
গত ২৪ ফেব্রুয়ারি
রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট পুতিনের সামরিক অভিযান ঘোষণার কয়েক মিনিট পরেই ইউক্রেনে বোমা ও
ক্ষেপণাস্ত্র হামলা শুরু করে রুশ সেনারা। চলমান এই যুদ্ধের পঞ্চম দিন গত ২৮ ফেব্রুয়ারি
পুরো ইউক্রেনের আকাশসীমা নিজের নিয়ন্ত্রণে নেয় রাশিয়া। মূলত এরপরেই রুশ বিমান ও ক্ষেপণাস্ত্র
হামলা বন্ধ করতে ইউক্রেনের আকাশসীমায় ‘নো-ফ্লাই জোন’ ঘোষণার জন্য ন্যাটোর প্রতি আহ্বান জানান প্রেসিডেন্ট জেলেনস্কি।
তবে একাধিকবার
আহ্বান করেও ‘নো ফ্লাই জোন’ ঘোষণা না করায় ন্যাটোর প্রতি তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট
জেলেনস্কি।
শুক্রবার (৪
মার্চ) জেলেনস্কি তার ফেসবুকে জানান, আমরা বিশ্বাস করি, ন্যাটোর দেশগুলো এমন একটা বিষয়
দাঁড় করিয়েছে যে ইউক্রেনের আকাশসীমা বন্ধ করা হলে রাশিয়া ন্যাটোর বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা
করবে। যারা দুর্বল ও ভেতরে ভেতরে নিরাপত্তাহীনতায় ভোগে এটা তাদের নিজেদের প্রবোধ দেওয়া
ছাড়া কিছু নয়। অথচ তাদের (ন্যাটোর) কাছে কিনা আমাদের চেয়ে কয়েক গুণ বেশি শক্তিশালী
অস্ত্র আছে।
এর আগে ইউক্রেনের
‘নো ফ্লাই
জোন’ প্রস্তাব
নাকচ করে দেন যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী অ্যান্টনি ব্লিনকেন। তিনি বলেন, এমনটা
করা হলে গোটা ইউরোপজুড়ে যুদ্ধ শুরু হয়ে যাবে।
এদিকে সিএনএনের
এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইউক্রেন কিংবা রাশিয়া কেউই ন্যাটোভুক্ত না হওয়ায় ‘নো ফ্লাই জোন’ নিয়ে ভাবছে না ন্যাটো। এ ছাড়া
‘নো ফ্লাই
জোন’ ঘোষণার
আরেক অর্থ হলো রুশ যুদ্ধবিমানে ন্যাটোর হামলা। যা করা হলে পরমাণু শক্তিধর রাশিয়ার সঙ্গে
ইউরোপের যুদ্ধ বেঁধে যাওয়ার আশঙ্কা আছে।
উল্লেখ্য, টানা
১০ দিন ধরে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ চলছে। ইউক্রেন দাবি করেছে, যুদ্ধে এখন পর্যন্ত ইউক্রেনের
দুই হাজারের বেশি বেসামরিক নাগরিক নিহত হয়েছেন। যদিও নিহতের নির্দিষ্ট সংখ্যা জানায়নি
তারা। এ ছাড়া রাশিয়ার ৯ হাজার ১৬৬ সৈন্য নিহত হয়েছেন বলে দাবি ইউক্রেনের।
অন্যদিকে রাশিয়া
দাবি করেছে, যুদ্ধে তাদের ৪৯৮ সৈন্য নিহত এবং ইউক্রেনের ২ হাজার ৮৭০ জনের বেশি ইউক্রেনীয়
সেনা নিহত হয়েছেন।
এছাড়া জাতিসংঘ
জানিয়েছে, রুশ হামলায় এখন পর্যন্ত ১৯ শিশুসহ ইউক্রেনের ৩৩১ বেসামরিক নাগরিক নিহত হয়েছেন।
যদিও সংস্থাটি বলেছে, এটি নিশ্চিত যে প্রকৃত হতাহতের সংখ্যা হয়তো অনেক বেশি। সূত্র
: সিএনএন, বিবিসি

