Logo
শিরোনাম

হেফাজতের নেতা মামুনুল হক রিসোর্টে নারীসহ আটক (ভিডিও সহ)

প্রকাশিত:শনিবার ০৩ এপ্রিল ২০২১ | হালনাগাদ:শনিবার ২১ মে ২০২২ | ৪৫৮জন দেখেছেন
নিউজ পোস্ট ডেস্ক

হেফাজতে ইসলামের কেন্দ্রীয় যুগ্ম মহাসচিব মামুনুল হককে এক নারীসহ আটক করে পুলিশে খবর দিয়েছে স্থানীয়রা। তবে ওই নারীকে নিজের স্ত্রী বলে দাবি করেছেন মামুনুল হক।

শনিবার (০৩ এপ্রিল) নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁ উপজেলার রয়েল রিসোর্টে মামুনুল হককে নারীসহ অবরুদ্ধ করেন স্থানীয়রা। বর্তমানে তিনি পুলিশের হেফাজতে রয়েছেন। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন সোনারগাঁ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি-তদন্ত) তবিদুর রহমান।

এর আগে হেফাজতে ইসলামের কেন্দ্রীয় নেতা মাওলানা মামুনুল হক ও ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় নাশকতায় অভিযুক্তদের গ্রেফতারের দাবি জানানো হয়। একই সঙ্গে আগামী রবিবারের মধ্যে তাকে গ্রেফতার করা না হলে সোমবার (৫ এপ্রিল) সকাল-সন্ধ্যা হরতাল কর্মসূচি পালনের হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়।

গত বৃহস্পতিবার রাজধানীর জাতীয় প্রেস ক্লাবে ইসলামী পিপলস পার্টি আয়োজিত ইসলামের নামে যারা রাষ্ট্রীয় সম্পদ ধ্বংস করে ইসলামের দৃষ্টিতে তাদের বিরুদ্ধে কী ব্যবস্থা নেওয়া উচিত শীর্ষক আলোচনা সভা থেকে এ ঘোষণা দেন বাংলাদেশ পিপলস পার্টির চেয়ারম্যান মাওলানা মো. ইসমাইল হোসাইন।


আরও খবর



করোনায় প্রথম মৃত্যুর ঘোষণা উ. কোরিয়ার

প্রকাশিত:শুক্রবার ১৩ মে ২০২২ | হালনাগাদ:শনিবার ২১ মে ২০২২ | ৬১জন দেখেছেন
নিউজ পোস্ট ডেস্ক

Image

কোভিড-১৯-এ আক্রান্ত হয়ে প্রথম মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করল উত্তর কোরিয়া। একই সঙ্গে দেশটির রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম জানিয়েছে, সে দেশে আরও হাজার হাজার মানুষ মধ্যে জ্বরের লক্ষণ রয়েছে। স্থানীয় সময় আজ শুক্রবার উত্তর কোরিয়ার রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম জানিয়েছে, কোভিডের ওমিক্রন ভ্যারিয়্যান্টে আক্রান্ত হওয়ার পর এক জনসহ জন্য জ্বরে আক্রান্ত হয়ে মোট ছয় জনের মৃত্যু হয়েছে।

উত্তর কোরিয়ার রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম আরও বলছে—জ্বরে আক্রান্ত এক লাখ ৮৭ হাজার ব্যক্তিকে সঙ্গনিরোধে রেখে চিকিত্সা’ করা হচ্ছে।

বিশেষজ্ঞেরা মনে করেন উত্তর কোরিয়ায় বেশ অনেক দিন ধরেই করোনাভাইরাসের উপস্থিতি রয়েছে। কিন্তু, দেশটির কর্তৃপক্ষ গতকাল বৃহস্পতিবার প্রথম বারের মতো কোভিডে আক্রান্ত রোগীর তথ্য জানায়।

উত্তর কোরিয়া বলছে দেশটির রাজধানী পিয়ংইয়ংয়ে ওমিক্রন ভ্যারিয়্যান্টের প্রাদুর্ভাব ঘটেছে, এবং সেখানে লকডাউন ঘোষণা করা হয়েছে। তবে, কত জন কোভিডে আক্রান্ত হয়েছে, সে তথ্য প্রকাশ করা হয়নি।

