Logo
শিরোনাম

এসএসসি-সমমানের পরীক্ষার ফল প্রকাশ ২৮ নভেম্বর

প্রকাশিত:সোমবার ২১ নভেম্বর ২০২২ | হালনাগাদ:রবিবার ০৪ ডিসেম্বর ২০২২ | ৫২জন দেখেছেন
নিউজ পোস্ট ডেস্ক

Image

মাধ্যমিক স্কুল সার্টিফিকেট (এসএসসি) ও সমমান পরীক্ষার ফল আগামী ২৮ নভেম্বর প্রকাশ করা হবে। ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক অধ্যাপক আবুল বাশার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

গত ১৫ সেপ্টেম্বর সারাদেশে একযোগে এসএসসি ও সমমান পরীক্ষা শুরু হয়। ১ অক্টোবর উচ্চতর গণিত (তত্ত্বীয়) পরীক্ষার মাধ্যমে এসএসসি পরীক্ষা শেষ হয়। ১০ থেকে ১৫ অক্টোবরের মধ্যে অনুষ্ঠিত হয় ব্যবহারিক পরীক্ষা।

নিউজ ট্যাগ: এসএসসি

আরও খবর



সেনাবাহিনীর বিরুদ্ধে যাচ্ছে পাকিস্তানের জনগণ

প্রকাশিত:রবিবার ০৪ ডিসেম্বর ২০২২ | হালনাগাদ:রবিবার ০৪ ডিসেম্বর ২০২২ | ১৭জন দেখেছেন
নিউজ পোস্ট ডেস্ক

Image

বিতর্কিতভাবে পাকিস্তানের সর্বোচ্চ ক্ষমতার প্রতীক সম্ভবত মালাক্কা কেইন (লাঠি)। গত ২৯ নভেম্বর আনুষ্ঠানিকভাবে জেনারেল অসিম মুনিরের হাতে ব্যাটন তুলে দিয়েছেন জেনারেল কামার জাভেদ বাজওয়া। এর ফলে ছয় বছর পর নতুন সেনাপ্রধান পেলো পাকিস্তান। জেনারেল মুনির আগে পাকিস্তানি গোয়েন্দা সংস্থা আইএসআইর প্রধান ছিলেন। এখন দেশটির সবচেয়ে শক্তিশালী প্রতিষ্ঠানের এবং পাকিস্তানি গণতন্ত্রের স্ব-নিযুক্ত পরিচালক হিসেবে কাজ করবেন।

পাকিস্তানে সেনাপ্রধানদের নিয়োগ দেন প্রধানমন্ত্রী। তবে প্রায়ই দেখা যায়, নিয়োগদাতাকে পদচ্যুত করে অনুগ্রহ ফিরিয়ে দেন সেনাপ্রধানরা। এ যাবৎ পাকিস্তানের ২২জন প্রধানমন্ত্রীর মধ্যে কেউই মেয়াদ পূরণ করতে না পারার প্রধান কারণ এটাই এবং তা বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফও ভালো করেই বোঝেন।

