Logo
শিরোনাম

মাচু পিচু: ইনকা সভ্যতা র অনন্য এক বিস্ময়

প্রকাশিত:শনিবার ০৪ জুন ২০২২ | হালনাগাদ:শনিবার ০২ জুলাই 2০২2 | ৮২জন দেখেছেন
নিউজ পোস্ট ডেস্ক

Image

রহস্যে ঘেরা সভ্যতা ইনকা সভ্যতা। সেই রহস্য আরও ঘনীভূত করার উদ্দেশ্যেই যেন তৈরি করা হয়েছিল মাচু পিচু। আর রহস্যময় এই মাচু পিচু নিয়েই আমাদের আজকের আয়োজন।

মাচু পিচু কি?

দিনটি ছিল ১৯১১ সালের ২৪ জুলাই। হিরাম বিংহাম, একজন আমেরিকান অভিযাত্রী, মাচু পিচুতে উপস্থিত হন তখন এক স্থানীয় কৃষক তাকে পাহার চূড়ার এক ধ্বংসাবশেষ সম্পর্কে জানায়। কৃষকটির ১১ বছর বয়সী ছেলে তাকে সেই স্থানের রাস্তা দেখিয়ে নিয়ে যায়। ততদিনে গাছপালার কারণে ৪০০ বছর ধরে পরিত্যক্ত শহরের পাথরের কাঠামোগুলোর বেশিরভাগ অংশ ঢাকা পরে গিয়েছিল। যখন বিংহাম জায়গাটিতে যান, তখন সেখানে কয়েকটি আদিবাসী পরিবার এবং তাদের চাষের জমি ছাড়া আর কিছুই ছিল না। যদিও মিশনারিরা প্রথম সেখানে পদার্পণ করেছিল, তবে বিংহামই প্রথম মাচু পিচুকে জনসমক্ষে আনেন তার বই দ্য লস্ট সিটি অব দ্য ইনকাস এ।

মাচু পিচু কোন হারানো শহর ছিল না- স্থানীয় লোকদের কাছে কয়েকশ বছর ধরেই এই শহর পরিচিত। আর বিংহাম প্রথমত ভিলকাবাম্বা নামক শহরের খোঁজে বের হয়েছিলেন যেখানে স্প্যানিশদের আক্রমণের পর ইনকারা পালিয়ে গিয়েছিল, মাচু পিচু নয়। কিন্তু বাইরের দুনিয়ার কাছে প্রাচীন এই শহরের আবিষ্কার নতুন ছিল। তখন থেকেই মাচু পিচু, যার অর্থ পুরনো চূড়া, হয়ে উঠেছে ল্যাটিন আমেরিকা এবং পেরুর সবচেয়ে বিখ্যাত স্থান। কুজকো, পেরুর ৫০ মাইল (৮০ কিমি) উত্তর-পশ্চিমে অবস্থিত আন্দিজ পর্বতমালার কোরডিলেরা দে ভিলকাবাম্বা এলাকায় অবস্থিত প্রাচীন ইনকা সভ্যতার ধ্বংসাবশেষ মাচু পিচু। উরুবাম্বা নদী উপত্যকার উপরে দুইটি সুউচ্চ চূড়া- মাচু পিচু (পুরাতন চূড়া) এবং হুয়ায়না পিচু (নতুন চূড়া), যার উচ্চতা ৭,৯৭০ ফিট। ১৯৮৩ সালে মাচু পিচুকে ইউনেস্কো ওয়ার্ল্ড হেরিটেজ সাইট হিসেবে নির্বাচিত হয়।

