Logo
শিরোনাম

মৃত্যুশয্যায় আলেকজান্ডারের তিনটি ইচ্ছা

প্রকাশিত:সোমবার ৩১ জুলাই ২০২৩ | হালনাগাদ:শুক্রবার ২৪ নভেম্বর ২০২৩ | ১৮০৫জন দেখেছেন
নিউজ পোস্ট ডেস্ক

Image

অ্যাড্রিয়াটিক সাগর থেকে সিন্ধু নদ পর্যন্ত এক বিশাল সাম্রাজ্যের অধিশ্বর হয়ে ওঠেন আলেকজান্ডার। তাকে নিয়ে প্রতিনিয়ত তৈরি হতে থাকে নানা রোমাঞ্চকর গল্প।

অ্যারিস্টটলের ছাত্র ছিলেন

যিশু খ্রিস্টের জন্মের ৩০০ বছরেরও বেশি সময় আগের ঘটনা। পৃথিবী দেখেছিল এক বিশাল মাপের রাজাকে। তিনি প্রাচীন গ্রিসের ম্যাসিডনের রাজা আলেকজান্ডার দ্য গ্রেট। খ্রিস্টপূর্ব ৩৫৬ সালে তার জন্ম। মাত্র ২০ বছর বয়সে পিতা দ্বিতীয় ফিলিপের স্থলাভিষিক্ত হন তৃতীয় আলেকজান্ডার। গ্রিক দার্শনিক অ্যারিস্টটলের ছাত্র আলেকজান্ডারকে বলা হতো অর্ধেক পৃথিবীর রাজা। কারণ গ্রিসের ছোট্ট রাজ্য ম্যাসিডন ছাপিয়ে প্রায় অর্ধেক পৃথিবী জয় করেছিলেন তিনি। অল্প বয়স হলেও সিংহাসন সামলানো তাঁর পক্ষে কঠিন হয়নি। কারণ, লিওনিদাসের মতো একজন যোগ্য প্রশিক্ষকের কাছ থেকে তিনি শরীর বিষয়ে প্রশিক্ষণ লাভ করেছিলেন আর মাত্র ১৩ বছর বয়স শিক্ষা পেয়েছিলেন মহান গ্রিক দার্শনিক অ্যারিস্টটলের কাছ থেকে। মূলত এই সুশিক্ষার কারণেই আলেকজান্ডার প্রচন্ড শারীরিক দৃঢ়তা ও মেধার পরিচয় দিতে সক্ষম হয়েছিলেন। ছেলেবেলায় আলেকজান্ডারের বাবা ফিলিপ বলেছিলেন, ম্যাসিডন বড়ই ছোট তোমার পক্ষে। একদিন সারা পৃথিবী জয় করবে তুমি। বাবার সেই কথাটা সত্যি প্রমাণ করেছিলেন আলেকজান্ডার। তার শাসনামলের বেশিরভাগ সময় তিনি উত্তর-পূর্ব আফ্রিকা ও পশ্চিম এশিয়াজুড়ে সামরিক অভিযান পরিচালনা করেন। মাত্র ৩০ বছর বয়সের মধ্যেই তিনি মিসর থেকে শুরু করে উত্তর পশ্চিম ভারত পর্যন্ত ইতিহাসের অন্যতম বৃহত্তম সাম্রাজ্য প্রতিষ্ঠা করেন।  সেই আমলের মানচিত্রে চোখ বুলালেই অনুমান করা যাবে কত বড় বীর ছিলেন আলেকজান্ডার। সংক্ষিপ্ত রাজত্বকালেই বিশ্বের অধিকাংশ অঞ্চলই জয় করেন তিনি। কয়েক হাজার বছর আগে মৃত্যু হলেও এই বীরের সমাধি আজও রহস্য আর নতুন নতুন প্রশ্নের জন্ম দিয়ে চলেছে মানুষের মনে।

