Logo
শিরোনাম

করোনার টিকা ব্যবস্থাপনা: দশে দশ

প্রকাশিত:বৃহস্পতিবার ১১ ফেব্রুয়ারী ২০২১ | হালনাগাদ:রবিবার ২৫ জুলাই ২০২১ | ১২০৫জন দেখেছেন
নিউজ পোস্ট ডেস্ক

Image
একবার টিকা নেওয়ার এক মাস পর দ্বিতীয় ডোজ টিকা নিতে হবে। প্রথম ডোজ টিকা নেওয়ার ১০ দিন পর মাত্র ৫২ ভাগ ইমিউনিটি অর্জিত হয় বলে বিশেষজ্ঞরা বলছেন

আব্দুল কাইয়ুম

আজ ১০ ফেব্রুয়ারি সকালে ঢাকা মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালে করোনার টিকা নিতে গিয়ে আমি তো হতবাক! এমন চমৎকার ব্যবস্থা কল্পনাও করিনি। আমার সাংবাদিক পরিচয় না দিয়ে ভাবলাম, দেখি তো কী হয়? একটি টেবিলে তিন-চারজন কর্মী কাজ করছেন। আমার অনলাইনে করা রেজিস্ট্রেশন কার্ড দিলাম। চট করে কর্মীরা তাঁদের ফাইলে রেজিস্ট্রেশন নম্বর লিখে পাঠিয়ে দিলেন ৬ নম্বর বুথে। পাঁচ মিনিটের মধ্যেই ডাক এল। একজন প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত নার্স আমাকে বললেন, কিছু না, টেরই পাবেন না। এই তো হয়ে গেল। তারপরই বললেন, হয়ে গেছে। বাইরে আধঘণ্টা বসে তারপর যেতে পারেন।

আমি তো অবাক। ত্বকে কখন সুই ফোটানো হলো টেরই পাইনি। এত সরু সুই আমি আগে কখনো দেখিনি। আজ পর্যন্ত বিভিন্ন সময় অন্তত কয়েক শ বার ইনজেকশন দিয়েছি। প্রতিবারই একটু চোখ বন্ধ করে, দম আটকিয়ে ব্যথা সহ্য করতে হয়েছে। কিন্তু এবারই প্রথম, ইনজেকশন কখন নিলাম, টেরই পেলাম না।

ভাবছিলাম কতই না অব্যবস্থাপনা দেখব। লাইন ধরে দাঁড়িয়ে থাকতে হবে। কিন্তু কিছু না। প্রশস্ত হলঘর। আট-দশটি বুথ। প্রতিটি বুথের সামনে বসার আসন। আসুন, বসুন, ইনজেকশন নিন, ব্যস, এবার নিশ্চিন্তে চলে যান। এ তো ভাবাই যায় না। টিকা নিতে আসছেন মানুষ। আবার যত জনের ব্যবস্থা, প্রায় সমানসংখ্যক মানুষ আসছেন। কোনো চেয়ার ফাঁকা নেই, আবার উপচে পড়া ভিড়ও নেই। দুই মিনিটে ইনজেকশন শেষ, ২০-৩০ মিনিট বসে বিশ্রাম। মানুষ আসছেন আর যাচ্ছেন।

এত চমৎকার ব্যবস্থাপনার জন্য সরকারের দক্ষতা সত্যি এক রেকর্ড। এর আগে আমরা দেখেছি করোনার সোয়াব টেস্টের জন্য কিছু ভুয়া ক্লিনিক গজিয়ে উঠেছে। হাজার হাজার টাকা নিয়ে মানুষকে মিথ্যা রিপোর্ট দিয়েছে। সরকার তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিয়ে একটা বার্তা দিয়েছে যে এ ধরনের অপকর্মের শাস্তি ভোগ করতে হবে। সরকার এবার টিকার ব্যাপারে বেসরকারি ভুয়া ক্লিনিকের কারসাজি বন্ধে দৃঢ় ব্যবস্থা নিয়েছে। সরকারি ব্যবস্থাপনায় টিকার ব্যবস্থা করা হয়েছে। হয়তো কিছুদিন পর বেসরকারি হাসপাতাল বা ক্লিনিককে সুযোগ দিতে পারে। সেটা সরকারের সিদ্ধান্তের বিষয়। কিন্তু জালিয়াত চক্র যেন কোনোভাবেই ঢুকে না পড়ে, সেটা নিশ্চিত করতে হবে।