তবে আজ শুক্রবার একটি হালনাগাদ তথ্যে রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা কেসিএনএ জানিয়েছে যে, ওমিক্রনের প্রাদুর্ভাবটি রাজধানীর বাইরেও ছড়িয়েছে।

কেসিএনএ বলছে, এপ্রিলের শেষ দিক থেকে এক ধরনের জ্বর দেশব্যাপী বিস্ফোরকের মতো ছড়িয়ে পড়ে। এ জ্বরের কারণ শনাক্ত করা যায়নি।’

প্রায় সাড়ে তিন মানুষের মধ্য ওই জ্বরের লক্ষণ দেখা গেছে বলে কেসিএনএ’র খবরে বলা হয়েছে। তবে, জ্বরে আক্রান্তদের মধ্য কতজন কোভিড পরীক্ষায় পজিটিভ হয়েছে, তা জানায়নি রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমটি।

বিশ্লেষকেরা ধারণা করছেন উত্তর কোরিয়ার রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমের সর্বশেষ পরিসংখ্যানে এক ধরনের জ্বর’ দেশটিতে ছড়িয়ে পড়ার কথা স্বীকার করা যে ইঙ্গিত দিচ্ছে, তা হলো—খুব সম্ভবত দেশটি অভূতপূর্ব এক প্রাদুর্ভাবের কবলে পড়েছে।

বিশেষজ্ঞেরা আরও বলছেন ২৫ মিলিয়ন জনসংখ্যার দেশ উত্তর কোরিয়া অপ্রতুল টিকাদান কর্মসূচি ও দুর্বল স্বাস্থ্যসেবার কারণে স্বাস্থ্যঝুঁকিতে রয়েছে।

আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় গত বছর উত্তর কোরিয়াকে কয়েক মিলিয়ন অ্যাস্ট্রাজেনেকা কোভিড টিকা এবং চীনের তৈরি টিকা সরবরাহের প্রস্তাব দিয়েছিল। কিন্তু, উত্তর কোরিয়া সে প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করে। উলটো দেশটি দাবি করে তারা ২০২০ সালের জানুয়ারির শুরুর দিকে নিজেদের সীমান্ত বন্ধ করে দিয়ে করোনা নিয়ন্ত্রণ করেছে।

উত্তর কোরিয়ার সঙ্গে চীন ও দক্ষিণ কোরিয়ার স্থল সীমান্ত রয়েছে। চীন ও দক্ষিণ কোরিয়াকে করোনা মহামারির বিরুদ্ধে লড়তে হয়েছে। এর মধ্যে চীন বর্তমানে দেশটির বড় শহরগুলোতে লকডাউন দিয়ে ওমিক্রনের প্রকোপ ঠেকানোর চেষ্টা করে যাচ্ছে।

আজ শুক্রবার কেসিএনএ জানিয়েছে, উত্তর কোরিয়ার নেতা কিম জং-উন দেশটির একটি স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্র পরিদর্শন করেছেন এবং কোভিড-১৯-এর দেশব্যাপী ছড়িয়ে পড়ার বিষয়ে জানতে পেরেছেন।’

উত্তর কোরিয়ার বর্তমান পরিস্থিতিটিকে কেসিএনএ তাত্ক্ষণিক জনস্বাস্থ্য সংকট’ হিসেবে বর্ণনা করেছে।

কোভিড-সংক্রান্ত নতুন বিধি-বিধানের রূপরেখা তৈরির এক বৈঠকে গতকাল বৃহস্পতিবার কিমকে টেলিভিশনে মাস্ক পরা অবস্থায় দেখা গেছে। বলা হচ্ছে, প্রথম বারের মতো কিমকে মাস্ক পরতে দেখা গেল।

বৈঠকে কিম সর্বাধিক জরুরি’ ভিত্তিতে ভাইরাস নিয়ন্ত্রণে নির্দেশ দেন। কিমের নির্দেশের মধ্যে স্থানীয় লকডাউন এবং কর্মক্ষেত্রে বেশি লোক একসঙ্গে জড়ো হওয়ায় বিধিনিষেধের মতো বিষয় অন্তর্ভুক্ত রয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

