কমিটি তাঁদের সর্বাত্মক নিরাপত্তা দিচ্ছেন।

স্বরূপকাঠি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. মোসারেফ হোসেন বলেন, উপজেলার মিয়ারহাট বন্দর একটি পুরোনো ব্যবসায়িক কেন্দ্র। কালিবাড়ি খালে ভাসমান হাটটি অনেক প্রাচীন। ওখানে সুপারি, ধান, চালসহ বিভিন্ন কৃষিপণ্য বিক্রি হয়। বিশেষ করে তরমুজের মৌসুমে হাটটি মনোরম দৃশ্যে পরিণত হয়। হাটে দূর-দুরন্ত থেকে ব্যবসায়ীরা ট্রলার ও নৌকাভর্তি তরমুজ নিয়ে এসে বিক্রি করছেন। ব্যবসায়ীরা ওখানে নির্বিঘ্নে ব্যবসা করছেন।


আরও খবর



চকলেটের প্রলোভন দেখিয়ে শিশুকে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগ

প্রকাশিত:বৃহস্পতিবার ১২ মে ২০২২ | হালনাগাদ:বৃহস্পতিবার ১৯ মে ২০২২ | ৫৫জন দেখেছেন
নিউজ পোস্ট ডেস্ক

Image

সীতাকুণ্ড থানার ভাটিয়ারী ইউনিয়নে চকলেটের প্রলোভন দেখিয়ে সাড়ে চার বছরের শিশুকে ধর্ষণের অভিযোগে উঠেছে। বুধবার (১১ মে) বিকেলে কদমরসুল এলাকার এই ঘটনা ঘটে।

ঘটনায় পরপরই অভিযুক্ত আবদুল কুদ্দুস লিটনকে স্থানীয়রা আটক করে রাত সোয়া নয়টার দিকে সীতাকুণ্ড থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।  লিটন ভাটিয়ারী ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ডের কদমরসুল এলাকার আমিন কোম্পানির ভাড়া বাসায় করে পরিবার নিয়ে বসবাস করে।

গ্রেফতার আবদুল কুদ্দুস লিটন (৩০), নোয়াখালী জেলা সেনবাগ থানার শামসুল হকের ছেলে বলে জানা গেছে।

থানা ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, অভিযুক্ত লিটন একটি শীপ ব্রেকিং ইয়ার্ডে বাবুর্চির কাজ করে। ঈদে তার স্ত্রী গ্রামের বাড়িতে যায়। বুধবার (১১ মে) বিকেলে পাশের বাসার সাড়ে চার বছরের শিশুকে চকলেটের প্রলোভন দেখিয়ে বাসায় ডেকে নিয়ে যায়। বাসায় ধর্ষণের চেষ্টা করলে ঐ শিশুর চিৎকার শুনে আশেপাশে মানুষ ছুটে আসেন। এ সময় লিটনকে আটক করেন স্থানীয় বাসিন্দারা। 

এ বিষয়ে সীতাকুণ্ড মডেল থানার পরিদর্শক (তদন্ত) সুমন বনিক জানান, সাড়ে চার বছরের শিশুকে ধর্ষণের অভিযোগে এক যুবককে স্থানীয়রা আটক করেন। রাত সোয়া নয়টার দিকে থানায় হস্তান্তর করেন৷ এ ঘটনায় থানায় মামলা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।  


আরও খবর



পণ্য পরিবহনের চাহিদা বাড়ার আশা মায়েরস্কের

প্রকাশিত:বৃহস্পতিবার ২৮ এপ্রিল ২০২২ | হালনাগাদ:বুধবার ১৮ মে ২০২২ | ৬৮জন দেখেছেন
নিউজ পোস্ট ডেস্ক

Image

চলতি বছরের প্রথম প্রান্তিকে (জানুয়ারি-মার্চ) প্রত্যাশার চেয়েও বেশি মুনাফা পেয়েছে মায়েরস্ক। ফলে পুরো বছরের জন্যও মুনাফার পূর্বাভাস বাড়িয়েছে শিপিং গ্রুপটি। পাশাপাশি কনটেইনারে পণ্য পরিবহন চাহিদা বাড়বে বলেও আশা করছে সংস্থাটি। খবর রয়টার্স।

মহামারী শুরুর পর থেকেই ঊর্ধ্বমুখী রয়েছে পণ্য পরিবহন ব্যয়। ফলে সংস্থাটির মুনাফাও ঊর্ধ্বমুখী হয়েছে। মায়েরস্ক একটি বিবৃতিতে জানিয়েছে, শিপিং খাতে ব্যতিক্রমী বাজার পরিস্থিতির কারণে প্রথম প্রান্তিকে শক্তিশালী ফলাফল অর্জিত হয়েছে।