মানুষ যেন প্রতারিত না হয়। হাজার হাজার টাকা লাগবে, আবার পরে হয়তো দেখা যাবে করোনার নকল ইনজেকশনের ব্যবসা শুরু হয়ে গেছে! এ ব্যাপারে যেকোনো সিদ্ধান্তের আগে নিরাপত্তা শতভাগ নিশ্চিত করতে হবে। আমাদের বিশ্বাস, সরকার এসব বিষয়ে সচেতন।

প্রথম দিকে মানুষ কিছুটা দ্বিধায় ছিল। টিকা নিলে পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ার কথা ভাবছিল। কিন্তু এখন তো মন্ত্রী, জনপ্রতিনিধি, সমাজের গণ্যমান্য ব্যক্তি সবাই টিকা নিচ্ছেন এবং সুস্থই আছেন। তাঁরা সবাইকে টিকা নিতে বলছেন। তাই মানুষের দ্বিধা-দ্বন্দ্ব কেটে যাচ্ছে। করোনাভাইরাস নির্মূল করতে টিকার বিকল্প নেই। মানুষ তো মরবেই, অর্থনীতিও ভেঙে পড়বে। তাই সরকার যে প্রথম থেকেই টিকা কেনার ব্যবস্থা নিয়েছে, সেটা ছিল সময়োচিত উদ্যোগ। এ না হলে দেশে সারা বছর করোনার বিপর্যয় ঘুরেফিরে চলত।

টিকা ছাড়া শুধু সাধারণ চিকিৎসায় এই ভাইরাসের হাত থেকে বাঁচা কঠিন। আমরা তো দেখলাম আমাদের সহকর্মী, যুগ্ম সম্পাদক মিজানুর রহমান খান, সংবাদের সম্পাদক মুনীরুজ্জামানসহ কত সিনিয়র সাংবাদিক, চিকিৎসক, অধ্যাপকসহ অগণিত সাধারণ মানুষ কত অসহায়ভাবে মৃত্যুবরণ করলেন। এভাবে চললে অন্তত দুই বছরে অগণিত মানুষের রোগ-শোক-মৃত্যুর পর হয়তো করোনাভাইরাসে হার্ড-ইমিউনিটি অর্জন করা সম্ভব হতো। কিন্তু সেটা হতো সবচেয়ে অমানবিক একটা ব্যাপার। সরকার যে সেটা বুঝে সময়োচিত উদ্যোগ নিয়েছে, তা এক সাংঘাতিক সুবিবেচনার পরিচয়।

এখন আমাদের দেখতে হবে যেন দেশের অন্তত ৮০-৮৫ ভাগ মানুষ টিকা নিয়ে করোনামুক্ত পরিবেশ সৃষ্টি করতে পারেন। এ জন্য সরকারের উদ্যোগই হবে মূল। দেশের অন্তত ১৩-১৪ কোটি মানুষের টিকার ব্যবস্থা করা দরকার। এ জন্য টাকা লাগবে। আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে বিল গেটসসহ অনেক ব্যক্তি টিকার ব্যবস্থা করার জন্য হাজার হাজার কোটি ডলার দান করেছেন। অনুন্নত দেশে বিনা পয়সার ব্যবস্থা করার আন্তর্জাতিক উদ্যোগ রয়েছে। আমাদের দেশের শিল্পপতিরাও নিজ দেশের সাধারণ মানুষের জন্য বিনা পয়সায় টিকার ব্যবস্থা করার জন্য সীমিত পর্যায়ে হলেও উদ্যোগ নিতে পারেন।

