Logo
শিরোনাম

ই-কমার্সের প্রতারণা কমাতে জনস্বার্থে প্রচারণার পরামর্শ

প্রকাশিত:রবিবার ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২১ | হালনাগাদ:শুক্রবার ২৯ অক্টোবর ২০২১ | ৮০জন দেখেছেন
নিউজ পোস্ট ডেস্ক

Image

ই-কমার্স প্রতিষ্ঠানগুলোতে ব্যবসার নামে গ্রাহকরা যেভাবে প্রতারিত হচ্ছেন, সে জন্য গ্রাহকদের লোভ কমাতে জনস্বার্থে প্রচারণা চালানোর পরামর্শ দিয়েছেন হাইকোর্ট। ফোনালাপে আড়িপাতা নিয়ে রিট শুনানির সময় রবিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) বিচারপতি এম. ইনায়েতুর রহিম ও বিচারপতি মুস্তাফিজুর রহমানের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ এ পরামর্শ দেন।

আদালতে রিটের পক্ষে শুনানি করেন আইনজীবী শিশির মনির। রাষ্ট্রপক্ষে শুনানি করেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল বিপুল বাগমার। শুনানির এক পর্যায়ে আদালত আইনজীবী শিশির মনিরের কাছে জানতে চান, ই-কমার্স ব্যবসার বিষয়ে কিছু বলুন। এ সম্পর্কে একটা ধারণা দিন।

তখন আইনজীবী শিশির মনির বলেন, আমাদের দেশে ই-কর্মাস ব্যবসার নামে অনেক বেশি ফ্রি অফার থাকে। যা বিদেশি প্রতিষ্ঠান আলী বাবা, অ্যামাজনে থাকে না। আমাদের দেশের গ্রাহকরা অতি লোভে পড়ে প্রতারণার শিকার হন।

এ সময় আদালত বলেন, হ্যাঁ। আমরাতো দেখি, একটা কিনলে আরেকটা ফ্রি। বিমানের টিকিট কিনলে হোটেল ফ্রি। এ জন্যই গ্রাহকদের লোভ কমাতে জনস্বার্থে প্রচারণা চালান।

পরে হাইকোর্ট ফোনালাপে আড়িপাতা বন্ধ চেয়ে দায়ের করা রিটের আদেশের জন্য আগামী ২৯ সেপ্টেম্বর দিন নির্ধারণ করেন।

নিউজ ট্যাগ: হাইকোর্ট

আরও খবর



পেছালো খালেদার নাইকো দুর্নীতি মামলার অভিযোগ গঠন শুনানি

প্রকাশিত:মঙ্গলবার ০৫ অক্টোবর ২০২১ | হালনাগাদ:মঙ্গলবার ২৬ অক্টোবর ২০২১ | ৬৮জন দেখেছেন
নিউজ পোস্ট ডেস্ক

Image
২০০৮ সালের ৫ মে এ মামলায় খালেদা জিয়াসহ ১১ জনের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র (চার্জশিট) দাখিল করেন দুদকের সহকারী পরিচালক এস এম সাহেদুর রহমান

বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে নাইকো দুর্নীতি মামলার অভিযোগ গঠন শুনানি পিছিয়েছে। পরবর্তী শুনানির জন্য আগামী ৪ নভেম্বর দিন ধার্য করেছেন আদালত। মঙ্গলবার (৫ অক্টোবর) মামলাটির অভিযোগ গঠনের জন্য শুনানির দিন ধার্য ছিল। কিন্তু খালেদা জিয়ার আইনজীবীরা অভিযোগ গঠন শুনানি পেছানোর আবেদন করেন। পরে ঢাকার ৯ নম্বর (অস্থায়ী) বিশেষ জজ আদালতের ভারপ্রাপ্ত বিচারক নজরুল ইসলাম আবেদন মঞ্জুর করে শুনানির নতুন এ দিন ধার্য করেন।

খালেদা জিয়ার আইনজীবী হান্নান ভূঁইয়া এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

২০০৭ সালের ৯ ডিসেম্বর সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সময়ে খালেদা জিয়াসহ পাঁচজনের বিরুদ্ধে দুদকের সহকারী পরিচালক মুহাম্মদ মাহবুবুল আলম তেজগাঁও থানায় মামলাটি দায়ের করেন।