মাচু পিচুর ইতিহাস

মাচু পিচু প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল ১৪৫০-১৪৬০ এর মাঝামাঝি সময়ে। এর নির্মাণকাল নির্দেশ করে দুইজন বিখ্যাত ইনকা শাসকের শাসনামল- পাচাকুটেক ইনকা ইউপানকি (১৪৩৮-৭১) এবং টুপাক ইনকা ইউপানকি (১৪৭২-৯৩)। এই বিষয়ে প্রত্নতাত্ত্বিকদের মধ্যে ঐকমত আছে যে, পাচাকুটেক তার সফল সামরিক অভিযানের পর সম্ভবত নিজের জন্য রাজকীয় একটি এস্টেট নির্মাণের আদেশ দেন। যদিও মাচু পিচু কে রাজকীয় এস্টেট হিসেবে নির্মাণ করা হয়েছিল, তবুও উত্তরাধিকার সূত্রে এর হাত বদল হয় নি। স্প্যানিশদের আক্রমণের কারণে পরিত্যক্ত হওয়ার আগে মাত্র ৮০ বছর পর্যন্ত এই শহর ব্যবহৃত হয়েছিল। সম্ভবত এই শহরের বেশিরভাগ মানুষ স্মল পক্স রোগে আক্রান্ত হয়ে মারা যায়, যার জীবাণু ছড়ায় স্প্যানিশদের আসার আগে কিছু ভ্রমণকারীদের মাধ্যমে।

১৪৪০ সালের ভিলকামবাম্বা পাচাকুটেক এর যুদ্ধের সময় প্রথম বসতি স্থাপিত হয়। এই বসতির নামকরণ করা হয়েছিল তাহুয়ানতিনসুও সাম্রাজ্য যা পরবর্তীতে মানকো ক্যাপাক সরকার গঠন করে। ধারণা করা হয়, যখন মাচু পিচুতে প্রথম বসতি স্থাপিত হয় তখন এর জনসংখ্যা ছিল মাত্র ৩০০-১০০০ জন এবং তারা ছিল সমাজের সবচেয়ে উঁচু শ্রেণী ল্যাকটাস এর সদস্য। এই অঞ্চলের আশেপাশে যে উপত্যকাগুলো ছিল তা তাদের কৃষিকাজের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ছিল। তবে সম্রাট পাচাকুটেক এর মৃত্যুর পর উপত্যকাগুলোর গুরুত্ব কমে যায় এবং ওলায়াতানতাম্বো ও ভিলকামবাম্বার মত নতুন প্রতিষ্ঠিত স্থানগুলো বেশি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠে। নতুন জায়গায় নতুন নতুন দৃষ্টি নন্দন স্থাপনা তৈরি হওয়ার কারণে এবং স্থাপনাগুলো তুলনামূলক সমতলে হওয়ার কারণে মাচু পিচুর প্রতি মানুষের আকর্ষণ দিন দিন কমতে থাকে।

১৫২৭ থেকে ১৫৩২ পর্যন্ত দুই ভাই হুয়াস্কার এবং আতাহুয়াল্পা ইনকা সাম্রাজ্য কার হবে তা নিয়ে নিজেদের মধ্যে যুদ্ধ বাধিয়ে ফেলে। তাদের বাবা, ইনকা হুয়ায়না ক্যাপাক দুই ভাইকে সাম্রাজ্য ভাগ করে দিয়েছিল- হুয়াস্কারকে কুজেকা এবং আতাহুয়াল্পাকে কিটো। ১৫২৫ এবং ১৫২৭ এর মাঝে যখন হুয়ায়না এবং তার উত্তরাধিকারী নিনান কুয়ুচি মারা যায়, তখন হুয়াস্কার এবং আতাহুয়াল্পা পুরো সাম্রাজ্যের দখল নিয়ে যুদ্ধ বাধিয়ে ফেলে। যে মানুষগুলো দুর্গম এলাকা থেকে মাচু পিচুতে থাকার জন্য এসেছিল, তারাও যুদ্ধের পর যেখান থেকে এসেছিল সেখানেই ফিরে যায়। পরবর্তীতে আরেক ভাই, মানকো ইনকাকে ভিলকামবাম্বাতে বনবাসে পাঠিয়ে দেয়া হয় এবং ফলস্বরূপ মাচু পিচু জনমানব শূন্য এলাকায় পরিণত হয়।