একবার টিকা নেওয়ার এক মাস পর দ্বিতীয় ডোজ টিকা নিতে হবে। প্রথম ডোজ টিকা নেওয়ার ১০ দিন পর মাত্র ৫২ ভাগ ইমিউনিটি অর্জিত হয় বলে বিশেষজ্ঞরা বলছেন। তিন-চার সপ্তাহের মধ্য প্রায় ৯৫ ভাগ ইমিউনিটি নিশ্চিত। দ্বিতীয় ডোজ নেওয়ার দিন দশেকের মাথায় মোটামুটি করোনাপ্রতিরোধী হওয়া সম্ভব। তাই প্রথম টিকা নেওয়ার পর আগের মতোই সবাইকে মাস্ক পরে চলাফেরা করতে হবে। এটা যতটা না নিজের নিরাপত্তার জন্য, তার চেয়ে বেশি অন্যদের সংক্রমণমুক্ত রাখার জন্য। কারণ, করোনার টিকায় নিজে রোগপ্রতিরোধী হলেও শ্বাস-প্রশ্বাস, হাঁচি-কাশির মাধ্যমে অন্যদের করোনায় সংক্রমিত করতে পারে। তাই অন্তত আরও বেশ কয়েক মাস, অন্তত এই বছরটা মাস্ক পরা অব্যাহত রাখা জরুরি।

কেউ যেন ভাববেন না, আমাদের এলাকায় করোনা নেই, টিকার দরকার কী? না, এটা ভুল। আজ হয়তো নেই, কিন্তু কাল করোনা এসে যাবে। গ্রামের পর গ্রাম ছারখার হয়ে যেতে পারে। তাই করোনার টিকা উপেক্ষা করা যাবে না। অন্তত ১০ বছরের বেশি বয়সের সবাইকে করোনার টিকা নিতে হবে। পর্যায়ক্রমে সে ব্যবস্থা সরকার করবে, এটাই আমরা চাই।

সূত্র: প্রথম আলো


আরও খবর



কুষ্টিয়ায় করোনা ও উপসর্গ নিয়ে আরও ১৪ জনের মৃত্যু

প্রকাশিত:বৃহস্পতিবার ১৫ জুলাই ২০২১ | হালনাগাদ:শুক্রবার ২৩ জুলাই ২০২১ | ৫০জন দেখেছেন
নিউজ পোস্ট ডেস্ক

Image

কুষ্টিয়া করোনা ডেডিকেটেড হাসপাতালে গতকাল বুধবার সকাল ৮টা থেকে আজ বৃহস্পতিবার সকাল ৮টা পর্যন্ত চিকিৎসাধীন অবস্থায় আরও ১৪ জনের মৃত্যু হয়েছে। মৃতদের মধ্যে ১০ জনের করোনা পজিটিভ এবং চার জনের করোনার উপসর্গ ছিল বলে জানান হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. আবদুল মোমেন।

ডা. আবদুল মোমেন জানান, বর্তমানে হাসপাতালে ২২১ জন করোনায় আক্রান্ত হয়ে এবং ৬৪ জন উপসর্গ নিয়ে মোট ২৮৫ রোগী ভর্তি রয়েছে।

এদিকে, পিসিআর ল্যাব ও জেলা সিভিল সার্জন কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, গত ২৪ ঘণ্টায় জেলায় ৮৯৪ জনের নমুনা পরীক্ষা করে ২৭৩ জনের দেহে করোনা শনাক্ত হয়েছে। শনাক্তের হার ৩০ দশমিক ৫৩ শতাংশ।


