Logo
শিরোনাম

‘জনগণের কষ্ট সত্ত্বেও সরকার নিরুপায় হয়ে বিদ্যুতের দাম বৃদ্ধি করেছে’

প্রকাশিত:শনিবার ২১ জানুয়ারী ২০২৩ | হালনাগাদ:শুক্রবার ২৭ জানুয়ারী ২০২৩ | ৪২জন দেখেছেন
নিউজ পোস্ট ডেস্ক

Image

আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেছেন, নির্বাচনে জনগণ বার বার প্রত্যাখ্যান করায় বিএনপি এখন হত্যা-ক্যু-ষড়যন্ত্রের মাধ্যমে অসাংবিধানিক উপায়ে ক্ষমতা দখলে মরিয়া হয়ে উঠেছে। আজ শনিবার এক বিবৃতিতে তিনি এসব কথা বলেন।

বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরসহ বিএনপি নেতৃবৃন্দের উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ও দুরভিসন্ধিমূলক বক্তব্যের নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাতে এই বিবৃতি দেন তিনি।

সরকার পালানোর পথ পাবে না’— মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের এমন বক্তব্যের প্রতিবাদে ওবায়দুল কাদের বলেন, যে দলের নেতৃত্ব মুচলেকা দিয়ে রাজনীতিকে চিরবিদায় জানিয়ে দেশ ত্যাগ করে, আদালত কর্তৃক দণ্ডপ্রাপ্ত ও পলাতক আসামি হিসেবে বিদেশে পালিয়ে বেড়ায়, সেই দলের নেতাদের মুখে এ ধরনের বক্তব্য শোভা পায় না।

তিনি বলেন, মিলিয়ন মিলিয়ন ডলার ব্যয়ে লবিস্ট ফার্ম নিয়োগ করে বিদেশি প্রভুদের কাছে গিয়ে দেশের বিরুদ্ধে কুৎসা রটাচ্ছে, মিথ্যা ও বানোয়াট তথ্য দিয়ে দেশের জনগণের বিরুদ্ধে "স্যাংশন" আরোপের ক্রমাগত ষড়যন্ত্র করছে বিএনপি।

আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক বলেন, বিএনপির দুর্নীতিবাজ নেতৃত্ব বিদেশে বসে রিমোট কন্ট্রোলের মাধ্যমে দল চালায়, নেতাকর্মীদের নাশকতার উস্কানি দেয়। কিন্তু বিশ্ববাসী ও দেশের জনগণের কাছে গুজব রটনাকারীদের ষড়যন্ত্র আজ ধরা পড়েছে, সত্য উদঘাটিত হয়েছে। তাই বিএনপি নেতৃবৃন্দ দিশেহারা।

তিনি বলেন, বঙ্গবন্ধুর খুনি-যুদ্ধাপরাধীদের পৃষ্ঠপোষক বিএনপি-জামাত দেশের মানুষের কোনো মঙ্গল চায় না। তাই দেশের গণতন্ত্র উন্নয়ন-অগ্রগতি তাদের চোখে পড়ে না। অথচ আইএমএফের ডেপুটি ম্যানেজিং ডিরেক্টর আন্তইনেত মনসিও সায়েহ বাংলাদেশের মানুষের জীবনমান উন্নয়ন ও দারিদ্র্য বিমোচনে সফলতার কথা উল্লেখ করে গত এক দশকেরও বেশি সময় ধরে শেখ হাসিনা সরকারের নেতৃত্বে বাংলাদেশের অর্থনৈতিক অগ্রগতি ও সামাজিক উন্নয়নের ভূয়সী প্রশংসা করেন।