উত্তর কোরিয়ার করোনার মহামারির শুরু থেকেই দাবি করে আসছে যে, তারা কোভিড মহামারি প্রতিরোধে উজ্জ্বল সাফল্য’ পেয়েছে। কিন্তু, দেশটিতে মহামারিকালজুড়ে কোভিডের সম্ভাব্য উপস্থিতির লক্ষণ দেখা গেছে। মাঝে মধ্যেই অসমর্থিত সূত্রে খবর পাওয়া যেত যে, উত্তর কোরিয়ায় করোনায় আক্রান্ত রোগী পাওয়া গেছে এবং হ্যাজমাট স্যুট পরা কর্মীদের দেখা গেছে।


আরও খবর



সুনামগঞ্জে বাড়ছে নদ-নদীর পানি

প্রকাশিত:শনিবার ১৪ মে ২০২২ | হালনাগাদ:শুক্রবার ২০ মে ২০22 | ৪৮জন দেখেছেন
নিউজ পোস্ট ডেস্ক

Image

সীমান্তের ওপার থেকে আসা পাহাড়ি ঢলে সুরমা, যাদুকাটা, রক্তি, বৌলাই কুশিয়ারা পাটলাইসহ সকল নদ-নদীর পানি বেড়েছে। গত কয়েক দিনের বৃষ্টিপাতেও ভাটির উপজেলা তাহিরপুর, বিশ্বম্ভরপুর, জামালগঞ্জ, ধর্মপাশার পানি বেড়েছে অনেক। হাওর এলাকার নদ-নদীতে মেঘালয়ের পাহাড়ি ঢল নেমে আসছে হু হু করে।

তাহিরপুর উপজেলার রতনশ্রী, গোলাবাড়ি, মান্দিয়াতা, জয়পুরসহ টাংগুয়া ও মাটিয়ান হাওর তীরবর্তী বিভিন্ন গ্রাম ঘুরে দেখা যায় পাহাড়ি ঢলের পানিতে গ্রামের ছোট ছোট খালগুলো পরিপূর্ণ।

ঢলের পানিতে ভেসে আসা পলির কারণে হাওরের পানির রঙও বদলেছে। পানিশূন্য হাওরগুলোতে বিভিন্ন স্লুইসগেট রেগুলেটর ও বাঁধের ফাঁক-ফোকর দিয়েও পানি প্রবেশ করতে দেখা গেছে।

মান্দিয়াতা গ্রামের আব্দুল জলিল বলেন, এখন হাওরে পানি ঢুকলে মাছের উৎপাদন বাড়বে। হাওরে কোনও ফসল নেই। তাই ক্ষয়ক্ষতির আশঙ্কা নেই। তবে বৃষ্টির কারণে ধান-চাল শুকাতে সমস্যা হচ্ছে।

বালিজুড়ি গ্রামের কৃষকরা জানান, আকস্মিক পাহাড়ি ঢলে তাদের বাদাম ক্ষেত তলিয়ে গেছে। দ্রুত পানি সরে গেলে তেমন ক্ষয়ক্ষতি হবে না। বিশ্বম্ভরপুর উপজেলার সলুকাবাদ ইউনিয়নের সোনাপুর রাবারড্যাম উপচে খরচার হাওরের উঁচু জমিতে পানি প্রবেশ করছে।

দোয়ারাবাজারে টানা তিন দিনের বৃষ্টিপাত ও মেঘালয় থেকে নেমে আসা আকস্মিক ঢলে উপজেলার নিম্নাঞ্চল ও লোকালয়সহ বিভিন্ন রাস্তাঘাট তলিয়ে যাওয়ায় বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে জনজীবন।

সুরমা, চেলা, মরা চেলা, চিলাই, চলতি, কালিউরি, ধূমখালি ও ছাগলচোরাসহ বিভিন্ন হাওর, খাল-বিলের পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় বন্যার আশঙ্কা করছেন উপজেলাবাসী।

সীমান্তবর্তী বাংলাবাজার, লক্ষীপুর, বগুলা, নরসিংপুর, সুরমা, দোহালিয়া, পান্ডারগাঁও, মান্নারগাঁও ও দোয়ারা সদর ইউনিয়নের বিভিন্ন রাস্তা, মাঠঘাট, আউশ জমিতেও পানি ঢুকছে। পানিবৃদ্ধি অব্যাহত থাকলে মাঠের অবশিষ্ট বোরো ফসল ও রবিশস্য উৎপাদন অনিশ্চয়তায় পড়বে বলে আশঙ্কা করছেন কৃষকরা।

