Logo
শিরোনাম

মানিকগঞ্জের শত বছরের ঐতিহ্যবাহী ঝিটকার ‘হাজারি গুড়’

প্রকাশিত:সোমবার ২৮ ডিসেম্বর ২০২০ | হালনাগাদ:মঙ্গলবার ১৫ জুন ২০২১ | ৫৫৪জন দেখেছেন
নিউজ পোস্ট ডেস্ক

Image

মানিকগঞ্জের ইতিহাস ও ঐতিহ্যের সঙ্গে মিশে আছে ঝিটকার হাজারি গুড়র নাম। এ গুড়ের সুনাম রয়েছে এশিয়া থেকে ইউরোপ মহাদেশে।

শুধু তাই নয় গুড় তৈরি নিয়ে রয়েছে নানা রূপকথা।

জানা যায়, কয়েকশ বছর আগে ঝিটকা এলাকায় হাজারি প্রামানিক নামে এক গাছি ছিলেন। তিনি খেজুরের রস দিয়ে গুড় তৈরি করতেন। একদিন বিকেলে তিনি খেজুর গাছে হাঁড়ি বসিয়ে নামা মাত্রই এক দরবেশ এসে হাজির হন তার সামনে এবং কাঁচা রস খেতে চান তার কাছে। তখন তিনি বলেন সবেমাত্র গাছে হাঁড়ি বসিয়েছি এতো অল্প সময়ে বড় জোর ১০-১৫ ফোঁটা রস হাড়িতে পড়েছে তবুও দরবেশ রস খেতে চান। তখন হাজারি প্রামানিক খেজুর গাছে ওঠেন এবং দেখতে পান সারারাত ধরে যতো রস পড়তো সে পরিমাণ রসে হাড়ি ভরে গেছে। গাছি হাড়ি ভরপুর রস নিয়ে নিচে নেমে ওই দরবেশকে রস খাওয়ান এবং পা জড়িয়ে ধরেন।

গাছিকে বুকে জড়িয়ে নিয়ে দরবেশ বলেন, কাল থেকে তুই যে গুড় তৈরি করবি তা সবাই খাবে এবং তোর গুড়ের সুনাম দেশ-বিদেশে ছড়িয়ে পড়বে। তোর সাত পুরুষ এ গুড়ের সুনাম ধরে রাখবে বলেই দরবেশ দ্রুত চলে যান। এরপর অনেক খোঁজাখুঁজি করেও ওই দরবেশকে পাওয়া যায়নি। এরপর থেকেই গুড়ের নামকরণ করা হয় হাজারি গুড়

রানি এলিজাবেথকে নিয়ে প্রচলিত কল্পকাহিনী:

যুগটি ছিলো ভারত বর্ষের সম্রাট আকবরের স্বর্ণযুগ। তখন ব্রিটিশ রানি এলিজাবেথ ভারতবর্ষ সফরে আসেন। শত বছরের জনশ্রুতি মতে, মানিকগঞ্জ অঞ্চলের গুড়ের ঘ্রাণ ও স্বাদে মুগ্ধ হয়েছিলেন রানি, গুড় হাতে নিয়ে একটু চাপ দিতেই হাজার টুকরো হয়ে গিয়েছিল। রানি এলিজাবেথ গুড় খেয়ে এতই মজা পেয়েছিলেন যে, গুণমুগ্ধতা প্রকাশ করতে আগ্রহী হয়ে হাজারি নামে একটি সিলমোহর তৈরি করে দিয়ে গেছেন এবং তিনি নিজেই ছড়িয়ে দিয়েছিলেন এ গুড়ের নাম।

হাজারি গুড় তৈরির পদ্ধতি:

বিকেল ও সন্ধ্যার আগ মুহূর্ত্বে যেকোনো সময় গাছি হাড়ি বসান খেজুর গাছে। পৌষের প্রথম থেকেই আসমান ছোঁয়া খেজুর গাছ থেকে ভোর বেলায় গাছি মাটির তৈরি হাড়িতে করে রস নামায়। রস নামানোর পর তা নিয়ে যাওয়া হয় গাছি বাড়িতে তারপর রস নামিয়ে ছেকে ময়লা পরিস্কার করে আদি প্রক্রিয়ায় টিনের তাফালে (পাত্র) করে মাটির চুলায় রস জ্বাল দিয়ে ঘন করতে হয়। রসের ঘনত্ব বেড়ে গেলে একটি মাটির হাড়িতে বিশেষ প্রক্রিয়ায় ঘুটে ঘুটে তৈরি করা হয় সাদা রঙের হাজারি গুড়।