সেতুমন্ত্রী বলেন, ইউরোপে যুদ্ধের কারণে সারা বিশ্বের তেল ও গ্যাসের সরবরাহ ব্যবস্থা ভেঙে পড়েছে। এ কারণে বিশ্ব জুড়ে তেল ও গ্যাসের দাম বৃদ্ধি পেয়েছে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে বিদ্যুতের দাম বৃদ্ধি পেয়েছে পৌনে ৩ গুণ। আর যুক্তরাজ্যে বৃদ্ধি পেয়েছে পৌনে ৬ গুণ। বাংলাদেশ সরকার বিদ্যুৎ উৎপাদন গড়ে ইউনিট প্রতি ৩ টাকা ভর্তুকি প্রদান করেছে। পিডিবি বছরে ৪০ হাজার কোটি টাকা ভর্তুকি প্রদান করছে। জনগণের কষ্ট হওয়া সত্ত্বেও সরকার নিরুপায় হয়ে বিদ্যুতের দাম বৃদ্ধি করেছে।

তিনি বলেন, আমরা বিএনপির কাছ থেকে রাজনৈতিক দল হিসেবে দায়িত্বশীল আচরণ প্রত্যাশা করি। রাজনৈতিক ফয়দা লোটার জন্য সরকারের বিরুদ্ধে মিথ্যা অপপ্রচার ও গুজব না ছড়িয়ে তাদের আসন্ন নির্বাচনের জন্য প্রস্তুতি নেওয়ার আহ্বান জানাই। সাংবিধানিক পন্থায় একমাত্র নির্বাচনের মাধ্যমেই রাষ্ট্র ক্ষমতা পরিবর্তন হতে পারে।


আরও খবর



হাসপাতালের লিফট ছিঁড়ে আহত ৭

প্রকাশিত:শনিবার ০৭ জানুয়ারী ২০২৩ | হালনাগাদ:সোমবার ২৩ জানুয়ারী 20২৩ | ৫৮জন দেখেছেন
নিউজ পোস্ট ডেস্ক

Image

মানিকগঞ্জ সেন্ট্রাল স্পেশালাইজড হাসপাতালের লিফট ছিঁড়ে নারীসহ আহত হয়েছেন সাতজন। এদের মধ্যে গুরুতর আহত হয়ে তিনজন ওই হাসপাতালে ভর্তি থাকলেও বাকিরা প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়ে বাড়ি চলে গেছেন।

শুক্রবার দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে মানিকগঞ্জ বাসস্ট্যান্ড এলাকার পৌর সুপার মার্কেটে এ দুর্ঘটনাটি ঘটেছে।

গুরুতর আহতরা হলেন- মানিকগঞ্জ সদর উপজেলার পালরা গ্রামের মনোরা বেগম (৬৫), বেতিলা গ্রামের জহিরুল ইসলাম (২৫) ও সাটুরিয়া উপজেলার দিঘুলিয়া গ্রামের আয়েশা (২১)।

আহত জহিরুল ইসলাম ইসলাম বলেন, ডাক্তার দেখানোর জন্য আমি একজন রোগী নিয়ে আজ দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে পৌর মার্কেটে মানিকগঞ্জ সেন্ট্রাল স্পেশালাইজড হাসপাতালে আসি। নিচ তালা থেকে আমরা ৭-৮ জন লোক ৩য় তলায় যাওয়ার জন্য লিফটে উঠি। ৩য় তলায় যাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে লিফট ছিঁড়ে নিচে পড়ে যাই। আমরা নিচ তালায় পড়ে যাই। এতে করে কমবেশি সবাই আহত হই।

মানিকগঞ্জ সেন্ট্রাল স্পেশালাইজড হাসপাতালের ম্যানেজার মো. বাবুল আক্তার খান জানান, এই লিফট আমরা সময় মতোই সার্ভিসিং করি। কিন্তু কেন এমন হলো তা টেকনিশিয়ান না আসলে বোঝা যাবে না। এই দুর্ঘটনায় যারা আহত হয়েছেন সবাইকে আমরা চিকিৎসা দিয়েছি।