আরও খবর

কুষ্টিয়ায় আরও ২০ জনের মৃত্যু

রবিবার ১৮ জুলাই ২০২১




বগুড়ায় করোনাভাইরাসে ১৯ জনের মৃত্যু

প্রকাশিত:মঙ্গলবার ০৬ জুলাই ২০২১ | হালনাগাদ:রবিবার ২৫ জুলাই ২০২১ | ৭১জন দেখেছেন
নিউজ পোস্ট ডেস্ক

Image

করোনাভাইরাস ভয়াবহ রূপ নিতে শুরু করেছে বগুড়াতেও। গত ২৪ ঘণ্টায় বগুড়ার তিন হাসপাতালে ১৯ জনের মৃত্যু হয়েছে। সোমবার (০৫ জুলাই) থেকে মঙ্গলবার (০৬ জুলাই) হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাদের মৃত্যু হয়।

মঙ্গলবার (০৬ জুলাই) বগুড়া ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট মোহাম্মাদ আলী হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. টিএম নুরুজ্জামান জানান, গত ২৪ ঘণ্টায় হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় করোনায় ১২ জনের মৃত্যু হয়েছে।

এদিকে বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের উপপরিচালক ডা. আব্দুল ওয়াদুদ জানান, হাসপাতালে চিকিৎধীন অবস্থায় পাঁচজন মারা গেছেন।

এ ছাড়া বগুড়া টিএমএসএস মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে গত ২৪ ঘণ্টায় দুজনের মৃত্যু হয়েছে। 


আরও খবর



খুলনায় ফের বেড়েছে করোনায় মৃত্যু, একদিনে ৬০ জন

প্রকাশিত:রবিবার ১১ জুলাই ২০২১ | হালনাগাদ:বৃহস্পতিবার ২২ জুলাই ২০২১ | ৭৭জন দেখেছেন
নিউজ পোস্ট ডেস্ক

Image

খুলনা বিভাগে করোনাভাইরাসের গত ২৪ ঘণ্টায় আরো ৬০ জনের মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে শনাক্ত হয়েছে ১ হাজার ৫৯১ জনের। এ নিয়ে শনাক্তের সংখ্যা ৭১ হাজার ছাড়াল। এর আগে শনিবার (১০ জুলাই) বিভাগে ৪৬ জনের মৃত্যু হয়েছিল। আর শুক্রবার (৯ জুলাই) বিভাগে সর্বোচ্চ ৭১ জনের মৃত্যু হয়েছিল।

রবিবার (১১ জুলাই) বিভাগীয় স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক রাশেদা সুলতানা এসব তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

স্বাস্থ্য পরিচালকের দপ্তর সূত্রে জানা যায়, গত ২৪ ঘণ্টায় বিভাগের মধ্যে সর্বোচ্চ ১৪ জনের মৃত্যু হয়েছে খুলনা জেলায়। বাকিদের মধ্যে কুষ্টিয়ায় ১৩ জন, নড়াইলে সাতজন, যশোর ও চুয়াডাঙ্গায় ছয়জন করে, মেহেরপুরে পাঁচজন, মাগুরায় চারজন, ঝিনাইদহে তিনজন ও বাগেরহাটে দুজন মারা গেছেন।

খুলনা বিভাগের মধ্যে প্রথম করোনা রোগী শনাক্ত হয় চুয়াডাঙ্গায় গত বছরের ১৯ মার্চ। করোনা সংক্রমণের শুরু থেকে রবিবার সকাল পর্যন্ত বিভাগের ১০ জেলায় মোট শনাক্ত হয়েছে ৭১ হাজার ৫৫০ জন। আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন ১ হাজার ৫৯৩ জন আর সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন ৪৬ হাজার ২৯৯ জন।


আরও খবর



নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করেছে সিটি ব্যাংক লিমিটেড

প্রকাশিত:শনিবার ১৭ জুলাই ২০২১ | হালনাগাদ:রবিবার ২৫ জুলাই ২০২১ | ৪৭জন দেখেছেন
নিউজ পোস্ট ডেস্ক

