Logo
শিরোনাম

করোনায় মৃত্যুশূন্য দিনে শনাক্ত ১৩

প্রকাশিত:মঙ্গলবার ২৪ জানুয়ারী ২০২৩ | হালনাগাদ:শুক্রবার ২৭ জানুয়ারী ২০২৩ | ২৯জন দেখেছেন
নিউজ পোস্ট ডেস্ক

Image

দেশে ২৪ ঘণ্টায় ১৩ জনের দেহে করোনাভাইরাস শনাক্ত হয়েছে। মোট শনাক্ত রোগীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ২০ লাখ ৩৭ হাজার ৪৬৯ জনে। এসময়ে করোনায় কারও মৃত্যু হয়নি। ফলে মোট মৃত্যু ২৯ হাজার ৪৪১ জনেই থাকছে।

মঙ্গলবার (২৪ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তর থেকে পাঠানো করোনাবিষয়ক নিয়মিত সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানানো হয়েছে।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ২৪ ঘণ্টায় করোনা থেকে সুস্থ হয়েছেন ১৯৮ জন। এ পর্যন্ত সুস্থ হয়েছেন ১৯ লাখ ৯১ হাজার ৩৬৮ জন।

২৪ ঘণ্টায় ২ হাজার ৬৬২টি নমুনা সংগ্রহ করা হয়। পরীক্ষা করা হয় ২ হাজার ৬৫৭টি নমুনা। পরীক্ষার বিপরীতে শনাক্তের হার ০ দশমিক ৪৯ শতাংশ। মহামারির শুরু থেকে এ পর্যন্ত মোট শনাক্তের হার ১৩ দশমিক ৩৭ শতাংশ।

২০২০ সালের ৮ মার্চ দেশে প্রথম ৩ জনের দেহে করোনাভাইরাস শনাক্ত হয়। এর ১০ দিন পর ওই বছরের ১৮ মার্চ দেশে এ ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে প্রথম একজনের মৃত্যু হয়। ২০২১ সালের ৫ ও ১০ আগস্ট দুদিন সর্বাধিক ২৬৪ জন করে মারা যান।

নিউজ ট্যাগ: করোনাভাইরাস

আরও খবর

৮ ডেঙ্গুরোগী হাসপাতালে ভর্তি

বৃহস্পতিবার ২৬ জানুয়ারী ২০২৩




বিজিবির নতুন ডিজি নাজমুল হাসান

প্রকাশিত:বুধবার ১৮ জানুয়ারী ২০২৩ | হালনাগাদ:শুক্রবার ২৭ জানুয়ারী ২০২৩ | ৩৩জন দেখেছেন
নিউজ পোস্ট ডেস্ক

Image

বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের (বিজিবি) নতুন মহাপরিচালক (ডিজি) হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন মেজর জেনারেল এ কে এম নাজমুল হাসান। গতকাল মঙ্গলবার জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় থেকে এ সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়েছে।

নাজমুল হাসানকে প্রেষণে নিয়োগ দিয়ে তার চাকরি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জননিরাপত্তা বিভাগে ন্যস্ত করা হয়েছে। নাজমুল হাসান বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর মহাপরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন।

অন্যদিকে বিজিবির মহাপরিচালকের দায়িত্ব চালিয়ে আসা মেজর জেনারেল সাকিল আহমেদকে সেনাবাহিনীতে ফিরিয়ে নিতে তার চাকরি ন্যস্ত করা হয়েছে সশস্ত্র বাহিনী বিভাগে।


আরও খবর



শহরে ৫০, বস্তির ৩১ শতাংশ নারী সিজারে সন্তান জন্ম দেন

প্রকাশিত:বুধবার ০৪ জানুয়ারী ২০২৩ | হালনাগাদ:বুধবার ২৫ জানুয়ারী ২০২৩ | ৪৭জন দেখেছেন
নিউজ পোস্ট ডেস্ক