২০২২ সালে সুদ, কর, অবচয় পূর্ববর্তী অন্তর্নিহিত মুনাফা প্রায় ৩ হাজার কোটি ডলারে উন্নীত হওয়ার আশা করছে মায়েরস্ক। এর আগে সংস্থাটি ২ হাজার ৪০০ কোটি ডলার অন্তর্নিহিত মুনাফার পূর্বাভাস দিয়েছিল। চলতি বছরের দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতে সামুদ্রিক পণ্য পরিবহন স্থিতিশীল হবে এমন অনুমানের ওপর ভিত্তি করে এ পূর্বাভাস দেয়া হয়েছে।

নিউজ ট্যাগ: মায়েরস্ক

আরও খবর



৩২ মাস পর কারামুক্ত সম্রাট

প্রকাশিত:বুধবার ১১ মে ২০২২ | হালনাগাদ:বৃহস্পতিবার ১৯ মে ২০২২ | ৫৮জন দেখেছেন
নিউজ পোস্ট ডেস্ক

Image

অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) করা মামলাসহ মোট ৪টি মামলায় ৩২ মাস কারাভোগ করে অবশেষে জামিনে মুক্ত হয়েছেন ঢাকা মহানগর দক্ষিণ যুবলীগের বহিষ্কৃত সভাপতি ইসমাইল চৌধুরী সম্রাট।

বৃহস্পতিবার বিকাল সাড়ে ৪টায় বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রিজন সেল থেকে তাকে মুক্তি দেওয়া হয়।

ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারের (কেরানীগঞ্জ) জেলার মাহবুবুল ইসলাম গণমাধ্যমকে বলেন, কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে কারা কর্মকর্তা জামিনের কাগজ নিয়ে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে যান। সব নিয়ম-কানুন মেনে সেখানে সিসিইউতে চিকিৎসাধীন সম্রাটের পাহারায় থাকা কারারক্ষীদের সরিয়ে নেওয়া হয়। বিকাল সাড়ে ৪টার দিকে তাকে মুক্তি দেওয়া হয়।

এর আগে আজই অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগে মামলায় ঢাকার বিশেষ জজ আদালত-৬-এর বিচারক আল আসাদ মো. আসিফুজ্জামান শুনানি শেষে তার জামিন মঞ্জুর করেন।

তার আইনজীবী মাহবুবুল আলম দুলাল গণমাধ্যমকে জানান, সম্রাটের বিরুদ্ধে মোট চারটি মামলা করা হয়। অস্ত্র, মাদক ও অর্থপাচারের মামলায় ইতোমধ্যে জামিন পেয়েছেন তিনি। কারাগারে ছিলেন দুদকের মামলায়।

১৯৫ কোটি টাকা পাচারের অভিযোগে সম্রাটের বিরুদ্ধে মানিলন্ডারিং আইনে একটি মামলা করে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ-সিআইডি।সিআইডির অর্গানাইজড ক্রাইম বিভাগের উপপরিদর্শক রাশেদুর রহমান বাদী হয়ে রাজধানীর রমনা থানায় এই মামলা (মামলা নম্বর ১৪) করেন। সম্রাট তার সহযোগী এনামুল হক আরমানের মাধ্যমে ১৯৫ কোটি টাকা সিঙ্গাপুর ও মালয়েশিয়ায় পাচার করেছেন বলে মামলায় অভিযোগ আনা হয়েছে। সিআইডির সহকারী পুলিশ সুপার জিসানুল হক বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

সিআইডি কর্মকর্তারা জানান, ২০১১ সালের ২৭ ডিসেম্বর থেকে ২০১৯ সালের ৯ আগস্ট পর্যন্ত সম্রাট সিঙ্গাপুরে ৩৫ বার, মালয়েশিয়ায় তিনবার, দুবাইতে দুবার এবং হংকংয়ে একবার ভ্রমণ করেছেন। এছাড়া তার সহযোগী এনামুল হক আরমান ২০১১ সালের ১২ ডিসেম্বর থেকে ২০১৯ সালের ১৮ মে পর্যন্ত সিঙ্গাপুরে ২৩ বার ভ্রমণ করেছেন। সম্রাট ও আরমান অবৈধ অর্থ দিয়ে যৌথভাবে সিঙ্গাপুর ও মালয়েশিয়ায় ব্যবসা প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলেছেন।

৬ অক্টোবর ভোরে কুমিল্লার চৌদ্দগ্রামের আলকরা ইউনিয়নের কুঞ্জুশ্রীপুর গ্রামে আত্মগোপনে থাকা সম্রাটকে গ্রেফতার করা হয়। তার সঙ্গে আরমানকেও গ্রেফতার করা হয়। পরে ঢাকায় এনে তাদের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদও করে র‌্যাব।

৬ অক্টোবর দুপুর ১টা ৪০ মিনিটে র‌্যাবের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সারওয়ার আলমের নেতৃত্ব একটি দল কাকরাইলে ভূঁইয়া ট্রেড সেন্টারে সম্রাটের কার্যালয়ে অভিযান শুরু করে। এদিন নিজ কার্যালয়ে পশুর চামড়া রাখার দায়ে তার ছয় মাসের জেল দিয়ে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সারওয়ার আলম। এর পর সম্রাটকে কারাগারে পাঠানো হয়।


আরও খবর