
চলতি বছরের অক্টোবরে চীনের কারখানা কার্যক্রম মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়েছে। বৈশ্বিক চাহিদায় শ্লথগতি এবং চীনের কঠোর কোভিড-১৯ নীতিতে শিল্প-কারখানায় উৎপাদন, ভ্রমণ ও পণ্য পরিবহন বাধাগ্রস্ত হয়েছে। তৃতীয় প্রান্তিকে প্রত্যাশার চেয়ে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি বেশি হলেও অব্যাহত করোনার হানা এবং বৈশ্বিক মন্দার ঝুঁকিতে চতুর্থ প্রান্তিক নিয়ে আশঙ্কা বেড়েছে।
চীনের জাতীয় পরিসংখ্যান ব্যুরো (এনবিএস) জানায়, অক্টোবরে চীনের পারচেজিং ম্যানেজারস ইনডেক্স (পিএমআই) ৪৯ দশমিক ২ পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে। গত সেপ্টেম্বরে যেখানে পিএমআই ছিল ৫০ দশমিক ১ পয়েন্ট। পিএমআই ৫০ পয়েন্টের নিচে নেমে আসা শিল্প খাতের সংকোচন নির্দেশ করে। ক্যাপিটাল ইকোনমিকসের অর্থনীতিবিদ জিচুয়ান হুয়াং বলেন, সম্প্রতি করোনা সংক্রমণ ফের বৃদ্ধি এবং রফতানি ক্রয়াদেশ হ্রাস পাওয়ায় শিল্পোৎপাদন সূচকে পতন হয়েছে। বেইজিংয়ের জিরো কোভিড পলিসির কড়াকড়িতে ২০২৩ সালেও চাপের মধ্যে থাকবে বিশ্বের শীর্ষ অর্থনীতিটি। গত সপ্তাহ নাগাদ ৩১টি শহরে বিভিন্ন মাত্রার লকডাউন আরোপ করা হয়েছে। এতে প্রায় ২৩ কোটি ২০ লাখ মানুষের ওপর প্রভাব পড়েছে।
কারখানাগুলোর জন্য আরো নেতিবাচক খবর হলো, ব্যয়সাশ্রয়ী নীতি হিসেবে অনেক জায়গায় কর্মীদের বেতন কমানো হচ্ছে। এতে খুচরা বিক্রিতে প্রভাব পড়ছে এবং ভোক্তা ব্যয় হ্রাস পাচ্ছে। এদিকে পরিষেবা খাতের প্রতিনিধিত্বকারী নন ম্যানুফ্যাকচারিং পিএমআই দাঁড়িয়েছে ৪৮ দশমিক ৭। গত সেপ্টেম্বরে এ সূচক যেখানে ছিল ৫০ দশমিক ৬ পয়েন্ট।
অর্থনীতিবিদরা এরই মধ্যে শঙ্কা প্রকাশ করছেন, চলতি বছরে ৫ দশমিক ৫ শতাংশ বার্ষিক প্রবৃদ্ধি লক্ষ্যমাত্রা অর্জন করতে পারবে না চীন। রয়টার্সের এক জরিপে ২০২২ সালে ৩ দশমিক ২ শতাংশ প্রবৃদ্ধির পূর্বাভাস দেয়া হয়েছে। তবে ২০২৩ সালে এশিয়ার শীর্ষ অর্থনীতিটি ৫ শতাংশ প্রবৃদ্ধি অর্জন করবে বলে মনে করে রয়টার্স। চলতি বছরের তৃতীয় প্রান্তিকে প্রত্যাশার অধিক প্রবৃদ্ধি অর্জন করেছে চীন। তবে অব্যাহত করোনার হানা, আবাসন খাতে শ্লথগতি ও বৈশ্বিক মন্দার ঝুঁকি বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহৎ এ অর্থনীতির জন্য উদ্বেগের বিষয় হিসেবে রয়ে গেছে।
চীনের জাতীয় পরিসংখ্যান ব্যুরো (এনবিএস) এক প্রতিবেদনে জানায়, জুলাই-সেপ্টেম্বর প্রান্তিকে চীনের অর্থনীতি সম্প্রসারিত হয়েছে ৩ দশমিক ৯ শতাংশ। রয়টার্সের এক জরিপে যেখানে ৩ দশমিক ৪ শতাংশ প্রবৃদ্ধির পূর্বাভাস দেয়া হয়েছিল। উল্লেখ্য, দ্বিতীয় প্রান্তিকে এশিয়ার বৃহত্তম অর্থনীতির জিডিপি প্রবৃদ্ধি ছিল মাত্র শূন্য দশমিক ৪ শতাংশ।
আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) পূর্বাভাস, চলতি বছরে চীনের অর্থনীতি ৩ দশমিক ২ শতাংশ সম্প্রসারিত হবে। কোভিডজনিত কারণে ২০২০ সালের ২ দশমিক ৪ শতাংশ প্রবৃদ্ধি বাদে গত শতকের আশির দশকের পর যা সর্বনিম্ন প্রবৃদ্ধি। আইএনজি গ্রুপের বৃহত্তর চীনবিষয়ক মুখ্য অর্থনীতিবিদ আইরিস প্যাং জানান, যে বিষয়টি সামনে এসেছে তা হলো চীনের অর্থনীতিতে এখনো গুরুত্বপূর্ণ প্রভাবক কোভিড-১৯। আগের মন্দাভাব ও শ্লথগতির সময় চীন যেভাবে অবকাঠামো ও শিল্প খাতে বিনিয়োগের মাধ্যমে ঘুরে দাঁড়ানোর চেষ্টা করেছে চলতি বছরেও এ প্রয়াস লক্ষণীয়।
অর্থনৈতিক বিশ্লেষকরা পূর্বাভাস দিয়েছিলেন, ২০২২ সালের দ্বিতীয়ার্ধে চীনা রফতানি খাত দুর্বল হবে। গত বছরের তুলনায় ২৬ দশমিক ৯ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে চীনের বৈশ্বিক বাণিজ্য উদ্বৃত্ত হয়েছে ৮ হাজার ৪৭০ কোটি ডলার।