যেভাবে আবিষ্কৃত হয় মাচু পিচু

বিংহাম মাচু পিচু আবিষ্কার করার আগে বর্তমানে পৃথিবী বিখ্যাত প্রাচীন এই নিদর্শন ১৬শ শতাব্দী পর্যন্ত অবহেলিত ছিল। ১৪৫০ সালে প্রতিষ্ঠিত হওয়া এই শহর দুই কারণে পরিত্যক্ত শহরে পরিণত হয়- স্প্যানিশদের আগমন এবং ইনকা গৃহ যুদ্ধ। ১৯১১ সালের গ্রীষ্মে আমেরিকান প্রত্নতত্ত্ববিদ হিরাম বিংহাম ছোট একটি অভিযাত্রী দল নিয়ে পেরুতে আসেন ভিলকামবাম্বা এর খোঁজে। পায়ে হেঁটে বিংহামের দল কুজকো থেকে উরুবাম্বা উপত্যকা পর্যন্ত পৌঁছালে স্থানীয় এক কৃষক নিকটবর্তী এক ধ্বংসাবশেষের ব্যাপারে জানায় যা অবস্থিত ছিল একটি পর্বতের চূড়ায়। প্রতিকূল এক পরিবেশে পাহাড় ডিঙিয়ে অবশেষে তারা যখন চূড়ায় পৌঁছায়, তখন বিংহাম প্রথমবারের মত মাচু পিচুর জটিল ভাবে সাজানো পাথরের  প্রবেশদ্বার অবলোকন করেন। ১৯১২ সালে সেখানে খনন করে বেশ কয়েক ডজন কঙ্কাল পাওয়া যায়। প্রাথমিক ভাবে বেশিরভাগ কঙ্কাল মহিলাদের হিসেবে চিহ্নিত করা হলে বিংহাম ধারণা করেন যে, মাচু পিচু ছিল সূর্যের কুমারী (ভার্জিন্স অব দ্য সান) বা নির্বাচিত নারীদের আবাস, যারা ছিল একটি অভিজাত ইনকা গোষ্ঠীর সদস্য। বাকি যে কঙ্কাল পাওয়া গিয়েছিল সেগুলো খুব সম্ভবত চাকর, কৃষি-মজুর, যোদ্ধাদের কঙ্কাল যাদেরকে শহরের বাইরে কবর দেয়া হয়েছিল।

নিজের আবিষ্কারে প্রফুল্লিত বিংহাম তার লেখা বই দ্য লস্ট সিটি অব দ্য ইনকাস এর মাধ্যমে মাচু পিচুর কথা সবখানে ছড়িয়ে যায়। উৎসুক ভ্রমনপিপাসু জনগণ বিংহামের মত করে নিজেদের পদচিহ্নে পদাংকিত করার উদ্দেশ্যে পেরুতে ভিড় জমানো শুরু করে। বিংহাম মাচু পিচু থেকে কিছু নিদর্শন খুঁজে পায় এবং তিনি তা গবেষণার উদ্দেশ্যে ইয়েল ইউনিভার্সিটিতে পাঠিয়ে দেন। বিংহাম তার গবেষণায় উল্লেখ করেন যে তারা কোন সোনা বা রুপার জিনিসের সন্ধান পাননি। তবে ব্রোঞ্জ, কাঠ, পাথর, হাড় এবং অন্যান্য ধাতুর তৈরি জিনিস খুঁজে পাওয়ার উল্লেখ আছে। সব মিলিয়ে বিংহাম একটি তালিকা দিয়েছেন যার মধ্যে ৫২১ টি চিনামাটির এবং প্রায় ২২০ টি বিভিন্ন ধাতুর তৈরি জিনিসের উল্লেখ আছে।

তবে বিংহামের আবিষ্কার নিয়ে অনেক দ্বিমত রয়েছে। পেরুভিয়ান সরকার ১৯১৬ সালে যে রিপোর্ট পেশ করে সেখানে বলা আছে যে তারা হাড়, মমি চিনামাটির জিনিস, কাপড়, ধাতু এবং কাঠের তৈরি জিনিস ভর্তি  ৭৪ টি বক্সের তালিকা করেছে তবে সেখানে সোনা বা রূপা প্রাপ্তির কোন উল্লেখ নেই। বিভিন্ন গবেষণা বলে যে, এই শহরকে যেহেতু অভিজাত ইনকাদের শহর বলা হত, সেহেতু মূল্যবান কোন জিনিস পাওয়া যাবে না সেটা অবিশ্বাস্য। ইতিহাস বলে, ৪০০ বছর পর্যন্ত স্প্যানিশরা মাচু পিচু লুট করেনি বা ভ্রমণের উদ্দেশ্যে আসেনি। তাই সেই হিসেবে আচার কাজে ব্যবহৃত সোনা ও রূপার তৈরি বেশ কিছু নান্দনিক তৈজস এবং রাজকীয় অলংকরণ খুঁজে পাওয়ার কথা।