২০০৮ সালের ৫ মে এ মামলায় খালেদা জিয়াসহ ১১ জনের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র (চার্জশিট) দাখিল করেন দুদকের সহকারী পরিচালক এস এম সাহেদুর রহমান। এতে তাদের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রের প্রায় ১৩ হাজার ৭৭৭ কোটি টাকা আর্থিক ক্ষতির অভিযোগ আনা হয়।

মামলার অন্য আসামিরা হলেন- বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ (মারা গেছেন), সাবেক জ্বালানি প্রতিমন্ত্রী এ কে এম মোশাররফ হোসেন (মারা গেছেন), তৎকালীন প্রধানমন্ত্রীর মুখ্যসচিব কামাল উদ্দিন সিদ্দিকী, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ মন্ত্রণালয়ের সাবেক ভারপ্রাপ্ত সচিব খন্দকার শহীদুল ইসলাম, সাবেক সিনিয়র সহকারী সচিব সিএম ইউছুফ হোসাইন, বাপেক্সের সাবেক মহাব্যবস্থাপক মীর ময়নুল হক, বাপেক্সের সাবেক সচিব মো. শফিউর রহমান, ব্যবসায়ী গিয়াস উদ্দিন আল মামুন, বাগেরহাটের সাবেক সংসদ সদস্য এম এ এইচ সেলিম এবং নাইকোর দক্ষিণ এশিয়াবিষয়ক ভাইস প্রেসিডেন্ট কাশেম শরীফ।

নিউজ ট্যাগ: খালেদা জিয়া

আরও খবর



আজ থেকে বিজয়ীর নাম ঘোষণা শুরু

প্রকাশিত:সোমবার ০৪ অক্টোবর ২০২১ | হালনাগাদ:বৃহস্পতিবার ২৮ অক্টোবর ২০২১ | ৯৪জন দেখেছেন
নিউজ পোস্ট ডেস্ক

Image
ড্যান স্মিথ বলেন, ‘শান্তিতে নোবেল দেওয়ার ক্ষেত্রে শান্তি স্থাপনকারী ও মধ্যস্থতাকারীদের প্রাধান্য দেওয়া হয়

প্রতিবছরের অক্টোবরের প্রথম সোমবার নোবেল বিজয়ীদের নাম ঘোষণা শুরু হয়। সেই হিসাবে আজ সোমবার শুরু হচ্ছে এবারের নোবেল বিজয়ীদের নাম ঘোষণার পালা। প্রথম দিন ঘোষণা করা হবে চিকিৎসাশাস্ত্রে নোবেল বিজয়ীর নাম।

পরের সোমবার অর্থনীতিতে নোবেল বিজয়ীর নাম ঘোষণার মধ্য দিয়ে শেষ হবে চলতি বছরের মোট ছয়টি শাখায় নোবেল বিজয়ীদের নাম ঘোষণা। এবার শান্তিতে সম্ভাব্য নোবেল বিজয়ী হিসেবে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিউএইচও) নাম জোরেশোরে শোনা যাচ্ছে।

এবারের নোবেল আয়োজন নিয়ে শনিবার একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএন। এতে বলা হয়েছে, করোনা মহামারির লাগাম টানতে সম্মুখসারির বৈশ্বিক প্রতিষ্ঠান হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখায় ডব্লিউএইচও এবার শান্তিতে নোবেল পেতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। বিশেষত করোনা নিয়ন্ত্রণে বিশ্বজুড়ে পরিচালিত টিকাদান প্রকল্প কোভ্যাক্স সফলভাবে পরিচালনা করায় সংস্থাটির নোবেল জয়ের সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে। জাতিসংঘের এ সংস্থা ১৯৪৮ সালে যাত্রা করলেও এখনো নোবেল পুরস্কার জেতেনি।