মানিকগঞ্জ সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুর রউফ সরকার জানান, খবর পেয়ে পুলিশ পাঠানো হয় এবং খোঁজখবর নেওয়া হয়। তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।


আরও খবর

দৌলতদিয়া-পাটুরিয়া নৌরুটে ফেরি চলাচল বন্ধ

বৃহস্পতিবার ২৯ ডিসেম্বর ২০২২




বিশ্বের সবচেয়ে ভয়ংকর দ্বীপ

প্রকাশিত:সোমবার ০২ জানুয়ারী 2০২3 | হালনাগাদ:শনিবার ২১ জানুয়ারী ২০২৩ | ৬৪জন দেখেছেন
নিউজ পোস্ট ডেস্ক

Image

পৃথিবীতে এমন অনেক জায়গা আছে যার রহস্য হাজার বছর পেরিয়ে গেলেও সমাধান হয়নি। এমনই একটি দ্বীপ রয়েছে যেখানে যাওয়ার পর কোনও মানুষ জীবিত ফিরে আসে না। ইতালির এই দ্বীপের নাম পোভেগ্লিয়া দ্বীপ। ৫৪ বছর ধরে পুরোপুরি বন্ধ বিশ্বের সবচেয়ে ভয়ংকর দ্বীপ। ১৯৩০ সাল পর্যন্ত এখানে একটি হাসপাতাল ছিল। কিন্তু তখন এর পরিচালক একটি উঁচু টাওয়ার থেকে লাফ দিয়ে আত্মহত্যা করেন। এরপর দ্বীপ নিয়ে নানান কথা বেরিয়ে আসতে থাকে, তারপর তা পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যায়।

কথিত আছে, মৃত্যু দ্বীপটি একসময় তার সৌন্দর্যের জন্য বিখ্যাত ছিল। যদিও আজ এই দ্বীপটি জনশূন্য অবস্থায় পড়ে আছে। এই দ্বীপের নাম পোভেগ্লিয়া। ইতালির দুটি শহর ভেনিস এবং লিডোর মধ্যে অবস্থিত। মনে করা হয়, ১৪ শতকে এখানে প্লেগের কারণে প্রায় ১ লাখ ৬০ হাজার মানুষ প্রাণ হারিয়েছিল। এখানে অনেক মৃত্যু হয়েছে, কারণ ব্ল্যাক ডেথের সন্দেহভাজন লোকদের ভেনিসে প্রবেশের আগে এখানে আলাদা করে রাখা হয়েছিল।

১৯২২ সালে, দ্বীপের ভবনগুলো মানসিক রোগে আক্রান্ত ব্যক্তিদের আশ্রয়ের জন্য রাখা হয়েছিল। সেখানে চিকিৎসকরা রোগীদের পরীক্ষা-নিরীক্ষা করতেন বলে গুঞ্জন রয়েছে। এরপর বেশ কয়েকজন চিকিৎসক মারা যান। ধ্বংসপ্রাপ্ত ভবনগুলোর চারপাশে এখনো ডাক্তারের অপারেশনের যন্ত্রাংশগুলো ছড়িয়ে-ছিটিয়ে রয়েছে। এর পর এখানে একটি নার্সিংহোম চালু হয়। কিন্তু ১৯৬৮ সালে তা পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যায়।

গত ৫৪ বছর ধরে, পোভেগ্লিয়া দ্বীপ এবং এখানে উপস্থিত হাসপাতালটি সম্পূর্ণভাবে বন্ধ রয়েছে। এখানকার ভবনগুলো ক্ষয়িষ্ণু ও পচে গেছে। ২০১৫ সালে, দ্বীপটি পুনর্নির্মাণের চেষ্টা করা হয়েছিল। পোভেগ্লিয়া দ্বীপে একটি বিলাসবহুল রিসোর্ট নির্মাণের কথা বলা হয়েছিল। বলা হয়েছিল যে ব্যবসায়ী লুইজি ব্রুগনারো এই জায়গাটির উন্নয়নে আগ্রহী। কিন্তু তারপর চুক্তি অসম্পূর্ণ থেকে যায়। পোভেগ্লিয়া দ্বীপ এখনও নির্জন এবং ভীতিকর।