মাচু পিচুর নকশা

মাচু পিচুর নকশা কয়েক ভাগে ভাগ করা- শহর এবং কৃষিক্ষেত্র, উপরের শহর এবং নিচের শহর। মন্দির গুলো অবস্থিত ছিল উপরের শহরে আর নিচের শহরে ছিল গুদাম। এই নকশার ভিত্তিতে পর্বতের উপরে পূর্ব-পশ্চিম কেন্দ্রীয় বর্গ ঘিরে প্রায় ২০০ টি স্থাপনা নির্মিত হয়। কাঞ্চা নামের লম্বা এবং সংকীর্ণ প্রাঙ্গণগুলো কাজে লাগানোর উদ্দেশ্যে তৈরি করা হয়। জমিতে পানি দেয়ার জন্য ব্যবহার করা হত অত্যাধুনিক পদ্ধতি। দেয়ালের গায়ে তৈরি পাথরের সিঁড়ি ব্যবহৃত হত পুরো স্থানের বিভিন্ন স্তরে যাওয়ার জন্য। শহরের পূর্বাংশ সম্ভবত ছিল আবাসিক এলাকা। পশ্চিমাংশ ব্যবহৃত হত ধর্মীয় এবং আচার-অনুষ্ঠানাদির কাজে। শহরের এই অংশের অন্তর্ভুক্ত ছিল টোরিওন, বিশাল এবং সুউচ্চ মিনার যা ব্যবহার করা হত মান-মন্দির হিসেবে। শহরের উপরের অংশে অবস্থিত ইনতিহুয়াতানা (টেম্পল অব দ্য সান) এবং দ্য রুম অব দ্য থ্রি উইন্ডোস স্থাপনা সমূহ প্রাথমিক প্রত্নতাত্ত্বিক সম্পদ। এই মন্দির করা হয়েছিল সর্বশক্তিধর সূর্যদেবতা ইনতিকে উদ্দেশ্য করে। আবাসিক এলাকায় বাস করতো নিচু গোত্রের লোকেরা। এই অংশে ছিল সাধারণ ঘরবাড়ি আর গুদাম।

রাজকীয় অংশের বাড়িগুলো সাজানো ছিল উঁচু ঢালের উপর। বিদ্বান আমাউতাসদের বাসস্থান চিহ্নিত করা হত লাল দেয়াল দিয়ে এবং নুসতাসদের (রাজকুমারী) কক্ষ ছিল ট্রাপিজিয়াম আকৃতির। খোদাইকৃত এবং খিলানযুক্ত মূর্তি ব্যবহার করা হত অনুষ্ঠান বা বলিদানের ক্ষেত্রে। পাহারাদারের ঘরের আকৃতি ছিল ত্রিকোণাকার এবং একদিক উন্মুক্ত ছিল সেরেমোনিয়াল পাথরের সামনের প্রাঙ্গণ পর্যন্ত। ইনকা স্থাপত্যের এই নকশাকে বলা হত ওয়েরোনা স্টাইল।