মাঠ ও গোচারণ ভূমিতে পানি উঠায় গো-খাদ্য সংকটের শঙ্কায় আছেন মৎস্য খামারিরা। গত বছরেই চার দফা বন্যায় ভেসে গিয়েছিল এখানকার শতাধিক খামারের কোটি টাকার মাছ ও রেনু।

দোয়ারাবাজার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) দেবাংশু কুমার সিংহ বলেন, পানি বাড়লেও কোথাও ক্ষয়ক্ষতির খবর এখনও পাওয়া যায়নি। তবে দুর্যোগ মোকাবিলায় আমাদের প্রশাসনিক তৎপরতা থাকবে।

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা বিমল চন্দ্র সোম বলেন, সদর বিশ্বম্ভরপুর দোয়ারাবাজার উপজেলার কিছু জমিতে পানি প্রবেশের খবর পেয়েছি। সুনামগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী কর্মকর্তা মো. জহরুল ইসলাম জানান, উজানে বৃষ্টিপাতের ফলে পাহাড়ি ঢল নেমেছে। আগামী ৭২ ঘণ্টা নদ-নদীর পানি আরও বাড়তে পারে।


আরও খবর



সুপরিকল্পিত বোলিং-ব্যাটিংয়ে বাংলাদেশের সফল দিন

প্রকাশিত:সোমবার ১৬ মে ২০২২ | হালনাগাদ:শনিবার ২১ মে ২০২২ | ৩৮জন দেখেছেন
নিউজ পোস্ট ডেস্ক

Image

প্রথম ইনিংস নিয়ে বাংলাদেশ যে পরিকল্পনা এঁকেছিল সেটা ঠিকঠাক কাজে লেগেছে। শ্রীলঙ্কাকে চারশোর বেশি করতে দেয়নি মুমিনুল হকরা। এরপর ব্যাটিংয়ে এসে বেশ আত্মবিশ্বাস জুগিয়েছেন দুই ওপেনার তামিম ইকবাল ও মাহমুদুল হাসান জয়। তাদের ব্যাটে চড়ে স্বস্তির দিন শেষ করেছে স্বাগতিকরা।

আজ চট্টগ্রাম টেস্টের দ্বিতীয় দিনে ৫ ঘণ্টার মতো ব্যাটিং করে ৩৯৭ রানে থামে লঙ্কানরা। শেষ ঘণ্টায় ১৯ ওভার ব্যাটিং করে কোনো উইকেট না হারিয়ে ৭৬ রান তুলেছে স্বাগতিকরা। ৩৫ রানে অপরাজিত তামিমের সঙ্গী জয়ের সংগ্রহ ৩১। বাংলাদেশের চেয়ে প্রথম ইনিংসে ৩২১ রানে এগিয়ে দিমুথ করুনারত্নের দল।

সকালের সেশনে বাংলাদেশকে ভালোই ভুগিয়েছেন লঙ্কানদের আগের দিনের অপরাজিত দুই ব্যাটার অ্যাঞ্জেলো ম্যাথুস ও দিনেশ চান্ডিমাল। তবে এই জুটি ভাঙতে দেড় ঘণ্টা সময় লেগে যায় বাংলাদেশের। জোড়া শিকার করেন নাঈম হাসান। দ্বিতীয় সেশনের শুরুতে আবারও সাকিব আল হাসানের জোড়া আঘাত। কিন্তু এতেও থামেনি লঙ্কানরা। দাপুটে ব্যাটিংয়ে এগিয়ে নিয়েছে ইনিংসের গতি।

শুরুতে উদ্বোধনী ব্যাটার তামিম-জয়ের সাবলীল ব্যাটিংয়ে মুগ্ধ হয়েছেন সাগরিকায় আগত দর্শক সমর্থকরা। শুরুতে উদ্বোধনী ব্যাটার তামিম-জয়ের সাবলীল ব্যাটিংয়ে মুগ্ধ হয়েছেন সাগরিকায় আগত দর্শক সমর্থকরা।

শেষ সেশনের প্রথম ঘণ্টায় নাঈম আবারও জোড়া আঘাত হানেন। এবার লঙ্কানদের সবচেয়ে বড় উইকেট ম্যাথুসকে ১৯৯ রানে ফেরান তিনি। তারপরই শেষ হয় লঙ্কানদের ৩৯৭ রানের ইনিংস।