৩০ বছরে অর্ধেক পৃথিবী জয়

অত্যন্ত সুপুরুষ ছিলেন আলেকজান্ডার। বলিষ্ঠ চেহারায় রূপ আর শক্তির মিশেলে তিনি অন্য সব রাজার থেকে ছিলেন স্বতন্ত্র। সিংহের মতোই বিক্রম ছিল তার। মাথায় সবসময় সিংহের চামড়া জড়িয়ে রাখতেন। মাত্র ৩০ বছরের মধ্যেই অ্যাড্রিয়াটিক সাগর থেকে সিন্ধু নদ পর্যন্ত এক বিশাল সাম্রাজ্যের অধিশ্বর হয়ে ওঠেন আলেকজান্ডার। তাকে নিয়ে প্রতিনিয়ত তৈরি হতে থাকে নানা রোমাঞ্চকর গল্প। তিনি নাকি সাক্ষাৎ দেবতা জিউসের বংশধর। আলেকজান্ডার নিজেও ভাবতে শুরু করেন তাই। সেই আমলে গ্রিসের দেবী আর্টেমিসের মন্দির ছিল পৃথিবীর সপ্তম আশ্চর্যের অন্যতম। আলেকজান্ডারের জন্মের দিন সেটি পুড়ে যায়। কথিত হয়ে যায়, স্বয়ং আর্টেমিস নাকি এসেছিলেন আলেকজান্ডারের জন্মের সাক্ষী থাকতে। এ রকম নানা কিংবদন্তিতে ভরপুর সম্রাট আলেকজান্ডারের জীবন। আলেকজান্ডারের বিশ্ব অভিযান তখন চলতেই থাকল। এর মধ্যেই তিনি পারস্য সাম্রাজ্য জয়ের আশায় দারদানেলিস প্রণালি অতিক্রম করেন। এ প্রণালিটি মরমরা সাগর ও এয়িজিন সাগর (অর্থাৎ গ্রিসের পূর্বাংশে ভূমধ্যসাগরের একটি বর্ধিতাংশকে) যুক্ত করেছে। আলেকজান্ডার তিনটি বড় ধরনের যুদ্ধ করে ৩৩০ খ্রিস্টপূর্বে পারস্য নেতা তৃতীয় ডরিয়াসকে হত্যা করেন। আলেকজান্ডার পারস্যবাসীদের পরাজয় ঘটান ৩৩১ খ্রিস্টপূর্বে। এরপর তিনি অগ্রসর হন আরও পূর্ব দিকে।  ভারতের উত্তর-পশ্চিম দিকে। যে বা যারাই আলেকজান্ডারের কর্তৃত্ব মানতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে, আলেকজান্ডার তাকেই পরাভূত করেন। অভিযান চালিয়ে যেতে মুখিয়ে ছিলেন আলেকজান্ডার। কিন্তু সেনাবাহিনী বাদ সাধল। বিশাল সেনাবাহিনীর বাধার মুখে পূর্বমুখী অভিযান বন্ধ করতে বাধ্য হলেন আলেকজান্ডার।

জ্যোতিষীর ভবিষ্যদ্বাণী

খ্রিস্টপূর্ব ৩২৩ অব্দের মে মাস। সারা বিশ্ব কাঁপিয়ে দেওয়া এই বীরের বয়স তখন ৩৩। সিংহাসনে আরোহণের পর এক যুগেরও বেশি সময় কাটিয়ে দিয়েছেন চেনা পৃথিবীর অনেকটা জয় করতে। আলেকজান্ডারের স্বপ্ন ছিল, তার বিশাল এ সাম্রাজ্যের আরও বহুদূর পর্যন্ত বিস্তৃতি ঘটাবেন। কিন্তু তার সে স্বপ্ন কখনোই বাস্তবে রূপ নেয়নি। সেনাবাহিনীর বাধার মুখে কয়েক বছরের সামরিক অভিযান শেষ করে আলেকজান্ডার ফিরে আসলেন বাগদাদে। এই সুযোগে তিনি বিশ্রামে গেলেন। সেই সঙ্গে তার পরবর্তী অভিযানের ছকও আঁকতে লাগলেন। ২৯ জুন তিনি তার ঘনিষ্ঠ এক বন্ধুর আমন্ত্রণে এক ভোজসভায় যোগ দেন। দিনব্যাপী এ আয়োজনে আলেকজান্ডার প্রচুর মদ পান করেন। এক সময় অস্বস্তি বোধ করেন। তার ভালো লাগছে না, এ কথা বলে ঘুমুতে চলে যান আলেকজান্ডার। এক সময় কাঁপুনি দিয়ে প্রচন্ড জ্বর ওঠে। দ্রুত স্বাস্থ্যের অবনতি ঘটে তার। তিনি এতটাই দুর্বল হয়ে পড়েন যে, বিছানা থেকে উঠতে পারছিলেন না। বিশ্ব বিজয়ী এই বীর এর ১০ দিন পর মারা যান। তবে আলেকজান্ডারের মৃত্যু নিয়ে নানা বিতর্ক রয়েছে। ভারতবর্ষ জয় করতে এলে সেখানকারই এক জ্যোতিষী ভবিষ্যদ্বাণী করেছিলেন, ব্যাবিলনই আলেকজান্ডারের শেষ গন্তব্য।  ভারতবর্ষ থেকে ব্যাবিলনে যাওয়ার কোনো পূর্বপরিকল্পনা না থাকলেও নিয়তিই যেন তাঁকে সেখানে নিয়ে যায়। সাধারণভাবে আলেকজান্ডারের মৃত্যুর ঘটনা এভাবে বলা হলেও তার মৃত্যুর সঠিক কারণ এখনো অজানা।