শাহবাজের বড় ভাই নওয়াজ শরিফ তিনবারের সাবেক প্রধানমন্ত্রী। ১৯৯৮ সালে পারভেজ মোশাররফকে সেনাপ্রধান নিযুক্ত করেন নওয়াজ। কিন্তু পরে অভ্যুত্থানের মাধ্যমে তাকেই ক্ষমতাচ্যুত করেন মোশাররফ। এরপর ২০১৬ সালে জেনারেল বাজওয়াকে সেনাপ্রধান নিয়োগ দেন নওয়াজ। এবার অভিযোগ, বাজওয়ার নির্দেশেই পাকিস্তানের সুপ্রিম কোর্ট নওয়াজকে ক্ষমতাচ্যুত ও রাজনীতি থেকে আজীবনের জন্য নিষিদ্ধ করে। জেনারেল মুনিরের কাছ থেকে শাহবাজ শরিফ যদি ভালো কিছু পান, তবে তা হতে পূর্বসূরী ইমরান খানের কারণে। বলা হয়, ইমরানকে ক্ষমতায় আসতে সাহায্য করেছিলেন জেনারেল বাজওয়া। কিন্তু সেনাবাহিনীর এ প্রিয়পাত্রই গত এপ্রিলে অনাস্থা ভোটে ক্ষমতাচ্যুত হন, যেখানে হাত ছিল সেনাপ্রধানেরই। ক্যারিশম্যাটিক নেতা ইমরান খান অভিযোগ করেছেন, জেনারেল বাজওয়া আমেরিকার সঙ্গে তার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করেছেন। এই অভিযোগ তার দলকে উপ-নির্বাচনে জিততে সাহায্য করার পর তিনি আরও এগিয়েছেন। ইমরান খানের দাবি, এক জ্যেষ্ঠ সেনা কর্মকর্তা, প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী রানা সানাউল্লাহ তাকে হত্যার চেষ্টা চালিয়েছেন। গত মাসের ওই হামলায় আহত হন পিটিআই প্রধান।

জেনারেল বাজওয়া আইএসআই প্রধানসহ অন্যান্য বড় কর্মকর্তাদের ইমরান খানের নিন্দা করার জন্য প্ররোচিত করেন। তবে এতে যদি কিছু হয়, তা হলো ইমরানের জনপ্রিয়তা বৃদ্ধি। পাকিস্তানের জেনারেলদের সবচেয়ে বড় অভ্যন্তরীণ চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠতে পারেন সাবেক এ প্রধানমন্ত্রী। পাকিস্তানি সেনাবাহিনীর প্রধান গ্যারিসন রাওয়ালপিন্ডিতে। গত সপ্তাহে সেখানে এক সমাবেশে ইমরানের ভাষণ শুনতে কয়েক হাজার মানুষ ভিড় করেছিলেন। সেদিন ইমরান খান কড়া ভাষায় বলেছিলেন, আমি আমার জীবনের চেয়ে পাকিস্তানের স্বাধীনতা নিয়ে বেশি চিন্তিত।

জেনারেল মুনির নিশ্চয়ই উদ্বিগ্ন। তবু ইমরান খানকে ব্যর্থ করার জন্য তার সর্বোত্তম আশা হলো, জেনারেল বাজওয়ার নির্দেশ- শক্ত হয়ে বসে থাকুন। পিটিআই প্রধান আগাম নির্বাচন চান এবং এর জন্য তাদের নিয়ন্ত্রণাধীন পাঞ্জাব ও খাইবার-পাখতুনখাওয়ার বিধানসভা ভেঙে দেওয়ার হুমকিও দিয়েছেন। কিন্তু পার্লামেন্ট ভেঙ্গে দেওয়ার ক্ষমতা প্রধানমন্ত্রীর হাতে। আর শাহবাজ আগামী আগস্টে মেয়াদ শেষ না হওয়া পর্যন্ত সরকারে থাকার ঘোষণা দিয়েছেন। সেনাপ্রধানেরও উচিত সেই সাংবিধানিক প্রক্রিয়াকে সমর্থন করা। তবে জেনারেল মুনিরের নিজেরও অনেক দায়িত্ব রয়েছে। পাকিস্তানি তালেবান যুদ্ধবিরতি ভঙ্গ করেছে। আফগান তালেবানদের সঙ্গেও সম্পর্ক ভালো নয়। এছাড়া মহামারির ধাক্কা, রাজনৈতিক অস্থিরতা ও বন্যায় জর্জরিত অর্থনীতি বাড়তি কোনও চাপ নিতে পারবে না।

পাকিস্তানে বর্তমানে মাত্র এক মাসের আমদানি ব্যয় মেটানোর মতো বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ রয়েছে। তাদের বন্ড মার্কেটে খেলাপি হওয়ার ঝুঁকি বেড়েছে। অতীতের সেনাপ্রধানরা হয়তো ভেবেছিলেন, এ ধরনের ভয়ানক পরিস্থিতিতে সামরিক হস্তক্ষেপের প্রয়োজন ছিল। কিন্তু জেনারেল মুনির এ ধরনের ফালতু চিন্তা বাদ দিয়ে নিজেকে আলাদা দেখাতে পারেন।


