
ইউক্রেনে যুদ্ধ চলতে থাকায় খাদ্য দুর্লভ হয়ে পড়েছে। এর ফলে মানুষজনকে খাদ্যের সন্ধানে চরম পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হচ্ছে বলে জানিয়েছে বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচী (ডব্লিউএফপি)। শিশুদের মুখে খাবার তুলে দিতে না বড়রা না খেয়ে থাকছেন বলেও জানিয়েছে সংস্থাটি।
সম্প্রতি নিজেদের ওয়েবসাইটে ডব্লিউএফপি জানিয়েছে, ৪ কোটি ৪০ লক্ষ জনসংখ্যার দেশ ইউক্রেনে খাদ্য শেষ হয়ে যাচ্ছে। দেশটির ৪৫% মানুষই যথেষ্ট খাদ্যের সন্ধান পাওয়ার বিষয়ে দুশ্চিন্তার মধ্যে রয়েছেন। দেশটির খাদ্য সরবরাহ ব্যবস্থাটিকে ত্রুটিপূর্ণ আখ্যায়িত করে ডব্লিউএফপি মুখপাত্র টমসন ফিরি বলেন যে, দেশটির অভ্যন্তরে আটকে থাকা কোটি কোটি মানুষের কাছে খাদ্য পৌঁছানোর ব্যবস্থাটি ভেঙে পড়ছে।
তিনি বলেন, ডব্লিউএফপির হিসেব অনুযায়ী, ইউক্রেনে প্রতি ৫ জনে ১ জন মানুষ বর্তমানে খাদ্য সংকট সামাল দিতে কোন না কোন কৌশল অবলম্বন করছেন। একটি মরিয়া পরিস্থিতির সৃষ্টি হচ্ছে। এমন পরিস্থিতি চরম পদক্ষেপের দাবি রাখে। তারা তাদের খাদ্য গ্রহণের মাত্রা কমিয়ে দিচ্ছেন। তারা দিনে আহারের সংখ্যা কমিয়ে দিচ্ছেন। পূর্ণবয়স্ক মানুষজন নিজেরা খাচ্ছেন না, যাতে করে শিশুদের পেটে দেওয়ার জন্য কিছু থাকে। সুপারমার্কেটগুলো খাদ্যশুন্য হয়ে পড়েছে এবং গুদামগুলোতেও খাদ্যের মজুদ শেষ হযে গিয়েছে। যুদ্ধরত এলাকাগুলোতে অবস্থিত পরিবারগুলো খাবার খুঁজে পেতে আরও বেশি মুশকিলে রয়েছে। বিশেষ করে ইউক্রেনের পূর্বাঞ্চলের মারিউপোল শহরটিতে, যেটিকে প্রায় মাটিতে মিশিয়ে দেয়া হয়েছে।
তিনি বলেন, 'ইউক্রেনে অবস্থিত পরিবারগুলোর কাছে জীবনরক্ষাকারী সহায়তা সরবরাহ করার ক্ষেত্রে, সংঘাতপূর্ণ এলাকাগুলোতে প্রবেশের সীমাবদ্ধতা এবং সেখানে সরেজমিনে উপস্থিত মানবিক সহযোগীদের অভাব সবচেয়ে বড় বাধা হয়ে দাড়িয়েছে। অবরুদ্ধ মারিউপোল শহরটিতে তাদের খাদ্য ও পানির সবশেষ মজুদটিও শেষ হয়ে যাচ্ছে। ২৪ ফেব্রুয়ারিতে শহরটি অবরোধ করার পর থেকে সেখানে কোন মানবিক সহায়তা ঢুকতে দেওয়া হয়নি।'
ফিরি জানান যে, ইউক্রেনের অভ্যন্তরে ৩০ লক্ষ মানুষের এক মাসের জন্য যথেষ্ট পরিমাণ খাদ্য সরবরাহ করেছে ডব্লিউএফপি। কয়েকটি প্রধান শহরে লড়াইয়ের তীব্রতা বৃদ্ধির আশঙ্কায় সংস্থাটি দেশটির একাধিক স্থানে খাদ্য মজুদ করছে।