তবে ডব্লিউএইচওর নোবেল জয়ের সম্ভাবনা নিয়ে সমালোচনা রয়েছে। স্টকহোম ইন্টারন্যাশনাল পিস রিসার্চ ইনস্টিটিউটের পরিচালক ড্যান স্মিথ সিএনএনকে বলেন, ডব্লিউএইচওর ভূমিকা নিয়ে বিতর্ক রয়েছে। সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সংস্থাটিকে চীনঘেঁষা মন্তব্য করে এতে অর্থ জোগান দেওয়া বন্ধ করে দিয়েছিলেন। তাই ডব্লিউএইচও শান্তিতে নোবেল পেলে অনেকেই অবাক হবেন।’

এদিকে চলতি বছর শান্তিতে নোবেল বিজয়ী হিসেবে নিউজিল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী জেসিন্ডা আরডার্নের নাম জোরেশোরে শোনা যাচ্ছে। জোরালো গুঞ্জন রয়েছে রাশিয়ার বিরোধী নেতা অ্যালেক্সি নাভালনি ও সুইডেনের তরুণ জলবায়ুকর্মী গ্রেটা থুনবার্গকে নিয়েও। এবার শান্তিতে নোবেল জয়ের জন্য ৩২৯টি মনোনয়ন দিয়েছে নরওয়েজিয়ান নোবেল কমিটি। এর মধ্যে ২৩৪ ব্যক্তি ও ৯৫ প্রতিষ্ঠানের নাম রয়েছে। তবে কমিটির নিয়ম মেনে এসব নাম গোপন রাখা হয়েছে। বিজয়ীর নাম ঘোষণার অন্তত ৫০ বছরের মধ্যে মনোনয়ন পাওয়া ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের নাম জানার সুযোগ নেই।

ড্যান স্মিথ বলেন, শান্তিতে নোবেল দেওয়ার ক্ষেত্রে শান্তি স্থাপনকারী ও মধ্যস্থতাকারীদের প্রাধান্য দেওয়া হয়। তবে করোনার কারণে এবার শান্তি স্থাপনের বদলে মানবাধিকার, গণমাধ্যমের স্বাধীনতা ও জলবায়ু সুরক্ষায় ভূমিকা রাখা ব্যক্তি-প্রতিষ্ঠান গুরুত্ব পেতে পারে।’

আগামী শুক্রবার চলতি বছরের শান্তিতে নোবেল বিজয়ীর নাম ঘোষণা করা হবে। ডিসেম্বরে বিজয়ীর হাতে তুলে দেওয়া হবে পুরস্কারের পদক, সনদ ও অর্থ। তবে করোনা মহামারির কারণে এবার বিজয়ীরা নিজ নিজ দেশে বসেই পুরস্কার গ্রহণ করবেন। গত বছর শান্তিতে নোবেল জিতেছিল জাতিসংঘের বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচি (ডব্লিউএফপি)। ২০১৯ সালে বিশ্বের ৮৮টি দেশের প্রায় ১০০ মিলিয়ন মানুষের মুখে খাবার জোগানোয় নোবেল পুরস্কার পায় সংস্থাটি।

সুইডেনের ব্যবসায়ী আলফ্রেড নোবেলের নামে ও তাঁর রেখে যাওয়া অর্থে ১৯০১ সাল থেকে নোবেল পুরস্কার দেওয়া শুরু হয়। প্রতিবছর চিকিৎসা, পদার্থ, রসায়ন, সাহিত্য, শান্তি ও অর্থনীতি—এ ছয় শাখায় নোবেল দেওয়া হয়।


আরও খবর



লিবিয়ায় অভিবাসীবিরোধী ব্যাপক অভিযান, আটক ৪০০০

প্রকাশিত:রবিবার ০৩ অক্টোবর ২০২১ | হালনাগাদ:মঙ্গলবার ২৬ অক্টোবর ২০২১ | ৮৩জন দেখেছেন
নিউজ পোস্ট ডেস্ক

Image

লিবিয়ায় অভিবাসী বিরোধী অভিযানে চার হাজার অভিবাসীকে আটক করা হয়েছে। আটককৃতদের মধ্যে শত শত নারী ও শিশুও রয়েছেন। লিবিয়ার কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে শনিবার এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানিয়েছে আলজাজিরা।

স্থানীয় সময় শুক্রবার লিবিয়ার পশ্চিমাঞ্চলীয় গারগারেশ শহরে অভিবাসী-বিরোধী ব্যাপক এই অভিযান পরিচালনা করা হয়। লিবীয় কর্তৃপক্ষের দাবি, নথিপত্রহীন অভিবাসন এবং মাদক পাচার প্রতিরোধ করতেই এই অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে।