Image

জাতীয় জনসংখ্যা গবেষণা ও প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউটের (নিপোর্ট) এক জরিপ গবেষণায় উঠে এসেছে বস্তিতে বসবাসকারী গর্ভবতী নারীর ৩১ দশমিক ০৩ শতাংশ সিজারের মাধ্যমে সন্তান জন্ম দেন। সেসব সিটি এলাকায় বস্তির বাইরে থাকা ৫৯ দশমিক ৪ শতাংশ নারীর সন্তান জন্মদানও হয় সিজারে। আর দেশের জেলা-উপজেলাগুলোতে যেসব শহরে ৪৫ হাজারের বেশি মানুষের বাস সেসব শহরের ৫০ দশমিক ৫ শতাংশ নারী সিজারে সন্তান জন্ম দেন। গর্ভাবস্থায় প্রাতিষ্ঠানিক সেবা নেওয়া নারীদের সিজারে সন্তান জন্মদানের হার বেশি বলেও গবেষণায় উঠে এসেছে।

মঙ্গলবার (৩ জানুয়ারি) রাজধানীর সিরডাপ মিলনায়তনে সারাদেশে তৃতীয় বাংলাদেশ আরবান হেলথ সার্ভে (বিইউএইচএস) ২০২১-এর ফলাফল প্রকাশ অনুষ্ঠানে এসব তথ্য তুলে ধরে নিপোর্ট।

বিবাহিত নারীদের যাদের বয়স ১২ থেকে ৪৯ বছর, বিবাহিত পুরুষ যাদের বয়স ১৫ থেকে ৫৪ বছর, পাঁচ বছরের কম বয়সী শিশু এবং সমাজের নেতৃস্থানীয়দের ওপর এ জরিপ কার্যক্রম পরিচালনা করা হয়েছে।

জরিপে উঠে আসে, ঘরের বাইরে বিভিন্ন হাসপাতাল কিংবা স্বাস্থ্যসেবার আওতায় হওয়া মোট শিশু জন্মদানেরও বেশিরভাগ শিশুর জন্ম হয়ে থাকে সিজারের মাধ্যমে। স্বাস্থ্যসেবা পাওয়া নারীদের বস্তির বাইরে থাকা জনগোষ্ঠীর ৭৭ শতাংশ সিজারে শিশুর জন্ম দেন। এছাড়া শহুরে জনগোষ্ঠীর ৭৫ শতাংশ ও স্বাস্থ্যসেবা পাওয়া বস্তির জনগোষ্ঠীর ৫৮ দশমিক ৩ শতাংশ নারী সিজারের মাধ্যমে সন্তান জন্ম দেন।

জরিপে উঠে আসে, গর্ভধারণ স্বাস্থ্যসেবা নেওয়া বস্তিবাসীদের মাঝে সবচেয়ে বেশি সিজার হয়েছে বেসরকারি হাসপাতালে। সবচেয়ে কম হয়েছে এনজিওতে ২৫ শতাংশ।

অনুষ্ঠানে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী জাহিদ মালেক উপস্থিত ছিলেন।

তিনি বলেন, সঠিক ডাটা পেলে কোন কাজ কতদূর এগিয়েছে সেটির চিত্র ফুটে ওঠে। একই সঙ্গে সিদ্ধান্ত গ্রহণ ও করণীয় ঠিক করা সহজ হয়। আমাদের সবচেয়ে বড় সংকট জনবল। যে পরিমাণ দরকার তার তুলনায় খুবই কম। ফলে স্বাস্থ্যসেবা অর্জনে কষ্ট হয়। বস্তি ও অন্যান্য এলাকায় বিশুদ্ধ পানি পাচ্ছে মানুষ। একই সঙ্গে বিদ্যুৎও পাচ্ছে। তবে স্যানিটেশনে অনেক পিছিয়ে আছে।