আরও খবর



সাফ জয়ী নারী ফুটবল দলকে প্রধানমন্ত্রীর সংবর্ধনা

প্রকাশিত:বুধবার ০৯ নভেম্বর ২০২২ | হালনাগাদ:রবিবার ০৪ ডিসেম্বর ২০২২ | ৬০জন দেখেছেন
নিউজ পোস্ট ডেস্ক

Image

সাফ চ্যাম্পিয়নশিপ জয়ী নারী ফুটবল দলকে সংবর্ধনা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। আজ বুধবার সকাল ১০টায় প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের শাপলা হলে এ সংবর্ধনা দেওয়া হয়।

সাফজয়ী নারী ফুটবলারদের ৫ লাখ ও প্রশিক্ষকদের দুই লাখ করে আর্থিক সম্মাননার চেক দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। উনিশ বছর পর মেয়েদের হাত ধরে ফুটবলে দক্ষিণ এশিয়ার শ্রেষ্ঠত্ব আসে বাংলাদেশে। ছাদখোলা বাসে বর্ণাঢ্য সংবর্ধনা দেয় দেশের সাধারণ মানুষ, যা দেশের ক্রীড়াঙ্গনের ইতিহাসে ছিল অনন্য নজির। রাষ্ট্রীয় কাজে তখন দেশের বাইরে ছিলেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তাই মেয়েদের সংবর্ধনা দিতে পারেননি।

তবে দেশে ফিরেই ঘোষণা আসে সংবর্ধনার। সে হিসেবে সাফজয়ীদের আর্থিক সম্মাননা ও সংবর্ধনা দেয়া হচ্ছে প্রধানমন্ত্রীর নিজ কার্যালয়ে। জানা গেছে, এদিন সাফজয়ী ২৩ ফুটবলারের সঙ্গে সময় কাটাবেন প্রধানমন্ত্রী।

এর আগে সাফ জয় করে সাবিনারা দেশে ফেরার পর প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব ইহসানুল করিম জানিয়েছিলেন, সাফজয়ী নারী ফুটবলারদের সবার ঘরের অবস্থা পরিদর্শন করে তা জানাতে সংশ্লিষ্টদের নির্দেশনা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। যাদের ঘরের অবস্থা ভালো নয়, যাদের ঘর দরকার, তাদের নতুন ঘর বানিয়ে দেবেন প্রধানমন্ত্রী। 


আরও খবর



৩ হাজার গ্রাহকের সংযোগ বিচ্ছিন্ন করছে তিতাস

প্রকাশিত:সোমবার ১৪ নভেম্বর ২০২২ | হালনাগাদ:শনিবার ০৩ ডিসেম্বর ২০২২ | ৫৬জন দেখেছেন
নিউজ পোস্ট ডেস্ক

Image

বকেয়া বিল না পেয়ে ঢাকার তিন হাজার আবাসিক গ্রাহকের সংযোগ বিচ্ছিন্ন করতে অভিযান শুরু করেছে বিতরণ সংস্থা তিতাস। সোমবার সকাল ১০টা থেকে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন এলাকায় এই অভিযান শুরু হয়েছে।

তিতাসের মেট্রো ঢাকা বিপণন ডিভিশনের (উত্তর) এক কর্মকর্তা এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

তিনি জানান, ৪২টি দলে ভাগ হয়ে এসব সংযোগ বিচ্ছিন্ন করতে অভিযান চালানো হচ্ছে। একদিনে সব সংযোগ বিচ্ছিন্ন করতে না পারলে অভিযান দ্বিতীয় দিনে গড়াবে।