অভিবাসী-বিরোধী এই অভিযানের নেতৃত্ব দেয় লিবিয়ার স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। তবে অভিযান চালিয়ে কোনো মানব পাচারকারী অথবা চোরাচালানকারীকে আটক করা হয়েছে বলে কোনো তথ্য সামনে আনেনি মন্ত্রণালয়টি।

লিবিয়ার রাজধানী ত্রিপোলি থেকে মাত্র ১২ কিলোমিটার পশ্চিমে অবস্থিত গারগারেশ শহরটি মূলত অভিবাসী ও শরণার্থীদের আশ্রয়স্থল। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে সেখানে অভিবাসী-বিরোধী বেশ কয়েকটি অভিযান পরিচালনা হতে দেখা গেছে। কিন্তু সর্বশেষ এই অভিযানকে সবচেয়ে সবচেয়ে কঠোরতম বলে বর্ণনা করেছেন মানবাধিকার কর্মীরা।


আরও খবর



ই-কমার্সে ক্ষতিগ্রস্ত গ্রাহকদের দায় নেবে না সরকার: বাণিজ্যমন্ত্রী

প্রকাশিত:শুক্রবার ০৮ অক্টোবর ২০২১ | হালনাগাদ:সোমবার ২৫ অক্টোবর ২০২১ | ৮৪জন দেখেছেন
নিউজ পোস্ট ডেস্ক

Image

ই-কমার্সে ক্ষতিগ্রস্ত গ্রাহকদের দায় ভার সরকার নেবে না জানিয়েছেন বাণিজ্যমন্ত্রী বীর মুক্তিযোদ্ধা টিপু মুনশি।

শুক্রবার (৮ অক্টোবর) বিকেলে রংপুর নগরীতে ডায়মন্ড ওয়ার্ল্ড নামে একটি বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানের উদ্বোধন শেষে সাংবাদিকদের সাথে মতবিনিময়কালে এ কথা বলেন।

মন্ত্রী আরও বলেন, দেশে অন্তত ২০ হাজার ই-কমার্স প্রতিষ্ঠান রয়েছে। এর সাথে অনেকেই জড়িত। গ্রাহকরা কম মূল্যে পণ্য কিনতে গিয়ে ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছেন। তারা কমে পণ্য কিনতে তো সরকারকে জানায়নি। তাদের (গ্রাহকদের) ক্ষতির দায় সরকার নেবে কেন? তবে যেসব ই-কমার্স প্রতিষ্ঠানের অনিয়ম দুর্নীতি রয়েছে, তাদের বিরুদ্ধে কাজ করছে সরকার।

তিনি বলেন, সরকার চায় ই-কমার্স ব্যবসা ভালো করুক। এখন পর্যন্ত ১০-১২ টা প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে অনিয়ম দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে। তাদের বিরুদ্ধে তদন্ত করা হচ্ছে বলে জানান টিপু মুনশি।

পিঁয়াজের মূল্য বৃদ্ধি প্রসঙ্গে বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, ভারতে বৃষ্টির কারণে পেঁয়াজের দাম বেড়েছে। সেই দেশে দাম বাড়ায় আমাদের দেশেও পেঁয়াজের দাম বেড়েছে। ভারতে দাম কমলে এখানেও কমে আসবে। তবে বাজার মনিটরিং করা হচ্ছে। এছাড়া বিশ্ব বাজারে চিনির বেশি হওয়ায় দেশে এর প্রভাব পড়েছে।

এসময় আরও উপস্থিত ছিলেন- এফবিসিসিআই এর ভাইস প্রেসিডেন্ট মোস্তফা আজাদ চৌধুরী বাবু, রংপুর মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার মোহাম্মদ আবদুল আলীম মাহমুদ, রংপুর চেম্বার অব কমার্সের প্রেসিডেন্ট মোস্তফা সোহরাব চৌধুরী টিটু, জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি মমতাজ উদ্দিন আহমেদ, মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি সাফিয়ার রহমান সফি।