তিনি আরও বলেন, বস্তি এলাকায় জন্মহার কমছে। বস্তি ও দরিদ্র মানুষের মাঝেও বাল্যবিবাহ নিয়ে সচেতনতা বাড়ছে। সবক্ষেত্রেই ইতিবাচক পরিবর্তন আসছে। বস্তি এলাকায় গর্ভাবস্থায় স্বাস্থ্যসেবা নেওয়ার হার বেড়েছে। প্রাতিষ্ঠানিক ডেলিভারির হার বাড়লেও তা এখনো কিছুটা পিছিয়ে। সারাদেশে ৪ হাজার ইউনিট আছে। সেখানে ৮ ঘণ্টা নয়, ২৪ ঘণ্টা চালুর ব্যবস্থা করলে এ হার বাড়বে। সরকারি হাসপাতালগুলোতে সেবার মান বাড়াতে হবে।

জাহিদ মালেক বলেন, গ্রামে অবকাঠামোগত উন্নত হওয়ায় শহরের মতোই সবকিছু পাওয়া় যাচ্ছে। ফলে স্থানীয় পর্যায়ে মাইগ্রেশন কমেছে।

অনুষ্ঠানে অন্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন পরিবার পরিকল্পনা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক শাহান আরা বানু, স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক (প্রশাসন) অধ্যাপক ডা. আহমেদুল কবির, স্বাস্থ্য ও শিক্ষা অধিদপ্তরের ভারপ্রাপ্ত মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. মো. টিটো মিঞা।


আরও খবর

৮ ডেঙ্গুরোগী হাসপাতালে ভর্তি

বৃহস্পতিবার ২৬ জানুয়ারী ২০২৩




সংসদে শীর্ষ ২০ ঋণখেলাপির তালিকা প্রকাশ

প্রকাশিত:মঙ্গলবার ২৪ জানুয়ারী ২০২৩ | হালনাগাদ:বৃহস্পতিবার ২৬ জানুয়ারী ২০২৩ | ৩০জন দেখেছেন
নিউজ পোস্ট ডেস্ক

Image

অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল সংসদে জানিয়েছেন, দেশে মোট ঋণ খেলাপির সংখ্যা ৭ লাখ ৮৬ হাজার ৬৫ জন। এর মধ্যে শীর্ষ ২০ ঋণখেলাপির কাছে প্রায় ২০ হাজার কোটি টাকা পাওনা রয়েছে। এর মধ্যে খেলাপি ঋণ হচ্ছে ১৬ হাজার ৫৮৭ কোটি ৯২ লাখ টাকা।

মঙ্গলবার জাতীয় সংসদ অধিবেশনে প্রশ্নোত্তর পর্বে এ তথ্য উপস্থাপন করেন অর্থমন্ত্রী। স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরীর সভাপতিত্বে অধিবেশনে এসংক্রান্ত প্রশ্নটি উত্থাপন করেন সরকারি দলের সংসদ সদস্য শহীদুজ্জামান সরকার।

লিখিত জবাবে মন্ত্রী দেশের মোট ঋণ খেলাপির সংখ্যা ও শীর্ষ ২০ জনের তালিকা তুলে ধরেছেন। ওই ২০ জনের মোট ঋণের পরিমাণ ১৯ হাজার ২৮৩ কোটি ৯৩ লাখ টাকা।

মন্ত্রীর দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, শীর্ষ ২০ ঋণ খেলাপির মধ্যে সিএলসি পাওয়ার কোম্পানি লিমিটেডের ঋণের স্থিতি এক হাজার ৭৩২ কোটি ৯২ লাখ টাকা। তাদের খেলাপি ঋণ এক হাজার ৬৪০ কোটি ৪৪ লাখ টাকা। ওয়েস্টার্ন মেরিন শিপইয়ার্ড লিমিটেডের ঋণের স্থিতি এক হাজার ৮৫৫ কোটি ৩৯ লাখ টাকা। তাদের খেলাপি ঋণ এক হাজার ৫২৯ কোটি ৭৪ লাখ টাকা।