বাকি এক ঘণ্টা প্রথম ইনিংসের ব্যাটিং করে বাংলাদেশ। শুরুতে উদ্বোধনী ব্যাটার তামিম-জয়ের সাবলীল ব্যাটিংয়ে মুগ্ধ হয়েছেন সাগরিকায় আগত দর্শক সমর্থকরা। পুরো এক সেশনে লঙ্কান বোলারদের খুব একটা সুযোগ তৈরি করতে দেননি তাঁরা।

নিউজ ট্যাগ: চট্টগ্রাম টেস্ট

আরও খবর



বালির ঝড়ে বিপর্যস্ত আরব, হাসপাতালে ভর্তি কয়েক হাজার মানুষ

প্রকাশিত:শুক্রবার ২০ মে ২০22 | হালনাগাদ:শনিবার ২১ মে ২০২২ | ৩১জন দেখেছেন
নিউজ পোস্ট ডেস্ক

Image

এক হাত দূরের জিনিসও অস্পষ্ট। আকাশ লাল। বাতাসে ভাসছে বালি। শ্বাস নেওয়াও দুষ্কর। ভয়াবহ ধুলোর ঝড়ে বিপর্যস্ত পশ্চিম এশিয়া। এর মধ্যে সর্বশেষ আক্রান্ত সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াধ। বুধবার ধুলোর ঝড়ে অসুস্থ হয়ে পড়েন হাজার হাজার মানুষ। শ্বাসকষ্ট নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হন অন্তত ১২৮৫ জন। রাতারাতি বন্ধ করে দিতে হয়েছে স্কুল-কলেজ। বিশেষজ্ঞেরা বলছেন, জলবায়ু পরিবর্তনের ফল!

ব্যস্ত শহর রিয়াধ অবশ্য আজও সচল ছিল। কিন্তু রাস্তায় দৃশ্যমানতা ছিল ভয়ানক কম। তাই ট্র্যাফিকের গতি ছিল ঢিমে। কয়েকশো মিটার দূর থেকেও গগণচুম্বী বাড়িগুলো দেখার উপায় নেই। বাড়ি থেকে বেরোনোর উপায় ছিল না বাসিন্দাদের। খুব প্রয়োজন ছাড়া রাস্তায় কমই লোকজন বেরিয়েছিলেন। এক পাকিস্তানি নির্মাণকর্মী বলেন, খোলা আকাশের নীচে কাজ করতে খুব কষ্ট হচ্ছিল। প্রায় অসম্ভব। কাপড় দিয়ে ঢেকে রেখেছিলাম মুখ। তাতেও বারবার মুখ ধুতে হচ্ছিল। দেশের আবহাওয়া দফতর জানিয়েছে, পূর্ব থেকে এই বালির ঝড় ক্রমে ধেয়ে এসেছে পশ্চিমের দিকে। ইরাক, ইরান, জর্ডন আগেই ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তাদের আশঙ্কা, পুরু ধূসর বালির স্তর ক্রমশ ঢেকে ফেলবে মক্কা, মদিনাকেও।

পশ্চিম এশিয়ার বেশ কিছু দেশ এ বছর বালির ঝড়ে বিপর্যস্ত হয়েছে বারবার। মাঝ-এপ্রিল থেকে অন্তত আটটি বালুঝড়ে আক্রান্ত ইরাক। বিশেষজ্ঞেরা বলছেন, ভূমিক্ষয়, প্রবল খরা, কম বৃষ্টিপাত এই সবের জন্য এই পরিস্থিতি। আর এর পিছনে রয়েছে অবশ্য জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব। বাগদাদে শেষ বালির ঝড় উঠেছিল গত সোমবার। শ্বাসকষ্ট নিয়ে অন্তত ৪ হাজার মানুষকে হাসপাতালে ভর্তি করাতে হয়। স্কুল-কলেজ-অফিস বন্ধ করে দিতে হয় রাতারাতি। থমকে যায় বিমানবন্দরও।

ইরানেও একই পরিস্থিতি। গত কাল তারা ঘোষণা করেছে, খারাপ আবহাওয়ার জন্য সরকারি কার্যালয় বন্ধ রাখতে হচ্ছে। স্কুলগুলিও বন্ধ করা হয়েছে। তেহরান জানিয়েছে, বাতাসে প্রতি ঘন মিটারে ভাসছে ১৬৩ মাইক্রোগ্রাম বালিকণা। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (হু)-র রিপোর্ট অনুযায়ী, বাতাসে ধুলোবালির উপস্থিতির সর্বোচ্চ সীমা প্রতি ঘনমিটারে ২৫ মাইক্রোগ্রাম। অর্থাৎ সর্বোচ্চ সীমার থেকেও ৬ গুন বেশি।