আরও খবর



দেশে ছড়িয়ে পড়ছে ভয়ংকর আইস

প্রকাশিত:মঙ্গলবার ২৬ অক্টোবর ২০২১ | হালনাগাদ:বৃহস্পতিবার ২৮ অক্টোবর ২০২১ | ২১জন দেখেছেন
নিউজ পোস্ট ডেস্ক

Image

আইস। ইংরেজি শব্দ। অর্থ বরফ। এই আইস দেখতে বরফের মতো হলেও আসলে বরফ নয়। এটি এখন মাদকের সর্বশেষ সংস্করণ। এক ভয়ংকর মাদকের নাম আইস। আবার এর পরিচিতি রয়েছে ভিন্ন ভিন্ন নামে। অভিজাত শ্রেণির কাছে স্কোর, কেউ বলেন, স্টাফ। কারও কাছে আবার সাদা নামে পরিচিত। তবে গোপন যোগাযোগের সময় অনেকেই ডাকেন বরফ নামে। স্বাদ, গন্ধ ও বর্ণহীন বলে বহির্বিশ্বে পরিচিত ক্রিস্টাল মেথ হিসাবে।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, মাদক হিসাবে আইসের ভয়াবহতা শিউরে ওঠার মতো। এটি ইয়াবার চেয়ে শতগুণ শক্তিশালী। আইসের জালে একবার জড়ালে একমাত্র মৃত্যুই হতে পারে মুক্তির উপায়। কারণ একবার আইসসেবনে অন্তত ৩০টি ইয়াবাসেবনের চাইতেও বেশি ক্ষতি হয়। এ কারণে আইসে আসক্ত হওয়ার মাত্র ছয় মাসের মধ্যে ব্যক্তির কেন্দ্রীয় নার্ভ সিস্টেম পুরোপুরি ধ্বংস হয়ে যায়।

শতগুণ ভয়ংকর: বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ইয়াবা ও আইসের মূল উপাদান একই। মিথাইল অ্যামফিটামিন বা মেথা অ্যামফিটামিন। বড় আকারের একটি ইয়াবায় অ্যামফিটামিনের সর্বোচ্চ মাত্রা ৫ থেকে ১৫ শতাংশ। কিন্তু আইসে অ্যামফিটামিন থাকে ৯৬ শতাংশ বা তারও বেশি।

মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের রাসায়নিক পরীক্ষাগারের প্রধান ড. দুলাল কৃষ্ণ সাহা বলেন, মিথাইল অ্যামফিটামিন একধরনের স্টিমুলেটিং এজেন্ট। এটি মানবদেহের কেন্দ্রীয় নার্ভ সিস্টেমকে ক্ষণিকের জন্য আন্দোলিত করে তোলে। ফলে সেবনকারী প্রফুল্লতা অনুভব করেন। চারপাশের সবকিছু তার কাছে রঙিন মনে হয়। কিন্তু নেশার ঘোর কেটে গেলে শুরু হয় প্রতিক্রিয়া। মাদকাসক্ত ব্যক্তি ক্রমশ বিমর্ষ হয়ে পড়েন। গায়ের রং ফ্যাকাশে হয়ে যায়। ঘুমের ব্যাঘাত ঘটে। টানা কয়েক মাস আইসসেবনের ফলে হার্ট, কিডনি, ফুসফুস ড্যামেজ হয়ে যায়। তখন কেবলই মৃত্যুর হাতছানি।

জেনেশুনে বিষপান: আইস ব্যয়বহুল নেশা। এক গ্রাম আইসের বাজারমূল্য ১৫ হাজার থেকে ২৫ হাজার টাকা। ফলে স্বাভাবিকভাবে আইসের ব্যবহার হচ্ছে ধনাঢ্য শ্রেণির মধ্যে। এখন পর্যন্ত আইস-সংশ্লিষ্টতায় যাদের গ্রেফতার করা হয়েছে, তাদের প্রায় সবাই কোটিপতির সন্তান। কেউ কেউ নামকরা প্রতিষ্ঠান থেকে শিক্ষাজীবন শেষ করেও নাম লিখেয়েছেন নেশার জগতে।