আরবান এক্সপ্লোরারদের ম্যাট নাদিন এবং অ্যান্ডি থম্পসন পোভেগ্লিয়া দ্বীপে একটি ভিডিওও তৈরি করেছেন। তিনি ২০২০ সালের অক্টোবরে ইউটিউবে পোস্ট করেছিলেন। ভিডিওতে তিনি সেখানকার বর্তমান অবস্থা দেখিয়েছেন। তিনি বলেছিলেন, এই দ্বীপটি খুবই ভয়ংকর।


আরও খবর



রাজধানীতে মাদকবিরোধী অভিযান, গ্রেপ্তার ৪১

প্রকাশিত:বুধবার ১১ জানুয়ারী ২০২৩ | হালনাগাদ:বৃহস্পতিবার ২৬ জানুয়ারী ২০২৩ | ৩১জন দেখেছেন
নিউজ পোস্ট ডেস্ক

Image

রাজধানীতে মাদকবিরোধী অভিযানে ৪১ জনকে গ্রেপ্তার করেছে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি)। বুধবার (১১ জানুয়ারি) সকালে ডিএমপির মিডিয়া অ্যান্ড পাবলিক রিলেশন্স বিভাগ থেকে এ তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে।

ডিএমপি জানায়, নিয়মিত মাদকবিরোধী অভিযানের অংশ হিসেবে মঙ্গলবার ভোর ৬টা থেকে বুধবার ভোর ৬টা পর্যন্ত রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়।

এ সময় গ্রেপ্তারকৃতদের কাছ থেকে ২২ হাজার ৭২৪ পিস ইয়াবা, ১১১ গ্রাম হেরোইন, ১৭৩ বোতল ফেন্সিডিল ও ৭ কেজি ৯৭০ গ্রাম গাঁজা জব্দ করা হয়।

গ্রেপ্তারকৃতদের বিরুদ্ধে সংশ্লিষ্ট থানায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে ৩২টি মামলা দায়ের করা হয়েছে।


আরও খবর

রাজধানীতে মাদকবিরোধী অভিযানে আটক ৭০

শুক্রবার ২৭ জানুয়ারী ২০২৩

শুক্রবার রাজধানীর যেসব মার্কেট বন্ধ

শুক্রবার ২৭ জানুয়ারী ২০২৩




দিন দিন বাড়ছে শিশুদের কিডনি রোগ

প্রকাশিত:শনিবার ১৪ জানুয়ারী ২০২৩ | হালনাগাদ:বুধবার ২৫ জানুয়ারী ২০২৩ | ৪৫জন দেখেছেন
নিউজ পোস্ট ডেস্ক

Image

ডা. আবু সাঈদ শিমুল

শিশুদের কিডনির সমস্যা হলে সেই শিশুর তো ক্ষতি হয়ই, সঙ্গে সঙ্গে পুরো পরিবারেই নেমে আসে উদ্বেগ আর হতাশা। সবচেয়ে উদ্বেগের কথা হলো, শিশুদের মধ্যে কিডনি রোগ দিন দিন বাড়ছেই। কিন্তু দেরিতে রোগ নির্ণয়ের ফলে অনেক বাচ্চাই এমন সময় চিকিৎসকের কাছে যায়, যখন আর করার কিছু থাকে না। শিশুদের কিডনি রোগের একটা অংশ জন্মগত। এসব ক্ষেত্রে গর্ভাবস্থায় মায়েদের সচেতন হতে হবে। আবার জন্মের পরও বিভিন্ন রোগে কিডনি বিকল হতে পারে। এই ক্ষেত্রেও সামান্য সাবধান হলে শত শত শিশুকে বাঁচানো সম্ভব।

