
চলমান করোনা মহামারিতে
বিশ্বজুড়ে দৈনিক মৃত্যুর সংখ্যা বেড়েছে। তবে আগের দিনের তুলনায় কমেছে নতুন শনাক্ত
রোগীর সংখ্যা। গত ২৪ ঘণ্টায় সারা বিশ্বে করোনায় আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন এক হাজারের
বেশি মানুষ। একই সময়ে ভাইরাসটিতে নতুন করে আক্রান্তের সংখ্যা নেমে এসেছে সোয়া ৫ লাখের
নিচে।
এদিকে গত ২৪ ঘণ্টায়
বিশ্বজুড়ে সবচেয়ে বেশি সংক্রমণের ঘটনা ঘটেছে জাপানে। অন্যদিকে দৈনিক প্রাণহানির তালিকায়
শীর্ষে উঠে এসেছে ব্রাজিল। প্রাণহানির তালিকায় এরপরই রয়েছে ফ্রান্স, যুক্তরাষ্ট্র,
ইতালি, তাইওয়ান ও চিলি। এতে বিশ্বব্যাপী করোনায় আক্রান্তের সংখ্যা ছাড়িয়েছে ৫৭ কোটি
৫৭ লাখের ঘর। অন্যদিকে মৃতের সংখ্যা ছাড়িয়েছে ৬৪ লাখ ৪ হাজার।
মঙ্গলবার (২৬
জুলাই) সকালে করোনাভাইরাসে আক্রান্ত, মৃত্যু ও সুস্থতার হিসাব রাখা ওয়েবসাইট ওয়ার্ল্ডোমিটারস
থেকে পাওয়া সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, গত ২৪ ঘণ্টায় সারা বিশ্বে করোনায় আক্রান্ত হয়ে মারা
গেছেন ১ হাজার ৭১ জন। অর্থাৎ আগের দিনের তুলনায় মৃত্যুর সংখ্যা বেড়েছে প্রায় সাড়ে তিনশো।
এতে বিশ্বজুড়ে মৃতের সংখ্যা পৌঁছেছে ৬৪ লাখ ৪ হাজার ৬০৭ জনে।
একই সময়ের মধ্যে
ভাইরাসটিতে নতুন করে আক্রান্ত হয়েছেন ৫ লাখ ১৮ হাজার ৪৭৩ জন। অর্থাৎ আগের দিনের তুলনায়
নতুন শনাক্ত রোগীর সংখ্যা কমেছে ৭০ হাজারের বেশি। এতে মহামারির শুরু থেকে এ পর্যন্ত
ভাইরাসে আক্রান্ত মোট রোগীর সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৫৭ কোটি ৫৭ লাখ ২ হাজার ৭৯ জনে।
এদিকে গত ২৪ ঘণ্টায়
বিশ্বে করোনায় সবচেয়ে বেশি সংক্রমণের ঘটনা ঘটেছে জাপানে। এই সময়ের মধ্যে দেশটিতে নতুন
করে করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন ১ লাখ ৭২ হাজার ৬৭৩ জন এবং মারা গেছেন ৩৩ জন। করোনা
মহামারির শুরু থেকে পূর্ব এশিয়ার এই দেশটিতে এখন পর্যন্ত ১ কোটি ১৩ লাখ ৪৬ হাজার ৫৮৪
জন করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন এবং ৩১ হাজার ৮৮৫ জন মারা গেছেন।
অন্যদিকে দৈনিক
প্রাণহানির তালিকায় শীর্ষে উঠে এসেছে ব্রাজিল। লাতিন আমেরিকার এই দেশটি করোনায় আক্রান্তের
দিক থেকে তৃতীয় ও মৃত্যুর সংখ্যায় তালিকার দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে। গত ২৪ ঘণ্টায় দেশটিতে
করোনায় আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন ১৯২ জন এবং নতুন করে সংক্রমিত হয়েছেন ৩০ হাজার ৬০৯
জন। অপরদিকে মহামারির শুরু থেকে এ পর্যন্ত দেশটিতে মোট শনাক্ত রোগীর সংখ্যা ৩ কোটি
৩৬ লাখ ২১ হাজার ৯৬৫ জন এবং মৃত্যু হয়েছে ৬ লাখ ৭৭ হাজার ২১৩ জনের।
যুক্তরাষ্ট্রে
নতুন করে করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন ৫১ হাজার ৩২০ জন এবং মারা গেছেন ১১৭ জন। করোনাভাইরাসে
সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত এই দেশটিতে এখন পর্যন্ত ৯ কোটি ২৩ লাখ ২১ হাজার ৯০৫ জন করোনায় আক্রান্ত