তিনি আরও বলেন, বকেয়া পরিশোধ করলে আবার সংযোগ দেওয়া হবে।

জানা গেছে, ঢাকার রামপুরা ব্রিজ থেকে উত্তরা এবং কারওয়ান বাজার থেকে সাতারকুল পর্যন্ত এলাকা তিতাসের কুড়িল কার্যালয়ের আওতায় পড়েছে। এসব এলাকার প্রায় ৩ হাজার আবাসিক গ্রাহকের বিল বকেয়া রয়েছে, যা দীর্ঘদিন তাগাদা দেওয়ার পরও তারা পরিশোধ করছেন না। তাই পূর্ব ঘোষণা অনুযায়ী এসব সংযোগ বিচ্ছিন্ন করতে নেমেছে তিতাস কর্তৃপক্ষ।

প্রসঙ্গত, গ্যাস সঙ্কটের কারণে দেশে বিদ্যুৎ উৎপাদন ব্যহত হওয়ার পাশাপাশি শিল্প ও কলকারাখানা স্থবির হয়ে পড়েছে। গ্যাস সঙ্কটের মধ্যে অবৈধ গ্যাস সংযোগ ও বকেয়া নিয়েও আলোচনা হচ্ছে।


আরও খবর



সরকারি টাকায় সব ধরনের বিদেশ ভ্রমণ বন্ধ ঘোষণা

প্রকাশিত:বৃহস্পতিবার ১০ নভেম্বর ২০২২ | হালনাগাদ:শনিবার ০৩ ডিসেম্বর ২০২২ | ৫৫জন দেখেছেন
নিউজ পোস্ট ডেস্ক

Image

সরকারি টাকায় সব ধরনের বিদেশ ভ্রমণ বন্ধ ঘোষণা করেছে সরকার। সেই সঙ্গে সরকারের পরিচালন ও উন্নয়ন বাজেটের আওতায় সরকারি কর্মকর্তাদেরও সব ধরনের বিদেশ ভ্রমণ বন্ধ করা হয়েছে। আজ বুধবার অর্থ মন্ত্রণালয়ের অর্থ বিভাগ থেকে এ সংক্রান্ত আদেশে জারি করা হয়েছে।

সরকারের এ সিদ্ধান্তের কথা ঘোষণা করে আদেশে বলা হয়, বর্তমান বৈশ্বিক অর্থনৈতিক অবস্থার প্রেক্ষাপটে সরকারের পরিচালন ও উন্নয়ন বাজেটের আওতায় মন্ত্রণালয়, বিভাগ, অন্যান্য প্রতিষ্ঠান এবং সরকারের আওতাধীন অধিদপ্তর, পরিদপ্তর, দপ্তর, স্বায়ত্তশাসিত, আধা স্বায়ত্তশাসিত সংস্থা, পাবলিক সেক্টর করপোরেশন এবং রাষ্ট্রায়ত্ত কোম্পানিগুলোর সব পর্যায়ের কর্মকর্তাদের সব ধরনের বিদেশ ভ্রমণ পুনরাদেশ না দেওয়া পর্যন্ত বন্ধ থাকবে।

এ ছাড়া স্বায়ত্তশাসিত, আধা স্বায়ত্তশাসিত সংস্থা, রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন করপোরেশন এবং রাষ্ট্রায়ত্ত কোম্পানিগুলোর নিজস্ব অর্থায়নেও সব প্রকার বিদেশ ভ্রমণ বন্ধ থাকবে।

অবশ্য উচ্চশিক্ষার ক্ষেত্রে কিছুটা ছাড় দেওয়া হয়েছে আদেশে। এ বিষয়ে বলা হয়েছে, বিদেশি সরকার, প্রতিষ্ঠান, উন্নয়ন সহযোগী বা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থায়নে দেওয়া বৃত্তি বা ফেলোশিপের আওতায় স্নাতকোত্তর ও পিএইচডি কোর্সে পড়াশোনার জন্য অনুমোদন নিয়ে বিদেশ যাওয়া যাবে।

এ ছাড়া বিদেশি সরকার, প্রতিষ্ঠান, উন্নয়ন সহযোগীর আমন্ত্রণে ও সম্পূর্ণ অর্থায়নে আয়োজিত বিশেষায়িত বা পেশাগত প্রশিক্ষণ ও সেমিনারে অংশগ্রহণের জন্য বিদেশে যাওয়া যাবে।