মৃত্যুশয্যায় ডাকলেন সেনাপতিদের

মৃত্যুশয্যায় আলেকজান্ডার তাঁর সেনাপতিদের ডেকে বলেছিলেন, আমার মৃত্যুর পর তিনটা ইচ্ছা তোমরা পূরণ করবে। এতে যেন কোনো ব্যত্যয় না ঘটে। প্রথম অভিপ্রায়, শুধু চিকিৎসকরা আমার কফিন বহন করবেন। দ্বিতীয় অভিপ্রায়, আমার কফিন যে পথ দিয়ে গোরস্তানে নিয়ে যাওয়া হবে, সেই পথে কোষাগারে সংরক্ষিত সোনা, রুপা ও অন্যান্য মূল্যবান পাথর ছড়িয়ে দিতে হবে। শেষ ইচ্ছে, কফিন বহনের সময় আমার দুই হাত কফিনের বাইরে ঝুলিয়ে রাখতে হবে। তার মৃত্যুশয্যায় উপস্থিত লোকজন মহাবীর আলেকজান্ডারের এই অদ্ভুত অভিপ্রায়ে বিস্মিত হন। কিন্তু এ ব্যাপারে তাকে কিছু জিজ্ঞেস করার সাহস পাচ্ছিলেন না কেউ। তখন আলেকজান্ডারের একজন প্রিয় সেনাপতি তার হাতটা তুলে ধরে চুম্বন করে বলেন, হে মহামান্য, অবশ্যই আপনার সব অভিপ্রায় পূর্ণ করা হবে; কিন্তু আপনি কেন এই বিচিত্র অভিপ্রায় ব্যক্ত করলেন? দীর্ঘ একটা শ্বাস গ্রহণ করে আলেকজান্ডার বললেন, আমি দুনিয়ার সামনে তিনটি শিক্ষা রেখে যেতে চাই। আমার চিকিৎসকদের কফিন বহন করতে বলেছি এ কারণে যে, যাতে লোকে অনুধাবন করতে পারে চিকিৎসকরা আসলে কোনো মানুষকে সারিয়ে তুলতে পারেন না। তারা ক্ষমতাহীন আর মৃত্যুর থাবা থেকে কাউকে রক্ষা করতে অক্ষম। গোরস্তানের পথে সোনা-দানা ছড়িয়ে রাখতে বলেছি কারণ মানুষকে এটা বোঝাতে যে ওই সোনা-দানার একটা কণাও আমার সঙ্গে যাবে না। আমি এগুলো পাওয়ার জন্য সারাটা জীবন ব্যয় করেছি, কিন্তু নিজের সঙ্গে কিছুই নিয়ে যেতে পারছি না।  মানুষ বুঝুক ধন-সম্পদের পেছনে ছোটা সময়ের অপচয় মাত্র। কফিনের বাইরে আমার হাত ছড়িয়ে রাখতে বলেছি মানুষকে এটা জানাতে যে খালি হাতে আমি এই পৃথিবীতে এসেছিলাম, আবার খালি হাতেই পৃথিবী থেকে চলে যাচ্ছি।

নিউজ ট্যাগ: আলেকজান্ডার

আরও খবর



নির্বাচন নিয়ে আবারও অবস্থান পরিষ্কার করল জাতিসংঘ

প্রকাশিত:মঙ্গলবার ২৩ জানুয়ারী ২০২৪ | হালনাগাদ:মঙ্গলবার ২৩ জানুয়ারী ২০২৪ | ৮৭০জন দেখেছেন
নিউজ পোস্ট ডেস্ক

Image

আবারও বাংলাদেশের নির্বাচন ইস্যুতে কথা বলেছে জাতিসংঘ। স্থানীয় সময় সোমবার (২২ জানুয়ারি) জাতিসংঘের নিয়মিত প্রেস ব্রিফিংয়ে ফের উঠে আসে নির্বাচন ইস্যু।

জাতিসংঘের নিয়মিত ব্রিফিংয়ে এক সাংবাদিকের প্রশ্নের জবাবে মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেসের মুখপাত্র স্টিফেন ডুজারিক জানান, বাংলাদেশে দ্বাদশ জাতীয় নির্বাচন নিয়ে জাতিসংঘের অবস্থান আগের মতোই রয়েছে। একইসঙ্গে নির্বাচনের পর জাতিসংঘের মানবাধিকার বিষয়ক হাইকমিশনার যা বলেছেন সেটিও অপরিবর্তিত রয়েছে।