শিশুদের কিডনি রোগের কারণ: বিভিন্ন ধরনের ঝুঁকির কারণ রয়েছে। যেমন: একিউট কিডনি ইনজুরি বা হঠাৎ কিডনি বিকল। সাধারণত বাংলাদেশে যেই কারণে এই কিডনি ইনজুরি হয় সেগুলো হলো ডায়রিয়া, বমি, অপরিচ্ছন্নতা, মা শিশুকে বুকের দুধ না খাওয়ানো। এ ছাড়া বিভিন্ন ধরনের ওষুধ, হারবাল ওষুধ চিকিৎসকের চিকিৎসাপত্র ছাড়া ব্যবহার করা। অনেক সময় বিনা কারণে এক্স-রে করলে এক্স-রের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ার কারণেও কিডনি বিকল হওয়ার আশঙ্কা থাকে। বিভিন্ন ধরনের সংক্রমণের জন্য কিডনি বিকল হয়ে যেতে পারে। তবে সবচেয়ে বেশি প্রচলিত হলো ডায়রিয়া ও বমি। এর কারণেও কিডনি বিকল হতে পারে। শিশু যদি ক্রনিক কিডনি ডিজিজ বা সিকেডিতে আক্রান্ত হয়, কিডনি পুরোপুরি অক্ষম হয়, ডায়ালাইসিস বা কিডনি প্রতিস্থাপনের প্রয়োজন হয়, তবে চিন্তার কিছু নেই। দেশেই এখন কিডনি রোগের সুচিকিৎসা সম্ভব। এ ছাড়া নিয়মিত ফলোআপ, রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণ, সঠিক খাদ্যাভ্যাস, শারীরিক চর্চা ইত্যাদির মাধ্যমে দীর্ঘদিন সুস্থভাবে বেঁচে থাকা সম্ভব।

শিশুর কিডনি রোগের লক্ষণ: ঘন ঘন প্রস্রাব করা, প্রস্রাবে ইনফেকশন হওয়া, ফোঁটা ফোঁটা প্রস্রাব করা, বিছানায় প্রস্রাব করা (৬ বছরের অধিক বয়সে), প্রস্রাবের সঙ্গে রক্ত যাওয়া, প্রস্রাবের সময় তলপেট/কোমর ব্যথা করা, শরীরে পানি আসা/ফুলে যাওয়া, প্রস্রাব কমে যাওয়া, কিডনিতে পানি জমা হওয়া, কিডনি ছোট-বড় হওয়া, উচ্চরক্তচাপ দেখা দেয়া, কিডনিতে জন্মগত ত্রুটি থাকা।  এসব লক্ষণ দেখা গেলে, পরিবারের কারও কিডনি রোগ থাকলে, শিশু সময়ের আগে জন্মগ্রহণ করলে, জন্মের পর শিশুর ওজন স্বাভাবিকের তুলনায় কম হলে দেরি না করে অবশ্যই বিশেষজ্ঞের শরণাপন্ন হতে হবে।

রোগ নির্ণয়: শিশুদের কিডনি রোগ শনাক্ত এবং যথাযথ চিকিৎসার জন্য একজন দক্ষ শিশু কিডনি রোগ বিশেষজ্ঞ বা পেডিয়াট্রিক নেফ্রোলজিস্টের পরামর্শ প্রয়োজন। অভিজ্ঞ পেডিয়াট্রিক নেফ্রোলজিস্টের নির্দেশনা অনুযায়ী রক্ত, প্রস্রাব এবং আলট্রাসাউন্ড পরীক্ষার মাধ্যমে কিডনি রোগ নির্ণয় করা সম্ভব।