রিমেক্স ফুটওয়্যার লিমিটেডের ঋণের স্থিতি এক হাজার ৭৭ কোটি ৬৩ লাখ টাকা। এদের পুরোটাই খেলাপি ঋণ। রাইজিং স্টিল কোম্পানি লিমিটেডের ঋণের স্থিতি এক হাজার ১৪২ কোটি ৭৬ লাখ টাকা। তাদের খেলাপি ঋণ ৯৯০ কোটি ২৮ লাখ টাকা। মোহাম্মদ ইলিয়াস ব্রাদার্স (প্রা.) লিমিটেডের ঋণের স্থিতি ৯৬৫ কোটি ৬০ লাখ টাকা। তাদের পুরোটাই খেলাপি ঋণ।

মন্ত্রী জানান, রূপালী কম্পোজিট লেদার ওয়্যার লিমিটেডের স্থিতি ও খেলাপি ঋণের পরিমাণ একই। তাদের খেলাপি ঋণ ৮৭৩ কোটি ২৯ লাখ টাকা। ক্রিসেন্ট লেদারর্স প্রডাক্ট লিমিটেডের স্থিতি ও খেলাপি ঋণের পরিমাণ ৮৫৫ কোটি ২২ লাখ টাকা। কোয়ান্টাম পাওয়ার সিস্টেমস লিমিটেডের স্থিতি ও খেলাপি ঋণের পরিমাণ ৮১১ কোটি ৩৩ লাখ টাকা। সাদ মুসা ফেব্রিক্স লিমিটেডের ঋণের স্থিতি এক হাজার ১৩১ কোটি ৮৩ লাখ টাকা। তাদের খেলাপি ঋণের পরিমাণ ৭৭৬ কোটি ৬৩ লাখ টাকা। বি আর স্পিনিং মিলস লিমিটেডের স্থিতি ও খেলাপি ঋণের পরিমাণ ৭২১ কোটি ৪৩ লাখ টাকা।

মন্ত্রী আরও  জানান, এস.এ অয়েল রিফাইনারি লিমিটেডের ঋণের স্থিতি এক হাজার ১৭২ কোটি ৬৯ লাখ টাকা। তাদের খেলাপি ঋণের পরিমাণ ৭০৩ কোটি ৫৩ লাখ টাকা। মাইশা প্রপার্টি ডেভেলমেন্ট লিমিটেডের ঋণের স্থিতি ৬৮৬ কোটি ১৪ লাখ টাকা। তাদের খেলাপি ঋণের পরিমাণ ৬৬৩ কোটি ১৮ লাখ টাকা। রেডিয়াম কম্পোজিট টেক্সটাইল লিমিটেডের ঋণের স্থিতি ৭৭০ কোটি ৪৮ লাখ টাকা। তাদের খেলাপি ঋণের পরিমাণ ৬৬০ কোটি ৪২ লাখ টাকা। সামান্নাজ সুপার অয়েল লিমিটেডের ঋণের স্থিতি এক হাজার ১৩০ কোটি ৬৮ লাখ টাকা। তাদের খেলাপি ঋণের পরিমাণ ৬৫১ কোটি ৭ লাখ টাকা। মানহা প্রিকাস্ট টেকনোলজি লিমিটেডের ঋণের স্থিতি ও খেলাপি ঋণের পরিমাণ ৬৪৭ কোটি ১৬ লাখ টাকা।

একই জবাবে জানানো হয়েছে, আশিয়ান এডুকেশন লিমিটেডের ঋণের স্থিতি ৬৫৩ কোটি টাকা। তাদের খেলাপি ঋণের পরিমাণ ৬৩৫ কোটি ৯৪ লাখ টাকা। এস.এম স্টিল রি-রোলিং মিলস লিমিটেডের ঋণের স্থিতি ৮৮৮ কোটি ৭১ লাখ টাকা। তাদের খেলাপি ঋণের পরিমাণ ৬৩০ কোটি ২৬ লাখ টাকা।