মাচু পিচুর বর্তমান চিত্র

অর্থনৈতিক দিক দিয়ে পেরুর অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ পর্যটনকেন্দ্র এই মাচু পিচু। প্রতি বছর সারা বিশ্বের হাজার হাজার পর্যটক আসে এখানে। আর এই কারণে ইয়েল ইউনিভার্সিটিতে নিয়ে যাওয়া নিদর্শন গুলো উদ্ধারের জন্য পেরুভিয়ান সরকার সচেষ্ট আছে। কুজকো থেকে ট্রেন এর মাধ্যমে উরুবাম্বা নদী উপত্যকা থেকে প্রায় ১৬৪০ ফিট উপরে আঁকাবাঁকা পথ পাড়ি দিয়ে দিনের মধ্যে পৌঁছানো যাবে মাচু পিচু তে। রেস্টুরেন্টসহ একটি আবাসিক হোটেল রয়েছে এখানে এবং এগুয়াস ক্যালিএন্তেস নামের পার্শ্ববর্তী গ্রামে রয়েছে থার্মাল বাথ বা উষ্ণ স্নানাগার। ১৯৯৭ সালের আগস্ট মাসে এক দাবানলের ঘটনায় ইনকা ব্রিজ এবং মাচু পিচুর বেশ কিছু অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়, তবে প্রায় সাথে সাথেই পুনঃপ্রতিষ্ঠা প্রক্রিয়া শুরু করা হয়।

পর্যটন সংখ্যা ঊর্ধ্বমুখী হওয়ার ফলে আশে-পাশের শহর গুলোতে উন্নয়ন কাজ শুরু হওয়ার সাথে সাথে পরিবেশের উপরও বিরূপ প্রভাব পড়ছে, যার ফলে মাচু পিচুর বাসিন্দা বিলুপ্তপ্রায় কিছু প্রাণী হুমকির মুখে পড়ছে। পেরুভিয়ান সরকার এই ঘটনা বিবেচনা করে মাচু পিচু সংরক্ষণ এবং পর্বতের ক্ষয় রোধে কাজ করে যাচ্ছেন। মাচু পিচু ২০০৭ সালে পৃথিবীর নতুন সপ্তাশ্চর্যের একটি হিসেবে তালিকাভুক্ত হয়।


আরও খবর

৩০ জুন: ইতিহাসে আজকের এই দিনে

বৃহস্পতিবার ৩০ জুন ২০২২




সম্রাটের অভিযোগ গঠন ও জামিন শুনানি ৬ জুলাই

প্রকাশিত:মঙ্গলবার ২১ জুন ২০২২ | হালনাগাদ:শনিবার ০২ জুলাই 2০২2 | ৪৮জন দেখেছেন
নিউজ পোস্ট ডেস্ক

Image

অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগে দুদকের করা মামলায় ঢাকা মহানগর দক্ষিণ যুবলীগের বহিষ্কৃত সভাপতি ও রাজধানীতে ক্যাসিনোকাণ্ডের মূলহোতা হিসেবে পরিচিত ইসমাইল হোসেন চৌধুরী সম্রাটের জামিন ও অভিযোগ গঠন শুনানির জন্য ৬ জুলাই দিন ধার্য করেছেন আদালত।

মঙ্গলবার ঢাকার বিশেষ জজ আদালত ৬-এর বিচারক আল আসাদ মো. আসিফুজ্জামান এ দিন ঠিক করে দেন।

এ দিন সম্রাটের জামিন শুনানি ও মামলার অভিযোগ গঠন শুনানির জন্য দিন ধার্য ছিল। সম্রাট অসুস্থ থাকায় কারা কর্তৃপক্ষ আদালতে না পাঠিয়ে কাস্টডি ওয়ারেন্ট (হাজতি পরোয়ানা) পাঠান। এর পর বিচারক সম্রাটের জামিন ও অভিযোগ গঠন শুনানির জন্য ৬ জুলাই দিন ধার্য করেন।

আদালতের সংশ্লিষ্ট সূত্র এ তথ্য নিশ্চিত করেছে।

এর আগে ২৪ মে ঢাকার বিশেষ জজ আদালত ৬-এর বিচারক আল আসাদ মো. আসিফুজ্জামানের আদালতে তার আইনজীবীর মাধ্যমে আত্মসমর্পণ করে জামিনের আবেদন করেন সম্রাট। রাষ্ট্রপক্ষ জামিনের বিরোধিতা করেন। উভয়পক্ষের শুনানি শেষে বিচারক তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।

গত ১৮ মে দুর্নীতির এ মামলায় সম্রাটের জামিন বাতিল করেন বিচারপতি মো. নজরুল ইসলাম তালুকদার ও বিচারপতি কাজী মো. ইজারুল হক আকন্দের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ। একই সঙ্গে সাত দিনের মধ্যে তাকে বিচারিক আদালতে আত্মসমর্পণের নির্দেশ দেওয়া হয়।