সূত্র বলছে, গত বছর ৬ আগস্ট রাজধানীর মোহাম্মদপুর থেকে গ্রেফতার হন আফিফ আফতাব খান সুহৃদ নামের এক ধনাঢ্য যুবক। অভিজানের সময় সৃহৃদ কথা বলছিলেন ইংরেজিতে। পরে খোঁজ নিয়ে জানা যায়, তিনি উচ্চতর ডিগ্রিধারী। স্ত্রীও উচ্চশিক্ষিত এবং রাজধানীর একটি নামকরা কলেজের অধ্যাপক। বাবা ছিলেন জেলা রেজিস্ট্রার। পরিবারের অন্য সদস্যদের সবাই উচ্চপদস্থ সরকারি কর্মকর্তা। দুই ভগ্নীপতির একজন জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের সদস্য এবং অপরজন একটি সরকারি মেডিকেল কলেজের অধ্যক্ষ। ঢাকায় একাধিক বাড়ি এবং ফ্ল্যাট ছাড়াও তাদের পরিবারের রয়েছে অঢেল সম্পদ। সুহৃদ ছাড়াও আইসসহ গ্রেফতার হন বাড্ডার হোসেন মার্কেটের মালিকের ছেলে রহিত। তিনি মালয়েশিয়া থেকে উচ্চতর ডিগ্রিধারী। ধানমন্ডি থেকে গ্রেফতার হন বহুজাতিক প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা ইভান।

ঢাকায় আইস ছড়িয়ে পড়ার একেবারে শুরুর দিকে একাধিক অভিযানে নেতৃত্ব দেন মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক মেহেদী হাসান। তিনি বলেন, আইস হচ্ছে পার্টি ড্রাগ। এটি সব সময় কয়েকজন মিলে গ্রুপে সেবন করা হয়। ফলে হাই সোসাইটির পার্টি সংস্কৃতির মধ্যে আইস সহজেই ঢুকে পড়ছে। তিনি আরও বলেন, আইস সেবনে বেশি পরিমাণে এনার্জি পাওয়ার কথা বলা হচ্ছে। এছাড়া বিদেশি সিনেমা ও সিরিয়াল দেখেও অনেকে আইসের মতো ভয়াবহ নেশার জগতে পা বাড়াচ্ছে। বিশেষ করে ব্রেকিং ব্যাড নামের একটি বিদেশি সিরিয়াল দেখে আইসসেবনে প্রলুব্ধ হচ্ছে অনেকে।

অ্যাপস গ্রুপে কেনাবেচা: সূত্র বলছে, আইস পার্টি অনুষ্ঠিত হয় কঠোর গোপনীয়তায়। বিশেষ লিংক ছাড়া আইস পার্টিতে অংশ নেওয়ার সুযোগ নেই। অর্থাৎ বন্ধুর পরিচিত বন্ধু এবং তার বন্ধু-এভাবে বাছাই করা লোক নিয়ে আসর বসে। গোপনীয়তা বজায় রাখতে পার্টির স্থান, টাইম প্রভৃতি সম্পর্কে কথাবার্তা হয় অ্যাপচ্যাট নামের বিশেষ অ্যাপে। এতে যোগাযোগ সংক্রান্ত তথ্য স্বয়ংক্রিয়ভাবে মুছে যায়। ফলে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর হাতে কেউ গ্রেফতার হলেও চক্রের অন্য সদস্যদের সম্পর্কে তথ্য পাওয়া যায় না।

সূত্র বলছে, রাজধানীতে আইস চক্রে জড়িত সন্দেহে অন্তত ৩০ জনকে চিহ্নিত করা হয়েছে। এর বেশির ভাগই ধনাঢ্য পরিবারের সন্তান। কেউ কেউ আছেন শোবিজ জগতের গ্ল্যামার গার্ল। এর মধ্যে গুলশান এলাকায় আইসের প্রধান ডিলার হিসাবে জাবির খান নামের এক ধনাঢ্য যুবককে গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে। মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিপ্তরের গুলশান সার্কেলের পরিদর্শক সামসুল কবির যুগান্তরকে বলেন, জাবির খানকে ধরতে পারলে রাজধানীর আইস নেটওয়ার্ক সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া যাবে। তাকে ধরতে ইতোমধ্যে কয়েক দফা অভিযান চালানো হয়েছে। কিন্তু বর্তমানে তিনি পলাতক। তবে অচিরেই তিনি ধরা পড়বেন।