অ্যাপোলো ইস্পাত কমপ্লেক্স লিমিটেডের ঋণের স্থিতি ৮৭২ কোটি ৭২ লাখ টাকা। তাদের খেলাপি ঋণের পরিমাণ ৬২৩ কোটি ৩৪ লাখ টাকা। এহসান স্টিল রি-রোলিং লিমিটেডের ঋণের স্থিতি ৬২৪ কোটি ২৭ লাখ টাকা। তাদের খেলাপি ঋণের পরিমাণ ৫৯০ কোটি ২৩ লাখ টাকা এবং সিদ্দিকী ট্রেডার্স-এর ঋণের স্থিতি ৬৭০ কোটি ৬৮ লাখ টাকা। তাদের খেলাপি ঋণের পরিমাণ ৫৪১ কোটি ২০ লাখ টাকা।


আরও খবর



সাংহাইয়ের ৭০ শতাংশ মানুষ করোনায় আক্রান্ত: কর্তৃপক্ষ

প্রকাশিত:বৃহস্পতিবার ০৫ জানুয়ারী ২০২৩ | হালনাগাদ:বুধবার ২৫ জানুয়ারী ২০২৩ | ৪৪জন দেখেছেন
নিউজ পোস্ট ডেস্ক

Image

চীনের বাণিজ্যিক কেন্দ্র ও বৃহত্তম শহর সাংহাইয়ের ৭০ শতাংশ মানুষ করোনায় আক্রান্ত। শহরটির সবচেয়ে বড় হাসপাতাল রুইজিনের ভাইস প্রেসিডেন্ট এবং সাংহাই কোভিড এক্সপার্ট অ্যাডভাইসরি প্যানেলের সদস্য ডা. শেন এরঝেন নিশ্চিত করেছেন এ তথ্য।

মঙ্গলবার সাংহাইয়ের দাজিংডং স্টুডিওতে চীনের কমিউনিস্ট পার্টির অন্যতম মুখপত্র পিপলস ডেইলিকে সাক্ষাৎকার দিয়েছেন শেন এরঝেন। সেখানে তিনি বলেন, সাংহাইয়ে বন্যার মতো করোনা ছড়িয়ে পড়ছে। আমাদের ধারণা, শহরের অন্তত ৭০ শতাংশ মানুষ এই মুহূর্তে করোনায় আক্রান্ত। ২০২২ সালের মার্চ-এপ্রিলের তুলনায় এ হার ২০ থেকে ৩০ গুণ বেশি।

আড়াই কোটি মানুষ অধ্যুষিত সাংহাইয়ে গত বছর মার্চের দিকে একবার করোনার ঢেউ শুরু হয়েছিল। সে সময় ৬ লাখেরও বেশি মানুষ আক্রান্ত হয়েছিলেন। সংক্রমণের বিস্তার রোধে ২০২২ সালের এপ্রিলের দিকে ২ মাসের কঠোর লকডাউন জারি করেছিল চীনের সরকার।

কিন্তু এখনকার পরিস্থিতি তার চেয়েও কয়েকগুণ বেশি বিপর্যয়কর উল্লেখ করে সাক্ষাৎকারে ডা. শেন এরঝেন বলেন, গত মার্চ-এপ্রিলের মতো এবারও করোনার ওমিক্রন ধরনের প্রভাবে সংক্রমণ বাড়ছে; এবং যে গতিতে এটি ছড়িয়ে পড়ছে, তাতে চলতি জানুয়ারির মধ্যেই সংক্রমণের সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছে যেতে পারে সাংহাই।  গত কয়েক সপ্তাহ ধরে প্রতিদিনই গুরুতর অসুস্থতা নিয়ে ১ হাজার ৬ শরও বেশি রোগী ভর্তি হচ্ছেন সাংহাইয়ের বিভিন্ন হাসপাতালে। আমি যে হাসপাতালের ভাইস প্রেসিডেন্ট, সেই রুইজিনের কম্পাউন্ডেই প্রতিদিন আসছে ১০০টিরও বেশি অ্যাম্বুলেন্স।