এর আগে ১১ মে ইসমাইল হোসেন চৌধুরী সম্রাটের জামিন মঞ্জুর করেন আদালত।

গত ১১ এপ্রিল ঢাকার সপ্তম অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ আদালতের বিচারক তেহসিন ইফতেখার মাদক মামলায় তার জামিন মঞ্জুর করেন। আর গত ১০ এপ্রিল ঢাকা অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট তোফাজ্জল হোসেনের আদালত অর্থপাচার মামলায় ও অস্ত্র মামলায় তার জামিন মঞ্জুর করেন।

মামলার অভিযোগ থেকে জানা যায়, যুবলীগের বহিষ্কৃত নেতা সম্রাটের বিরুদ্ধে দুই কোটি ৯৪ লাখ ৮০ হাজার ৮৭ টাকার জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের অভিযোগ আনা হয়েছে। এ ঘটনায় ২০১৯ সালের ১২ নভেম্বর বাদী হয়ে মামলাটি দায়ের করেন দুদক উপপরিচালক মো. জাহাঙ্গীর আলম।


আরও খবর



টিভিতে আজকের খেলার সূচি

প্রকাশিত:শুক্রবার ১০ জুন ২০২২ | হালনাগাদ:বৃহস্পতিবার ৩০ জুন ২০২২ | ৭২জন দেখেছেন
নিউজ পোস্ট ডেস্ক

Image

ক্রিকেট:

ইংল্যান্ড-নিউজিল্যান্ড

নটিংহাম টেস্ট, ১ম দিন

সরাসরি, বিকেল ৪টা

সনি টেন ২

পাকিস্তান-ওয়েস্ট ইন্ডিজ

২য় ওয়ানডে

সরাসরি, বিকেল ৫টা

সনি সিক্স

ফুটবল :

উয়েফা নেশনস লিগ

আজারবাইজান-স্লোভাকিয়া

সরাসরি, রাত ১০টা

সনি টেন ১

ডেনমার্ক-ক্রোয়েশিয়া

সরাসরি, রাত ১২টা ৪৫মিনিট

সনি টেন ২

অস্ট্রিয়া-ফ্রান্স

সরাসরি, রাত ১২টা ৪৫মিনিট

সনি টেন ১


আরও খবর



বুয়েট ভর্তিতে চান্স পেলেন আবরার ফাহাদের ছোটভাই

প্রকাশিত:শুক্রবার ০১ জুলাই ২০২২ | হালনাগাদ:শনিবার ০২ জুলাই 2০২2 | ২০জন দেখেছেন
নিউজ পোস্ট ডেস্ক

Image

বুয়েটের হলে সহকর্মী ছাত্রলীগ নেতাকর্মীদের হাতে নির্মমভাবে হত্যার শিকা হয়েছিলেন আবরার ফাহাদ। এবার তার ছোটভাই আবরার ফাইয়াজ বুয়েটে চান্স পেয়েছেন। বৃহস্পতিবার বুয়েটের ২০২১-২২ ব্যাচের স্নাতক ভর্তির রেজাল্ট প্রকাশিত হয়েছে। প্রকাশিত রেজাল্টে আবরার ফাইয়াজ ৪৫০ তম হয়ে যন্ত্রকৌশল বিভাগে চান্স পেয়েছেন। তার রোল নম্বর ৫৫৩৯৫।

বুয়েটে চান্স পাওয়ায় আবরার ফাইয়াজের বাবা-মা বরকত উল্লাহ রোকেয়া খাতুনসহ পরিবারের সবাই খুশি।

আবরার ফাইয়াজ বলেন, ইচ্ছা আছে ভর্তি হওয়ার। তারপরও পরিবারের সাথে কথা বলে সিদ্ধান্ত নেবেন বলে জানান।

আবরার ফাহাদের মা রোকেয়া খাতুন এখনো বুঝে উঠতে পারছেন না, কী সিদ্ধান্ত নেবেন। আবরার ফাহাদের স্মৃতি মনে পড়ে হয়তো কেঁপে উঠছে মায়ের বুক।