এর আগেও গত এপ্রিল-মে মাসে দেশে ডলারসংকট দেখা দিলে মে মাসে সরকারি কর্মকর্তাদের বিদেশ ভ্রমণ সীমিত করার বিষয়ে একাধিক আদেশ জারি করেছিল সরকার।


আরও খবর



ইউরো অঞ্চলে মূল্যস্ফীতির গতি কিছুটা ধীর

প্রকাশিত:রবিবার ০৪ ডিসেম্বর ২০২২ | হালনাগাদ:রবিবার ০৪ ডিসেম্বর ২০২২ | ১৭জন দেখেছেন
নিউজ পোস্ট ডেস্ক

Image

ইউরো অঞ্চলে মূল্যস্ফীতির গতি কিছুটা ধীর হয়েছে। ইউরো মুদ্রা ব্যবহার করা দেশগুলোয় নভেম্বরে ভোক্তা মূল্য সূচক (সিপিআই) ১০ শতাংশ বেড়েছে। ১৯ দেশের অঞ্চলটিতে অক্টোবরে এ হার রেকর্ড ১০ দশমিক ৬ শতাংশে উন্নীত হয়েছিল। এক বছরেরও বেশি সময় ধরে ঊর্ধ্বমুখী থাকার পর বছরওয়ারি মূল্যস্ফীতির গতি গত মাসে কিছুটা শ্লথ হয়েছে। যদিও তা এখনো দুই অংকের ঘরে রেকর্ডের কাছাকাছি রয়ে গিয়েছে। এ পরিস্থিতি ভোক্তাদের ব্যয় সক্ষমতা কমিয়ে দিয়েছে এবং অর্থনৈতিক মন্দার ঝুঁকি বাড়িয়ে দিয়েছে।

এপির একটি প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইউক্রেনে রুশ আগ্রাসনের পর থেকেই জ্বালানি ও খাদ্যপণ্যের বাজারে অস্থিরতার কারণে ইউরো অঞ্চলের মূল্যস্ফীতি ঊর্ধ্বমুখী ছিল। তবে জ্বালানির দাম কিছুটা কমায় মূল্যস্ফীতির চাপও ধীর হয়েছে। ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) পরিসংখ্যান সংস্থা ইউরোস্ট্যাট জানিয়েছে, নভেম্বরে খাদ্য, অ্যালকোহল ও তামাকপণ্যের দাম গত বছরের একই সময়ের তুলনায় ১৩ দশমিক ৬ শতাংশ বেড়েছে। এ সময়ে জ্বালানির দাম বছরওয়ারি ৩৪ দশমিক ৯ শতাংশ বেড়েছে। যেখানে অক্টোবরে এ হার ছিল ৪১ দশমিক ৫ শতাংশ।

ইউক্রেনে রুশ আগ্রাসনের পরিপ্রেক্ষিতে জ্বালানি সরবরাহ নিয়ে অনিশ্চয়তায় ইউরোপে প্রাকৃতিক গ্যাসের দাম আকাশচুম্বী হয়েছিল। এরই মধ্যে রাশিয়া ইউরোপে গ্যাস সরবরাহে লাগাম টেনেছে। এতে ইউরোপকে তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাসের ব্যয়বহুল চালানের ওপর নির্ভর করতে হচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্র ও কাতার থেকে জাহাজে আসা এ গ্যাস অঞ্চলটির বিদ্যুৎ উৎপাদন ও ঘর গরম রাখার কাজে ব্যবহার হচ্ছে। তরলীকৃত এ গ্যাস দিয়ে অঞ্চলটি শীত মোকাবেলা করতে পারলেও সংকটে পড়েছে ইস্পাত ও সারের মতো শিল্পগুলো। উচ্চমূল্যের গ্যাস প্রতিষ্ঠানগুলোকে লোকসানের মুখে ঠেলে দিয়েছে।