এএফপির এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ভেতরে আর স্থান সংকুলান না হওয়ায় সাংহাইয়ের বিভিন্ন হাসপাতালের গেটের কাছে এবং গ্যারেজেও আশ্রয় নিচ্ছেন গুরুতর অসুস্থ করোনা রোগীরা, সেখানেই চিকিৎসাসেবা দেওয়া হচ্ছে তাদের।

চীনের কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা এএফপিকে জানিয়েছেনরাজধানী বেইজিং, তিয়ানজিন, চংকুইং এবং গুয়াংঝৌসহ দেশটির প্রায় সব বড় শহরে করোনা সংক্রমণ বিপজ্জনক পর্যায়ে পৌঁছে গেছে। কয়েকটি শহরে সংক্রমণ চুড়ান্ত পর্যায়ে উঠেছে বলেও জানিয়েছেন তারা।


আরও খবর



অশান্ত ইরান শান্ত হবে কবে

প্রকাশিত:বুধবার ২৮ ডিসেম্বর ২০২২ | হালনাগাদ:মঙ্গলবার ২৪ জানুয়ারী ২০২৩ | ৪১জন দেখেছেন
নিউজ পোস্ট ডেস্ক

Image

নীতি পুলিশের হেফাজতে কুর্দি তরুণী মাশা আমিনির মৃত্যুর জেরে চলতি বছর সেপ্টেম্বর থেকে ইরানে যে অভূতপূর্ব সরকারবিরোধী আন্দোলন শুরু হয়েছে, তার জের এখনও চলছে। বলা যায়, এই আন্দোলন ইরানের ক্ষমতাসীন ইসলামপন্থী শাসকগোষ্ঠীকে সম্পূর্ণ নতুন যুগের সামনে এনে দাঁড় করিয়েছে। সরকার প্রবর্তিত হিজাবনীতি লঙ্ঘন করায় গত ১৩ সেপ্টেম্বর রাজধানী তেহরানে পুলিশের হাতে আটক হন ২২ বছরের তরুণী মাশা আমিনি। কয়েক ঘণ্টা হেফাজতে থাকার পর হাসপাতালে ভর্তি করা হয় তাকে। সেখানে তিন দিন চিকিৎসাধীন থাকার পর ১৬ সেপ্টেম্বর মৃত্যু হয় মাশা আমিনির। মাশার পরিবারের সদস্যদের অভিযোগ, হেফাজতে ব্যাপক নির্যাতনের কারণেই মৃত্যু হয়েছে তার।

১৬ সেপ্টেম্বর মাশার মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়ার পরপরই তাকে গ্রেপ্তারে সংশ্লিষ্ট পুলিশ সদস্যদের আইনের আওতায় আনার দাবিতে বিক্ষোভ শুরু হয় ইরানের ছোট-বড় বিভিন্ন শহরে। সরকারের আইন-শৃঙ্খলা ও নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যরা সেই বিক্ষোভে দমন-পীড়ন শুরু করার পর তা পরিণত হয় সরকারবিরোধী আন্দোলনে, এবং দাবানলের মতো তা ছড়িয়ে পড়ে দেশটির সর্বত্র। সেই সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বাড়তে থাকে সরকারি বাহিনীর সদস্যদের সহিংসতা ও নির্যাতনের মাত্রাও।