সূত্র বলছে, প্রযুক্তির সহায়তায় কথোপকথনের সূত্র ধরে রাজধানীতে আইস চক্রের সদস্য হিসাবে চিহ্নিত করা হয়েছে ইয়াসির, রাসেল ও উর্মিলা নামের এক তরুণীকে। এছাড়া গুলশানের আইস পার্টিতে নিয়মিত যাতায়াত রয়েছে এমন বেশ কয়েকজন তরুণীর ওপর নজরদারি চালানো হচ্ছে। এদের মধ্যে আজমিন সারিকা, পুনম, ম্যাকরনা আলম, আমান এশা ও ইডেন ডি সিলভা অন্যতম। আইস পার্টির গডফাদারের ভূমিকায় আছেন গুলশানের বাসিন্দা জায়েদ। এছাড়া রাজধানীর উত্তরা এলাকায় প্রাইভেট আইস পার্টির আয়োজক হিসাবে নারকোটিক্সের নজরদারিতে আছেন এক শ্রীলংকান তরুণী। অন্তত ৬ মাস তাকে নজরদারিতে রাখা হয়েছে। জান্নাত ওরফে ইমু নামে এক বিশ্ববিদ্যালয়ছাত্রীর মাধ্যমে আইস নেটওয়ার্ক চালাচ্ছেন তিনি।

লুফে নিচ্ছে ইয়াবার বাজার: দিনদিন আইসের বিস্তার বাড়ছে। ইতোমধ্যে কয়েকটি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়কে আইসপ্রবণ প্রতিষ্ঠান হিসাবে চিহ্নিত করা হয়েছে। আইস ছড়াচ্ছে ইংরেজি মাধ্যমের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানেও। বনানী এলাকার কয়েকটি সিসা লাউঞ্জ আইস পার্টির পিকআপ পয়েন্ট হয়ে উঠেছে। বিশেষ করে বনানীর আল গিসিনো, ঢাকা ক্যাফে, টিজিএস এবং কিউডিএস সিসা লাউঞ্জে আড্ডা শেষে আইস পার্টিতে যোগ দিচ্ছেন অনেকে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা বলছেন, দেশে ব্যবহৃত মাদকের ৪৫ শতাংশ ইয়াবার দখলে। বাকিটা হেরোইন, ফেনসিডিল, গাঁজা, মদসহ বিভিন্ন নেশা উপকরণ। তবে ধীরে ধীরে ইয়াবার বাজার চলে যাচ্ছে আইসের দখলে। এক বছরের মধ্যে হয়তো ইয়াবার বাজার পুরোটাই আইসের দখলে চলে যাবে বলে সংশ্লিষ্টদের ধারণা।

বর্তমানে আইসের বিস্তার বাড়ছে। একপর্যায়ে হয়তো ইয়াবার বাজার পুরোটাই আইসের দখলে চলে যাবে। এজন্য এখনই আমাদের সর্বোচ্চ সতর্ক হতে হবে। আইসের ক্রমবর্ধমান বিস্তার প্রসঙ্গে জানতে চাইলে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের বিভাগীয় গোয়েন্দা কার্যালয়ের (ঢাকা) সহকারী পরিচালক রিফাত হোসেন বলেন, মাদকের জগতে নেশাগ্রস্তরা নিত্যনতুন মাদকের সন্ধান করে। কারণ একটি মাদক নিতে নিতে দেহে সহনশীলতা তৈরি হয়। তখন পুরোনো মাদকে নেশা হয় না। এ কারণে আগে যারা দীর্ঘদিন ইয়াবা নিতেন, এখন তাদের অনেকেই আইসের দিকে ঝুঁকছেন। এছাড়া ধানাঢ্য শ্রেণির অনেকেই ক্রেজ সৃষ্টির জন্য আইসের দিকে ঝুঁকছে। অভিজাত শ্রেণির কেউ কেউ আবার বিকৃত রুচি থেকেও জড়িয়ে পড়ছেন আইসের নেশায়।

নিউজ ট্যাগ: মাদক আইস আইস

আরও খবর