Image

নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করেছে সিটি ব্যাংক লিমিটেড। ব্যাংকটিতে রিস্ক ম্যানেজার পদে নিয়োগ দেওয়া হবে। আগ্রহী যোগ্য প্রার্থীরা আবেদন করতে পারেন।

পদের নাম : রিস্ক ম্যানেজার  এসএমই-এম ক্রেডিট রিস্ক।

শিক্ষাগত যোগ্যতা ও অভিজ্ঞতা

স্বীকৃত যেকোনো বিশ্ববিদ্যালয় থেকে যেকোনো বিষয়ে স্নাতক অথবা স্নাতকোত্তর পাস প্রার্থীরা আবেদন করতে পারবেন। প্রার্থীর চার বছরের কাজের অভিজ্ঞতা, বাংলা ও ইংরেজিতে যোগাযোগ দক্ষতা থাকতে হবে।

কর্মস্থল :  বগুড়া, চট্টগ্রাম, ঢাকা, নারায়ণগঞ্জ ।

বেতন : আলোচনা সাপেক্ষে।

আবেদনের প্রক্রিয়া : প্রার্থীরা বিডিজবস অনলাইনে আবেদন করতে পারবেন।

আবেদনের শেষ তারিখ : ১৮ জুলাই, ২০২১।

সূত্র : বিডিজবস


আরও খবর

৯০ জনকে নিয়োগ দেবে বিএসটিআই

শুক্রবার ০২ জুলাই 2০২1




‘অনলাইনে কোরবানির পশু ক্রয়-বিক্রয় রাষ্ট্রের জন্য সহায়ক’

প্রকাশিত:সোমবার ০৫ জুলাই ২০২১ | হালনাগাদ:শনিবার ২৪ জুলাই ২০২১ | ১০০জন দেখেছেন
নিউজ পোস্ট ডেস্ক

Image
করোনার ভয়াবহ পরিস্থিতিতে জনসমাগম থেকে দূরে থাকা সবচেয়ে প্রয়োজন। এ পরিস্থিতিতে অনলাইনে কোরবানির গরু ক্রয়-বিক্রয়ের সুযোগ রাষ্ট্রের জন্য, সরকারের জন্য বড় সহায়ক। চরাঞ্চলের গরুর অনলাইন হাট শুধু ক্রেতা-বিক্রেতার সুবিধার জন্যই নয়, এটি রাষ্ট্রের সুবিধার জন্য। এজন্য সংশ্লিষ্টদের আন্তরিক ধন্যবাদ জানাচ্ছি

করোনা পরিস্থিতিতে অনলাইনে কোরবানির পশু ক্রয়-বিক্রয় রাষ্ট্রের জন্য সহায়ক বলে জানিয়েছেন মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রী শ ম রেজাউল করিম।

সোমবার (০৫ জুলাই) ই-কমার্স প্লাটফর্ম ভালোকিনি ডট কম ও বেসরকারি সংস্থা গণ উন্নয়ন কেন্দ্রের যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত চরাঞ্চলের গরুর অনলাইন হাট-এর উদ্বোধন অনুষ্ঠানে রাজধানীর বেইলি রোডের সরকারি বাসভবন থেকে ভার্চুয়ালি সংযুক্ত হয়ে প্রধান অতিথির বক্তব্যে মন্ত্রী একথা জানান।

এ বিষয়ে মন্ত্রী বলেন, করোনার ভয়াবহ পরিস্থিতিতে জনসমাগম থেকে দূরে থাকা সবচেয়ে প্রয়োজন। এ পরিস্থিতিতে অনলাইনে কোরবানির গরু ক্রয়-বিক্রয়ের সুযোগ রাষ্ট্রের জন্য, সরকারের জন্য বড় সহায়ক। চরাঞ্চলের গরুর অনলাইন হাট শুধু ক্রেতা-বিক্রেতার সুবিধার জন্যই নয়, এটি রাষ্ট্রের সুবিধার জন্য। এজন্য সংশ্লিষ্টদের আন্তরিক ধন্যবাদ জানাচ্ছি।