ইরানের এই গণআন্দোলনের সমর্থক সংবাদমাধ্যম হারানা নিউজ এজেন্সির দাবি, আন্দোলনের শুরু থেকে ২১ ডিসেম্বর পর্যন্ত সরকারি বাহিনীর সদস্যদের গুলিতে দেশজুড়ে নিহত হয়েছেন ৫০৬ জন আন্দোলনকারী, তাদের মধ্যে ৬৯ জন অপ্রাপ্তবয়স্ক। অবশ্য পুলিশ ও নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যদের ওপর হামলার বেশ কিছু ঘটনাও ঘটেছে বিভিন্ন শহরে। সেসব হামলায় প্রাণ গেছে ৬৬ জন সদস্যের। ১৯৭৯ সালে বিপ্লবের মাধ্যমে ইরানের রাজা রেজা শাহ পাহালভিকে হটিয়ে শাসনক্ষমতা দখল করা ইসলামি শাসকগোষ্ঠী তাদের গত ৪ দশকের শাসনামলে এমন সরকারবিরোধী বিক্ষোভ কখনও দেখেনি। আন্দোলনের শুরুর দিকে এই  শাসকগোষ্ঠী বিক্ষোভকারীদের নৈরাজ্যবাদী, সন্ত্রাসী, অন্যদেশের চর বলে উল্লেখ করে সাধরণ লোকজন থেকে তাদের বিচ্ছিন্ন করে ফেলার চেষ্টা করেছিল।

কিন্তু এই প্রচেষ্টা কোনো কাজে আসেনি; বরং সরকার বিক্ষোভকারীদের প্রতি যত কঠোরতা প্রদর্শন করেছে, আন্দোলনের প্রতি দেশটির সাধারণ জনগণ সাড়া দিয়েছেন তার চেয়েও বেশি হারে। ইরানের এই গণআন্দোলন দেশটির ক্ষমতাসীন ইসলামপন্থী শাসকগোষ্ঠীকে উচ্ছেদ করার মতো শক্তিশালী নয়। কারণ, প্রথমত শাসকগোষ্ঠীর সদস্যরা যে নিরাপত্তা বলয়ে বসবাস ও চলাফেরা করেন তা অত্যন্ত সুরক্ষিত। ইরানের পুলিশ ও নিরাপত্তা বাহিনীর লোকবল যথেষ্ট, অস্ত্রভাণ্ডারও সমৃদ্ধ।

দ্বিতীয়ত, সরকারবিরোধী আন্দোলনকারীরা এখন পর্যন্ত নিজেদের মধ্যে কোনো নেতা দাঁড় করাতে পারেননি, যিনি বা যারা  নেতৃত্ব দিয়ে এই বিক্ষোভকে একটি লক্ষ্যের দিকে নিয়ে যেতে পারবেন। স্বতঃস্ফূর্ত আবেগই এই বিক্ষোভের মূল ভিত্তি এবং আন্দোলনকে কোনো লক্ষ্যের দিকে পরিচালিত করার প্রবণতা বিক্ষোভকারীদের মধ্যে প্রায় অনুপস্থিত। কিন্তু তারপরও বলা যায়, গত চার দশক ধরে ক্ষমতায় আসীন শাসকগোষ্ঠীর ভিত কাঁপিয়ে দিয়েছে এ আন্দোলন। সাধারণ জনগণ যে মাত্রায় ক্ষিপ্ত হয়ে উঠেছেন শাসকদের বিরুদ্ধে, তার সঙ্গে ক্ষমতাসীনরা একেবারেই পরিচিত নয়। আন্দোলন কবে নাগাদ থামবে তার নিশ্চয়তা কেউই দিতে পারছে না এবং বর্তমানে পরিস্থিতি এমন যে, শাসকগোষ্ঠীর যে কোনো ভুল পদক্ষেপ দেশটিকে আরও গভীর সংকটের আবর্তে ফেলে দেওয়ার জন্য যথেষ্ট।