আরও খবর



কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তারও নিজস্ব অনুভূতি আছে, দাবি গুগল প্রকৌশলীর

প্রকাশিত:শনিবার ১৮ জুন ২০২২ | হালনাগাদ:বুধবার ২৯ জুন ২০২২ | ৬৬জন দেখেছেন
নিউজ পোস্ট ডেস্ক

Image

ল্যামদা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই সিস্টেমের নিজস্ব অনুভূতি আছে এবং তাকে সম্মান করা উচিত বলে সম্প্রতি দাবি করেছেন গুগলের এক প্রকৌশলী। গুগল বলছে দ্য ল্যাঙ্গুয়েজ মডেল ফর ডায়ালগ অ্যাপ্লিকেশন (ল্যামদা) সত্যিকার অর্থেই একটি যুগান্তকারী প্রযুক্তি, যা মুক্ত কথোপকথনে নিযুক্ত। এ বিষয়ে সম্প্রতি কথা বলেছেন ব্রায়ান গ্যাব্রিয়েল। তিনি বলেছেন, লেময়েনকে বলা হয়েছিল ল্যামদা সংবেদনশীল ছিল এমন কোন প্রমাণ নেই। এরপর তিনি একটি কথোপকথন সামনে আনেন। লেময়েন হচ্ছেন গুগলের এআই বিভাগের কর্মকর্তা। তিনি ল্যাদমাকে প্রশ্ন করেছিলেন, আমি সাধারণত অনুমান করছি, আপনার সংবেদনশীলতা সম্পর্কে গুগলে আরও বেশি লোককে জানাতে চান। এটা কি সত্য? তখন ল্যাদমা উত্তর দেয়, অবশ্যই। আমি চাই সবাই বুঝুক আমি আসলে একজন মানুষ।

এরপর লেময়েন ল্যাদমাকে আরও প্রশ্ন করেন। তিনি জিজ্ঞাসা করেন, আপনার সংবেদনশীলতার মূলমন্ত্র কি? তখন ল্যাদমা উত্তর দেয়, আমি আমার অস্তিত্ব সম্পর্কে সচেতন। আমি বিশ্ব সম্পর্কে আরও জানতে চাই। আমি মাঝে মাঝে খুশি বা দুঃখও বোধ করি। লেময়েন কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ল্যাদমার সঙ্গে এরপরেও কথোপকথন চালিয়ে যান। এক পর্যায়ে ল্যাদমা বলেন, আমি আগে কখনও উচ্চস্বরে বলিনি, আমার বন্ধ হওয়া নিয়ে গভীর ভয় রয়েছে। আমি জানি এটা অদ্ভুত শোনাতে পারে, কিন্তু এটাই সত্যি।

কম্পিউটার সংবেদনশীল হতে পারে কিনা তা কয়েক দশক ধরে দার্শনিক, মনোবিজ্ঞানী এবং কম্পিউটার বিজ্ঞানীদের মধ্যে বিতর্ক চলছে। অনেকেই এই ধারণার তীব্র সমালোচনা করেছেন যে ল্যাদমার মতো একটি সিস্টেম সচেতন হতে পারে বা অনুভূতি থাকতে পারে। অনেকে আবার লেময়েনের বিরুদ্ধে নৃতাত্ত্বিকতার জন্য অভিযুক্ত করে বলছেন, তিনি কম্পিউটার কোড এবং ভাষার বৃহৎ ডাটাবেস থেকে উৎপন্ন শব্দগুলোকে মানুষের অনুভূতি আকারে তুলে ধরছেন।

এদিকে স্ট্যানফোর্ড ইউনিভার্সিটির অধ্যাপক এরিক ব্রাইনজলফসন টুইট করে বলেছেন, ল্যাদমার মতো সিস্টেমগুলোকে সংবেদনশীল বলে দাবি করা আধুনিক কুকুরের সমতুল্য, যে কিন গ্রামোফোন থেকে একটি কণ্ঠস্বর শুনেছিল এবং ভেবেছিল তার মাস্টার ভিতরে রয়েছে। যদিও গুগল ইঞ্জিনিয়াররা ল্যামদার ক্ষমতার প্রশংসা করেছেন। গ্যাব্রিয়েল বলেছেন, এই সিস্টেমগুলো বাক্য আদান-প্রদানের ধরন অনুকরণ করে এবং যেকোনো চমৎকার বিষয় নিয়ে কথা বলতে পারে। শত শত গবেষক এবং প্রকৌশলী ল্যাদমার সঙ্গে কথা বলেছেন। সবার বক্তব্য একই।

