
খালাস চেয়ে হাইকোর্টে
আপিল করেছেন পুলিশের বরখাস্ত উপ-মহাপরিদর্শক (ডিআইজি) মিজানুর রহমান। সোমবার (৪ এপ্রিল)
দুদকের জ্যেষ্ঠ আইনজীবী মো. খুরশীদ আলম খান এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
তিনি জানান, ৩
বছরের কারাদণ্ডের রায়ের বিরুদ্ধে খালাস চেয়ে আপিল করেছেন মিজানুর রহমান। আপিল আবেদনের
অনুলিপি হাতে পেয়েছি। বিচারপতি মো. মোস্তাফিজুর রহমানের একক হাইকোর্ট বেঞ্চে এ বিষয়ে
শুনানি হতে পারে।
মামলার বিবরণী
থেকে জানা গেছে, ডিআইজি মিজানের বিরুদ্ধে পরিচালিত দুর্নীতির অনুসন্ধান থেকে দায়মুক্তি
পেতে দুদক পরিচালক বাছিরকে ৪০ লাখ টাকা ঘুষ দিয়েছিলেন ডিআইজি মিজান। ঘুষ লেনদেন সংক্রান্ত
কথোপকথন রেকর্ড করে তা একটি টেলিভিশন চ্যানেলকে দিয়েছিলেন তিনি। এছাড়া তিনি এ বিষয়ে
গণমাধ্যমেও সাক্ষাৎকার দেন। অবৈধ সম্পদ অর্জনের মামলা থেকে বাঁচতে ওই অর্থ ঘুষ দেন
বলে দাবি করেন মিজান।
সেই প্রতিবেদন
প্রচারিত হওয়ার পর দুদক সংস্থার সচিব মুহাম্মদ দিলোয়ার বখতকে প্রধান করে তিন সদস্যের
উচ্চ পর্যায়ের তদন্ত কমিটি গঠন করে। কমিটি ২০১৯ সালের ১০ জুন প্রতিবেদন জমা দেয়। প্রতিবেদন
পর্যালোচনা করে পরিচালক বাছিরকে দুদকের তথ্য অবৈধভাবে পাচার, চাকরির শৃঙ্খলা ভঙ্গ ও
সর্বোপরি অসদাচরণের অভিযোগে সাময়িকভাবে বরখাস্ত করে কমিশন।
উল্লেখ্য, দুর্নীতির
অনুসন্ধান থেকে মুক্তি পেতে দুদক পরিচালক বাছিরকে ৪০ লাখ টাকা ঘুষ দেওয়ার অভিযোগ ওঠে
মিজানের বিরুদ্ধে। এরপর তদন্তে অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ার সাময়িকভাবে বরখাস্তের পাশাপাশি
মিজানের বিরুদ্ধে মামলা করে দুদক।
২০১৯ সালের জুলাই এনামুল বাছির ও মিজানকে গ্রেপ্তার করা হয়। এরপর গত ২৩ ফেব্রুয়ারি ঢাকার বিশেষ জজ আদালত-৪ এর বিচারক শেখ নাজমুল আলম বাছিরকে ৮ বছর ও মিজানকে ৩ বছর কারাদণ্ডাদেশ দেন। এ ছাড়া বাছিরকে ৮০ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়।