চিকিৎসা: কিডনি রোগের চিকিৎসা নির্ভর করে তা কোন পর্যায়ে আছে বা কী কারণে হয়েছে। সুতরাং এ ক্ষেত্রে দ্রুত রোগ নির্ণয় একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। জন্মগত কিডনি রোগের চিকিৎসায় কিছু ক্ষেত্রে অপারেশন প্রয়োজন হয়। তবে এদের মধ্যে বেশির ভাগ শিশুই বারবার প্রস্রাবের সংক্রমণের ঝুঁকিতে থাকে। তাই তাদের ক্ষেত্রে লম্বা সময় ধরে অ্যান্টিবায়োটিক ওষুধ খেতে হয়।

ডায়রিয়াজনিত কারণে কিডনি সমস্যা হলে, প্রয়োজনমতো পানিশূন্যতা এবং রক্তের লবণের তারতম্য ঠিক করা হয়। ক্রনিক কিডনি ফেইলিউর প্রাথমিক অবস্থায় ধরা পড়লে ওষুধের সাহায্যে এবং জীবনযাত্রা পরিবর্তন বা নিয়ন্ত্রণ করে বেশ উপকার পাওয়া যায়। তবে শেষ পর্যায়ে ধরা পড়লে ডায়ালাইসিস ও কিডনি ট্রান্সপ্ল্যান্টের প্রয়োজন হয়।

শিশুর জ্বর, ডায়রিয়া ও কিডনি রোগ: জ্বর হলে শিশুরা খেতে চায় না । এ সময় তারা বুকের দুধ, পানি কিংবা তরলও কম খায় । এ বিষয়টিকে অনেক মা-বাবা গুরুত্ব দেন না। এর ফলে তাৎক্ষণিক কিডনি অকেজো বা একিউট কিডনি ইনজুরি হয়ে যেতে পারে। তাই শিশুর যেকোনো অসুস্থতায় প্রচুর তরল খাওয়াতে হবে। পানি বা বুকের দুধ খাওয়াতে পারলে খুব ভালো হয়, কিন্তু তা খাওয়ানো না গেলে ছয় মাসের বেশি বয়সী শিশুদের বাসায় তৈরি জুস, শরবত ইত্যাদি খাওয়াতে উচিত। ডায়রিয়ায় সঠিকভাবে স্যালাইন বানাতে হবে। আধা লিটার পানিতে এক প্যাকেট ওরস্যালাইন- এটাই হলো খাওয়ার স্যালাইন বানানোর একমাত্র পদ্ধতি। শিশুর বয়স কম কিংবা অন্য যুক্তিতে স্যালাইন বা পানির পরিমাণ কমবেশি করা যাবে না।

শিশুদের কিডনি রোগ প্রতিরোধে করণীয়: শিশুদের কৃত্রিম জুস ও প্রিজারভেটিভ মিশ্রিত ও টিনজাত খাবার দেয়া যাবে না। কারণ এতে কিডনি বিকল হতে পারে।