মূলত টানা চতুর্থবারের মতো প্রধানমন্ত্রী পুনর্নির্বাচিত হওয়ার পর শেখ হাসিনাকে অভিনন্দন জানিয়ে জাতিসংঘের দেওয়া চিঠির বিষয়ে এক সাংবাদিকের প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।

সোমবারের ব্রিফিংয়ে এক সাংবাদিক শেখ হাসিনাকে অভিনন্দন জানিয়ে জাতিসংঘের দেওয়া চিঠির বিষয়ে জানতে চান। তিনি বলেন, মহাসচিবের এমন চিঠি নির্বাচন নিয়ে জাতিসংঘের পূর্বের অবস্থান এবং নির্বাচন নিয়ে মানবাধিকার বিষয়ক হাইকমিশনার যে বিবৃতি দিয়েছেন তার সঙ্গে সাংঘর্ষিক কিনা?

জবাবে জাতিসংঘ মহাসচিবের মুখপাত্র স্টিফেন ডুজারিক বলেন, এটি সাংঘর্ষিক না। জাতিসংঘ মহাসচিব প্রধানমন্ত্রীর কাছে একটি চিঠি পাঠিয়েছেন, যেমনটা বিভিন্ন দেশের সরকারপ্রধান বা রাষ্ট্রপ্রধানরা পুনর্নির্বাচিত হলে মহাসচিব পাঠিয়ে থাকেন।

তিনি আরও বলেন, তারা আগে যা বলেছেন এবং মানবাধিকার হাইকমিশনার আগে যা বলেছেন, তা অপরিবর্তিত রয়েছে।

এছাড়া বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়া রোহিঙ্গা শরণার্থীদের নিয়েও কথা বলেছেন তিনি। ডুজারিক বলেছেন, কাউকে কখনও প্রত্যাবাসন করা উচিত নয়। কোনও শরণার্থীকে জোর করে বা তাদের ইচ্ছার বিরুদ্ধে প্রত্যাবাসন করা উচিত নয়।

এছাড়া এদিনের ব্রিফিংয়ে এক প্রশ্নকারী বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়া রোহিঙ্গা শরণার্থীদের প্রত্যাবাসন নিয়ে জানতে চান। তিনি বলেন, আপনি জানেন- বাংলাদেশ ২০১৭ সাল থেকে প্রায় সাত বছর ধরে ১২ লাখেরও বেশি রোহিঙ্গা শরণার্থীকে আশ্রয় দিয়ে রেখেছে।

অন্যদিকে, মানবিক তহবিল, আন্তর্জাতিক মানবিক সহায়তা সম্পর্কিত মনোযোগ, সবকিছু সঙ্কুচিত হয়ে যাচ্ছে। এই পরিস্থিতিতে রোহিঙ্গাদের প্রত্যাবাসনের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় জাতিসংঘ মহাসচিবের পরিকল্পনা কী?

জবাবে জাতিসংঘ মহাসচিবের মুখপাত্র এই মুখপাত্র বলেন, প্রথমত, কাউকে কখনও প্রত্যাবাসন করা উচিত নয়। কোনও শরণার্থীকে তাদের ইচ্ছার বিরুদ্ধে প্রত্যাবাসন করা উচিত নয়। এটি এমন পদ্ধতিতে স্বেচ্ছায় হওয়া দরকার যেখানে তাদের মর্যাদা এবং তাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত থাকবে।

তিনি বলেন, এটা পরিষ্কার যে, মিয়ানমারের পরিস্থিতি বর্তমানে প্রত্যাবাসনের জন্য দরকারি প্রয়োজনীয়তা পূরণ করছে না। যেসব সম্প্রদায় উদারভাবে রোহিঙ্গা শরণার্থীদের আতিথেয়তা দিয়েছে, তাদের জন্য বিশ্বব্যাপী সংহতি বৃদ্ধি করা প্রয়োজন। যেমন কক্সবাজারের সম্প্রদায়, মহাসচিব এটি পরিদর্শন করেছেন।

স্টিফেন ডুজারিক বলেন, শরণার্থীদের সবার সংহতি প্রয়োজন এবং আশ্রয়দানকারী সম্প্রদায়গুলোরও জাতিসংঘের ও সারা বিশ্বের সংহতি প্রয়োজন। এবং এসব কিছুর জন্যই আমাদের তহবিল আরও বৃদ্ধি করা দরকার।


আরও খবর

দেশে পুরুষের চেয়ে নারীর সংখ্যা বেশি

মঙ্গলবার ২৮ নভেম্বর ২০২৩