
অপ্রচলিত মাদক
‘ম্যাজিক মাশরুম’ সেবনকারীর নিজের উপর কোন নিয়ন্ত্রণ থাকে
না। এমন কি কেউ কেউ ছাদ থেকেও ঝাঁপিয়ে পড়তে পারে। এই মাদক দীর্ঘদিন ধরে ব্যবহারের
কারণে শারীরিক ক্ষতি ছাড়াও মানসিক রোগ যেমন সাইকোসিস হতে পারে। এছাড়া, অবিরাম হ্যালোসিনেশনেরও
কারণ হতে পারে এটি।
শরীরে ম্যাজিক
মাশরুম বা সাইলোসাইবিনের প্রভাব নিয়ে একটি গবেষণা করেছিল যুক্তরাষ্ট্রের ন্যাশনাল
লাইব্রেরি অব মেডিসিন। ১৯৯৩ জন ব্যক্তি, যাদের বয়স গড়ে ৩০ বছর, তাদের উপর এই গবেষণাটি
পরিচালনা করা হয়েছিল। তাদের সবার কাছে সাইলোসাইবিন মাশরুম গ্রহণের পর কী ধরণের অভিজ্ঞতা
হয় তা জানতে চাওয়া হয়।
এদের মধ্যে ৩৯
শতাংশ ব্যক্তি এই মাদক গ্রহণের পর খুব খারাপ অভিজ্ঞতার কথা জানিয়েছেন। ১১ শতাংশ ব্যক্তি
নিজেদের কোন না কোন শারীরিক ক্ষতি করেছেন। ২.৬ শতাংশ অংশগ্রহণকারী সহিংস আচরণ করেছেন।
আর ২.৭ শতাংশ অংশগ্রহণকারীর চিকিৎসা সেবা নেয়ার দরকার হয়েছিল বলে গবেষণায় উল্লেখ
করা হয়।
অধ্যাপক আ.ব.ম
ফারুকের মতে, এই মাদক দীর্ঘদিন ব্যবহারের কারণে সেটি দেহের স্নায়ুতন্ত্রের উপর প্রভাব
ফেলতে পারে। স্নায়ুতন্ত্র সঠিকভাবে কাজ না করার কারণে ব্যবহারকারীর ঘুমের সমস্যা দেখা
দেবে।এছাড়া ক্ষুধামন্দা, স্মৃতিভ্রম, পায়খানা-প্রস্রাব ঠিক মতো না হওয়ার মতো উপসর্গ
দেখা দিতে পারে।
অধ্যাপক ফারুক
আরও বলেন, অনেক সময় প্রস্রাবের পরিমাণ অস্বাভাবিকভাবে কমে যেতে পারে, যা কিডনি এবং
এর সাথে জড়িত অঙ্গ-প্রত্যঙ্গের উপর প্রভাব ফেলে।
ম্যাজিক মাশরুম
এক ধরনের ব্যাঙের ছাতা। সাইলোসাইবিন মাশরুম প্রকৃতিতেই জন্মায় এবং এটি খুবই বিষাক্ত।
এগুলোকে ড্রাগ বা মাদক হিসেবে ব্যবহারের জন্য অনেক সময় শুকিয়ে ফেলা হয়। প্রকৃতিতে
জন্ম নেয়া প্রায় দুই শতাধিক মাশরুমের মধ্যে সাইলোসাইবিন নামের উপাদান পাওয়া যায়।
এগুলোর কোনটিতে এই উপাদান কম থাকে, আবার কোনটিতে বেশি পরিমাণে থাকে।