কুয়েতে সোমবার বালির ঝড়ে বন্ধ করে দিতে হয় বিমান পরিষেবা। এমনকি দেশের তিনটি সমুদ্র বন্দরেও কাজকর্ম থমকে যায়। মঙ্গলবারও স্কুল-কলেজ বন্ধ ছিল এ দেশে। আজ থেকে কিছুটা স্বাভাবিক হয়েছে।

পশ্চিম এশিয়ায় বালির ঝড় অচেনা নয়। কিন্তু সাম্প্রতিক কালে তা মারাত্মক বেড়েছে। এর জন্য জলবায়ু পরিবর্তনকেই কাঠগড়ায় তুলছে বিশেষজ্ঞেরা। কিন্তু জলবায়ুর ভোলবদলের জন্য দায়ী অনিয়ন্ত্রিত ভাবে মাটি কাটা, জঙ্গল ধ্বংস করা, নদীর জলের অনিয়ন্ত্রিত ভাবে ব্যবহার, নদীর গতিপথ আটকে কৃত্রিম জলাধার তৈরি। এমন অসংখ্য কারণ।


আরও খবর



বিলুপ্ত ফসল ‘চীনা-১’ ফিরিয়ে আনছে ব্রি

প্রকাশিত:রবিবার ১৫ মে ২০২২ | হালনাগাদ:শুক্রবার ২০ মে ২০22 | ৪৯জন দেখেছেন
নিউজ পোস্ট ডেস্ক

Image

শর্করা বা কার্বোহাইড্রেট জাতীয় খাবারের চাহিদা মেটাতে নতুন ফসল উৎপাদনের উদ্যোগ নিয়েছে বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইনস্টিটিউট (ব্রি)। এরই অংশ হিসেবে ভোলায় প্রথমবারের মতো পরীক্ষামূলক আবাদ হয়েছে বিলুপ্ত বারি চীনা-১। দানা জাতীয় ফসলটি দেখতে অনেকটা ধানের মতো। দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে ৫০ বছর আগে ফসলটি আবাদ হলেও, পরে তা বিলুপ্ত হয়ে যায়। এই ফসল ফিরিয়ে আনার লক্ষ্যে ভোলায় পরীক্ষামূলকভাবে আবাদ করা হয়। পরীক্ষামূলক আবাদেই সফলতা দেখতে পেয়েছেন কৃষি বিভাগের গবেষকরা। ১৫টি পুষ্টিগুণ সমৃদ্ধ দানাদার এই খাদ্য ফসলটি প্রথম আবাদে কৃষকদেরও আগ্রহ বেড়েছে। আগামীতে ব্যাপক পরিসরে আবাদের কথা ভাবছে কৃষি বিভাগ।

ভোলা কৃষি সম্প্রসারণ বিভাগের উপ-পরিচালক কৃষিবিদ মো. হাসান ওয়ারেসুল কবির জানান, এক সময় গ্রাম-বাংলার মাঠে-ঘাটে বিস্তীর্ণ ফসলের ক্ষেতে চীনা ফসলের আবাদ করতেন কৃষকরা। পুষ্টিগুণ সমৃদ্ধ সেই ফসল তেমন জনপ্রিয়তা পায়নি। শস্যের দাম বৃদ্ধি, কৃষকদের সচেতনতার অভাব ও স্থানীয়ভাবে পরিচিতি না থাকাসহ বিভিন্ন কারণে বিলুপ্ত হয়ে যায় ফসলটি। সেই ফসল সংরক্ষণ ও ধরে রাখতে উদ্যোগ নিয়েছে ধান গবেষণা ইনস্টিটিউট। বাংলাদেশ পরমাণু কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউটের মাধ্যমে দেশের কোন জেলায় ফসলটি আবাদে উপযোগী, সেটা পরীক্ষার কার্যক্রম শুরু করেন গবেষকরা। এক পর্যায়ে ভোলা ও নোয়াখালীতে পরীক্ষামূলক ফসলটির আবাদে কৃষকদের উৎসাহী করলেও, শুধু ভোলাতেই সফলতা পেয়েছে কৃষি বিভাগ। এখানকার আবহাওয়া উপযোগী থাকায় এ বছরের শুরুর দিকে পরীক্ষামূলক আবাদ করা হয়।