মন্ত্রী আরো যোগ করেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা রাষ্ট্র ক্ষমতায় এসে ডিজিটাল বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠার পরিকল্পনা নিয়েছিলেন। সে পরিকল্পনা বাস্তবায়নের কারণে আজ চরাঞ্চলের খামারিরা অনলাইন প্লাটফর্মে সংযুক্ত হতে পারছেন। চরাঞ্চলের মানুষদের জন্য মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের উপকূলীয় অঞ্চলে প্রাণিসম্পদ উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নাধীন রয়েছে। এ প্রকল্প থেকে প্রাণিসম্পদ উন্নয়নে সকল সহযোগিতা করা হচ্ছে। চরাঞ্চলের মানুষদের প্রাকৃতিক দুর্যোগসহ নানারকম সমস্যার মধ্যে থেকে জীবন ও জীবিকা নিয়ে লড়াই করতে হয়। তাদের উৎপাদিত প্রাণিসম্পদ যাতে যথাযথ মূল্যে বিক্রয় করা হয় এবং তারা যাতে কোনভাবেই ক্ষতিগ্রস্ত না হয় এজন্য সরকারের পক্ষ থেকে সকল সহযোগিতা রয়েছে।

চরাঞ্চলের খামারিরা উৎপাদিত প্রাণী নিয়ে যেন কোনরকম অসহায় অবস্থায় না পড়ে সেজন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণে সংশ্লিষ্ট জেলা-উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তাদের এসময় তাৎক্ষণিকভাবে নির্দেশ দেন মন্ত্রী।

শ ম রেজাউল করিম বলেন, খামারিদের সুবিধার্থে আমরা বৈধ বা অবৈধ কোন উপায়েই মিয়ানমার বা ভারত থেকে গবাদিপশু দেশের ভেতরে আসতে দিচ্ছি না। কারণ গবাদিপশু উৎপাদনকারীদের অনেক অর্থ ব্যয় হয়। তারা যদি ন্যায্যমূল্য না পান তাহলে ক্ষতিগ্রস্ত হবেন, বেকার হয়ে যাবেন, তাদের উদ্যোক্তা হওয়ার আগ্রহ হারিয়ে যাবে, গ্রামীণ অর্থনীতির সচল চাকা অচল হয়ে যাবে। এজন্য প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার পক্ষ থেকে আমি সকল খামারি ও উৎপাদকদের নিশ্চিত করছি আপনারা ন্যায্যমূল্যে গবাদিপশু বিক্রি করতে পারবেন। আমরা চাই দেশের প্রাণিসম্পদ বেড়ে উঠুক। সরকার সকল প্রকার সহযোগিতা দেবে। বাংলাদেশে প্রাণিসম্পদ খাতে বৈপ্লবিক পরিবর্তন এসেছে এবং এ পরিবর্তনের ধারা আমরা অব্যাহত রাখবো।

ভালোকিনি ডট কমের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা কেরামত উল্লাহ বিপ্লবের পরিচালনায় অনুষ্ঠানে গাইবান্ধা ও রংপুর অঞ্চলের প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তাগণ, গণ উন্নয়ন কেন্দ্রের প্রতিষ্ঠাতা এম আব্দুস সালাম বাংলাদেশ ডেইরি ফারমার্স অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি মোহাম্মদ ইমরান হোসেনসহ সংশ্লিষ্ট চরাঞ্চলের গবাদিপশুর খামারিরা অনুষ্ঠানে ভার্চুয়ালি অংশগ্রহণ করেন।


আরও খবর

ব্যাংকে লেনদেন দেড়টা পর্যন্ত

রবিবার ২৫ জুলাই ২০২১