এদিকে, ২০১৫ সালের পরমাণু চুক্তি কার্যকর করতে গত তিন বছর ধরে মরিয়া চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে ইরান। যদি এই চুক্তি কার্যকর করা সম্ভব হয়, তাহলে দেশটির ওপর জগদ্দল পাথরের মতো চেপে থাকা অনেক নিষেধাজ্ঞা শিথিল হবে, প্রাণ ফিরে পাবে জাতীয় অর্থনীতি। ২০১৭ সালে সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প যুক্তরাষ্ট্রকে এই চুক্তি থেকে বের করে এনেছিলেন, সেই সঙ্গে জারি করেছিলেন অতিরিক্ত বেশ কয়েকটি নিষেধাজ্ঞা। ২০২০ সালে জো বাইডেন প্রেসিডেন্ট হওয়ার পর চুক্তিতে যুক্তরাষ্ট্রের ফিরে আসার ইঙ্গিত দিয়েছিলেন। চলতি বছর বা আগামী বছরের প্রথমার্ধের মধ্যে সাবেক ট্রাম্প প্রশাসনের নিষেধাজ্ঞাগুলো প্রত্যাহারের সবুজ সংকেতও পাওয়া যাচ্ছিল।

কিন্তু চলমান এই সরকার বিরোধী আন্দোলন সেসব সম্ভাবনা প্রায় পুরোপুরি তছনছ করে দিয়েছে। মাশা আমিনির মৃত্যু ও তার পর আন্দোলনকারীদের ওপর দমন-পীড়নে যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপ ইতোমধ্যেই ইরানের ওপর ব্যাপক ক্ষোভ জানিয়েছে। সম্প্রতি জাতিসংঘভিত্তিক নারী অধিকার ও ক্ষমতায়ন সম্পর্কিত সংস্থা থেকেও বাদও দেওয়া হয়েছে ইরানকে। দ্রুত আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার না করা হলে আগামী ২০২৩ সাল থেকেই গভীর অর্থসংকটে পড়বেন ইরানের নিম্ন ও মধ্যবিত্ত জনগণ।

যা হতে পারে ২০২৩: আন্তর্জাতিক রাজনীতি ও নিরাপত্তা বিশ্লেষকদের মতে, ইরানের বর্তমান সংকটের মূল নিহিত আছে দেশটির কট্টরপন্থী শাসকগোষ্ঠীর মনোভাবের মধ্যেই। দেশটির সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি বিশ্বাস করেন, ইসলামী প্রজাতন্ত্র ইরান যেসব আদর্শিক ভিত্তির ওপর দাঁড়িয়ে আছে সরকারের হিজাবনীতি সেসবের মধ্যে অন্যতম এবং এটির সঙ্গে আপোস করা হলে সমূহ বিপর্যয় নেমে আসবে। সরকারের এই অনড় অবস্থানই সাড়ে আট কোটি মানুষ অধ্যুষিত দেশটির জনগণ, যাদের ৭০ শতাংশের বয়স ৩০ বছরের কমআরো বেশি ক্ষুব্ধ করে তুলছে। আবার শাসকগোষ্ঠীর অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্বও দিন দিন বাড়ছে। ইরানের ক্ষমতাকাঠামোতে সর্বোচ্চ নেতা পদটি একসঙ্গে অত্যন্ত ক্ষমতা ও মর্যাদাসম্পন্ন। ৮৩ বছর বয়স্ক খামেনির মৃত্যুর পর ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা কে হবেন তা নিয়ে বিভক্তি শুরু হয়েছে শাসকগোষ্ঠীর সদস্যদের মধ্যে। এখন পর্যন্ত যদিও এই দ্বন্দ্ব প্রকাশ্যে আসেনি, তবে যদি দ্রুত এটির কোনো সমাধান না হয় সেক্ষেত্রে জটিলতা আরও বাড়বে ইরানে।

নিউজ ট্যাগ: মাশা আমিনি

আরও খবর