ভোলার তজুমদ্দিন উপজেলার চাঁদপুর ইউনিয়নের গোলকপুর ও কালাশা গ্রামে ১০ শতাংশ জমিতে  চীনা শস্যের চাষাবাদ হয়েছে। ফলনও হয়েছে বাম্পার। এতে চাষিরা খুশি। চাঁপুর ইউনিয়নের কালাশা গ্রামের চাষি খোরশেদ বলেন, এর আগে বহু ধরনের ধান ও বিভিন্ন ফসলের আবাদ করেছি। এই প্রথম ছয় শতাংশ জমিতে চীনা ফসল আবাদ করি। উপজেলা কৃষি অফিস আমাকে বীজ, সার, ওষুধ ও প্রশিক্ষণ দিয়ে সহযোগিতা করেছে। অল্প পরিশ্রমে ভালো ফলন হয়েছে। হোলকপুর গ্রামের চাষি আবুল কালাম বলেন, এবার চার শতাংশ জমিতে চীনা ফসলের আবাদ করেছি। ফলন অনেক ভালো হয়েছে। কোনও রোগ বা পোকামাকড়ের আক্রমণ হয়নি। আগামীতে আরও বেশি জমিতে আবাদ করবো।

কৃষি বাতায়নের তথ্য অনুযায়ী, পানি জমে না এমন বেলে দোআঁশ মাটি বারি চীনা-১ চাষের জন্য উপযোগী। বপনের সময় মধ্য-কার্তিক থেকে পৌষ মাস (নভেম্বর থেকে মধ্য জানুয়ারি)। বীজ ছিটিয়ে ও সারিতে, উভয় পদ্ধতিতেই বোনা যায়। ছিটিয়ে বুনলে হেক্টরপ্রতি ২০ কেজি এবং সারিতে বুনলে ১৮ কেজি বীজের প্রয়োজন হয়। সারিতে চারা গজানোর পর ৬-৮ সেমি দূরত্বে একটি করে চারা রেখে বাকি চারা তুলে ফেলতে হবে। চীনার এই জাতে সাধারণত রোগবালাই কম। পোকার আক্রমণ দেখা দিলে আক্রমণের ব্যাপকতা বুঝে কার্বোফুরান ৫ জি (তারপোকার ক্ষেত্রে) জাতীয় দানাদার কীটনাশক (ফুরাডান, ব্রিফার ইত্যাদি) হেক্টরপ্রতি ১৮ কেজি হারে বীজ বপনের সময় প্রয়োগ করতে হবে। কাটুই পোকার জন্য প্রতি লিটার পানির সাথে ৫ মিলি ক্লোরোপাইরিফস ২০ ইসি জাতীয় কীটনাশক মিশিয়ে চারাগাছগুলোর গোড়ায় মাটি ভিজিয়ে ভালোভাবে স্প্রে করে পোকা দমন করা যাবে।

সাধারণত প্রতি হেক্টরে আউশ ধান উৎপাদন হয় তিন মেট্রিক টন। তথ্য বাতায়ন বলছে, বারি চীনা-১ জাতের এই শস্যেরও একই রকম ফলন হবে। তবে আউশ ধানের জীবনকাল সাধারণত ১২০ দিন। বারি চীনা-১ জাতের ফসলের জীবনকাল সম্পর্কে কোনও তথ্য এখনও জানায়নি ব্রি।

বাংলাদেশ পরমাণু কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউটের (বরিশাল অঞ্চল) বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড. ছয়েমা খাতুন বলেন, অধিক পুষ্টিগুণ সমৃদ্ধ চীনা ফসলটি আগে আবাদ হলেও, তা বিলুপ্ত হয়ে গিয়েছিল। এটি ভাতের পাশাপাশি পায়েস হিসেবে বেশ সুস্বাদু। আমরা এ বছর বিলুপ্তপ্রায় ফসলটি আবাদে সফলতা পেয়েছি। আগামীতে সারাদেশে এর আবাদ করার পরিকল্পণা নেওয়া হয়েছে। এর মাধ্যমে খাদ্য উৎপাদন হবে অন্যদিকে পাশাপাশি পুষ্টির চাহিদাও পূরণ হবে।


আরও খবর