হয়েছেন এবং ১০ লাখ ৫২ হাজার ৪০৫ জন মারা গেছেন।
ফ্রান্সে নতুন
করে করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন ১১ হাজার ১৯৫ জন এবং মারা গেছেন ১৩০ জন। করোনা মহামারির
শুরু থেকে এই দেশটিতে এখন পর্যন্ত ৩ কোটি ৩৫ লাখ ৪৩ হাজার ৪৫৭ জন করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন
এবং ১ লাখ ৫১ হাজার ৫৬০ জন মারা গেছেন। একইসময়ে দক্ষিণ কোরিয়ায় নতুন করে করোনাভাইরাসে
আক্রান্ত হয়েছেন ৩৫ হাজার ৮৮৩ জন এবং মারা গেছেন ১৭ জন।
ইতালিতে গত ২৪
ঘণ্টায় নতুন করে করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন ২৩ হাজার ৬৯৯ জন এবং মারা গেছেন ১০৪
জন। করোনা মহামারির শুরু থেকে ইউরোপের এই দেশটিতে এখন পর্যন্ত ২ কোটি ৬ লাখ ৮৪ হাজার
১৮২ জন করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন এবং ১ লাখ ৭০ হাজার ৯৭৯ জন মারা গেছেন। একইসময়ে মেক্সিকোতে
নতুন করে করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন ৬ হাজার ৯১৭ জন এবং মারা গেছেন ১৬ জন।
তাইওয়ানে গত ২৪
ঘণ্টায় করোনায় আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন ৫৩ জন এবং নতুন করে ভাইরাসে সংক্রমিত হয়েছেন
১৭ হাজার ১২৭ জন। এছাড়া মহামারির শুরু থেকে এ পর্যন্ত দেশটিতে মোট শনাক্ত রোগীর সংখ্যা
৪৪ লাখ ৪৭ হাজার ৭০৭ জন এবং মৃত্যু হয়েছে ৮ হাজার ৬৪৯ জনের। একইসময়ে ইরানে নতুন করে
করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন ৯ হাজার ৭৭৫ জন এবং মারা গেছেন ৩৩ জন।
রাশিয়ায় গত ২৪
ঘণ্টায় করোনায় আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন ৩৪ জন এবং নতুন করে ভাইরাসে সংক্রমিত হয়েছেন
৬ হাজার ৫৭১ জন। এছাড়া মহামারির শুরু থেকে এ পর্যন্ত দেশটিতে মোট শনাক্ত রোগীর সংখ্যা
১ কোটি ৮৫ লাখ ৩৮ হাজার ৮২৬ জন এবং মৃত্যু হয়েছে ৩ লাখ ৮২ হাজার ১৮৯ জনের। একইসময়ে
নিউজিল্যান্ডে নতুন করে করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন ৭ হাজার ২৯২ জন এবং মারা গেছেন
১৬ জন।
এছাড়া গত ২৪ ঘণ্টায়
অস্ট্রেলিয়ায় নতুন করে করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন ৩৬ হাজার ৫০৭ জন এবং মারা গেছেন
৩২ জন। একইসময়ে থাইল্যান্ডে নতুন করে করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন ১ হাজার ৭৪০ জন
এবং মারা গেছেন ৩২ জন। চিলিতে নতুন করে করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন ৬ হাজার ১০০ জন এবং
মারা গেছেন ৫১ জন।
উল্লেখ্য, ২০১৯
সালের ডিসেম্বরে চীনের উহানে প্রথম করোনাভাইরাসে আক্রান্ত রোগী শনাক্ত হয়। এরপর ২০২০
সালের ১১ মার্চ বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও) করোনাকে ‘বৈশ্বিক মহামারি’ হিসেবে ঘোষণা করে। এর
আগে একই বছরের ২০ জানুয়ারি বিশ্বজুড়ে জরুরি পরিস্থিতি ঘোষণা করে সংস্থাটি।