বিশ্লেষকরা বলছেন, অতিরিক্ত জ্বালানি বিল এবং খাদ্যের মতো মৌলিক জিনিসগুলো আরো ব্যয়বহুল হয়ে যাওয়ায় ভোক্তাদের ব্যয় করার সক্ষমতা কমে গিয়েছে। স্বল্পমেয়াদি কেনাকাটার ক্ষেত্রে প্রাকৃতিক গ্যাসের দাম কমলেও আগামী মাসগুলোয় উচ্চ পর্যায়ে থেকে যাবে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। অর্থাৎ ব্যয়বহুল জ্বালানি ইউরো অঞ্চলের অর্থনীতিকে ক্রমাগত টেনে ধরতে পারে। ইউরোপিয়ান সেন্ট্রাল ব্যাংকের পূর্বাভাস নিয়ে এক সমীক্ষায় দেখা গিয়েছে, আগামী বছর মূল্যস্ফীতি ৫ দশমিক ৮ শতাংশ হবে। যদিও তিন মাস আগের সমীক্ষায় ৩ দশমিক ৬ শতাংশের পূর্বাভাস দেয়া হয়েছিল।

সম্প্রতি মাংস প্রক্রিয়াকরণ ও সসেজ প্রস্তুতকারকরা ফ্রান্সের পার্লামেন্টের নিম্নকক্ষের বাইরে জ্বালানির উচ্চ দাম নিয়ে প্রতিবাদ জানিয়েছে। তাদের ফেডারেশনের সভাপতি ক্রিশ্চিয়ান নোসাল বলেন, মাংস হিমায়িত করার জন্য জ্বালানির দাম ক্রমবর্ধমান রয়েছে। আমরা এ মূল্যবৃদ্ধি পরিস্থিতি মোকাবেলা করতে পারছি না। এমনিতেই জীবনযাত্রার ব্যয় ব্যাপকভাবে বেড়ে গিয়েছে এবং আমরা গুরুতর সমস্যার মধ্যে রয়েছি। আমাদের ভয় হলো, আমরা চলতি বছরের শেষে বা আগামী বছরের শুরুতে অনেক মাংস প্রক্রিয়াজাত কারখানা বন্ধ হতে দেখব। এদিকে এ পরিসংখ্যান ইঙ্গিত দিচ্ছে ইউরোপিয়ান সেন্ট্রাল ব্যাংক (ইসিবি) সুদের হার বৃদ্ধি ধীর করতে পারে। অর্থনীতি গবেষণা প্রতিষ্ঠান অক্সফোর্ড ইকোনমিকসের অর্থনীতিবিদদের মতে, ব্যাংকটি সর্বশেষ দুটি সভায় তিন-চতুর্থাংশীয় পয়েন্ট করে সুদের হার বাড়িয়েছে। তবে ১৫ ডিসেম্বরে অনুষ্ঠেয় বৈঠকে অর্ধ শতাংশীয় পয়েন্ট বাড়ানো হবে বলে আশা করা হচ্ছে। তবে তারা বলেছেন, মূল্যস্ফীতি উচ্চ পর্যায়ে রয়ে যাবে। তবে মূল্যস্ফীতি ধীর হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে মুদ্রানীতি কঠোর করার গতিও শ্লথ হবে।

সম্প্রতি ইউরোপীয় সংসদে দেয়া বক্তব্যে ইসিবির প্রেসিডেন্ট ক্রিস্টিন লাগার্ড বলেন, এমন কোনো ইঙ্গিত দেখতে পাচ্ছি না যে আমরা মূল্যস্ফীতির সর্বোচ্চ সীমায় পৌঁছে গিয়েছি এবং সময়ের সঙ্গে সঙ্গে এটি কমতে চলেছে। বরং মূল্যস্ফীতির চাপ আরো বাড়ার ঝুঁকি দেখা যাচ্ছে। এজন্য তিনি আগ্রাসীভাবে সুদের হার বাড়ানো অব্যাহত থাকার ইঙ্গিত দিয়েছিলেন।

নিউজ ট্যাগ: ইউরো অঞ্চল

আরও খবর