আমেরিকান একাডেমি অব পেডিয়েট্রিকসের গাইডলাইন অনুযায়ী কোনো শিশু তিন বছর বয়সের পর যখনই ডাক্তারের কাছে যাবে, তখনই প্রেশার মাপাবে। শিশুদের প্রেশার বাড়ার অন্যতম প্রধান কারণ কিন্তু উচ্চরক্তচাপ। তাই শিশুদের প্রেশার বা রক্তচাপ বেশি হলেই কিডনি সুস্থ আছে কি না পরীক্ষা করে তা দেখতে হবে। শিশুর প্রস্রাবের সঙ্গে ব্যথাযুক্ত বা ব্যথাহীনভাবে রক্ত গেলে কিংবা এলবুমিন নামক প্রোটিন গেলে সঙ্গে সঙ্গে শিশু কিডনি রোগ বিশেষজ্ঞের সাহায্য নিতে হবে। মাতৃগর্ভে থাকার সময় মায়ের যে আলট্রাসনোগ্রাম করা হয়, তা দিয়েই প্রাথমিকভাবে শিশুর কিডনির জন্মগত রোগ আছে কি না, তা দেখা যায়। তাই আলট্রাসনোগ্রাম পরীক্ষার সময় চিকিৎসককে শিশুর কিডনি পরীক্ষার কথাও জানান। এ জন্য জন্মগত ত্রুটি নির্ণয় করতে পারে এমন অভিজ্ঞ বিশেষজ্ঞ দিয়েই পরীক্ষা করানো উচিত। শিশুর জন্মের পরেই লক্ষ করুন, ছেলেশিশুর পুরুষাঙ্গ স্বাভাবিক আছে কি না, শিশুর মূত্রনালির বহির্মুখটি সঠিক স্থলে আছে কি না, ছেলেশিশুদের ক্ষেত্রে তার অণ্ডকোষ দুটি স্বাভাবিক অবস্থানে আছে কি না ইত্যাদি। না থাকলে বা কোনো সন্দেহ হলে অবশ্যই ডাক্তার দিয়ে পরীক্ষা করান।

শিশু যাতে পর্যাপ্ত পানি পান করে, সে বিষয়টি নিশ্চিত করুন। যেমন- স্কুলে টিফিনের সঙ্গে যথেষ্ট পরিমাণ পানি দিন। কোথাও বেড়াতে গেলে সঙ্গে পর্যাপ্ত পানি রাখুন। এ ছাড়া যেকোনো জ্বর কিংবা ডায়রিয়ায় শিশু যেন পর্যাপ্ত পানি খায়, সেটা নিশ্চিত করতে হবে।  শিশুদের শরীরে খোসপাঁচড়া ও গলাব্যথা হলে তা অবহেলা না করে দ্রুত চিকিৎসা নেয়া উচিত। কারণ এ দুটি রোগ থেকে কিডনি অকার্যকর হতে পারে, যা প্রাথমিক পর্যায়ে নিরাময় ও জটিলতা প্রতিরোধ সম্ভব। অপ্রয়োজনীয় ওষুধ ও চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া কোনো ওষুধ, বিশেষ করে ব্যথানাশক ওষুধ সেবন থেকে বিরত থাকা। শিশুর প্রস্রাব কমে গেলে বা শরীর ফুলে গেলে দ্রুত শিশু কিডনি বিশেষজ্ঞের কাছে যেতে হবে।

ওপরের নিয়মগুলো মেনে চললে এবং সময়মতো চিকিৎসকের কাছে গেলে কিডনি রোগ থেকে আমাদের শিশুরা অনেকটা রক্ষা পাবে।

লেখক: শিশু বিশেষজ্ঞ, মুগদা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল

নিউজ ট্যাগ: কিডনি রোগ

আরও খবর

৮ ডেঙ্গুরোগী হাসপাতালে ভর্তি

বৃহস্পতিবার ২৬ জানুয়ারী ২০২৩




পুলিশের ১৭ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাকে বদলি

প্রকাশিত:বুধবার ২৮ ডিসেম্বর ২০২২ | হালনাগাদ:বৃহস্পতিবার ২৬ জানুয়ারী ২০২৩ | ৫৬জন দেখেছেন
নিউজ পোস্ট ডেস্ক

Image

পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (এডিসি) পদমর্যাদার ১৪ জন ও সহকারী পুলিশ সুপার (এএসপি) পদমর্যাদার ৩ জনসহ মোট ১৭ কর্মকর্তাকে বিভিন্ন ইউনিটে বদলি করা হয়েছে।

বুধবার পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) চৌধুরী আবদুল্লাহ আল-মামুন স্বাক্ষরিত প্রজ্ঞাপনে এ বদলি করা হয়।

পদায়নকৃত পুলিশ কর্মকর্তাগণের নামের তালিকা দেখতে ক্লিক করুন- পাতা-১পাতা-২


আরও খবর