
হাজীগঞ্জ পৌরসভার
৩নং ওয়ার্ড খাটরা-বিলওয়াই মজুমদার বাড়ির বশির মজুমদার ও আছমা আক্তার দম্পতি ঋণ ও চিকিৎসার
খরচ মেটাতে ১৩ মাস বয়সী সন্তান মিনাকে ঢাকার এক নিঃসন্তান দম্পতির কাছে বিক্রি করে
দেন। বিষয়টি নিয়ে বিভিন্ন গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশিত হয়। নড়েচড়ে বসে পুলিশ ও উপজেলা
প্রশাসন।
ঋণ পরিশোধ ও চিকিৎসার
খরচ মেটাতে বিক্রি করা সেই শিশু মিনাকে অবশেষে মায়ের কোলে ফিরিয়ে দিল হাজীগঞ্জ উপজেলা
প্রশাসন ও পুলিশ। বুধবার (২৩ মার্চ) দুপুরে চাঁদপুরের হাজীগঞ্জ থানায় শিশু জোবায়েরা
আক্তার মিনার মা-বাবার কোলে তুলে দেওয়া হয়।
বুধবার দুপুরে
হাজীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোমেনা আক্তার ও হাজীগঞ্জ থানা অফিসার ইনচার্জ
জুবাইর সৈয়দের প্রচেষ্টায় ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে শিশুকে উদ্ধার করে তার মা-বাবার কোলে ফিরিয়ে
দেয়া হয়েছে।
দুপুর ১টায় হাজীগঞ্জ
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোমেনা আক্তার এবং থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ
জোবাইর সৈয়দ বাড়িতে গিয়ে শিশুটির পরিবারের খোঁজখবর নেন। তখন চাঁদপুর জেলা প্রশাসক
অঞ্জনা খান মজলিশের পক্ষ থেকে শিশুটির পরিবারকে নগদ ১০ হাজার টাকার চেক তুলে দেন।
পুলিশের উপ-পরিদর্শক
নিজাম বলেন, ঢাকার শাহজাহানপুর এলাকায় ডিএমপি পুলিশের সহায়তায় রাতেই শিশুকে উদ্ধার
করা হয়। তবে ওই সময় শিশুকে কিনে নেওয়া ব্যক্তিরা বাসায় ছিলেন না। তাদের কাজের বুয়ার
কাছ থেকে শিশুকে উদ্ধার করা হয়।
সাবেক কাউন্সিলর
রায়হানুর রহমান জনি বলেন, শিশুকে উদ্ধার করতে পুলিশের সঙ্গে ঢাকায় গিয়েছি। শিশুকে পেয়ে
মা আছমা বেগম বলেন, আল্লাহর মেহেরবানিতে মিনাকে আমার কোলে ফিরে পেয়েছি। আমার সন্তানকে
ফিরে পেয়ে আমি অনেক খুশি।
বশির মজুমদারের
দুই কন্যা সন্তান ও স্ত্রীকে নিয়ে সংসার। একটি সড়ক দুর্ঘটনায় তার পা ভেঙে যায়। পরে
রড লাগানো হয়। টাকার সংকটে সেই রড খুলতে পারছেন না তিনি। বিভিন্ন ব্যক্তি ও এনজিওর
কাছে আছে প্রায় ৫ লাখ টাকার ঋণ। চিকিৎসা খরচ ও ঋণের টাকা জোগাতে এক বছর বয়সী কন্যা
শিশু মিনাকে গত সোমবার চাঁদপুরে কোর্ট এভিডেভিটের মাধ্যমে ১ লাখ টাকায় বিক্রি করে দেন
বাবা-মা।
হাজীগঞ্জ থানার
ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ জোবাইর সৈয়দ জানান, পুলিশ সুপার মিলন মাহমুদের
নির্দেশে এই পরিবারের জন্য আর্থিক সহায়তাসহ পাশে থাকবে পুলিশ।