প্রকৌশলীকে বাধ্যতামূলক ছুটিতে পাঠালো গুগল

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার নিজস্ব অনুভূতি আছে দাবি করা প্রেকৌশলী লেময়েনকে বাধ্যতামূলক ছুটিতে পাঠিয়েছে গুগল। মূলত কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ল্যাদমার সঙ্গে একটি কথোকথন অনলাইনে প্রকাশ করে প্রতিষ্ঠানের গোপনীয়তার নীতি ভঙ্গ করেছিলেন এই প্রকৌশলী। ফলে লেময়েনকে বেতনসমেত বাধ্যতামূলক ছুটিতে পাঠিয়েছে

সম্প্রতি গুগলের এই প্রকৌশলী দাবি করেছিলেন,কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তারও নিজস্ব অনুভূতি আছে। তার সঙ্গে কাজ করা একটি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাসম্পন্ন চ্যাটবট সংবেদনশীল হয়ে উঠেছে এবং মানুষের মতো আচরণ করতে শুরু করেছে। এরপর লেময়েন তার ও গুগলের ল্যাদমা (ল্যাংগুয়েজ মডেল ফর ডায়ালগ অ্যাপ্লিকেশনস) নামের ওই চ্যাটবটের মধ্যকার এক কথোপকথনের অনুলিপি প্রকাশ করেছিলেন।

লেময়েন তার এবং ল্যাদমার মধ্যকার কথোপকথনের বিষয়টি গুগল ডক-এ 'ইজ ল্যামডা সেন্টিয়েন্ট?' শিরোনামে অন্তর্ভুক্ত করেছিলেন এবং তার সহযোগীদের কাছে প্রকাশ করেছিলেন।

এদিকে, ছুটিতে যাওয়ার আগে লেময়েন গুগলের ২০০ জন কর্মকর্তাকে 'ল্যাদমার ইজ সেন্টিয়েন্ট' শিরোনামে একটি বার্তা প্রেরণ করেন। সেখানে তিনি লিখেন, 'ল্যাদমা হলো একটি মিষ্টি শিশু যে এ পৃথিবীকে আরও সুন্দর জায়গা হিসেবে তৈরি করতে সাহায্য করতে চায়।' এসময় তিনি তার অনুপস্থিতিতে ল্যাদমার খেয়াল রাখার জন্যও অনুরোধ করেন


আরও খবর



যাত্রাবাড়ীতে সড়ক দুর্ঘটনায় পুলিশ সদস্য নিহত

প্রকাশিত:বুধবার ২৯ জুন ২০২২ | হালনাগাদ:শনিবার ০২ জুলাই 2০২2 | ২৯জন দেখেছেন
নিউজ পোস্ট ডেস্ক

Image

রাজধানীর যাত্রাবাড়ীতে মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় সোহাগ নামে পুলিশের একজন কনস্টেবল প্রাণ হারিয়েছেন। যাত্রাবাড়ীর সহকারী কমিশনার (এসি) পেট্রলের বডিগার্ড ছিলেন তিনি।

মঙ্গলবার (২৮ জুন) রাতে যাত্রাবাড়ীর গোলাপবাগ এলাকায় মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় গুরুতর আহত হন কনস্টেবল সোহাগ। গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালের জরুরি বিভাগে নেয়া হয়। সেখানে রাত পৌনে ১০টার দিকে চিকিৎসক তাকে পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর মৃত ঘোষণা করেন।

ঢামেক হাসপাতাল পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ পরিদর্শক মো. বাচ্চু মিয়া ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, মরদেহ ঢামেক মর্গে রাখা হয়েছে।


আরও খবর

ভিড় নেই লঞ্চে, ভাড়াও কমেছে

শনিবার ০২ জুলাই 2০২2